গল্পটির ঘটনা ও চরিত্র কাল্পনিক । যদি কারো সাথে মিলে যায় তবে তা শুধুমাত্র কাকতালীয় ছাড়া আর কিছুই নয় !! :p :p
ইন্টারমিডিয়েট পাসের পর পর ই সব ছেলে-মেয়ের কপাল হয় নাহ তার নিজের মনের মতন কোন সাবজেক্ট নিয়ে পড়াশুনা করার । হতে চায় ডাক্তার হয়ে যায় রুগী । মানে আমার যেটা ভাল লাগে না সেটা নিয়ে পড়তে হলে তো রুগীই হতে হবে তাই না ??
যাই হোক ! এই সব হেন তেন করতে করতে অনেকের এইচএসসি পাসের পর ও দুই-তিন বছর লেগে যায় বিশ্ববিদ্যালয় এ ঢুকতে ঢুকতে !! কেও কেও আবার ছোট ভাই দের সাথে পড়তে হবে ভেবে লজ্জায় আর ও অনেক বেশি পিছিয়ে পরে ।।
শুভ তাদের মদ্ধেই একজন । ছেলে হিসাবে একটু সৌখিন ধাঁচের। অনেকটা কাল্পনিক স্বভাবের !! করার থেকে একটু বেশিই ভাবে । যাই হোক সবাই তো আর নিউটন না আর তার এই ডাইলগটা ও ভাল লাগে নাহ যে '' শুভ তোমাকে একদিন নিউটন হতে হবে '' তার কথা সে শুভই হবে ।। হেন-তেন করতে করে তাকে শেষ প্রজন্ত কোন এক বিশবিদ্দালয়ের দেয়ালে এসে থেমে যেতে হল । ততখুনে অনেকটা দেরি হয়ে গেছে তার বন্ধুগুলো এখন প্রায় অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান শেষ করার পথে । কেও কেও আবার পড়াশুনা শেষ করে ইন্টার্নশিপ ও করা শুরু করে দিয়েছে । কেন, বিন্তির তো বিয়েও হয়ে গেছে , শুনেছি বাচ্চা ও নাকি হবে হবে ভাব ... !! বিন্তি তার সাবেক প্রেমিকা।
হয় না ? '' হয় তো জিবনের এত গুলো বসন্ত পার করলে একটা না একটা কোকিলের প্রেমে পরতেই পারে । অসম্ভব কিছু না । কিন্তু কোকিলগুলা বরই চালাক প্রকৃতির । সর্বদাই কাকের বাসাকে ব্যাবহার করে ......... সে যাই হোক কোকিলের গল্প না হয় অন্যদিন হবে ...... আজ কাকের গল্পে আসি ......
এত কিছুর পরে ও তার এগুলো ভাবতে গেলে আরও দেড়ি হয়ে যাবে । ভাবনাগুলোকে পায়ের নিচে চটকিয়ে সে ধুকে পড়লো তার নতুন জিবনে .....
সবার মাঝে নিজেকে কেমন জানি অদ্ভুত লাগছে । আর ও বেশি অদ্ভুত লাগছে যখন দেখল তার ই কিছু পরিচিত ছোট ভাই তার উপরের ক্লাসে পড়ে...। যাইহোক মানুষ বরই আজিব চিড়িয়া নিজেকে সব কিছুর সাথে মানিয়ে নিতে কারো কারো খুব বেশি সময় লাগে নাহ । অনেকটা ঐ পানির মতন । শুভ তাদের মদ্ধেই একজন । বানিয়ে ফেলল কিছু আপন মানুষ । খুব ভালই চলে যাচ্ছিল । আবার অনেকটা আগের জীবন ফিরে পাওয়া নতুন করে । ক্লাস , বন্ধুদের সাথে আড্ডা , রাস্তার পাশে বসে চিল্লিয়ে গান গাওয়া !! বাহ এই তো জীবন ।
ক্যাম্পাস এর সামনেই হঠাৎই একদিন পড়লো একটু বিব্রিতিকর অবস্থায় ।ধুম্রসলাকা ফুঁকিতেছিলেন গল্পের কর্ণধার । এমন সময় এক ছেলে আসলো । ‘’ এই ছেলে তুমি ফ্রাস্ট ইয়ার না ? সাইজ দেখে শুভর ভাললাগলো না , ভুরুটা হাল্কা ৯০ ডিগ্রি এঙ্গেলে ঘুড়িয়ে উত্তর দিল ‘হুম’ । কেন ?
নাবালক বালকটি কিছু না বলে কাবিলার মতন ভাব নিয়ে চলে গেল ক্যাম্পাস এর ভিতরে । পরের দুইটা ক্লাসের পড়েই তার ডাক পড়লো । উপরের বড় ভাইরা তাকে একটু ডাকছে । কি জানি বেয়াদবি করেছে নাকি সে। ঘটনা বুজতে তার বাকি রইল না । কলেজ লাইফে এইরকম ঘটনার ভিলেন সে ছিল একটা সময়ে । কি আরা করার এখানে ব্যাপারটা ঠিক উল্টো হল । ভিলেনের যায়গার দুর্ভাগ্যবশত সে নায়কের পার্ট টা পেয়েছে । কি আর হবার ঘাড়টা একটু তেড়া হলেও পরাজিত হল সে। বোঝাতে বার্থ হল সে ‘যে সিগারেট খাওয়া কোন খারাপ জিনিস নয় বা বেয়াদবি না । এটা সবার মৌলিক অধিকার । আমাদের মন-মানসিকতা পাল্টানোর দরকার !! এটা তো আর বাংলা মুভি না যে অনন্ত জলিল হয়ে যাবে অথবা থ্রি ইডিয়টস এর আমির খান!! উচ্চমাপের বেয়াদব উপাধি এবং কিছু হিজরার ড্যান্স এর অভিজ্ঞতা নিয়ে সে ফিরে আসলো .........
কি করার তার কিছুই করার নাই একটা ই উপায় আছে তার । নিজেকে ছোট করে তোলা । ঐ যে বললাম মানুষ পারে না এমন কোন কাজ নেই । নিজেকে মানিয়ে নিল শুভ তার বর্তমান সময়ের সাথে । একটু একটু করে সে ছোট হতে শুরু করল । আর পড়াশুনা ? ঐটা তো বললাম । ডাক্তার হতে যেয়ে কেও কেও রুগী হয়ে যায় । শুভর বেলাতেও তার বেতিক্রম হল না । নিজে তো আর উপার্জন করে না , বাবার টাকায় পড়াশুনা করতে হলে তাকে বাপের মন মতন ই পড়তে হবে । মাতব্বারি করতে যেয়ে তিন-চারটি বছর সে হারিয়েছে । আর কোন কথা বলার মুখ নেই তার । বাবা মা অবশ্য কখনই খারাপ চান না । তারা সব সময় ই চান তাদের ছেলে মেয়ের জন্য খুব ভাল একটা যায়গা করে দিয়ে যেতে ।
এই জীবন তো আর থ্রি ইডিয়ট মুভি না যে সে বাবা , মা কে কনভেন্স করবে । চিন্তা করতে থাকে সে । হারিয়ে যায় আস্তে আস্তে চিন্তা করতে করতে ।। সময় তাকে ছেরে দূরে চলে যায় !! অনেক দূরে !! শুভ নামের ছেলে গুলার গল্পগুলির শেষ অনেকেই দেখতে পারে না ...... কারন সব শুভ তাদের গল্প গুলি শেষ করতে পারে না .........
