Satwata Katha/সাত্বত কথা

Satwata Katha/সাত্বত কথা Guided by the Divine Teachings of Sree Sree Thakur Anukulchandra — a beacon of love, service, and life.

Inspired by His light, we strive to shape our lives, serve humanity, and walk towards establishing the Kingdom of Heaven on Earth.

পর্ব: ১৫১ নববর্ষ পুরুষোত্তম স্বস্তিতীর্থ-মহাযজ্ঞ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄১৩৬০ সালের পৌষ মাসের ঋত্বিক-অধিবেশনে ঋত্বিগাচার্য্যদেব ঘ...
19/08/2026

পর্ব: ১৫১ নববর্ষ পুরুষোত্তম স্বস্তিতীর্থ-মহাযজ্ঞ
 ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄
১৩৬০ সালের পৌষ মাসের ঋত্বিক-অধিবেশনে ঋত্বিগাচার্য্যদেব ঘোষণা করেন-'প্রতি উৎসবে কর্মীরা উৎসবার্ঘ্য এবং আনন্দবাজারের প্রয়োজনীয় উপকরণাদি সংগ্রহ করবেন। নববর্ষে এবং বিজয়ার পর স্বভাবতঃই শ্রীশ্রীঠাকুর-প্রণাম করতে অসংখ্য লোক আশ্রমে আসে। সুতরাং এই দু'বারই বিরাটভাবে উৎসব করা হবে। ৩০শে চৈত্র থেকে নববর্ষ উৎসব আরম্ভ হবে। এর নাম হবে 'নববর্ষ পুরুষোত্তম স্বস্তিতীর্থ-মহাযজ্ঞ'। বিজয়ার পর দ্বাদশীর দিন থেকে শ্রীশ্রীঠাকুরের জন্মমহোৎসব হবে। এই সময় থেকেই বিভিন্ন জেলার কর্মীবৃন্দ প্রতি উৎসবের বিভিন্ন দিনে আনন্দবাজার পরিচালনার পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করতে আরম্ভ করেন। তাঁরা নিয়ে আসেন স্পেশাল ট্রেনে, রিজার্ভ বগীতে, বাসে, লরিতে চাল, ডাল, তরিতরকারী, নরনারায়ণ সেবার প্রয়োজনীয় উপকরণাদি ভারে ভারে, বিপুল পরিমাণে। শ্রীশ্রীঠাকুরই ব'লে দেন-প্রতি দীক্ষাদাতা ঋত্বিক দু'শো টাকা, প্রতি অধ্বর্য্য একশ' টাকা এবং প্রত্যেক যাজক পঞ্চাশ টাকা ক'রে উৎসবার্ঘ্য সংগ্রহ করবে। যেমন শিব-চতুর্দশীতে সর্বভারতের অগণিত ভক্ত এসে উপনীত হন পবিত্র তীর্থ বৈদ্যনাথধামে শ্রীশ্রীবাবা বৈদ্যনাথজীর দর্শন ও পূজার কামনায়-তেমনি প্রতিটি উৎসবে দেশের প্রত্যেক রাজ্যের অসংখ্য ভক্ত শ্রীশ্রীঠাকুর-দর্শনে এবং তাঁর আশীর্বাদ লাভের কামনায় কাতারে কাতারে উপনীত হ'তে থাকে দেওঘর সৎসঙ্গ আশ্রমে। কখন কখন অর্দ্ধ লক্ষাধিক লোক সমাগমও হয় দয়ালের চরণতলে। এই বিশাল জনতার আহার্য্যের ও বাসোপযোগী স্থানের ব্যবস্থা করতে হয় সৎসঙ্গ কর্তৃপক্ষকে। বাড়ী ভাড়া ক'রে আর স্থান সঙ্কুলান করা যায় না। কলকাতা থেকে ডেকরেটার পার্টি এনে প্রত্যেক উৎসবেই সৎসঙ্গের বিভিন্ন বাড়ীতে বিরাট বিরাট সুদৃশ্য প্যাণ্ডেল তৈরী করিয়ে সকলের থাকার বন্দোবস্ত করতে হয়। আমন্ত্রণ ক'রে বা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে উৎসবে লোক আনতে হয় না-সর্বশক্তিমান ঠাকুরের অদৃশ্য অমোঘ আকর্ষণে প্রাণের ঐকান্তিক টানে স্বভাবতঃই অসংখ্য লোক এসে উপস্থিত হয় তাঁরই পুণ্য পাদপীঠতলে।

#পর্ব: ১৫২ বড়দার জন্মোৎসবে শ্রীশ্রীঠাকুরের আশীর্বাণী
 ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄
১৩৬০ সালের ৫ই অগ্রহায়ণ পূজনীয় বড়দার জন্মোৎসব বিরাটভাবে অনুষ্ঠিত হয়। এই বৎসরই শ্রীশ্রীঠাকুর প্রথম আশীর্বাণী দেন বড়দার জন্মদিনে। প্রাতে শ্রীশ্রীঠাকুর সমীপে বিনতি-প্রার্থনা, আশীর্বাণী পাঠ, অ্যাঞ্জলি নিবেদন ও প্রণাম হয়। তৎপর বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থাদি পাঠ ও পূজা হয়। মধ্যাহ্নে শ্রীশ্রীঠাকুর-ভোগের পর পূজনীয় বড়দার স্নানোৎসব ও ভোগ হয়, সৎসঙ্গী জনগণ তাদের প্রাণপ্রিয় বড়দাকে নিবেদন করে ভক্তি-অর্ঘ্য। তারপর হয় আনন্দবাজারে প্রসাদ বিতরণ, নরনারায়ণ সেবা, দুঃস্থদের চাউল, বস্ত্র ও কম্বল দান। হাসপাতালের রুগীদের ফল দান করা হয়। একই সঙ্গে চলতে থাকে ক্রীড়ানুষ্ঠান ও নানাবিধ ব্যায়াম-প্রদর্শন। অপরাহ্ণে জনসভায় বড়দার কর্মবহুল মহান জীবন সম্বন্ধে বক্তৃতা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা এবং পুরষ্কার বিতরণ হয়। সন্ধ্যায় জন্মলগ্নে শঙ্খধ্বনি, হুলুধ্বনি, তোপধ্বনি হওয়ার পর মন্দিরে সৎসঙ্গ অধিবেশন এবং অন্যত্র সুদক্ষ সঙ্গীতজ্ঞগণ কর্তৃক সঙ্গীতজলসা হয়। রাত্রে বাজী পোড়ানো হয়। শ্রীশ্রীঠাকুরবাড়ী ও বড়দার বাড়ীতে তোরণ সজ্জা ও আলোকসজ্জা হয়। বহু দূর দূর দেশে থেকেও অগণিত অনুরাগীবৃন্দ উপনীত হন আশ্রমে এই পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য। শ্রীশ্রীঠাকুরের, শ্রীশ্রীবড়মার, বড়দার, ছোড়দার, কাজল ভাইয়ের এবং ঋত্বিগাচার্য্যদেবের ব্যবহারের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি এই উৎসব উপলক্ষে শ্রীযুত বড়দারই ইচ্ছানুযায়ী এনে দেন ভক্তরা। এরপর থেকে সৎসঙ্গীরা প্রতি বৎসরই অন্তরের ঐকান্তিক আকুলতায় তাদের প্রিয়পরমের যোগ্য প্রতীক পূজনীয় বড়দার শুভ জন্মোৎসব এইভাবেই উদ্‌যাপন ক'রে চ'লেছে।

#পর্ব: ১৫৩ মনোজকুমার গোস্বামীর উপনয়ন
 ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄
১৩৬০ সালেই গোঁসাইয়ের জ্যেষ্ঠ-পৌত্র মনোজকুমারের উপনয়ন সংস্কার হয়। সহস্রাধিক সৎসঙ্গী যোগ দেন গোঁসাইবাড়ীর এই পুণ্যানুষ্ঠানে। তাঁদেরই প্রচেষ্টায়, ব্যবস্থায় ও অর্থব্যয়ে সমারোহের সঙ্গে উদ্যাপিত হয় শাস্ত্রোক্ত ক্রিয়াদি-শত শত নরনারী গোঁসাইবাড়ী প্রসাদ গ্রহণ করেন এই উপলক্ষে। পূজনীয় বড়দা এসেছেন ব্রহ্মচারীকে আশীর্বাদ করতে-দেখেই উৎফুল্ল আনন্দে গোঁসাই লুটিয়ে প্রণাম করতে গেলেন তাঁকে। ব্যস্ত হয়ে উঠলেন বড়দা, হাত ধ'রে টেনে তুললেন গোঁসাইকে, অতি যত্নে বসালেন আসনে। অনুরাগী বৃদ্ধ ভক্তের গুরু-পুত্রের প্রতি এই অনাবিল ভক্তির প্রকাশ দেখে মুগ্ধ হ'ল সমবেত অগণিত নরনারী। পূজনীয়া বড় বৌদি, রাঙ্গা বৌদি এবং পূজনীয় ছোড়দাও এসে আশীর্বাদ ক'রে গেলেন ব্রহ্মচারীকে-আনন্দে আত্মহারা হলেন গোঁসাই।

#ক্রমশ...

