19/04/2026
CBSE New Syllabus with Modern Education System. মৃতপ্রায় ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার উপর CBSE ফেলল নতুন বোমা। CBSE-র নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি গাইডলাইন ২০২৬-২৭
এবছর থেকে CBSE এর জন্য যে প্রধান পরিবর্তন এসেছে সেগুলো আগে জেনে নেওয়া দরকার -
1 বছরে দুবার বোর্ড পরীক্ষা(Biannual Exams) : দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৬ সাল থেকে বছরে দুবার বোর্ড পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকছে। এটি বাধ্যতামূলক নয়। কোনো শিক্ষার্থী চাইলে কেবল একটিতেও বসতে পারে। তবে দুটি পরীক্ষায় বসলে যেটিতে নম্বর বেশি (Best Score), সেটিই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে।
প্রথম পরীক্ষাটি সাধারণত ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে এবং দ্বিতীয়টি মে-জুন মাসে অনুষ্ঠিত হবে।
প্রশ্নের ধরনে পরিবর্তন (Competency-Based Questions) : প্রশ্নপত্রের প্রায় ৫০% থাকবে MCQ, Case-Based এবং Assertion-Reasoning টাইপ। বড় এবং ছোট উত্তরের প্রশ্নের পরিমাণ কমিয়ে ৩০% এ আনা হয়েছে। এখন থেকে শিক্ষার্থীর কেবল পরীক্ষার খাতা নয়, বরং প্রজেক্ট, প্র্যাকটিক্যাল এবং ইন্টারনাল অ্যাসেসমেন্টের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এটিকে Bloom’s Taxonomy-র উচ্চতর ধাপ (Analysis, Evaluation, and Creation) হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রথাগত "Rote Learning" বা মুখস্থ করার অভ্যাস কমিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে Critical Thinking বা গঠনমূলক চিন্তাভাবনা তৈরি করাই এর মূল লক্ষ্য। গণিত ও বিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলোতে এটি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে (যেমন- PISA) প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে। প্রসঙ্গত PISA এ কোন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মান নির্ধারণ করে। সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া এর মতো দেশগুলোর PISA Ranking বেশ ভালো।
এখন থেকে কেবল নম্বরের ভিত্তিতে নয়, বরং Holistic Progress Card (HPC) এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন হবে। এখানে শিক্ষার্থীর সহপাঠী, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী নিজে নিজের মূল্যায়ন করবে। এটি একটি ৩-ডিগ্রি মূল্যায়ন ব্যবস্থা।
জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০-এর লক্ষ্য পূরণ করতে CBSE এখন উচ্চশিক্ষার মতো স্কুল স্তরেও Credit System চালু করছে। একজন শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত ১২০০ ঘণ্টা পড়াশোনার (Academic + Vocational + Internal) সাথে যুক্ত থাকতে হবে।
গণিত ও বিজ্ঞানে ‘টু-লেভেল’ সিস্টেম (Standard vs Advanced) : ২০২৬-২৭ সেশন থেকে ৯ম শ্রেণীতে গণিত এবং বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন আসছে।
Standard Level (৮০ নম্বর)- এটি সব শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক। পরীক্ষার সময় ৩ ঘণ্টা।
Advanced Level (২৫ নম্বর)- এটি ঐচ্ছিক। এটি একটি আলাদা ১ ঘণ্টার পেপার, যা স্ট্যান্ডার্ড পরীক্ষার ওপর অতিরিক্ত হিসেবে নেওয়া হবে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ? শিক্ষা বিজ্ঞানীদের মতে, এটি "Differentiated Instruction" এর একটি রূপ। যারা JEE, NEET বা ISI-এর মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার লক্ষ্য রাখছে, তারা "Advanced" পেপার দিয়ে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করতে পারবে। যদি কোনো শিক্ষার্থী এতে ভালো স্কোর (৫০% এর বেশি) করে, তবে তার মার্কশিটে এটি একটি আলাদা 'Advanced Qualification' হিসেবে যুক্ত হবে, যা একাদশ শ্রেণীতে পছন্দের স্ট্রিম (PCM/PCB) পেতে সাহায্য করবে।
ক্রেডিট সিস্টেমের গাণিতিক বিভাজন (NCrF Framework) : CBSE এখন National Credit Framework (NCrF) অনুসরণ করছে। বছরে মোট ১২০০ ঘণ্টা পড়াশোনাকে ৪০ ক্রেডিটে ভাগ করা হয়েছে। প্রতি ৩০ ঘণ্টা পড়াশোনা = ১ ক্রেডিট। ৫টি প্রধান বিষয়ের জন্য ১০৫০ ঘণ্টা বরাদ্দ (প্রতি বিষয়ে ৭ ক্রেডিট)। বাকি ক্রেডিটগুলো ইন্টারনাল অ্যাসেসমেন্ট, খেলাধুলা, এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত হবে।