V# BoyZ MeherPur
We are innocent boy of meherpur.
uzzal,jhony,rahim,pavel,sadiq,sobur,rishat,ano,argho,gomaz ovi shuvo plabon azam adnan bumba sanuar putu zahid sanny parvez tauhid moni shawon and dada, And all 2008 ssc batch of meherpur gov.boyZ school.
24/09/2013
অতীত ঘুরে আসার জন্য একটা ভালো যায়গা, কিন্তু অতীতেই থেকে যাওয়াটা ভয়াবহ। আপনি পেছনে তাকাতে পারেন, পুরনো স্মৃতি মনে করতেই পারেন,তবে আপনাকে সামনেই এগিয়ে যেতে হবে। অতীত যেন আপনার পিছু টেনে না ধরে।
আজ থেকে ছয় বছর আগে...
কলেজের প্রথম ক্লাস। ক্লাস টিচার এক স্টুডেন্ট এর সাথে পরিচিত হচ্ছেন..
- কি নাম?
- যুগল কিশোর রায়
- আগে এই স্কুলেই ছিলে?
- মানে স্যার?
- এসএসসি কোন স্কুল?
- গ্রামের স্কুল
প্রতি বছর গ্রামের স্কুলে যারা ভালো রেজাল্ট করে তাদের কেউ কেউ আমাদের কলেজে ভর্তি হয়। এরা হয় খুবই সহজ সরল। যুগল কিশোর ছিলো তেমনই একজন। গোটা ক্লাস বেঞ্চের কোনায় চুপচাপ বসে থাকতো।
ছেলেটা একা থাকতো। কারো সাথে মিশতো না। মিশতে পারতো না। শহরে যে মেসে থাকতো সেখানের মেস মেটদের সাথেও সম্পর্ক ভালো ছিলো না।
এত চাপ সহ্য করতে না পেরে সে একদিন ঝরে পড়লো। প্রথম পর্ব পরীক্ষার কিছু আগে থেকে হঠাত তাকে আর ক্লাসে আসতে দেখলাম না। শুনলাম সে গ্রামে চলে গেছে। লেখাপড়া বাদ ! গ্রামে গিয়ে কৃষিকাজ শুরু করে দিয়েছে !
এক বছর পর..
শোনা গেলো যুগল আবার কলেজে ফিরে এসেছে! সে এখন আমাদের জুনিয়র। ফার্স্ট ইয়ারের ক্লাস শুরু করে দিয়েছে। টুকটাক কথা হতো দেখা হলে।
আরো একবছর পর...
আমি ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছি। একদিন শুনলাম সেই যুগল কিশোর নাকি কলেজের ফার্স্ট বয় হয়ে গেছে !
তার পরের বছর..
আমাদের পরের ব্যাচের এডমিশন টেস্টের রেজাল্ট বের হয়েছে। শুনলাম কলেজ থেকে যুগল কিশোর নামের গোল্ডেন এ+ পাওয়া ছেলেটা নাকি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়ে গেছে!!
ছয় বছর পর, দুই দিন আগের কথা...
যুগল কিশোরের সাথে দেখা। আমার হলের সামনে। দেখেই চিনলাম। সে রাজশাহী বেড়াতে এসেছে। তাই দেখা করতে এসেছে আমার সাথে।
রাজশাহীর বিখ্যাত বেলদার পাড়ার শিক বার্গার খাওয়াতে নিয়ে গিলাম। এত দিনের কৌতুহল মেটাতে জিজ্ঞেস করে বসলাম সেই এক বছরের কথা। যেটা আমি জানি না।
- তুই কৃষিকাজ শুরু করলি। এরপর কি এমন হলো? কিভাবে ফিরে আসলি?
- আমি পড়াশুনা করবো না ঠিক করেছিলাম। পড়াশুনা ভয় পেতে শুরু করেছিলাম।
- তারপর
- একদিন আমার এক বন্ধু আমার সাথে কথা বললো। তার কথা আমি জীবনেও ভুলবো না।
- কি বলছিলো সে?
- সে বলছিলো-যুগল নিজের কথা ভুলে যা আজ থেকে। শুধু মা বাবার কথা ভাব। শুধু মা বাবার জন্য পড়াশুনা কর।
সহজ সরল একটা কথাও বদলে দিতে পারে আপনার জীবনকে। তবে সেই কথাটা খুঁজে নিতে হবে আপনাকে। তাতে বিশ্বাস করতে হবে।
যুগল তার জীবনকে বদলে দেওয়া কথা খুঁজে নিয়েছিলো তার বন্ধুর এই কথাটার মধ্যে। এরপর শুধুই মা বাবার জন্য চিন্তা। কোনোদিকে না তাকিয়ে মা বাবার জন্য পড়াশুনা...
বন্ধু একদিন অনেক বড় ডাক্তার হবে এই শুভকামনা রইলো। যুগল কিশোর হতে পারে আমাদের সবার জন্য অনুপ্রেরণা
তোমার যা আছে তার জন্য আল্লাহকে ধন্যবাদ দাও। তুমি সামনের দিনগুলোতেও আরো অনেক কিছুই পাবে। তার জন্যও আল্লাহকে ধন্যবাদ দাও। কিন্তু তোমার যা নেই,তা নিয়ে যদি তুমি সারাদিন আফসোস করতে থাকো তাহলে হয়তো সামনের দিনগুলোতে তোমার কিছুই থাকবে না।
তুমি যেরকম আছো সেরকমই থাকো। তুমি যা বিশ্বাস করো সেই কথাই বলো। এতে যারা মন খারাপ করবে তারা গুরুত্বপূর্ণ নয়। যারা গুরুত্বপূর্ণ তারা এতে কখনোই মন খারাপ করবে না।
আপনার জীবনে আসা কোন দিনকে কখনো দোষ দিবেন না। একটি ভালো দিন হয়তো আপনাকে আনন্দ দিবে, কিন্তু একটি খারাপ দিন আপনাকে দিবে অভিজ্ঞতা।
আমাদের জীবনে এই দুইটিরই বড় রকমের প্রয়োজন আছে। মনে রাখবেন, সুখ- দুঃখ, আনন্দ-বেদনা সব কিছুই আমাদের জীবনে পর্যাপ্ত শিক্ষা অর্জনের জন্য প্রয়োজন।
plz like my page
আমাদের গল্প গুলো ভালবাসার ডাকপিওন থাকে কপি করা
ভালবাসার ডাকপিয়ন (the cafe of love) · 91,848 like this.