◕ গ্রন্থ : শ্রীমৎ আচার্য্য সতীশচন্দ্র গোস্বামী
ও সৎসঙ্গ আন্দোলন (১৯১৪-১৯৬৪)
◕ লেখক : শ্রীসচ্চিদানন্দ গোস্বামী (ঋত্বিক)
◕ ফলো করুন Satwata Katha | সাত্বত কথা

------------------------------------------------------------------
#শ্রীশ্রীঠাকুর #সৎসঙ্গ_আন্দোলন #সতীশচন্দ্র

পর্ব: ১৪৯ গোঁসাইবাড়ী ও আনন্দবাজার ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄বর্দ্ধমান শহরে চীনা ডেন্টিস্ট ডাঃ ওয়াংটিসিয়াং ও তার স্ত্রী লুয়েঞ্চার সঙ...
18/08/2026

পর্ব: ১৪৯ গোঁসাইবাড়ী ও আনন্দবাজার
 ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄
বর্দ্ধমান শহরে চীনা ডেন্টিস্ট ডাঃ ওয়াংটিসিয়াং ও তার স্ত্রী লুয়েঞ্চার সঙ্গে হরি গোঁসাইয়ের শ্রীশ্রীঠাকুর সম্বন্ধে আলাপ হয়। তারা ঠাকুর-দর্শনে আগ্রহান্বিত হয়ে ওঠে এবং ১৩৬০ সালের কার্তিক মাসে উৎসবের সময় দেওঘরে এসে কয়েকদিন গোঁসাইবাড়ীতে থাকে। ঠাকুর দর্শন ক'রে তাদের মনে বিশ্বাস জন্মে-ইনি নিশ্চয়ই ভগবান তথাগত। তারা বৌদ্ধ-দীক্ষা গ্রহণ ক'রে শ্রীশ্রীঠাকুরের চরণে আশ্রয় নেয়। এই উৎসবেই গ্রাম কালনায় যে জমি বড়দা দেখতে গিয়েছিলেন-তার মালিক পক্ষ ১০/১২ জন লোক বড়দার আমন্ত্রণে আশ্রমে এসে শ্রীশ্রীঠাকুর-দর্শন করেন। বড়দা তাঁদের গোঁসাইবাড়ীতেই থাকার নির্দেশ দেন এবং এই বিশিষ্ট অতিথিবর্গের বিশেষ পরিচর্য্যার আদেশ প্রদান করেন। এবার উৎসবে অসংখ্য লোক এসেছিল। বহু বাড়ী ভাড়া নেওয়া হয়েছিল জনগণের বাসের জন্য। গুলাববাগেও সমাগত সৎসঙ্গীদের অনেকের থাকার ব্যবস্থা হয়। গোঁসাইবাড়ীতে ওঠে ৬৪/৬৫ জন লোক। অন্যান্য বাড়ীতে অবস্থানকারী বহু নূতন সৎসঙ্গী এখানে এত লোক আহার করছে দেখে এটাকেও শাখা আনন্দবাজার মনে করে। তারা আর দূরের আনন্দবাজারে না গিয়ে দু'বেলা বাসা থেকে এই আনন্দবাজারে এসেই আহারাদি আরম্ভ করে। ফলে গোঁসাইয়ের পুত্রবধূদের এসময় প্রতিবেলায় প্রায় দেড়মণ পর্য্যন্ত চালের ভাত রান্না করতে হয়। সেই অনুপাতে ডাল-তরকারীরও প্রয়োজন হয়। এছাড়া বাড়ীতে অবস্থিত সকলের প্রাতঃসন্ধ্যায চা জলখাবারের ব্যবস্থা করা তো আছেই। অনেকদিন রাত্র বারটা পর্যন্তও বৌদের কিছু খাওয়ার সুযোগ হ'ত না। এই বৃহৎ ভাণ্ডারীর কাজে সর্বতোভাবে সাহায্য করেন কাঁচরাপাড়ার প্রমথ গাঙ্গুলীর স্ত্রী এবং মেদিনীপুরের ললিত মজুমদারের স্ত্রী। জমিদার-পক্ষের এবং চীনাদম্পতির জন্য বিশেষ বন্দোবস্ত করতে হয়। তাতে ব্যয়ও হয় বহু। হরিগোঁসাই বড়দাকে ব'লে এই টাকার ব্যবস্থা করতে চাওয়ায় গোঁসাই অমত ক'রে বলেন-"বড় খোকা দয়া ক'রে যে দায়িত্ব আমার উপর দিয়েছে-সেটা পালন করা আমার ব্রত, আমার সাধনার অঙ্গ।” গোঁসাইয়ের এ দায়িত্ব বহন করার শক্তি ছিল। ঠাকুরের দয়ায় অগণিত লোক তাঁকে ভক্তি করে, ভালবাসে। তিনি প্রণামী পান প্রতি উৎসবে প্রায় হাজার টাকা। গোঁসাইবাড়ীর ছ'মাসের দেনা মেটানো হয় এই টাকা দিয়ে। এবার আর তা হ'ল না। গুরুবংশের প্রতি এমনই ভক্তি ছিল তাঁর যে, তাঁর পুত্রের সমবয়সী বাল্যসঙ্গী বড়দাকেও তিনি প্রণাম করতে যেতেন-যদিও বড়দার প্রণম্য আত্মীয়-স্বজন অনেকেই বারেন্দ্র সমাজের মহাসম্মানী এই বৃদ্ধ ব্রাহ্মণকে প্রণাম ক'রে থাকেন। বড়দা অবশ্য কোনদিনই গোঁসাইকে প্রণাম করতে দেন নাই, বরং তিনিই উল্টে প্রণাম করতে যেতেন-ফলে বৃদ্ধ ও যুবকে ঠেলাঠেলি চলতো। এ সময়ে ঋত্বিকদের উৎসবের কোন কোটা নির্দ্ধারিত হয় নাই। গোঁসাই এবারও উৎসবে একশো টাকা অর্ঘ্য দিলেন।

#পর্ব: ১৫০ উৎসবে স্পেশাল ট্রেন
 ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄
১৩৫৯ সালের পৌষ মাসে দুমকা থাকা কালেই ঠাকুর বিভিন্ন স্থান থেকে বগী রিজার্ভ ক'রে দলে দলে সৎসঙ্গীকে পৌষমাসের কনফারেন্সে দেওঘর আসতে বলেন। রাণাঘাট থেকে হেমচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের ও মেদিনীপুর থেকে চারুভূষণ করণের চেষ্টায় দু'খানা রিজার্ভ বগী আসে। সেবারের সম্মেলনে যত বেশী লোক হয়েছিল-উৎসব ছাড়া আর কখনও তত লোক হয় নাই। এরপর কয়েকবার উৎসবে বিভিন্ন স্থান থেকে সৎসঙ্গীরা স্পেশাল ট্রেন ভাড়া ক'রে দেওঘর আসেন। রেলকর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ ব্যাপারে সংযোগ রক্ষা করতেন বীরেন্দ্র লাল মিত্র। এই স্পেশাল ট্রেনের আন্দোলনে সর্বভারতে যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি হয় তাতে রাষ্ট্রনায়কগণেরও বিশেষ দৃষ্টি আকৃষ্ট হয় সৎসঙ্গ আন্দোলনের উপরে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের মন্ত্রীগণ এবং দেশনেতৃবৃন্দ দলে দলে আশ্রমে আসতে আরম্ভ করেন ঠাকুর-দর্শনে। আসে লক্ষ লক্ষ নরনারী, দীক্ষা হতে থাকে হাজার হাজার।

