الصفحة الرسمية لكمال الدين السراجي

الصفحة الرسمية لكمال الدين السراجي

Share

কুরআনকে যারা বুকে আঁকড়ে ধরতে চাই । তাদের জন্যই শুধু এই পেজ ।

11/11/2023

বসিরহাটে খুচরা ও পাইকারি কাপড়ের বিশাল মার্কেটে দোকান ঘর বুকিং চলছে! ভালো ব্যবসা করার জন্য আপনি চাইলে আমাদের মার্কেটে দোকান বুকিং করতে পারেন।

আমাদের মার্কেটের সুবিধা সমূহ :
১. মার্কেটের প্রত্যেকটা দোকানে আলাদা শাটারের ব্যবস্থা রয়েছে।

২. সপ্তাহে ছয় দিন মার্কেট খোলা থাকবে।

৩. মার্কেটটি মেইন রোডের একদম সাথে হাওয়ায় কাস্টমারের সংখ্যা থাকবে অনেক বেশি।

৪. মার্কেটটি মোট দুই তালা। দুই তালাই কাপড়ের বিশাল মার্কেট।

৫. আমাদের মার্কেট থেকে ভ্যাবলা রেল স্টেশন মাত্র ৩০ সেকেন্ডের দূরত্ব।

৬. আপনার অতিরিক্ত মালামাল নিরাপদে রাখার জন্য, প্রত্যেক দোকানের সাথে রয়েছে পার্সোনাল গোডাউন।

৭. মার্কেটের সাথে রয়েছে ওযু খানা এবং টয়লেটের সুব্যবস্থা।

৮. প্রত্যেকটি দোকানে থাকবে আলাদ সাব মিটার ।।

আপনি যদি কাপড় ব্যবসায়ী হয়ে থাকেন তাহলে আমাদের মার্কেটে একবার ঘুরে যান। আমরা শুধু কাপড় ব্যবসায়ীদেরকে দোকান দিচ্ছি।

মার্কেটটি সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন থাকলে সরাসরি কল করুন স্ক্রিনে দেখানো নাম্বারে।
নাম্বার: 9153055195

আমাদের মার্কেটে অল্প কিছু দোকান বাকি আছে ।‌ তাই যাদের প্রয়োজন তারা দ্রুত যোগাযোগ করুন।

আপনি চাইলে আজই আমাদের মার্কেটে ভিজিট করে, আপনার পছন্দের দোকানটি বুকিং করতে পারেন।

মার্কেটটির লোকেশন :
বসিরহাট, আর এন রোড, ভ্যাবলা রেলগেটের পাশে সিরাজি টাওয়ার।

এছাড়াও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করুন স্ক্রিনে দেখানো নাম্বারে : 091530 55195

29/10/2020

ওরা যদি হ্যাশট্যাগ দিয়ে ফ্রান্স এর এই জঘন্য কাজের পক্ষে সমর্থন করতে পারে। আলোচনায় আসতে পারে। আমরা কেন প্রাণপ্রিয় নবীজীর জন্য হ্যাশট্যাগ দিবোনা।

চলুন কমেন্ট এবং পোষ্টের মাধ্যমে বয়কট ফ্রান্সের হ্যাশট্যাগ গুলোই হোক বাংলাদেশে আজকের সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন্ড। দ্বিতীয় বৃহত্তম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশ আলোচনায় আসুক।জালিমরা যে দিক থেকে আক্রমণ করবে আমরা ঠিক সেই দিক থেকে প্রতিরোধ করব। শুধু প্রতিরোধ নয়, পাল্টা আক্রমণ হবে। তাহলে শুরু করা যাক?



❤️
❤️






💙💚💜

26/08/2020

#ইন্টারনেট_বিধি🌍 মা যা বললেন তার সন্তানকে…

ইন্টারনেট এর যুগে সন্তানের প্রতি এক সচেতন মায়ের মূল্যবান উপদেশ যা স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখার মত, ঐ মা বলেন:

📝প্রিয় বৎস!
নিঃসন্দেহে গুগল, ফেসবুক ওয়াটস -আ্যপ সহ সামাজিক যোগাযোগের সব মাধ্যম ই হল গভীর সমুদ্র,এতে চরিত্র নষ্ট হয়,বিবেক লোপ পায় তরুণ পৌঢ় সবার,এর ঢেউ এর ধাক্কায় কুমারী মেয়ের লজ্জা উধাও হয়ে যায়, অসংখ্য মানুষ এর খপ্পরে পড়ে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

সুতরাং নেটওয়ার্ক ব্যবহারে সতর্ক থাকবে,এর মত্ততা পরিহার করবে, এক্ষেত্রে মৌমাছির ভূমিকা পালন করবে, নেটের উপকারী পেইজে অবশ্যই নযর দিবে,যাতে তুমি উপকৃত হবে এবং অন্যদেরও উপকৃত হতে সচেষ্ট থাকবে।

📝প্রিয় বৎস!
তুমি কখনও মাছির মত ভালমন্দ সবখানেই বসবে না, কারণ মাছি যত্র তত্র বসে এবং নিজের অজান্তেই নানাবিধ রোগ বালাই ছড়ায়।

ইন্টারনেট একটা বিগ-বাজার, এখানে রকমারি পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ, কেউ কিন্তু নিজের পণ্য সামগ্রী ফ্রি-সেল করতে ইচ্ছুক নন ,সবাই কোন না কোন ভাবে বিনিময়ে আশাবাদী, কেউ চায় চরিত্র নষ্ট করতে, কেউ চায় ভ্রান্ত মতবাদ প্রচার করতে, আবার কেউ চায় নাম যশ ও খ্যাতি অর্জন করতে!!হ্যাঁ একদল সমাজ সংস্কারক ও রয়েছেন এদের মধ্যে, সুতরাং যাঁচাই বাছাই ছাড়া এখানে পণ্য ক্রয় উচিৎ নয়।

📄প্রিয় সন্তান!
ফেসবুকে প্রেম করবে না, কারণ প্রেমের প্রস্তাবের সিংহভাগ ধোঁকা,ফাঁদ ও দূরভিসন্ধি মূলক প্রতারণা।
ফেসবুকে লাইক শেয়ার এবং মন্তব্য জুড়ে দেয়ার আগে ভালো ভাবে চিন্তা করে দেখবে এটা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সহায়তা করবে কি না!

নেট জগতের চুরি এবং অন্যের অধিকার হরণ চরম ধৃষ্টতা, নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি আসক্তি ত্যাগ করবে, নেটের সংশ্লিষ্টতা তোমার জন্য পাপ পূণ্য দুটোর ই পথ নির্দেশ দিবে, অবশ্যই ভালো টা গ্রহণ করবে,এই পণ্যের ক্রেতারা সাধারণত কারো ও পরামর্শ নেয় না।

যাকে সশরীরে দেখ নি এমন লোকের সংগে বন্ধুত্ব করবে না,কার ও লেখা পড়ে লেখক সর্ম্পকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিওনা, কারণ অধিকাংশ ই ছদ্মবেশী, এদের প্রদর্শিত ছবি ও জাল,আর যারা অন্যের ছবি, ছোট বাচ্চাদের ছবি নিজের আইডিতে ব্যবহার করে তাদের থেকে ও সতর্ক থাকবে,এরা ছদ্মবেশী ,পরগাছা ও কাপুরুষ, এদের কথা মধু মেশানো, বেশ ভুষা অন্যকে আকৃষ্ট করার মতো পরিপাটি,সত্যের আবরণে মিথ্যার জাল বিস্তার কারী, এদের অনেকেই দীন প্রচারে দক্ষ মনে হলেও আসলেই আস্ত বেওকুফ, নেটের জগতের সুন্দরী ও হয়তো শতভাগ কুশ্রী , সাহসী শ্লোগান দাতা ও ভীরু কাপুরুষ তবে অবশ্যই ব্যতিক্রম আছে,আশা করি তুমি সেই ব্যতিক্রমের অন্তর্ভুক্তদের একজন।
কখনো ছদ্ম নাম ব্যবহার করবে না,এরা কখনো আত্নবিশ্বাসী হয়না, সুতরাং যারা আত্নবিশ্বাসী নয়, তাদের প্রতি আস্থা রেখে ধোঁকায় পড়বে না।
কারো মনে আঘাত দিও না, তুমি তোমার চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করছ,অন্যের চরিত্রের নয়,এ কথা মনে রাখবে। সাদা বোতলে যে রং এর পানীয় রাখবে পাত্রটি ঐ রং ধারণ করবে।