5 June at 10:30 ·
“একজন আর্মি অফিসার বলছি”
By- Toukir Fullstop
“আর্মি” এই কথাটির মধ্যেই কেমন যেন একটি গৌরব জড়িয়ে আছে তাই না!!! অনেক তরুণের জীবনের লক্ষ্য থাকে যে আর্মির কমিশন্ড অফিসার হওয়া। সেই তরুণদের মধ্যে আমিও একজন ছিলাম। আর্মি তে ঢুকার জন্য আমায় প্রেরণা জুগিয়েছিল আমার আপু। আপুর খুব ইচ্ছা ছিল যে আমি আর্মির অফিসার হব। তাই আর্মির অফিসার হওয়ার জন্য কলেজ থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করা শুরু করলাম।আমার আপুমনিটা আমাকে মাঝে মাঝে একটা কথা বলতো “ভাইয়ারে,তকে আমি আর্মির পোশাকে দেখতে চাই”। তুই আর্মিতে চান্স পেলে তোর পাসিং আউটের সময় তোর কাঁধের রেঙ্ক কিন্তু আপুই খুলে দিব” ।আমার চশমা পরতাম বলে আমার মনে সংশয় ছিল যে আমি আর্মিতে টিকতে পারব নাকি। আমার চাকুরীজীবী বাবার পক্ষে আমার চোখের লেসিক করানো সম্ভব ছিল না। আপু তখন আপুর খুব বড় মামা থেকে পাওয়া দামি মোবাইল সেটটা বিক্রি করে আর বন্ধুদের থেকে ধার করে আমার চোখ লেসিক করিয়ে দেয়। এরপর আমি আর্মি তে ট্রাই করি আর সকলের দোয়ায় টিকেও যাই। যেদিন আমি টিকলাম সেইদিন আপু আমাকে ধরে যেভাবে কান্না করেছিল তা আমার এখনো মনে পড়ে। আপনারা অনেকেই জানেন যে আর্মিতে খুব কষ্ট দেয়। আমার মাঝে মাঝে মনে হত যে আমি পালিয়ে এসে পরি ।কিন্তু আমার আপুমনিটার মুখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট মুখ বুজে সহ্য করেছি। মাঝে মাঝে জিইসি তে এসে আমার আপুটার সাথে দেখা করতাম। আমার আপুমনিটা আমার দিকে তাকিয়ে হেসে বলতো “ভাইয়া আর কয়েকদিনই তো, এরপর তুই যখন B.M.A থেকে বের হবি তখন কিন্তু আপুকে নিয়ে তোর গাড়ি দিয়ে ঘুরাতে হবে”। দেখতে দেখতে আমার পাসিং আউটের দিন চলে এল। মনে তখন কেবল প্রতীক্ষা কবে একজন আর্মি অফিসার হয়ে আমার আপুর সামনে দাঁড়াবো। আমার পাসিং আউটের কয়েকদিন আগে আপু দাদুর বাড়িতে দাদুর কবর জিয়ারত করতে গিয়েছিল। এরপর আপুর সাথে আমার জি ই সি তে পর্যন্ত কোন দেখা হয় নাই। আমি মনে করেছিলাম হয়তো আপুর পরীক্ষা চলছে তাই হয়তো আসতে পারে নাই। দেখতে দেখতে আমার পাসিং আউটের দিন চলে এল। সবার মা ,বাবা আর ভাই বোন সেখানে উপস্থিত ছিল,কিন্তু আমি আমার আপুকে সেই মানুষদের মাঝে খুজে পেলাম না। কিছুক্ষন পর দেখি আমার ছোট চাচি আমার পাসিং আউটের অনুষ্ঠানে আমার অভিভাবক হিসাবে এসেছে। আমি চাচীকে জিজ্ঞেশা করলাম “আপু কই”? কিন্তু চাচি আমার কথার উত্তর না দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকলেন।চাচি আমার রেঙ্ক পরিয়ে দিলেন। এরপর অনুষ্ঠান শেষে আমার চাচি কেন যেন আমাকে জড়িয়ে ধরে রাখলেন।আমি জিজ্ঞেশা করলাম কি হয়েছে ?কিন্তু আমার চাচি আমার কোন প্রশ্নের উত্তর দিলেন না। এরপর আমাকে বললেন তার সাথে তাড়াতাড়ি কোথায় যেন জেতে।আমি চাচির সাথে সি এন জি তে উঠলাম । সি এন জি কে চাচি বললেন মেট্রোপলিটন হাসপাতাল যেতে । চাচি কেন হাসপাতাল যাচ্ছে আমি তা বুঝতে পারছিলাম না। হাশপাতালে গিয়ে দেখি আমার বাবা মা সবাই সেখানে বসে আছে।আমি আসার সাথে সাথে আমার বাবা আমাকে ধরে কাঁদতে শুরু করলেন।আমি বুঝতে পারছিলাম না আসলে ঘটনা কি ঘটেছে। বাবা কাঁদতে কাঁদতে আমাকে বললেন যে- “তোর আপু আর নেই রে বাবা,দাদুর বাড়ি থেকে আসার সময় রাস্তা পার হওয়ার সময় তোর আপু এক্সিডেন্ট করে সাথে সাথে মারা গিয়েছে” ।আমার পা থেকে যেন মাটি সরে গেল। আমার পুরো দুনিয়াটা ঘোলা হতে শুরু করল। মর্গে গিয়ে আমার আপুমনিটাকে শেষবারের মতো দেখে আসলাম। আপুর ইচ্ছা ছিল যে আমার পাসিং আউটের পর আপু আর্মিদের গাড়ি করে ঘুরবে। সেই ঘুরা আর আমার আপুমনিটার হল না কিন্তু আমার আপুমনিটার আত্মার শান্তির জন্য আপুর লাশ আর্মির গাড়ি করে নিয়ে গেলাম। আমি বার বার পিছে তাকাচ্ছিলাম।আমার মনে হচ্ছিল আপু আমার পিছে বসে আমার সাথে কথা বলছে। বাসায় এসে আপুর জানাজা হল। এরপর আপুকে নিয়ে চললাম কবরের দিকে। যে কাঁধের রেঙ্ক এ আজকে আপুর হাত থাকার কথা ছিল, সেই কাধেই আপুর খাটিয়া নিয়ে চললাম। আপুকে নামিয়ে দিয়ে আসলাম এক অন্ধকার জগতে। আপুর অনেক ইচ্ছা ছিল আমাকে আর্মির ড্রেসে দেখবে,আপুর সেই ইচ্ছা আর পুরন হল না। আমি তাও আপুর আত্মার শান্তির জন্য আর্মির কমব্যাট পড়ে আপুকে কবর দিয়ে চলে গেলাম।বারবার কেবল মনে হচ্ছিল আমি মনে হয় আমার কলিজাটাকে রেখে এসেছি। আপুর মৃত্যুর পর অনেক পাসিং আউট প্রোগ্রাম দেখেছি। সেই প্রোগ্রামের মধ্যে আমি খুজে বেড়িয়েছি আমার আপুমনিটাকে, কেবল মনে হত কেউ মনে হয় আমার কাঁধের রেঙ্ক এ হাত দিয়ে রেখেছে আর মাথায় হাত বুলিয়ে বলছে “ভাইয়ামনি দেখ তোর আপুমনি এসে গিয়েছে।“ এখনো রাতে ঘুমালে স্বপ্ন দেখি কে যেন আমার কাধে রেঙ্ক পরিয়ে দিচ্ছে, সে আর কেউ বা,আমার কলিজার টুকরা আপুমনি।
*কাউকে ভালবাসতে হলে যে কেবল প্রেমিক প্রেমিকা হয় তা কিন্তু নয়,ভালবাসা ভাই বোন ,মা বাবার মাঝেও হয়।অনেকে হয়তো বলবেন যে কেন গল্পের আনন্দময় সমাপ্তি হল না। আমি তাদের বলব জীবনে এমন অনেক ঘটনাই ঘতবে যার সমাপ্তি আনন্দময় হবে না। গল্পে যদি কোন ভুল হয়ে থাকে তাহলে আমায় মাফ করবেন
নাম- এক টুকরো ভালবাসা
By- Ahosan Soikot
ভাই, আপনাদের দোকান কয়টা পর্যন্ত খোলা থাকে রাতে??
