Dooars Education Centre, Samuktala Pototala, Beside Holy Light Academy

  • Home
  • Dooars Education Centre, Samuktala Pototala, Beside Holy Light Academy

Dooars Education Centre, Samuktala Pototala, Beside Holy Light Academy A Wing of Dooars Welfare Foundation. CIN: U88900WB2025NPL280866.

Registration No:280866
Registered Under Ministry of Corporate Affairs,UDYAM, Govt.Of India, ISO Certified, Approved by MSME, Niti Ayog (Darpan) Govt.of India, 12A, 80G, Section 8 company.

15/05/2026

সারা ভারতে সরকারি স্কুলে মাত্র ২% দক্ষ শিক্ষক! ৮,০০০ ছাত্রহীন স্কুল!
২০৪৭-এর পথে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে?

তুমি যদি ভারতের যেকোনো প্রান্তের একটি সরকারি স্কুলের দিকে তাকাও, দেখবে সেখানে নতুন রঙের প্রলেপ পড়েছে, মিড-ডে মিলের ধোঁয়া উড়ছে, আর খাতায় কলমে উপস্থিতিও বাড়ছে। কিন্তু এই উজ্জ্বল ছবির আড়ালে লুকিয়ে আছে এক কঙ্কালসার কাঠামো। নীতি আয়োগের সাম্প্রতিক রিপোর্ট— 'স্কুল এডুকেশন সিস্টেম ইন ইন্ডিয়া: টেম্পোরাল অ্যানালাইসিস অ্যান্ড পলিসি রোডম্যাপ ফর কোয়ালিটি এনহ্যান্সমেন্ট'—আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, আমরা শিশুদের স্কুলে পাঠাতে পারলেও তাদের প্রকৃত অর্থে শিক্ষিত করতে পারছি না।

২০৪৭ সালের মধ্যে 'বিকশিত ভারত' গড়ার যে স্বপ্ন আমরা দেখছি, এই জরাজীর্ণ শিক্ষা কাঠামো কি তার ভার বইতে পারবে? ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা আজ এক অদ্ভুত গোলকধাঁধায় দাঁড়িয়ে। প্রতিটি শিশু স্কুলে যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সেখানে কী শিখছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়। বর্তমান পরিস্থিতির গভীরতা বুঝতে হলে আমাদের অবকাঠামো ছাড়িয়ে ক্লাসরুমের ভেতরের সেই করুণ বাস্তবতাকে ছুঁতে হবে।

এই সংকটের শুরুটা হয় আমাদের শিক্ষকদের দক্ষতা নিয়ে। তুমি হয়তো ভাববে, শিক্ষক নিয়োগের জন্য এত সব পরীক্ষা আর ডিগ্রি আছে, তবুও কেন এই হাল? নীতি আয়োগের ২০২৬ সালের রিপোর্টে একটি ভয়াবহ পরিসংখ্যান উঠে এসেছে—প্রাথমিক স্তরের গণিত পরীক্ষায় দেশের মাত্র ২ শতাংশ শিক্ষক ৭০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছেন। এমনকি জাতীয় স্তরে শিক্ষকদের গড় স্কোর নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৬ শতাংশে।

অর্থাৎ, যে কারিগররা দেশের ভবিষ্যৎ তৈরি করবেন, তাদের একটি বিশাল অংশের বুনিয়াদি শিক্ষাতেই চরম ঘাটতি রয়েছে। এই অদক্ষতা সরাসরি প্রভাব ফেলছে শিক্ষার্থীদের ওপর। 'পরখ ২০২৪'-এর তথ্য অনুযায়ী, ষষ্ঠ শ্রেণির ৩০ শতাংশের কম শিক্ষার্থী বাস্তব জীবনে ভগ্নাংশের বা দশমিকের সামান্য প্রয়োগও বুঝতে পারে না। তুমি দেখবে, আমাদের শিশুরা তোতাপাখির মতো মুখস্থ করতে পারলেও সমস্যা সমাধানের মৌলিক দক্ষতা হারিয়ে ফেলছে।

ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোটি বর্তমানে একটি খণ্ডিত পিরামিডের মতো। তুমি শুনলে অবাক হবে যে দেশে প্রায় ৭.৩ লাখ প্রাথমিক স্কুল থাকলেও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের স্কুলের সংখ্যা মাত্র ১.৬৪ লাখ। এই বিপুল অসমতা একটি পদ্ধতিগত বাধা বা 'ড্রপ-আউট ট্র্যাপ' তৈরি করছে। একজন শিক্ষার্থী যখন পঞ্চম শ্রেণি পাস করে, তখন তাকে পরবর্তী স্তরে ওঠার জন্য কয়েক মাইল দূরের অন্য একটি স্কুলে যেতে হয়।

আবার দশম শ্রেণির পর দ্বাদশে ওঠার জন্য তাকে ফের পরিবেশ বদলাতে হয়। প্রতিটি স্তরে এই বারবার স্কুল বদলানোর প্রক্রিয়া অনেক শিক্ষার্থীর পড়ার আগ্রহ কমিয়ে দেয়, বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে যাতায়াত ও নিরাপত্তা বড় হয়ে দাঁড়ায়। নীতি আয়োগ বলছে, উত্তরপ্রদেশের মতো বড় রাজ্যে মাত্র ২.৯ শতাংশ স্কুলে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষার ব্যবস্থা আছে। বাকি ৯৭ শতাংশ শিক্ষার্থীকে এই খণ্ডিত পথে বারবার হোঁচট খেতে হচ্ছে, যা তাদের মাঝপথেই স্কুল ছাড়তে বাধ্য করছে।

পরিকাঠামোর দিকে তাকালে এক মরীচিকা তোমার চোখে পড়বে। গত এক দশকে ৯২ শতাংশের বেশি স্কুলে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে এবং পানীয় জলের ব্যবস্থাও সন্তোষজনক। কিন্তু আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে যে 'সফট ইনফ্রাস্ট্রাকচার' দরকার, সেখানে আমরা আজও পিছিয়ে। তুমি দেখবে, পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে যেখানে ডিজিটাল সাক্ষরতার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে কার্যকরী স্মার্ট ক্লাসরুমের হার ৬ শতাংশের নিচে। দেশের প্রায় ১.১৯ লাখ স্কুলে আজও বিদ্যুৎ সংযোগ কার্যকরী নয়।

মাধ্যমিক স্তরে ৫০ শতাংশ সরকারি স্কুলে আজও কোনো কার্যকরী বিজ্ঞান গবেষণাগার নেই। আমরা যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা সেমিকন্ডাক্টর বিপ্লব নিয়ে কথা বলছি, তখন আমাদের কয়েক কোটি শিক্ষার্থী জীবনের প্রথম কম্পিউটারটিও ছোঁয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। এই ডিজিটাল বিভাজন আগামী দিনে এক নতুন ধরণের সামাজিক বৈষম্য তৈরি করবে, যেখানে শহরের সচ্ছল ঘরের সন্তানরা প্রযুক্তির উদ্ভাবক হবে, আর গ্রামের সন্তানরা হবে বড়জোর তার সাধারণ ব্যবহারকারী।

এই সামগ্রিক ব্যর্থতার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের আস্থায়। তুমি যদি গত ২০ বছরের পরিসংখ্যান লক্ষ্য করো, তবে দেখবে সরকারি স্কুলগুলোর ওপর থেকে মানুষের বিশ্বাস ক্রমে কমছে। ২০০৫ সালে যেখানে ৭১ শতাংশ শিক্ষার্থী সরকারি স্কুলে পড়ত, ২০২৫-২৬ সালের হিসেবে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৯.২৪ শতাংশে। এর অর্থ হলো, অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী এখন বেসরকারি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। এমনকি অতি দরিদ্র পরিবারগুলোও তাদের পেট কেটে সন্তানদের নিম্নমানের প্রাইভেট স্কুলে পাঠাচ্ছে।

