08/10/2025
আবার চার মূর্তি অর্থাৎ সুভাষ দাস,কৌশিক ব্যানার্জী, রোহন রায় ও আলোক বাগ এর আর একটা ছোট্ট ভ্রমণ সম্পন্ন হল গত সোমবার,লক্ষ্মীপুজোর দিন।রওনা হয়েছিলাম দশমীর রাত্রে,দার্জিলিং মেল এ।গন্তব্য ছিল কালিম্পং এর কোলাখাম ও কাফেরগাঁও।উত্তরবঙ্গ সত্যিই ভীষণ সুন্দর।আগেও গিয়েছি ডুয়ার্স।তাই এবার কালিম্পং।প্রথমদিন গেলাম কোলাখাম।নিউ জলপাইগুড়ি থেকে কোলাখাম যাওয়ার পথ ভীষণ সুন্দর।বর্ষার বন সবুজে ঢাকা।কোথাও চা বাগান ।আবার কোথাও ধান জমির সবুজ প্রান্তর।দু চোখ ভরে দেখে শুধু মুগ্ধ হলাম।যাবার সময় গজলডোবা তে তিস্তা নদীর বাঁধে জল আটকানো আছে দেখলাম।তবে বর্ষার তিস্তা ঘোলা জলে পূর্ণ।যাওয়ার পথে গোরুবাথান হয়ে অ্যাম্বিয়ক চা বাগান,পাপারখেতি, চেল নদী, পাইন গাছের বন দেখলাম।ছিল নদীর ধারে থামলাম।চারদিকে সবুজ আর সবুজ।কখনও একদিকে খাড়া পাহাড় অপর দিকে সবুজ চা বাগানের সারি।পথের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে নিজেদের মোবাইলে কত যে ছবি তুললাম তার হিসেব নেই।আমাদের প্রথম দিনের হোম স্টে ছিল পাহাড়ের ধারে।সামনে বিস্তীর্ণ খোলা ক্যানভাস।সেখানে প্রতি মুহূর্তে মেঘের আনাগোনা।পাহাড়ের নিচে থেকে মেঘ উঠছে ওপর এর দিকে ।কখনও পরিষ্কার দৃশ্য,আবার পরমুহুর্তেই মেঘে ঢাকা ।বারান্দায় বসে মেঘেদের খেলা দেখলেই সময় কেটে যায়।মধ্যাহ্নভোজের পর পায়ে হেঁটে আরো নিচে ঘুরতে গেলাম।চারদিকে কত পাখি।তাদের নাম জানিনা।প্রতিটি বাড়িতে ও পথের ধারে প্রচুর জানা - অজানা ফুলের গাছ।ধুতরা ফুল যে কত বড় আর কত রঙের হয় তা ওখানে দেখলাম।সেই সঙ্গে মেঘের আনাগোনা।সবমিলিয়ে খুব সুন্দর পরিবেশ।পরদিন সকালে হোম স্টের সামনের দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হলাম ও মোবাইলে তাকে বন্দী করতে চেষ্টা করলাম। টিফিন খেয়ে কোলাখাম কে বিদায় জানিয়ে রওনা হলাম কাফেরগাঁও এর উদ্দেশ্যে।পথে ছাঙ্গে জলপ্রপাত থাকলেও, অনেকটা পথ নিচে নামতে হবে জেনে কেউই আর গেলাম না।গেলাম লাভা মনাস্ট্রি।পাহাড়ের উপর মনস্ট্রি।আকাশ পরিষ্কার থাকলে ওখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়।কিন্তু আকাশ মেঘলা থাকার জন্য আমরা তা দেখতে পেলাম না।তবে সামনের বিস্তীর্ণ উপত্যকার দৃশ্য ভীষণ সুন্দর। অল্প সময়ের জন্য আমরা দেখতে পেলাম।তারপর সব মেঘে ঢেকে গেল। মনাস্ট্রি তে ঢোকার আগেই শুরু হলো বৃষ্টি।অনেকটা সময় ওখানে কাটালাম।কফি শপে কফি পান করলাম।কিন্তু বৃষ্টি তখনও পড়ছে।সঙ্গে প্রবল ঠান্ডা হাওয়া।পাহাড়ের আবহাওয়া প্রতি মুহূর্তে কিভাবে পাল্টে যায়, তা টের পেলাম । ছাতা মাথায় নেমে এলাম মনাস্ট্রি থেকে।