Argha Khamaru—অর্ঘ্য খামারু

Argha Khamaru—অর্ঘ্য খামারু "বুকের ভেতর জমানো যত ক্ষত
কবিতা হয়ে ঝরুক অবিরত।"
~অর্ঘ্য

সকলকে ঈদ-উল-আযহার শুভেচ্ছা 🙏🙏 #বকরিঈদ  #ঈদউলআযহা      #বাংলাগল্প  #গল্প
28/05/2026

সকলকে ঈদ-উল-আযহার শুভেচ্ছা 🙏🙏

#বকরিঈদ #ঈদউলআযহা
#বাংলাগল্প #গল্প

।। কুরবানী ।।

গ্রামের নাম হাসনপুর। চৈত্র-বৈশাখের রুক্ষতায় যে মাঠ তামাটে চামড়ার মতো ফেটে চৌচির হয়ে পড়ে থাকে, আষাঢ়ের প্রথম মেঘের স্পর্শে তা-ই আবার সবুজ মখমলে ঢাকা পড়ে। প্রকৃতির এই রূপান্তর সহজ, কিন্তু মানুষের মন বড় জটিল। সেখানে একবার ফাটল ধরলে তা আর সহজে জোড়া লাগে না; ঠিক হাসনপুরের মানুষের ওই চৈত্র শেষের ফাটা মাটির মতো শুষ্ক, জমাট বাঁধা জেদ।

নূর মহম্মদ খাঁন এই গ্রামের মাতব্বর গোছের মানুষ। মাথার কাঁচাপাকা চুলে আভিজাত্যের ছোঁয়া, চোখে সোনালী ফ্রেমের চশমাটা তাঁর ব্যক্তিত্বে একটা গম্ভীর ছাপ রেখেছে। তাঁর বৈঠকখানায় বসলে মনে হয় সময়টা বিগত শতকের কোনো এক অলস দুপুরে থমকে আছে। কিন্তু সেই বৈঠকখানা থেকে বেরিয়ে উঠোনে দাঁড়ালেই বাস্তবের রূঢ় রূপটা চোখে পড়ে। সেখানে একটা সদ্য তোলা ইটের পাঁচিল বুক চিরে দুই ভাগ করে দিয়েছে একসময়ের অখণ্ড উঠোনটাকে। দুই ভাই—নূর মহম্মদ আর শের মহম্মদ—আজ পরস্পরের ছায়াও মাড়ান না। স্রেফ একটা শরিকী আমগাছের মালিকানা আর সীমানার অধিকার নিয়ে অহংকারের এই দুর্ভেদ্য প্রাচীর খাড়া হয়েছে।

আজ জিলহজ মাসের নয় তারিখ, অর্থাৎ আরাফাহর দিন। আগামীকাল সকালে কুরবানীর ঈদ। বাতাসে এখন উৎসবের চেয়েও বেশি প্রতিযোগিতার গন্ধ। গ্রামের মোড়ে মোড়ে, চায়ের দোকানে এখন একটাই চর্চা—কার পশু কত বড়, কার টাকা কত বেশি। নূর সাহেব এবার কোনো খামতি রাখেননি; অনেক খুঁজে এক পেল্লাই সাইজের ধবধবে সাদা বলদ এনেছেন,রাজকীয় তার ভঙ্গি। গ্রামের উৎসুক মানুষ দল বেঁধে এসে দেখে যাচ্ছে, আর নূর সাহেবের বুকটা প্রচ্ছন্ন অহংকারে ভরে উঠছে।
তার ঠিক উল্টো পিঠে, শরিকী পাঁচিলের ওপারে শের মহম্মদের ঘরটায় এক ফালি লণ্ঠনের আলোও আজ ম্রিয়মাণ। এক থমথমে অন্ধকার সেখানে জাঁকিয়ে বসেছে। শের মহম্মদের ছোট ছেলে পল্টুর গা-পোড়ানো টাইফয়েড জ্বর, কদিন ধরে ধুঁকছে অবোধ শিশুটা। স্থানীয় ডাক্তারবাবু কপালে ভাঁজ ফেলে বলেছেন, “অবস্থা ভালো নয় শেরু। আজ রাতের মধ্যে সদরের বড় হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করতে হবে। অনেক টাকার ধাক্কা, ওষুধ আর চিকিৎসার খরচ কম নয়।”

শের মহম্মদ কোত্থেকে পাবেন অত টাকা? ঘটিবাটি, জমিজমা যা ছিল, সব তো এই ভাইয়ের সাথে জেদের বশে করা মামলার পেছনেই গেছে। নূর সাহেবের কানেও খবরটা পৌঁছেছে বৈকি, কিন্তু তিনি একটা নিস্পৃহ ভাব নিয়ে বসে রইলেন। মনে মনে নিজেকে শোনালেন, "গাছ কাটার সময় তো খুব তেজ ছিল, মুরুব্বিয়ানা দেখিয়েছিল! এখন বুঝুক খাঁন সাহেবের সাথে লাগার মজা।"

