Uttishthata Jagrata Prapya Varan Nibodhata

Uttishthata Jagrata Prapya Varan Nibodhata

Share

Girish Ghosh Road, Belur, Howrah 711202

29/05/2026

মাতৃ সুধা
🪷👣🪷

_শ্রীমা ছিলেন সধবা সীমন্তিনী চিরদিনই, বিধবার বেশ নিতে শ্রীশ্রীঠাকুর তাঁকে নিষেধ করেছিলেন। স্বামী অভেদানন্দ মহারাজ এই অশ্রুতপূর্ব রহস্য প্রকাশ করেছেন তাঁর অপ্রকাশিত আত্মজীবনীর পাতায় মর্মস্পর্শী ভাষায়।_

শ্রীশ্রীঠাকুরের মহাসমাধির পর নিবিড় সম্পর্ক আরো স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ে। স্বামী অভেদানন্দ মহারাজ এর পরিচয় দিতে গিয়ে লিখেছেন :👇

“ইংরেজী ১৮৮৬ খ্রীস্টাব্দ। ১২৯৩ সালের ৩১ শ্রাবণ রাত্রি ১টা দুই মিনিটের সময় শ্রীশ্রীঠাকুর নাসাগ্রে দৃষ্টি স্থির করিয়া মহাসমাধিমগ্ন হইয়াছিলেন। শ্রীমা তৎপর দিবস (১ ভাদ্র) হাতের বালা খুলিতে যাইতেছেন এমন সময় শ্রীশ্রীঠাকুর প্রত্যক্ষ দর্শন দিয়া তাঁহার হাত দুইটি ধরিয়া বলিলেন, 'আমি কি কোথাও গেছি গো! এই যেমন এঘর থেকে ওঘর।' তখন আর শ্রীমা হাতের বালা খুলিতে পারিলেন না।

“শ্রীমা বৃন্দাবনে কালাবাবুর কুঞ্জে দ্বিতীয়বার হাতের বালা খুলিতে চেষ্টা করিয়াছিলেন। সেবারও তৎক্ষণাৎ শ্রীশ্রীঠাকুর তাঁহাকে দর্শন দিয়া বলিয়াছিলেন : “তুমি হাতের বালা খুলো না। শ্রীকৃষ্ণ যার পতি তার বিধবা হওয়া নাই, সে চিরসধবা।”

“বৃন্দাবন হইতে ফিরিয়া কামারপুকুরে থাকিবার সময় লোকসমাজের নিন্দার ভয়ে শ্রীমা বিধবা সাজিতে গিয়াছিলেন। তখনো শ্রীশ্রীঠাকুর (শ্রীমাকে) তাঁহাকে দর্শন দিয়া পূর্ববৎ হাতের বালা খুলিতে নিষেধ করিয়াছিলেন।”

_শ্রীশ্রীঠাকুরের দিব্যদর্শন শ্রীমা কয়েকবারই শুধু নয়, অসংখ্যবার পেয়েছিলেন তাঁর জীবনে নানাভাবে অপরূপ ভঙ্গিমায়। শ্রীশ্রীঠাকুর তাঁকে কত উপদেশ, কত নির্দেশ ও কত ভালবাসার ইঙ্গিতই না দিয়েছিলেন! দুইয়ের মধ্যে ছিল না কিছুমাত্র ভেদ, একে ছিলেন যেন অপরের ছায়া, ভাগবতী লীলার অভিনয় করতেই এসেছিলেন তাঁরা দুজনে স্বর্গ থেকে নেমে পৃথিবীর বুকে দিব্যপ্রেমের @নিবিড়তা নিয়ে!_

✒স্বামী প্রজ্ঞানানন্দ
==============
প্রবন্ধঃ স্বামী অভেদানন্দের চোখে শ্রীমা সারদাদেবী
তথ্যসূত্রঃ যুগজননী সারদা,পৃঃ ২০৬-২০৭
🌾🌻🌾🌻🌾🌻🌾🌻

27/05/2026

🌻🪷শিবররূপে🔱শ্রীরামকৃষ্ণ🪷🌻
===========🕉️==========
_✍️ স্বামী চেতনানন্দ_
==========================

কামারপুকুরে প্রতি বৎসর শিবরাত্রিকালে পাইনদের বাড়িতে যাত্রা হতো। নিকটবর্তী গ্রামের দল শিবের মহিমার উপর পালাগান ঠিক করেছিল। কিন্তু যে বালক শিবের ভূমিকায় অভিনয় করবে সে হঠাৎ অসুস্থ হওয়ায় যাত্রা বন্ধ হবার উপক্রম হয়। গ্রামের প্রবীণরা বালক গদাইকে ঐ শিবের পার্ট করবার কথায় ঠাকুর রাজি হন।

