23/08/2025
What's better than a sweet comeback?
A story perhaps..............
If you are more into humans than materials, there will be stories for you to bring into this world.
Anyone from the school, college, or recently passed secondary or higher secondary can apply. Well, only UHSC definitely.
Send your CV and a writing(optional):
[email protected]
Thank you. Keep up the good works.
26/11/2018
বাংলা প্রিয় বিষয় না হলেও বাংলা পড়তে ভালোই লাগত। ধীশক্তি ছিল খুবই ভাল। একবার পড়লে সেই পড়া আর ভুলাই হত না। দ্বিতীয় শ্রেণীতে বাংলা শিক্ষকের 'বই কোথায়?' প্রশ্নের উত্তরে বলেও ছিলাম, “স্যার, বই তো পড়া শেষ তাই আমি ছিড়ে ফেলে দিয়েছি।” কিছুটা অবাক হয়ে শিক্ষক যখন প্রশ্ন করা শুরু করল আর আমিও উত্তর দিতে থাকলাম তখন উনি আমার কথার সত্যতা বুজতে পেরে প্রশংসাও করেছিলেন।
পরিপাটি ছিলাম বাল্যকাল থেকে। স্কুলে যাওয়ার সময় চুলটা আচড়িয়ে সবসময় এক পাশে সিঁতি করে রাখতাম। আব্বা দেখে আম্মা কে বলতেন, “ওই যে, লাট সাহেব এসেছেন।”
আর রঙিলা! তো সবাই ভালোবেসেই ডাকে। রং আছে বলেই তো রঙিলা ডাকে।
শ্রীকাইল কে কে হাই স্কুল থেকে লেখাপড়া আরম্ভ হয়েছিল। চার ভাই তিন বোনের পরিবারে ভাইদের মধ্যে আমি ছিলাম তৃতীয়। বাবা ছিলেন প্রধান শিক্ষক। তার উপর বড় ভাইয়েরা ছিলেন ভাল ছাত্র। ক্রমানুযায়ী আমাকেও ভাল ফলাফল করতে হত। তো একবার গণিতে বেশি বাজে ফলাফল করে ছিলাম। বাড়িতে সবগুলো জানানো হলেও গণিতের খবরটা ভয়ে বলা হয়নি। ‘ওইটা এখনও দেয়নি’ বলে চালিয়ে দিয়েছিলাম। বড় ভাই কীভাবে যেন তা জেনে গিয়েছিল। কিন্তু বাবাকে সরাসরি না বলে আমাকে এসে জিজ্ঞেস করেছিল কত পেয়েছিলাম। তখন আমাকে বলতেই হল। এরপর থেকে গণিতে কখনও খারাপ করাই হয়নি।
ক্রিকেট খেলার বড়ই ঝোঁক ছিল একসময়। বাসার শিক্ষককে ফাকি দিয়ে বাড়ির পিছনের পুকুর পাড় দিয়ে খেলার জন্য পালিয়েও গিয়েছিলাম। সেদিন আব্বার কাছে ধরা পড়ে ভয়ানক মাইরের কবলে পড়তে হয়েছিল।
যুদ্ধ চলাকালীন স্কুল ছিল বন্ধ। বড় ভাইয়েরা যুদ্ধে গিয়েছিলেন। উনাদের মর্টার, গ্রেনেড, রাইফ্যাল সমূহ বাড়িতে সংরক্ষণ করতেন। উনাদের দেখাদেখি আমিও কিছু চালানো আয়ত্ত করেছিলাম। গ্রেনেড চালানো শিখে ঘটিয়ে ছিলাম আরেক কান্ড। ছোট্ট একটা জিনিস কি এমন করে দেখার জন্য রাতের বেলা খালি ধান ক্ষেতের মধ্যে যেয়ে একটা নিক্ষেপ করেছিলাম। শব্দের তীব্রতায় এক ধাক্কা খেয়ে পড়তে পড়তেও না পড়ে কোন রকমে বাড়ি চলে এসেছিলাম। সকালে গিয়ে দেখলাম বিশাল এক গর্ত হয়েছে সেখানে আর গ্রামবাসীরা ভেবেছিল মিলিটারী বাহিনী এসেছে তাই তারা ঘরের মধ্যে সতর্ক হয়ে গিয়েছিল। কাজটি যে আমার ছিল তা আর কেউ বুজতে পারেনি।
