01/04/2018
"প্রধানশিক্ষক বাবার বড় ছেলে বলে ছোটবেলা থেকে কঠিন শাসনের মধ্যে দিয়ে বড় হওয়া। বিশৃঙ্খলা বলে কিছুই মাথায় ও আসত না। তবে যখন ক্লাস টুতে পড়ি তখন অ্যাসেম্বলিতে ভুলবসত বেলাইনে দাড়ানোর জন্য সবার সামনেই একদম শাসন করেছিল যেটা এখনও ভালভাবেই মনে আছে।
বাবার শাসনে থাকলেও মা দাদুর আদরের বিশু ছিলাম। চাকমা উপজাতিদের বিযু উৎসবের সাথে মিল রেখে নাম দিয়েছিল দাদু। তেমন স্বাধীন না থাকলেও শখের কমতি ছিল না। যার মাঝে কবুতর, কুকুর পালার বড়ই শখ ছিল, ছিলোও কিছু সংখ্যক কবুতর আর দুইটি কুকুর। আগের কালের নামের মতই কুকুরগুলোর নাম ছিল বাঘা। ঢাকায় চলে আসার পর সেগুলোর আর কোন হদিস পাওয়া যায়নি।
ছোটবেলার বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগরের ইছামতি গ্রামে, হাতেখড়িও হয়েছিল সৈয়দবাড়ী প্রাইমারী স্কুলে কিন্তু চতুর্থ শ্রেণীতে পড়াকালীন ঘরবাড়ি পুড়িয়ে যখন যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, আশ্রয় নিতে হল কর্ণফুলী নদীর ওপারে, থেকেছিলাম তিনটে মাস, উঠেও গেলাম অটোপ্রমোশন পেয়ে ইছামতি হাই স্কুলের ক্লাস ফাইভে। এরপর পড়া হল রাঙ্গুনিয়া হাই স্কুল, রাঙ্গুনিয়া কলেজে। শেষে আসল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পালা। পরীক্ষা দিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট সহ অন্যান্য ভার্সিটিতে বিশেষ করে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ গুলোতে। কিন্তু কোথাও হয়নি। সেবার ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ছাত্রই নেয়নি সেশনজটের জন্য। যার ফলে এক বছর বসে থাকতে হল। খারাপই লাগত ওই সময়টায়, কারণ ভাল বন্ধুরা বেশিরভাগই বুয়েট বা ডিইউতে পড়ছিল। এরপরের বছর আবার পরীক্ষা দিলাম, হয়ে গেল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে, ভর্তি হলাম ফিজিক্সে।
১৯৮৯ সালে পাশ করার পর ঢাকায় চলে আসি। কমলাপুর বৌদ্ধমন্দির স্কুলের শিক্ষকতার দ্বারা হল কর্মজীবনের শুরু। এরপর বিভিন্ন ক্ষেত্রেই কাজ করা হয়েছে। জাপান অ্যাম্বাসিতে জাপান দূতাবাসের ভিসা সেকশনে যারা জাপান যেতে চায়, তাদের সাক্ষাতকার ও প্রতিবেদন তৈরি করতাম অর্থাৎ লিয়াজো অফিসার হিসেবে কাজ করতাম। আরও শিক্ষকতা করলাম রূপগঞ্জের গণবাংলা হাই স্কুলে, মিরপুর সিদ্ধান্ত হাই স্কুলে।
২০০১ সালের জুলাই মাস থেকে উত্তরা হাই স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করি। মতিঝিল মডেল স্কুলেও চাকরি হয়েছিল একই সময়ে। তখন উত্তরা হাই স্কুলের পরিবেশ ভাল লাগল তাই এখানেই চলে আসি। এমনকি প্রথমদিন ক্লাস করার পর দেখি ছাত্রগুলোও খুবই ভাল। প্রথম তিনমাস মিরপুর থেকেই আসা যাওয়া করতাম।
স্কুল যখন ভালো করে তখন নিজের কাছেই ভাল লাগে যেমন ২০০২ সালে রাজউক পেয়েছিল ৭ জন A+, আমাদের পেয়েছিল ১১ জন আবার ২০০৪ সালে ৩য় স্থান অর্জন।
বর্তমানে ছাত্রপত্তি ব্যবস্থা অর্থাৎ প্রমোশনটা ভাল করলে স্কুল এবং কলেজ উভয়ই আরও ভাল অবস্থায় থাকত। এছাড়া স্কুলের পক্ষ থেকে গণিত উৎসব, বিজ্ঞান উৎসব এবং একটি সুগঠিত বিজ্ঞান ক্লাব করা হলে তা ছাত্রদের জানার আগ্রহকে বারিয়ে তুলতো।
সবার কাছে বড় হল ইচ্ছাপূরণ। এতে মনের শান্তিও অর্জন হয় অনেকের ঠিকই।
বাড়ির পাশের নদীতে বাধ দেওয়াকালীন প্রকৌশলীদের হাতে কলমে কাজ দেখে ছোটবেলা থেকে প্রকৌশলীই হতে চেয়েছিলাম।
ইচ্ছাপূরন হয়নি হয়ত কিন্তু চলছে সবই।
সবাইকেই চলতে হবে।
মন্দ বা ভাল।"
- অপরেশ বড়ুয়া
সিনিয়র শিক্ষক,
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ,
উত্তরা হাই স্কুল এন্ড কলেজ।