বিকেলের দিকে গ্রামের প্রবীণ ইমাম সাহেব মোস্তফা কামাল এলেন নূর সাহেবের বৈঠকখানায়, ঈদের জামাতের কিছু জরুরি পরামর্শ করতে। বাইরের বলদটার দিকে তাকিয়ে তিনি মৃদু স্বরে বললেন, “মাশাআল্লাহ, খাঁন সাহেব! জব্বর পশু এনেছেন। তা, ত্যাগের মহিমা তো পশুর শরীরের মাপে নয়, নিয়তের গভীরতায়।”
নূর সাহেব চশমাটা নাকের ওপর সামান্য ঠিক করে নিয়ে, একটু তৃপ্তির হাসিতে বললেন, “সে তো বটেই ইমাম সাহেব। তবে আল্লাহর দরবারে সেরা জিনিসটাই দেওয়া বান্দার কাজ। মোটা অঙ্কের নগদ টাকা খসালাম এটার পেছনে, কম তো নয়!”
ইমাম সাহেব চায়ের কাপে আলতো চুমুক দিলেন। তাঁর চোখে একটা প্রাজ্ঞ অথচ মায়াবী দীপ্তি। তিনি বললেন, “সঠিক বলেছেন। আচ্ছা খাঁন সাহেব, ‘কুরবানী’ শব্দের আসল অর্থ জানেন তো? ‘কুরব’ মানে তো নৈকট্য। যা আমাদের আল্লাহর কাছাকাছি নিয়ে যায়। কিন্তু সেই নৈকট্য পাওয়ার জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট বলেছেন—‘লাঁই ইয়ানাল্লাহা লুহূমুহা ওয়া লা দিমাউ ওয়া লাঁই ইয়ানালুহুত্তাকওয়া মিনকুম’। অর্থাৎ, আল্লাহর দরবারে পশুর রক্ত বা মাংস পৌঁছায় না, পৌঁছায় কেবল আপনাদের অন্তরের ‘ তাকওয়া’—ভীতি আর শুদ্ধতা।”

ইমাম সাহেব কাপটা পিরিচে নামিয়ে রেখে সোজা তাকালেন নূর সাহেবের চোখের দিকে। তাঁর কণ্ঠস্বর হঠাৎ গম্ভীর ও ভারী হয়ে উঠল, “পশুর গলায় ছুরি চালানো তো বড্ড সহজ খাঁন সাহেব, ওটা তো স্রেফ একটা বাহ্যিক প্রতীক। আসল কুরবানী দিতে হয় নিজের ভেতরের ‘নফস’-কে, ওই অহংকারী আদিম পশুটাকে। এই যে ‘তাকাব্বুর’—লোকদেখানো লৌকিকতা, হিংসা আর ওই যে মনের ভেতরে পুষে রাখা পাঁচিলটা—ওটাকে কুরবানি না করতে পারলে ওপরওয়ালার দরবারে ওই রক্ত আর মাংস ছাড়া তো আর কিছুই পৌঁছাবে না। মনের ভেতর হিংসার আগুন জ্বালিয়ে রেখে, বাইরের ওই পশুর জবেহ স্রেফ একটা লোকদেখানো আচার খাঁন সাহেব, রিয়াকারী ছাড়া আর কিছুই নয়!”

কথাটা শেষ করেই ইমাম সাহেব উঠে গেলেন। কিন্তু নূর সাহেবের বুকের ভেতর কোথায় যেন একটা সূক্ষ্ম হুল বিঁধে রইল। সেই উদাসীন অথচ চাবুকের মতো সত্যগুলো তাঁর মাথার ভেতর ক্রমাগত চক্কর কাটতে লাগল।
রাতের দিকে একটা অদ্ভুত, ভারী নিস্তব্ধতা নামল হাসনপুরে। আকাশ প্লাবিত করা জোছনা, অথচ নূর সাহেবের ঘরের ভেতর এক নিরেট অন্ধকার। হঠাৎই নীরবতা ফালাফালা করে দিয়ে পাঁচিলের ওপার থেকে ভেসে এল এক বুকফাটা আর্তনাদ—পল্টুর মায়ের চাপা, রুদ্ধশ্বাস কান্নার আওয়াজ, “ওগো, খোদা কি আমাদের দিকে মুখ তুলে চাইবে না? আমার ছাওয়ালটা যে চোখের সামনে শেষ হয়ে যাচ্ছে!”