ঠিক নাই স্যার। কখনো ১১ টা। কাজ বেশি থাকলে সাড়ে ১১ টা।
ও! আচ্ছা আমি যদি রাত ১১ টায় আসি তাহলে কি পাব?
জি স্যার পাবেন। সমস্যা নেই।
থ্যাংক ইউ।
অফিস থেকে এসেই রিমন এর মুড অফ। অধরা কয়েকবার জিজ্ঞাসা করলেও কথা বলেনি রিমন।
“চা খাবে? চা দিব?”
না।
“কি হইছে তোমার? মুড অফ কেন”?
“কিছু না। এমনিতেই। মুড অফ না।“
“তাহলে এমন গম্ভীর হয়ে আছো কেন? কি খেলা নিয়ে বসছ এসেই। দেখি রিমোট টা দাও। বলেই হাত থেকে রিমোট টা কেড়ে নিলো অধরা।“
“কখনো একটু শান্তিমত টেলিভিশন দেখতে দিছ আমাকে? কোন কাজ তোমার জন্য ঠিকভাবে করতে পারি না। অন্য রুমেও তো টিভি আছে। আমার পিছনে সবসময় লেগে থাকো কেন? ঘরের ভিতর যেখানেই যাব সেখানেই আমার পিছনে তুমি। এতো বিরক্ত করো কেন। অসহ্য।“
বলে অন্য রুমে চলে গেলো রিমন। অবাক হয়ে গেলো অধরা। রিমনের এই আকস্মিক চিৎকারের কোন কারন খুজে পেলনা। টিভি অফ করে বিয়ের এক বছর এর কথা ভেসে উঠল চোখের সামনে। কখনো রিমন এইভাবে কথা বলে না। এর থেকেও বেশি বিরক্ত করে রিমনকে ও। ইচ্ছা করেই করে। রিমনের ভালোবাসা মাখানো ধমকগুলো শুনতে অনেক ভালো লাগে। কিন্তু রিমন তো কখনো এমন করে না। কি হল হঠাৎ আজ। উঠে আস্তে হেটে গিয়ে বারান্দায় পিছন থেকে জড়িয়ে ধরল রিমনকে। এক ঝটকায় অধরা কে সরিয়ে দিয়ে বেডরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলো রিমন। কষ্টে দু চোখ ভরে উঠল অধরার। এতটা অবহেলা সে কোন দিন পায় নি। চোখ মুছে ঘরে ঢুকতেই দেখল রিমন ফোন হাতে ছাদে চলে গেলো। বেডরুমের কাছে যেতেই গন্ধে বমি চলে আসল অধরার। সিগারেট এর তীব্র গন্ধে বিসাক্ত হয়ে আছে। তাড়াতাড়ি ফ্যান ছেড়ে দিয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেলো অধরা। বিয়ের পর এই প্রথম সিগারেট খেল রিমন। ইজিচেয়ার এ হেলান দিয়ে পুরনো সব স্মৃতি গুলোকে জড় করলো অধরা। বিয়ের আগে মাত্র ২ বছরের সম্পর্ক ছিল ওদের। বাসায় জানাজানি হলে সহজেই সবাই মেনে নেয়। ঠিক স্বপ্নের মতো করে বিয়েটা হয় ওর। যেভাবে সারাজীবন কল্পনা করত ঠিক সেইভাবেই। বিয়ের দিন সবার সামনে অধরাকে কোলে তুলে তিন তলা সিঁড়ি ভেঙ্গে উপরে নিয়ে আসে রিমন। অনেকেই অনেক কথা বলেছিল ওইদিন। পরে রিমনকে জিজ্ঞাসা করলে ও বলেছিল, “তোমাকে দেখে ওদের অনেক হিংসা হচ্ছিল। তাই বাজে কথা বলছে”। বাসায় আসার পর একমুহূর্তের জন্য ও চোখের আড়াল হয় না কেউ কারো। সারাটা সময় দুজন একসাথে। এসব ভাবতে ভাবতেই কখন ঘুমিয়ে পড়ল অধরা নিজেও টের পেলো না। রিমনের কণ্ঠে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেলো। ঘড়িতে তাকিয়ে দেখল রাত ৯ টা ১৫। ফোনে কার সাথে জানি কথা বলছে রিমন। পাশে গিয়ে বসতেই ফোন রেখে বলল,
“দরজা টা লক করেও তো ঘুমানো যায়। কেউ যদি হঠাৎ ঢুকে পড়ে”।
সরি।
“সরি বললেই তো সাত খুন মাফ। যাও টেবিল এ খাবার দাও। অনেক রাত হইছে”।
“চলো না আজ বাইরে থেকে খেয়ে আসি। প্লিজ”।
“এতো বাইরে যেতে ইচ্ছা করে কেন তোমার? গতকাল ও তো বাইরে খেলাম। বাসায় থাকতে ভালো লাগে না? যাও কথা না বলে খাবার গরম করো। কোথাও যাবো না এখন”।
চুপচাপ উঠে গেলো অধরা। কিছুই বলল না। নিঃশব্দে রাতের খাবার শেষ করে বেডরুমে চলে গেলো রিমন। অধরা রুমে ঢুকতেই আবার সিগারেট এর গন্ধ।
“তুমি সিগারেট ধরিয়েছ কেন”?
“তো কি হইছে। সমস্যা কোথায়”?
“সমস্যা কোথায় মানে? তুমি না সিগারেট ছেড়ে দিয়েছ”।
“হ্যাঁ দিছিলাম। আবার ধরছি। একবার ছাড়লে আবার খাওয়া যাবে না এমন তো কোন কথা নেই”।
“কিন্তু তুমি আমাকে প্রমিস করছ আর কোনদিন সিগারেট হাতে নেবে না”।
“সব প্রমিস সবসময় রাখা যায় না”।
“আমি সিগারেট এর গন্ধ সহ্য করতে পারি না তুমি এটা খুব ভালভাবেই জানো। আমি কিভাবে ঘুমাবো এখন”?
“ঘুমিয়ো না এখানে। অন্য রুমে যাও”।
“মানে? কি বলতেছ এইসব”?
“যা বলতেছি সোজাসুজি বলছি। এখানে ঘুমাতে না পারলে অন্য রুমে যাও। তাও না পারলে তোমার বাবার বাসা আছে। চলে যাও। সারাজীবন যে রুমে ঘুমিয়েছো সেই রুমে গিয়ে আবার ঘুমাও”।
“কি বলতেছ তুমি এইগুলা? প্লিজ তুমি সিগারেট টা ফেলে দাও”।
“কান্না করছো কেন? কাঁদার মতো কিছু তো ঘটে নি। আমি সিগারেট ফেলব না। আর এইসব ফালতু ন্যাকামি বন্ধ করো”।
“আমি তোমাকে সিগারেট খেতে দিব না। বলে জ্বলন্ত সিগারেট টা আর পাশ থেকে প্যাকেট নিয়ে বাইরে ফেলে দিলো অধরা”।
“অধরা, বাড়াবাড়ির একটা সীমা আছে”।
তুমি সারাদিন আমার সাথে আজ এমন করছ কেন? ( কান্নাভেজা কণ্ঠে)
“এমন করছি মানে? তোমার জন্য বাসার কোন কাজ আমি করতে পারব না। টিভি দেখতে পারব না। সিগারেট খেতে পারব না। কি চাও তুমি?”
“তুমি তো কখনো কিছু বল নি। আজ কেন এমন করছ?”
“এতদিন অনেক সহ্য করেছি। আর পারছি না। তোমার প্রতিটা কাজ ই বিরক্তিকর। তোমাকে কিছু বললেই দু চোখ বেয়ে নায়িকাদের মতো পানি ঝরতে থাকে।“
“প্লিজ। একটু শান্ত হও।“
তুমি কখনো শান্ত থাকতে দিয়েছ আমাকে? I am just sick of you! Please leave me alone!
কি বলছ তুমি এগুলা? কোথায় যাব আমি তোমাকে ছেড়ে?
তুমি কোথাও যেতে পারবে না? ওকে ফাইন। আমি যাচ্ছি তাহলে। তুমি থাকো। তোমার সাথে থাকা কোন সুস্থ মানুষের পক্ষে সম্ভব না।
প্লিজ। আমার কথা শুনো। প্লিজ। রিমন। কোথায় যাচ্ছ তুমি এতো রাতে? প্লিজ।“
এক ঝটকায় অধরাকে সরিয়ে পাতলা একটা টিশার্ট পরে সিঁড়ি বেয়ে নেমে গেলো রিমন।
আর পারল না নিজেকে সামলাতে অধরা। হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল নিজের রুমে এসে।
বাইরে বের হয়েই কনকনে ঠাণ্ডায় আড়ষ্ট হয়ে গেলো রিমন। ইচ্ছা করেই জ্যাকেট টা নিয়ে বের হয় নি। একটু চিন্তা করুক রিমনের জন্য ঠাণ্ডার কথা ভেবে। ১০ টা ৪৩ বাজে। দোকান টায় যেতে ২০ মিনিট লাগবে। ভালো সময়েই ঝগড়া টা বাধিয়েছে
ভাই, প্যাকেট টা দেন। গতকাল অর্ডার করেছিলাম।
ওই ইমতিয়াজ, স্যার এর প্যাকেট টা দে।
সব ঠিক আছে?
জি স্যার।
ওকে। থ্যাংকস।
১১ টা ৪৭ এ রিমন বাসার দরজার সামনে দাঁড়াল। কলিংবেল না টিপে দুইবার আস্তে করে নক করলো। নাহ। কেউ নেই। আস্তে করে চাবি ঢুকিয়ে লক খুলে ভিতরে ঢুকল। অধরা বারান্দায় ইজিচেয়ার এ উলটোদিকে মুখ করে বসা। কোন কথা না বলে ১০ মিনিট চুপচাপ দাড়িয়ে থাকল।
ঠিক ১২ টায় বিশাল এক তোড়া গোলাপ নিয়ে অধরার সামনে হাঁটু গেড়ে বসল রিমন। ঠাণ্ডায় কাপতে কাপতে বলল,
‘’Happy Marriage Anniversary Sweetheart’’
কান্নাভেজা চোখে অধরা তখন ও তাকিয়ে আছে রিমন এর দিকে। কিছু বলার ভাষা খুজে পাচ্ছিল না।
“আজ সারাদিন অনেক খারাপ ব্যাবহার করছি তোমার সাথে। আমাকে মাফ করে দেয়া যায় না"।
আবার ও কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল অধরা। তবে এবার বিছানায় নয়। রিমন এর বুকে।
“আহা। প্লিজ কেদো না। কান্না থামাও প্লিজ।“
“তুমি অনেক খারাপ” তুমি সত্যি অনেক খারাপ।
“মাঝে মাঝে একটু খারাপ হতে হয়। নাহলে তোমার এই অসাধারন ভালোবাসা পাওয়া যায় না।“ চলো। কেক নিয়ে আসছি। আমাদের প্রথম Anniversary উদযাপন করা যাক। আহা। এইবার অন্তত কান্না বন্ধ করো। হইছে তো। হইছে না। “
“তুমি সারাদিন এতো খারাপ ব্যাবহার করতে পারলে আমার সাথে?”
হুম। মাঝে মধ্যে পারতে হয়। চলো কেক টা কাটি। আর এই নীল রঙ এর থ্রি-পিস টা তোমার জন্য। তোমাকে নীল রঙ এ একদম পরির মতো লাগে।“
রুমে চলো। তোমার জন্য গতকাল পাশের বাসার ভাবি কে নিয়ে গিয়ে পাঞ্জাবি কিনে আনছি।
তাই?? ওহ। কোন দরকার ছিল না। এতো পাঞ্জাবি দিয়ে কি করবো?