📄প্রিয় বৎস!
ইন্টারনেটের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো নিষিদ্ধ পর্ণ ছবি দেখা,অশ্লীলতাও পদস্খলন, এসবের বিভীষিকা থেকে যদি নিজেকে রক্ষা করতে পার এবং দীন প্রচারে নেটকে কাজে লাগাতে পার, তবে তুমি নিজে এবং সমাজ উপকৃত হবে,আর যদি পর্ণ ছবির আসক্তি তোমাকে গ্রাস করতে চায়,তবে হিংস্রতর জন্তু দেখে মানুষ যেভাবে পালায় তুমি ও তাই কর, নচেৎ অনন্ত কাল জাহান্নামের আগুনে পুড়তে থাকবে।

⚠জেনে রেখো শয়তানের প্রবেশ পথ দুটো, কর্মহীন অবসর এবং রিপুর তাড়নায় সাড়া দিয়ে অবৈধ উপায়ে যৌন ক্ষুধা নিবারণ ,আর এ দু'টো ই ইন্টারনেটের মূল স্তম্ভ, অবশ্যই নেট ব্যবহার করবে, তবে সতর্কতা অবলম্বন করবে ,নেট যেন তোমাকে ব্যবহার না করে।

👏আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়েত গ্রহণের তাওফীক দান করুন, এবং এর উপর অটল থাকার শক্তি দিন.
আমীন।

31/07/2020
Photos from ‎الصفحة الرسمية لكمال الدين السراجي‎'s post 14/07/2020

আসসালামু আলাইকুম। আলহামদুলিল্লাহ!আমরা খুবই আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমরা আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাঁটি মধু। আমরা কখনো আমাদের পণ্যের কোয়ালিটির ব্যাপারে কোন প্রকার ছাড় দেই না সুতরাং আপনারা আমাদের পণ্যের কোয়ালিটির ব্যাপারে আমাদের উপর আস্থা রাখতে পারেন। ইনশাআল্লাহ আমরা আপনাদের আস্থা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকব।

🍀🍀🍀 🍀🍀🍀

১.সরিষা ফুলের মধু :
🍯২৫০ মি:লি - ১৮০ টাকা।
🍯৫০০ মি:লি - ৩২০ টাকা।
🍯১ কেজি - ৫৯০ টাকা।

২.লিচুর ফুলের মধু :
🍯২৫০ মি:লি - ২০০ টাকা।
🍯৫০০ মি:লি - ৩৯০ টাকা।
🍯১ কেজি - ৬৯০ টাকা।

৩. সুন্দরবনের মধু :
🍯২৫০ মি:লি - ৩২০ টাকা।
🍯৫০০ মি:লি - ৫৯০ টাকা।
🍯১ কেজি - ১১৯০ টাকা।

৪.কলোজিরা ফুলের মধু :
🍯২৫০ মি:লি - ৩৬০ টাকা।
🍯৫০০ মি:লি - ৬৯০ টাকা।
🍯১ কেজি - ১২৯০ টাকা।

বিঃদ্রঃ ঢাকার মধ্যে ডেলিভারি চার্জ ৫০ ফ্রি ঢাকার বাহিরে কুরিয়ার সার্ভিসের ১০০ প্রযোজ্য।

©অর্ডার করার নিয়ম : অর্ডার করতে ইনবক্স করুন আপনার নাম, ফোন নাম্বার, সম্পূর্ণ ঠিকানা অথবা সরাসরি কল করুন ।

🚛 ডেলিভারী টাইম : ঢাকার মধ্যে ২৪ ঘন্টা।
ঢাকার বাহিরে ২৪-৭২ ঘন্টা।

♦বিস্তারিত জানতে কল করুন :

01611348585 (বিকাশ পার্সোনাল)

08/07/2020

হাফেযদের উদ্দেশে

মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক

كِتٰبٌ اَنْزَلْنٰهُ اِلَیْكَ مُبٰرَكٌ لِّیَدَّبَّرُوْۤا اٰیٰتِهٖ وَ لِیَتَذَكَّرَ اُولُوا الْاَلْبَابِ

কুরআন বরকতপূর্ণ ঐ কিতাব, যা আমি নাযিল করেছি, যাতে কুরআনের আয়াতগুলোকে নিয়ে তারা চিন্তা করে। -সূরা ছদ (৩৮) : ২৯

এ আয়াতে আমার আল্লাহ আমাকে কী হেদায়েত দান করেছেন? এ আয়াতে আল্লাহ আমাকে কী বলেছেন? এ আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ আমার কাছে কী চেয়েছেন? কী চান? যারা জ্ঞানী তারা যেন এখান থেকে উপদেশ গ্রহণ করে। যারা বুদ্ধিমান তারাই তো কুরআন নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আয়াতে বলা হয়েছে, কুরআনের শুধু অর্থ জানা থাকলেই চলবে না। কুরআন নিয়ে ভাবতে হবে।

এই ঢাকাতেই বাস করে খুলনার এক ভদ্রলোক, আল্লাহ তাকে হেদায়েত দান করুন; সে বলে, কুরআন না বুঝে পড়া গোনাহ। অর্থ যে কোনো ভাষা থেকেই বুঝে পড়–ক তাহলে আর গোনাহ হবে না। আগের কিছু বক্র মেযাজের লোক বলত, কুরআন না বুঝে পড়লে কোনো ফায়দা নেই। সে আরো অগ্রসর হয়ে বলে, না বুঝে পড়লে গোনাহ। আশংকার কথা হল, আমাদের অনেকে তার ভক্ত হয়ে গেছে।

কুরআন না বুঝে পড়া গোনাহ এই যে কুফরী চিন্তা সে আবিষ্কার করেছে, এর পক্ষে সে অনেক আয়াতও পেশ করে। যেসব আয়াতে বলা হয়েছে- أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ তারা কি কুরআন নিয়ে ভাবে না? এইসব আয়াত সে পেশ করে। লোকটার বুঝের স্বল্পতা দেখুন! আরবের কাফেররা কি কুরআনের অর্থ বুঝত না? বুঝত। কিন্তু তাদাব্বুর-চিন্তা-ভাবনা করত না। চিন্তা-ভাবনা যদি করত তাহলে বুঝে ফেলত এটা আল্লাহ্র পক্ষ থেকে। যারা তাদাব্বুর করেছে বুঝেছে। কিন্তু হঠকারিতা করেছে।

তার কথা হল, অর্থ বুঝে পড়তে হবে। আমি বলি, তাদাব্বুর তো অর্থ বুঝা না। তাদাব্বুর হল অর্থ বুঝার পরের পর্যায়। অর্থ বোঝা- এটা তো স্বাভাবিক একটা পর্যায়। তাদাব্বুরের মানে হল, তুমি অর্থ বোঝার উপরই ক্ষান্ত হয়ো না। তুমি দেখ তোমার কাছে এ আয়াতে কী চাওয়া হয়েছে? وَ لِیَتَذَكَّرَ اُولُوا الْاَلْبَابِ এতে তোমার প্রতি কী বার্তা রয়েছে, ঐ বার্তাটা তুমি গ্রহণ কর, নিজের যিন্দেগীতে বাস্তবায়ন কর। নিজের জীবন বানাও।

কুরআনুল কারীম বরকতপূর্ণ। কুরআনের শব্দের মধ্যেও বরকত আছে। শব্দগুলো যদি তিলাওয়াত করে- এটাতে আলো আছে, বরকত আছে, ফায়দা আছে। এর সওয়াব আছে। কিন্তু আল্লাহ তাঁর বান্দাদের কাছে শুধু এতটুকু চাননি যে, তিলাওয়াত করে সওয়াব হাসিল করবে। বরং এক নম্বরে যেটা চান সেটা হল, নিজের জীবনকে কুরআনী জীবন বানানো। এই যে ঈমানী যিন্দেগী, সেটা কুরআনী যিন্দেগীরই আরেক নাম, এই ঈমানী যিন্দেগীর কোন্ অংশ কোন্ আয়াতে আছে সেটা শিখতে থাক এবং কুরআনের সাথে সম্পর্ক মউত পর্যন্ত রাখ। সবচেয়ে বড় হক- কুরআনের উপর ঈমান এনে নিজের জীবনকে কুরআনী জীবন বানাও।