"ঠাকুর শিব সাজিয়া সাজঘরে বসিয়া শিবের কথা ভাবিতেছিলেন, এমন সময় তাঁহার আসরে ডাক পড়িল এবং তাঁহার বন্ধুগণের মধ্যে জনৈক পথপ্রদর্শন করিয়া তাঁহাকে আসরের দিকে লইয়া যাইতে উপস্থিত হইল। বন্ধুর আহ্বানে ঠাকুর উঠিলেন এবং কেমন উন্মনাভাবে কোনদিকে লক্ষ্য না করিয়া ধীরমন্থর গতিতে সভাস্থলে উপস্থিত হইয়া স্থিরভাবে দণ্ডায়মান হইলেন। তখন ঠাকুরের সেই জটাজটিল বিভূতিমণ্ডিত বেশ, সেই ধীরস্থির পাদক্ষেপ ও পরে অচল অটল অবস্থিতি, বিশেষত সেই অপার্থিব অন্তর্মুখী নির্নিমেষ দৃষ্টি ও অধরকোণে ঈষৎ হাস্যরেখা দেখিয়া লোকে আনন্দে ও বিস্ময়ে মোহিত হইয়া *পল্লী-গ্রামের প্রথামত সহসা উচ্চরবে হরিধ্বনি করিয়া উঠিল এবং রমণীগণের কেহ কেহ উলুধ্বনি এবং শঙ্খধ্বনি করিতে লাগিল। অনন্তর সকলকে স্থির করিবার জন্য অধিকারি ঐ গোলযোগের ভিতরেই শিবস্তুতি আরম্ভ করিলেন। তাহাতে শ্রোতারা কথঞ্চিৎ স্থির হইল বটে, কিন্তু পরস্পরে ইশারা ও গা ঠেলিয়া 'বাহবা, 'বাহবা', 'গদাইকে কি সুন্দর দেখাইতেছে,' 'ছোঁড়া শিবের পালাটা এত সুন্দর করতে পারবে তা কিন্তু ভাবিনি', 'ছোঁড়াকে বাগিয়ে নিয়ে আমাদের একটা যাত্রার দল করলে হয়' ইত্যাদি নানা কথা অনুচ্চস্বরে চলিতে লাগিল।* গদাধর কিন্তু তখনও সেই একইভাবে দণ্ডায়মান, অধিকন্তু তাঁহার বক্ষ বহিয়া অবিরত নয়নাশ্রু পতিত হইতেছে। এইরূপ কিছুক্ষণ অতীত হইলে গদাধর তখনও স্থানপরিবর্তন বা বলা-কহা কিছুই করিতেছেন না দেখিয়া অধিকারি ও পল্লীর বৃদ্ধ দুই এক জন বালকের নিকটে গিয়া দেখেন, তাহার হস্ত-পদ অসাড়-বালক সম্পূর্ণ সংজ্ঞাশূন্য। তখন গোলমাল দ্বিগুণ বাড়িয়া উঠিল। কেহ বলিল-জল, চোখে মুখে জল দাও; কেহ বলিল-বাতাস কর; কেহ বলিল-শিবের ভর হয়েছে, নাম কর; আবার কেহ বলিল-ছোঁড়াটা রসভঙ্গ করলে, যাত্রাটা আর শোনা হলো না দেখচি! যাহা হউক, বালকের কিছুতেই সংজ্ঞা হইতেছে না দেখিয়া যাত্রা ভাঙ্গিয়া গেল এবং গদাধরকে কাঁধে লইয়া কয়েকজন কোনরূপে বাড়ি পৌঁছাইয়া দিল। শুনিয়াছি সে রাত্রে গদাধরের সে ভাব বহু প্রযত্নেও ভঙ্গ হয় নাই। পরে সূর্যোদয় হইলে তিনি আবার প্রকৃতিস্থ হইয়াছিলেন।

ঠাকুর একদিন ভাবাবিষ্ট হয়ে অধরের বাড়িতে স্বামী ব্রহ্মানন্দকে বলেছিলেন, "এখানকার শ্রাবণ মাসের জল নয়। শ্রাবণ মাসের জল হুড় হুড় করে আসে আবার বেরিয়ে যায়। এখানে (অর্থাৎ শ্রীরামকৃষ্ণের মধ্যে) পাতাল ফোঁড়া শিব (অর্থাৎ স্বয়ম্ভুলিঙ্গ), বসানো শিব নয়।”

_স্বামী সারদানন্দ লীলাপ্রসঙ্গে (৫/১৯৮-৯৯) বৈকুন্ঠনাথের ঠাকুরের ভিতর শিবদর্শন প্রসঙ্গে বিস্তারিত লিখেছেন। বৈকুণ্ঠনাথ নিজে তাঁর শ্রীরামকৃষ্ণ লীলামৃত গ্রন্থে যা লিখেছেন, তা এখানে উল্লেখ করলাম:_

