27/05/2025
জিলহজ মাসের আমল: কুরবানী ঈদের আগে চুল-নখ কাটা নিয়ে জরুরি নির্দেশনা! 🌙✂️
ঈদুল আযহা আসন্ন! যারা কুরবানী করার নিয়ত করেছেন, তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত হলো জিলহজ মাসের শুরু থেকে কুরবানী সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত চুল ও নখ না কাটা। অনেকেই এই বিষয়ে জানতে চান, তাই হাদীসের আলোকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিচে তুলে ধরা হলো:
📖 হাদীসের আলোকে বিধান:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
> "যখন তোমরা জিলহজ মাসের চাঁদ দেখতে পাও এবং তোমাদের কেউ কুরবানী করতে চায়, সে যেন চুল ও নখ না কাটে যতক্ষণ না সে কুরবানী দেয়।"
> 📚 – সহীহ মুসলিম: হাদীস ১৯৭৭
>
আরেক বর্ণনায় এসেছে:
> "সে যেন তার দেহের কোনো অঙ্গ স্পর্শ না করে (অর্থাৎ চুল, নখ, চামড়া ইত্যাদি কাটার মাধ্যমে)।"
> 📚 – সহীহ মুসলিম
>
📌 কারা এই বিধান মানবেন?
এই নির্দেশটি প্রযোজ্য শুধু সেই ব্যক্তির জন্য, যিনি নিজে কুরবানী করবেন বা যার নামে কুরবানী হবে (মালিক)। পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক নয়, যদি না তাদের নামে আলাদাভাবে কুরবানী করা হয়।
🗓️ কখন থেকে কখন?
* শুরু: জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়া মাত্র।
* শেষ: কুরবানীর পশু যবেহ করার পর।
💡 এই আমলের হিকমত (উপকারিতা):
* আত্মত্যাগের অনুভূতি: কুরবানীর সাথে নিজের আত্মত্যাগের একটি গভীর সংযোগ তৈরি হয়।
* সুন্নাতের অনুসরণ: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত পালনের সুযোগ মেলে।
* সংযম ও ধৈর্য: নিজের প্রবৃত্তিকে সংযত করার একটি চমৎকার অনুশীলন।
❓ ভুলে কেটে ফেললে করণীয় কী?
যদি কেউ ভুলবশত চুল বা নখ কেটে ফেলেন, তাহলে এর জন্য তওবা করা উচিত। তবে এর কারণে কুরবানী বাতিল হবে না, ইনশাআল্লাহ।
এক কথায়: যারা কুরবানী করার নিয়ত করেছেন, তারা জিলহজ মাস শুরু হওয়ার পর থেকে কুরবানী সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত চুল, নখ এবং শরীরের কোনো অংশ কাটবেন না। এই সুন্নাত পালনের মাধ্যমে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে সঠিকভাবে আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন! 🤲
26/05/2025