15/08/2026
চুনপলাশী উচ্চ বিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাধীনতা দিবস পালিত হল
আজ ১৫ ই আগস্ট সারা দেশের পাশাপাশি চুনপলাশী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হলো। সকাল থেকেই বিদ্যালয় চত্বরে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
অনুষ্ঠানের বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
পতাকা উত্তোলন ও স্লোগান
সকাল ঠিক আটটায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের সূচনা করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রী তাপস কুমার রায়। পতাকা উত্তোলনের সঙ্গে সঙ্গেই উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের সম্মিলিত কণ্ঠে "বন্দে মাতরম", "ভারত মাতা কি জয়" এবং "জয় হিন্দ" স্লোগানে সমগ্র চত্বর মুখরিত হয়ে ওঠে।
NCC ক্যাডেটদের প্যারেড
পতাকা উত্তোলনের পরপরই বিদ্যালয়ের এনসিসি (NCC) ক্যাডেটরা একটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও দৃষ্টিনন্দন কুচকাওয়াজ (প্যারেড) প্রদর্শন করে জাতীয় পতাকাকে অভিবাদন জানায়। ক্যাডেটদের নিখুঁত পদসঞ্চালনা ও নিয়মানুবর্তিতা উপস্থিত দর্শকদের ভূয়সী প্রশংসা লাভ করে।
প্রধান শিক্ষক শ্রী তাপস কুমার রায় এক তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণ দেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসা মূল বিষয়গুলি ছিল:
স্বাধীনতা কী ও এর প্রয়োজনীয়তা:
স্বাধীনতা হলো আত্মবিকাশ, মতপ্রকাশ এবং স্বাধিকার রক্ষার মৌলিক ভিত্তি। পরাধীনতার গ্লানি মানুষের সৃজনশীলতাকে ধ্বংস করে দেয়; তাই সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রগতির জন্য একটি মুক্ত পরিবেশ একান্ত প্রয়োজন।
আত্মবলিদানের মাহাত্ম্য ও আত্মত্যাগ:
তিনি উল্লেখ করেন, দেশমাতৃকার সেবা এবং জাতির সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের কোনো বিকল্প নেই। নিজের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের জন্য কিছু করার মধ্যেই জীবনের সার্থকতা নিহিত।
শহীদদের স্মরণ, সম্মান ও পরিচিতির গুরুত্ব: প্রধান শিক্ষক বলেন, শহীদদের নাম ও তাঁদের চরম আত্মবলিদানের ইতিহাস জানা প্রতিটি ভারতবাসীর কর্তব্য। ক্ষুদিরাম বসু, ভগৎ সিং, মাতঙ্গিনী হাজরা, চন্দ্রশেখর আজাদ, সূর্য সেন এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মতো বহু বীর সেনানীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই স্বাধীনতা। তাঁদের শ্রদ্ধা জানানো মানে দেশের স্বাধীনতার ভিত্তিকে সম্মান জানানো।
ছাত্র ও সাধারণ মানুষের দেশাত্মবোধ:
ছাত্ররাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই তাদের মধ্যে শৈশব থেকেই দেশের সংবিধান, সংস্কৃতি ও দায়িত্ববোধের প্রতি আনুগত্য গড়ে তোলা জরুরি। জনগণের মধ্যে দেশাত্মবোধ জাগ্রত থাকলে দেশ দুর্নীতি, অন্যায় ও অভ্যন্তরীণ সমস্যা অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে পারে।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একতার গুরুত্ব:
ভারতের আসল শক্তি হলো "বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য"। ধর্ম, জাতি, ভাষা ও বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে একত্রিত না হলে দেশের সার্বভৌমিকতা দুর্বল হয়ে পড়বে, তাই জাতীয় সংহতি বজায় রাখা অপরিহার্য।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান:
বক্তিতা পর্বের শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। ছাত্র-ছাত্রীরা একের পর এক দেশাত্মবোধক গান ও সেই সুরের মূর্ছনায় চমৎকার দলগত নৃত্য পরিবেশন করে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস ও ভারতীয় ঐতিহ্যকে জীবন্ত করে তোলে।
জাতীয় সংগীত, সমাপ্তি ও জিলিপি বিতরণ:
অনুষ্ঠানের শেষভাগে উপস্থিত সকলে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত "জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে" পরিবেশন করেন। প্রধান শিক্ষকের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষে স্বাধীনতা দিবসের চিরাচরিত ঐতিহ্য মেনে উপস্থিত সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে জিলিপি বিতরণ করা হয়। আনন্দ ও শ্রদ্ধার সমন্বয়ে পুরো অনুষ্ঠানটি এক অনন্য মাত্রা লাভ করে।