30/08/2025
নিজেকে উপলব্ধি করুন।
সুস্থ থাকুন, ভাল থাকুন। ।
চাহিদা ও প্রাপ্তির পথ
--------------
প্রথমত মানুষ ভাল ভাবে ও সুস্থ ভাবে বাঁচতে চায়
এর জন্য প্রয়োজন তার নানান উপকরণ।
প্রথমেই কি কি উপকরণ দরকার এবং কতটা দরকার সর্বাগ্রে তা নির্দিষ্ট করবার জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নেবার প্রয়োজন।
যা যা চাহিদা তা নির্দিষ্ট করে, নির্দিষ্ট ভাবে তোমার মহাজন হচ্ছে তোমার "মন" তার কাছে ছবির আকারে পাঠিয়ে দাও।
তোমার মন মহাজন বিশ্ব ব্রক্ষ্মান্ডের খোলা বাজার থেকে সেই সব জিনিস সংগ্রহ করে, সংযোগের মাধ্যমে তোমার সামনে এনে দেবে কিন্তু কিছু মূল্যের বিনিময়ে, বিনামূল্যে নয়।
এই মূল্য কোন টাকা পয়সা নয়, এই মূল্য তোমার ভেতরে থাকা, তোমারই অর্জিত "ভাব"। এক এক ভাবের এক এক মূল্য। যে রকম জিনিস চাইবে, সে রকম মূল্যের ভাব, তোমার মন মহাজনকে উৎসর্গ করতে হবে।
কম দামের সামগ্রী চাইলে, যেমন কোন স্থূল বস্তুর যদি চাহিদা থাকে, তাহলে একটা মাত্র ভাব "অনন্য আগ্রহ ভাব" মূল্য হিসেবে মন মহাজনকে উৎসর্গ করতে পারলেই, মন তার তরঙ্গের সাহায্যে ব্রক্ষ্মান্ড থেকে বিষয় সংগ্রহ করে , তোমার পাবার সংযোগ তৈরি করে দেবে।
যদি একটু বেশি দামি, সূক্ষ্ম স্তরের, যেমন শান্তি বা আনন্দ সংগ্রহ করবার ইচ্ছে থাকে, তাহলে তোমার মনকে মূল্য হিসাবে উৎসর্গ করতে হবে বেশ কয়েকটি ভাব, তখন মূল্য হিসাবে একটা ভাবে হবে না, লাগবে চার চারটি ভাব যেমন- সরলতা, অহিংসা, সহমর্মিতা এবং আত্মতৃপ্ত এই চারটি ভাব মনকে নগদে দিতে হবে, ধার বাকি চলবে না। মূল্য পেলে, মন তার তরঙ্গের স্রোতের দ্বারা বিশ্বশক্তি থেকে বয়ে আনবে, তোমার শান্তি ও আনন্দ।
যদি আরও মূল্যবান সূক্ষ্মতর কিছু পেতে ইচ্ছে কর যেমন নিজের প্রসন্নতার সাথে সাথে তোমার চারপাশে থাকা মানুষ জন তোমার সংস্পর্শে এসে আনন্দ ও মনের সমৃদ্ধতা অনুভব করবে। তুমি হবে তাদের সুখের কেন্দ্র বিন্দু।
তখন মূল্য হিসাবে উৎসর্গ করতে হবে - নিস্পাপতা, উদারতা, অহংমুক্ততা, সবকিছুতে আত্মভাব ও বন্ধনহীন মুক্ত মননশীল ভাব। এই মিলিত ভাবের শক্তির তরঙ্গ বিশ্ব শক্তির সাথে সংযুক্ত হয়ে তার ক্রিয়া করবে সূক্ষ্মতর ভাবে।
যদি আরও মূল্যবান, শক্তিতম ঈশ্বরের চাহিদা থাকে তাহলে মূল্য হিসাবে উৎসর্গ করতে হবে নিজের সমস্ত চাহিদা ও সমস্ত ভাবকে লয়ের গর্ভে। বিলীন হবে সমস্ত ভাব ও চাহিদা বিশ্ব শক্তির সংশ্লিষ্ট শক্তির মধ্যে। আমিত্বের উৎসর্গ করতে হবে বিশ্ব শক্তির সৃষ্টির মূল আধারে।
এই ভাবেই ক্রমান্বয়ে মানুষের চাহিদার পূর্ণতা সম্ভব। কোন কিছু পেতে গেলে যে মূল্য লাগে, তা তোমার কাছেই আছে, সমস্ত রকমের ভাব তোমার অন্তর পকেটেই আছে।
জীবনের ক্ষেত্রে যে সমস্ত সামগ্রী বা জিনিসের প্রয়োজন তাও স্থূল ও সূক্ষ্ম অবস্থায় ব্রক্ষ্মান্ডেই বর্তমান।
তোমার ইচ্ছা অনুযায়ী, তোমার দেওয়া মূল্যেই, তুমি যা কোন কিছু ভোগ, উপভোগ বা দুর্ভোগ তোমার ইচ্ছা মত ক্রয় করতে পার। এটাই বিশ্ব শক্তির নিয়ম।