22/08/2026
#মেঘার_মেঘে_বর্ষণ
✍️শব্দের গুঞ্জন
রাহাত তার জীবন রসায়নে সুদক্ষ উত্তাল নদীর মাঝি। সে শুধু মাঝিই নয় সাঁতারুও বটে। যেকোনো বিপদের আশঙ্কায় নৌকা ছেড়ে লাফিয়ে সাঁতরে অনায়াসে পারে উঠে আসে। সম্পর্ককে আঁকড়ে ধরে রাখার চেয়ে নতুন স্রোতে ভেসে যাওয়াকে সে সহজ মনে করে। তাই তার মুখে একটা ডায়লগ লেগেই থাকে.. জিন্দেগি মে আজ বেহতর জিনা সিখো... কাল জো হোগা,কাল দেখা যায়েগা।
রাহাত মনে করে —প্রেম মানে শুধু সম্পর্ক নয়, এটা একধরনের জীবনশক্তি, যা তার চারপাশকে উজ্জ্বল আর জীবন্ত করে তোলে। তাই রাহাত শুধু প্রেমিক নয়, সে এক প্রাণবন্ত ইতিহাস রচনার পথে চলা এক ‘লাভ বয়’। সে দিনটা ছিল সোমবার, কলেজ থেকে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আসে। নিজের রুমে এসে হাতে ফোনটা নিয়ে দেখে, ফোনের silent mode টা change করা হয়নি.. আর unknown নাম্বার থেকে চারটা মিসকল। যার নাম তার ফোনের স্ক্রিনে ভেসে উঠার কথা অথচ সেই আজ নীরব.. কিন্তু কেন? অথচ মধ্য গগনে রবি পৌঁছে গেছে। কোনো সমস্যা হলো না তো.. প্রতিদিনের ঘটনা আজ ব্যতিক্রম তাই ভাবনার ভিড়ে হারিয়ে গিয়ে সবুজ বাটন চেপে ধরে call back করে। রাহাতের কানে ভেসে ওঠে ... caller tune..টা
"আমার পাড় ভাঙ্গা এক নদী.." ... তারপর
অকল্পনীয় মায়াবী এক সুরময়ী কন্ঠস্বর...
হ্যালো..
রাহাত : আমার নাম্বারে মিস কল...
সুরময়ী: ওহ ,sorry.. আসলে আমার ফোন থেকে শ্রাবণী কল করেছিল। আসলে ও ফোন আনতে ভূলে গেছে তাই ।
রাহাত: ম্যাডাম আছেন কাছেই ?
সুরময়ী: না এখন সে ক্লাসে । আমাকে সে বলে গেছে যদি কল ব্যাক করে জানিয়ে দিতে। কলেজ থেকে বাড়ি ফিরে ফোন করবে সে।
রাহাত: thanks.. ওকে.. বাই
রাহাতের তর্জনি অজান্তেই নিজের দায়িত্ব নিয়ে ফোনের contact list এর দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে নেয়। রাহাত তার নাম জানতে চেষ্টা করেনি - তাই সেই নাম্বারটি রাহাতের নীতি অনুসারে RAC- 9 নামে সেভ করে রাখে। মাস দুয়েক আগে একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে শ্রাবণীর সাথে রাহাতের প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল। মায়াবী চাহনির পানে চেয়ে থাকার দায়ে গ্রেপ্তার হতে হয়েছিল তাকে। সে চোখের প্রখর দৃষ্টি রাহাতের চোখ অন্ধকার হয়ে যায়। সেই মেয়ে মুহূর্তে যেন হাতকরা হাতে টেনে নিয়ে যায় পাশেই নিস্তব্ধ নির্জন ঝোপালো বকুল গাছের ছায়ায়। বাজেয়াপ্ত করা হয় রাহাতের ফোন। উদ্ধার করে নেয় তার হৃদয়ের দশ সংখ্যার পাসওয়ার্ড.. জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে.., কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই.., আসামী রাহাতের আশংকা সত্যি হয়। ফোনটা জানান দেয় রাহাত তোমার টাইটানিক এর নোঙ্গর তুলে ভাসতে হবে মাঝ সমুদ্রের বুকে। রাহাতও আজ প্রায় নয় বছর ধরে captain এর পদে বহাল আছে। যদিও দীর্ঘস্থায়ী বা permanent কোনো জাহাজ ভাসিয়ে তীরে ভিড়াতে পারেনি আজও। তবে বর্তমানে যার নাবিক পদে বহাল আছে এবং তারও মেয়াদ প্রায় উত্তীর্ণ হয় হয় অবস্থায়। সব দিক বজায় রেখে নতুন টাইটানিক ভাসিয়ে নিয়ে মাঝ সমুদ্রে.. কেটে গেছে প্রায় দু'টি মাস
