09/06/2013
বর্ষাধারায় ভালোবাসা
-অচেনা আমি
বৃষ্টির দিন গুলো সত্যি খুব অসাধারন হয়, সবাই বলে মেয়েরা নাকি বৃষ্টি দেখে একটু অন্যরকম হয়ে যায়। হয়তো সত্যি তাই……
মেয়েদের মনটা একটু বেশি কোমল হয়। আমার কথাই বলি বৃষ্টি আমার খুব পছন্দের। বিশেষ করে রাতের বৃষ্টি, কিছু দেখা যায়না সত্যি কিন্তু শব্দটায় একদম ভিতর পর্যন্ত নড়ে উঠে। বৃষ্টির ফোটা গাছের পাতায় পড়লে মনেহয় পাতাগুলো মাত্রই চন্দন দিয়ে স্নান করে ফিরেছে। এই রাতের বৃষ্টির শব্দ শোনার জন্য আমি কত রাত যে জানালার কাছে বসে কাটিয়েছি তার ইয়ত্তা নেই। রাতের এই বৃষ্টিতে ভিজার সুযোগ খুব কমই হয়। তবুও সুযোগ পেলে হাত ছাড়া করিনা। এমনই এক রাতে বৃষ্টিতে ভিজার সুযোগ হয়ে গেলো, বাসায় বাবা নেই তাই ভিজলেও বকা খাওয়ার কোনো চান্স নেই।
আমাদের ছাদটা খুব বড়, আর ছাদে রেলিং নেই। আটতলার উপরের ছাদ তাই বেশ উচু। আশেপাশে পাঁচ ছয় তলার বেশি কোনো বাড়ি তেমন একটা চোখে পড়েনা। তাই মনেহয় আমিই এখানের রাজকন্যা। ছাদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে কবি সাহিত্যিকদের মত হাত দু পাশে ছড়িয়ে আকাশের দিকে মুখ করে বৃষ্টিতে ভিজছিলাম। আমি এমনিতে খুব লাজুক কিন্তু রাতের বেলা কেউ ভিজতে ছাদে উঠবেনা আর দুরের কোনো ছাদ থেকে আমাকে দেখার সম্ভবনাও নেই তাই এতো কবি কবি ভাব চলে আসলো। খুব বৃষ্টি হচ্ছে একেবারে মুষলধারে, আর ঘন ঘন বজ্রপাত। আমার মুখ একটু পর পর আলোয় ভরে যাচ্ছে। আমি খুব বিরক্ত হচ্ছি, রতে ছাদে উঠলাম তাও এতো আলো।
হঠাৎ পিছন থেকে একটা পুরুষ কন্ঠ বলে উঠলো, ‘আমি কখনো এই রাতের বৃষ্টি এতো আনন্দ নিয়ে কাউকে উপভোগ করতে দেখিনি’। আমি প্রায় ভুত দেখার মত চমকে উঠলাম, রাত নয়টার সময় বৃষ্টিতে ভিজার মত আরো একটা পাগল আছে নাকি এই বাড়িতে, জানতাম নাতো! বলেই থ খেয়ে গেলাম কারন কথাটা আমি ভুলে জোড়ে বলে ফেলেছি। অন্ধকারে আমি তাকে চিন্তে পারলামনা, এই বৃষ্টির মধ্যেও সে দু হাত পকেটে ঢুকিয়ে হেটে আমার সামনে এসে থেমে বলল, দুনিয়াতে আল্লাহ অনেক রকম পাগল পাঠিয়েছে, তার মধ্যে আপনি একজন আর আমিও হয়তো একজন। আমি আর কোনো কথা না বলে ছাদের অন্য পাশে গিয়ে দাড়ালাম। আমি নেমে যেতে পারতাম কিন্তু একটা অপরিচিত ছেলের জন্য আমার এতো সুন্দর সুযোগটা মিস করার কোনো মানেই হয়না। আমি আবার সম্পুর্ন মনোযোগ দিলাম বৃষ্টির প্রতি।