ঠাকুর এক জনকে (বৈকুণ্ঠনাথকে) কহিতেছেন, “দ্যাখ এক সময় বামনী, (ভৈরবী) বৈষ্ণব চরণ, ইন্দেশের গৌরী পণ্ডিত, বর্ধমান-রাজার সভা-পণ্ডিত পদ্মলোচন আমাকে অবতার বলেছিল। এখন গিরিশ, রাম, মনোমোহনও আমাকে অবতার বলে; শুনে শুনে অবতারে ঘেন্না হয়ে গেছে। আচ্ছা, আমাকে তোর কি বোধ হয়?” সে বলল, "যাহারা আপনাকে অবতার বলে, তাহারা ইতর।” ঠাকুর স্মিতমুখে কহিলেন, "ওরা সব অবতার বলে আমাকে কত বড় করলে, আর তুই তাদের ছোট লোক বলছিস?" যুবক (বৈকুণ্ঠনাথ) কহিল, "আমার ধারণায় অবতার পূর্ণ নহেন, অংশ মাত্র।” ঠাকুর কহিলেন, "ঠিক বলেছিস। তবে তোর কি বোধ হয়?" সে জানাইল- "আপনি সাক্ষাৎ শিব, অংশ নহেন। কারণ, আপনার উপদেশমত জগৎগুরু শিবের ধ্যান করিতে যাইলে, এক আধদিন নয়, বহুদিন ধরিয়া শিবের স্থানে আপনাকেই দেখিয়া দৃঢ় ধারণা হইয়াছে যে, আপনিই সেই সত্যং শিবং সুন্দরং শিব।"

"তোর ভাবে তুই ঠিক, কিন্তু আমি তার লোমের যোগ্য নই"- --বলিয়া ঠাকুর উচ্চহাস্য করিতে লাগিলেন।
________________
_[ তথ্যসূত্র: শ্রীরামকৃষ্ণের সান্নিধ্যে, পৃঃ ১৪-১৫]_
🌻========🍁=========🌻

27/05/2026

শ্রীরামকৃষ্ণ — “ছেলে যদি বাপকে ধরে আলের উপর দিয়ে চলে, তাহলে বরং খানায় পড়তে পারে। কিন্তু বাপ যদি ছেলের হাত ধরে, সে ছেলে কখনও পড়ে না।
“শোন, আমি মার কাছে শুদ্ধাভক্তি চেয়েছিলাম। মাকে বলেছিলাম, এই লও তোমার ধর্ম, এই লও তোমার অধর্ম; আমায় শুদ্ধাভক্তি দাও। এই লও তোমার শুচি, এই লও তোমার অশুচি; আমায় শুদ্ধাভক্তি দাও। মা, এই লও তোমার পাপ, এই লও তোমার পুণ্য; আমায় শুদ্ধাভক্তি দাও।”

গোস্বামী — আজ্ঞে হাঁ।

শ্রীরামকৃষ্ণ — সব মতকে নমস্কার করবে, তবে একটি আছে নিষ্ঠাভক্তি। সবাইকে প্রণাম করবে বটে, কিন্তু একটির উপরে প্রাণ-ঢালা ভালবাসার নাম নিষ্ঠা।
“রাম রূপ বই আর কোনও রূপ হনুমানের ভাল লাগতো না।
“গোপীদের এত নিষ্ঠা যে, তারা দ্বারকায় পাগড়িবাঁধা শ্রীকৃষ্ণকে দেখতে চাইলে না।

_ঈশান মুখোপাধ্যায়ের বাটীতে ভক্তসঙ্গে : শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত_

🌸 শুভ একাদশী 🌸

20/05/2026
20/05/2026

🌻শ্রীশ্রীমা সারদাদেবীর তীর্থভ্রমণ🌻
==========🕉️==========

_✍️তড়িৎকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়_
_[অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, রাজা প্যারিমোহন কলেজ, উত্তরপাড়া, হুগলী]
===========================

শ্রীশ্রীমায়ের তীর্থভ্রমণ তালিকায় বঙ্গতীর্থস্থানসমূহ যেমন আছে তেমনই আছে বহির্বঙ্গ ভ্রমণের বৃত্তান্ত। শ্রীশ্রীমা হলেন পৃথিবীর নরনারীর জন্মজন্মান্তরের মা। সঙ্গতভাবেই তাঁর সকল ভ্রমণ অভিযানই ঘটত দলবদ্ধভাবে এবং সন্তান-সন্ততি সমভিব্যাহারে। তীর্থভ্রমণে মানুষ বের হয় মনে শান্তি আসার প্রত্যাশায়। শ্রীশ্রীমা মানসিকভাবে চিরকালই সুস্থিত, কেবল ঠাকুরের মহাপ্রয়াণের পরই তাঁর মধ্যে কিছুকাল ভাববিহ্বলতা এসেছিল কিন্তু ঠাকুরের পুনঃপুন অশরীরী দর্শনে তিনি আবার তাঁর সহজাত সুস্থিত অবস্থায় পৌঁছেছিলেন। শ্রীঠাকুর তাঁর মহাপ্রয়াণের প্রাক্কালে শ্রীশ্রীমাকে যে গুরুদায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন, পৃথিবীর তাপদগ্ধ সংসারী মানুষদের আলো দেখাতে, শ্রীশ্রীমায়ের জীবনে তাঁর তীর্থভ্রমণের শুরুতেই সেই গুরুভাবের প্রকাশ প্রকটিত হয়েছে। সেই সঙ্গে লক্ষিত হয়েছে অগণিত মানুষকে কৃপা বিতরণের বিস্ময়কর মহাভাব। এ সমুদয় প্রসঙ্গ নিয়েই এই নিবন্ধের অবতারণা।

