Atish Dipankar University Alumni Association

Atish Dipankar University Alumni Association

Share

Education related information

16/05/2026
26/03/2026

ঘুণেধরা স্বাধীনতা ও দেশপ্রেম ।। কামরান চৌধুরী

শতাব্দীর জং ধরা শিকল ভেঙেছিল যে উত্তাল মার্চে,
সেখানে ছিল না কোনো ব্যক্তিস্বার্থের ম্লান ধূলিকণা—
কেবল ছিল একজোড়া উদগ্রীব চোখ আর মানচিত্রের তৃষ্ণা।
রক্তের আল্পনায় আঁকা হয়েছিল যে মাটির কপাল,
৫৫টি বসন্ত পরে সেই মাটিতেই আজ আগাছার জয়গান।
ঘুণেধরা এই ঘুণপোকাদের দল কুরে কুরে খায় স্বাধীনতা,
স্বাধীনতা বিরোধীদের আস্ফালনে কলঙ্কিত হয় সেই পবিত্র বেদী—
যারা এখনো ছদ্মবেশে ছড়ায় বিষাক্ত নিশ্বাস এ দেশের গায়ে।

এখন আকাশে উম্মুক্ত ডানা মেলে ওড়ার তীব্র সাধ আছে,
অথচ নিশ্বাস নিতে গেলেই বিষাক্ত ধোঁয়ায় নীল হয়ে যায় ফুসফুস।
বিজাতীয় সংস্কৃতির উন্মাদনায় আমরা হারিয়েছি আজ শেকড়,
নিজস্ব ঢোল-তবলা আর মাটির গান আজ অবহেলিত ধুলোয়—
অন্ধ অনুকরণে মত্ত হয়ে ভুলেছি বাউল মন আর পহেলা বৈশাখ।
গণতন্ত্রের শ্বেতকপোত আজ খাঁচায় বন্দি নির্জীব মূর্তির মতো,
মত প্রকাশের জিহ্বায় বিঁধে আছে অদৃশ্য সব ধারালো কাঁটা।
শ্রদ্ধাবোধের ফসিল পড়ে আছে ইট-কাঠের নির্দয় অরণ্যে,
মানুষের চোখে এখন সহমর্মিতার বদলে কেবল উগ্রতার লাল আভা।

শৈবালদামের মতো শিকড়হীন কিছু মানুষ—
দেশের নাড়ি ছিঁড়ে অর্থ-সম্পদ-মেধা পাচার করে পরবাসী সিন্দুকে,
বৈদেশিক মদদে নিজ মায়ের গায়েই ছিটায় কলঙ্কের কালি।
তারা কি একবারও ভাবে না, এই পলিমাটির ঘ্রাণেই তাদের জন্ম?
মানচিত্র আছে দেয়ালে টাঙানো, কিন্তু হৃদয়ে নেই মমতার লেশ;
দেশপ্রেম কি তবে শুধু ১৬ই ডিসেম্বরের সস্তা কোনো স্লোগান?

উদ্ধত ধর্মান্ধতা আর হিংসার বিষবাষ্পে ফিকে হয়ে যাচ্ছে
আমাদের সেই শাশ্বত হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।
মায়ের আঁচলে আগুন দিয়ে যারা উৎসব করে ক্ষমতার দম্ভে,
তাদের কি মনে পড়ে না সেই শহীদ মিনারের রক্তভেজা সোপান?
পতাকায় লেগে আছে আজ স্বার্থপরতার ধূসর একরাশ ধুলো,
সেই ধুলো ঝেড়ে ফেলার শপথ নেওয়ার সময় তবে কি আসেনি?