“রাতে পাঞ্জাবি পরে ঘুমাবা আমার সাথে”।
“তাই?? অনেক রাত হইছে। চলো ঘুমাতে চলো। কাল অফিস আছে।
এখনি ঘুমাবা? চলো না কিছুক্ষন গল্প করি।
“তাহলে ছাদে চলো। আজ অনেক সুন্দর জোছনা।
বর্ষাধারায় ভালোবাসা
-অচেনা আমি
বৃষ্টির দিন গুলো সত্যি খুব অসাধারন হয়, সবাই বলে মেয়েরা নাকি বৃষ্টি দেখে একটু অন্যরকম হয়ে যায়। হয়তো সত্যি তাই……
মেয়েদের মনটা একটু বেশি কোমল হয়। আমার কথাই বলি বৃষ্টি আমার খুব পছন্দের। বিশেষ করে রাতের বৃষ্টি, কিছু দেখা যায়না সত্যি কিন্তু শব্দটায় একদম ভিতর পর্যন্ত নড়ে উঠে। বৃষ্টির ফোটা গাছের পাতায় পড়লে মনেহয় পাতাগুলো মাত্রই চন্দন দিয়ে স্নান করে ফিরেছে। এই রাতের বৃষ্টির শব্দ শোনার জন্য আমি কত রাত যে জানালার কাছে বসে কাটিয়েছি তার ইয়ত্তা নেই। রাতের এই বৃষ্টিতে ভিজার সুযোগ খুব কমই হয়। তবুও সুযোগ পেলে হাত ছাড়া করিনা। এমনই এক রাতে বৃষ্টিতে ভিজার সুযোগ হয়ে গেলো, বাসায় বাবা নেই তাই ভিজলেও বকা খাওয়ার কোনো চান্স নেই।
আমাদের ছাদটা খুব বড়, আর ছাদে রেলিং নেই। আটতলার উপরের ছাদ তাই বেশ উচু। আশেপাশে পাঁচ ছয় তলার বেশি কোনো বাড়ি তেমন একটা চোখে পড়েনা। তাই মনেহয় আমিই এখানের রাজকন্যা। ছাদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে কবি সাহিত্যিকদের মত হাত দু পাশে ছড়িয়ে আকাশের দিকে মুখ করে বৃষ্টিতে ভিজছিলাম। আমি এমনিতে খুব লাজুক কিন্তু রাতের বেলা কেউ ভিজতে ছাদে উঠবেনা আর দুরের কোনো ছাদ থেকে আমাকে দেখার সম্ভবনাও নেই তাই এতো কবি কবি ভাব চলে আসলো। খুব বৃষ্টি হচ্ছে একেবারে মুষলধারে, আর ঘন ঘন বজ্রপাত। আমার মুখ একটু পর পর আলোয় ভরে যাচ্ছে। আমি খুব বিরক্ত হচ্ছি, রতে ছাদে উঠলাম তাও এতো আলো।
হঠাৎ পিছন থেকে একটা পুরুষ কন্ঠ বলে উঠলো, ‘আমি কখনো এই রাতের বৃষ্টি এতো আনন্দ নিয়ে কাউকে উপভোগ করতে দেখিনি’। আমি প্রায় ভুত দেখার মত চমকে উঠলাম, রাত নয়টার সময় বৃষ্টিতে ভিজার মত আরো একটা পাগল আছে নাকি এই বাড়িতে, জানতাম নাতো! বলেই থ খেয়ে গেলাম কারন কথাটা আমি ভুলে জোড়ে বলে ফেলেছি। অন্ধকারে আমি তাকে চিন্তে পারলামনা, এই বৃষ্টির মধ্যেও সে দু হাত পকেটে ঢুকিয়ে হেটে আমার সামনে এসে থেমে বলল, দুনিয়াতে আল্লাহ অনেক রকম পাগল পাঠিয়েছে, তার মধ্যে আপনি একজন আর আমিও হয়তো একজন। আমি আর কোনো কথা না বলে ছাদের অন্য পাশে গিয়ে দাড়ালাম। আমি নেমে যেতে পারতাম কিন্তু একটা অপরিচিত ছেলের জন্য আমার এতো সুন্দর সুযোগটা মিস করার কোনো মানেই হয়না। আমি আবার সম্পুর্ন মনোযোগ দিলাম বৃষ্টির প্রতি।
আমি আমার বাবা মায়ের সর্বকনিষ্ঠ কন্যা। আমার বড় বোন তারপর ভাই আর আমি সবার ছোট। সবাই বলে আমি নাকি হুবহু বাবার মত হয়েছি, আমার বাবা দেখতে খুব চকলেটি, কালারটাও অবশ্য চকলেটেরই। আমিও বাবার মত কালো হয়েছি। তা নিয়ে আমার কোনো সমস্যা হয়না কিন্তু আমি ছেলেদের সাথে কথা একটু কমই বলতাম। সবসময় শুনে এসেছি, ‘অমুকের জন্য মেয়ে খুজছি আমরা মেয়েদের কাছে কিছুই চাইনা শুধু মেয়ে দেখতে ফর্সা আর লম্বা হলেই হয়, তমুকের জন্য মেয়ে খুজছি, মেয়ে দেখতে ফর্সা আর লম্বা হলেই হয়’। তখন থেকে আমার ধারনা কালো মেয়েদের কেও পছন্দ করেনা, মেয়ে হতে হয় ফর্সা। তাই আমি আগ বাড়িয়ে অপরিচিত কারো সাথে কথা বলতামনা। আর কেউ নিজে কিছু জানতে চাইলে শুধু উত্তর দিয়েই শেষ। তখন অবশ্য আমি সেভেন, এইটে পড়তাম। এখন যদিও অনার্সে পড়ি তবুও ওই কথাগুলোকে সত্যি মনে করি।
তাই ওই ছেলেটাকে আর কিছু না বলে চুপ করেই রইলাম। আমি ভাবলাম যেহেতু আমি তাকে চিনিনি সেইবা অন্ধকারে আমাকে কি করে চিনবে? বৃষ্টিটা আমি সত্যিই খুব উপভোগ করলাম অনেকদিন পর। প্রায় দেড় ঘন্টা ভিজে নিচে নামলাম, আম্মু আমাকে কিছু বলেনি, বাসায় এখন আমি আম্মু আর আব্বুই থাকি। আপুর বিয়ে হয়ে গেছে ও থাকে কানাডা, আর ভাইয়া ভাবি আছে অষ্ট্রেলিয়াতে। আর আমি সিরিয়ালে আছি। মা আমার জন্য খুব জোরে সোরে পাত্র খুজছে। ভালো পাত্র পেলেই বিয়ে দিয়ে দিবে কিন্তু আমি কালো বলেই বেঁচে যাই বারবার। আমি বিবিএ ৯ম সেমিস্টারে আছি তাই পড়া শেষ না করে বিয়ে করতে চাইনা। আর মা ছেলেইবা পাবে কোথায়? তাই আমি কিছু বলিওনা।