কুরআনী যিন্দেগীতে কুরআন তিলাওয়াতও আছে। কুরআনী যিন্দেগীর প্রথম সবক হল নামায। নামাযের জন্য তো তাকে কুরআন তিলাওয়াত শিখতে হবে। যে ঈমানী যিন্দেগী শিখেছ তা কুরআনের কোন্ অংশে কোন্ আয়াতে আছে তা শিখতে থাক, মিলাতে থাক। একেকটা আয়াত নিয়ে ভাবতে থাক। দেখ তোমার মাওলা তোমাকে কী বলেছেন, কী হেদায়েত দিয়েছেন? কী চেয়েছেন? এই কথাগুলো সবার জন্যে।

হাফেযদের জন্যে বিশেষ যে হেদায়েত তা হল, মুমিন বলতেই কুরআন তিলাওয়াত করতে হবে। মুসলিম বলতেই কুরআন তিলাওয়াত করবে। কুরআনে তাদাব্বুর ও চিন্তা-ভাবনা করবে। যার যদ্দুর সাধ্য, যার যদ্দুর সামর্থ্য আছে। কিন্তু হাফেয, যাকে আল্লাহ পুরো কুরআন হিফয করার তাওফীক দান করেছেন, পুরো কুরআন যার সিনায়, তাদের কী করণীয়?

সেদিন মাওলানা মুহিউদ্দীন ফারুকী বললেন, পুরো কুরআনের হাফেয যারা তারাও হাফেয। কয়েক সূরার হাফেয যারা তারাও হাফেয, কয়েক পারার হাফেয যারা তারাও হাফেয। আংশিক হাফেয। যেমন নিয়মতান্ত্রিকভাবে মাদরাসায় পড়ে আলিম না হলে কেউ এটা মানতে রাজি হয় না যে, সেও কিছু বিষয়ের আলিম। তদ্রƒপ পুরো কুরআনের হিফয না করলে কেউ এটা মানতে রাজি হয় না যে, সে হাফেয। দায়িত্ব এড়ানোর জন্য বলে, আমরা কী! আমরা কিচ্ছু জানি না। দুর্নীতি হারাম- এটা কি জানেন না? ভেজাল হারাম- এটা জানে না এমন কেউ আছে?

আপনি দেখবেন, প্রায়োগিক ক্ষেত্রে যে সকল বিধান, সেক্ষেত্রে হুযূর আর গায়রে-হুযূর সবাই সমান। হুযূর যে সেও জানে, যে হুযূর না সেও জানে। ফরয-ওয়াজিব, হালাল-হারাম জানার ক্ষেত্রে সবাই সমান। দু-চার জন হয়ত বের হবে, যারা আসলেই কিছু শোনেনি, জানে না। এদের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। এই যে বলা হয়, আলেম মানুষ আমল নাই। এখানে আলেম বলতে আপনি কী বুঝাচ্ছেন? লেবাস-পোশাককে আর দশ বছর মাদরাসায় পড়াকে? এখানে উদ্দেশ্য হল, এটা যে শরীয়তের বিধান- এটা জানে কি না। যে মুসলিম জানে- এটা শরীয়তের বিধান এবং শরীয়ত এটাকে হারাম করেছে, এটা জানার পর সে এই হারাম কাজ করেছে, তাকেই জিজ্ঞাসা করা হবে- জেনেশুনে তুমি এটা কীভাবে করলে? এখানে আলেম শব্দ বলা দরকার কী? এভাবে বলুন, আপনি জানেন এটা হারাম। তারপরও এ কাজ কীভাবে করলেন? আমি জানি এটা হারাম, তারপরও এ কাজ কীভাবে করলাম? নিজেকে নিজে ভর্ৎসনা কর। সবকিছু জানার পর, এত মাসআলা-মাসায়েল জানার পরও এটা আমি মানতে রাজি না যে, আমি জানি। সে রকম হাফেয, যারা পাঁচ পারার হাফেয, এক পারার হাফেয, দুই পারার হাফেয, তারাও কিন্তু হাফেয। আংশিক হাফেয। এতটুকু হাফেয হওয়ার কারণে তোমার উপর একটা দায়িত্ব আসে।

যাই হোক, যারা হাফেয আমি তাদের কথা বলছিলাম। হাদীসে তাদের একটি দায়িত্বের কথা আছে। أَوْتِرُوا يَا أَهْلَ الْقُرْآنِ অর্থাৎ হে কুরআনওয়ালারা, তাহাজ্জুদ পড়। কীভাবে পড়বে? দুই রাকাত করে করে পড়তে থাক। শেষে তিন রাকাত বিতির পড়। হে কুরআনওয়ালারা, তাহাজ্জুদ পড়। এ কথার কী অর্থ? ছোট ছোট সূরা দিয়ে দু-চার রাকাত তাহাজ্জুদ পড়ার কথা বলা হয়েছে এ হাদীসে? বরং এর অর্থ হল, হে কুরআনওয়ালারা, তোমাদেরকে কুরআনের নিআমত দেওয়া হয়েছে তাহাজ্জুদের জন্য। আমরা যারা হাফেয, কুরআনের এই হকটার প্রতি আমরা চিন্তা করি।

আচ্ছা, আমি দুর্বল মানুষ। আমার অনেক ব্যস্ততা। দিনে ঘুমানোর আমার সময় নেই। রাতে অনেক ঘণ্টা ঘুমাতে হয়। তাই তাহাজ্জুদ আমার জন্যে মুশকিল। এগুলোই আমাদের আজকালকের ওযর।

সত্যি বলতে কী, সালাফের সাথে আমাদের অনেক দূরত্ব হয়ে গেছে। আমাদের মাঝে এবং সালাফের মাঝে অনেক পার্থক্য হয়ে গেছে। এসব ওযর কিন্তু তাদের যমানাতেও ছিল। তাদের মধ্যে একেবারে ব্যস্ত মানুষ ছিলেন। এবং তাদের মধ্যে অনেক দুর্বল লোকও ছিলেন। কিন্তু এসব কিছু তাদেরকে পিছিয়ে রাখতে পারেনি। যেটাতে আসল পার্থক্য, সেটা হল হিম্মত। হিম্মতের ক্ষেত্রে আমাদের ও আমাদের সালাফের মাঝে পার্থক্য হয়ে গেছে। ঈমানী শক্তির মধ্যে পার্থক্য হয়ে গেছে। এটা একটা বাস্তবতা। এটা অস্বীকার করা মুশকিল। আমরা যে ওযর দাঁড় করাই, সেগুলো তো তারা চিন্তাও করতেন না। এগুলো শুনলে তারা হাসতেন। কিন্তু এখন এই ওযরগুলোই আমাদের নিকট বাস্তবতা। এগুলোর উপর আমরা হাসতে পারি না।

আমাদের দায়িত্ব হল, এ ওযরের এলাজ করা। দুর্বল হলে চিকিৎসা করে শক্তি বাড়ানো। আর যদি কারণ হয় হিম্মতের অভাব, ঈমানী শক্তির অভাব, তাহলে হিম্মত বাড়াই, ঈমানী শক্তি বাড়াই। অন্তত হাফেয যারা তাদের উচিত, তাহাজ্জুদে কুরআন খতমের চেষ্টা করা। তাহাজ্জুদকে তাহাজ্জুদ বলে- প্রথমে ঘুমাবে তারপর ঘুম থেক উঠে নামায পড়বে। এটা হল তাহাজ্জুদ। তাহাজ্জুদের মূল অক্ষর হা জীম দাল। এটা এসেছে হুজুদ থেকে। হুজুদ মানে ঘুমানো। জাগ্রত থেকে তাহাজ্জুদ পড়া ওটাকে আসলে তাহাজ্জুদ বলে না।