নীতি আয়োগ বলছে, বর্তমানে ভারতজুড়ে ৭,৯৯৩টি স্কুল এমন আছে যেখানে বর্তমানে একজন ছাত্রও ভর্তি নেই। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই আছে ৩,৮১২টি। এই 'ঘোস্ট স্কুল' বা শূন্য ছাত্রের স্কুলগুলো বর্তমানে রাষ্ট্রের জন্য এক বিশাল অর্থনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ১ লাখেরও বেশি স্কুল চলছে মাত্র একজন শিক্ষকের ভরসায়, যেখানে একাই সব ক্লাস আর প্রশাসনিক কাজ সামলাতে গিয়ে শিক্ষার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকছে।

এই জরাজীর্ণ দশা থেকে মুক্তি পেতে নীতি আয়োগ যে দাওয়াই দিয়েছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে 'কম্পোজিট স্কুল' (Composite Schools) বা সমন্বিত স্কুল মডেল। তুমি যদি বর্তমানে ভারতের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্কুলগুলোর দিকে তাকাও, দেখবে অধিকাংশেরই নিজস্ব কোনো পরিচয় তৈরি হচ্ছে না। নীতি আয়োগের প্রস্তাব হলো, একটি নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা ছোট স্কুলগুলোকে একীভূত করে একটি বড় কেন্দ্রীয় ক্যাম্পাস তৈরি করা।

যেখানে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সব সুবিধা এক ছাদের তলায় থাকবে। এর ফলে সেই বারবার স্কুল বদলানোর যে আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা ছেড়ে দেয়, তার অবসান ঘটবে। তুমি ভেবে দেখো, একটি বড় ক্যাম্পাসে যখন ৩০০ বা ৫০০ শিক্ষার্থী থাকবে, তখন সেখানে উন্নত লাইব্রেরি, খেলার মাঠ এবং আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব তৈরি করা সরকারের পক্ষেও অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী হবে। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, এটি শিশুদের জন্য একটি নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষাজীবনের গ্যারান্টি।

শূন্য ছাত্রের স্কুল বা 'ঘোস্ট স্কুল' নিয়ে যে ভয়াবহ তথ্য সামনে এসেছে, তা নিয়ে রাষ্ট্রের এখন নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। তুমি জানলে অবাক হবে যে, ভারতজুড়ে যে প্রায় ৮,০০০ স্কুলে কোনো শিক্ষার্থী নেই, তার রক্ষণাবেক্ষণ এবং শিক্ষকদের বেতনের পেছনে প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ এবং তেলঙ্গানার মতো রাজ্যে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি।

নীতি আয়োগ স্পষ্ট বলছে, এই অলাভজনক স্কুলগুলো বন্ধ করে দিয়ে সেখানকার সম্পদ ও শিক্ষকদের বড় স্কুলে স্থানান্তরিত করতে হবে। এতে করে সম্পদের সুষম বণ্টন সম্ভব। ১ লাখেরও বেশি স্কুল বর্তমানে যে 'একক শিক্ষক' ব্যবস্থার অভিশাপে জর্জরিত, এই একীভূতকরণের ফলে সেই স্কুলগুলোও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক পাবে। অর্থাৎ, গণিতের শিক্ষক শুধুমাত্র গণিতই পড়াবেন, তাকে আর একই সাথে ইতিহাস বা মিড-ডে মিলের চাল মাপতে হবে না।

শিক্ষকদের কাজের মানোন্নয়ন নিয়ে যে প্রস্তাব এই রিপোর্টে দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত বৈপ্লবিক। তুমি হয়তো জানো যে, ভারতের একজন সরকারি স্কুলের শিক্ষককে পড়াশোনার বাইরেও নির্বাচন, জনশুমারি এবং নানাবিধ সরকারি সমীক্ষায় অংশ নিতে হয়। তথ্য বলছে, একজন শিক্ষক তার কর্মসময়ের প্রায় ১৪ থেকে ১৮ শতাংশ ব্যয় করেন এই ধরণের অ-শিক্ষামূলক কাজে।

নীতি আয়োগের রোডম্যাপে এই 'টাইম-অন-টাস্ক' বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের এই সমস্ত প্রশাসনিক বোঝা থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি দিয়ে শুধুমাত্র পাঠদানে নিয়োজিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের জন্য শুধুমাত্র থিওরি ক্লাসের বদলে 'প্র্যাকটিস-বেসড' মেন্টরশিপ চালু করার কথা বলা হয়েছে, যাতে তারা ক্লাসরুমে আরও আধুনিক এবং কার্যকরী উপায়ে শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন।

শিক্ষার মানের এই দৈন্যদশা কাটাতে 'টিচিং অ্যাট দ্য রাইট লেভেল' (TaRL) বা সঠিক স্তরে পাঠদানের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তুমি দেখবে, আমাদের প্রচলিত ব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থী চতুর্থ শ্রেণিতে উঠলে তাকে চতুর্থ শ্রেণির বই-ই পড়তে হয়, যদিও সে হয়তো দ্বিতীয় শ্রেণির ভাষাও ঠিকমতো বোঝে না। এই ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে নীতি আয়োগ বলছে, শিক্ষার্থীর বয়স বা ক্লাস অনুযায়ী নয়, বরং তার মেধা ও শেখার স্তরের ভিত্তিতে তাকে গ্রুপ করে পড়াতে হবে।

এটি মূলত পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার একটি বিজ্ঞানসম্মত উপায়। যদি একজন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাধারণ গুণ বা ভাগ না পারে, তবে তাকে আগে সেই বুনিয়াদি শিক্ষা দিতে হবে, তবেই সে ভবিষ্যতের জটিল সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারবে।

২০৪৭ সালের 'বিকশিত ভারত' গড়ার লক্ষ্যমাত্রা কেবল জিডিপি (GDP) বা হাইওয়ের দৈর্ঘ্য দিয়ে মাপা সম্ভব নয়। তুমি যদি লক্ষ্য করো, তবে দেখবে যে বিশ্বের প্রতিটি উন্নত দেশ তাদের শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমেই সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। ভারতের এই বিশাল ছাত্রশক্তি যদি সঠিক মানের শিক্ষা না পায়, তবে আমাদের 'ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড' অচিরেই 'ডেমোগ্রাফিক ডিজাস্টার'-এ পরিণত হবে।

ডিজিটাল বিভাজন দূর করা, স্কুলগুলোকে একীভূত করে আধুনিক সম্পদে সাজিয়ে তোলা এবং শিক্ষকদের যোগ্যতাকে বিশ্বমানে উন্নীত করাই এখন একমাত্র পথ। এই পথটি হয়তো কঠিন এবং দীর্ঘ, কিন্তু আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এই কঠোর সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। ভারতের প্রতিটি শিশুর জন্য সমমানের এবং গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করাই হোক আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার।(কালেক্টেড)