যুদ্ধের পর টিনের ছাদের স্কুল ছেড়ে ভর্তি হলাম পাকা ছাদের সাতমোরা হাই স্কুলে। ব্যাপারটাই অন্য রকম ছিল। পরিবেশটা ছিল রোমাঞ্চকর। ভালোভাবেই SSC পাশ হল। কলেজে উঠার পর বড়ভাই এনে দিলেন ইংরেজি ভার্সনের বই যার কিছুই বোধগম্য ছিল না নতুন হওয়াতে। প্রথম বছর এভাবে যাওয়ার পর শেষে আবার বাংলা বই পড়া শুরু করলাম এবং এক বছরে নতুন করে পড়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করলাম।
ভর্তি হলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে। চল্লিশ লিটার ডালের পানি খেয়ে বেরও হয়ে গেলাম। ১৯৮৩ সালে গ্রামে ফিরে আমার এক শিক্ষকের বলাতে পাঠদান শুরু করেছিলাম শ্যামগ্রাম মোহিনীকিশোর বিদ্যালয়ে।আদেশস্বরূপ আব্বা বলল পাঠদান করো ভাল কথা একটা সরকারী চাকরির কথাও মাথায় রেখা যেহেতু সেই সময় বড় ভাইরা ভাল অবস্হানে ছিলেন। সেটা হয়তোবা আর হয়েও উঠেনি ১৯৮৭ সালে দৈনিক ইত্তেফাকে ‘শিক্ষক নিয়োগ’ বিজ্ঞাপনে ঢাকা চলে আসার পর থেকে। তিন শতের অধিক প্রার্থীর মধ্যে নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে বাছাই করা হয়েছিল উত্তরা হাই স্কুলের শিক্ষক হিসেবে। সেকেলে মাসে ৫০০ টাকায় একটি ছাত্রও পড়াতাম।
বছর গেল বয়স বাড়ল প্রতিষ্ঠানের ভাল সময় ছিল যখন প্রধান শিক্ষক ছাত্র ভর্তির চেয়ে ভাল ছাত্র গঠনে বেশি জোর দিতেন, খারাপ সময়ও ছিল যখন তার বিপরীত ঘটিয়ে ভর্তিকে অনেকে ব্যবসায় পরিণত করতেন, ছিলাম আমি শুরু থেকেই।
শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি বা অবনতি দুটোই নির্ভর করে শিক্ষার্থীদের উপর। এখনকার ছেলেমেয়েরা পড়ালেখার চেয়ে বাজে কাজে সময় বেশি নষ্ট করতে পছন্দ করে। যুগের দোশ দিয়ে লাভ আছে? একটু আধটু সময় সবাই নষ্ট করে। আমরাও খেলাধুলা, গল্প করেছি, আড্ডা দিয়েছি, কাজের সময় কাজ করেছি। মানুষ তখনই তোমাকে আদর্শ মানবে যখন তুমি আদর্শবানের ন্যায় কাজ করবে।
“চাচা আপন প্রাণ বাচাঁ”র বাংলায় অপরের করা, বলা নিয়ে কেবল বোকারাই ভাবে।
কাজের গায়ে তো আর লিখা থাকে না ছোট না বড়। বড় ভাইরা হয়েছেন সচিব, হয়েছেন বীরবিক্রম তাই ভেবে নিজের শিক্ষকতা নিয়ে কখনো আফসোস জন্মায়নি মনে।
কেনই বা করব?
আমি তো আর মন্দ নেই।
কেউ থাকবেও না।
কাজকে সম্মান করলেই সম্মানিত হওয়া যায়।
আফসোস করলে নয়।
– শাহ নওয়াজ সিদ্দিকী,
সিনিয়র শিক্ষক,
বাংলা বিভাগ,
উত্তরা হাই স্কুল এন্ড কলেজ।
বি:দ্র: কিছু নথিগত জটিলতার জন্য কালের সঠিক তথ্য প্রদান করা সম্ভব হয়নি যার জন্য লেখক আন্তরিক ভাবে দু:খিত।
01/04/2018
"প্রধানশিক্ষক বাবার বড় ছেলে বলে ছোটবেলা থেকে কঠিন শাসনের মধ্যে দিয়ে বড় হওয়া। বিশৃঙ্খলা বলে কিছুই মাথায় ও আসত না। তবে যখন ক্লাস টুতে পড়ি তখন অ্যাসেম্বলিতে ভুলবসত বেলাইনে দাড়ানোর জন্য সবার সামনেই একদম শাসন করেছিল যেটা এখনও ভালভাবেই মনে আছে।
বাবার শাসনে থাকলেও মা দাদুর আদরের বিশু ছিলাম। চাকমা উপজাতিদের বিযু উৎসবের সাথে মিল রেখে নাম দিয়েছিল দাদু। তেমন স্বাধীন না থাকলেও শখের কমতি ছিল না। যার মাঝে কবুতর, কুকুর পালার বড়ই শখ ছিল, ছিলোও কিছু সংখ্যক কবুতর আর দুইটি কুকুর। আগের কালের নামের মতই কুকুরগুলোর নাম ছিল বাঘা। ঢাকায় চলে আসার পর সেগুলোর আর কোন হদিস পাওয়া যায়নি।