নূর সাহেব ঘুমাতে পারলেন না। ছটফট করে বারান্দায় এসে দাঁড়াতেই দেখলেন, চাঁদের আলোয় বলদটা উঠোনে দাঁড়িয়ে শান্ত, করুণ চোখে তাঁর দিকেই তাকিয়ে আছে। সেই চোখের মায়া বড় বিচিত্র, বড় উদাসীন। নূর সাহেব লক্ষ্য করলেন, বলদটার কোনো তাড়া নেই, কোনো জাগতিক অহংকার নেই—সে নিজেকে এক অদৃশ্য বিধাতার চরণে সঁপে দিয়েছে। অথচ তিনি নিজে? একটা সামান্য জড় গাছ আর মিথ্যে জেদের জন্য নিজের সহোদরের সঙ্গে বিবাদ তৈরি করে বসে আছেন!
নূর সাহেব ওপার থেকে আসা কান্নার আওয়াজ আর বলদের শান্ত চোখের দিকে তাকিয়ে অন্ধকারেই শিউরে উঠলেন। এক তীব্র অপরাধবোধ তাঁর মেরুদণ্ড বেয়ে নেমে গেল। ওই যে মাঝখানের পাঁচিলটা, ওটা কি কেবল ইটের ? নাকি তাঁর নিজেরই অন্ধ অহংকারেরও? তিনি যদি লাখ টাকা দিয়ে পশু কিনে নিজের নাম জাহির করেন, তবে সেটা কি কুরবানী, নাকি নিজের আত্মতুষ্টির এক নির্মম, কুৎসিত প্রদর্শনী? বুকের ভেতরটা হঠাৎ হাহাকার করে উঠল নূর সাহেবের।

পরদিন ভোরে, দূর মসজিদ থেকে ঈদের তাকবীরের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছিল—আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার...। হাসনপুরের মানুষ ঈদের জামাতে যাওয়ার প্রস্তুতির মাঝেই এক অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখল। নূর মহম্মদ খাঁন তাঁর বৈঠকখানায় ডেকে পাঠালেন ভাই শের মহম্মদকে। শের মহম্মদ এতদিনের বৈরিতা আর আশঙ্কায় ভয়ে ভয়ে, কুণ্ঠিত পায়ে এসে দাঁড়ালেন। তাঁর চোখ দুটো লাল, সারা রাত না ঘুমানোর ক্লান্তি আর আতঙ্কে হাত-পা কাঁপছে।
নূর সাহেব এক মুহূর্ত দ্বিধা না করে, সমস্ত সামাজিক মর্যাদা আর অহংকার এক লহমায় ছুঁড়ে ফেলে ভাইয়ের শীর্ণ হাত দুটো শক্ত করে ধরে ফেললেন। তাঁর চশমার ফ্রেম ছাপিয়ে তখন অবিরল ধারায় জল গড়িয়ে পড়ছে। শেরু কিছু বুঝে ওঠার আগেই নূর সাহেব তাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। এ এক বুকফাটা কান্না, যা এতদিনের জমে থাকা সমস্ত পাথরকে গলিয়ে দেয়।
কাঁপা গলায়, কান্নায় রুদ্ধ হয়ে নূর সাহেব বললেন, “শেরু, আমাকে মাফ করে দে ভাই! বাইরের বলদটার দাম অনেক হতে পারে, কিন্তু ওটা তোর ছেলের জীবনের চেয়ে, আমার ভাইয়ের চেয়ে বড় নয় রে। আমি অন্ধ হয়ে গিয়েছিলাম! শহরের এক ব্যবসায়ী কাল রাতেই বলদটা কিনতে চেয়েছিল, আমি ভোরেই তাকে খবর দিয়েছি। সে এখনই নগদ টাকা নিয়ে আসবে। এই নে আমার ঘরে থাকা জমানো টাকা, তুই এখনই ওকে নিয়ে সদরের হাসপাতালে ছোট। আমার ভাইপোকে সুস্থ করে আমার কোলে ফিরিয়ে আন। ওর যদি কিছু হয়, আমি আল্লাহর দরবারে মুখ দেখাতে পারব না রে ভাই!”

শের মহম্মদ যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারলেন না। বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে, বড় বড় চোখে দাদার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তাঁর চোখের কোণ বেয়েও তখন এতদিনের জমানো ক্ষোভ জল হয়ে ঝরে পড়ছে। থতমত খেয়ে বললেন, “কিন্তু দাদা, তোমার এত শখের কুরবানী? মহল্লার লোকে কী বলবে?”
নূর সাহেব উঠোনের সেই পাঁচিলটার দিকে তাকিয়ে এক টুকরো বিষাদমাখা হাসলেন। তাঁর চোখ তখন এক অপার্থিব শান্তিতে জ্বলজ্বল করছে। তিনি শেরুর কাঁধে হাত রেখে বললেন, “আমার কুরবানী তো হয়ে গেছে রে শেরু। যে পশুটোকে মারার সবচেয়ে বেশি দরকার ছিল, তাকে আজ সকালেই নিজের ভেতরে শেষ করে দিয়েছি। আল্লাহ খাঁটি নিয়ত আর বান্দার মহব্বত দেখেন, পশুর মাংস চান না। আজ থেকে এই পাঁচিল আমাদের আলাদা করতে পারবে না।”