23/04/2026

KG to PG প্রায় 20 বছর, খেয়ে-না খেয়ে, সব শখ-আহল্লাদ ত্যাগ করে, কত স্বপ্নকে ঘুমিয়ে রেখে, কত ইচ্ছেকে পরে পূরণ হবে এই ভুল বুঝিয়ে, পড়াশুনো করলাম।
সমস্ত গতানুগতিক শিক্ষার গন্ডি পেরিয়ে চার-চারটে ডিগ্রীর (MP, HS, BA, MA) সার্টিফিকেট যোগাড় করার পরে আমাকে জানানো হলো- "তুমি এখনও কোনো চাকরি করার যোগ্য নও"।
এই 20 বছর দিন-রাত এক করে তুমি যে পড়াশোনা করেছ তা তোমাকে কোনো কাজেরই যোগ্য করে তোলেনি, You are not a Skilled person.
তাই এর পর যদি তুমি প্রাথমিক বা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চাও তবে তোমাকে আরও 2 বছরের ডি.এল.এড বা বি.এড করতে হবে।
যদি কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চাও তবে আরও 5-7 বছর নষ্ট করে M.Phil, P.hD করতে হবে, NET, SET, GATE ইত্যাদি সর্বভারতীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ন হতে হবে।
কথা মত নিজেকে Skilled Person এ রূপান্তরিত করতে B.ED, MPhil, PhD সবই করা হলো, তারপরে যখন চাকরি চাওয়া হলো তখন দেখা গেলো পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া টাই বন্ধ করে রেখেছে এই দুর্নীতিবাজ সরকার। যেটুকু হচ্ছে তার সিংহভাগটাই জালিয়াতি তে ভরে গেছে। কাজেই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও, মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও চাকরী পাওয়া গেলোনা।
আমরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে আমাদের দায়িত্ব কর্তব্য পালন করলাম, কিন্তু সরকার তার দায়িত্ব পালন করলো না।
উল্টো সরকার যোগ্যতা হীনদের, পার্টির অনুগত ও অনুপ্রাণিত দের দিনমজুর হিসেবে কলেজে নামে সেই সব পোস্টে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করলো। স্কুলেও Internship নামে সেই একই নোংরা খেলা খেলতে চাইছে।
কাজেই এত ডিগ্রী অর্জনের পর, নিজেকে সেইসব চাকরী পাবার যোগ্য করে তোলার পরেও শিক্ষকতার চাকরী পাওয়া এখন দিবাস্বপ্ন।

বুঝলাম এই লাইনে আর কিছু বাকি নেই। শুধুই দুর্নীতি তে ভরে গেছে। এখন সেই সব নিয়োগে শুধু টাকার খেলা আর স্বজন-পোষণ ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ে না। তাই ভাবলাম তাহলে বিকল্প কিছুর চেষ্টা করি। মানে UPSC, WBCS, SSC, BANK, RAIL and others Competitive Exam.
সেদিকে পা বাড়িয়ে দেখলাম আমার গতানুগতিক শিক্ষা আমাকে প্রথম 15 বছরে (Up to MP) যা কিছু শিখিয়েছিল পরবর্তী 7-8 বছরে (HS, BA, MA, MPhil, PhD) সে সব কিছুই ভুলিয়ে দিয়েছে।
কাজেই এখন সেই Competitive Exam এর জন্য আমাকে আবার নতুন করে সব কিছুর প্রস্তুতি নিতে হবে, নতুন করে ইতিহাস, ভূগোল, রাজনীতি, অর্থনীতি, দর্শন, সমাজ, সংস্কৃতি সবকিছুই অধ্যায়ন করতে হবে।
তবে কি আমার বিগত 20-25 বছরের শিক্ষাজীবন আজ আমার কোনো কাজেরই নয়...???
একটা সামান্য ক্লার্ক এর পরীক্ষার জন্যও সেই শিক্ষা আমাকে কেন তৈরী করে দিতে পারেনি ...???
তাহলে সেই শিক্ষার বাস্তবিক জীবনে প্রয়োগ কোথায়..?
কেন এতবছর পড়াশুনা করার পরেও আবার আলাদা করে চাকরির প্রস্তুতির জন্য বছরের পর বছর পড়াশোনা করতে হবে নিজেকে নিজের দায়িত্বে তৈরী করতে হবে..???
কেন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় আমার জীবন থেকে এতগুলো বছর কেড়ে নিলো অথচ আমাকে কোনো কিছুর জন্য উপযুক্ত বা যোগ্য করে তুলতে পারলো না...????
এই অকর্মণ্যতার দায় কার তাহলে ..???

তবে কি সেই 20-25 বছরের সমস্ত শিক্ষা-কষ্ট-আত্মত্যাগ সবকিছুই মিথ্যা ও মূল্যহীন, মানে নীট ফল জিরো...????

সেই সার্টিফিকেট গুলো এখন কি শুধুই এক ফালি রঙিন কাগজের টুকরো ????

প্রশ্ন থেকেই যায়......

😒😒😒😒😒😒😒😒😒😒
(সংগৃহীত -স্বর্ণ কমল কর্মকার)

17/04/2026

২৭ বছর বয়সে যখন চাকরি খুঁজছেন, তখন আপনারই বয়সী কেউ একজন সেই ব্যাংকেরই ম্যানেজার হয়ে বসে আছেন। আপনার ক্যারিয়ার যখন শুরুই হয়নি তখন কেউ কেউ নিজের টাকায় কেনা দামি গাড়ি হাঁকিয়ে আপনার সামনে দিয়েই চলে যাচ্ছে।

প্রথমেই আসে পরিশ্রমের ব্যাপারটা- যারা আপনার চাইতে এগিয়ে, তারা আপনার চাইতে বেশি পরিশ্রমী।এটা যেনে নিন । ঘুমানোর আনন্দ আর ভোর দেখার আনন্দ একসাথে পাওয়া যায় না। শুধু পরিশ্রম করলেই সব হয় না। তাই যদি হতো, তবে গাধা হতো বনের রাজা। শুধু পরিশ্রম করা নয়, এর পুরস্কার পাওয়াটাই বড় কথা ৷ আপনি এক্সট্রা আওয়ার না খাটলে এক্সট্রা মাইল এগিয়ে থাকবেন কীভাবে? সবার দিনই তো ২৪ ঘণ্টায়। আপনি বাড়তি কী করলেন, সেটাই ঠিক করে দেবে, আপনি বাড়তি কী পাবেন।আপনি ভিন্ন কিছু করতে না পারলে ভিন্ন কিছু পাবেন না।বিল গেটস রাতারাতি বিল গেটস হননি। শুধু ইউনিভার্সিটি ড্রপআউট হলেই স্টিভ জবস কিংবা জুকারবার্গ হওয়া যায় না।

নজরুলের প্রবন্ধ গুলো পড়লে বুঝতে পারবেন, উনি কতটা স্বশিক্ষিত ছিলেন। শুধু রুটির দোকানে চাকরিতেই নজরুল হওয়া যায় না। কিংবা স্কুল কলেজে না গেলেই রবীন্দ্রনাথ হয়ে যাওয়া যাবে না। সবাই তো বই বাঁধাইয়ের দোকানে চাকরি করে মাইকেল ফ্যারাডে হতে পারে না, বেশিরভাগই তো সারাজীবন বই বাঁধাই করেই কাটিয়ে দেয়।

স্টুডেন্ট লাইফে কে কী বলল, সেটা নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। যে ছেলেটা প্রোগ্রামিং করতেই পারত না, সে এখন একটা সফটওয়্যার ফার্মের মালিক। যাকে নিয়ে কেউ কোনদিন স্বপ্ন দেখেনি, সে এখন হাজার হাজার মানুষকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়। কেরিয়ার নিয়ে যার তেমন কোন ভাবনা ছিল না, সে সবার আগে পিএইচডি করতে আমেরিকায় গেছে। সব পরীক্ষায় মহা উৎসাহে ফেল করা ছেলেটি এখন একজন সফল ব্যবসায়ী। আপনি কী পারেন, কী পারেন না, এটা অন্য কাউকে ঠিক করে দিতে দেবেন না ৷