#পর্ব: ১৫১ নববর্ষে স্বস্তিতীর্থ-মহাযজ্ঞ
 ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄
১৩৬০ সালের পৌষ মাসের ঋত্বিক-অধিবেশনে ঋত্বিগাচার্য্যদেব ঘোষণা করেন-'প্রতি উৎসবে কর্মীরা উৎসবার্ঘ্য এবং আনন্দবাজারের প্রয়োজনীয় উপকরণাদি সংগ্রহ করবেন। নববর্ষে এবং বিজয়ার পর স্বভাবতঃই শ্রীশ্রীঠাকুর-প্রণাম করতে অসংখ্য লোক আশ্রমে আসে। সুতরাং এই দু'বারই বিরাটভাবে উৎসব করা হবে। ৩০শে চৈত্র থেকে নববর্ষ উৎসব আরম্ভ হবে। এর নাম হবে 'নববর্ষ পুরুষোত্তম স্বস্তিতীর্থ-মহাযজ্ঞ'। বিজয়ার পর দ্বাদশীর দিন থেকে শ্রীশ্রীঠাকুরের জন্মমহোৎসব হবে। এই সময় থেকেই বিভিন্ন জেলার কর্মীবৃন্দ প্রতি উৎসবের বিভিন্ন দিনে আনন্দবাজার পরিচালনার পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করতে আরম্ভ করেন। তাঁরা নিয়ে আসেন স্পেশাল ট্রেনে, রিজার্ভ বগীতে, বাসে, লরিতে চাল, ডাল, তরিতরকারী, নরনারায়ণ সেবার প্রয়োজনীয় উপকরণাদি ভারে ভারে, বিপুল পরিমাণে। শ্রীশ্রীঠাকুরই ব'লে দেন-প্রতি দীক্ষাদাতা ঋত্বিক দু'শো টাকা, প্রতি অধ্বর্য্য একশ' টাকা এবং প্রত্যেক যাজক পঞ্চাশ টাকা ক'রে উৎসবার্ঘ্য সংগ্রহ করবে। যেমন শিব-চতুর্দশীতে সর্বভারতের অগণিত ভক্ত এসে উপনীত হন পবিত্র তীর্থ বৈদ্যনাথধামে শ্রীশ্রীবাবা বৈদ্যনাথজীর দর্শন ও পূজার কামনায়-তেমনি প্রতিটি উৎসবে দেশের প্রত্যেক রাজ্যের অসংখ্য ভক্ত শ্রীশ্রীঠাকুর-দর্শনে এবং তাঁর আশীর্বাদ লাভের কামনায় কাতারে কাতারে উপনীত হ'তে থাকে দেওঘর সৎসঙ্গ আশ্রমে। কখন কখন অর্দ্ধ লক্ষাধিক লোক সমাগমও হয় দয়ালের চরণতলে। এই বিশাল জনতার আহার্য্যের ও বাসোপযোগী স্থানের ব্যবস্থা করতে হয় সৎসঙ্গ কর্তৃপক্ষকে। বাড়ী ভাড়া ক'রে আর স্থান সঙ্কুলান করা যায় না। কলকাতা থেকে ডেকরেটার পার্টি এনে প্রত্যেক উৎসবেই সৎসঙ্গের বিভিন্ন বাড়ীতে বিরাট বিরাট সুদৃশ্য প্যাণ্ডেল তৈরী করিয়ে সকলের থাকার বন্দোবস্ত করতে হয়। আমন্ত্রণ ক'রে বা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে উৎসবে লোক আনতে হয় না-সর্বশক্তিমান ঠাকুরের অদৃশ্য অমোঘ আকর্ষণে প্রাণের ঐকান্তিক টানে স্বভাবতঃই অসংখ্য লোক এসে উপস্থিত হয় তাঁরই পুণ্য পাদপীঠতলে।

#ক্রমশ...

◕ গ্রন্থ : শ্রীমৎ আচার্য্য সতীশচন্দ্র গোস্বামী
ও সৎসঙ্গ আন্দোলন (১৯১৪-১৯৬৪)
◕ লেখক : শ্রীসচ্চিদানন্দ গোস্বামী (ঋত্বিক)
◕ ফলো করুন Satwata Katha | সাত্বত কথা

------------------------------------------------------------------
#শ্রীশ্রীঠাকুর #সৎসঙ্গ_আন্দোলন #সতীশচন্দ্র

পর্ব: ১৪৮ রেবতী সেনের মামলা ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄১৩৫৯ সালে শ্রীশ্রীঠাকুরের অনুমোদনক্রমে পূজনীয় বড়দার সঙ্গে শ্রীজীতেন্দ্র নাথ রায়ের...
17/08/2026

পর্ব: ১৪৮ রেবতী সেনের মামলা
 ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄
১৩৫৯ সালে শ্রীশ্রীঠাকুরের অনুমোদনক্রমে পূজনীয় বড়দার সঙ্গে শ্রীজীতেন্দ্র নাথ রায়ের কনিষ্ঠা কন্যা কমলা দেবীর বিবাহ দিয়ে আনেন শ্রীশ্রীবড়মা কলকাতা থেকে। ব্যাঙ্ক ডাকাতির কিছুদিন পরই সত্তর বৎসর বয়স্ক ডাক্তার রেবতী সেনের বিরুদ্ধে এক মামলা আরম্ভ করে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের কতিপয় ব্যক্তি। দুর্বৃত্তগণ ষড়যন্ত্র ক'রে পূজনীয় বড়দার বিরুদ্ধে দোষীকে ছিনিয়ে নেওয়ার ও প্রমাণ গোপন করার মিথ্যা অভিযোগে দু'টি মামলা দায়ের করে। পুলিশ বড়দাকে হাজতে আবদ্ধ করে। ছোড়দা পুলিশকে জানান-তিনিও বড়দার সঙ্গেই ছিলেন। ক্ষিপ্ত জনতা বে-আইনীভাবে অযথা বৃদ্ধ ডাক্তারকে ভীষণভাবে মারতে আরম্ভ করায় তার প্রাণের আশঙ্কা দেখে জনতাকে শান্ত হ'তে অনুরোধ জানান বড়দা এবং ডাক্তারকে পুলিশের হাতে সমর্পণ করতে বলেন। জনতা স'রে গেলে বড়দা আহত ডাক্তারকে সৎসঙ্গের চিকিৎসালয়ে নিয়ে যান উপযুক্ত চিকিৎসার জন্য। পুলিশ কোন কথা গ্রাহ্য না ক'রে বড়দার সঙ্গে ছোড়দাকেও হাজতে আবদ্ধ করে। দীর্ঘ সাতদিন তাঁদের হাজতে বাস করতে হয়। এ সময় ছোড়দা বড়দার যা সেবা করেছেন-তা অতুলনীয়। হাজতের অপরাপর কয়েদীরাও নির্দোষী এই দুই মহামান্য ব্যক্তির ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে তাঁদের যথেষ্ট সেবাপরিচর্যা করেছে। সাতদিন পর জামিন মঞ্জুর হয়। শ্রীশ্রীবৈদ্যনাথের দু'জন বিশিষ্ট পাণ্ডা জামিন হয়ে এঁদের মুক্ত ক'রে আনেন।

এই মামলা তদ্বিরেরও পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করে কেষ্ট সাউ। এই সময় বর্দ্ধমান থেকে মনোরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় তাঁর বন্ধু সদ্য দীক্ষিত সৎসঙ্গী জ্ঞানেন্দুবিকাশ গোস্বামী এম.এ., বি.এল. মহোদয়কে নিয়ে আশ্রমে আসেন এবং কেষ্টর সঙ্গে তাঁরাও আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকেন বড়দা-ছোড়দার মুক্তির জন্য। জামিনের পরই বিরুদ্ধপক্ষ তাঁদের মামলা চলাকালে দেওঘর থাকায় আপত্তি করে এবং শ্রীশ্রীঠাকুর সপরিবারে দুমকায় চলে যান। সেখানে একটি বাড়ী ভাড়া ক'রে তাঁরা ছ'মাস থাকেন। এ সময় দুমকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনেকেই শ্রীশ্রীঠাকুরের অনুরাগী ভক্ত হয়ে দীক্ষা গ্রহণ করেন এবং সমগ্র প্রদেশব্যাপী ব্যাপক প্রচার আরম্ভ হয়। বিহার রাজ্যের বিভিন্ন জেলার, এমনকি পাটনা নগরীরও বহু বিশিষ্ট নাগরিক দীক্ষা নেন। রাজ্য সরকার শেষ পর্যন্ত বড়দা-ছোড়দার বিরুদ্ধের উভয় মামলাই প্রত্যাহার করেন এবং তাঁহাদের পূর্ণ নির্দোষীতা স্বীকার ক'রে নেন। শ্রীশ্রীঠাকুর দুমকা থাকা কালেই দেওঘরে তাঁর জন্মোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এই বৎসরই সৎসঙ্গীগণ সর্বপ্রথম পূজনীয় বড়দার জন্মোৎসব করেন। শ্রীশ্রীঠাকুরের নির্দেশে বিরাটভাবে পৌষমাসে ঋত্বিক-অধিবেশন হয়। কয়েকজন পার্লামেন্টের মেম্বার ও রাজ্যসভার সদস্য এই অধিবেশনে যোগ দেন। শ্রীশ্রীঠাকুরও এই অধিবেশনের সময়ই সপরিবারে দেওঘরে ফিরে আসেন।

#ক্রমশ...