এখন প্রয়োজন এক নতুন সূর্যোদয়ের, এক শুদ্ধ জাগরণের;
দেশপ্রেম কোনো কাগুজে দলিল নয়, নয় কোনো মুখের বুলি—
এ তো রক্তকণিকার মাঝে মিশে থাকা এক পবিত্র দায়বদ্ধতা।
এসো তবে স্বকীয় সংস্কৃতিকে বুকে ধারণ করি পরম মমতায়,
বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য হোক আমাদের একমাত্র বর্ম।
দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মাটিকে আপন করে নিতে হবে,
যেখানে অন্যায় দেখবে, সেখানেই যেন গর্জে ওঠে প্রতিবাদের ভাষা;
নীরবতা তো দেশপ্রেমের পরিপন্থী এক সুপ্ত বিশ্বাসঘাতকতা।

তরুণদের হৃদয়ে গেঁথে দিতে হবে সত্য ইতিহাসের নির্ভীক বাণী,
বিকৃতির কুয়াশা কাটিয়ে যেখানে বীরত্বের গল্প হবে আলোকবর্তিকা।
নিজের কাজটুকু সততার সাথে করাই তো শ্রেষ্ঠ প্রার্থনা,
আইন মানা, প্রকৃতি রক্ষা আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে দেয়াল হওয়া—
এসবই তো যুদ্ধের ময়দানে অস্ত্র ধরার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।
মেধা নয়, আগে মনন গড়ে তুলি দেশীয় ঐতিহ্যের সুরভিত ছোঁয়ায়।

জাগো তবে হর্ষে, জাগো দেশাত্মবোধের সেই অবিনাশী মন্ত্রে,
বিভেদের প্রাচীর গুঁড়িয়ে দিয়ে এক করি আজ শত হাত।
এসো তবে অঙ্গীকার করি—এই মাটির কাছে আমাদের ঋণ শোধের;
যেখানে প্রতিটি শিশু বড় হবে একতার মন্ত্র আর উদারতার পাঠে।
আমি ভালোবাসি আমার দেশকে, মানবো এর প্রতিটি নিয়ম,
অন্যায়ের মুখে হবো বজ্রকঠিন, আর আর্তের পাশে শীতল ছায়া।
ব্যক্তিগত ক্ষুদ্রতা বিসর্জন দিয়ে গড়ি এক মানবিক স্বদেশ,
যেখানে স্বাধীনতার পূর্ণ চাঁদ হাসবে প্রতিটি মানুষের তৃপ্ত হৃদয়ে।

তারিখ-২৬.০৩.২০২৬।। শ্যামলী, ঢাকা।
#স্বাধীনতা_দিবসের_কবিতা #কামরানচৌধুরীরকবিতা #বাংলার_সেরা_কবিতা #ঘুণেধরা_স্বাধীনতা_ও_দেশপ্রেম

20/02/2026

অবিনাশী একুশ ।। কামরান চৌধুরী

ফাগুনের তপ্ত রোদে যখন শিমুল-পলাশ রক্তিম হাসে,
বাংলার আকাশ-বাতাস তখন একুশের অমর কাব্যে ভাসে।
গাদা ফুলের স্নিগ্ধ সৌরভে বসন্ত জাগে প্রতিটি দ্বারে,
মুক্ত প্রাণের মিছিল ছোটে আজ শৃঙ্খল ভাঙার হুংকারে।

সেদিনও তো রাজপথ ভিজেছিল তপ্ত তাজা রক্তের ধারায়,
বীর সন্তানদের আত্মত্যাগে আজ পরাধীনতার গ্লানি হারায়।
একুশ মানেই দীপ্ত শপথ, একুশ মানেই শির উঁচু রাখা,
বর্ণমালার প্রতিটি শরীরে শহীদের পবিত্র স্বাক্ষর মাখা।

জাতি-ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে একুশ শেখায় ঐক্যের গান,
বাঙালির বুকে অজেয় চেতনা—একুশই আমাদের প্রাণ।
শহীদ বেদীর পুষ্পার্ঘ্যে শুচি আমরা মহান প্রভাতফেরীতে,
বাঙালিত্বের গৌরব আঁকি হৃদয়ের পরম মর্মরীতে।

আজও যদি আসে অপসংস্কৃতি কিংবা মব-সন্ত্রাসের ছায়া,
রাজনীতির নামে ধর্মের বিষে হারাই শাশ্বত ভ্রাতৃত্বের মায়া-
তবে একুশের তেজদীপ্তিতে রুখে দাঁড়াবো আমরা সবাই,
রক্তের দামে কেনা বর্ণমালায়—পরাভব মানি নাই।