আমি আমার বাবা মায়ের সর্বকনিষ্ঠ কন্যা। আমার বড় বোন তারপর ভাই আর আমি সবার ছোট। সবাই বলে আমি নাকি হুবহু বাবার মত হয়েছি, আমার বাবা দেখতে খুব চকলেটি, কালারটাও অবশ্য চকলেটেরই। আমিও বাবার মত কালো হয়েছি। তা নিয়ে আমার কোনো সমস্যা হয়না কিন্তু আমি ছেলেদের সাথে কথা একটু কমই বলতাম। সবসময় শুনে এসেছি, ‘অমুকের জন্য মেয়ে খুজছি আমরা মেয়েদের কাছে কিছুই চাইনা শুধু মেয়ে দেখতে ফর্সা আর লম্বা হলেই হয়, তমুকের জন্য মেয়ে খুজছি, মেয়ে দেখতে ফর্সা আর লম্বা হলেই হয়’। তখন থেকে আমার ধারনা কালো মেয়েদের কেও পছন্দ করেনা, মেয়ে হতে হয় ফর্সা। তাই আমি আগ বাড়িয়ে অপরিচিত কারো সাথে কথা বলতামনা। আর কেউ নিজে কিছু জানতে চাইলে শুধু উত্তর দিয়েই শেষ। তখন অবশ্য আমি সেভেন, এইটে পড়তাম। এখন যদিও অনার্সে পড়ি তবুও ওই কথাগুলোকে সত্যি মনে করি।
তাই ওই ছেলেটাকে আর কিছু না বলে চুপ করেই রইলাম। আমি ভাবলাম যেহেতু আমি তাকে চিনিনি সেইবা অন্ধকারে আমাকে কি করে চিনবে? বৃষ্টিটা আমি সত্যিই খুব উপভোগ করলাম অনেকদিন পর। প্রায় দেড় ঘন্টা ভিজে নিচে নামলাম, আম্মু আমাকে কিছু বলেনি, বাসায় এখন আমি আম্মু আর আব্বুই থাকি। আপুর বিয়ে হয়ে গেছে ও থাকে কানাডা, আর ভাইয়া ভাবি আছে অষ্ট্রেলিয়াতে। আর আমি সিরিয়ালে আছি। মা আমার জন্য খুব জোরে সোরে পাত্র খুজছে। ভালো পাত্র পেলেই বিয়ে দিয়ে দিবে কিন্তু আমি কালো বলেই বেঁচে যাই বারবার। আমি বিবিএ ৯ম সেমিস্টারে আছি তাই পড়া শেষ না করে বিয়ে করতে চাইনা। আর মা ছেলেইবা পাবে কোথায়? তাই আমি কিছু বলিওনা।
এই বছর বর্ষাকালটা ঠিক বর্ষাকালের মতই যাচ্ছে। প্রতিদিন বৃষ্টি, তাও আবার একটু আধটু না পুরো আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামে দেড় দুই ঘন্টা চলে অনবরত। ক্লাস শেষে বের হয়ে ভাবলাম বৃষ্টি আসবে কিন্তু আসলোনা। বাসায় চলে আসলাম মনে মনে চিন্তা করলাম যদি বিকাল পর্যন্ত আকাশটা এমন থাকে তাহলে বিকালে ছাদে যাবো, অনেকদিন বিকালে ছাদে যাওয়া হয়না। দুপুরে খাওয়া শেষ করে দিলাম এক ঘুম, ঘুম ভেঙ্গে দেখি সন্ধ্যা প্রায়। হায় হায় কখন ছাদে যাবো? বিকালতো শেষ হয়ে যাচ্ছে! আকাশের রংটা আজ খুব অন্যরকম হয়ে আছে। হাত মুখ ধুয়ে ১০ মিনিটের মধ্যে ছাদে গেলাম। আমাদের ছাদে খুব সুন্দর একটা বসার যায়গা আছে, বাগানের মাঝখানে। চারপাশে অনেক ধরনের ফুল গাছ। ফুলের গন্ধে মন ভরে যায়। সন্ধ্যে হলো বলে। মাগরিবের আজান হয়ে গেছে কিন্তু নামতে ইচ্ছে হচ্ছেনা। আজ না হয় আর কিছুক্ষন থেকেই যাই। এই যায়গাটায় বসলে আমার শুধু রবীন্দ্রসঙ্গীত মনে হয়।
ভালোবেসে সখি নিভৃতে যতনে
আমার নামটি লিখ
তোমার মনেরও মন্দিরে,
আমারো পরানে যে গান বাজিছে……
-‘ওমা! আপনি এতো সুন্দর গান গান? এই রাতের সাথে আপনার গানটা খুব ভালো লাগছিলো, থামলেন কেনো?’
-‘আমার মনেই হচ্ছিলো কেউ একজন আমার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু সেটা যে আপনি হবেন তা বুঝিনি কিন্তু আপনি এভাবে পিছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন কেনো?’
-‘কেনো? আমিকি দাড়াতে পারিনা? আমি আপনাকে কয়েকদিন ধরেই ছাদে খুজছিলাম, আজকে পেয়ে গেলাম।’
-‘আপনি আমাকে কেনো খুজবেন? আপনার সাথে আমার কখনো কথা হয়নি, এমনকি কখনো ভালো করে দেখাও হয়নি। মাঝে মাঝে সিড়িতে উঠতে নামতে আপনাকে দেখেছি, আপনি কয় তলায় থাকেন তাও আমি জানিনা।’
-‘না জানাটা বড় কোনো সমস্যা না, আমি বলছি আপনি জেনে নিন। আমি মিথুন, আপনাদের নিচের ফ্ল্যাট মানে 5B তে থাকি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ শেষ করে একটা প্রাইভেট ব্যাঙ্ক এ আছি আর এমবিএ চালিয়ে যাচ্ছি। আর আপনার ব্যাপারে মোটামুটি সব কিছুই জানি, আপনার আর কষ্ট করে বলতে হবেনা।’
-‘আমার ব্যাপারে জানেন মানে? আমাকে কিভাবে চিনলেন আপনি?’
-আপনি তানভি। EWU তে বিবিএ পড়ছেন, সেমিস্টারটা আমি সিওর না তাই বললামনা। থাকেন আমার উপরতলায় ঠিক মাথার উপরেই মানে 6B তে। তিন ভাইবোনের মধ্যে আপনি সবার ছোট, ভাই বোন দুজনই দেশের বাইরে থাকে। আরো কি কিছু জানতে হবে?’
আমি কি বলবো কোনো কথা খুজে পেলামনা, ছেলেটা কে? কিভাবে আমার সব কিছু জানলো? কেইবা বললো ওকে? আমি না উঠে চুপ করে বসে রইলাম, কিছু বললামনা। সে হেটে আমার আর একটু সামনে আসলো।
তবুও আমি নড়লামনা, অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনি আমাকে খুজছিলেন্ কেনো?’
তার সহজ উত্তর, ‘আপনাকে দেখার ইচ্ছে হচ্ছিলো খুব’। ‘আপনিতো দেখি খুবই আজিব টাইপের লোক, চিনেননা জানেননা আমাকে দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে, কেমন কথা এইটা?’
কে বলে আমি আপনাকে চিনিনা? আপনাকে প্রায়ই দেখতাম যাওয়া আসার সময় কিন্তু আপনি কখনো চোখ উপরে তুলে তাকান না তাই ঠিকভাবে দেখাই হয়নি কখনো আপনাকে। ওইদিন বৃষ্টির রাতে আপনাকে প্রথম দেখলাম ঠিকমত। আপনার বৃষ্টিতে ভিজার অনুভুতি দেখে মনেহয় আমিও বৃষ্টির প্রেমে পড়ে গেলাম, অনেক মেয়েকে আগে ভিজতে দেখেছি কিন্তু আপনার মত এভাবে কাউকে দেখিনি বৃষ্টিকে অনুভব করতে। এভাবে রাত বিরাতে ছাদে উঠে বৃষ্টিতে ভিজলে ভুতেরাও আপনার প্রেমে পড়ে যাবে আর মানুষেরতো বাঁচার কোনো উপায়ই নাই। কি হলো আপনি আমার কথা শুনছেনতো? নিশ্চই বুঝতে আর বাকি নেই আমি কি বলতে চাচ্ছি?