◕ গ্রন্থ : শ্রীমৎ আচার্য্য সতীশচন্দ্র গোস্বামী
ও সৎসঙ্গ আন্দোলন (১৯১৪-১৯৬৪)
◕ লেখক : শ্রীসচ্চিদানন্দ গোস্বামী (ঋত্বিক)
◕ ফলো করুন Satwata Katha/সাত্বত কথা

------------------------------------------------------------------
#শ্রীশ্রীঠাকুর #সৎসঙ্গ_আন্দোলন #সতীশচন্দ্র

১৬ আগস্ট ১৯৪৬ — আজ থেকে ৮০ বছর আগে। মুসলিম লীগের সভাপতি মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর নেতৃত্বে, পৃথক রাষ্ট্র ‘পাকিস্তান’ প্রতিষ্...
16/08/2026

১৬ আগস্ট ১৯৪৬ — আজ থেকে ৮০ বছর আগে। মুসলিম লীগের সভাপতি মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর নেতৃত্বে, পৃথক রাষ্ট্র ‘পাকিস্তান’ প্রতিষ্ঠার দাবিতে মুসলিম লীগের ডাকা ‘Direct Action Day’-কে কেন্দ্র করে কলকাতায় শুরু হয় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা—যা ইতিহাসে ‘The Great Calcutta Killings’ নামে পরিচিত।

সেই সংকটময় সময়ে আমাদের পূর্বপুরুষেরা সাহস, আত্মত্যাগ ও ঐক্যের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলে কলকাতাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার চক্রান্ত ব্যর্থ করে দিয়েছিলেন।

Direct Action Day এর রক্তাক্ত সময়ের প্রেক্ষাপটেই শ্রীশ্রীঠাকুর হিন্দুদের উদ্দেশে বলেছিলেন তাঁর এই তাৎপর্যপূর্ণ কথাগুলি।

#১৬আগস্ট সাত্বত কথা

 #গুরুই_ভগবানের সাকার মূর্তি ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄বেদান্তের সার কথা— “ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা।” গীতার সার কথা— ত্যাগ। এই দুটি বাক্...
16/08/2026

#গুরুই_ভগবানের সাকার মূর্তি
 ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄
বেদান্তের সার কথা— “ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা।” গীতার সার কথা— ত্যাগ। এই দুটি বাক্যের মধ্যেই যেন নিহিত হয়ে আছে সমস্ত শাস্ত্রের নির্যাস। মূল সত্যটি একবার জানা হয়ে গেলে শুধু গ্রন্থপাঠে আর কী লাভ? তখন প্রয়োজন সাধন-ভজন, ভগবানের জন্য কর্ম এবং সেই উপলব্ধিকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা। সরষে পিষে যেমন তেল বের করতে হয়, মৌলপাতা বেটে যেমন রং তৈরি করতে হয়, কাঠ ঘষে যেমন আগুন জ্বালাতে হয়—তেমনি সাধনার মধ্য দিয়েই জীবনের অন্তর্নিহিত সত্যকে প্রকাশ করতে হয়। লোকশিক্ষার প্রসঙ্গে ঠাকুর তাঁর প্রিয় নরেনকে যেন সেই কথাই বলেছিলেন।

কিন্তু উচ্চশিক্ষিত নরেন্দ্রনাথ দত্ত কী করে সহজে এমন একজন গ্রাম্য, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত মানুষকে গুরু হিসেবে মেনে নেবেন—যিনি বাংলা ভাষাটুকুও ঠিকমতো উচ্চারণ করতে পারেন না? তাই পরখ না করে নরেন্দ্রনাথের উপায় ছিল না।

মানুষের মধ্যে কী করে অসীম ঈশ্বর অবতার ধারণ করতে পারেন—এই প্রশ্নই একদিন নরেন্দ্রনাথ দত্তের মনে জেগেছিল। তাঁর প্রশ্নের উত্তরে ঠাকুরের কণ্ঠে ছিল নিরুদ্বেগ অথচ গভীর প্রত্যয়—“অবিশ্বাস করছিস নরেন, সংশয় রেখে ঈশ্বর-দর্শন হয় না রে। চার পোয়া দুধ এক পোয়ায় কখন দাঁড়ায় জানিস? আগুনের তাপে বারবার জ্বাল দিয়ে ক্ষীর করতে হয় তাকে। অহংকার, অবিশ্বাস, জাত্যভিমান, লোভ—এসবকে ভক্তি-বিশ্বাসের আগুনে পুড়িয়ে দে, তবেই দেখতে পাবি এই মানুষের শরীরের ভেতরেই লুকিয়ে আছেন অসীম ঈশ্বর। নিরাকারে তো মন স্থির থাকে না। বাণ শিখতে গেলে আগে কলাগাছে তাক করতে হয়, তারপর শরগাছে, তারপর সুতোয়। বাপের ফটোগ্রাফ দেখলে যেমন বাপের কথা মনে পড়ে, প্রতিমাও তেমনি সত্যের উদ্দীপনামাত্র। রূপের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে অরূপ-রতন। তিনিই দয়া করে আমাদের জন্য রূপ ধারণ করে আসেন।”

এই একই সত্যের প্রতিধ্বনি শোনা যায় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের বাণীতেও— “গুরুই ভগবানের সাকার মূর্তি।” তাঁর ভাষায়, অবতার মানে সদ্‌গুরু—One who comes from above the region of complexes and conveys the laws of being and becoming”—অর্থাৎ যিনি প্রবৃত্তিপরায়ণতার ঊর্ধ্বলোক থেকে অবতীর্ণ হয়ে জীবকে বাঁচা ও বাড়ার বিধি জানিয়ে যান। মহাপুরুষ শব্দের অর্থই যে মহা-পরিপূরণকারী—এই সত্য যেন এখানে নতুন করে উপলব্ধ হয়।

আমরা বাঁচতে চাই, বেঁচেও আছি। কিন্তু যে বেঁচে থাকার মধ্যে ঈশ্বরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কোনো গতি নেই, সেই জীবন কখনোই দুঃখ, হতাশা ও যন্ত্রণাকে অতিক্রম করতে পারে না। এইখানেই সদ্‌গুরুর প্রয়োজন। বৈষ্ণব সাহিত্যে তাই বলা হয়েছে—

জীব নিত্য কৃষ্ণদাস ইহা ভুলি গেলা।
মায়া পিশাচী তায় গলায় বেড়িলা।।

এই পঙ্‌ক্তির ব্যাখ্যায় ঠাকুর বলছেন—ঈশ্বর-উপাসনার বেদীই পুরুষোত্তম; তাই জীবকে বলা হয়েছে কৃষ্ণদাস, নিছক ঈশ্বরদাস বলে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। কারণ অমূর্ত, নিরাকার ঈশ্বরের উপাসনায় মানুষের প্রবৃত্তির গায়ে সরাসরি হাত পড়ে না; ফলে তার চরিত্র ও আচরণে প্রত্যক্ষ সংশোধনও ঘটে না। এটিই বলা হয়েছে নিত্যসম্বন্ধ—জীব যতই উন্নত স্তরে উঠুক না কেন, সে জীবই থেকে যায়; আর ঈশ্বর চিরকালই তার প্রভু। গীতাতেও একই সত্যের ইঙ্গিত রয়েছে—

ক্লেশোধিকতরস্তেষামব্যক্তাসক্তচেতসাম্‌।
অব্যক্তা হি গতির্দুঃখং দেহবদ্ভিরবাপ্যতে।।

যাঁরা নিরাকার রূপে আসক্ত, তাঁদের পক্ষে পরমার্থলাভ অত্যন্ত কষ্টসাধ্য; কারণ দেহধারী জীবের পক্ষে অব্যক্তের উপাসনার পথ দুঃখসাধ্য। আমরা যখন অসীম, অমূর্ত ভগবানের উপাসনা করি, তখন সেই উপাসনা অনেক সময় আমাদের নিজস্ব মানসিক প্রবৃত্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। নিরাকারে আত্মসমর্পণ করলেও তিনি তো এসে সরাসরি হাত ধরে আমাদের ভুল শুধরে দেবেন না। শাস্ত্রগ্রন্থ সামনে থাকলেও, সেই বাণীকে নিজের প্রবৃত্তি ও স্বার্থের অনুকূলে ব্যাখ্যা করে বিকৃত করে নেওয়া মানুষের পক্ষে খুবই সহজ। তাই জীবন্ত আদর্শে আত্মসমর্পণ ছাড়া ঈশ্বরকে উপলব্ধি করার পথ যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব বলতেন—ভক্তির জন্য সাকার, মুক্তির জন্য নিরাকার। কিন্তু মানুষের জন্মই তো মুক্তির জন্য—এমন প্রশ্ন করেছিলেন নরেন্দ্রনাথ। হেসে ঠাকুর উত্তর দিয়েছিলেন— “ভক্তি দেওয়াই কঠিন রে, ছুটি পায় না ভগবান, লেগে থাকতে হয় সবসময়। তাই মুক্তি দিতে আমি কাতর নই, ভক্তি দিতে কাতর হই।”

শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র এই কথারই যেন আরও বিস্তৃত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর শিক্ষায় মুক্তি বলতে বুঝতে হবে প্রবৃত্তিপরায়ণতা থেকে মুক্তি, স্বার্থপর কামনা-কলুষ থেকে মুক্তি। জন্ম-মৃত্যুর বন্ধনে আবদ্ধ থেকেও যদি প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে জীবন পরিচালিত না করি, তবে সেই প্রবৃত্তি থেকে মুক্তির মধ্য দিয়েই দুঃখ-কষ্টকে সহ্য করে অতিক্রম করা সম্ভব। আর এই পথ সম্ভব হয় মূর্ত, জীবন্ত আদর্শের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন—

নাস্তি বুদ্ধিরযুক্তস্য ন চাযুক্তস্য ভাবনা।
ন চাভাবয়তঃ শান্তিরশান্তস্য কুতঃ সুখম্‌।।