শ্রীশ্রীমায়ের বহির্বঙ্গ ভ্রমণঃ শ্রীশ্রীমায়ের বহির্বঙ্গ ভ্রমণ শুরু ঠাকুরের মহাপ্রয়াণের অব্যবহিত পরেই ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে এবং শেষবার ভ্রমণে বের হন ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে। বহির্বঙ্গ ভ্রমণস্থানের তালিকায় আছে বৈদ্যনাথধাম, কাশী-বৃন্দাবন, পুরী-ভুবনেশ্বর, গয়া, কৈলোয়ার, কোঠার এবং দাক্ষিণাত্য (দক্ষিণ ভারত-মাদ্রাজ, মাদুরা, রামেশ্বর ও ব্যাঙ্গালোর)। বর্ণিত স্থানগুলির মধ্যে অনেক জায়গায় দু-বার বা তিনবারও পদার্পণ করেছেন। সময়ভিত্তিতে তাঁর তীর্থগমন এবং সংশ্লিষ্ট প্রসঙ্গ নিচে বর্ণিত হয়েছে।

প্রথমবার তীর্থভ্রমণঃ সম্বৎসর বৃন্দাবন ভ্রমণ (১৮৮৬-৮৭ খ্রিস্টাব্দ)--- শ্রীশ্রীমার বর্ষব্যাপী এই ভ্রমণকালকে ব্রহ্মচারী অক্ষয়চৈতন্য "বৃন্দাবনে সম্বৎসর” শিরোনাম অধ্যায়ে বিবৃত করেছেন। কিন্তু প্রামাণিক তথ্যমতে এইকালে শ্রীশ্রীমা বৈদনাথধাম, কাশী-বৃন্দাবন, অযোধ্যা, হরিদ্বার, জয়পুর,পুষ্কর এবং প্রয়াগতীর্থ পর্যটন করেছেন। শ্রীঠাকুরের মহাপ্রয়াণের পর মা যেন সব ধৃতি হারিয়ে ফেলেন। তাঁর প্রাণের অস্থিরতা ক্রমেই বেড়ে চলছিল। শ্রীঠাকুরের অদর্শনে তিনি অত্যন্ত কাতর হয়ে পড়েছিলেন। তাই প্রবীণ ভক্তগণ স্থান পরিবর্তন ও তীর্থাদি দর্শনে শ্রীশ্রীমায়ের শোকের কিছু উপশম হতে পারে মনে করে শ্রীশ্রীমাকে তীর্থদর্শনে পাঠাবার মনস্থ করলেন। তদনুসারে বলরাম ভবনে আটদিন থেকে শ্রীশ্রীমা ৩০ আগস্ট ১৮৮৬ খ্রিঃ (১৫ ভাদ্র ১৩৯৩ বঙ্গাব্দ) শ্রীবৃন্দাবন দর্শনে যাত্রা করলেন। সঙ্গে চললেন গোলাপ-মা, লক্ষ্মীদেবী ও মাস্টার মহাশয়ের স্ত্রী এবং যোগেন মহারাজ, কালী মহারাজ ও লাটু মহারাজ।'

বৈদ্যনাথধামঃ এই যাত্রায় শ্রীশ্রীমা ট্রেন থেকে প্রথম অবতরণ করে বৈদ্যনাথধামে যান এবং সেখানে একদিন (৩১ আগস্ট ১৮৮৬ খ্রিঃ) অবস্থান করেন। বৈদ্যনাথধাম হল ভারতে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের একটি। এখানে দেবাদিদেব মহাদেব বৈদ্যরাজরূপে বিরাজমান। উনিশ শতকে ভারতের নানা প্রান্ত হতে কুষ্ঠরোগীরা রোগমুক্তির প্রত্যাশায় বৈদ্যনাথধামে আসতেন এবং বৈদ্যনাথের নিকট কুষ্ঠরোগ মুক্তির প্রার্থনা করতেন। অনুমিত হয় যে, এই যাত্রায় যাত্রী-দলসহ শ্রীশ্রীমা রাত্রিবাস করেছিলেন বৈদ্যনাথধামের তীর্থপুরোহিত শ্যামাচরণ মিশ্রের গৃহে। কারণ শ্রীশ্রীমা দ্বিতীয়বার দেওঘর তথা বৈদ্যনাথধাম যাত্রায় ওই তীর্থপুরোহিতের গৃহেই অবস্থান করেছিলেন।

