30/04/2020
30 শে এপ্রিল 2020 , আজ আমার চাকরি জীবন থেকে অবসর নেওয়ার দিন। বর্তমানে আমরা সকলেই করোনা নামক এক মহাঘাতকের মহাতঙ্কে জর্জরিত , যার মহৌষধ হল সামাজিক দূরত্ব। সেই কারণেই আমার ছাত্রীদের সাথে, সহকর্মীদের সাথে আজ দেখা হোল না । দেখা ও কথা নাই বা হলো লেখনী তো আছে ! আজ কিন্তু ভূগোল নয় আজ লিখতে বসেছি ইতিহাস। আমার ভালবাসার ইতিহাস।
1971 সাল , ক্লাস VII এ এসে ভর্তি হয়েছিলাম আমার এই আনন্দ নিকেতনে। সে বছরই এই বিদ্যালয়ের 100 বছর পূর্তি হলো। তার তিন বছর আগেই অর্থাৎ 1968 সালে হয়ে গেছে জলপাইগুড়ির ভয়াবহ বন্যা। সেই বন্যার পলি কিন্তু 1971 সালেও সব জায়গা থেকে সম্পূর্ণ ভাবে পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। এখন যেখানে তোমাদের সাইকেল স্ট্যান্ড তার একটু সামনের দিকে দু-তিনটি ঘর ছিল, তার মধ্যে একটি ছিল অফিস ঘর (পরে শুনেছি বন্যার পর অফিস ঘরটা ওপরে নেওয়া হয় ) । 1971 সালে যখন আমি ঘরগুলো দেখি তখন সেগুলোর দরজা-জানলা ভাঙ্গা ,পলি পরা অবস্থা । বন্যার জন্য 100 বছরের পূর্তি অনুষ্ঠানটি হয়েছিল পরে 1974 সালে যখন আমি ক্লাস X এ পড়ি ।
1974 সালে একবারই মাত্র আমি দেখেছিলাম সেই মহীয়সী নারীকে যাঁর নামে এখন আমাদের বিদ্যালয়ের নাম। তারপর 1976 সালে উচ্চ মাধ্যমিক ( IX ,X ,XI একসাথে) পরীক্ষা দিয়ে বিদ্যালয়ের ছাত্রী জীবনের পাঠ শেষ করলাম। এরপর মাঝের পাঁচটা বছর বাদ দিয়েই 1982 সালে এবার শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দিলাম আমার এই ভালবাসার জায়গাতেই। দেখতে দেখতে অনেকগুলো বছর কেটে গেল, আসল 1995 সাল।
1995 সালে 125 বছরে পা দিল আমাদের বিদ্যালয়। আমরা সেইসময় দিদিমণি-ছাত্রী সবাই মিলে যেমন কাজ করেছি, তেমনি আনন্দ ও করেছি। সেই সময়কার কত স্মৃতি মনে পরছে আজ !
এই কিছুদিন আগে 28 শে ফেব্রুয়ারি 2020 , এক বর্ণাঢ্য পথ পরিক্রমার মধ্য দিয়ে সুনীতিবালা সদর গার্লস হাই স্কুলের আমরা সকলে মিলে 150 বছর উদযাপন করেছি। এই প্রস্তুতি পর্বের স্মৃতিও মনের মণিকোঠায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
আজ আমার চাকরি জীবনের 37 বছর 7 মাস পূর্ণ হল । এই একান্ত আপন জায়গায় সুদীর্ঘকাল নিজেকে উজাড় করে দিতে পেরে আমি সত্যিই ধন্য হয়েছি । আমার ছাত্রী জীবন ও চাকরি জীবন মিলিয়ে এই চলার পথে 100 বছর 125 বছর 150 বছর এই তিনটি সময় উপভোগ করাকে আমি আমার সৌভাগ্য বলেই মনে করি।
এখনকার পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বলছি তোমরা সবাই সাবধানে থেকো, সুস্থ থেকো। তোমাদের বুলবুলদি ।