অর্থাৎ—যিনি ইষ্ট-ভাবনায় যুক্ত নন, তাঁর চিত্ত সংযত হয় না; আর চিত্ত সংযত না হলে পরমার্থিক বুদ্ধিরও উদয় হয় না। পরমার্থ-চিন্তাহীন মানুষের শান্তি নেই; আর শান্তি না থাকলে সুখই বা কোথায়?
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র বলতেন—যুক্ত অর্থাৎ যোগ ছাড়া মুক্তি মেলে না। জীবন্ত ইষ্টের সঙ্গে যে যতখানি প্রাণের টানে যুক্ত হয়, প্রবৃত্তির বন্ধন তার ততখানি শিথিল হয়; দোষ-দুর্বলতার নাগপাশও ক্রমে আলগা হতে থাকে।

তাই সাধ্য বলতে যদি কিছু থাকে, তবে তা ইষ্টানুরাগ—আর একেই বলা যায় ভক্তি। ভক্ত জানে, ভগবানের যা কিছু করণীয়, তা-ই তার করণীয়। এই জীবনের মধ্যেই লুকিয়ে আছে মুক্তির সম্ভাবনা—প্রবৃত্তিপরায়ণতা থেকে মুক্তি, সংকীর্ণ স্বার্থপরতা থেকে মুক্তি, আলস্য, অবসাদ ও অননুসন্ধিৎসা থেকে মুক্তি, অজ্ঞান থেকে মুক্তি, অপ্রেম থেকে মুক্তি, অপারগতা থেকে মুক্তি, অসাফল্য থেকে মুক্তি এবং ভীরুতা থেকে মুক্তি। কিন্তু ভক্তি ছাড়া এই সর্বতোমুখী মুক্তি কারও কখনো হয়েছে বলে জানা নেই। ইষ্টের জন্য নিরন্তর কর্ম করে চলার পথেই তাই জীবনের সার্থকতা, জীবনের পূর্ণতা। কবিগুরুর ভাষায়—

নিতে চাও বলে ফিরাও আমায়/পূর্ণ করিয়া লবে এ জীবন তব/মিলনেরই যোগ্য করে/আধা ইচ্ছার সংকট হতে বাঁচায়ে মোরে।

জন্ম-মৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্তিলাভের অর্থ যদি হয় সমস্ত কর্মকাণ্ডের সমাপ্তি, তবে সেই মুক্তির জন্য সাধনা একদিকে যেমন ঈশ্বরের কাছে সকাম প্রার্থনা, অন্যদিকে তেমনই একপ্রকার স্বার্থপরতাও বটে। কারণ প্রকৃত ভক্ত কেবল নিজের মুক্তির কামনায় সাধনা করে না। সে বারবার পৃথিবীতে ফিরে আসতে চায়—ঈশ্বর-বিমুখ মানুষকে বাঁচা ও বাড়ার পথে নিয়ে আসতে।

ইষ্টস্বার্থ প্রতিষ্ঠায় প্রভুর জন্য নিরন্তর কাজ করে চলার পথেই সে খুঁজে পায় জীবনের আনন্দ, জীবনের মুক্তি। সহজ করে বলতে গেলে—রসগোল্লার স্বাদ আস্বাদন করব বলেই আমরা রসগোল্লা খাই। কিন্তু নিজেই যদি রসগোল্লা হয়ে যাই, তবে তার স্বাদ বুঝব কী করে? এখানেই দ্বৈতবাদী বনাম অদ্বৈতবাদীর পথের একটি মৌলিক পার্থক্য। অদ্বৈতবাদী নির্বিশেষ ব্রহ্মে বিলীন হতে চায়; দ্বৈতবাদী চায় ঈশ্বরের ভক্তিরস আস্বাদন করতে। ভক্তির পথে সবচেয়ে নিরাপদ ভাব যেন এই— তুমি প্রভু, আমি তোমার নিত্য সেবক। রামপ্রসাদী সুরে বলতে হয়—

মাগো নির্বাণে কী আছে ফল/জলেতে মিশায় জল।/চিনি হওয়া ভালো নয়,/মন চিনি খেতে ভালোবাসে।

ঠাকুরের আদর্শে ‘সোহহং’ কেবলই অহংকারের কথা—ভক্ত মানুষ কখনো “আমিই সেই” বলে না। “জীব নিত্য কৃষ্ণদাস”— এটাই ছিল শ্রীশ্রীঠাকুরের জীবনকথার মূল সুর। ঠাকুর বলেছেন, আত্মা সচ্চিদানন্দময়। অর্থাৎ মুক্ত আত্মা কোনো অবস্থাতেই প্রকৃত অর্থে বদ্ধ নয়; তাকে মুক্ত করার জন্য পৃথক কোনো সাধনারও প্রয়োজন নেই। আত্মা চিরকাল গতিশীল—সে নিরন্তর এগিয়ে চলেছে ঈশ্বরের দিকে। এই এগিয়ে চলার মধ্যেই যে আনন্দ, যতক্ষণ সেই আনন্দ, ততক্ষণই মুক্ত জীবন। এই পথের পথিকের পথের শেষ নেই; তার আনন্দেরও অন্ত নেই—

পিছু পিছু ছুটি যত যাব আমি,
আরো আরো দূরে র'বে তুমি,
ফুরাবে না তুমি, ফুরাব না আমি...!

এই তো সেই পথ—হে অনন্ত, তুমি ফুরিয়ো না, আমিও ফুরাব না। এমন ভক্তের কাছে মুক্তি চাওয়াটাই যেন পাপ। এই সাধনার পথে মানুষকে ইষ্টকর্মে যুক্ত করে যোগ্য করে তুলতেই পুরুষোত্তম অমৃতবাণী নিয়ে যুগে যুগে আবির্ভূত হন।

শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ফ্যারেঞ্জাইটিসে আক্রান্ত হয়েছিলেন; সেই সময় মাঝেমধ্যে কাশতেন তিনি। অসুস্থতার মধ্যেও একটু সামলে নিয়ে বলেছিলেন— “ভৃগুর কোষ্ঠীতে আছে, আগের জন্মে গলরোগেই আমার মৃত্যু হয়েছিল, তাই এ জন্মেও গলায় একটু দোষ থেকে যাবে। আরও আছে, আগের জন্মে আমি নাকি ছিলাম গঙ্গাতীরে, সাধন-ভজন করতাম।”

#কে_তুমি, হে মহামানব?

তিনি ধরা দেন না, অথচ কখনো-কখনো ধরা পড়েন ভক্তের বোধচক্ষুতে। তাঁর লীলার গভীরতা যুক্তির সীমা ছাড়িয়ে যায়; উপলব্ধির দরজা খুলে যায় ভক্তির মধ্য দিয়ে।

্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেবের_১৪০তম তিরোধান দিবস। এক শতাব্দীরও অধিক কাল পেরিয়ে গেছে, তবু সেই মহাপ্রয়াণের দিনটি আজও যেন সমান জীবন্ত, সমান উজ্জ্বল। কারণ দেহের অবসান হলেও লীলার অবসান হয় না কখনো।

যে বাণী তিনি একদিন শুনিয়েছিলেন তাঁর প্রিয় শিষ্যকে, যে ইঙ্গিত তিনি রেখে গিয়েছিলেন সাকার ও নিরাকারের দ্বন্দ্ব অতিক্রমের পথে, তা আজও পথ দেখায় অগণিত অন্বেষণকারী হৃদয়কে। পুরুষোত্তমের সেই চিরন্তন লীলা কখনো একটি দেহের সীমানায় আবদ্ধ থাকে না; তা নতুন যুগে, নতুন রূপে, নতুন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বহমান থাকে চিরকাল। ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব থেকে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র—এই ধারাবাহিকতা যেন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, সদ্‌গুরুর আবির্ভাব কোনো একক ঘটনা নয়; তা এক অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ, যা যুগ থেকে যুগান্তরে প্রসারিত হয়ে চলে। অনন্তের সেই লীলা অনন্তের পথেই বহমান ছিল, আছে এবং থাকবে। আর আমরা—তাঁর ভক্তকুল—সেই অসীম প্রবাহেরই এক ক্ষুদ্র অথচ অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আসুন, সেই রথের রশি দৃঢ় হাতে ধারণ করি। ইষ্টের কাজে নিজেদের যুক্ত করি। প্রবৃত্তির বন্ধন অতিক্রম করে বাঁচা ও বাড়ার পথে এগিয়ে চলি। সেই পথেই খুঁজে নিই জীবনের সার্থকতা, জীবনের পূর্ণতা।

 ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄
লেখক— মলয় কুমার ঘোষ
গ্রাফিক্স— Satwata Katha | সাত্বত কথা

পর্ব: ১৪৭ জমি সংগ্রহের চেষ্টা ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄১৯৫১ সালেই কর্তৃপক্ষ ঠিক করেন-বর্দ্ধমান জেলায় সুবিধাজনক কোন স্থানে এক সঙ্গে লাগ...
16/08/2026