হাসনপুরের আকাশে তখন ঈদের প্রথম সূর্য উঠছে। উঠোনের মাঝখানের ইটের পাঁচিলটা হয়তো এক লহমায় হাতুড়ি দিয়ে ভাঙল না, কিন্তু দুই ভাইয়ের মনের ভেতরে জমে থাকা বছরের পর বছরের জমাট বরফটা গলে জল হয়ে গেল। এক পরম আত্মিক তৃপ্তিতে নূর মহম্মদ খাঁন অনুভব করলেন, বাহ্যিক ত্যাগের লৌকিকতা ছাপিয়ে আজ তাঁর অন্তরে এক সত্যিকারের পবিত্র কুরবানী সম্পন্ন হয়েছে।

কলমে - #অর্ঘ্য_খামারু


#গল্পপ্রেমী #ঈদমোবারক

পড়ার অনুরোধ রইল 🙏🙏   #হাসিরগল্প  #বাংলাগল্প
26/05/2026

পড়ার অনুরোধ রইল 🙏🙏

#হাসিরগল্প #বাংলাগল্প

|| উষ্ণ অভ্যর্থনা ||
কলমে: Argha Khamaru—অর্ঘ্য খামারু
ছবি: সংগৃহীত

ঘটনাটা ঘটালেন আমাদের পরমেশ কাকা। পরমেশ কাকা মানুষটি এমনিতে অতিশয় সজ্জন এবং শান্তিপ্রিয়, কিন্তু বৈশাখ মাস এলে তাঁর ভেতরকার সুপ্ত ‘বাঙালি সত্তা’ একেবারে ফোঁস করে ওঠে। গত পহেলা বৈশাখে তিনি ইস্ত্রি করা গরদের পাঞ্জাবি পরে, ড্রয়িংরুমের এসির রিমোটটা ১৮ ডিগ্রিতে লক করে সোফায় জাঁকিয়ে বসেছিলেন। বাইরের রোদে যখন কাকের ঠোঁট ফেটে যাচ্ছে, কাকা তখন খাম্বাজ রাগে গলা ছেড়ে গাইছিলেন— " এসো হে বৈশাখ, এসো এসো... "

পরমেশ কাকার গানের গলা অনেকটা পিনচার হওয়া হারমোনিয়ামের বেলোর মতো হলেও ভক্তি ছিল হিমালয়সম। তিনি যখন চোখ বুজে গাইলেন— " তাপস নিঃশ্বাস বায়ে, মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে ",
ঠিক তখনই ভোজবাজির মতো লোডশেডিং হয়ে গেল। এসি-টা শেষবারের মতো একটা করুণ দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে স্তব্ধ হলো, যেন কোনো এক অতৃপ্ত আত্মা বিদায় নিল। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই কাকার কলিং বেলটা কর্কশ শব্দে বেজে উঠল।

কাকা বিরক্তিভরে দরজা খুলতেই ছিটকে পিছিয়ে এলেন। বাইরে রোদের তেজ এমন যে পিচের রাস্তায় অমলেট হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে এক আগন্তুকের দল। সবার গায়ের রং গনগনে তামাটে, চোখ দিয়ে যেন আগ্নেয়গিরির লাভা ঠিকরে বেরোচ্ছে।

কাকা পাঞ্জাবির খুঁটে ঘাম মুছতে মুছতে জিজ্ঞেস করলেন,
— কাকে চাই?

সবচেয়ে ছোট গোলগাল দেখতে মূর্তিটি দাঁত বের করে একগাল হেসে বলল,
— আমি বৈশাখ। এইমাত্র আপনি আমায় ডাকলেন না? ওই যে— এসো এসো করে? তাই চলে এলাম।

পরমেশ কাকা ঢোক গিললেন,
— হ্যাঁ, তা তো ডেকেছি। কিন্তু তোমরা কারা?

ছোট জন সহাস্যে পরিচয় করিয়ে দিল,
— এনারা আমার ফ্যামিলি। ইনি আমার মা— ‘কালবৈশাখী’, ইনি আমার দাদু— ‘ লু-হাওয়া’, ইনি আমার বাবা— ‘দুপুর বারোটার কড়া রোদ’;আর এই যে দেখছেন ডাগরডোগর সুন্দরীটি, ইনি হলেন আমার বাগদত্তা— ‘আর্দ্রতা’ ওরফে মিস হিউমিডিটি। আপনি যখন এত আদর করে ইনভাইট করলেন, তখন সপরিবারে না এলে কি ভালো দেখায়? সামনেই তো জামাইষষ্ঠী।

কাকা দেখলেন অবস্থা বেগতিক। ঘরের ভেতরটা ততক্ষণে ব্লাস্ট ফার্নেস হতে শুরু করেছে। পরমেশ কাকা আমতা আমতা করে বললেন,
— না মানে ইয়ে, আমি তো ওটা কালচারাল সেন্সে গেয়েছিলাম। একটু রবীন্দ্রনাথ, একটু মিষ্টিমুখ...

