07/03/2026
আপনি কে ?
আপনার নাম আপনার আসল পরিচয় নয়।আপনার শরীরও আপনার আসল পরিচয় নয়। । আপনি আপনার নাম এবং শরীরের চেয়েও বেশি কিছু।আপনি স্রষ্টার সর্ব শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি । মাটি থেকে আপনার সুন্দর শরীর সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তারপর রুহ(আত্মা), প্রাণ, জ্ঞান, মন, নফস, দেওয়া হয়েছে। তবে শরীর ও মনের আগে আলম- এ -আরওয়াহ তে আপনার রুহ(আত্মা) সৃষ্টি করা হয়েছে অনেক অনেক বছর আগে । আলম-এ-আরওয়াহ বা আত্মার রাজ্য, যা সমস্ত মানব আত্মার প্রাক-ভৌতিক অস্তিত্বকে বোঝায়। এটি মানব জীবনের উৎপত্তির প্রতিনিধিত্ব করে, যেখানে রুহ (আত্মারা) সাক্ষ্য দেয় যে এক সৃষ্টিকর্তাই তাদের প্রভু ।
রুহ চিরজীবী । রুহ এক জ্ঞানের সমুদ্র । রুহ হল সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে ঐশ্বরিক জীবনদাতা নীতি, যেখানে নফস হল ব্যক্তি সত্তা, আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্র এবং তার কর্মের জন্য দায়ী সত্তা। রুহের কোন মৃত্যু নেই। মৃত্যু হয় নফসের।
প্রতিটি রুহ(আত্মা), মানুষ হিসেবে পৃথিবীতে আসে একটি অঙ্গীকার নিয়ে যাতে সে সেই অঙ্গীকার পূরণ করতে পারে এবং পূর্ণতা নিয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে ফিরে যেতে পারে । পৃথিবীতে প্রতিটি আত্মার একটি ভিন্ন অঙ্গীকার বা উদ্দেশ্য রয়েছে। কিছু অঙ্গীকার হয় আত্মার সঙ্গে আত্মার । কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা আমাদের অঙ্গীকার ভুলে যাই । পৃথিবীতে আসার পর আমরা মনে করতে পারি না । আমার আত্মার সাথী কে ছিল? তার সাথে কী প্রতিশ্রুতি ছিল? কিছুই মনে করতে পারি না । যারা আধ্যাত্মিক শক্তি অর্জন করেছে তাদের কথা আলাদা ।
সৃষ্টিকর্তা রুহ (আত্মা) সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের নিজস্ব গুণাবলী দিয়েছেন। একই রকম গুণাবলী সম্পন্ন ব্যক্তিরা এই জীবনে মিলিত হলে সহজেই বন্ধু হয়ে যাবে ।
একটি বিষয় খেয়াল করে দেখবেন, হঠাৎ করে আমরা কোন একজন অচেনা ব্যক্তির সাথে পরিচয় হই এবং কিছুক্ষণ কথা বলার পর আমাদের এমন মনে হয় যেন এই ব্যক্তিকে অনেক দিন ধরে চিনি এবং সে হৃদয়ের খুব কাছের মানুষ। হাদিস থেকে পেয়েছি যে, আমরা এমন অনুভব করি কারণ হলো-আলম- এ -আরওয়াহ তে ঐ রুহ(আত্মা), আমাদের আত্মার খুব কাছের ছিল।
যাইহোক, যেকোনো অর্জনের আগে আপনাকে মনে রাখতে হবে যে, আপনার প্রথম পরিচয় হলো - রুহ(আত্মা) যা চিরজীবী, জ্ঞানের সমুদ্র, আল্লাহর পক্ষ থেকে ঐশ্বরিক জীবনদাতা নীতি। আপনি আপনার শরীরের চেয়েও বেশি কিছু। তাই সাময়িক চ্যালেঞ্জের কাছে আপনি পরাজিত হতে পারেননা ।