আমাদের জন্য তো তাহাজ্জুদকে সহজ করে দেওয়া হয়েছে। আমাদেরকে শুধু তাহাজ্জুদেরই হুকুম করা হয়নি কিয়ামুল লাইলের হুকুম করা হয়েছে। কিয়ামুল লাইল শব্দটা ব্যাপক। ঘুমিয়ে উঠে তাহাজ্জুদ পড়া এটাও কিয়ামুল লাইল। আর ঘুমানোর আগেই নফল পড়া এটাও কিয়ামুল লাইলের অন্তর্ভুক্ত।

যদি ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুদ পড়া মুশকিল হয়, কোনো ওযর থাকে, তাহলে ঘুমানোর আগেও তো কিয়ামুল লাইল করার অবকাশ আছে। ঘুমের আগে পড়ে নাও। চার রাকাত, ছয় রাকাত। ছয় রাকাতে এক পারা পড়ে নও। এরপর বিতির পড়। তাহলেও তো ‘আওতিরু...’ এই হাদীসের উপর আমল হল।

আসল সমস্যা হল, এই যে একটা বিধান হাফেযদের প্রতি, এটার বাস্তবায়নের ফিকির নেই। ফিকির না থাকার অনেক কারণ। একটা কারণ হল, মাসআলা সব তালাশ করে ফিকহের কিতাবে। আমাদের দ্বীনের মাসআলা কিন্তু বিভিন্ন শাস্ত্রে বণ্টিত। কিছু এখানে কিছু ওখানে বর্ণনা করা হয়েছে। সব মাসআলাকে এক শাস্ত্রের কিতাবে এবং এক দুই কিতাবে দেখলে পাওয়া যাবে না। এখন যদি কেউ তাহাজ্জুদের এই বিধান খোঁজ করে কুদুরী আর কানযে, তাহলে পাওয়া যাবে না। এটা পাওয়া যাবে ইহইয়াউ উলূমিদ্দীনে, কূতুল কুলূবে। এটা পাওয়া যাবে, মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বায়।

এটা অনেক বড় অবহেলা। গায়রে হাফেযও শুয়ে থাকে বা উঠলেও সূরা ফালাক-নাস দিয়ে দুই রাকাত তাহাজ্জুদ পড়ে। হাফেযও শোয়ে থাকে বা উঠলেও ছোট ছোট সূরা দিয়ে দু-চার রাকাত নামায পড়ে। তাহলে হাফেয আর হাফেয নয়- এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য কী? যে হাফেয না সেও এক পারা করে মাসে এক খতম দেওয়ার চেষ্টা করে। হাফেয যে সেও মাসে এক খতম দেওয়ার চেষ্টা করে। নামাযের মধ্যে তিলাওয়াতের ক্ষেত্রেও হাফেয আর গাইরে হাফেয একরকম। আর নামাযের বাইরে কুরআন দেখে দেখে পড়ার ক্ষেত্রেও হাফেয আর গাইরে হাফেয এক ধরনের। এই যে দুই দলের বরাবর থাকা- এটা হাফেযদের জন্যে এক ধরনের হিজরানে কুরআনের অন্তর্ভুক্ত। এতে কুরআনের প্রতি সূক্ষ্ম একটা বে-রগবতী প্রকাশ পায়। আল্লাহ আমাকে হাফেয বানিয়েছেন। অথচ আমার মধ্যে আর গাইরে হাফেযদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই- এটা কী করে হয়?

হাফেয আর গায়রে হাফেযের মধ্যে পার্থক্য থাকতে হবে। হাফেযের হিফয পাকা থাকতে হবে। যে দেখে দেখে পড়ে তার ভুল হয় না। সুতরাং যে হাফেয তার ভুল হবে কেন? সেও তো দেখে দেখে পড়ছে। তার সামনে দুইটা মুসহাফ থাকে। একটা সীনায় আরেকটা হল-যে মুসহাফ দিয়ে সে হিফয করেছে সেটা। সেটা তো তার সামনে আয়নার মত ভাসতে থাকে। এটা আল্লাহ্র এক কুদরত, যারা অবহেলা করেছে এবং হিফযের পরে হক আদায় করেনি, তাদের সামনে হয়ত ওরকম খোলা থাকবে না। হাফেযের কেবল সেই ভুল হতে পারে, যেটা কুরআনের মুজিযা। এক হাফেয একবার বলেছিল, আমার কোনো লোকমা লাগে না। এই মাতুব্বরি করার অবকাশ নেই। পুরা কুরআন শেষ করেছে। কোনো লোকমা লাগেনি। যখন সূরা নাস পড়ছে তখন লোকমা খেয়েছে। এটা কুরআনের মুজিযা যে, পুরো কুরআন পাকা ইয়াদ। কিন্তু হঠাৎ করে কোথাও লোকমা লেগে গেল। সেই লোকমা চলতে পারে। সেটা লোকমাও না। নিজেই আবার ঠিক করে নিচ্ছে। কিন্তু যেভাবে অনেকের লোকমা লাগতে থাকে এ রকম লোকমা লাগা অন্যায়। এর মানে হল এ শুধু রমযানের হাফেয। হাফেয যদি শুধু রমযানের হাফেয হয় তাহলে কোনো সন্দেহ নেই- সে গোনাহগার। তিলাওয়াতে অবহেলার কারণে ইয়াদের এই অবস্থা থাকা তো গোনাহ। এটাও এক ধরণের হিজরানে কুরআন।

হাফেয ভাইদের কাছে আমার দরখাস্ত, নিজেদের তরতীব আমরা এমনভাবে বানাই যে, তাহাজ্জুদ বা কিয়ামুল লাইল বা দুটার মাধ্যমে মাসে একটা খতম হয়ে যায়। মাগরিবের পর আওয়াবীনের নামায আছে। যদি কিয়ামুল লাইল বিল মা‘নাল আম ধর তাহলে আওয়াবীনও ওটাতে শামিল। আওয়াবীন, শোয়ার আগে দু-চার রাকাত নফল, আর শেষ রাতে পনের বিশ মিনিটে দু-চার রাকাত পড়। সব মিলিয়ে নামাযে এক পারা পড়া- এটা কি অসম্ভব? এরপর সুন্নত, নফল, এশরাক, সুন্নতে মুআক্কাদা নামাযের আগে পরে যা আছে, এগুলোর মধ্যে ধারাবাহিক একটা তিলাওয়াত চালু রাখো। এভাবে এক মাসে একটা খতম সুন্নত নফলে কর। তাছাড়া তুমি যেখানেই থাকো যে দায়িত্বেই থাকো দেখে তিলাওয়াত তো তোমার রুটিনে থাকবেই। সে তিলাওয়াতে অন্যরা এক পারা পড়তে পারলে তুমি দু-তিন পারা পড়তে পারবে। যতটুকু বললাম, এটা হল হাফেযদের জন্যে এক প্রকার ফরয দায়িত্ব। এটার এহতেমাম কর। নয় তো আমাদের জন্যে বড় পাকড়াও আছে, বড় পাকড়াও। আল্লাহ আমাদের হেফাযত করুন- আমীন। হ

২৯ রমযান ১৪৩৯ হিজরী

পত্রস্থকরণ : এনামুল হাসান

06/07/2020

কী হনুরে! মুই কার খালুরে!!

ইহা রসে টইটুম্বুর একটি লেখা। প্রিয় পাঠক, ইহাকে বেশী কাত করিয়া পড়িও না; তাহাতে রসটুকু পড়িয়া যাইতে পারে!

