15/07/2026
সংক্ষিপ্ত তাফসীর পর্ব—১
আয়াতুল কুরসীর পরিচয়—
আয়াতুল কুরসী সূরা আল-বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত। “কুরসী” শব্দটি এই আয়াতে এসেছে, তাই আয়াতটি “আয়াতুল কুরসী” নামে পরিচিত। এটি কুরআনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়াত। তাফসীরবিদগণ বলেন, এ আয়াতে আল্লাহ তাআলার একত্ব, তাঁর অনন্ত জীবন, পূর্ণ কর্তৃত্ব, অসীম জ্ঞান এবং সৃষ্টিজগতের ওপর তাঁর সর্বব্যাপী ক্ষমতার আলোচনা একত্রে এসেছে।
এই আয়াত শুধু মুখস্থ করার জন্য নয়; বরং এর প্রতিটি বাক্য একজন মুমিনের আকীদা, চিন্তা, আচরণ ও জীবনদৃষ্টিকে সংশোধন করার শক্তি রাখে। যে ব্যক্তি এই আয়াতের অর্থ বুঝে পাঠ করে, তার অন্তরে আল্লাহর মহত্ত্ব, আল্লাহর ওপর নির্ভরতা এবং শিরক-বিদআত থেকে বেঁচে থাকার চেতনা বৃদ্ধি পায়।
ইমাম ইবন কাসীর (রহ.) আয়াতুল কুরসীকে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে উল্লেখিত হাদীসের আলোকে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর আলোচনায় এই আয়াতের মাহাত্ম্যের প্রধান কারণ হলো এখানে আল্লাহর তাওহীদ, সিফাত, জ্ঞান, ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব একত্রে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
يَا أَبَا الْمُنْذِرِ، أَتَدْرِي أَيُّ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ مَعَكَ أَعْظَمُ؟
উবাই ইবনু কা‘ব (রা.)-এর হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, “তোমার কাছে আল্লাহর কিতাবের কোন আয়াত সবচেয়ে মহান?” তিনি আয়াতুল কুরসীর কথা বললে রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর জ্ঞানের জন্য দোআসদৃশ প্রশংসা করেন। সূত্র: সহীহ মুসলিম।
আয়াতের কেন্দ্রীয় বার্তা
اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ
আয়াতুল কুরসীর শুরুতেই ঈমানের সবচেয়ে মৌলিক ঘোষণা এসেছে: আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই। এই ঘোষণা কেবল মুখের বাক্য নয়; এটি মানুষের চিন্তা, উদ্দেশ্য, ভালোবাসা, ভয়, আশা এবং আনুগত্যকে একমাত্র আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেয়। তাই আয়াতুল কুরসী তাওহীদের এমন এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর পাঠ, যা মানুষের অন্তরকে শিরক, অহংকার, ভয় ও বস্তুপূজার মানসিকতা থেকে মুক্ত করে।
এই আয়াতে আল্লাহর কয়েকটি মহান সিফাত একত্রে এসেছে: তিনি আল-হাইয়্য, আল-কাইয়্যূম;
“আল-হাইয়্য” ও “আল-কাইয়্যূম” — দুই মহান নাম
আয়াতুল কুরসীর শুরুতেই আল্লাহ তাআলার দুইটি মহিমান্বিত নাম এসেছে: “আল-হাইয়্য” এবং “আল-কাইয়্যূম”। আল-হাইয়্য অর্থ চিরঞ্জীব; এমন জীবন যার কোনো শুরু বা শেষ নেই, যার মধ্যে দুর্বলতা, অক্ষমতা, তন্দ্রা, নিদ্রা, মৃত্যু বা ক্ষয় নেই। আল-কাইয়্যূম অর্থ তিনি নিজে কারও ওপর নির্ভরশীল নন; বরং সমগ্র সৃষ্টি তাঁর ওপর নির্ভরশীল।
এই দুই নামের মাধ্যমে বোঝা যায়, মানুষ যত শক্তিশালী মনে করুক না কেন, সে সর্বদা আল্লাহর মুখাপেক্ষী। মানুষের জ্ঞান সীমিত, জীবন সীমিত, ক্ষমতা সীমিত এবং মালিকানা অস্থায়ী। কিন্তু আল্লাহ, তাঁর জ্ঞান, ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব অনন্ত ও পূর্ণাঙ্গ।