এই বছর বর্ষাকালটা ঠিক বর্ষাকালের মতই যাচ্ছে। প্রতিদিন বৃষ্টি, তাও আবার একটু আধটু না পুরো আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামে দেড় দুই ঘন্টা চলে অনবরত। ক্লাস শেষে বের হয়ে ভাবলাম বৃষ্টি আসবে কিন্তু আসলোনা। বাসায় চলে আসলাম মনে মনে চিন্তা করলাম যদি বিকাল পর্যন্ত আকাশটা এমন থাকে তাহলে বিকালে ছাদে যাবো, অনেকদিন বিকালে ছাদে যাওয়া হয়না। দুপুরে খাওয়া শেষ করে দিলাম এক ঘুম, ঘুম ভেঙ্গে দেখি সন্ধ্যা প্রায়। হায় হায় কখন ছাদে যাবো? বিকালতো শেষ হয়ে যাচ্ছে! আকাশের রংটা আজ খুব অন্যরকম হয়ে আছে। হাত মুখ ধুয়ে ১০ মিনিটের মধ্যে ছাদে গেলাম। আমাদের ছাদে খুব সুন্দর একটা বসার যায়গা আছে, বাগানের মাঝখানে। চারপাশে অনেক ধরনের ফুল গাছ। ফুলের গন্ধে মন ভরে যায়। সন্ধ্যে হলো বলে। মাগরিবের আজান হয়ে গেছে কিন্তু নামতে ইচ্ছে হচ্ছেনা। আজ না হয় আর কিছুক্ষন থেকেই যাই। এই যায়গাটায় বসলে আমার শুধু রবীন্দ্রসঙ্গীত মনে হয়।
ভালোবেসে সখি নিভৃতে যতনে
আমার নামটি লিখ
তোমার মনেরও মন্দিরে,
আমারো পরানে যে গান বাজিছে……
-‘ওমা! আপনি এতো সুন্দর গান গান? এই রাতের সাথে আপনার গানটা খুব ভালো লাগছিলো, থামলেন কেনো?’
-‘আমার মনেই হচ্ছিলো কেউ একজন আমার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু সেটা যে আপনি হবেন তা বুঝিনি কিন্তু আপনি এভাবে পিছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন কেনো?’
-‘কেনো? আমিকি দাড়াতে পারিনা? আমি আপনাকে কয়েকদিন ধরেই ছাদে খুজছিলাম, আজকে পেয়ে গেলাম।’
-‘আপনি আমাকে কেনো খুজবেন? আপনার সাথে আমার কখনো কথা হয়নি, এমনকি কখনো ভালো করে দেখাও হয়নি। মাঝে মাঝে সিড়িতে উঠতে নামতে আপনাকে দেখেছি, আপনি কয় তলায় থাকেন তাও আমি জানিনা।’
-‘না জানাটা বড় কোনো সমস্যা না, আমি বলছি আপনি জেনে নিন। আমি মিথুন, আপনাদের নিচের ফ্ল্যাট মানে 5B তে থাকি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ শেষ করে একটা প্রাইভেট ব্যাঙ্ক এ আছি আর এমবিএ চালিয়ে যাচ্ছি। আর আপনার ব্যাপারে মোটামুটি সব কিছুই জানি, আপনার আর কষ্ট করে বলতে হবেনা।’
-‘আমার ব্যাপারে জানেন মানে? আমাকে কিভাবে চিনলেন আপনি?’
-আপনি তানভি। EWU তে বিবিএ পড়ছেন, সেমিস্টারটা আমি সিওর না তাই বললামনা। থাকেন আমার উপরতলায় ঠিক মাথার উপরেই মানে 6B তে। তিন ভাইবোনের মধ্যে আপনি সবার ছোট, ভাই বোন দুজনই দেশের বাইরে থাকে। আরো কি কিছু জানতে হবে?’
আমি কি বলবো কোনো কথা খুজে পেলামনা, ছেলেটা কে? কিভাবে আমার সব কিছু জানলো? কেইবা বললো ওকে? আমি না উঠে চুপ করে বসে রইলাম, কিছু বললামনা। সে হেটে আমার আর একটু সামনে আসলো।
তবুও আমি নড়লামনা, অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনি আমাকে খুজছিলেন্ কেনো?’
তার সহজ উত্তর, ‘আপনাকে দেখার ইচ্ছে হচ্ছিলো খুব’। ‘আপনিতো দেখি খুবই আজিব টাইপের লোক, চিনেননা জানেননা আমাকে দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে, কেমন কথা এইটা?’
কে বলে আমি আপনাকে চিনিনা? আপনাকে প্রায়ই দেখতাম যাওয়া আসার সময় কিন্তু আপনি কখনো চোখ উপরে তুলে তাকান না তাই ঠিকভাবে দেখাই হয়নি কখনো আপনাকে। ওইদিন বৃষ্টির রাতে আপনাকে প্রথম দেখলাম ঠিকমত। আপনার বৃষ্টিতে ভিজার অনুভুতি দেখে মনেহয় আমিও বৃষ্টির প্রেমে পড়ে গেলাম, অনেক মেয়েকে আগে ভিজতে দেখেছি কিন্তু আপনার মত এভাবে কাউকে দেখিনি বৃষ্টিকে অনুভব করতে। এভাবে রাত বিরাতে ছাদে উঠে বৃষ্টিতে ভিজলে ভুতেরাও আপনার প্রেমে পড়ে যাবে আর মানুষেরতো বাঁচার কোনো উপায়ই নাই। কি হলো আপনি আমার কথা শুনছেনতো? নিশ্চই বুঝতে আর বাকি নেই আমি কি বলতে চাচ্ছি?
আমি এতোখন চুপ করে তার সব কথা শুনলাম, কি বলবো বুঝতে পারছিনা। একটু পর উঠে দাড়িয়ে মিথুনের ঠিক সামনে এসে তার দিকে তাকিয়ে বললাম, একটু সাইড দিনতো আমি যাবো। সে হয়তো আমার কাছে এই কথাটা আশা করেনি, কিছুক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে থেকে আমাকে নেমে যাওয়ার পথ করে দিলো আর পিছন থেকে বললো ‘আমি আপনার উত্তরের অপেক্ষায় থাকলাম, সাথে আপনারও।’ আমি বাসায় ঢুকে সোজা আমার রুমে চলে গেলাম। এবার আমি মিথুনের কথা চিন্তা করতেই বুঝতে পারলাম তাহলে ওইদিন যে ছেলেটা আমাকে ভিজতে দেখেছে ওইটা মিথুনই ছিলো, আমি ওকে অন্ধকারে একটুও চিনতে পারিনি কিন্তু ও কি করে আমাকে চিনে ফেললো। আসলেই অবাক হলাম। ওর কথায় মনে হলো ও আমার প্রেমে পড়ে গেছে কিন্তু তা কি করে সম্ভব? আমিতো দেখতে খুব পচা, কালো, আমাকে কিভাবে কেউ ভালোবাসতে পারে? না, না। ও ঠিক আমাকে বোকা বানাতে চাচ্ছে। আমিকি ওতোই বোকা?