পেয়ারে পাঠকান ও পাঠিকান! তোমাদের প্রত্যেকের জন্য একখান করিয়া সালাম, বহু দিন হইল আমার নিকট পড়িয়া আছে। আশা ছিল, পুষ্প আসিবে, আর তোমাদের সালাম তোমাদের হাওয়ালা করিয়া আমি নাখান্দা গোলাম হোসেন দায়মুক্ত হইব। বিলিভ কর, আচ্ছা, বিলিভ করিতে না পার, একীন কর, একীনও যদি করিতে না পার, বিশ্বাস কর; আমার নিয়তে কোন খারাবি ছিল না। যাহাকে বলে খালেছ দিলের খালেছ নিয়ত। কিন্তু সেই নিয়ত আর পুরা হইল না; কেন হইল না তাহাও বুঝিলাম না। শেষে এক আকেলমন্দ ব্যক্তির সঙ্গে মুলাকাত হইল। তিনি সবকিছু খোলাছা করিয়া এবং যথেষ্ট পরিমাণে ফরসা করিয়া বুঝাইলেন, সমস্যটা কোথায়! তিনি বলিলেন, দেশে এখন কোন খালেছ জিনিসের কদর নাই। খালেছ দিল, আর খালেছ নিয়তের তো বিলকুল কদর নাই! কদর শুধু জাল ও ভেজালের! সুতরাং যদি পার দিলের অন্দরে আর নিয়তের বন্দরে থোড়া জাল এবং একটু ভেজাল মিশাইবার চেষ্টা কর। দেখিবে দিলের মর্তবা এবং নিয়তের ফযিলত ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাইতেছে!

তাজ্জব কি বাত! ক্যায়সা না-খান্দা কথা! ক্যায়সি বেÑখান্দা বাত! চিরকাল বাবার মুখে এবং দাদার যবানে শুনিয়া আসিলাম, খালেছ দিলে খালেছ নিয়তে যাহা করিবে তাহাই কবুল হইবে। এখন একি কথা শুনি অরিন্দম! তবে কি ইহা দিনবদলের ফযিলত? বদলে আর বলদে তবে ফারাক রহিল কোথায়?! নাহ, দাল মেঁ কুছ কালা হায়! কিন্তু তিনি তো আকেলমন্দ! এমনকি রীতিমত দানেশমন্দ! কত সরকার আসে, কত সরকার যায়; কত কপাল ভাঙ্গে, কত কপাল জোড়া লাগে, তিনি মাগার কোথাও যান না, সুতরাং তাহাকে আসিতেও হয় না। তাহার কপাল কখনো ভাঙ্গে না, সুতরাং জোড়া লাগিবারও প্রশ্ন আসে না! কিন্তু আমার মনে প্রশ্ন আসিল। আমি প্রশ্ন করিলাম, ‘বড়ই উঁচা দরজার নছিহত করিয়াছেন জনাব! তবে তাহাতেও কি জাল ও ভেজালের মিশ্রণ আছে!

তিনি হাস্য করিলেন এবং স্বীকার করিব, দাঁতের কিছু ঘাটতি আছে বটে এবং নীচের ঠোঁট অনেকটা ঝুলিয়া পড়িয়াছে বটে, তবে এই বয়সেও হাসিটি তাহার বড় সুন্দর! যাহাকে বলে বাঙ্গালের মুখে লন্ডনি হাসি!

তো তিনি হাসিলেন। হয়ত ইহা দিলখোলা হাসি নহে, তবে মুখখোলা হাসি অবশ্যই। কারণ পড়িয়া সরিয়াও যে কয়টি দাঁত অবশিষ্ট আছে ঐ একহাসিতেই সবকয়টি দাঁতের দর্শন লাভ হইল, এমনকি আক্কেল দাঁতখানিও দেখিতে পাইলাম এবং ধন্য হইলাম। ধন্য হইবার কারণ আছে। ছোটকালে আমার নাকি আক্কেল দাঁত গজায় নাই। বাবা যখন বিরক্ত হইতেন, বলিতেন, তোর আক্কেল দাঁত কি কোন কালে গজাইবে না! তো ভাগ্যদোষে যাহার আক্কেল দাঁত কোন কালেই গজাইল না, তাহার পক্ষে এমন দানেশমন্দ ব্যক্তির আক্কেলদাঁতখানি দেখিতে পাওয়া কি কম কিসমতের!

খয়ের, তিনি হাস্য করিলেন এবং কহিলেন, লম্বা কথা বলিব না, সময় কম, অর্থাৎ ‘টাইম সট’। কারণ সম্প্রতি আমি ‘জাল ও ভেজাল’ বিষয়ে একখান কেতাব লিখিতেছি। তো শোনো, আমি শুধু একটি প্রশ্ন করিব, তুমি দুইটি উত্তর দিবা। ইহাতেই সবকিছু তোমার চোখের সামনে, এমনকি চোখের পিছনেও ফরসা হইয়া যাইবে। প্রশ্নটি শোনো, দেশপ্রেম কী এবং দেশপ্রেমিক কাহাকে বলে? না, না ভুল বুঝিও না; দেখিতে এখানে প্রশ্ন দুইটি বটে, তবে আসলে ইহা একই প্রশ্নের এই পিঠ ঐ পিঠ। নাও এইবার তুমি আমার প্রশ্নের দুইটি উত্তর দাও।

আসলে দুইটি তো দূরের কথা, দেখিতে শুনিতে মোটামুটি চলনসই একটি উত্তরও মাথায় আসিতেছিল না, তাই কিছুটা সময়ক্ষেপণের উদ্দেশ্যে বলিলাম, কিন্তু জনাব এখন তো ‘পার্সেন্টিজ’-এর যমানা। সুতরাং আগে খোলাছা করুন, কত পার্সেন্ট দেশপ্রেম এবং কত পার্সেন্ট দেশপ্রেমিক সম্পর্কে আপনার প্রশ্ন!

তিনি অবাক চোখে আমার দিকে তাকাইলেন। যেন বুঝিতে চেষ্টা করিতেছেন, কাহার মুখে কী শুনিলেন! তারপর আমার পিঠ চাপড়াইয়া বলিয়া উঠিলেন, তোফা! তোফা!! তুমি তো বাপু বহুত বড়া ছুপা রুস্তম আছ! যাও, ছুয়াল-জওয়াবের তোমার জরুরত নাই। শুধু জাল-ভেজালের মিশ্রণকৌশলটা একটু শিখিয়া লও।

তিনি ‘জাল ও ভেজাল’ কেতাব লিখিলেন আমি পড়িলাম এবং শিখিবারও চেষ্টা করিলাম। হইল না! আসলে সব কিছু সবার হয় না। হয় না মানে হযম হয় না। চোখের সামনেই তো দেখিতে পাই, কতজন কত কিছু আহার করিল এবং দস্তুর মত বড় বড় লোকমা দিয়া আহার করিল। একটা দুইটা ঢেকুর তুলিল, আর দিব্বি হযম হইয়া গেল! কিন্তু সেনকে পাইয়া বসিল শনিতে। ছোট্ট একটি লোকমা, হযম হইল না! গলায় আটকাইয়া গেল। বেচারা এখন গিলিতেও পারে না, ফেলিতেও পারে না।

না, বাবা, না; জাল-ভেজালে কাজ নাই। যাহা করিব খালেছ দিলে খালেছ নিয়তেই করিব। আজ না হয় কাল, খালেছ দিলের খালেছ নিয়তের সুফল ফলিবেই।

তত দিন অপেক্ষা করিতে আপত্তি কী! আফটার অল সবুরে মেওয়া ফলে বলিয়াই তো জানি!!

কিন্তু সমস্যা দেখা দিল। সম্প্রতি সালামের থলিয়াটি খুলিয়া দেখি, সবকয়টি সালামে মরিচা ধরিতেছে। নাহ, আর বসিয়া থাকা যায় না, পুষ্পের পাতায় না হউক, কাউছারের পাতায় তোমাদের সালাম তোমাদের হাওয়ালা করিয়া দেইÑ

আস্সালামু আলাইকুম।

আচ্ছা, তোমরা ওয়ালাইকুম সালাম বলিবার ফাঁকে একটি মজার খবর বলি। খবরটি যে মজার তাহাতে কোন সন্দেহ নাই, সন্দেহ কিঞ্চিৎ থাকিতে পারে, তবে শকশোবা বিলকুল নাই, আরে মিয়াঁ, শকশোবা যদিও বা থাকে, ডাউট একেবারেই নাই। ইডিয়ট ছাড়া কেহ ডাউট করিবে না।

খয়ের খবরের বয়ানখানা কীভাবে শুরু করিব! বরাবর দেখিয়াছি, শুরুটাই যত মুশকিল; একবার শুরু হইলে শেষ হইতে আর দেরী লাগে না! কিন্তু শুরুটাই যে হইতে চাহে না!

