02/12/2025
আঃ রাজ্জাক সাহেবের মতে—হযরত উসমান রাঃ খুৎবার পূর্বের আযান চালু করে বিদআতী হয়ে গেছেন
(নাউযুবিল্লাহ)৷ আঃ রাজ্জাক সাহেব খেয়াল করেন নি যে, হযরত উসমান রাঃ দ্বিতীয় আযান নয়,বরং প্রথম(যে আযান বর্তমানে মাইকে মানুষকে মসজিদে ডাকার জন্য দেওয়া হয়,সেই) আযান চালু করেছিলেন ৷
দলীলঃ—
حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى الْقَطَّانُ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، ح وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، جَمِيعًا عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ مَا كَانَ لِرَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِلاَّ مُؤَذِّنٌ وَاحِدٌ فَإِذَا خَرَجَ أَذَّنَ وَإِذَا نَزَلَ أَقَامَ وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ كَذَلِكَ فَلَمَّا كَانَ عُثْمَانُ وَكَثُرَ النَّاسُ زَادَ النِّدَاءَ الثَّالِثَ عَلَى دَارٍ فِي السُّوقِ يُقَالُ لَهَا الزَّوْرَاءُ فَإِذَا خَرَجَ أَذَّنَ وَإِذَا نَزَلَ أَقَامَ .
সায়িব বিন ইয়াযীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সময়ে মাত্র একজন মুযাযযিন ছিল। তিনি যখন (খুতবাহ দিতে) বের হতেন, তখন সে আযান দিতো এবং তিনি যখন (মিম্বার থেকে) নামতেন, তখন সে ইকামাত দিতো। আবূ বাক্র ও উমার (রাঃ)-এর আমলেও এ নিয়মই চালু থাকে। উসমান (রাঃ)-এর আমলে মুসলিমদের সংখ্যা বেড়ে গেলে তিনি বাজারে অবস্থিত আয-যাওরা নামক স্থান থেকে তৃতীয় আযান দেয়ার ব্যবস্থা করেন। অতঃপর তিনি যখন বের হতেন, তখন মুয়াযযিন আযান দিতো এবং তিনি মিম্বার থেকে নামলে সে ইকামাত দিতো।
বুখারী ৯১২-১৩, ৯১৫-১৬; তিরমিযী ৫১৬, নাসায়ী ১৩৯২-৯৪, আবূ দাঊদ ১০৮৭, আহমাদ ১৫৩০১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৯৯৮, ৯৯৯।
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১১৩৫
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD
↓
🌺খুতবার পূর্বের আযানটা মিম্বারের পাশে দেওয়া হতোঃ—
6646 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ الصَّنْعَانِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، ح وَحَدَّثَنَا عَبْدَانُ، ثنا هُرَيْمُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، قَالَا: ثنا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ: «§كَانَ النِّدَاءُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عِنْدَ الْمِنْبَرِ وَأَوَّلُ مَنْ أَحْدَثَ النِّدَاءَ الْأَخِيرَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ»
হযরত সায়েব বিন ইয়াজিদ রাঃ থেকে বর্ণিত,তিনি বলেনঃ
রাসূলুল্লাহ সঃ এর যুগে, আবূ বকর রাঃ এর খেলাফতকালে এবং ওমর রাঃ এর খেলাফতকালে খুতবার পূর্বের(দ্বিতীয়) আজানটা মিম্বারের নিকটে দেওয়া হতো ৷৷
আর,হযরত উসমান রাঃ প্রথম আজানের প্রচলন ঘটিয়েছিলেন ৷৷
(আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৬৬৪৬)
হাদীসটির স্তরঃ সহীহ, মারফূ ৷
①আলী ইবনে মুবারক কে আল্লামা ইরাকী রহঃ সিকাহ বলেছেন ৷ (ইরশাদুল ক্বসী ওয়াদ দানী, রাবী নং ৬৯৪) ইমাম হাকেম রহঃও তাকে সিকাহ বলেছেন ৷(সহিহাইন হা/নং ৩১৩১,,৩৩০৯,,৩৮৬৫ ইত্যাদি) তারিখুল ইসলাম লিয-যহাবী রাবী নং ৩৭১ তে উনার জীবনী এনেছেন ইমাম যহাবী রহঃ ৷
②মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ ثقة বা বিশ্বস্ত ৷(তাহযিবুত তাহযিব,রাবীঃ- ৪৮১, আল-কাশেফ,রাবীঃ ৪৯৮৪)
③আবদান ثقة বা বিশ্বস্ত৷(সিয়ার,রাবী নং ২৬১৬)
④হুরাইম বিন আব্দুল আ'লা ثقة(তাকরীবঃ৭২৮০)
এরপরের সকল রাবীই সহীহুল বুখারী মুসলিমের মশহুর রাবী ৷৷
সহীহ সরীহ এই বর্ননার বিপরীতে আবূ দাউদ ১০৮৮ নং হাদীসে علي باب المسجد বা মসজিদের দরজার উপর শব্দ এসেছে ৷৷
হাদীসটিকে শায়েখ আলবানী রহিঃ মুনকার বলেছেন ৷৷
এর কারণ হচ্ছেঃ-
①সহীহ সরীহ হাদীসে عند المنبر বা মিম্বারের নিকটে শব্দ এসেছে ৷
② হাদীসটি যুহরী রহঃ থেকে সর্বমোট ৭ জন বর্ননা করেছেন ৷৷ কিন্তু একমাত্র মুহাম্মদ বিন ইসহাক ব্যতিত অন্য কেউ ই علي باب المسجد বা মসজিদের দরজার উপর কথাগুলো বর্ননা করেন নি ৷ অর্থাৎ, মুহাম্মদ বিন ইসহাক এক্ষেত্রে একক ৷৷
আর, মুহাম্মদ বিন ইসহাক হচ্ছেন অত্যাধিক তাদলিসকারী রাবী, ইবনে হাজার রহঃ তাকে চতুর্থ স্তরের মুদাল্লিস বলেছেন ৷(তাবাকাতে মুদাল্লিসিনঃ ১২৫) আর তিনি উক্ত বর্ননাটি عنعنه করেছেন ৷৷ এবং উক্ত বর্ননার কোনো সামা বা শাহিদও নাই ৷
🌺হযরত উসমান রাঃ প্রথম আযানটা চালু করে যদি বিদআত করে থাকেন,তবে নীচের এই হাদীসটার কী হবে??
عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم ذَاتَ يَوْمٍ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا فَوَعَظَنَا مَوْعِظَةً بَلِيْغَةً ذَرَفَتْ مِنْهَا الْعُيُوْنُ وَوَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ فَقَالَ قَائِلٌ يَا رَسُوْلَ اللهِ كَأَنَّ هَذِهِ مَوْعِظَةُ مُوَدِّعٍ فَمَاذَا تَعْهَدُ إِلَيْنَا فَقَالَ أُوْصِيْكُمْ بِتَقْوَى اللهِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَإِنْ كَانَ عَبْدًا حَبَشِيًّا فَإِنَّهُ مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ بَعْدِى فَسَيَرَى اخْتِلاَفًا كَثِيرًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِى وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الْمَهْدِيِّينَ الرَّاشِدِينَ تَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ.
ইরবায বিন সারিয়াহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহ ভীতির উপদেশ দিচ্ছি এবং তোমাদের আমীরের আদেশ শুনতে ও মান্য করতে উপদেশ দিচ্ছি যদিও তিনি একজন হাবশী গোলাম হোন। কেননা আমার পরে তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে, তারা সত্বর বহু মতভেদ দেখতে পাবে। তখন তোমরা আমার সুন্নাতকে এবং সুপথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদ্বীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে। তাকে কঠিনভাবে ধরবে এবং মাড়ির দাঁত সমূহ দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে। সাবধান! দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্টি হতে দূরে থাকবে। কেননা (দ্বীনের ব্যাপারে) যেকোন নতুন সৃষ্টি হল বিদ‘আত এবং প্রত্যেক বিদ‘আত হল পথভ্রষ্টতা’ (আহমাদ, আবুদাঊদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/১৬৫)।
ঊপদেশ, হাদিস নং ১৭২
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD