12/09/2026
মুম্বইয়ের বস্তির ছোট ঘর থেকে NASA—জয়কুমার বৈদ্যের অবিশ্বাস্য যাত্রা
মুম্বইয়ের কুরলা বস্তির মাত্র ৮×১০ ফুটের ছোট ঘরে মায়ের সঙ্গে বেড়ে উঠেছিলেন জয়কুমার বৈদ্য। অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। অনেক দিন পেট ভরাতে ভরসা ছিল পাউরুটি, সিঙ্গারা কিংবা চায়ের ওপর। এমনকি স্কুলের বেতন দিতে না পারায় একসময় তাঁকে পড়াশোনা ছেড়ে গাড়ি চালানো শেখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু জয়কুমারের স্বপ্ন ছিল অন্যরকম। পড়াশোনা চালিয়ে যেতে তিনি টিভি মেরামতির দোকানে কাজ করেছেন, মাসে ৪ হাজার টাকা আয় করেছেন, পাশাপাশি পড়িয়েছেন শিক্ষার্থীদের। কঠোর পরিশ্রমের পর K. J. Somaiya College of Engineering থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। রোবোটিকসে জেতেন তিনটি জাতীয় ও চারটি রাজ্যস্তরের পুরস্কার। এরপর আসে Larsen & Toubro-তে কাজের সুযোগ এবং Tata Institute of Fundamental Research (TIFR)-এ গবেষণার সুযোগ।
TIFR-এ কাজ করার সময় ২০১৭ ও ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক জার্নালে তাঁর গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। সেই গবেষণাই নজর কাড়ে University of Virginia-এর। ২০১৯ সালে তিনি সেখানে Graduate Research Assistant হিসেবে যোগ দেন এবং পরে Electrical Engineering-এ Master’s ডিগ্রি অর্জন করেন।
কিন্তু তাঁর সাফল্যের গল্প সেখানেই থেমে থাকেনি।
University of Virginia-এর পর গবেষণার পথ ধরে জয়কুমার পৌঁছে যান NASA-তে। NASA-র বর্তমান প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি NASA Goddard Space Flight Center/UMBC-তে Ground Support Equipment Engineering Lead হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর কাজের সঙ্গে Mars, Moon এবং পৃথিবীর ওপরের বায়ুমণ্ডল নিয়ে গবেষণায় ব্যবহৃত মহাকাশযানের যন্ত্রপাতির উন্নয়ন ও পরিচালনার বিষয়টি যুক্ত।
যে ছেলেটিকে একসময় অর্থের অভাবে পড়াশোনা ছেড়ে গাড়ি চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, সেই ছেলেই আজ মহাকাশ গবেষণার কাজে যুক্ত।
জয়কুমার বৈদ্যের গল্প তাই শুধু দারিদ্র্য থেকে সাফল্যের গল্প নয়। এটি মনে করিয়ে দেয়—পরিস্থিতি স্বপ্নের পথ কঠিন করতে পারে, কিন্তু স্বপ্নের সীমা ঠিক করে দিতে পারে না।
আর এই পুরো যাত্রায় সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন তাঁর মা নলিনী, যিনি কঠিন সময়েও ছেলের পড়াশোনা ও স্বপ্নকে থামতে দেননি।
তথ্যসূত্র: NASA Goddard Space Flight Center, University of Virginia, Mumbai Mirror, The Better India, The Indian Eagle