পর্ব: ১৪৭ জমি সংগ্রহের চেষ্টা
 ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄
১৯৫১ সালেই কর্তৃপক্ষ ঠিক করেন-বর্দ্ধমান জেলায় সুবিধাজনক কোন স্থানে এক সঙ্গে লাগোয়া অন্ততঃ তিন হাজার বিঘা জমি সংগ্রহ ক'রে সেখানে স্থায়ী আশ্রম প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করতে হবে। পানাগড়ে ভারত সরকারের দু'হাজার বিঘা জমি আছে। সৈন্য বিভাগের প্রয়োজনে পূর্বে এই জমি সরকার দখল করেন। সুশীলচন্দ্র দিল্লী গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা ক'রে সৎসঙ্গের পরিকল্পনা তাঁকে জানিয়ে এই জমি নেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রধানমন্ত্রী রাজীও হয়েছিলেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় আটশত বিঘার অধিক জমি দিতে স্বীকৃত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেখানে আর জমি নেওয়া সম্ভব হ'ল না। তারপর জমি সন্ধানের ভার দেন পূজনীয় বড়দা বর্দ্ধমান শহরের অচ্যুত ইষ্টনিষ্ঠ পরমভক্ত কর্মবীর সৎসঙ্গী শ্রীমনোরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের উপর। মনোরঞ্জনের আদিবাস ছিল ঢাকা জেলায়। বড়লোকের ছেলে, কলকাতায় নিজের দু'খানা বাড়ী ভাড়া খাটে, আসানসোল অঞ্চলে নিজেদের কয়লার খনি ছিল, বর্দ্ধমান শহরে মোটর রিপেয়ারিং কারখানা ও রিক্সার ব্যবসা আছে তাঁর। লব্ধপ্রতিষ্ঠ, সত্যসন্ধ, পরোপকারী, মহাপ্রাণ এই মনোরঞ্জন। দুর্জয় সাহসী, পরক্রমী ভক্তির অধিকারী-ঠাকুরের জন্য প্রয়োজন হ'লে প্রাণও দিতে পারেন। এমনই প্রবৃত্তি-পরভেদী উদগ্র ভালবাসার টান তাঁর ঠাকুরের প্রতি। বহু পূর্বেই ব্রহ্ম-নিবাসী সৎসঙ্গী তাঁর ভগ্নিপতি শ্রীযোগেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তিনি ঠাকুরের কথা অনেক শুনেছেন। পাবনা আশ্রম থেকে যখন শ্রীঅমর ঘোষ বর্দ্ধমানে প্রচারকার্য্যে আসেন-সেই সময় তাঁর কাছে শ্রীশ্রীঠাকুরের অমিয় মন্ত্রে দীক্ষা গ্রহণ করেন মনোরঞ্জন। তাঁর আপ্রাণ ঐকান্তিক চেষ্টায়, দরদী লোকসেবায় জেলায় সর্বত্র ছড়িয়ে পরে পুরুষোত্তম-নামযজ্ঞের হোমশিখা।।

জমির সন্ধানের দায়িত্ব নিয়ে আশ্রম থেকে রওনা হলেন মনোরঞ্জন বড়দার নির্দেশে-হরি গোঁসাইকে পাঠালেন বড়দা তাঁর সঙ্গে জমি দেখতে। দয়াল ঠাকুরের নামীয় চিঠির উত্তরের দায়িত্ব দিলেন বড়দা এই সময় শ্রীভূপেন্দ্রনাথ ভাদুড়ীর উপরে। কালনা শহরে, গ্রাম কালনায় ও অগ্রদ্বীপে বহু জমি দেখা হ'ল। এই উপলক্ষে বর্দ্ধমান জেলার সর্বত্র ঘুরতে লাগলেন মনোরঞ্জন হরি গোঁসাইকে সঙ্গে নিয়ে। আসানসোল, দুর্গাপুর, গুসকরা, ন-নগর, গুপ্তিপুর, কালনা, গ্রাম কালনা, বৈদ্যপুর, নবদ্বীপ, পাটুলি, অগ্রদ্বীপ, কাটোয়া-সর্বত্র বহু জনসমাগমে বিরাট বিরাট জনসভা, আলোচনা বৈঠক, সৎসঙ্গ অধিবেশন প্রভৃতির অনুষ্ঠান হতে থাকলো। তারা যখন যেখানেই উপস্থিত হয়েছে-সেখানেই তখন এত লোক এসেছে যে পৃথক বাড়ীর ও আনন্দবাজার করার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য্য হয়ে পড়েছে। সহস্র সহস্র লোকের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে-শত শত লোক সৎমন্ত্রে দীক্ষা গ্রহণ ক'রে জীবন সার্থক করেছে। শ্রীশ্রীঠাকুর আশ্রম থেকে শ্রীঅজয়নাথ গাঙ্গুলীকে পাঠান অগ্রদ্বীপে। অজয়নাথ সেখানে গিয়ে শ্রীস্বরাজ রায়ের বাড়ী কিছুদিন থেকে ঐ অঞ্চলে ইষ্টপ্রচারে আত্মনিয়োগ করেন। মনোরঞ্জনও হরি গোঁসাইকে নিয়ে মাঝে মাঝে সেখানে যেতেন।

বিপ্লবী রাজনৈতিক কর্মীদের একটা প্রধান ঘাঁটি অগ্রদ্বীপ। এই বিপ্লবপন্থীগণ বৃটিশ আমলে পুলিশের সঙ্গেও সশস্ত্র সংগ্রাম করেছে। সৎসঙ্গ কর্মিগণের আলাপে-আলোচনায় ও মধুর ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে এরা অধিকাংশই শ্রীশ্রীঠাকুরের চরণে আত্মসমর্পণ করেন। এতগুলি বিপ্লবী দলে থাকায় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের দৃষ্টি পড়ে সৎসঙ্গের কর্মীদের উপর। কিছুদিন অনুসরণ ক'রে শেষে তারা ক্ষান্ত হয়। ১৩৫৯ সালের ২৩শে ফাল্গুন শনিবার বড়দা গ্রাম কালনা ও অগ্রদ্বীপ গিয়ে জমি দেখে আসেন এবং ১৩৬০ সালের ১২ই শ্রাবণ মঙ্গলবার শ্রীযুক্তা বড়বৌদিকে সঙ্গে নিয়ে তিনি কালনায় জমি দেখতে যান। বড়দা বর্দ্ধমান জেলায় পদার্পণ করায় সমস্ত জেলার সৎসঙ্গীরা উদ্দীপিত হ'য়ে ওঠে। তাদের কাছে শুনে বড়দার চলার পথে প্রত্যেক ষ্টেশনে সহস্র সহস্র নরনারীর ভীড় হয় পুরুষোত্তম-নন্দনের দৈবী বিভামণ্ডিত অপরূপ সুন্দর মূর্তি শুধুমাত্র একবার চোখে দেখে জীবন সার্থক করার প্রত্যাশায়। শুধু চোখ দুটি দেখলেই মনে হয় অর্থব্যয়, পরিশ্রম সার্থক হ'ল। প্রতি ষ্টেশনে লোকের চাপে ট্রেন কিছু বেশীক্ষণ দাঁড় করাতে হয়। বড় বড় ষ্টেশনে ষ্টেশন কর্তৃপক্ষ প্লাটফর্মে চেয়ার দিয়ে বড়দাকে বসিয়ে সমাগত জনতার দেখার ও প্রণাম করার সুবিধা ক'রে দিয়েছেন। কালনায়, গ্রাম কালনায় ও অগ্রদ্বীপে দূর-দূরান্তর থেকে ভক্তরা বড়দার ভোগের এবং আনন্দবাজারের জন্য প্রচুর উপকরণাদি নিয়ে এসেছেন। বড়দার ভোগ রান্না করেছে হরি গোঁসাই মনোরঞ্জনের সহযোগীতায়। বরাবরই এই জেলার সর্বত্র আনন্দবাজার চালিয়েছেন গোবিন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্তোষ মুখোপাধ্যায় ও গিরিজা মুখোপাধ্যায়-এই তিন সহ-প্রতিঋত্বিক।

#ক্রমশ...

