Poet and Poem

Poet and Poem "" মনেরে আজ কহ যে ,,,,, ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে "" ❤️💛💚~কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 💙
(1)

29/08/2023

পথের বাঁধন
~রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
পথ বেঁধে দিল বন্ধনহীন গ্রন্থি,
আমরা দুজন চলতি হাওয়ার পন্থী।
রঙিন নিমেষ ধুলার দুলাল
পরানে ছড়ায় আবীর গুলাল,
ওড়না ওড়ায় বর্ষার মেঘে
দিগঙ্গনার নৃত্য,
হঠাৎ-আলোর ঝল্‌কানি লেগে
ঝলমল করে চিত্ত।

নাই আমাদের কনকচাঁপার কুঞ্জ,
বনবীথিকায় কীর্ণ বকুলপুঞ্জ।
হঠাৎ কখন্‌ সন্ধ্যাবেলায়
নামহারা ফুল গন্ধ এলায়,
প্রভাতবেলায় হেলাভরে করে
অরুণ মেঘেরে তুচ্ছ
উদ্ধত যত শাখার শিখরে
রডোডেন্‌ড্রন্‌ গুচ্ছ।
নাই আমাদের সঞ্চিত ধনরত্ন,
নাই রে ঘরের লালনললিত যত্ন।
পথপাশে পাখি পুচ্ছ নাচায়,
বন্ধন তারে করি না খাঁচায়,
ডানা-মেলে-দেওয়া মুক্তিপ্রিয়ের
কূজনে দুজনে তৃপ্ত।
আমরা চকিত অভাবনীয়ের
ক্কচিৎ কিরণে দীপ্ত।

কবিতাটি সঞ্চয়িতা বইয়ে প্রকাশিত হয়েছে।

29/08/2023

আগমনী
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সুধীরে নিশার আঁধার ভেদিয়া
ফুটিল প্রভাততারা।
হেথা হোথা হতে পাখিরা গাহিল
ঢালিয়া সুধার ধারা।
মৃদুল প্রভাতসমীর পরশে
কমল নয়ন খুলিল হরষে,
হিমালয় শিরে অমল আভায়
শোভিল ধবল তুষারজটা।
খুলি গেল ধীরে পূরবদ্বার,
ঝরিল কনককিরণধার,
শিখরে শিখরে জ্বলিয়া উঠিল,
রবির বিমল কিরণছটা।
গিরিগ্রাম আজি কিসের তরে,
উঠেছে নাচিয়া হরষভরে,
অচল গিরিও হয়েছে যেমন
অধীর পাগল-পারা।
তটিনী চলেছে নাচিয়া ছুটিয়া,
কলরব উঠে আকাশে ফুটিয়া ,
ঝর ঝর ঝর করিয়া ধ্বনি
ঝরিছে নিঝরধারা।
তুলিয়া কুসুম গাঁথিয়া মালা,
চলিয়াছে গিরিবাসিনী বালা,
অধর ভরিয়া সুখের হাসিতে
মাতিয়া সুখের গানে।
মুখে একটিও নাহিকো বাণী
শবদচকিতা মেনকারানী
তৃষিত নয়নে আকুল হৃদয়ে,
চাহিয়া পথের পানে।
আজ মেনকার আদরিণী উমা
আসিবে বরষ-পরে।
তাইতে আজিকে হরষের ধ্বনি
উঠিয়াছে ঘরে ঘরে।
অধীর হৃদয়ে রানী আসে যায়,
কভু বা প্রাসাদশিখরে দাঁড়ায়,
কভু বসে ওঠে, বাহিরেতে ছোটে
এখনো উমা মা এলনা কেন?
হাসি হাসি মুখে পুরবাসীগণে
অধীরে হাসিয়া ভূধরভবনে,
“কই উমা কই’ বলে “উমা কই’,
তিলেক বেয়াজ সহে না যেন!
বরষের পরে আসিবেন উমা
এয়েছ বরষ-পরে,
কেমনে নিদিয়া রহিবে কেবল
তিনটি দিনের তরে।’
কেহ বা কহিল,”বলো দেখি,সখী,
মনে পড়ে ছেলেবেলা?
সকলে মিলিয়া এ গিরিভবনে
কত-না করেছি খেলা!
সেই মনে পড়ে যেদিন স্বজনী
গেলে তপোবন-মাঝে–
নয়নের জলে আমরা সকলে
সাজানু তাপসী-সাজে।
কোমল শরীরে বাকল পরিয়া
এলায়ে নিবিড় কেশ
লভিবারে পতি মনের মতন
কত-না সহিলে ক্লেশ।
ছেলেবেলাকার সখীদের সব
এখনো তো মনে আছে,
ভয় হয় বড়ো পতির সোহাগে
ভুলিস তাদের পাছে!’
কত কী কহিয়া হরষে বিষাদে
চলিল আলয়-মুখে,
কাঁদিয়া বালিকা পড়িল ঝাঁপায়ে
আকুল মায়ের বুকে।
হাসিয়া কাঁদিয়া কহিল রানী,
চুমিয়া উমার অধরখানি,
“আয় মা জননি আয় মা কোলে,
আজ বরষের পরে।
দুখিনী মাতার নয়নের জল
তুই যদি, মা গো, না মুছাবি বল্‌
তবে উমা আর ,কে আছে আমার
এ শূন্য আঁধার ঘরে?
সারাটি বরষ যে দুখে গিয়াছে
কী হবে শুনে সে ব্যথা,
বল্‌ দেখি, উমা, পতির ঘরের
সকল কুশল-কথা।’
এত বলি রানী হরষে আদরে
উমারে কোলেতে লয়ে,
হরষের ধারা বরষি নয়নে
পশিল গিরি-আলয়ে।
আজিকে গিরির প্রাসাদে কুটিরে
উঠিল হরষ-ধ্বনি,
কত দিন পরে মেনকা-মহিষী
পেয়েছে নয়নমণি!