সেদিন ছিল চতুর্থ সাক্ষাৎ এর দিন..সেদিন সুরময়ীকে সাথে নিয়ে দেখা করতে এসেছিল শ্রাবণী। মেঘার সাথে পরিচয় যথারীতি বন্ধুত্বের রূপ পেয়েছে। সারাদিন একসাথে কাটিয়ে শ্রাবণীদের ট্রেনটা শেষ হুইসেল দিয়ে ধীর গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে,আর ইঞ্জিনের কালো ধোঁয়াগুলো কেন যেন বিকেলের আকাশে অনেক দূর অব্দি কিছু একটা আড়াল করতে চেয়েছিল। রাহাত তাকিয়ে থাকে নির্বাক হয়ে ছেড়ে চলে যাওয়া ট্রেনের দিকে। হঠাৎ যেন কেউ আঙুল বাড়িয়ে ট্রেনের শেষ বগির পেছনে ক্রস চিহ্নটা দেখিয়ে বলে গেল। আর দেখে লাভ নেই এখানেই the end। হ্যাঁ, সত্যি রাহাতকে ওই ক্রস চিহ্নটা অনেক কিছুই ফিসফিস করে বলে গিয়েছে। তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে উল্টো দিকে তাকিয়ে দেখে Green signal হয়ে আছে। রাহাত অনুভব করে তার মানে প্ল্যাটফর্মে নিশ্চিত আবার নতুন ট্রেন আসতে চলেছে। মোবাইলটা হাতে নিয়ে contact list edit করে RAC- 9 মুছে "মেঘা" লেখে। যথারীতি মেঘার সাথে অবাধ কথা বলার ছাড়পত্র জুটেছে। দিন কয়েক পরে কোনও এক সমস্যা সৃষ্টির পর যোগাযোগ না হওয়াতে মেঘার ফোন বারবার চিৎকার করে উঠে.. এদিকে শ্রাবণী নীরব থেকে যায় আর ততটাই বেপরোয়া হয়ে আছড়ে পড়ে রাহাতের ফোন মেঘার ফোনে.. মেঘা যথেষ্ট শান্ত.. ধীরে ধীরে কথা বলে.. সে চেষ্টা করে শ্রাবণীর সাথে যোগাযোগ করতে কিন্তু একই ভাবে switch off থাকে.. এদিকে college ছুটি.. অন্য বন্ধুদের সাথে কথা বলে তারপর
রাহাত কে call back করে বলে.. দেখো, রাহাত তোমাকে ভালো বন্ধু ভেবে তোমার ভালোর জন্য বলছি.. পারলে শ্রাবণী কে ভূলে যাও..
ও তোমার যোগ্য নয়.. ও যথারীতি engaged with others.. তারপর ধীরে ধীরে শ্রাবণীর সব উপন্যাস ফাঁস করে দেয় এবং রাহাতের সাথে সম্পর্কের ব্যাপারে সাবধান বাণী শোনায়। রাহাত মনে মনে হাসে। যাক আজ তাহলে নাবিক সহ titanic আটলান্টিকে ডুবে যেতে চলেছে..। ফোন রেখে দেয় রাহাত.. বিছানায় শুয়ে আছে ঘুম আসছে না.. রাতের ঘনত্ব যত বাড়ছে ফিকে হয়ে আসছে রাহাতের অহংকারী যৌবনের অধ্যায়.. ছাদে উঠে আসে, একটা সিগারেট ধরিয়ে টান দিয়ে এক মুখ ধোঁয়া ছেড়ে.. মনে মনে বলে শ্রাবণী মনে হয় এই জন্যই মেঘাকে সাথে নিয়ে এসেছিল.. অজানা ব্রেকআপের উপহার হিসেবে.. তাই আবার আগামী কাল উপন্যাসের পরের পর্ব লিখতে বসতে হবে .. পরবর্তী পর্ব "মেঘার মেঘে বর্ষণ"
মেঘাকে পেতে চাই. ... রাহাত ফোন করে পরের দিন।
রাহাত: মেঘা কি করছো..? আমার সাথে একটু কথা বলার জন্য নির্জনে একাকী সময় হবে..?
মেঘা: হুম.. বলো, আমি এখন একা..
রাহাত: মেঘা তোমার কাছে সামান্য কিছু মেঘ চেয়ে নিতে চাই.. দিতে পারবে..? আসলে শ্রাবণ চলে গিয়ে বুকের বাঁ দিকের হৃদয় মাঠে খরা নেমে এসেছে.. সবুজের ঘাটতি দেখা দিয়েছে..
তোমার মেঘের ধারায় যদি বসন্ত ফিরে আসে..
আমি সত্যিই আপন করে ভালোবাসতে চায়। পারবে..? মেঘ ঘনিয়ে আমার আকাশে ঢেকে দিতে.. ইচ্ছে মত ঝমঝম করে ঝড়ে পড়তে আমার উপরে.. ইচ্ছে মতো তোমার উষ্ণতায় শুষে নিতে সব ঝড়ে পড়া ফোঁটা গুলো.. আবার একটু একটু করে জমিয়ে রেখে কালো মেঘে ছেয়ে দিতে আমার আকাশে.. পারবে?
মেঘা কোনো উত্তর না দিয়ে ফোনটা কেটে দেয়.. আর ফোন রিসিভ করেনি..
সেদিন সন্ধ্যায় আকাশটা খুব কালো হয়ে আঁধার নামে, আর খোলা জানালা দিয়ে রাহাত বাইরে তাকিয়ে দেখে—
আকাশ কালো।
মেঘ ডাকছে।
বৃষ্টি নামার অপেক্ষা।
ঠিক তখন—
বিছানায় পড়ে থাকা ফোনের স্ক্রিন লাইট জ্বলে ওঠে। অগত্যা কাছে এসে দেখে "মেঘা" ডাকছে.. বৃষ্টি নামবে এখন।
এবার সত্যিই কি বৃষ্টি নামবে?
নাকি এই মেঘও ঝড় নিয়ে আসবে?
এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন--
1. মেঘা কি বুঝেছে যে রাহাত তাকে শ্রাবণীর replacement হিসেবে চাইছে?
2. নাকি মেঘার নিজের মধ্যেও অন্য কোনো গল্প আছে?
3. নাকি মেঘা সব কিছু উপেক্ষা করে রাহাতকে
কাছে টেনে নেবে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পরবর্তী পর্বে..