বৈশাখ এবার ভ্রু কুঁচকে গম্ভীর হয়ে বলল,
— দেখুন কাকা, আপনারা ফেসবুক আর হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে ‘হে বৈশাখ’ বলে আমাদের আবাহন জানাবেন, এসি চালিয়ে ঠান্ডা ঘরে বসে আমাদের নিয়ে কবিতা লিখবেন, আর আমরা সত্যি সত্যি দেখা করতে এলে দরজা বন্ধ করবেন— এ কেমন ভণ্ডামি? তাই আমরা একেবারে সশরীরে ‘পার্সোনাল টাচ’ দিতে এসেছি।

বলামাত্রই বৈশাখের হবু স্ত্রী ‘হিউমিডিটি’ ম্যাডাম পরমেশ কাকাকে পরম মমতায় জাপটে ধরলেন। কাকার মনে হলো তিনি যেন কোনো ফুটন্ত তেলের কড়াইয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে আটকে গেছেন। সারা শরীর দিয়ে শ্রাবণ ধারা বইতে শুরু করল, শ্বাসকষ্টে কাকা তখন নীল হতে শুরু করেছেন। কাকা এক মরণ-চিৎকার দিয়ে বললেন,
— ওরে বাবা রে! গেলাম!

পরমেশ কাকা এখন নার্সিংহোমে। ডাক্তারবাবু জানিয়েছেন, ‘হিট স্ট্রোক’ কাকার নার্ভের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। তবে কাকা একটা চরম শিক্ষা পেয়েছেন। হাসপাতাল থেকে ফিরে তিনি এখন জানলায় ট্রিপল লেয়ারের ডার্ক পর্দা টেনে দিয়েছেন। এসি চলুক বা না চলুক, তিনি আর ভুল করেও বৈশাখী গান গাইতে সাহস পান না।

পাড়া-প্রতিবেশীরা যখন কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করে,
— কাকা, পহেলা বৈশাখের প্রোগ্রাম কেমন জমল?

কাকা তখন স্যালাইনের স্ট্যান্ডের দিকে ম্লান চোখে তাকিয়ে বলেন,
— বাবা, বৈশাখকে শুধু ক্যালেণ্ডারের পাতায় আর টিভির পর্দাতেই দেখাই নিরাপদ। সে যে এমন সপরিবারে এসে আমাকে কৃতার্থ করবে ভাবিনি। এটাই বোধহয় আসল— ‘উষ্ণ অভ্যর্থনা’!

দিনলিপি - Dinolipi #দিনলিপি_dinolipi #দিনলিপি

24/05/2026

জন্মদিবসে শত কোটি প্রণাম বিদ্রোহী কবিকে 🙏🙏

#কাজীনজরুলইসলাম #বিদ্রোহীকবি #বাংলা #
#কবিতা

ভারত পথিকের জন্মদিবস উপলক্ষে আমার নিবেদন—         #বাংলাকবিতা  #রাজারামমোহনরায়  #শ্রদ্ধার্ঘ্য
22/05/2026

ভারত পথিকের জন্মদিবস উপলক্ষে আমার নিবেদন—


#বাংলাকবিতা #রাজারামমোহনরায় #শ্রদ্ধার্ঘ্য

•••ভারত পথিক•••

আঁধারে ডুবেছে যখন সনাতন এ মাটি,
কুসংস্কারের ঘুণে ক্ষয়ে গেছে বিশ্বাস খাঁটি—
তখন তুমিই এলে, ভাঙা বুকে রুখে দিতে ঝড়,
মুক্তির মন্ত্রে কাটালে অমানিশা-ঘোর সে প্রহর।

শাস্ত্রের জটিল জালে যেখানে জ্যান্ত পুড়েছে নারী,
তুমি জ্বেলেছ আলোক, ছিঁড়েছ অন্ধত্বের শৃঙ্খলভারী।
একমোদ্বিতীয়ম্— এই সত্যে বেঁধেছ যে মন,
তুচ্ছ করেছ শত বাধা, সমাজের মিথ্যা তর্জন।

প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মেলবন্ধনে গড়েছ যে সেতু,
তুমিই তো ধ্রুবতারা, এ দেশের নবজাগরণ-হেতু।
কলমের ডগায় এনেছ যুক্তির অমোঘ সে বান,
জাগিয়েছ ঘুমন্ত স্বদেশে এক নতুন দিনের গান।

যুগে যুগে ইতিহাসে তুমি এক অনন্য বিস্ময়,
কালের সীমানা পেরিয়ে তোমারই জয়জয়কার রয়।
বাংলার অহংকার তুমি, দূর করলে সব তামসিক,
যুগের আঁধার মুছে তুমিই তো আমাদের ভারত পথিক।