পরের দিন তিনি স্বহস্তে বৈদ্যনাথের পূজা সমাপন করে এবং দুপুরের আহারের পরে তাঁদের গন্তব্যস্থল অভিমুখে যাত্রা করেন (১ সেপ্টেম্বর ১৮৮৬ খ্রিঃ)। প্রসঙ্গত স্মরণীয়, এই বৈদ্যনাথধামে শ্রীরামকৃষ্ণদেবও এসেছিলেন ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দে এবং পথে দুর্ভিক্ষপীড়িত সাঁওতাল পল্লীতে সত্যাগ্রহ চালিয়ে তাদের তিনদিন অন্ন ও বস্ত্র বিতরণে মথুরামোহনকে বাধ্য করেছিলেন।

___________।।১।।____________
_[সারদা -শতদল, পৃষ্ঠাঃ ৯২৯-৩০]_

19/05/2026

।।সাধুসঙ্গ।।
_(শ্রীরামকৃষ্ণ বিশেষ অনুধ্যান, পর্ব-২)_

রামলাল চট্টোপাধ্যায় (রামলালদাদা) বলছেন; আমি তাঁকে (ঠাকুরকে) 'আপনি আপনি' করতুম, খুড়ো বলে মনে হতো না। ঠাকুরের আচরণ ভাব ও সমাধি দেখে কিছু বুঝতে পারতুম না, মনে একটা সংশয় উঠত। ভাবতুম— ইনি (অর্থাৎ ঠাকুর) একজন মুখখু শুখু মানুষ, এঁর কাছে কত বড় বড় লোক ও পণ্ডিত এসে পরাস্ত হচ্ছে, ইত্যাদি। ইনি কে, সত্যিই কি ভগবান স্বয়ং অবতীর্ণ হয়েছেন?

একদিন আমি ঠাকুরকে জিজ্ঞাসা করেছিলুম যে দেখুন, আমার মনে আপনার সম্বন্ধে সংশয় উঠে, আমি কিছু বুঝতে পাচ্ছিনা।

এই কথা শুনে ঠাকুর আমায় বললেন— "দেখ, বোঝবার কিছু নেই তবে কি জানিস, যেমন জিলিপির পাক রে। জিলিপি গোল চক্রের মতো ঘুরানো আছে, উপরে কিছু বুঝবার নেই, কিন্তু মিষ্টি রসে ডুবে ভরপুর রয়েছে। তুই যা মনে করেছিস (অর্থাৎ স্বয়ং ভগবান অবতীর্ণ হয়েছেন) তাই যদি এটা (নিজ শরীরে দেখাইয়া) হয় তো, এটার সেবা করছিস, মা কালীর পূজো ও ভক্তদের সেবা করছিস। আবার এই রক্তের (নিজ শরীরে দেখাইয়া) স্রোত তোর ভিতর প্রবাহিত হচ্ছে। এর বেশি আর কি চাস?"

_সেই সময় আমি ঠাকুরের মহত্ত্ব বুঝতে পারিনি। যদিও আমাদের সঙ্গে ওঁর রক্তের সম্পর্ক ছিল। আমরা বুঝিনি উনি কে। কিন্তু তাঁর কৃপায় আমার এটুকু বিশ্বাস আছে যে যেহেতু আমরা একই বংশে জন্মেছিলুম, আমরা তাঁর পাদপদ্মে আশ্রয় পেয়েছি। তাঁর নিজের মুখ থেকে শুনেছি যে কোন লোক সিদ্ধিলাভ করলে তাঁর বংশের ঊর্ধ্বতন ও অধস্তন সাত পুরুষ উদ্ধার হয়ে যায়। চিন্তা কর, ভগবান স্বয়ং আমাদের বংশে মানুষ হয়ে জন্মেছিলেন! তাঁর কৃপায় এবং তাঁর পূত সান্নিধ্যে আমাদেরও অনেক দর্শন ও আধ্যাত্মিক অনুভূতি হয়েছে। এইভাবে তিনি তাঁর প্রতি আমাদের ভক্তি ও বিশ্বাস দিয়েছিলেন।_

_তিনি ছিলেন সর্বজ্ঞ, দেশ (কামারপুকুর) থেকে এসে ঠাকুরের কাছে থেকে ঠাকুরের সেবা করতুম। তারপর কয়েক মাস পরে ঠাকুরের কাছে যখন ভক্তগণ ক্রমে ক্রমে আসতে শুরু করলেন, একদিন ঠাকুরকে বলেছিলুম, “আমি অনেক দিন দেশে যাইনি, একবার মনে করছি দেশে গিয়ে ধান জমি খাজনা এ সবগুলাে দেখে শুনে আসি, আপনি কি বলেন?”_
_ঠাকুর শুনে বললেন, “তুই যাবি তাে বলছিস, কিন্তু আমায় কে দেখবে?” আমি বললুম “কেন ভক্তরা তাে এইবার আসা যাওয়া করছেন ও মধ্যে মধ্যে এখানে রাত্রিতে থাকেন তাঁরা দেখবেন। আর আমি তাে বেশি দিন থাকব না, কাজ হয়ে গেলেই চলে আসব।”_
_ঠাকুর শুনে বললেন-“তা তাে আসছে কিন্তু ওরা কি আমার ধাত জানে যে সেবা করবে? তুই যেমন করে করবি তা কি ওরা তেমন করে করতে পারবে? কে জানে বাবু।”_