লাভা বাজার থেকে কেনাকাটি করে আবার রওনা হলাম কাফেরগাওঁ এর দিকে।রাস্তা কখনও খাড়া উঠছে, আবার কখনও নামছে।পথের পাশে পাইন গাছের সারি,অজানা ফুলের গাছ।তাদের ফাঁক দিয়ে দেখা যাচ্ছে পাহাড়ের দৃশ্য।দুচোখ ভরে শুধু দেখলাম আর মুগ্ধ হলাম।সব অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। লামডিং ভিউ পয়েন্ট থেকে 360° এর যে দৃশ্য দেখলাম তাকে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। কাফেরগাঁও তে আমাদের হোম স্টে ছিল কাঠের তৈরি,লাল রঙের টিনএর ছাউনি।সামনে খোলা উপত্যকা।দূরে অসংখ্য পাহাড়ের সারি।ডানদিকে কাঞ্চনজঙ্ঘা ।রাত্রে পাহাড়ের গায়ে অসংখ্য আলোর বিন্দু দেখতে খুব ভালো লাগলো।তবে রাত্রে খাওয়ার পর শুরু হলো বৃষ্টি,সঙ্গে বজ্রপাত।সেই সঙ্গে লোডশেডিং।সবাই সারা রাত চরম উদ্বেগের সঙ্গে নিদ্রাহীন রাত কাটালাম।একটাই চিন্তা কাল ফিরতে পারবো তো?কিন্তু সকাল হতেই বৃষ্টি বন্ধ।পরিষ্কার আবহাওয়া।কিন্তু সবার দুশ্চিন্তা কিভাবে ফিরব।টিফিন খেয়ে বেরিয়ে পড়লাম।কোনো স্পট না দেখে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।মোবাইলে খবর আসছে সারা রাতের বৃষ্টিতে মিরিকে,দার্জিলিঙে প্রচুর ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে।আমাদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে।তবে আমাদের গাড়ির চালক লোলেগাঁও থেকে ডানদিকে নতুন লুপ ব্রিজ দিয়ে আসার যে সিদ্ধান্ত নিল তার জন্য প্রশংসা করতেই হবে।পথে কয়েক জায়গাতে থামতেই হলো ভীষণ সুন্দর দৃশ্য এর ছবি তোলার জন্য। প্রতি মুহূর্তে ভূমি ধ্বসের খবর শুনলেও আমরা কিছুই দেখতে পেলাম না।গজলডোবা তে তিস্তা নদীর বাঁধে এসে নদীর যে দৃশ্য দেখলাম তা ভোলা যাবে না।লক গেট খোলা।ঘোলা কাদা জলের প্রবল স্রোত।দেখলেই ভয় লাগছে। বুঝতেই পারলাম কেনো এত কিছু ধ্বংস হয়েছে।দার্জিলিং ছাড়ার সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে।কিন্তু আমরা নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে পৌঁছে গেছি দুপুর ১ টার আগেই।তাই বাধ্য হয়ে স্টেশনে চারজনে একটা এসি বিশ্রাম ঘর ভাড়া নেওয়া হল কয়েক ঘণ্টার জন্য। দার্জিলিং মেল এ আমাদের কামরা তে অনেক সিট ফাঁকা ছিল ।কারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনেকেই সময়ে স্টেশনে পৌঁছাতে পারেনি।পরদিন সকালে লক্ষী পুজোর দিন যথাসময়ে শিয়ালদহ তে পৌঁছালাম।সবমিলিয়ে আমাদের বেড়ানো ভীষণ সুন্দর ভাবে হল।তবে আমাদের বেড়ানো কখনই খারাপ হয়নি।আবার কোথায় যাবো,কবে যাবো জানিনা।অপেক্ষায় রইলাম।