06/10/2022
সিভির ১৫টি পছন্দ ও অপছন্দের বিষয়:
চাকুরির জন্যে সিভি তো জমা দিতেই হয়। কিন্তু সেই সিভির কোন বিষয়গুলো খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন চাকুরিদাতারা? সম্প্রতি 'ক্যারিয়ার বিল্ডার স্টাডি' দুই হাজার দুই শত জন ম্যানেজারের উপর জরিপ পরিচালনা করে এমন ১৫টি ভালো বিষয় বের করেছেন যা আপনার সিভিতে উল্লেখ থাকলে আপনার চাকুরিদাতা আপনাকে নির্বাচন করতে পারেন। অন্যদিকে, এমন ১৫টি বিষয় বের করা হয়েছে, যা আপনার সিভিতে থাকলে তা চাকুরিদাতার অপছন্দ বা বিরক্তির উদ্রেগ ঘটাতে পারে। নিম্নে ওই ১৫টি ভালো-মন্দ বিষয় আলোচিত হলো :
সিভির ১৫টি ভালো বিষয়:
১. অর্জন : আপনার সিভিতে এটা অবশ্যই উল্লেখ থাকতে হবে যে, পেশাগত জীবনে এ পর্যন্ত আপনার অর্জন কি।
এক্ষেত্রে ৫২ শতাংশ মনোযোগ থাকে চাকুরিদাতার।
২. উন্নতি : আপনার সিভিতে উল্লেখ থাকতে হবে যে, পেশাগত জীবনে এ পর্যন্ত উন্নতি হয়েছে কতটুকু। এক্ষেত্রে ৪৮ শতাংশ মনোযোগ থাকে চাকুরিদাতার।
৩. প্রশিক্ষণ : আপনার সিভিতে উল্লেখ থাকতে হবে যে, যে পেশায় আপনি আবেদন করেছেন, সে পেশায় আপনি প্রশিক্ষিত কিনা। অর্থ্যাৎ, আপনার প্রশিক্ষণ আছে কিনা। এক্ষেত্রে ৪৭ শতাংশ মনোযোগ থাকে চাকুরিদাতার।
৪. ব্যবস্থাপনার দক্ষতা : আপনার সিভিতে উল্লেখ থাকতে হবে যে, আপনার কাজটি গুছিয়ে করার ক্ষেত্রে আপনি কতোটা ভালো ব্যবস্থাপক। এক্ষেত্রে ৪৪ শতাংশ মনোযোগ থাকে চাকুরিদাতার।
৫. সৃষ্টিশীলতা : এখনকার প্রতিযোগীতা মূলক বাজারে নতুন কিছু করে দেখাতে পারলেই সাফল্য আসে। সেক্ষেত্রে আপনাকে সৃষ্টিশীল হতে হবে। আপনার সৃষ্টিশীলতার কিছু উদাহরণ জুড়ে দিন সিভিতে। এক্ষেত্রে ৪৩ শতাংশ মনোযোগ থাকে চাকুরিদাতার।
৬. প্রতিজ্ঞা : আপনার সিভিতে এটা ফুটে উঠা চাই যে, এই চাকুরিটি করার ক্ষেত্রে আপনি কতোটা প্রত্যয়ী। কারণ, আপনার আগ্রহ কতোটা সেটা বিবেচ্য বিষয়ের মধ্যে পড়ে। এক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ মনোযোগ থাকে চাকুরিদাতার।
৭. পরিকল্পনা : আপনি যে, চাকুরির জন্যে আবেদন করছেন, সেখানে সুযোগ পেলে কিভাবে কাজ করবেন তার একটা পরিকল্পনা থাকতে পারে আপনার সিভিতে। এক্ষেত্রে ৩৫ শতাংশ মনোযোগ থাকে চাকুরিদাতার।
৮. প্রভাব : আপনি যে সেক্টরে চাকুরি করতে চাচ্ছেন, সেই সেক্টরে আপনার জানা শোনা কেমন বা প্রভাব কেমন সেটাও তুলে ধরুন সিভিতে। এক্ষেত্রে ২৯ শতাংশ মনোযোগ থাকে চাকুরিদাতার।