সরকারী ইউনিভার্সিটিতে চান্স পাননি? প্রাইভেটে পড়ছেন? সবাই বলছে, আপনার লাইফটা শেষ? আমি বলি, আরে! আপনার লাইফ তো এখনো শুরুই হয়নি। আপনি কতদূর যাবেন, এটা ঠিক করে দেয়ার অন্যরা কে? লাইফটা কি ওদের নাকি আপনার? আপনাকে ডাক্তার- ইঞ্জিনিয়ার হতেই হবে কেন? যেখানেই পড়াশোনা করেন না কেন, আপনার এগিয়ে যাওয়া নির্ভর করে আপনার নিজের উপর। শুধু ('ওহ শিট ' 'সরি বেবি ' 'চ্যাটিং ডেটিং') দিয়ে জীবন চলবেন না। আপনি যার উপর ডিপেনডেন্ট, তাকে বাদ দিয়ে নিজের অবস্থানটা কল্পনা করে দেখুন। যে গাড়িটা করে ইউনিভার্সিটিতে আসেন, ঘোরাঘুরি করেন, সেটি কি আপনার নিজের টাকায় কেনা?

একদিন আপনাকে পৃথিবীর পথে নামতে হবে। তখন আপনাকে যা যা করতে হবে, সেসব কাজ এখনই করা শুরু করুন। জীবনে বড় হতে হলে কিছু ভালো বই পড়তে হয়, কিছু ভালো মুভি দেখতে হয়, কিছু ভালো মিউজিক শুনতে হয়, কিছু ভালো জায়গায় ঘুরতে হয়, কিছু ভালো মানুষের সাথে কথা বলতে হয়, কিছু ভালো কাজ করতে হয়! জীবনটা শুধু হাহা-হিহি করে কাটিয়ে দেয়ার জন্য
নয়। একদিন যখন জীবনের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে, তখন দেখবেন, পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে, যাথায় আকাশ ভেঙে পড়ছে। স্কিল ডেভেলাপমেন্টের জন্য সময় দিতে হয় । এসব একদিনে কিংবা রাতারাতি হয় না ।

আপনি যখন স্কুল কলেজে পড়তেন, তখন যে সময়ে আপনার ফার্স্ট বয় বন্ধুটি পড়ার টেবিলে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকত, সে সময়ে আপনি তাকে দেখে হাসতেন । এখন সময় এসেছে, আপনি পড়ার টেবিলে বসে থাকবেন। জীবনটাকে যে সময়ে চাবুক মারতে হয়, সে সময়ে জীবনটাকে উপভোগ করলেন, যে সময়ে জীবনটাকে উপভোগ করার কথা, সে সময়ে জীবনটাকে উপভোগ করতে পারবেন না, এটাই স্বাভাবিক। এটা মেনে নিন । মেনে নিতে না পারলে ঘুরে দাঁড়ান।এখনই সময় ! কষ্ট করুন, লক্ষ্য ঠিক রাখুন, ব্যর্থ হবেন কিন্তু থামবেন না, এগিয়ে যান-- ১০০০ বার ব্যর্থ হলে তা থেকে ১০০০ টা শিক্ষা নিন, তারপর সফলতা পান।
সংগৃহীত

26/02/2026

পড়াশুনায় ফেল নেই, স্কুলে শাস্তিও নেই—তাই ছেলেমেয়েদের মধ্যে লেখাপড়ার তাগিদও নেই। আমরা এমন একটা প্রজন্ম তৈরি করছি, যারা জানেই না পরিশ্রমের চাপ কাকে বলে, কিংবা দায়িত্ববোধ কীভাবে তৈরি হয়। বিষয়টা নিয়ে একটু গভীরভাবে কথা বলা দরকার।

আমরা যারা একটু আগের সময়ের মানুষ, সবাই জানি পড়াশোনার নেপথ্যে ছিল তিনটে জিনিস—বকুনি, ভয় আর অভ্যাস। বিদ্যাসাগরের মতো নিজের ইচ্ছায় শিক্ষার প্রতি প্রেম—সেটা ব্যতিক্রম। আমরা বেশিরভাগই পড়েছি মায়ের ধমক, বাবার কঠোর মুখ, আর শিক্ষকের কড়া দৃষ্টির মধ্যে। কিন্তু সেই পদ্ধতিটা আমাদের একটা জিনিস শিখিয়েছিল—দায়িত্ব নিতে হয়। ফেল করলে লজ্জা লাগবে, বন্ধুরা এগিয়ে যাবে, শিক্ষকরা রাগ করবেন—এইসব ভাবনাই আমাদের বইয়ের কাছে ফিরিয়ে আনত।

এখনকার শিক্ষা ব্যবস্থায় “no fail policy” চালুর উদ্দেশ্য অবশ্যই ভালো ছিল। বাচ্চাদের মানসিক চাপ কমানো, স্কুলকে ভয় না পেয়ে শেখাকে উপভোগ করতে দেওয়া—কথাগুলো সুন্দর।

কিন্তু বাস্তবে যেটা হলো, শাস্তি নেই, ভয় নেই, তাই পড়ার চাপটাও নেই। বাচ্চারা জানে—কিছু না করলেও পরের ক্লাসে উঠে যাবে। ফলাফল? মনোযোগ কমে যাচ্ছে, পড়ার অভ্যাস ভাঙছে, আর দায়িত্ববোধ তো প্রায় হারিয়েই যাচ্ছে।

যদিও এখনও সমাজে একটা বড় ভুল ধারণা আছে—শিক্ষা মানেই নম্বর বা চাকরি। কিন্তু আসল শিক্ষার মানে হলো বিচারশক্তি, শালীনতা, যুক্তি, আত্মনিয়ন্ত্রণ, এবং জীবনের প্রতিটা সমস্যার সামনে দাঁড়ানোর মানসিকতা।

পড়াশোনার অভাব মানেই এই দক্ষতাগুলোর অভাব। কেউ স্কুলে ফেল করবে না—চমৎকার। কিন্তু জীবন তো সবাইকে ফেল করায়! তখন? তখন তো বই-পড়া, শেখার অভ্যাস, অধ্যবসায়ের শক্তি—এসবই মানুষকে টেনে তোলে।

আজকের সমাজে অসামাজিক কার্যকলাপ বাড়ছে। যত তদন্ত করা হচ্ছে, দেখা যাচ্ছে শিক্ষার অভাব একটা বড় কারণ। যখন পড়াশোনার সঙ্গে শৃঙ্খলা, আত্মসম্মান, ব্যর্থতার ভয়—এসব বাদ পড়ে যায়, তখন মানুষ সহজেই ভুল পথে যায়। কারণ কোনো ‘ভুল করলে কী ক্ষতি হতে পারে’ সেই ধারণা তার ভেতরে নেই। শিক্ষা শুধু তথ্য দেয় না; এটা চরিত্র গড়ে।

আমরা যদি চাই আগামী প্রজন্ম জানুক দায়িত্ব কী, জানুক পরিশ্রমের মূল্য কত, তাহলে শিক্ষায় বাস্তব মূল্যায়ন ফিরিয়ে আনতে হবে। ‘ফেল’ মানে অপমান নয়—এটা একটা আয়না, যেখানে নিজের অবস্থান দেখা যায়। ফেল করলে সে জানবে কোথায় দুর্বলতা আছে, কী ঠিক করতে হবে। এটাই তো শেখা।