ছোটবেলার বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগরের ইছামতি গ্রামে, হাতেখড়িও হয়েছিল সৈয়দবাড়ী প্রাইমারী স্কুলে কিন্তু চতুর্থ শ্রেণীতে পড়াকালীন ঘরবাড়ি পুড়িয়ে যখন যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, আশ্রয় নিতে হল কর্ণফুলী নদীর ওপারে, থেকেছিলাম তিনটে মাস, উঠেও গেলাম অটোপ্রমোশন পেয়ে ইছামতি হাই স্কুলের ক্লাস ফাইভে। এরপর পড়া হল রাঙ্গুনিয়া হাই স্কুল, রাঙ্গুনিয়া কলেজে। শেষে আসল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পালা। পরীক্ষা দিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট সহ অন্যান্য ভার্সিটিতে বিশেষ করে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ গুলোতে। কিন্তু কোথাও হয়নি। সেবার ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ছাত্রই নেয়নি সেশনজটের জন্য। যার ফলে এক বছর বসে থাকতে হল। খারাপই লাগত ওই সময়টায়, কারণ ভাল বন্ধুরা বেশিরভাগই বুয়েট বা ডিইউতে পড়ছিল। এরপরের বছর আবার পরীক্ষা দিলাম, হয়ে গেল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে, ভর্তি হলাম ফিজিক্সে।
১৯৮৯ সালে পাশ করার পর ঢাকায় চলে আসি। কমলাপুর বৌদ্ধমন্দির স্কুলের শিক্ষকতার দ্বারা হল কর্মজীবনের শুরু। এরপর বিভিন্ন ক্ষেত্রেই কাজ করা হয়েছে। জাপান অ্যাম্বাসিতে জাপান দূতাবাসের ভিসা সেকশনে যারা জাপান যেতে চায়, তাদের সাক্ষাতকার ও প্রতিবেদন তৈরি করতাম অর্থাৎ লিয়াজো অফিসার হিসেবে কাজ করতাম। আরও শিক্ষকতা করলাম রূপগঞ্জের গণবাংলা হাই স্কুলে, মিরপুর সিদ্ধান্ত হাই স্কুলে।
২০০১ সালের জুলাই মাস থেকে উত্তরা হাই স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করি। মতিঝিল মডেল স্কুলেও চাকরি হয়েছিল একই সময়ে। তখন উত্তরা হাই স্কুলের পরিবেশ ভাল লাগল তাই এখানেই চলে আসি। এমনকি প্রথমদিন ক্লাস করার পর দেখি ছাত্রগুলোও খুবই ভাল। প্রথম তিনমাস মিরপুর থেকেই আসা যাওয়া করতাম।
স্কুল যখন ভালো করে তখন নিজের কাছেই ভাল লাগে যেমন ২০০২ সালে রাজউক পেয়েছিল ৭ জন A+, আমাদের পেয়েছিল ১১ জন আবার ২০০৪ সালে ৩য় স্থান অর্জন।
বর্তমানে ছাত্রপত্তি ব্যবস্থা অর্থাৎ প্রমোশনটা ভাল করলে স্কুল এবং কলেজ উভয়ই আরও ভাল অবস্থায় থাকত। এছাড়া স্কুলের পক্ষ থেকে গণিত উৎসব, বিজ্ঞান উৎসব এবং একটি সুগঠিত বিজ্ঞান ক্লাব করা হলে তা ছাত্রদের জানার আগ্রহকে বারিয়ে তুলতো।
সবার কাছে বড় হল ইচ্ছাপূরণ। এতে মনের শান্তিও অর্জন হয় অনেকের ঠিকই।
বাড়ির পাশের নদীতে বাধ দেওয়াকালীন প্রকৌশলীদের হাতে কলমে কাজ দেখে ছোটবেলা থেকে প্রকৌশলীই হতে চেয়েছিলাম।
ইচ্ছাপূরন হয়নি হয়ত কিন্তু চলছে সবই।
সবাইকেই চলতে হবে।
মন্দ বা ভাল।"
- অপরেশ বড়ুয়া
সিনিয়র শিক্ষক,
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ,
উত্তরা হাই স্কুল এন্ড কলেজ।