20/09/2026
পূজোর আনন্দে মেতে ওঠার দিনগুলো ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। কিন্তু আলো ঝলমলে শহরের বাইরে এমন কিছু জায়গা আছে, যেখানে উৎসবের দিনগুলো সাধারণ আর পাঁচটা দিনের মতোই ধুলোবালি আর অভাবের মেঘে ঢাকা থাকে।
কথা বলছি অযোধ্যা পাহাড়ের ওপরের প্রত্যন্ত ভীমযারা গ্রাম নিয়ে।
যে বয়সে আমার আপনার বাড়ির বাচ্চাদের হাতে খাতা-কলম আর খেলনা থাকে, সেই বয়সে এই গ্রামের অনেক বাচ্চার সকালটা শুরু হয় পাহাড়ি জঙ্গলে শুকনো কাঠ কুড়োতে যাওয়ার মাধ্যমে। সেই কাঠ বিক্রি করে যা মেলে, তা দিয়ে আধপেটা খেয়ে জীবন কাটানোই যাদের কাছে নিয়ম। এদের জামাকাপড়ের কোনো বিকল্প নেই—সারা বছর একটা বা দুটো ছেঁড়া পোশাকে কেটে যায়। পূজোর সময় একটা নতুন জামা পাওয়ার যে আনন্দ, তা এই বাচ্চাদের কাছে শুধুই এক রূপকথার গল্প।
প্রতি বছরের মতো এবারও আগামী ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ (শারদ সেবা উৎসব ২০২৬)-এ আমরা 'Man & Mind'-এর পক্ষ থেকে ভীমযারা গ্রামের বাচ্চাদের নতুন জামাকাপড় তুলে দেব এবং ওদের জন্য একবেলা পেটভরে দুপুরে খাওয়ার আয়োজন করেছি।
কিন্তু সত্যি কথাটা বলতে দ্বিধা নেই—আপনাদের বাড়িয়ে দেওয়া সাহায্য ছাড়া এই অনুষ্ঠানটা আমাদের পক্ষে কোনোভাবেই আয়োজন করা সম্ভব নয়।
বিগত বছরগুলোতে আপনারা পাশে ছিলেন বলেই পাহাড়ের ওই বাচ্চাদের মুখে আমরা একটু হাসি ফোটাতে পেরেছিলাম। তবে এবার সবকিছুর খরচ এতটা বেড়েছে যে নিজেদের শক্তিতে আমরা পুরোপুরি কুলিয়ে উঠতে পারছি না। পাহাড়ের ওই পুচকেগুলোর এই ছোট্ট স্বপ্নটা সত্যি হবে কি না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আপনার আর আমাদের হাত মেলানোর ওপর।
পুজোর কেনাকাটায় আমরা কত টাকাই তো নানাভাবে খরচ করি। তার থেকে সামান্য কিছু অংশ যদি তুলে রাখা যায়, তবে একজন বাচ্চার পূজোর হাসিতে পরিণত হতে পারে। আপনি আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী ৫০, ১০০, ৫০০ বা ১০০০ যা-ই সাহায্য করবেন, সেটাই ওদের একটা নতুন পোশাক আর একবেলার ভরপেট খাওয়ার সুযোগ এনে দেবে।
একটি বাচ্চাকে জামা উপহার দেওয়া বা একবেলার খাবারের খরচ জোগানোর দায়ভার আপনিও নিতে পারেন। আপনার সাহায্য সরাসরি পৌঁছে যাবে এই মানুষগুলোর কাছে—নিজের হাতে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে এটুকুর পূর্ণ নিশ্চয়তা দিচ্ছি। আর শুধুমাত্র বিশ্বাস করার দরকার নেই, আপনার কাছে আমাদের সবিশেষ অনুরোধ—আগামী ১১ই অক্টোবর আপনি নিজেও ভীমযারা গ্রামে আমাদের এই আয়োজনে আসুন। নিজের চোখে দেখে যান আপনাদের পাঠানো ভালোবাসায় পাহাড়ি বাচ্চাগুলোর মুখের হাসি কতটা সত্যি, কতটা আলো ছড়াচ্ছে।
গতবার আমি নিজে সেখানে উপস্থিত ছিলাম। নিজের চোখে দেখেছি বাচ্চাদের সেই বাঁধভাঙা আনন্দ! নতুন জামাটা হাতে পাওয়া মাত্রই বাচ্চারা যেভাবে আনন্দের সাথে সাথে জড়িয়ে নিল, আর ওদের মুখে যে অমলিন হাসিটা ফুটে উঠেছিল—তা দেখে মনের ভেতরে যে তৃপ্তি পেয়েছিলাম, তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। সত্যি বলতে, আমার নিজের পূজোর আনন্দ হাজার গুণ বেড়ে গিয়েছিল সেদিন।
আসুন, আমাদের পূজোর খুশির কিছুটা আলো ওদের অন্ধকার জীবনের মাঝে ছড়িয়ে দিই। আপনার অবদান না পেলে কিন্তু আমরা ওদের হাসিমুখটা এবার আর দেখতে পারব না!
আর্থিক সহায়তা বা যোগাযোগের বিবরণ:
Bankura: 9332037410
Tarakeswar: 9064407643 / 9382034851
Purulia: 8436995572 / 7501512611
Kotulpur: 6296864766
Asansol: 9332334851 / 8436451885
নিচে গতবারের কিছু ফটো শেয়ার করলাম।
(পোস্টটি শেয়ার করেও যদি আরও চারজন মানুষের কাছে বার্তাটি পৌঁছে দিতে পারেন, তাহলেও সেটা আমাদের জন্য অনেক বড় সাহায্য হবে।)