তবে পুরোনো কড়াকড়ি ফিরিয়ে আনার দরকার নেই। শাস্তি মানে পেটানো বা অপমান করা নয়। শাস্তি মানে শৃঙ্খলা। নিয়ম ভাঙলে তার ফল আছে—এই বোধটা তৈরি করা। ক্লাস test-এ ফেল করলে অতিরিক্ত ক্লাস, project-based assessment, mentorship—এগুলো হতে পারে আধুনিক ও কার্যকর উপায়।

সবচেয়ে জরুরি হলো শিশুদের শেখানো যে শিক্ষার মূল্য ক্লাস পাস করার চেয়ে অনেক বড়। বিজ্ঞান শিখলে সে বোঝে গণিতের লজিক। ইতিহাস শিখলে জানে সমাজ কেন এমন। ভাষা শিখলে শেখে প্রকাশের ক্ষমতা। এই ক্ষমতাগুলোর দরকার চাকরির ইন্টারভিউতে যেমন আছে, তেমনি মানুষের জীবনের প্রতিটা মোড়ে আছে।

সবশেষে একটা কথা—শেখা বাচ্চাদের দায়িত্ব, আর তা শেখানো বড়দের দায়িত্ব। মূল্যায়ন না থাকলে শেখা খণ্ডিত হয়। তাই সময় এসেছে শিক্ষা ব্যবস্থায় আবারও বাস্তববাদী মূল্যায়ন ফিরিয়ে আনার। ফেল নয়, ভুল স্বীকারের সুযোগ—এটাই ভবিষ্যৎকে সঠিক পথে ফেরানোর প্রথম ধাপ।(কালেক্টেড)

©️ An Animesh

23/12/2025

১লা জানুয়ারি থেকে ক্লাস VIII, IX, X এর নতুন ব্যাচ শুরু হচ্ছে। ভর্তি চলছে। প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা অভিজ্ঞ টিউটর রয়েছে। কম খরচে ভালো মানের টিউশন/কোচিং পেতে আজই যোগাযোগ করুন Dooars Education Centre, Pototala, Samuktala, Cont, 7585950728.

05/12/2025

বখতিয়ার খলজি ও নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসের কাহিনী শুধু একটি যুদ্ধবিনাশী ঘটনা নয়—এটি ছিল জ্ঞান, সভ্যতা ও মানবিকতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে নির্মম আঘাতগুলোর একটি। ১২০২ খ্রিস্টাব্দে বাংলা দখলের পথে এগিয়ে আসা তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি যখন বিহারের নালন্দায় প্রবেশ করেন, তাঁর হাতে ছিল না শিক্ষা বা সংস্কৃতির কোনো ধারণা—ছিল কেবল দখল, লুট ও ধ্বংসের উন্মত্ত মানসিকতা।

সে সময় নালন্দা ছিল শুধু ভারতবর্ষ নয়, পুরো বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপীঠ—যেখানে চীন, তিব্বত, কোরিয়া, ইরান, গ্রিস, আরবসহ বহু দেশের ছাত্র ও পণ্ডিতরা পড়তে আসতেন। এখানে ছিল জ্ঞানচর্চা, বিজ্ঞান, গণিত, দর্শন, ধর্ম, চিকিৎসাশাস্ত্র ও জ্যোতির্বিদ্যার অমূল্য সব পাণ্ডুলিপির ভাণ্ডার।

কিন্তু বখতিয়ারের সেই বর্বর আক্রমণ ছিল শতাব্দী-প্রাচীন এই মানবিক ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে এক অন্ধ ও ধর্মান্ধ আঘাত। তিনি ও তাঁর সৈন্যরা প্রথমে শান্তিপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আকস্মিক হামলা চালায়, তারপর নির্বিচারে শিক্ষক-সন্ন্যাসী, বৌদ্ধ ভিক্ষু ও ছাত্রদের হত্যা করে। দাবি করা হয়, তখন হাজার হাজার জ্ঞানচর্চাকারী মানুষকে জীবন্ত আগুনে নিক্ষেপ করা হয়। এরপর শুরু হয় ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা—বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল গ্রন্থাগারে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। কোনো যুদ্ধলাভের জন্য নয়, শুধু অজ্ঞতা, ধর্মীয় উগ্রতা ও বিদ্বেষের উন্মত্ত প্রতিশোধে।

বলা হয়, লক্ষ লক্ষ পাণ্ডুলিপি, তাম্রলিপি, চিকিৎসা-বিজ্ঞান, জ্যোতির্বিদ্যার অমূল্য দলিল, বেদান্ত ও বৌদ্ধ দর্শনের প্রাচীন পুঁথি—সবকিছু আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এই আগুন নাকি তিন দিন নয়, তিন মাস ধরে জ্বলেছিল। কারণ বইয়ের পাতা, তালপাতা, চরকাগুজ, কাপড়ে বাঁধানো পাণ্ডুলিপি এত বিশাল পরিমাণে ছিল যে আগুন নিজে নিজেই নিভতে পারেনি। মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্ঞানভাণ্ডারের মৃত্যুঘণ্টা বাজল সেদিন—কোনো যুদ্ধের কারণে নয়, বরং অন্ধ ধর্মীয় বর্বরতার কারণে।

এটি শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পতন ছিল না—এ ছিল জ্ঞান, বিজ্ঞান, প্রজ্ঞা ও মানবিকতার এক মহাভবনের পতন। পৃথিবীর বহু ভাষা ও সংস্কৃতির মিলনস্থল ছিল নালন্দা। সেখানে যুক্তির সঙ্গে মিলিত হতো আধ্যাত্মিকতা, বিজ্ঞানের সঙ্গে দর্শন, আর জ্ঞানের সঙ্গে ধর্মের পরিশীলিত রূপ। সেইসবকিছু পৃথিবী থেকে মুছে গেল আগুনের লেলিহান শিখায়। অজ্ঞতা যখন ক্ষমতার হাতে অস্ত্র হয়ে ওঠে, তখন ইতিহাস শুধুই কাঁদে।

বখতিয়ার খলজির এই কাজ কোনো যুদ্ধবীরত্ব নয়, কোনো ধর্মরক্ষা নয়—এ ছিল সভ্যতার বিরুদ্ধে এক নির্মম, ঘৃণ্য এবং ধৃষ্টতাপূর্ণ আঘাত। ইতিহাস তাকে কখনো বীর হিসেবে স্মরণ করে না। তাকে মনে রাখা হয় এক বর্বর ধ্বংসকারীরূপে—যে আগুন জ্বালিয়েছিল কেবল বই নয়, মানুষের চেতনা, জ্ঞান ও প্রজ্ঞার। মানবসভ্যতা আজও নালন্দার সেই আগুনের ধোঁয়া ভুলতে পারেনি।

যাইহোক, অত্যন্ত বেদনাদায়ক অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই লেখাটি পড়ে ভালো লাগলে অবশ্যই অবশ্যই একটা লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করে সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার বিনীত অনুরোধ রইলো । এগুলো আসল ইতিহাস সকলেরই জানার প্রয়োজন আছে । ধন্যবাদান্তে.... 🙏🙏(কালেক্টেড)

20/11/2025

পড়াশুনায় ফেল নেই, স্কুলে শাস্তিও নেই—তাই ছেলেমেয়েদের মধ্যে লেখাপড়ার তাগিদও নেই। আমরা এমন একটা প্রজন্ম তৈরি করছি, যারা জানেই না পরিশ্রমের চাপ কাকে বলে, কিংবা দায়িত্ববোধ কীভাবে তৈরি হয়। বিষয়টা নিয়ে একটু গভীরভাবে কথা বলা দরকার।

