07/14/2026
অনেকে হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন—নিরাপদ, স্বচ্ছ ও দালালমুক্ত বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং রেমিট্যান্স বৃদ্ধির বিষয়ে আমি এতটা উদ্বিগ্ন কেন?
কারণ, বিষয়টি শুধু প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে দেশের বেকারত্ব হ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা সরাসরি জড়িত। সরকার পরিবর্তিত হয়, অর্থনৈতিক নীতির ভাষাও বদলায়; কিন্তু প্রায় সব সরকারই রেমিট্যান্স বাড়লে স্বস্তি প্রকাশ করলেও এর মূল উৎস—নিরাপদ, দক্ষতাভিত্তিক ও ভালো বেতনের বৈদেশিক কর্মসংস্থান—বাড়ানোর বিষয়টিকে জাতীয় অর্থনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রে রাখে না; এমনকি এ লক্ষ্যে আন্তরিক, সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ নিতেও দেখা যায় না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে **প্রায় ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার** পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় **১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি**। অথচ আমরা রেমিট্যান্স দেশে আসার পর তার হিসাব করি, কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় এই আয় সৃষ্টি হয়—নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান, দক্ষতা প্রশিক্ষণ, স্বচ্ছ নিয়োগ, কম খরচে বিদেশযাত্রা এবং শ্রমিকের সুরক্ষা—সেখানে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করি না।
এই উপলব্ধি থেকেই আমি কয়েকটি নীতিগত ও বাস্তবমুখী প্রস্তাব প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরিকে এবং প্রতিমন্ত্রী জনাব নুরুল হক নূরের কাছে পাঠিয়েছি; তবে এখনো কোনো সাড়া পাইনি।
তাই বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরা জরুরি। কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের ওপর প্রয়োজনীয় জনমত ও নীতিগত চাপ সৃষ্টি করতে হবে। গণমাধ্যম, প্রবাসী সংগঠন, নাগরিক সমাজ ও সচেতন মানুষ সোচ্চার হলে দেশের অসংখ্য বেকার যুবকের জন্য নিরাপদ কর্মসংস্থানের পথ খুলবে। বিদেশগামী শ্রমিকেরা দালালচক্র, প্রতারণা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পাবেন। আর দেশের অর্থনৈতিক শক্তিও বৃদ্ধি পাবে—যা যেকোনো সরকারের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার এক বিরাট সহায়ক শক্তি হবে। এই সহজ সরল বিষয়টি বুঝতে বিরাট অর্থনীতিবিদ হতে হয় না — লাগে শুধু সদিচ্ছা আর সাহস।