কলমে ~অর্ঘ্য খামারু Argha Khamaru—অর্ঘ্য খামারু

ছবি ~সংগৃহীত

#শিল্প_উদ্যান

22/05/2026

🙏🙏 সবাই like করে আসুন 🙏🙏

🙏🙏
21/05/2026

🙏🙏

•••ওষ্ঠাগত•••

বৃদ্ধাশ্রমের করিডোরের শেষ প্রান্তে ৪ নম্বর ঘরটা যেন এক জীবন্ত কফিন। ঘরের একমাত্র পশ্চিমমুখী জানালা দিয়ে যখন অস্তরাগের শেষ রক্তিম আভা এসে হরিদাসবাবুর জীর্ণ মুখে পড়ে, মনে হয় কোনো এক অভিশপ্ত নাটকের শেষ দৃশ্যের আলো জ্বলছে। তাঁর চোখের ছানি পড়া দৃষ্টিটুকু রাস্তার ওই বাঁকে এমনভাবে নিবদ্ধ থাকে, যেন কোনো অদৃশ্য সুতোয় তাঁর প্রাণভোমরাটি সেখানে বাঁধা পড়ে আছে।

প্রতি রবিবার নিয়ম করে তিনি আলমারি থেকে ইস্ত্রি করা পুরোনো পাঞ্জাবিটা বের করেন, কাঁপা কাঁপা হাতে বোতাম লাগাতে লাগাতে নার্স মিতালিকে বলেন, "আজ খোকন আসবেই রে। ও লিখেছে, 'বাবা, এবার আর ভুল হবে না'।"
মিতালি উত্তর দেয় না। এই তিন বছরে সে দেখেছে হরিদাসবাবুর এই ছেলেমানুষি। অফিসের ফাইলে জরুরি যোগাযোগের ঘরে কোনো ফোন নম্বর নেই, শুধু একটা অচেনা বিদেশের ঠিকানার ওপর কালির আঁচড় আর নোনা জলের দাগ। মিতালি জানে, খোকন কোনোদিন আসবে না, কারণ খোকন বলে কেউ আদতে হরিদাসবাবুর বর্তমান পৃথিবীতে অবশিষ্টই নেই।

আজও রবিবার। আকাশটা যেন এক তাল জমাট বাঁধা শোকের মতো নিচু হয়ে আছে। নতুন আসা অল্পবয়সী কর্মী অনন্যা হরিদাসবাবুর এই প্রতীক্ষার তীব্রতা সইতে না পেরে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল, "দাদু, অত আশা নিয়ে কোথায় চেয়ে আছেন?"
হরিদাসবাবু ম্লান হেসে বললেন, "অপেক্ষা করাটাই তো এখন আমার একমাত্র কাজ রে মা। যেদিন বিশ্বাস করব ও আসবে না, সেদিন এই শরীরটা বহন করার আর কোনো মানে থাকবে না। এই মিথ্যেটুকুই তো আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।"
অনন্যা কিছু বলতে গিয়েও শিউরে উঠল। হঠাৎ নিচ থেকে ভেসে এল একটা গাড়ির ব্রেকের তীব্র শব্দ। একটা কুচকুচে কালো বিলাসবহুল গাড়ি গেটের সামনে এসে দাঁড়াল। হরিদাসবাবুর শরীরের কোষে কোষে যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল। তাঁর শীর্ণ আঙুলগুলো জানালার গ্রিল এমনভাবে আঁকড়ে ধরল যে নখগুলো সাদা হয়ে এল। রুদ্ধশ্বাসে বললেন, "দেখেছিস? আমার বিশ্বাস মরেনি! ওই তো খোকন নামছে!"
অনন্যা দেখল, সুঠাম এক প্রৌঢ় দ্রুত পায়ে ভেতরে ঢুকছেন। অনন্যা নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারল না। সেও আবেগে বলে উঠল, "হ্যাঁ দাদু! আপনার ছেলে সত্যিই এসেছে!"
বৃদ্ধের মুখে এক স্বর্গীয় প্রশান্তি ছড়িয়ে পড়ল। এক গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি চিরকালের মতো চোখ বুজলেন। যেন এই মুহূর্তটির জন্যই তাঁর হৃৎপিণ্ডটা জোর করে চলছিল।
ঠিক দশ মিনিট পর ঘরের দরজাটা নিঃশব্দে খুলে গেল। ভেতরে ঢুকলেন আশ্রমের সুপারিন্টেন্ডেন্ট বিকাশবাবু, সঙ্গে সেই আগন্তুক। অনন্যা আনন্দাশ্রু মুছতে মুছতে বলল, "দেখুন দাদু, আপনার ছেলে..."
বিকাশবাবু হাত তুলে অনন্যাকে থামিয়ে দিলেন। তাঁর চোখ ভেজা। আগন্তুক ভদ্রলোক নিচু স্বরে বললেন, "আমি ওনার ছেলের বন্ধু। খোকন গত মাসেই বিদেশের এক পথ দুর্ঘটনায় মারা গেছে। ও জানত ওর বাবা ওকে ছাড়া বাঁচবে না, তাই মৃত্যুর আগে ও এক বছরের সব কটা চিঠিতে সই করে রেখে গিয়েছিল আর একটা রোবোটিক মেল সার্ভারে সেট করে দিয়েছিল, যাতে প্রতি রবিবার বাবার কাছে ওর আসার মিথ্যে খবর পৌঁছায়। ও চাইত ওর বাবা যেন অন্তত একটা আশার মধ্যে দিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।"
অনন্যা পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল। পাশে তাকিয়ে দেখল হরিদাসবাবুর প্রাণহীন দেহটা তখনো জানালার গ্রিলটা ধরে আছে। তাঁর কোল থেকে খসে পড়েছে খোকনের হাতে লেখা শেষ জাল চিঠিটা।
জানালা দিয়ে তখন চুইয়ে আসছে কালান্তক অন্ধকার। হরিদাসবাবু জানলেন না তাঁর ছেলে আসেনি, কিন্তু খোকনও জানল না যে তার দেওয়া সেই ' মিথ্যে' টুকুই তার বাবার হৃৎপিণ্ডটা মাঝপথে থামিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল...