৯. কত দূর যেতে পাবেন : চাকুরিটি পেলে আপনি কত দূর যেতে পারবেন সেই আশাবাদও উল্লেখ করুন সিভিতে। কারণ, চাকুরিদাতারা আশাবাদী মানুষ পছন্দ করেন। এক্ষেত্রে ২৮ শতাংশ মনোযোগ থাকে চাকুরিদাতার।
১০. আইডিয়া : আপনি সিভিতে কিছু বিজনেস আইডিয়া শেয়ার করতে পারেন। এতে আপনার চিন্তা-ভাবনার পরিপক্কতা বোঝা যাবে। এক্ষেত্রে ২৭ শতাংশ মনোযোগ থাকে চাকুরিদাতার।
১১. পরিষ্কার আলোচনা : আপনার সিভিতে একটি পরিষ্কার আলোচনা থাকতে হবে, যাতে করে আপনাকে খুব বেশি প্রশ্ন করতে না হয় চাকুরিদাতাকে। আপনার এবং চাকুরিদাতার মধ্যে অধিকাংশ আলোচনাই যেন ওই সিভির মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়ে যায়। এক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ মনোযোগ থাকে চাকুরিদাতার।
১২. উপস্থাপন : কিভাবে সিভিটি লিখছেন বা ডিজাইন করছেন সেটিও নজরে থাকে চাকুরিদাতার। তাই এক্ষেত্রে ব্যাতিক্রম উপস্থাপনের আশ্রয় নিন। এক্ষেত্রে ২৪ শতাংশ মনোযোগ থাকে চাকুরিদাতার।
১৩. বর্তমান আয় : আপনার বর্তমান আয় উল্লেখ করুন সিভিতে। তাহলে চাকুরিদাতা বুঝতে পারবে আপনার বর্তমান স্ট্যাটাস সম্পর্কে। এক্ষেত্রে ২৩ শতাংশ মনোযোগ থাকে চাকুরিদাতার।
১৪. অর্থ পরিকল্পনা : যদি এমন কোনো চাকুরি হয় যেখানে আপনাকে কোনো পন্য প্রস্তুত করতে হবে, সেখানে আপনি ওই পন্য তৈরীর খরচটাও আপনার সিভিতে তুলে দিন। চেষ্টা করবেন অন্যদের চেয়ে কম বাজেট দিতে। এক্ষেত্রে ১৬ শতাংশ মনোযোগ থাকে চাকুরিদাতার।
১৫. সফলতা : এই চাকুরিতে ইতিপূর্বে আপনার সফলতা তুলে ধরেন। এক্ষেত্রে ১৩ শতাংশ মনোযোগ থাকে চাকুরিদাতার।
সিভির ১৫টি অপছন্দের বিষয়:
১. পারিবারিক পরিচিতি : প্রতিষ্ঠান চাকুরি দেবে আপনাকে, আপনার পরিবারকে নয়। তাই আপনার বিষদ পারিবারিক পরিচিতি সিভিতে দেয়া দরকার নেই। এক্ষেত্রে ৩৮ শতাংশ অনীহা থাকে চাকুরিদাতার।
২. ধৃষ্টতা : আপনি আপনার আত্নবিশ্বাস প্রকাশ করতে পারেন সিভিতে। কিন্তু, অতিরিক্ত আত্ন বিশ্বাস বা ধৃষ্টতা প্রকাশ করলে আপনাকে অপছন্দ করাই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে ২৭ শতাংশ অনীহা থাকে চাকুরিদাতার।
৩. প্রসঙ্গের বাইরে আলোচনা : যে চাকুরি করবেন সেই চাকুরি সংশ্লিষ্ট আলাপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকুন সিভিতে। বাইরের আলোচনা দরকার নেই। এক্ষেত্রে ২৬ শতাংশ অনীহা থাকে চাকুরিদাতার।