◕ গ্রন্থ : শ্রীমৎ আচার্য্য সতীশচন্দ্র গোস্বামী
ও সৎসঙ্গ আন্দোলন (১৯১৪-১৯৬৪)
◕ লেখক : শ্রীসচ্চিদানন্দ গোস্বামী (ঋত্বিক)
◕ ফলো করুন Satwata Katha/ সাত্বত কথা

------------------------------------------------------------------
#শ্রীশ্রীঠাকুর #সৎসঙ্গ_আন্দোলন #সতীশচন্দ্র

পর্ব: ১৪৫ উৎসব বিকেন্দ্রীকরণ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄১৩৫৮ সালের ঋত্বিগাচার্য্যদেব ৪০ বদ্রীদাস টেম্পল স্ট্রীটের ভাড়া বাড়ীতে কলকাতা সৎস...
15/08/2026

পর্ব: ১৪৫ উৎসব বিকেন্দ্রীকরণ
 ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄
১৩৫৮ সালের ঋত্বিগাচার্য্যদেব ৪০ বদ্রীদাস টেম্পল স্ট্রীটের ভাড়া বাড়ীতে কলকাতা সৎসঙ্গ মন্দিরের উদ্বোধন করেন। মন্দির পরিচালনায় নিযুক্ত হলেন শ্রীবীরেন্দ্রলাল মিত্র ও শ্রীকিরণচন্দ্র মুখোপাধ্যায়। পূজনীয় বড়দার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার জন্য পূজনীয়া বড় বৌদিও পুত্রকন্যাদিসহ কলকাতায় গিয়ে ঐ বাড়ীতেই থাকতে আরম্ভকরেন। দেওঘরের বাসায় সহচরবৃন্দসহ বড়দা একাই থাকতেন। এই সময়ই দেওঘরেও ওয়েষ্ট এণ্ড হাউসে মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তার পরিচালক নিযুক্ত হন শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র চক্রবর্তী। এই বছরের শেষভাগে শ্রীশ্রীঠাকুরের শরীর অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়ে। গরমও পড়ে অসহ্য। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় মানুষের অবস্থা শঙ্কটাপন্ন হয়। দয়াল ঠাকুরের অসুস্থতায় চিন্তাভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে সৎসঙ্গী জনগণ। ১৩৫৯ সালের ১লা বৈশাখ থেকে শ্রীশ্রীঠাকুরের সুস্থতা কামনায় মন্দিরগৃহে ত্রয়োদশ দিবসব্যাপী অহোরাত্র নাম সঙ্কীর্তনের ব্যবস্থা করেন শ্রীযুক্ত বড়দা। পরিচালনা করেন সম্পাদক সুধীর কুমার। তের দিনব্যাপী দিবারাত্র উদ্দাম কীর্তন চলতে থাকে। প্রায় সব সময় সুধীর বসু ও হরি গোঁসাই কীর্তনে উপস্থিত থেকে প্রতি দুই ঘন্টা পর পর বিভিন্ন দলকে ডেকে এনে কীর্তন ব্যবস্থা করতেন। দেওঘরের প্রতিটি সৎসঙ্গী এই নামযজ্ঞে যোগদান করেন এবং বারটি দলে বিভক্ত হয়ে দীর্ঘদিন নিরবচ্ছিন্ন নাম-সঙ্কীর্তনে এক পবিত্র পরিবেশের সৃষ্টি ক'রে রাখেন। গোঁসাইও প্রায় সব সময়ই কীর্তনে থাকতেন। কীর্তন চলাকালেই মুশলধারে বৃষ্টি হয়। শ্রীশ্রীঠাকুর ভক্তদের আকুল প্রার্থনায় দয়া ক'রে রোগমুক্ত হয়ে তাদের দুশ্চিন্তার অবসান করলেন। ১৩৫৮ সালে পরীক্ষামূলকভাবে উৎসব বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়। সেবার বিভিন্ন স্থানে তত্রত্য সৎসঙ্গীরা নিজেরাই করেন উৎসবানুষ্ঠান। কলকাতাতেও এবার শ্রীবীরেন্দ্রলাল মিত্রের উদ্যোগে বিরাটভাবে শ্রদ্ধানন্দ পার্কে উৎসব করা হয়। সর্বত্র কেন্দ্র থেকে উপযুক্ত বক্তা ও কর্মী না পাঠালে কাজ যথাযথ ফলপ্রসূ হয় না দেখে উৎসব বরাবর কেন্দ্র সৎসঙ্গেই করা হবে সাব্যস্ত হয়। শুভ তালনবমীতে শ্রীশ্রীঠাকুরের পবিত্র জন্মতিথি উৎসবও আশ্রমেই হবে এবং ৩০শে ভাদ্র ঠাকুরের জন্ম তারিখে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভক্তরা উৎসব করবেন-এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কেন্দ্রীয় কর্মীরা প্রতিটি কেন্দ্রে গিয়ে জনসভা ও আলোচনা বৈঠকের অনুষ্ঠান ক'রে প্রাণচাঞ্চল্য জাগিয়ে তোলেন সর্বত্র-দেশব্যাপী আলোড়নের সৃষ্টি হয়।

পর্ব: ১৪৬ ব্যাঙ্ক-ডাকাতির মিথ্যা অভিযোগ
 ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄
ত্রয়োদশ দিসবব্যাপী নামযজ্ঞ সমাপ্ত হওয়ার কয়েকদিন পরই দেওঘরে একটা ব্যাঙ্ক ডাকাতি হয়। কয়েকজন দুর্বৃত্ত রিভলবার নিয়ে ব্যাঙ্ক খোলা অবস্থায় কর্মচারীদের আক্রমণ ক'রে কয়েক লক্ষ টাকা লুঠে নিয়ে ট্যাক্সিযোগে পালাতে আরম্ভ করে। ব্যাঙ্কের পাশেই থানা। সঙ্গে সঙ্গে থানায় খবর পৌঁছায় এবং সশস্ত্র পুলিশবাহিনী ডাকাতদের অনুসরণ করে। দুর্বৃত্তদের ট্যাক্সি বিকল হয়ে পড়ায় তারা গাড়ী থেকে নেমে দৌড়ে পালাতে থাকে। পুলিশ তাদের অনুসরণ করে। ডাকাতরা ছুটতে ছুটতে সৎসঙ্গ এলাকায় ঢুকে জনৈক প্রৌঢ় সৎসঙ্গীর উন্মুক্ত গৃহাভ্যন্তরে আত্মগোপন করে। পুলিশ ঐ বাড়ীতে এসে দুর্বৃত্তদের বন্দী ক'রে ব্যাঙ্কের যাবতীয় টাকা উদ্ধার করে। দুর্বৃত্তরা ঐ বাড়ীতে প্রবেশ করায় পুলিশ গৃহস্বামীকে গ্রেপ্তার করে। তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ-ওদের কাউকে চেনেনও না। দীর্ঘদিন মামলা চলে। ঐ নিরীহ নির্দোষী সঙ্ঘকর্মীর পক্ষে মামলার তদ্ধির করতে থাকেন হরেন বসু। মামলা চলাকালেই তাঁর মৃত্যু হওয়ায় শ্রীশ্রীঠাকুর এই কাজের ভার দেন নবাগত ভক্ত কেষ্ট সাউয়ের উপর। কেষ্ট ঠাকুরকে বলে-“এ সম্বন্ধে আমার তো কোনই জ্ঞান নেই। আমি কি পারবো।” ঠাকুর বলেন- “Sincere, active ও earnest যে-জীবনের সর্বক্ষেত্রেই তার সফলতা আসতে বাধ্য।" আরম্ভ হয় কেষ্ট সাউয়ের কাজ এবং তার যোগ্যতার ও দক্ষতার প্রথম প্রমাণ পায় আশ্রমবাসীরা এই মামলায়। সসম্মানে বেকসুর মুক্তিলাভ করেন ঈশদানন্দ বিশ্বাস-নিরীহ প্রৌঢ় ভক্ত-যিনি দীর্ঘ চল্লিশ বৎসর কাল শ্রীশ্রীঠাকুরের আদেশে গভীর নিষ্ঠার সঙ্গে তপোবনে শিক্ষকতা ক'রে এসেছেন। এই ব্যাঙ্ক লুণ্ঠন মামলায় সৎসঙ্গের একজন কর্মী অভিযুক্ত হওয়ায় স্থানীয় একদল লোক সৎসঙ্গের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করতে আরম্ভ করে এবং পথে-ঘাটে-এমনকি, দলবদ্ধভাবে আশ্রমে এসেও সৎসঙ্গীদের নানাভাবে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করতে থাকে। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় আশ্রম-পারিপার্শ্বিক দুর্বৃত্ত দলও।

#ক্রমশ...

◕ গ্রন্থ : শ্রীমৎ আচার্য্য সতীশচন্দ্র গোস্বামী
ও সৎসঙ্গ আন্দোলন (১৯১৪-১৯৬৪)
◕ লেখক : শ্রীসচ্চিদানন্দ গোস্বামী (ঋত্বিক)
◕ ফলো করুন Satwata Katha/ সাত্বত কথা

------------------------------------------------------------------
#শ্রীশ্রীঠাকুর #সৎসঙ্গ_আন্দোলন #সতীশচন্দ্র

স্বাধীনতা মানে স্বেচ্ছাচারিতা নয়—ভালোবাসা, আত্মনির্ভরতা, পারস্পরিক সেবা, ন্যায়, সহযোগিতা ও প্রভুর প্রতি আত্মনিবেদনের ম...
15/08/2026

স্বাধীনতা মানে স্বেচ্ছাচারিতা নয়—ভালোবাসা, আত্মনির্ভরতা, পারস্পরিক সেবা, ন্যায়, সহযোগিতা ও প্রভুর প্রতি আত্মনিবেদনের মধ্যেই নিহিত প্রকৃত স্বাধীনতা। স্বাধীনতা ভোগ করা অবশ্যই অধিকার; কিন্তু গুরুর অধীনে থেকে সেই স্বাধীনতা আরও অধিক উপভোগ্য।
শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীগুলিতে স্বাধীনতার সেই গভীর, মানবিক ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্যই প্রতিফলিত হয়েছে।

