19/02/2026
আজকের এই পুণ্যলগ্নে কামারপুকুরের সেই পর্ণকুটিরে অবতীর্ণ হয়েছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব। তাঁর চরণে জানাই শতকোটি প্রণাম।
শ্রীরামকৃষ্ণ বলতেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে এক দিব্যজ্যোতিসম্পন্ন হাস্যোজ্জ্বল মুখ। কিন্তু তাঁর আধ্যাত্মিক সাধনার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল সংগীত। অনেকে তাঁকে কেবল একজন সাধক হিসেবেই জানেন, কিন্তু তিনি ছিলেন এক অনন্য শিল্পী। তাঁর কাছে গান ছিল কেবল বিনোদন নয়, বরং ঈশ্বরলাভের এক ব্যাকুল প্রার্থনা।
ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বলতেন, "গানে মন শীঘ্র লয় হয়।" তাঁর কণ্ঠ ছিল অত্যন্ত সুমধুর। যখনই তিনি শ্যামাসঙ্গীত বা বৈষ্ণব পদাবলী গাইতেন, উপস্থিত ভক্তরা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যেতেন। কথিত আছে, তাঁর গান শুনে স্বয়ং মা ভবতারিণী জেগে উঠতেন। নরেন্দ্রনাথের (স্বামী বিবেকানন্দ) সঙ্গে তাঁর প্রথম সাক্ষাতের মূলে ছিল এই সঙ্গীতই। নরেনের গাওয়া গান শুনেই ঠাকুর চিনে নিয়েছিলেন তাঁর উত্তরসূরিকে।
রামপ্রসাদ বা কমলাকান্তের গান গাইতে গাইতে ঠাকুর প্রায়ই ভাবসমাধিতে মগ্ন হতেন। সুরের লহরী যখন উচ্চগ্রামে পৌঁছাত, তখন তাঁর দেহ ও মন লৌকিক জগৎ ছাড়িয়ে চিন্ময় জগতে বিলীন হয়ে যেত। তাঁর কাছে শাস্ত্রপাঠের চেয়েও ভক্তিভরে একটি গান গাওয়া ছিল অনেক বেশি ফলদায়ী।
আজকের এই যান্ত্রিক যুগে ঠাকুরের সেই সহজ-সরল জীবনদর্শন এবং সুরের মাধ্যমে পরমাত্মাকে খোঁজার পথ আমাদের শান্তি ও মুক্তি দিতে পারে। আসুন, এই পবিত্র দিনে আমরা তাঁর দেখানো পথে চলার সংকল্প করি।