একুশ আমাদের অহংকার, স্বকীয় সংস্কৃতির চাবিকাঠি,
একুশের প্রেরণায় ধন্য হয়েছে শ্যামল বাংলার সোনা মাটি।
একুশ মানেই সাহস জোগানো, কভু মাথা না করা নত,
ভাষার প্রেমে জাগ্রত রবো—জ্বলন্ত এক ধ্রুবতারার মতো।

একুশ আমার চেতনার আধার, একুশ আমার শাশ্বত অঙ্গীকার।।

তারিখ- ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। শ্যামলী, ঢাকা।।

25/01/2026

ঢাকা শহরে শেখ হাসিনা ফ্লাইওভার বানিয়েছে, মেট্রোরেল চালু করেছে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে করে মানুষের সময় বাঁচিয়েছে তাঁর ক্ষমা নেই।
কারণ সে এই শহরের মানুষের সাথে সবচেয়ে বড় অপরাধটি করেছে— কষ্ট কমিয়ে দিয়েছে।
ঢাকাবাসীর তো জন্মগত অধিকার ছিল ১০ মিনিটের পথ ১ ঘন্টায় ঝুলে ঝুলে যাওয়া। বাসের দরজায় ঝুলে থেকে জীবন-মৃত্যুর মাঝখানে দোল খাওয়া।
সেই ঐতিহ্য ধ্বংস করে এসি কোচ, মসৃণ রাস্তা, সময়ানুবর্তিতা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।

মেট্রোরেল দিয়ে অফিসে সময়মতো পৌঁছানো, এ তো সরাসরি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। ভয়াবহ রাজনৈতিক অপরাধ। জ্যামে বসে জীবনের দর্শন শেখার সুযোগ কেড়ে নেয়া হয়েছে। আগে মানুষ জ্যামে বসে কবিতা লিখত, প্রেম করত, রাজনীতি করত, মাঝেমধ্যে মা-বোনদের গায়ে ব্যাড টাচ করতে পারত, এখন সে সুযোগও নেই। কী ভয়ংকর ক্ষতি!

মগবাজার থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে মাত্র ১০ মিনিটে বিমানবন্দরে পৌঁছে যাওয়া, এই অপরাধ কি ক্ষমা করা যায়?
আগে মানুষ বাসে ঝুলে ঝুলে যেত, ঘামে ভিজে জীবনকে অনুভব করত। এখন এসি গাড়িতে বসে সময় বাঁচিয়ে ফেলছে, এত আরাম কার অনুমতিতে?

এয়ারপোর্টের তৃতীয় টার্মিনাল এত সুন্দর কেন?
বিদেশিরা এসে যদি ভাবে "এটা কি সত্যিই ঢাকা?"
তাহলে তো আমাদের চিরচেনা অব্যবস্থার বদনাম হবে! আমাদের বহু বছরের অব্যবস্থার ব্র্যান্ড ভ্যালু নষ্ট হবে! অত নান্দনিকতা তো আমাদের মানায় না।

আর পদ্মা সেতু! এ তো সরাসরি অপরাধের শিরোমণি। নৌকা, ফেরি, মাঝনদীতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকার যে ঐতিহাসিক কষ্ট, তা এক সেতু দিয়ে শেষ করে দিল! অসুস্থ রোগী ফেরির জন্য অপেক্ষা করতে করতে মৃত্যুর কোলে ঝরে পড়া, চিকিৎসা করাতে কিংবা সময়মত হসপিটাল না নেয়ার আফসোস শেষ করা ঠিক হয়নি। এ কেমন স্বাধীনতা?

বঙ্গবন্ধু টানেল বানিয়ে নদীর নিচ দিয়ে গাড়ি চালানোর স্পর্ধা! নদী পার হতে ভোগান্তি না থাকলে
মানুষ কষ্ট শিখবে কোথা থেকে?
পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এটা তো আরও ভয়ংকর।
লোডশেডিংয়ের সেই পবিত্র অন্ধকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা, গরমে ঘাম ঝরানো এই সংস্কৃতি ধ্বংসের দায় কার?