৪. দলাদলি : আপনি যদি ইতিপূর্বে কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকুরির সুবাদে ইউনিয়ন বা দলাদলি করে থাকেন, তবে সেই অভিজ্ঞতা সিভিতে ভুলেও উল্লেখ করবেন না। কেউই চান না তার প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক অসন্তোস দেখা দিক। এক্ষেত্রে ২২ শতাংশ অনীহা থাকে চাকুরিদাতার।
৫. কোনো ব্যক্তির তদবীর : আপনার পরিচিত কোনো ব্যেক্তির লিখিত তদবীর যেন আপনার সিভিতে না থাকে। এক্ষেত্রে ২২ শতাংশ অনীহা থাকে চাকুরিদাতার।
৬. নের্তৃত্বের বাসনা : এমন কোনো বিষয় যেন সিভিতে না থাকে, যাতে আপনার মনে সঞ্চিত নের্তৃত্বে বাসনা ফুটে উঠে। এক্ষেত্রে ১৬ শতাংশ অনীহা থাকে চাকুরিদাতার।
৭. গুরুত্ব তুলে ধরা : এমন কিছু লিখবেন যাতে অহেতুক আপনার গুরুত্ব ফুটে উঠে। এক্ষেত্রে ১৬ শতাংশ অনীহা থাকে চাকুরিদাতার।
৮. প্রভাবিত করার উপাদান : এমন কিছু বিষয় থাকে যা নির্বাচকরা 'প্রভাবিত' করার চেষ্ঠা হিসেবেই বাকা চোখে দেখে থাকেন। এরকম বিষয় এড়িয়ে যেতে হবে আপনাকে। এক্ষেত্রে ১৬ শতাংশ অনীহা থাকে চাকুরিদাতার।
৯. সহকারী মনোভাব : এমন কিছু প্রকাশ করবেন না যাতে আপনাকে উল্লেখিত পদের বদলে তার সহকারীর পদে উপযুক্ত মনে হয়। এক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ অনীহা থাকে চাকুরিদাতার।
১০. বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি : সার্বজনীন হতে হবে আপনাকে। এমন কিছু লিখবেন যাতে আপনাকে কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি মনে হয়। এক্ষেত্রে ১৪ শতাংশ অনীহা থাকে চাকুরিদাতার।
১১. কঠোর পরিশ্রম : এটা বোঝানোর দরকার নেই যে, আপনি কঠোর পরিশ্রমী। অনেক ক্ষেত্রেই কায়িক পরিশ্রমের চেয়ে মানসিক পরিশ্রমের মূল্য অনেক বেশি। এক্ষেত্রে ১৩ শতাংশ অনীহা থাকে চাকুরিদাতার।
১২. কৌশলী চিন্তা : আপনি এমন কিছু তুলে ধরবেন না যাতে আপনাকে ধূর্ত মনে হয়। এক্ষেত্রে ১২ শতাংশ অনীহা থাকে চাকুরিদাতার।
১৩. বহুমাত্রিকতা : সৃষ্টিশীলতা যেমনি পছন্দনীয় বিষয় তেমনি বহুমাত্রিকতা ভালোবাসেন না অনেকেই। কারণ, এর সঙ্গে ভবঘুরেপনার সংযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে ১২ শতাংশ অনীহা থাকে চাকুরিদাতার।
১৪. নিজেকে পরিবর্তন : আপনি যা নন, সেটা কখনো সিভিতে তুলে ধরবেন না। কারণ, সাক্ষাৎকারের সময় আপনি ধরা পড়ে যাবেন যে, আপনি তেমন নন, যেমনটি আপনি সিভিতে উল্লেখ করেছেন।
১৫. সম্পূর্ণ অপারগতা : অনেক সময় অনেকেই এমন কিছু লিখেন যাতে তার অজান্তেই নিজের অপরগতা ফুটে ওঠে। এক্ষেত্রে ১১ শতাংশ অনীহা থাকে চাকুরিদাতার।