রাতে খুব বৃষ্টি হলো সাথে ঘুমটাও খুবই ভালো হলো। নাস্তা সেরেই ক্লাসের জন্য ছুটলাম। রাস্তায় নেমেই রিক্সা পেয়ে গেলাম। কিছুদুর এগোতেই দেখলাম মিথুন আমার রিক্সার পাশ দিয়ে হেটে যাচ্ছে। কালকের কথা মনে করে হাসি পেলো, আমার মতো মেয়েকে মিথুন কেনো ভালোবাসবে? ও দেখতে যথেস্ট ভালো, লম্বাও অনেক। পড়ালেখাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমার মতো একটা মেয়েকে যদি ও ভালোবাসে তাহলে আর কি লাগে। ছেলেটা আসলেই পছন্দ করার মতো, আমার মন পুরো রাস্তা ওর কথা চিন্তা করেই কাটিয়ে দিলো। কেনো যেনো এখন বিকেল হলেই ছাদে যাওয়ার ইচ্ছা হয়। বাসায় থাকলে একটা বৃষ্টিও ঘরে থাকতে মন চায়না, বাতাস যেনো আমাকে ছাদের দিকে টেনে নিয়ে যায়।
এভাবেই হঠাৎ দেখা আর হঠাৎ কথা বলে বলে কেটে গেলো আরো কিছুদিন। প্রায় ২০ দিন পর এক বিকেলে মা আমাকে তৈরি হতে বলল, আমাকে দেখতে আসবে। আমি আবার বিরক্ত কি জন্য একি কাজ মা বারবার করায় আমি বুঝিনা। আমাকে দেখে কেউ পছন্দ করেনা আমিও জানি আর মাও যানে কিন্তু তবুও মা আমাকে কেনো এতো কষ্ট দেয়। আজকে কেনো যেনো অন্য দিনের চেয়ে রাগ একটু বেশি হলো। মা একটা শাড়ি এনে দিলো। কোনো কথা না বলে শাড়িটা পড়ে রেডি হয়ে গেলাম, সন্ধ্যায় মেহমান আসবে কিন্তু মজার ব্যাপার ঘটলো বিকালে। তুমুল বৃষ্টি শুরু হলো। খুশি হলাম খুব ওরা আসতে পারবেনা ভেবে কিন্তু মনটা ছটফট করছিল ছাদে যাওয়ার জন্য। মিথুন হয়তো অপেক্ষায় থাকবে। বৃষ্টি থামলোনা কিন্তু কলিংবেল বেজে উঠলো, আমি দৌড়ে ঘরে ঢুকে গেলাম। আমার ঘর থেকেই মায়ের গলা শুনে বুঝতে পারলাম মেহমান চলে এসেছে কিন্তু এই বৃষ্টির মধ্যে কিভাবে এলো ওরা। উফফ, মানুষ পারেও……
১০ মিনিট পর আমার ডাক পড়লো। আমি আয়না দেখে নিলাম শেষবার। শাড়ির আচলটা ঠিক করে আমার ঘর থেকে বের হয়ে বসার ঘরে ঢুকে সালাম দিলাম, আমার চোখ নিচের দিকে। কনেকে সবসময় লাজুক হতে হয়, আমি যদিও বরাবরই লাজুক। আমাকে বসতে বললো, আর জেরা করা শুরু হলো, বেশি প্রশ্ন করলোনা। আমি তখনো ছেলেকে দেখিনি কারন দেখার কোনো দরকার মনে করিনি এরাও অন্য সবার মত আমাকে দেখে যাবে কিন্তু বৌ করে ঘরে নিতে রাজি হবেনা। একটু পর একজন মধ্য বয়সি লোক সম্ভবত ছেলের বাবা ছেলেকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো ‘যাও বাবা, কোনো কথা বলার থাকলে তোমরা বারান্দা থেকে ঘুরে আসো, সাইফ তুমি ওর সাথে যাও।’ সাইফ সম্ভবত ছেলের ভাই অথবা বন্ধু হবে। আমার সামনে দুজন উঠে দাড়ালো, তাদের পা দেখে আমি দাড়ালাম এবং বারান্দার দিকে হাটা দিলাম। বারান্দায় যেতেই আমার মাথায় বাজ পড়লো, আকাশ থেকে না ছেলের কথা শুনে।
কি বুঝলেন ম্যাডাম? আমি চোখ তুলে তাকিয়ে দেখি এতো সেই রাতের ভুত, মানে মিথুন। এ আমি কি দেখছি? আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম আপনি এখানে কেনো? তারপর সে আমাকে সব বুঝিয়ে বলল অল্প সময়ে। আমি তার কথায় সাড়া দেইনি বলে নাকি আমার পরিবারের সরনাপন্ন হতে হয়েছে। আরো বললো বিয়ের পর সব সুদে আসলে উসুল করে নিবে। আমি কোনো কথা বলতে পারলামনা অন্য সবসময়ের মত। ওরা আমাকে পছন্দ করলো। দু মাস পর বিয়ের তারিখ পাকা হলো। আমি নির্বাক, কি বলবো ভেবে পাইনা। চুপচাপ সব দেখে যাচ্ছি। মিথুনের কথা শুনে আমার মনে যে কোনো আশা জাগেনি তা বলবোনা। আমারও ওকে ভালো লেগেছে কিন্তু বলার সাহস হয়নি আর আমাদের ভবিষ্যৎ কি হবে তা ভেবে আমি আগাইনি। যাক আমাদের একটা ভবিষ্যৎ হলো তাহলে।
আজ দু মাস পর আমি একটি খাটের মাঝখানে বৌ সেজে বসে আছি। খাট না বলে একটা ছোটখাটো ফুলের বাগান বললেও খারাপ হয়না। বারবার চোখে পানি আসছে আর মনে হচ্ছে পৃথিবীতে এখনো কিছু মানুষ আছে যারা মেয়েদের রঙ দেখেনা বরং মানুষ ভেবে ভালোবাসে। মিথুনের মতো কিছু ছেলে আছে বলেই হয়তো আমার মতো মেয়েরা ভালোবাসার কথা চিন্তা করতে পারে…… তারাও ভালোবাসতে পারে……
Click here to claim your Sponsored Listing.