আমরা যারা একটু আগের সময়ের মানুষ, সবাই জানি পড়াশোনার নেপথ্যে ছিল তিনটে জিনিস—বকুনি, ভয় আর অভ্যাস। বিদ্যাসাগরের মতো নিজের ইচ্ছায় শিক্ষার প্রতি প্রেম—সেটা ব্যতিক্রম। আমরা বেশিরভাগই পড়েছি মায়ের ধমক, বাবার কঠোর মুখ, আর শিক্ষকের কড়া দৃষ্টির মধ্যে। কিন্তু সেই পদ্ধতিটা আমাদের একটা জিনিস শিখিয়েছিল—দায়িত্ব নিতে হয়। ফেল করলে লজ্জা লাগবে, বন্ধুরা এগিয়ে যাবে, শিক্ষকরা রাগ করবেন—এইসব ভাবনাই আমাদের বইয়ের কাছে ফিরিয়ে আনত।

এখনকার শিক্ষা ব্যবস্থায় “no fail policy” চালুর উদ্দেশ্য অবশ্যই ভালো ছিল। বাচ্চাদের মানসিক চাপ কমানো, স্কুলকে ভয় না পেয়ে শেখাকে উপভোগ করতে দেওয়া—কথাগুলো সুন্দর।

কিন্তু বাস্তবে যেটা হলো, শাস্তি নেই, ভয় নেই, তাই পড়ার চাপটাও নেই। বাচ্চারা জানে—কিছু না করলেও পরের ক্লাসে উঠে যাবে। ফলাফল? মনোযোগ কমে যাচ্ছে, পড়ার অভ্যাস ভাঙছে, আর দায়িত্ববোধ তো প্রায় হারিয়েই যাচ্ছে।

যদিও এখনও সমাজে একটা বড় ভুল ধারণা আছে—শিক্ষা মানেই নম্বর বা চাকরি। কিন্তু আসল শিক্ষার মানে হলো বিচারশক্তি, শালীনতা, যুক্তি, আত্মনিয়ন্ত্রণ, এবং জীবনের প্রতিটা সমস্যার সামনে দাঁড়ানোর মানসিকতা।

পড়াশোনার অভাব মানেই এই দক্ষতাগুলোর অভাব। কেউ স্কুলে ফেল করবে না—চমৎকার। কিন্তু জীবন তো সবাইকে ফেল করায়! তখন? তখন তো বই-পড়া, শেখার অভ্যাস, অধ্যবসায়ের শক্তি—এসবই মানুষকে টেনে তোলে।

আজকের সমাজে অসামাজিক কার্যকলাপ বাড়ছে। যত তদন্ত করা হচ্ছে, দেখা যাচ্ছে শিক্ষার অভাব একটা বড় কারণ। যখন পড়াশোনার সঙ্গে শৃঙ্খলা, আত্মসম্মান, ব্যর্থতার ভয়—এসব বাদ পড়ে যায়, তখন মানুষ সহজেই ভুল পথে যায়। কারণ কোনো ‘ভুল করলে কী ক্ষতি হতে পারে’ সেই ধারণা তার ভেতরে নেই। শিক্ষা শুধু তথ্য দেয় না; এটা চরিত্র গড়ে।

আমরা যদি চাই আগামী প্রজন্ম জানুক দায়িত্ব কী, জানুক পরিশ্রমের মূল্য কত, তাহলে শিক্ষায় বাস্তব মূল্যায়ন ফিরিয়ে আনতে হবে। ‘ফেল’ মানে অপমান নয়—এটা একটা আয়না, যেখানে নিজের অবস্থান দেখা যায়। ফেল করলে সে জানবে কোথায় দুর্বলতা আছে, কী ঠিক করতে হবে। এটাই তো শেখা।

তবে পুরোনো কড়াকড়ি ফিরিয়ে আনার দরকার নেই। শাস্তি মানে পেটানো বা অপমান করা নয়। শাস্তি মানে শৃঙ্খলা। নিয়ম ভাঙলে তার ফল আছে—এই বোধটা তৈরি করা। ক্লাস test-এ ফেল করলে অতিরিক্ত ক্লাস, project-based assessment, mentorship—এগুলো হতে পারে আধুনিক ও কার্যকর উপায়।

সবচেয়ে জরুরি হলো শিশুদের শেখানো যে শিক্ষার মূল্য ক্লাস পাস করার চেয়ে অনেক বড়। বিজ্ঞান শিখলে সে বোঝে গণিতের লজিক। ইতিহাস শিখলে জানে সমাজ কেন এমন। ভাষা শিখলে শেখে প্রকাশের ক্ষমতা। এই ক্ষমতাগুলোর দরকার চাকরির ইন্টারভিউতে যেমন আছে, তেমনি মানুষের জীবনের প্রতিটা মোড়ে আছে।

সবশেষে একটা কথা—শেখা বাচ্চাদের দায়িত্ব, আর তা শেখানো বড়দের দায়িত্ব। মূল্যায়ন না থাকলে শেখা খণ্ডিত হয়। তাই সময় এসেছে শিক্ষা ব্যবস্থায় আবারও বাস্তববাদী মূল্যায়ন ফিরিয়ে আনার। ফেল নয়, ভুল স্বীকারের সুযোগ—এটাই ভবিষ্যৎকে সঠিক পথে ফেরানোর প্রথম ধাপ ।
সংগৃহীত ।

©️ An Animesh

17/11/2025

সেই এক বিরল মুহূর্ত— যখন মানুষের মস্তিষ্কের গতির সামনে থেমে গেল কম্পিউটার!

১৯৭৭ সালে সাদার্ন মেথডিস্ট ইউনিভার্সিটি, টেক্সাসে ঘটে সেই ঐতিহাসিক ঘটনা—

এক ভারতীয় নারী মাত্র ৫০ সেকেন্ডে সমাধান করলেন এমন একটি জটিল সমীকরণ, যা কম্পিউটারের লেগেছিল আরও ১০ সেকেন্ড বেশি।

তিনি হলেন— শকুন্তলা দেবী, যিনি সারা পৃথিবী জুড়ে পরিচিত “হিউম্যান কম্পিউটার” নামে।

শকুন্তলা দেবীর জন্ম ১৯২৯ সালে ভারতের কর্ণাটকে। তাঁর শৈশব কেটেছে সার্কাসের তাঁবুতে— বাবা ছিলেন ট্রাপিজ শিল্পী ও সিংহ প্রশিক্ষক। প্রথাগত শিক্ষার সুযোগ না থাকলেও মাত্র ৫ বছর বয়সে তিনি মুখে মুখেই যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ করে সবাইকে চমকে দেন।

বাবা তাঁর প্রতিভা চিনে ফেলেন, সার্কাস ছেড়ে মেয়ের গণিত প্রতিভা প্রদর্শনের জন্য শুরু করেন দেশজুড়ে রোড শো।

যেখানেই যান, শকুন্তলার মাথায় যেন সংখ্যার সুর বাজত।
কোনো ক্যালকুলেটর নেই, কোনো কাগজ-কলম নেই— শুধু স্মৃতি আর মস্তিষ্কের অবিশ্বাস্য ক্ষমতা।

১৯৪৪ সালে বাবা-মেয়ের পাড়ি লন্ডনে। সেখানে ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে, বিজ্ঞানসম্মেলনে ও গণিত প্রতিযোগিতায় তিনি মন্ত্রমুগ্ধ করে তুললেন তাবড় অধ্যাপক, গবেষক ও কম্পিউটার বিজ্ঞানীদের।

বিশ্বের নামী প্রতিষ্ঠানগুলিতে তাঁর গণনার ক্ষমতা যাচাই করা হয়— এবং ফলাফল, সবখানেই একটাই:
“Unbelievable but True!”