কলমে ~অর্ঘ্য খামারু Argha Khamaru—অর্ঘ্য খামারু

কোটেশন ~প্রিয়

#শিল্প_উদ্যান

08/05/2026

With Arijit Singh – I just got recognized as one of their top fans!

01/05/2026

আজ শ্রমিক দিবসে আমার নিবেদন 🙏🙏

#শ্রমিকদিবস #কবিতা

🙂
28/04/2026

🙂

•••ভোট-কাণ্ড •••

ভোটের বাজারে এমনিতেই হাওয়া গরম, তার ওপর রক্তজবা মহারাজের এই ‘জরুরি বিজ্ঞপ্তি’ পাড়ার মোড়ে মোড়ে চায়ের দোকানে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিল। মহারাজের চেলা পঞ্চানন গুমটি ঘরের সামনে একটা বোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে— “ভুতুড়ে পরিষেবা সাময়িক স্থগিত।”
ঘটনাটা খোলসা করে বলা যাক।

রক্তজবা মহারাজ, যাঁর তন্ত্রমন্ত্রের দাপটে মাঝরাতে শ্মশানের শেয়ালও ডাকতে ভয় পায়, তিনি গত মঙ্গলবার থেকে বেশ চিন্তায় পড়েছিলেন। গভীর রাতে যখন তিনি তাঁর ‘প্যাঁচা-সিদ্ধ’ আসনের ওপর বসে জপ করতে যাবেন, দেখলেন তাঁর সবচেয়ে অনুগত এবং হিংস্র প্রেতাত্মা ‘কালু’ উধাও। শুধু কালু কেন, ব্রহ্মদৈত্য থেকে শুরু করে গেছো পেত্নী—আখড়ার একটা ভূতকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
পরদিন ভোরে মহারাজের ধ্যান ভাঙল পাড়ার কান ফাটানো আওয়াজে— “আমাদের প্রার্থীকে ভোট দিন, জয়যুক্ত করুন!’’
মহারাজ জানলা দিয়ে উঁকি মেরে দেখলেন, মিছিলে পতাকায় ঢাকা একটা জিপ গাড়ির ওপর গেরুয়া বসন পরে বসে স্বয়ং ব্রহ্মদৈত্য খৈনি ডলছে! আর ওদিকে গেছো পেত্নীটা সাদা শাড়ি সামলে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিফলেট বিলি করছে।
মহারাজ রেগেমেগে শ্মশানের ধারে পঞ্চানন ভুঁইয়ার চায়ের দোকানে হাজির হলেন। সেখানে দেখা গেল, কালু ভূত এক কোণে বসে দিব্যি চা-বিস্কুট খাচ্ছে। মহারাজ গর্জে উঠলেন, “কালু! তোদের আস্পর্ধা তো কম নয়! সাধনা ফেলে এখানে কী করছিস?”
কালু একটা লম্বা হাই তুলে উত্তর দিল, “মহারাজ, দাক্ষিণ্য তো আপনি কাজের পরে দেন। আর এদিকে পার্টি থেকে ' অ্যাডভান্স প্যাকেজ' দিচ্ছে। তাছাড়া আমাদের তো রিগিংয়ে দারুণ ডিমান্ড। কে মানুষ আর কে ভূত, ভোটার লিস্ট দেখে বোঝা ইদানীং আমাদেরও অসাধ্য হয়ে পড়েছে।”