আচ্ছা, কিলবিল এবং ঝিলমিল দিয়া শুরু করা যায় না! যায় তো! যাক বাবা, শুরু করিবার একটা পথ যখন পাওয়া গেল শেষ হইতে আর সময় লাগিবে না।

হাঁ, কিলবিল এবং ঝিলমিল!

আমার স্ত্রী মানুষটি এমনিতে যথেষ্ট নিরীহ টাইপের। কথা বলেন আরো নিরীহ গোছের। যেন কিচ্ছুটি জানেন না, কিচ্ছুটি বোঝেন না; এমনকি রান্নাঘরে নিজে মাছ ভাজা করিলেও ভাজা মাছটি উল্টাইয়া আহার করিতে পর্যন্ত জানেন না! তবে মাঝে মধ্যে একটি দু’টি শব্দ এমন বলেন যে, তাক না লাগিয়া পারে না।

উদাহরণ চাও? সে তো তোমার সামনেই উপস্থিত। ঐ যে, কিলবিল এবং ঝিলমিল!

আচ্ছা খোলাছা করিয়া বলি,

সেদিন সন্ধ্যায় বড় আয়েশ করিয়া এককাপ চা পান করিলাম। এদিকে আমি চায়ের কাপে শেষ চুমুকটি দিলাম, ওদিকে তিনি যতœ করিয়া তৈরী করা পানের খিলিটা বাড়াইয়া দিলেন। আমি মুখে পুরিয়া বলিলাম, কি করি বল তো! হাতের কাছে পুষ্পটা নাই। কবে যে আসিবে তাহারও ঠিক নাই, এমনকি ঠিকানাও নাই! এদিকে আমার মাথায় একটি লেখা কিলবিল করিতেছে!

বলিয়াই মনে হইল, শব্দচয়ন ঠিক হইল না। লেখার শব্দগুলি, হরফগুলি কি পোকা যে মাথার অন্দরে কিলবিল করিবে? নাহ, সেই কবে দাড়িতে পাক ধরিয়াছে, এখনো শব্দচয়ন ঠিক হইল না! সাধে কি আর বলে, ‘বাচ্পান মেঁ না হো, তো পাচ্পান মেঁ ভী নেহীঁ হোতা’। বাংলায় বলে, না হয় যদি নয়ে, হয় না তবে নব্বইয়ে। নব্বই হইতে আমার দেরী আছে, তবে ‘পাচ্পান’ ইতিমধ্যেই পার হইয়া গেছে।

মনের মধ্যে এই সব ভাবিতেছি, তখন স্ত্রী বলিয়া উঠিলেন, মাথার মধ্যে লেখা কিলবিল করিবে কেন, বল ঝিলমিল করিতেছে। লেখা তো পোকা না, লেখা হইল আলো!

সত্যি তো! লেখা তো আলো! লেখা কিলবিল করে না, ঝিলমিল করে। কৃতজ্ঞ দৃষ্টিতে স্ত্রীর প্রতি তাকাইলাম; ভাবিলাম। আহা, এমন মানুষটি লেখক বা লেখিকা একটা কিছু হইল না কেন?!

যাক, বলিলাম, একটি লেখা ঝিলমিল করিতেছে এখন কি করি বল। এবার তিনি আরো চমক দিলেন, বলিলেন, লেখা ঝিলমিল করিতে তো বিজলী লাগে না, কম্পিউটার ‘অন’ করিতে লাগে! এদিকে কাগজ কলমের লেখা তো ভুলিয়াই গিয়াছ! সুতরাং বিজলী আসা পর্যন্ত সবুর কর।

আচ্ছা, ছবর করিলাম। তবে এই ফাঁকে লেখার শিরোনামটি চিন্তা করা যায়! .... তো আমার লেখার শিরোনাম হইল ‘খালা ও খালু’।

পেয়ারে পাঠকান ও পাঠিকান! শিরোনামটি কি পছন্দ হইল?

হয় নাই! না হউক, তবু অনুরোধ করিব, লেখাটি শেষ পর্যন্ত না পড়িয়া উঠিও না। অনেক দিন পর আমার অনেক সাধের লেখা!

কী বল! খালা ও খালু বড় বেশী মুসলমানি শব্দ! গরুর গোশতের গন্ধ! চিন্তা করিও না, আমার কাছে বিকল্প শব্দ আছে। সীমান্তে অবশ্য কাঁটাতার আছে এবং ‘পাখী’ শিকারের উৎসব চলিতেছে। তা চলুক, এত এত ফেনিসিডিল যখন নির্বিঘেœ ‘আমদানি’ হয়, দুই চারিটা শব্দ আমদানি করিতে সমস্যা কী।



দাদাদের পছন্দ যেন কী?! মাসী ও মেসোমশাই! এই তো, গরুর গোশতের গন্ধটা দিব্বি কাটিয়া গেল!

ঐ পারে আমাদের দাদা আছেন, প্রণবদা; দিদিও আছেন, মমতাদি! মাসী কি আছেন? মেসোমশাই? হয়ত আছেন, এখনো মঞ্চে আসেন নাই, এই যা! আসিতে কতক্ষণ! তখন হয়ত দু’তিন ঘটি জল চাহিলে পাওয়া যাইতেও পারে। অন্তত মিষ্টি একটি আশ্বাস!

ততদিনে আমি বুবুজানের লফযগুলা ইয়াদ করিয়া লই। আসলে দুই চারিটা লফয ইয়াদ করা তেমন কঠিন কিছু নহে। কঠিন ব্যাপার হইল, লফযের ইসতিমাল, মানে ইউয, ইয়ানে ব্যবহার। হাঁ, প্রতিটি লফয ব্যবহার করিবার নিজস্ব ক্ষেত্র আছে। আমাদের পাড়ায় বুবুজানের বড় বদনাম, তিনি বড় বেফাঁস লবয ইস্তিমাল করিয়া থাকেন। যতই বলি, আব্দার বল মিনতি বল, এমনকি তিরস্কার বল, খাছলতের এবং খাছিয়তের কোন রববদল নাই! ধর, সেদিন বয়সে বড়, অর্থাৎ কিনা মুরুব্বি সাইজের একজন সম্পর্কে বলিয়া বসিলেন, তার নাকি, ‘কী হনুরে, মুই কার খালুরে!’ স্বভাব!

পাড়ায় রিরি পড়িয়া গেল। গেল তো গেল, কাদামাটি হইতে আর উঠিল না। ঐ দিকে বুবুজান দিব্বি নির্বিকার, যেন বড় একখান মজার কাণ্ড ঘটাইয়াছেন!

এইদিকে বুবুজান, লোকাল এলিকশনের চিন্তা করিতেছেন। তো এই ফাঁক দিয়া উপদেশের একটা ‘ফাল’ ঢুকাইয়া দিলাম, বুবু, সামনে ভোট, এই বার একটু সাবধান হও।

ডেমক্যায়ার হাসিটি মুখে ঝুলাইয়া বলিলেন, চিন্তা করিস না ভাই। এখন ভোটে ভোটার লাগে না! আর ব্যালটপেপার দিনের আলোতে বাক্সে ঢোকে না!!

06/07/2020

এক অলসের আত্মকাহিনী!

আমি এক অলস। আমার নাম ‘কলস’। কলস মানে মটকা। দেখতে আমি মটকার যথেষ্ট কাছাকাছি, তাই লোকের মুখে আমার এ নাম। আসল নামটা সম্পাদক ভাইয়া যদি দয়া করেন, লেখাটির শেষে দেখতে পাবে, আর না হয় এ নামেই ডেকো, আমি কিছু মনে করবো না।

তো শোনো, যদিও আমি অলস এবং নাম আমার কলস, তবে কথা আমার বড় সরস। কাউকে ডরাই না, কোন কথা লুকাই না। তো শোনো, আমি শুধু অলস নই, বরং ‘আওলাশুল উলূশ’। আওলাশু হচ্ছে অলস-এর ইসমে তাফযীল, আর ঊলূশ হচ্ছে অলস-এর বহুবচন। মানে অলসদের সেরা অলস; খাস বাংলায় যাকে বলে অলসের ঢেঁকি। দেখো, আরবী ভাষার কী ফযীলত, কামালত! একটি বাংলাশব্দকে কেমন বেমালুম হযম করে ফেললো!