অবিশ্বাস্য মুহূর্ত– যখন কম্পিউটার হার মানে!!!

সেই বিখ্যাত ঘটনাটি ঘটে ১৯৭৭ সালে—
তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয় সংখ্যাটি:
916748676920039158098866092758538016243... (একটি বিশাল ২০১-অঙ্কের সংখ্যা!)
এর ২৩তম মূল কত?

মাত্র ৫০ সেকেন্ডের মধ্যে শকুন্তলা দেবীর উত্তর: ৫৪৬,৩৭২,৮৯১

কম্পিউটারের উত্তর আসতে সময় লেগেছিল ৬০ সেকেন্ড!

এই ঘটনার পর থেকেই তাঁর নাম ওঠে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে (1982)— “Fastest Human Calculator on Earth” হিসেবে।

১৯৮৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী ড. আর্থার জেনসেন তাঁর মানসিক ক্ষমতা পরীক্ষা করেন।
তিনি দুটি প্রশ্ন দেন—
১️) ৬১,৬২৯,৮৭৫-এর ঘনমূল (Cube root)
২️) ১৭০,৮৫৯,৩৭৫-এর সপ্তম মূল (7th root)

প্রশ্ন শেষ করার আগেই শকুন্তলা দেবী বললেন—
উত্তর: ৩৯৫ এবং ১৫।
ড. জেনসেন নিজে পরে বলেন, “মানব মস্তিষ্কের ক্ষমতা এতদূর পর্যন্ত যেতে পারে, তা আমি কল্পনাও করিনি।”

লেখিকা: ‘The World of Homosexuals’, ‘Astrology for You’, ‘Puzzles to Puzzle You’ সহ বহু বইয়ের লেখক।

জ্যোতিষী: তাঁর জন্মছক বিশ্লেষণ আজও জনপ্রিয়।

রাজনীতিবিদ: ১৯৮০ সালে বেঙ্গালুরু থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন।

রান্নাবিদ: ভারতীয় খাবার নিয়ে রেসিপি বইও লিখেছিলেন।

২০২০ সালে তাঁর জীবনী নিয়ে বলিউডে তৈরি হয় “Shakuntala Devi: The Human Computer” চলচ্চিত্র, যেখানে তাঁর চরিত্রে অভিনয় করেন বিদ্যা বালান।

এই সিনেমা শুধু একটি প্রতিভার গল্প নয়, এটি মানুষের মস্তিষ্কের সম্ভাবনার জয়গান। “যন্ত্র মানুষের সহায় হতে পারে, কিন্তু মস্তিষ্কের বিকল্প হতে পারে না।”

তিনি প্রমাণ করেছিলেন— একটি মানুষের মাথার ভেতরই লুকিয়ে আছে অজস্র সুপার কম্পিউটার।

-সংগৃহীত।

21/10/2025

#শিক্ষনীয় পোস্ট
আত্মনিয়ন্ত্রণের মনোবিজ্ঞান ……!!!
Psychology of self-control
🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸

The psychology of self discipline.
🦋🦋🦋🦋🦋🦋🦋🦋🦋🦋🦋🦋

🌸🌸যে পাথরে হোঁচট খাও, তাকে অভিশাপ দিও না। সেই পাথরই তোমাকে শেখায় কীভাবে আরও দৃঢ়ভাবে হাঁটতে হয়। জীবনের প্রতিটি বাধা তোমার শত্রু নয়। বরং তোমার শিক্ষক। জীবন কখনও তোমাকে পরাজিত করতে পরীক্ষায় ফেলে না, বরং তোমার সহনশক্তিকে শাণিত করে।

🌸🌸আত্মা কখনও আরামে নয়, বরং কষ্টের ভেতরেই শক্ত হয়। প্রতিটি পতনের পর আমরা একটু বেশি ভারসাম্য নিয়ে উঠে দাঁড়াতে শিখি।

🌸🌸আত্মনিয়ন্ত্রণ মানে হচ্ছে নিজের আবেগ, চিন্তা এবং আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক প্রলোভন এড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া যায়। যারা আত্মনিয়ন্ত্রণে দক্ষ, তারা বিভ্রান্তি এড়াতে পারে এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

🌸🌸আত্মনিয়ন্ত্রণ বা Self discipline মানে শুধু না বলা নয়। বরং নিজের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যকে নিজের তাৎক্ষণিক ইচ্ছার উপরে প্রাধান্য দেওয়া। যখন তুমি সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্যায়াম কর, ফোনের নোটিফিকেশন উপেক্ষা করে কাজ শুরু কর, কিংবা রাগের সময় চুপ থেকে নিজেকে সামলে নাও তখনই তুমি নিজেকে জয় করছ।

✅✅গবেষণা বলছে, যাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ বেশি তারা জীবনে সুখী, সফল ও মানসিকভাবে স্থিতিশীল। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিখ্যাত marshmallow test দেখিয়েছে যারা অল্পবয়সে অপেক্ষা করতে শিখেছিল, তারা পরবর্তী জীবনে আরও সফল হয়েছিল। আত্মনিয়ন্ত্রণ জন্মগত নয়; এটি প্রতিদিনের অনুশীলনে গড়ে ওঠে। যেমন পেশী শক্ত হয় ব্যায়াম করলে, তেমনি মানসিক শক্তিও নিয়মিত প্র্যাকটিসে বেড়ে যায়।

🌸🌸তাই পরের বার যখন জীবনের কোন পাথরে হোঁচট খাবে, তখন সেটাকে শত্রু ভেবে দূরে সরিয়ে দিও না। বরং সেই অভিজ্ঞতাকে শিক্ষক হিসেবে গ্রহণ কর। কারণ প্রতিটি ব্যর্থতা তোমাকে এক ধাপ করে শক্তিশালী মানুষ বানিয়ে তোলে।

Transform Yourself - নিজেকে বদলান
🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸
(কালেক্টেড)