_তার পরদিন সকালে ঠাকুরকে নিয়ে শৌচে গেছি, ঠাকুরের মুখ হাত ধােয়ার পর ফের ঠাকুরকে বল্লম, “আদেশ করুন আমি দেশে একবার যাই।” *তিনি একটু ভেবে বললেন-“না তাের যাওয়া হবে না, মায়ের ইচ্ছা নয় যে আমাকে ফেলে এখন যাস।”* আমি বল্লুম-“দেশে যাবার জন্যে যে প্রস্তুত হয়ে আছি, একবার খাজাঞ্চি মহাশয়ের কাছে গিয়ে ছুটি নিলেই হয়।”_

_এই কথা শুনে ঠাকুর আঙুল দিয়ে শূন্যে একটি গােল চক্রের মতাে করে তার মধ্যে হিজিবিজি কি লিখলেন পরে আমায় বললেন-“ওরে রামলাল, তাের কোন মতেই যাওয়া হবে না। যা না খাজাঞ্চির কাছে, সে কি বলে দেখ না।” আমি খাজাঞ্চির কাছে ছুটির জন্যে গেলুম।_

_তিনি বললেন-“এখন আপনাকে ছুটি দিতে পারি না। আর মন্দিরে বড় কাজ, লােকজন তেমন নেই।” তা সত্যি সত্যিই সেবারে আমার দেশে যাওয়া হয়ে উঠল না।_

(📕 শ্রীরামকৃষ্ণদেবের স্মৃতিকথা)
🌸🌻🌸🌻🌸🌻🌸

16/05/2026

ঠাকুর পূর্বমুখ হইয়া পশ্চিম দিকের দরজার কাছে বসিয়াছিলেন। মন্ত্রোচ্চারণ-সহকারে পূজাদ্রব্য সকল শোধনের পর তিনি যথাবিধি পূর্বকৃত্য শেষ করিলেন এবং শ্রীমাকে নির্দিষ্ট পীঠে উপবেশনের জন্য ইঙ্গিত করিলেন। ... তিনি [শ্রীশ্রীমা] মন্ত্রমুগ্ধার ন্যায় পশ্চিমাস্য হইয়া ঠাকুরের সম্মুখস্থ পীঠে উপবেশন করিলেন। তখন মন্ত্রপূত কলসের জল লইয়া ঠাকুর বারংবার শ্রীমায়ের অভিষেক করিলেন। তারপর তাঁহাকে মন্ত্র শ্রবণ করাইয়া প্রার্থনামন্ত্র উচ্চারণ করিলেন, _“হে বালে, হে সর্বশক্তির অধীশ্বরি মাতঃ ত্রিপুরসুন্দরি, সিদ্ধিদ্বার উন্মুক্ত কর; ইঁহার (শ্রীমায়ের) শরীর মনকে পবিত্র করিয়া ইঁহাতে আবির্ভূত হইয়া সর্বকল্যাণ সাধন কর।”_ পরে তিনি মাতাঠাকুরানীর অঙ্গে মন্ত্রসকলের যথাবিধি বিন্যাস করিয়া সাক্ষাৎ দেবীজ্ঞানে তাঁহাকে ষোড়শোপচারে পূজা করিলেন। পূজান্তে ভোগ নিবেদিত হইল। অবশেষে পূজক নিবেদিত মিষ্টান্নাদির কিয়দংশ স্বহস্তে তুলিয়া লইয়া দেবীর শ্রীমুখে প্রদান করিলেন। দেখিতে দেখিতে বাহ্যজ্ঞানশূন্যা শ্রীমা সমাধিস্থ হইলেন; ঠাকুরও অর্ধ-বাহ্যদশায় মন্ত্রোচ্চারণ করিতে করিতে সমাধিরাজ্যে চলিয়া গেলেন।... তিনি দেবীকে আত্মনিবেদন করিলেন। অনন্তর আপনার সহিত নিজ সাধনার এবং জপের মালা প্রভৃতি সর্বস্ব দেবীর শ্রীচরণে চিরকালের জন্য বিসর্জন দিয়া মন্ত্রোচ্চারণ করিতে করিতে তাঁহাকে প্রণাম করিলেন, _“হে সর্বমঙ্গলের মঙ্গলস্বরূপে, হে সর্বকর্মনিষ্পন্ন - কারিনী, হে শরণদায়িনী, ত্রিনয়নী, শিবগেহিনী গৌরি, হে নারায়ণি, তোমাকে প্রণাম করি।”_
- (শ্রীমা সারদা দেবী, পৃ. ৬৫)