তো আমার অলসতার কথা হচ্ছিলো। মাশা‘আল্লাহ, ভালো-মন্দ উভয় কর্মেই আমি সমান অলস। অর্থাৎ দাড়িপাল্লায় মাপা হলে উভয় পাল্লা সমান সমান; বিলকুল ‘ইনসাফ কা তারাযূ’! উদাহরণ চাও! যেমন ধরো নামায। অযান শেষ হওয়ার পরে চোখ মেলি: ইকামতের আগে অযুখানায় যাই; আর ইমাম ছাহাবের সঙ্গে মোলাকাত হয় আখেরি রাকাতের আখেরি হিছ্ছায়।মন্দ কর্মের উদাহরণ! যেমন ধরো বন্ধুদের জলসায় আড্ডা। একবন্ধু এসে বললো, চল্ যাই ওদিকে বেশ জমিয়ে আড্ডা হচ্ছে।

আমি একটা হাই তুলে বলি, তুই যা, আমি আসছি। বন্ধুটি চলে যায়, এদিকে আমার চোখ লেগে যায়। কিছুক্ষণ পর বন্ধুটি এসে বলে, কিরে উঠলি না!

আমি অপ্রস্ত্তত হয়ে বলি, এই যা! চোখটা লেগে গিয়েছিলো। আচ্ছা তুই যা, আমি চোখে মুখে পানি দিয়ে আসি।

গড়িয়ে গড়িয়ে অবশেষে আড্ডায় গিয়ে দেখি, সবকুছ খতম!

অলসতা, আর আলসেমি অনেকে ভাবে একই জিনিস। যে যাই বলুক শুনতে হবে এবং মানতে হবে আমার কথা। কারণ এ বিষয়ে আমি হলাম বিশেষজ্ঞ। প্রশ্ন উঠতে পারে অলসও কি হতে পারে বিশেষজ্ঞ? আলবৎ পারে। কারণ অলসতার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে কিছু করা লাগে না। শুধু তন্দ্রা-নিদ্রার হালতে একটু আধটু ফিকির করা লাগে।

যাই হোক আমার সুচিন্তিত মত হলো, অলসতা ও আলসেমি প্রকারে এক হলেও প্রকৃতিতে এক নয়। অলসতা হলো অলসের কচি অবস্থা। মানে কাজ করে, তবে ঢিলেমি আছে। আর আলসেমি হলো অলসের পরিপক্ক অবস্থা। মানে উঠি উঠি করেও ওঠে না; করি করি করেও করে না। লোকটাকে তখন আর অলস বলে না, বলে আলসে।

বাংলাভাষাকে একটা ধন্যবাদ দিতেই হয় অলসতার অতি সূক্ষ্ম স্তরতারতম্য রক্ষা করে ভিন্ন ভিন্ন শব্দ নির্মাণ করার জন্য। যেমন এক্ষেত্রে আরেকটি শব্দ হলো কুঁড়েমি।

কুঁড়েমি শব্দটির সঙ্গে পরিচয় আছে তো! এটা হলো অলসতার একেবারে আ‘লা দরজা। অলসতার রাজ্যে এর মরতবা-ফযীলত একেবারে অন্য রকম। কুঁড়েমি মানে, কাজ তো করেই না! করার জন্য উঠি উঠিও করে না। পড়ে থাকে তো পড়েই থাকে। এদিকে বেলা গড়িয়ে দুপুর, দুপুর গড়িয়ে বিকেল ওদিকে তিনি যে কাতে ছিলেন সে কাতেই আছেন। কারণ কাত ফিরিয়ে দেয়ার জন্য কাছে পিঠে কেউ ছিলো না। এমন মানুষকে অলস তো নয়ই, আলসে বলারও জো নেই, বলতে হবে কুঁড়ে এবং চন্দ্রবিন্দুটা লাগাতে হবে খুব যত্ন করে।

ভালো কথা! তিন অলসের সেই কাহিনীটি কি জানা আছে? সেই যে রাজ্যের যত অলসদের নিয়ে রাজা অলসতার ব্যতিক্রমধর্মী এক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন! তাতে যিনি প্রথম হয়েছিলেন রাজা তাকে পদক দিয়েছিলেন ‘কুঁড়ে দ্য চ্যাম্পিয়ন’ বলে। যিনি দ্বিতীয় হয়েছিলেন তার পদকটির নাম ছিলো ‘আলসে দ্য গ্রেট, আর তৃতীয় জনের পদকটি হলো অলস দ্য বেস্ট। সে যুগের রাজারাও ছিলেন যাকে বলে গুণের সমঝদার। গুণিদের কদর করার তরিকা তারা জানতেন বটে! নিছক কপালের ফেরে সে যুগে না জন্মে জন্মেছি এ যুগে এসে। এখন না অলসদের কদর আছে, না কর্মঠদের। অলসদের হয় জেল, কর্মঠরা যায় জেলখানায়।

বিষয়টি মনে হয় তেমন করে খোলাসা হলো না! কারণ এখানে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপদ্বয়ের পারফর্মেন্স-এর আলোচনা আসেনি। আসলে পুরো ঘটনাটা আমিও ভুলে গেছি।

যাক আরেকটি উদাহরণ যদিও ততটা উন্নত নয়, তবে মনে আছে পুরোপুরি, আর বিষয়টিও তাতে খোলাসা হতে পারে। একদেশে ছিলো তিন বন্ধু। তিনজনই অলস। তিনজনেরই দাবী ছিলো, সে-ই সেরা অলস, মানে যাকে বলে কুঁড়েশ্রেষ্ঠ। কিন্তু কার দাবী সত্য, পরখ করে দেখার তেমন একটা সুযোগ হয়নি। একবার হঠাৎ করেই সুযোগ জুটে গেলো। তিনবন্ধু দাওয়াত পেলো রাজার ভোজসভায়। প্রথমজন যাই যাই করে গেলো একেবারে শেষ বেলায়। দ্বিতীয়জন বললো, আমারটা নিয়ে আসিস ভাই! তৃতীয়জন! সে বললো, আমারটা দয়া করে খেয়ে আসিস।

ঘটনা থেকে নিশ্চয় বোঝা গেছে, কে কুঁড়ে, কে আলসে, আর কে শুধু অলস!

এত কথা বলার একটা উদ্দেশ্য আছে মিয়াঁ ভাই। নিজের বিচার তো নিজে করা যায় না। অবস্থা শুনে আজ তোমাদেরই ফায়ছালা করতে হবে, আমি কোন্ ক্যাটাগরিতে আছি! আম্মা খেতে ডেকে বিরক্ত হয়ে বলেন, তুই এত অলস কেন্ রে? বাপের খাছলত পেয়েছিস বুঝি!

ফজরের সময় আববা ডেকে ডেকে পেরেশান হয়ে বলেন, ‘তোমার’ ছেলে জন্মের আলসে! আর বড় ভাই! মাদরাসায় যাওয়ার সময় প্রায় পার হয়ে যায়, তখনো আমি হাম্মামে। তিনি তাগাদা দিতে দিতে হয়রান হয়ে বলেন, এমন কুঁড়ে! তুই কার মত হলি রে!

সব তো শুনলে! এবার বিচার করে বলো; কুঁড়ে, অলস, আলসে, আসলে আমি কে?

ও! ঘটনাটাই বলা হয়নি! তো শোনো। কী যেন, কী যেন ঘটনাটা ঘটলো সেদিন! হাঁ, মনে পড়েছে। আমাদের মাদরাসায় আয়োজিত ‘অলসতা দূরীকরণের প্রশিক্ষণশিবিরের ঘটনা।

কবে যেন, কবে যেন! হাঁ, মনে পড়েছে। গত শনিবারের পরের রবিবারে।

ঘটনা হ-ল-ও! একি! আমাকে দেখি অলসতায় পেয়ে বসেছে! না, এটা তো বিলকুল আলসেমি! না, না, এ স্রেফ কুঁ..কুঁড়েমি!!