25/04/2023

" পিতার বক্ষে রেখেছো মোরে ,
জননী দিয়েছ জননী ক্রোড়ে ,
বেঁধেছ সখার প্রণয়ডোরে ,
তুমি ধন্য ধন্য হে ।।

তোমারি গেহে পালিছ স্নেহে ,
তুমি ধন্য ধন্য হে ,
আমার প্রাণ তোমারি দান ,
তুমি ধন্য ধন্য হে ।।

~~~রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।

01/04/2023

সুপ্রভাত
~রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কেমনে গাহিব কহি দাও স্বামী—

মরণনৃত্যে ছন্দ মিলায়ে

হৃদয়ডমরু বাজাব;

ভীষণ দুঃখে ডালি ভরে লয়ে

তোমার অর্ঘ্য সাজাব।

এসেছে প্রভাত এসেছে।

তিমিরান্তক শিবশঙ্কর

কী অট্টহাস হেসেছে!

যে জাগিল তার চিত্ত আজিকে

ভীম আনন্দে ভেসেছে।।

জীবন সঁপিয়া, জীবনেশ্বর,

পেতে হবে তব পরিচয়;

তোমার ডঙ্কা হবে যে বাজাতে

সকল শঙ্কা করি জয়।

ভালোই হয়েছে ঝঞ্ঝার বায়ে

প্রলয়ের জটা পড়েছে ছড়ায়ে,

ভালোই হয়েছে প্রভাত এসেছে

মেঘের সিংহবাহনে—

মিলনযজ্ঞে অগ্নি জ্বালাবে

বজ্রশিখার দহনে।

তিমিররাত্রি পোহায়ে

মহাসম্পদ তোমারে লভিব

সব সম্পদ খোয়ায়ে—

মৃত্যুরে লব অমৃত করিয়া

তোমার চরণে ছোঁয়ায়ে

30/03/2023

"" মনেরে আজ কহ যে ,,,,, ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে "" ~কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

30/03/2023

" কষ্ট যদি দাও হে প্রভু , শক্তি দিও সহিবারে
হৃদয় আমার যোগ্য কর , তোমার বাণী বহিবারে " ~ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Address

Bankura
BANKURA,WESTBENGAL,

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Poet and Poem posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to Poet and Poem:

Shortcuts

Share