আমি এতোখন চুপ করে তার সব কথা শুনলাম, কি বলবো বুঝতে পারছিনা। একটু পর উঠে দাড়িয়ে মিথুনের ঠিক সামনে এসে তার দিকে তাকিয়ে বললাম, একটু সাইড দিনতো আমি যাবো। সে হয়তো আমার কাছে এই কথাটা আশা করেনি, কিছুক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে থেকে আমাকে নেমে যাওয়ার পথ করে দিলো আর পিছন থেকে বললো ‘আমি আপনার উত্তরের অপেক্ষায় থাকলাম, সাথে আপনারও।’ আমি বাসায় ঢুকে সোজা আমার রুমে চলে গেলাম। এবার আমি মিথুনের কথা চিন্তা করতেই বুঝতে পারলাম তাহলে ওইদিন যে ছেলেটা আমাকে ভিজতে দেখেছে ওইটা মিথুনই ছিলো, আমি ওকে অন্ধকারে একটুও চিনতে পারিনি কিন্তু ও কি করে আমাকে চিনে ফেললো। আসলেই অবাক হলাম। ওর কথায় মনে হলো ও আমার প্রেমে পড়ে গেছে কিন্তু তা কি করে সম্ভব? আমিতো দেখতে খুব পচা, কালো, আমাকে কিভাবে কেউ ভালোবাসতে পারে? না, না। ও ঠিক আমাকে বোকা বানাতে চাচ্ছে। আমিকি ওতোই বোকা?
রাতে খুব বৃষ্টি হলো সাথে ঘুমটাও খুবই ভালো হলো। নাস্তা সেরেই ক্লাসের জন্য ছুটলাম। রাস্তায় নেমেই রিক্সা পেয়ে গেলাম। কিছুদুর এগোতেই দেখলাম মিথুন আমার রিক্সার পাশ দিয়ে হেটে যাচ্ছে। কালকের কথা মনে করে হাসি পেলো, আমার মতো মেয়েকে মিথুন কেনো ভালোবাসবে? ও দেখতে যথেস্ট ভালো, লম্বাও অনেক। পড়ালেখাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমার মতো একটা মেয়েকে যদি ও ভালোবাসে তাহলে আর কি লাগে। ছেলেটা আসলেই পছন্দ করার মতো, আমার মন পুরো রাস্তা ওর কথা চিন্তা করেই কাটিয়ে দিলো। কেনো যেনো এখন বিকেল হলেই ছাদে যাওয়ার ইচ্ছা হয়। বাসায় থাকলে একটা বৃষ্টিও ঘরে থাকতে মন চায়না, বাতাস যেনো আমাকে ছাদের দিকে টেনে নিয়ে যায়।
এভাবেই হঠাৎ দেখা আর হঠাৎ কথা বলে বলে কেটে গেলো আরো কিছুদিন। প্রায় ২০ দিন পর এক বিকেলে মা আমাকে তৈরি হতে বলল, আমাকে দেখতে আসবে। আমি আবার বিরক্ত কি জন্য একি কাজ মা বারবার করায় আমি বুঝিনা। আমাকে দেখে কেউ পছন্দ করেনা আমিও জানি আর মাও যানে কিন্তু তবুও মা আমাকে কেনো এতো কষ্ট দেয়। আজকে কেনো যেনো অন্য দিনের চেয়ে রাগ একটু বেশি হলো। মা একটা শাড়ি এনে দিলো। কোনো কথা না বলে শাড়িটা পড়ে রেডি হয়ে গেলাম, সন্ধ্যায় মেহমান আসবে কিন্তু মজার ব্যাপার ঘটলো বিকালে। তুমুল বৃষ্টি শুরু হলো। খুশি হলাম খুব ওরা আসতে পারবেনা ভেবে কিন্তু মনটা ছটফট করছিল ছাদে যাওয়ার জন্য। মিথুন হয়তো অপেক্ষায় থাকবে। বৃষ্টি থামলোনা কিন্তু কলিংবেল বেজে উঠলো, আমি দৌড়ে ঘরে ঢুকে গেলাম। আমার ঘর থেকেই মায়ের গলা শুনে বুঝতে পারলাম মেহমান চলে এসেছে কিন্তু এই বৃষ্টির মধ্যে কিভাবে এলো ওরা। উফফ, মানুষ পারেও……