06/07/2020

কোরআনের আলো

بسم الله الرحمن الرحيم

আল্লাহ্ তালা ইরশাদ করেন,

وَلا تَـهِـنُـوا وَلا تَـحْزَنُـوا وَأنْتُـمُ الأعْـلَونَ إنْ كُـنْتُـم مُّـؤْمِـنيـنَ . إنْ يَّـمْـسَـسْكُـمْ قَـرْحٌ فَـقَـدْ مَـسَّ القَومَ قَـرْحُ مِّـثْـلُـه ج وَتِـلْـكَ الأيَّـامُ نُـداوِلُـها بَـيْـنَ الـنَّـاسِ...

আর তোমরা ভেঙ্গে পড়ো না এবং বিষণ হয়ো না। তোমরাই তো জয়ী হবে, যদি তোমরা মুমিন হও। যদি তোমরা আহত হয়ে থাকো তাহলে (পেরেশানির কী আছে!) লোকেরাও (আগে) এরূপ আহত হয়েছে। আর দিনকাল তো আমি লোকদের মাঝে আবর্তিত করি। .... (আলে ইমরান, ৩/১৪০)



ফায়দা

জীবন ও জগতের বিধান মুমিন-অমুমিন সবার জন্য অভিন্ন। জাতীয় দুর্যোগ অন্যদের জীবনে যেমন আসতে পারে, তেমনি আসতে পারে আমাদের জীবনে, উম্মাহর যিন্দেগিতে। সুতরাং কোন বিপদে দুর্যোগে ভেঙ্গে পড়া উচিত নয়; অন্যদের তো কোন ঊর্ধ্বজাগতিক আশ্রয়স্থল নেই। তারপরো তো তারা পরাজয়ে মুষড়ে পড়েনি, নতুন বলে বলীয়ান হয়ে ময়দানে এসেছে। মুমিনদের জন্য তো রয়েছে আশ্বাস ও আশ্রয়। বিপদে ধৈর্য ধারণ করার উপর রয়েছে আজর ও ছাওয়াব। সুতরাং মুমিনদের মুষড়ে পড়ার বা বিষণ হওয়ার সুযোগ কোথায়!

তাছাড়া জীবন ও জগতের বিধানই আল্লাহ্ এরূপ নির্ধারণ করেছেন যে, একবার একদল জয়ী হবে, আবার অন্যদল জয়ী হবে। যেমন বদরে মুসলিমগণ জয়ী হয়েছে, অহুদে কাফিরদের পাল্লা কিছু ভারী হয়েছে। এটা আসলে জাগতিক কারণ ও কার্যকারণের উপর নির্ভর করে। পার্থক্য হলো মুমিনীনের জন্য জয়ের মধ্যে যেমন কল্যাণ, পরাজয় ও বিপদ-দুর্যোগের মধ্যেও কল্যাণ, যদি তারা ছবর করে, ইসতিগফার করে এবং ভুলত্রুটির সংশোধন করে ভবিষ্যতের কর্মপন্থা নির্ধারণ করে। দুনিয়া এবং আখেরাত উভয় ক্ষেত্রে শেষ ফল মুমিনীনের অনুকূলেই হবে।

আমাদের কর্তব্য হলো, বিপদ ও দুর্যোগ কেন এসেছে, কোথায় ছিলো ত্রুটি ও বিচ্যুতি এবং দুর্বলতা ও শৈথিল্য, এগুলো চিন্তা করে সংশোধনের পথে আত্মনিয়োগ করা।

মুমিনীনের জন্য আয়াতের সবচে’ বড় আশ^স ও সান্ত¡না এই যে, জয় -পরাজয় উভয় অবস্থায়ই অন্যদের উপর মুমিনীনের তাপ ও প্রতাপ বজায় থাকার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে; শর্ত শুধু এই যে, তাদের প্রকৃত ঈমানদার হতে হবে এবং ঈমানের দাবী ও তাকাযার উপর অবিচল থাকতে হবে। মুসলিম উম্মাহর সমগ্র ইতিহাস এ আয়াতেরই সত্যতার অকাট্য প্রমাণ।



তথ্যকণিকা

* সূরাতু আলে ইমরানের আয়াতসংখ্যা দুশ। এটি মাদানী সূরা। ইমাম কুরতুবী রহ. বলেন, মুফাস্সিরীনের ইজমা রয়েছে যে, প্রথম থেকে তিরাশি পর্যন্ত আয়াত নাজরানের প্রতিনিধিদল সম্পর্কে নাযিল হয়েছে, যারা মদীনায় এসেছিলো হিজরতের নবম বছর।

* অহুদযুদ্ধে প্রথম পর্বে মুমিনীনের বিজয় ছিলো সুস্পষ্ট। কিন্তু একটা ভুলের কারণে যুদ্ধের পাল্লা শেষ পর্যন্ত কাফিরীনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ভুল ছিলো এই যে, পঞ্চাশজন তিরান্দায, যাদের প্রতি আদেশ ছিলো, জয় হোক বা পরাজয়, কোন অবস্থাতেই তারা যেন তাদের স্থান থেকে না নড়ে। কিন্তু জয়ের আনন্দে তাদের একাংশ ঐ আদেশ ভুলে গিয়ে গনীমতের মাল জমা করার কাজে যোগ দিয়েছিলেন। মুশরিকপক্ষের খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ বিষয়টা লক্ষ্য করে ঐ ফাঁকা পথে পিছন থেকে মুসলিম বাহিনীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।

* অহুদযুদ্ধে সত্তরজন ছাহাবী শহীদ হয়েছেন।

قَـرْح ٌ এ আয়াতে দুবার এবং আলে ইমরানেরই ১৭২ নং আয়াতে একবার, এভাবে মাত্র তিনবার এসেছে।

إنْ كُـنْـتُـم مُـؤْمِـنِـيـن এর সম্পর্ক হলো لاتَـهِـنُـوا ولا تَـحْـزَنُوا এর সঙ্গে। অর্থাৎ إنْ كُـنْـتُـم مُـؤْمِـنِـيـن فَلاتَـهِـنُـوا ولا تَـحْـزَنُوا

কিংবা وَأنْـتُـمُ الأعْلَوْنَ এর সঙ্গে।

অর্থাৎ إنْ كُـنْـتُـم مُـؤْمِـنِـيـن فَأنْـتُـمُ الأعْلَوْنَ

* আলোচ্য আয়াত নাযিল হয়েছে গাযওয়া অহুদ উপলক্ষে মুমিনদের সান্ত¡না দেয়ার জন্য।

إن يمسسكم قرح فقد مسَّ القومَ قـرح مثـله এখানে ইশারা হতে পারে বদরের দিকে। অর্থাৎ যদি অহুদে তোমরা হতাহত হয়ে থাকো, তাহলে বদরে তো ওরা হতাহত হয়েছে। আবার অহুদের দিকেও ইশারা হতে পারে। অর্থাৎ যদি যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে তোমরা আক্রান্ত হয়ে

থাকো তাহলে প্রথম দিকে তো ওরা পর্যুদস্ত হয়েছিলো



কোরআন সম্পর্কে

সমগ্র কোরআন যেমন একটি মুজিযা। তেমনি কোরআনের প্রতিটি আয়াতই আসলে একটি করে মুজিযা। প্রতিটি আয় সমগ্র কোরআন যেমন একটি মুজিযা। তে সমগ্র কোরআন যেমন একটি মুজিযা। তেমনি কোরআনের প্রতিটি আয়াতই আসলে একটি করে মুজিযা। প্রতিটি আয়াতেরই শব্দসমাবেশের মধ্যে রয়েছে এমন অপূর্ব এক সুরছন্দ, যা রক্ষা করা মানুষের কালামে কখনো সম্ভব নয়। একজন সঙ্গীতবিশেষজ্ঞ শুধু কোরআনের আয়াতের সঙ্গীতসৌন্দর্য এবং সুরসঙ্গতি অনুধাবন করেই ইসলাম গ্রহণ করেছেন যে, এটা তো মানুষের কালাম হতে পারে না।

আসলে, আল্লাহ্ যাকে হিদায়াত দান করেন, কোন না কোন ওছিলায় তার সামনে কোরআনের সত্যতা উদ্ভাসিত করে দেন, আর ইসলাম তার অন্তরে প্রবেশ করে। আল্লাহ্ যেন কোরআনের সর্বসৌন্দর্য অনুধাবন করার তাওফীক আমাদের দান করেন।

Want your school to be the top-listed School/college in KOLKATA?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address

Kolkata