12/10/2025

💥 এক শিক্ষক শ্রেণি কক্ষে পড়াচ্ছিলেন। সব ছাত্ররাই শিক্ষকের পড়া খুবই মনযোগ দিয়ে শুনছিল। শিক্ষকের জিজ্ঞাসা করা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর প্রতিটি ছাত্রই উৎসুক ভাবে দিচ্ছিল। কিন্তু এই উৎসুক ছাত্রদের ভিড়েই একজন ছাত্র ছিল, যে কিছু না বলেই চুপচাপ শুধু মাথা নিচু করে বসে ছিল।
প্রথম দিন শিক্ষক কিছু বললেন না। প্রথম দিন থেকেই শিক্ষক তার দিকে নজর দিতে শুরু করেন। এভাবে প্রায় ৫-৬ দিন হয়ে গেল, কিন্তু ছাত্রটির অবস্থার কোনোরূপ পরিবর্তন শিক্ষক দেখতে পেলেন না।
একদিন ক্লাসের পর, শিক্ষক সেই ছাত্রটিকে অফিস কমন রুমে ডাকলেন, এবং বললেন- তোমাকে, কয়েকদিন থেকেই খুব উদাস দেখছি! ক্লাসেও মন দাওনা, এক জায়গায় মাথা নিচু করে চুপচাপ বসে থাকো।
কী ব্যাপার বলতো? তুমি কি পড়া কিছু বুঝতে পারছো না? নাকি তোমার কোনো সমস্যা হয়েছে?
ছাত্রটি কাঁপা কাঁপা গলায় বলল - স্যার আমার জীবনে কিছুদিন আগে এমন কিছু ঘটনা হয়েছে, যা আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। আর এর জন্যই আমি খুব সমস্যায় আছি।
কোনো কিছুতেই মন বসছে না। কিছুতেই বুঝতে পারছিনা কী করব?
শিক্ষক বললেন - আচ্ছা এক কাজ কর, তুমি আজ সন্ধ্যায় আমার বাড়িতে এসো কেমন।
সন্ধ্যা বেলা যখন ছাত্রটি শিক্ষকের বাড়িতে এল তখন শিক্ষক ছাত্রটিকে ভিতরে বসার জন্য বললেন এবং তিনি রান্নাঘরে চলে গেলেন। ও শরবত বানাতে লাগলেন। তিনি ইচ্ছা করেই, ছাত্রটির গ্লাসে বেশি বেশি লবণ দিয়ে দিলেন।
এরপর শরবতের গ্লাস হাতে নিয়ে বাইরে এলেন, এবং একটি গ্লাস ছাত্রটিকে দিয়ে বললেন - এই নাও শরবত।
ছাত্রটি হাতে শরবতটি নিয়ে, যেই না শরবতের গ্লাসে এক চুমুক লাগিয়েছে, শরবত অতিরিক্ত লবণাক্ত থাকায়, ছাত্রটির মুখে বিকৃত ভাব দেখা গেল। এটি দেখে শিক্ষক বললেন - কী হল? শরবতটি পছন্দ হয়নি বোধ হয়!
ছাত্রটি বলল - না স্যার, সবই ঠিক আছে, কেবলমাত্র
একটু লবণ বেশি হয়েছে।
ও হোঃ, তাহলে তো এটি এখন ফেলনা হয়ে গেছে, গ্লাসটি দাও, এটি ফেলে দিয়ে নতুন শরবত বানিয়ে নিয়ে আসি। কিন্তু ছাত্রটি মানা করে বলল - না স্যার, খালি লবণটাই
তো বেশি হয়েছে। একটু জল দিলেই ঠিক হয়ে যাবে।
এই কথাটি শোনার পর শিক্ষক গম্ভীর হয়ে বললেন- হুম, তুমি একদম ঠিক বলেছ, শরবতটাকে নষ্ট না করে, তাতে কিছু জল মিশিয়ে দিলেই, এটি আবার খাওয়ার উপযুক্ত হয়ে যাবে।
এবার এই শরবতটাকে তোমার জীবন ভেবে নাও। যেমন শরবত থেকে লবণ আলাদা করা সম্ভব নয়, ঠিক তেমনই তোমার সমস্যা গুলিকে তোমার জীবন থেকে বাইরে বেড় করা অসম্ভব। কারণ এগুলি জীবনেরই একটি অংশ। কিন্তু যেভাবে এটিতে একটু চিনি বা জল মিশিয়ে এটিকে মিষ্টি করে খাবারের উপযোগী করা যেতে পারে, ঠিক সেভাবেই তুমিও তোমার জীবনে, মিষ্টি ভাব নিয়ে এসো।

✅ শিক্ষণীয় নীতি কথা:
মানুষের জীবনে যদি কোনো সমস্যা না থাকত, তাহলে কোনো মানুষই কোনোদিনই কর্ম করতেন না।
সমস্যা জীবনের অঙ্গ। সমস্যা আছে বলেইতো জীবনের এত স্বাদ। তাই অতীতে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনার খারাপ স্মৃতিতে নিজের মন বিসর্জন দিয়ে বেরঙ্গিন ভাবে বসে থাকলে, জীবনে বেঁচে থাকার আনন্দটাই চলে যায়।
আমরা চাইলেও আমাদের মন থেকে এগুলিকে দূর করতে পারব না। কিন্তু আমরা চাইলেই ভালো কিছু দিয়ে এগুলিকে ঢেকে রাখতে পারি। আর তাই মনে নতুন নতুন সুন্দর ভাবনা দিয়ে সেই অসুন্দর ভাবনাটিকেও ঢেকে ফেলুন, দেখবেন জীবন থেকে সমস্যা হারিয়ে গিয়েছে।

Collected

10/10/2025

শিক্ষা ছাড়া মধ্যবিত্তের মুক্তি নেই!

মধ্যবিত্ত শ্রেণির জীবনে টিকে থাকার একমাত্র উপায় হলো শিক্ষা। পড়াশোনা না করলে ভবিষ্যতে টিউশনির মতো ছোটখাটো কাজও পাওয়া কঠিন হবে। যারা আজ পড়াশোনাকে অবহেলা করছে, তারা ভবিষ্যতে দুনিয়ার কাছে করুণা চাইবে।

শিক্ষা মানে শুধু সার্টিফিকেট নয়—দক্ষতা অর্জনও জরুরি। আগামী পৃথিবী হবে দক্ষতানির্ভর। ছাত্রজীবনে উৎসব-উল্লাসে সময় নষ্ট করলে ভবিষ্যতে আফসোস করতে হবে। উত্তরাধিকারসূত্রে ধনী না হলে, মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করাই একমাত্র পথ।

গুলতেকিন খানের লেখার একটি লাইন—“জীবনে যত ঝড় আসুক, পড়াশোনা শেষ করতেই হবে”—লেখককে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। বিশ্বের বহু তরুণ-তরুণী প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য ছুটছে, অথচ আমাদের দেশে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কম।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, উপকরণ—সবই আছে, কিন্তু মনোযোগ নেই। অভিভাবক ও শিক্ষককে তাগাদা দিতে হয়, তবুও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগী নয়। লাইব্রেরি ফাঁকা, ভালো বইয়ের প্রতি আগ্রহ নেই। ক্লাসে উপস্থিতি কম, পরীক্ষায় পাশ করানো কঠিন।

শুধু সচেতন অভিভাবকদের সন্তানরাই ভালো করছে। বাকিরা কেবল সার্টিফিকেটের পেছনে ছুটছে, যা জাতিকে পিছিয়ে দিচ্ছে। মাস্টার্স পাশ করেও ছেলে চাকরি পাচ্ছে না, মেয়ে বিয়ে হচ্ছে না—শিক্ষা ও বাস্তবতার মধ্যে ফাঁক তৈরি হয়েছে।

শিক্ষা ছাড়া ভবিষ্যতের দুর্দিন অনিবার্য। দক্ষতা ছাড়া সার্টিফিকেট গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়। শিক্ষিত না হলে সমাজে মর্যাদা পাওয়া যায় না। তথ্যপ্রযুক্তি ও জ্ঞান ছাড়া প্রতিদিন পিছিয়ে পড়তে হয়।

শিক্ষা মানুষকে আলোর পথে নিয়ে যায়। যারা পড়তে বলে, তারা হয়তো তিক্ত লাগে, কিন্তু ভবিষ্যতে তাদের কথাই সত্য প্রমাণিত হয়। কয়েক বছর জ্ঞানসাধনায় বিনিয়োগ করলে সারাজীবন ফল পাওয়া যায়।

অশিক্ষিত ধনবান ঝুঁকিপূর্ণ, শিক্ষিত দরিদ্রও সুখী হতে পারে। শিক্ষার্থীদের উচিত পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া, কারণ শিক্ষা কখনো কাউকে বঞ্চিত করে না। আজ যারা সঠিক পথে নেই, তারা চাইলে কাল থেকেই পরিবর্তন শুরু করতে পারে।

শিক্ষা সবসময় দ্বিতীয় সুযোগ দেয়। এখনই সময় নিজেকে গড়ার। বিলম্ব মানেই পিছিয়ে যাওয়া।(কালেক্টেড)
#মধ্যবিত্ত

Address

Samuktala, Check Post. Pototala. Alipurduar Road

736206

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dooars Education Centre, Samuktala Pototala, Beside Holy Light Academy posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

  • Want your school to be the top-listed School/college?

Share