১০ মিনিট পর আমার ডাক পড়লো। আমি আয়না দেখে নিলাম শেষবার। শাড়ির আচলটা ঠিক করে আমার ঘর থেকে বের হয়ে বসার ঘরে ঢুকে সালাম দিলাম, আমার চোখ নিচের দিকে। কনেকে সবসময় লাজুক হতে হয়, আমি যদিও বরাবরই লাজুক। আমাকে বসতে বললো, আর জেরা করা শুরু হলো, বেশি প্রশ্ন করলোনা। আমি তখনো ছেলেকে দেখিনি কারন দেখার কোনো দরকার মনে করিনি এরাও অন্য সবার মত আমাকে দেখে যাবে কিন্তু বৌ করে ঘরে নিতে রাজি হবেনা। একটু পর একজন মধ্য বয়সি লোক সম্ভবত ছেলের বাবা ছেলেকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো ‘যাও বাবা, কোনো কথা বলার থাকলে তোমরা বারান্দা থেকে ঘুরে আসো, সাইফ তুমি ওর সাথে যাও।’ সাইফ সম্ভবত ছেলের ভাই অথবা বন্ধু হবে। আমার সামনে দুজন উঠে দাড়ালো, তাদের পা দেখে আমি দাড়ালাম এবং বারান্দার দিকে হাটা দিলাম। বারান্দায় যেতেই আমার মাথায় বাজ পড়লো, আকাশ থেকে না ছেলের কথা শুনে।
কি বুঝলেন ম্যাডাম? আমি চোখ তুলে তাকিয়ে দেখি এতো সেই রাতের ভুত, মানে মিথুন। এ আমি কি দেখছি? আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম আপনি এখানে কেনো? তারপর সে আমাকে সব বুঝিয়ে বলল অল্প সময়ে। আমি তার কথায় সাড়া দেইনি বলে নাকি আমার পরিবারের সরনাপন্ন হতে হয়েছে। আরো বললো বিয়ের পর সব সুদে আসলে উসুল করে নিবে। আমি কোনো কথা বলতে পারলামনা অন্য সবসময়ের মত। ওরা আমাকে পছন্দ করলো। দু মাস পর বিয়ের তারিখ পাকা হলো। আমি নির্বাক, কি বলবো ভেবে পাইনা। চুপচাপ সব দেখে যাচ্ছি। মিথুনের কথা শুনে আমার মনে যে কোনো আশা জাগেনি তা বলবোনা। আমারও ওকে ভালো লেগেছে কিন্তু বলার সাহস হয়নি আর আমাদের ভবিষ্যৎ কি হবে তা ভেবে আমি আগাইনি। যাক আমাদের একটা ভবিষ্যৎ হলো তাহলে।
আজ দু মাস পর আমি একটি খাটের মাঝখানে বৌ সেজে বসে আছি। খাট না বলে একটা ছোটখাটো ফুলের বাগান বললেও খারাপ হয়না। বারবার চোখে পানি আসছে আর মনে হচ্ছে পৃথিবীতে এখনো কিছু মানুষ আছে যারা মেয়েদের রঙ দেখেনা বরং মানুষ ভেবে ভালোবাসে। মিথুনের মতো কিছু ছেলে আছে বলেই হয়তো আমার মতো মেয়েরা ভালোবাসার কথা চিন্তা করতে পারে…… তারাও ভালোবাসতে পারে……