14/05/2026

নলিনীকান্ত চক্রবর্তী শ্রীশ্রীমা সম্পর্কে বলেছেনঃ শ্রীশ্রীমায়ের সান্নিধ্যে যেই গিয়াছে সেই অনুভব করিয়াছে, সে জীবনের শ্রেষ্ঠ জিনিস পাইয়াছে—অফুরন্ত রত্নভাণ্ডার লাভ করিয়া ধন্য হইয়াছে। স্বতঃই মনে হয়, অনন্তশক্তিময়ী মা যে করুণামূর্তিতে আবির্ভূতা হইয়া তাঁহাকে চিন্তা করিবার, ভালবাসিবার ও পূজা, প্রণাম করিবার সুযোগ আমাদিগকে দিয়াছেন ইহাই শ্রেষ্ঠ সম্পদ—সুখে-দূঃখে, বিপদে-সম্পদে একমাত্র আশ্রয় এবং অভয়।

_উদ্বোধন ৭৪ বর্ষ পৃ. ৪২৫_

13/05/2026

শ্রীশ্রীমায়ের ভাষার সৌন্দর্য ও ছন্দময়তা
🌻=========🕉️==========🌻
_✍️ দীপা বন্দ্যোপাধ্যায়_
_[ অধ্যাপিকা, সংস্কৃত বিভাগ ,অসতোষ কলেজ, কলকাতা]_
===========================

======অমৃত👇কথা=======

শ্রীশ্রীমা অন্তরের অনুভূতি নিয়ে কথা বলতেন এবং অতি সহজ ভঙ্গিমায় মানুষের মনকে তিনি স্পর্শ করতেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষায় তিনি শিক্ষিতা ছিলেন না। ছিলেন তিনি পরা-বিদূষী বাগীশ্বরী। বাগীশ্বর শ্রীরামকৃষ্ণদেব ছিলেন তাঁর পতি, পরমেশ্বর, পরমগুরু। ঠাকুরের বাক্‌সৌন্দর্য সুবিদিত। শ্রীশ্রীমা তাঁর শিশুকাল থেকেই ছিলেন মিষ্টভাষী-এ-সবই তাঁর পিতামাতার কাছ থেকে তিনি পেয়েছিলেন। শ্রীশ্রীমা ঠাকুরের সঙ্গলাভ করে শিখেছিলেন কি করে নিজের মনের ভাব অন্যের মনে সঞ্চারিত করা যায়। "আমাদের অধিকাংশ মানুষের মধ্যে সাহিত্যের প্রতি যে সহজাত অনুরাগ আছে, যা আমাদের মনুষ্যত্বের অঙ্গ, শ্রীমায়ের বাণী সেই অনুরাগকেই সঞ্জীবিত করে।” "শ্রীশ্রীমায়ের নাম সারদা। 'সারদা' শব্দের নির্বাচনগত অর্থ 'সার-দাত্রী', তাই শ্রীমায়ের বাণীতে যে শুধু সার নয়, সারাৎসার থাকবে, এটা স্বাভাবিক। 'রস' শব্দের আর একটি অর্থ 'অমৃত', তাই মায়ের 'রসাত্মক' বাক্যকে আমরা যথার্থই 'কথামৃত' বলতে পারি।” সাহিত্য-দর্পণকার বিশ্বনাথ কবিরাজ কাব্যামৃত পানের আস্বাদনকে "ব্রহ্মাস্বাদসহোদর" বলেছেন। ব্রহ্মের আস্বাদন আর অমৃতসম কাব্যের রসাস্বাদন একই মাতৃজঠরের দুই ভাইয়ের মত-কিন্তু অভেদ নয়। শ্রীশ্রীমায়ের বাণীর উত্তম কাব্যরস পানের সৌভাগ্যকে ব্রহ্মাস্বাদসহোদর ছাড়া কী বলি! শ্রীশ্রীমায়ের বাণীতে শান্তরসের প্রাধান্য। তার স্থায়ী-ভাব-শম। প্রত্যেক মানুষের মধ্যে যে-ভাব সুপ্ত অবস্থায় থাকে তাকে স্থায়ী-ভাব বলা হয়। কোন সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে বাইরের কোন উত্তেজক বস্তু অপগত হলে সেই ভাব আবার সুপ্ত অবস্থাকে ফিরে পায়। কিন্তু শ্রীশ্রীমায়ের ব্রাহ্মী স্থিতি এবং ব্রাহ্মী বাক্-এই দুইয়ের স্থায়ী-ভাব যে "শম” তাতে যে রস "শান্ত”-তা বাইরের কোন উত্তেজক বস্তুর সংযোগের উপর নির্ভরশীল নয়। এই শান্তরস চিরন্তন এবং "শম” নামের স্থায়ী-ভাবও অনাদি মধ্য এবং অন্তবিহীন তার অস্তিত্ব। অর্থাৎ চির-অস্তিত্বময় উপস্থিতি। তাঁর ভাষায় আছে শাশ্বত শমপ্রধান সৌন্দর্য-বলা যায়।