মহারাজ বুঝলেন, পরিস্থিতি বেগতিক। এই ডিজিটাল যুগে ভূতেরাও এখন ‘পলিটিক্যাল কেরিয়ার’ গড়তে ব্যস্ত। তিনি অসহায়ভাবে দেখলেন, তাঁর সবচেয়ে খতরনাক কবন্ধ ভূতটা এখন প্রার্থীর পেছনে নিরাপত্তারক্ষী হয়ে ঘুরছে, কারণ সে মাথা ঘামায় কম।

অগত্যা মহারাজ ফিরে এসে নিজের ডেরায় ওই বিজ্ঞপ্তিটি লিখে দিলেন। কারণ, যেসব ভূত সারা বছর মানুষকে ভয় দেখিয়ে বেড়াত, তারা এখন মানুষকে হাত জোড় করে ভোট দিতে শেখাচ্ছে।
পাড়ার মানুষজন অবশ্য বিজ্ঞপ্তিতে বেশ খুশিই হয়েছে। বিশু কাকা চায়ে চুমুক দিয়ে বললেন, “যাক বাবা, আপদ গেছে। অন্তত ভোটের কদিন মাঝরাতে বাথরুমে যেতে ভয় লাগবে না। আসল ভূতেরা তো এখন টিভিতে ডিবেট করছে!”

রক্তজবা মহারাজ এখন ঘরের দাওয়ায় বসে ভোটের রঙ্গ দেখছেন। ভূত নেই, প্রেত নেই, কাজও নেই। তিনি শুধু প্রার্থনা করছেন, ভোট মিটলে যেন কালু আর পেত্নীরা আবার তাঁর কাছেই ফেরে, কারণ রাজনীতি থেকে ফিরে এসে তারা আবার সাধারণ মানুষের সঙ্গে ‘স্বাভাবিক’ আচরণ করবে—এমন গ্যারান্টি স্বয়ং যমরাজও দিতে পারবেন না।

কলমে ~অর্ঘ্য খামারু

ছবি ~সংগৃহীত

#শিল্প_উদ্যান

Argha Khamaru—অর্ঘ্য খামারু

🙂
27/04/2026

🙂

পৃথিবীর হাল
~ অর্ঘ্য খামারু
_____________________________

ধরণী মা আজ ধরিত্রী দিবসে বিষণ্ণ মনে একা,
মুখেতে তার কালশিটে দাগ, কপালে চিন্তার রেখা।
শনি ও মঙ্গল হেসেই খুন, বৃহস্পতি দেয় তালি—
বলছে, “দেখ রে সবাই পৃথিবীর ভাগ্য আজ যে খালি!”

চারিদিকে সব ঝাণ্ডা ওড়ে, রঙের সে কী বাহার,
ভোটের জ্বরে পৃথিবী কাঁপে, বিষম খাওয়ার জোগাড়।
শনি বলে, “ওহে ভাই, গদি সামলাবি কিসে?
মর্ত্যে দেখি হ্যামিলিন সব, ডুবছে প্রতিশ্রুতির বিষে।”

শুক্র শুনে মুচকি হেসে, বলছে ওরে শোন,
“মানুষগুলো কীসের নেশায় লড়ছে সারাক্ষণ?”
কেউ বলছে ‘পাল্টানো দরকার’, কেউ বলছে ‘ভাতা’,
সবাই মিলে খাচ্ছে দেখ পৃথিবীরই মাথা!”

মঙ্গল বলে, “আমার শরীর লাল তো কেবল ধুলোয়,
তোর ওখানে লাল-গেরুয়া-সবুজ ঝাণ্ডা ঝুলোয়!
স্বামীজী আর গান্ধীজীর নাম দিচ্ছে সবাই টেনে,
এখন সেথায় ফুটেজ পায় না মিথ্যে ভাষণ বিনে।”

বৃহস্পতি ভাই আকাশ কাঁপিয়ে হাসছে অট্টহাসি,
“ভোটের পরে এই পৃথিবীকে দেখাবে সর্বনাশী!
যতই করো হামলা রে ভাই, জবাব তো কেউ পায়নি,
পৃথিবীটা শুধু মার খাচ্ছে, গ্রহরা কিন্তু থামেনি!”

ধরিত্রী বলে, “তোরা হাসিস না রে, তোদের ভাগ্য ভালো,
আমার এখানে ভোট নিয়ে সব দ্বন্দ্ব করেই গেল!
মানুষ যদি মানুষ হতো, মিটত মনের কালি,
এখন আমি ভোটের ময়দান—কুরুক্ষেত্র খালি ।”

~ ইতি Argha Khamaru—অর্ঘ্য খামারু

25/04/2026

শুভ জন্মদিন ‘একজন ভালো মানুষ ’ 🙏

Address

Pandua
Hooghly

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Argha Khamaru—অর্ঘ্য খামারু posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category