Satwata Katha | সাত্বত কথা

প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিক চেতনা ও গৌরবময় সংস্কৃতির আলোয়—স্বদেশের প্রতি জাগুক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ।...
15/08/2026

প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিক চেতনা ও গৌরবময় সংস্কৃতির আলোয়—স্বদেশের প্রতি জাগুক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ।

বন্দে মাতরম্ 🇮🇳

— Satwata Katha | সাত্বত কথা

পর্ব: ১৪৩ জনার্দনের নাম-মহিমা অনুভূতি ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄অশোক আশ্রমে কীর্তন হচ্ছে রাধারমন জোয়ারদারের ঘরে। বহু সৎসঙ্গী একত্র হ...
14/08/2026

পর্ব: ১৪৩ জনার্দনের নাম-মহিমা অনুভূতি
 ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄
অশোক আশ্রমে কীর্তন হচ্ছে রাধারমন জোয়ারদারের ঘরে। বহু সৎসঙ্গী একত্র হয়ে উচ্চনামরোলে মুখর ক'রে তুলেছে আকাশ-বাতাস। এ যুগ সে যুগ নয়, এ কীর্তনও সে কীর্তন নয়। জয়ঢাক, আর বাজে না, হয় না আর উদ্দাম উদ্দণ্ড তাণ্ডব। কীর্তনের ঋষিরা দু'জন চ'লে গেছেন লোকচক্ষুর অন্তরালে। একজন মাত্র আছেন, অতি বৃদ্ধ তিনি-সাথীহারা, সঙ্গীহারা, ব্যথাকাতর হয়ে। বসে আছেন গোঁসাই চুপচাপ কীর্তনের মাঝখানে। ব'সেই কীর্তন হচ্ছে। জনার্দন মুখার্জী কঠিন বাস্তববাদী, তীব্র যুক্তিবাদী মন তার। ঠাকুরকে পরম ও চরম বিপ্লবপন্থী বুঝেই সে গ্রহণ করেছে। মানুষ যে কীর্তনে কেন পাগলের মত চীৎকার করে, কি রস আছে এতে, কি পায় তারা মাথায় ঢোকে না জনার্দনের। এদের সে ভাবের পাগল বলেই মনে করে। দেখতে এসেছে-কি করছে পাগলের দল। এসে দাঁড়িয়েছে দূরে। চিন্তা করছে-এদের পাগলামীর কারণ কি? কি লাভ এতে?

হঠাৎ হুঙ্কার ক'রে উঠে দাঁড়ালেন গোঁসাই সেই অতীতেরই মত। বৃদ্ধ হ'লেও পুরুষসিংহের এই প্রবল গর্জনে থর থর ক'রে কেঁপে উঠলো ঘর, বাড়ী, পায়ের তলার মাটি পর্যন্ত-কেঁপে উঠলো প্রতিপ্রত্যেকের সর্ব অবয়ব। সকলেই লাফিয়ে উঠলো, আরম্ভ হ'ল উদ্দাম নৃত্য। ছুটে গিয়ে জনার্দনের বুকে হাত দিলেন গোঁসাই-কাঁপতে লাগলো তার সমস্ত শরীর, ঘুরতে লাগলো বিশ্ব-দুনিয়া তার চোখের সামনে। মনে হ'ল যেন, দশ সহস্র ভোল্টেজ তীব্র বিদ্যুতপ্রবাহ বয়ে গেল তার শরীরের ভিতর দিয়ে-লক্ষ আলোক বীচিমালার কম্পনে নৃত্য দেখতে দেখতে জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়লো জনার্দন গোঁসাইয়ের পায়ের তলায়। বহুক্ষণ এইভাবেই কেটে গেল। কীর্তন চলছে একভাবে। গোঁসাই পা ছোঁয়ালেন জনার্দনের বুকে-ধীরে ধীরে জ্ঞান ফিরে পেল সে, আকুল হয়ে কাঁদতে লাগলো গোঁসাইয়ের পা ধ'রে। ভেতরে ভেতরে অনবরতঃ নাম জপ চলতে আরম্ভ করেছে তার, নয়নে প্রবল অশ্রুধারা, সহস্র চেষ্টাতেও প্রতিরোধের শক্তি নাই। বুঝলো জনার্দন-কীর্তন কি? কীর্তনের শক্তি কতখানি? কেন মহাপ্রভুর কীর্তন প্রচার? কেন ঠাকুরের কীর্তন দিয়েই লীলারম্ভ? পূর্বেও, যখনই কীর্তনে জোর লাগতো না, গোঁসাই যেখানেই থাকুন-ছুটে এসে ভক্তদের পেছনে দাঁড়িয়ে শুধু হাত কাঁপাতেন আর ক্রমশঃই এই কম্পনের তালে তালে উদ্দাম হয়ে উঠতো ভক্তবৃন্দ, সান্নিধ্যে তাপ প্রবাহিত হ'তো, স্পর্শে আগুন জ্বলতো। গোঁসাইয়ের এই স্পর্শের মধুর অনুভূতি চির জ্বলন্ত হয়ে আছে জনার্দনের মানসপটে। অবিচ্ছিন্ন ইষ্টনেশায় নামময় হ'য়ে থাকলে সাধকের নিজের ভেতরে যে অসীম শক্তির জাগরণ হয়, যে অপরিসীম তাপ সৃষ্টি হয় তার স্পর্শে সেই শক্তি, সেই তাপ অপরের দেহে সঞ্চারিত হ'য়ে স্বভাবতঃই তাকেও শক্তিমান ক'রে তোলে। তাই, "ভজ সাধু সমাগমম্"

পর্ব: ১৪৪ সম্পাদক সুধীরকুমার বসু
 ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄
শ্রীবঙ্কিম চন্দ্র রায় সবসময় শ্রীশ্রীঠাকুরের কাছেই থাকেন-মুহূর্তের অবকাশ নাই তাঁর, নাই তাঁর অন্য কোন কাজে যাওয়ার-অন্য কোন দিকে মন দেবার সুযোগ বা সময়। তাই তিনি সৎসঙ্গের সেক্রেটারীর দায়িত্ব থেকে অবসর গ্রহণ করেন ও সুধীর 'কুমার সেই পদে নির্বাচিত হন। কলকাতার কালীঘাট চিলড্রেনস পার্কের উৎসবে উপস্থিত থেকে তিনি শ্রীশ্রীঠাকুরের বিষয় অনেকখানি জানতে পারেন। ১৯৪৮ সালের ২৭শে জুন তিনি টাটানগরে তাঁর আত্মীয় নগেন্দ্রনাথ সেনের আমন্ত্রণে তাঁর বাড়ীতে যান। এর পূর্বে ভারত সরকারের এম জি-ও ব্রাঞ্চের সিভিল গেজেটেড অফিসারের পদে তিনি চাকরী করতেন। কাজের জন্যই ভারতের বহু স্থানে ঘুরেছেন তিনি। টাটায় নগেন্দ্রনাথ সেনের ও ননীগোপাল চক্রবর্তীর কাছে বিশদভাবে শ্রীশ্রীঠাকুরের কথা জেনে ২৯শে জুন তিনি দীক্ষা নেন। পরদিন কলকাতায় নিজের বাসায় যান। তাঁর পরিবারের অন্য কেউ তখন দীক্ষা নেননি। ৬ই জুলাই রাত্রে কলকাতা থেকে রওনা হয়ে ৭ই ভোরে তিনি এসে পৌঁছান আশ্রমে। এম.এ. পাশ মিষ্টভাষী, বুদ্ধিমান এই সুদর্শন যুবকটিকে সকলেরই ভাল লাগে, তাঁরও খুবই ভাল লাগে আশ্রমের মনোরম পরিবেশ এবং সর্বোপরি দয়াল ঠাকুরের সান্নিধ্য। পরবর্তী অক্টোবর মাসের ঋত্বিক অধিবেশনের সময় আশ্রমে এসে তিনি শ্রীশ্রীঠাকুরের সেবার জন্য আশ্রমেই থেকে গেলেন। পূজনীয় বড়দা তাঁকে নিযুক্ত করলেন কলোনীর কাজে। ১৩৫৭ সালের মধ্যভাগে তিনি সৎসঙ্গের সেক্রেটারীর গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেন। বহুদিন তিনি বড়দার বাড়ীতেই ছিলেন। তারপর তাঁর পরিবারবর্গ আশ্রমে এলে তিনি পৃথক বাসা ক'রে থাকতে আরম্ভ করেন।

#ক্রমশ...

◕ গ্রন্থ : শ্রীমৎ আচার্য্য সতীশচন্দ্র গোস্বামী
ও সৎসঙ্গ আন্দোলন (১৯১৪-১৯৬৪)
◕ লেখক : শ্রীসচ্চিদানন্দ গোস্বামী (ঋত্বিক)
◕ ফলো করুন Satwata Katha/সাত্বত কথা

------------------------------------------------------------------
#শ্রীশ্রীঠাকুর #সৎসঙ্গ_আন্দোলন #সতীশচন্দ্র

Address

Burdwan

Telephone

+917679718761

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Satwata Katha/সাত্বত কথা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to Satwata Katha/সাত্বত কথা:

Shortcuts

Share