21/07/2022
শেয়ানে শেয়ানে ......
স্ত্রীর সঙ্গে সাহিত্যিক বনফুলের প্রায়ই ঝগড়া হতো। ঝগড়ার অন্যতম কারণ, তাঁর বিপুল খাদ্যপ্রেম। তাঁর খাওয়া নিয়ে নানা গল্প আছে।
একবার এক গুণমুগ্ধ ভক্তের বাড়ি থেকে নিমন্ত্রণ এসেছে। গন্তব্যের কাছাকাছি, এক জায়গায় একটি দোকানে বনফুল দেখলেন, ফাউল কাটলেট ভাজা হচ্ছে। তা সেই ভক্তের বাড়িতে ঢুকলেন দু’জনে। গল্প চলছে তো চলছেই। অবশেষে পরিচারক চায়ের পেয়ালা আর সঙ্গে করে দু’টি প্লেটে নোনতা বিস্কুট নিয়ে হাজির হয়েছেন।
আর তা দেখেই এ বার আগুনে ঘি পড়ল যেন। বনফুল চিৎকার করে উঠলেন, ‘তোমাদের ব্যাপার খানা কী বলো তো! …অতিথি আপ্যায়ন দু’খানা বিস্কুট দিয়ে!’ সঙ্গে সংযোজন, ওই ফাউল কাটলেট যেন খানকতক আনা হয়। আনা হলও। আর কাটলেট দেখেই রাগ গলে জল।
বনফুলের খাদ্যরসের প্রতি আগ্রহের কথা জানিয়েছেন তাঁর ছোট ভাই পরিচালক অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়। তিনি জানান, রাতে মাংস, দিনে দু’রকম মাছ না হলে দাদার চলত না। প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরির মেথর সীতাবীর মেয়ের বিয়েতে মেথরপল্লিতে গিয়ে মোটা পুরি, ছোলার ডাল, শুয়োরের মাংস, টক দই আর বোঁদে খেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেছেন।
বনফুলের উপন্যাস নিয়ে তৈরি মৃণাল সেন পরিচালিত ‘ভুবন সোম’-এর শুটিং চলাকালীন উৎপল দত্তের টিফিন বাক্সে করে বনফুলের প্রিয় কষা মাংস নিয়ে আসার কথা বর্ণনা দিয়েছেন অরবিন্দবাবু। এমনকি এও দেখা গেছে, বনফুলের কাছে ‘হাটে বাজারে’-র অশোককুমারও সাতসকালে নিজের রান্না করা মাংস নিয়ে হাজির হচ্ছেন।
তবে খাদ্য রসিক হিসেবে কবিগুরু ও কম যেতেন না। আর এ ব্যাপারে সাক্ষী আবার সেই বনফুল!
১৯৩৯-এর নভেম্বর। বেশ ঠান্ডা শান্তিনিকেতনে। ভোররাতে শান্তিনিকেতন এসেছেন বনফুল। তখনই ‘শ্যামলী’ বাড়ি থেকে হড়াস হড়াস করে জল ঢালার শব্দ শোনা গেল। কী ব্যাপার? পরিচারক নীলমণির কাছে জানতে চাইলেন বনফুল। নীলমণির উত্তর, ‘বাবামশাই চান করছেন।’ স্নান থেকে বেরিয়ে দেখেন জলখাবারের আয়োজন হয়েছে রবীন্দ্রনাথের জন্য।
তালিকাটি ভালই। মুগের ডাল, ছোলা, বাদাম, পেস্তা ভেজানো। গোলমরিচ গুঁড়ো দিয়ে ডিম সিদ্ধ। সঙ্গত দেয় অস্ট্রেলিয়া থেকে আনানো মধু দিয়ে মাখানো পাঁউরুটি, ফল। সব শেষে এক খাবলা মুড়ি আর চিনি দেওয়া কফি!
কে জানে বিপুল খাদ্যরসিক বনফুলও হাঁ হয়ে গিয়েছিলেন কি না এই তালিকা দেখে।আজ ছোটগল্পের রাজা বনফুলের জন্মদিবস আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলী৷
বনফুলের মর্জিমহল
কোরক পত্রিকা থেকে সংগৃহীত।
সংকলনে—স্বপন সেন
©ভালবাসি বাংলা