===শ্রীশ্রীমায়ের👇ঋদ্ধ ভাষা===

আটপৌরে ভাষায় কথা বলতেন শ্রীশ্রীমা। হয়ত কখনও বলছেন "ওগো, আমায় পান দিয়ে যাও।” আবার যেচে বলছেন: "আমাকে একখানা শীতলপাটি দিও, মা, আমি শোব।” মাতৃস্নেহমাখা আদরে বলছেন *"ওগো, একটু বরফ-জল খেয়ে যাও।” অযাচিত স্নেহে বরফজলটুকু খাওয়াচ্ছেন- সেটি প্রসাদী জল। চিবুক ধরে চুমো খাচ্ছেন। আবার কলের গান শুনে শিশুর মত খুশি হয়ে বলছেন: "কী আশ্চর্য কল করেছে।” তাঁর জীবনছন্দের ভাষায় কখনও ছন্দপতন ঘটেনি। সাদামাটা গদ্যভাষায় মাঝে মাঝে অবশ্য ছন্দের দোলা লাগত। এবং তা স্বতোৎসারিত হয়ে প্রকাশ পেত, যাকে কবিভাষা বলতে পারি।

প্রশ্ন আসে, শ্রীশ্রীমা কি পদ্যরচনা করে কথা বলতেন? না, তা একেবারেই নয়। কিন্তু যখন তিনি বললেন: "যে হয় সুপ্রাণী, তার জন্য কাঁদে মহাপ্রাণী”, "মন্ত্র-তন্ত্র কিছুই নয়, মা, ভক্তিই সব", "কায় বাক্য মন, তিন নিয়ে ধন”, "যখন যেমন তখন তেমন; যাকে যেমন তাকে তেমন; যেখানে যেমন সেখানে তেমন”, “যেমন ভাব তেমনি লাভ”, "ছায়া কায়া সমান। ছবি তো তাঁর ছায়া”, "মন না মত্ত হস্তী, মা। হাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছোটে”---তখন শ্রীশ্রীমায়ের ভাষণকে ক্রান্তকবির পদ্যভাষা বললে কি অত্যুক্তি হয়? যখন মা বললেন: "যে যার সে তার যুগে যুগে অবতার”--- অন্তমিল পদ্য তো পাওয়া গেলই-তার উপরে রইল অনাদি অনন্ত প্রবহমান ভাবরস। ক্রান্তদর্শনের ভাষায় ছন্দের দোলা লেগে কি মলয়ের হাওয়া বইল না? সারবান বৃক্ষরা (বাঁশ, শিমুল, কলা ছাড়া) কি চন্দন হয়ে উঠল না? সহৃদয় পাঠকরা এবং সহৃদয় শ্রোতারা তার বিচার করবেন। মা বললেন: "শুদ্ধ মনই তো মানুষকে পথ দেখিয়ে নেয়।” আবারও বলছেন: "দুষ্ট মনকে যদি মোড় ফিরিয়ে দাও, তবে সে-ই ইষ্টকে ধরতে পারে।"---শব্দব্রহ্মের প্রবল শক্তিকে প্রয়োগ করার ক্ষমতা যিনি নিঃশব্দে বহন করতেন--- তিনি আর কেউ নন শ্রীশ্রীমা---"শব্দময়ী অপ্সররমণী, গেল চলি স্তব্ধতার তপোভঙ্গ করি।”
____________।।৪।।___________
_[ তথ্যসূত্রঃ সারদা -শতদল, পৃষ্ঠাঃ ২৬৯-২৭০]_🌻========🍁=========🌻

12/05/2026

শশী মহারাজ (স্বামী রামকৃষ্ণানন্দ) একবার ত্রিবান্দ্রমে যান। এক ভক্ত-মহিলা তাঁকে খাওয়ার নিমন্ত্রণ করেন। তিনি নানারকম রান্না করেছেন।মহারাজ তাঁকে বললেন, “তোমার সবরকম রান্না আমার এই কলাপাতার উপর একসঙ্গে পরিবেশন করো। একটা একটা করে পরিবেশন করা চলবে না।” মহিলাটি মহারাজের পাতায় সবকিছু বেশি বেশি করে দিলেন। মহারাজ জিজ্ঞাসা করলেন, “সব দেওয়া হয়েছে তো?” তাঁর সম্মতি জেনে মহারাজ আহুতি-মন্ত্র উচ্চারণ করে খেতে শুরু করলেন। হটাৎ ওই মহিলার মনে পড়ল যে, ঘি দেওয়া হয়নি। তিনি ছুটে গিয়ে ঘি এনে দিতে গেলে মহারাজ নিষেধ করে বললেন, “আহারের পূর্বে সবকিছু খাদ্যদ্রব্য আমি ঠাকুরকে নিবেদন করে খাই। আজ যখন গুরুমহারাজ বিনা ঘি-তে খাদ্য গ্রহণ করেছেন, তখন আমি আর ঘি খেতে পারি না।”

_শশী মহারাজের স্মৃতি — জনৈক ভক্ত_ (প্রাচীন সাধুদের কথা -২)

Want your school to be the top-listed School/college in KOLKATA?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Website

Address

Girish Ghosh Road
Kolkata
711202