কক্সবাজার রেলস্টেশন বানিয়ে পর্যটনকে সহজ করে ফেলা হয়েছে। আগে মানুষ কষ্ট করে যেত,
এখন আরাম করে যায়। এ কেমন রাষ্ট্রনীতি?
গভীর সমুদ্র বন্দর,
যমুনা রেল সেতু,
৬ লেন মহাসড়ক,
সিলেটের ২ লেনকে ৬ লেনে রূপান্তর প্রক্রিয়ার জন্য আজ কথা শুনা লাগছে। এলপিজি গ্যাস নিয়ে কিছু না বলি।

উন্নয়ন, উন্নয়ন আর উন্নয়ন। এত উন্নয়ন দিয়ে মানুষকে স্বপ্ন দেখানো এ কোন রাজনৈতিক দর্শন?
আমরা তো শিখে এসেছি, বাংলাদেশ মানে কষ্ট,
বাংলাদেশ মানে ভোগান্তি, বাংলাদেশ মানে "হবে না, পারবে না"।
কিন্তু সে এসে বলেছিলো—
"হবে, পারবে, দাঁড়াবে।"
এই দুঃসাহসের শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে মানুষ প্রশ্ন করতে শিখে যাবে। আর প্রশ্ন করা মানুষ কোন শাসকেরই পছন্দ নয়।
তাই রায় একটাই—যে মানুষকে সময় দিল,
যে মানুষকে বিদ্যুৎ দিল, যে মানুষকে চলার পথ দিল,
যে দেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস দিল
তার অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য।
তাঁর ফাঁসি চাই।

25/01/2026

সাগরদাঁড়ির বিদ্রোহী রাজপুত্র ।। কামরান চৌধুরী
(মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ)

সাগরদাঁড়ির পলিমাটি মাখা জাহ্নবী-মায়ের কোল,
রাজনারায়ণ-অঙ্গনে বাজে সৃষ্টির হিল্লোল।
কপোতাক্ষ নদে আকণ্ঠ পান শৈশব-সুধা-ধারা,
যশোরের সেই বালকের চোখে বিলেতের ধ্রুবতারা।

তাজ্যপুত্র, ত্যজিল ধর্ম— স্বপনের নীল টানে,
যিশুর চরণে সঁপে দিলে জীবন মহাকবি হওয়ার পানে।
গ্রিক-ল্যাটিন-সংস্কৃতের জ্ঞানের অগ্নিকুণ্ডে,
পুড়ে পুড়ে হলে খাঁটি সোনা তুমি স্বদেশের মরু-মুণ্ডে।

অমিত্রাক্ষর পয়ারে আনলে সিন্ধুর কল্লোল,
ভাঙলে জড়তা, পরালে ভাষাকে নব্য ছন্দের দোল।
রেবেকা-হেনরি মায়াজালে ঘেরা জীবনের বিষাদ-লিপি,
ঋণ আর রোগে জর্জর তনু, রুদ্ধ প্রাণের ছিপি।

মেঘনাদবধ- বীরগাথা তব অমরত্বের সেতু,
বীরাঙ্গনার আর্তনাদে তুমি ধূমকেতুসম কেতু।
তিলোত্তমার রূপের আড়ালে প্রহসনের সেই হাসি,
শৃঙ্খল ছিঁড়ে বাজালে তোমার প্রলয়ংকরী বাঁশি।

বাঙালির জগত জাগালে তুমি গো অমর সুধার রসে,
সৃষ্টির আলো ছড়ালে নিপুণ লেখনীর পরশে।
অজেয় বীরের বীর্য ঢাললে বাংলা ভাষার ধমনিতে,
তুমি অমর— মহাকবি রূপে বাঙালির প্রতি মনিতে।

পদ্মাবতী ও কৃষ্ণকুমারী— নাটকের রণভূমি,
বাংলার বুকে সনেট-বীজটি প্রথম রোপিলে তুমি।
অর্থাভাবের পাষাণ-চাপা ওষ্ঠে রক্ত-রাগ,
বিদেশের ধুলো সরায়ে স্মরিলে স্বদেশের অনুরাগ।

পরবাসী কবি, নিজেরে বিলালে বিশ্বসাহিত্যের গানে,
কপোতাক্ষ আজও কাঁদে নিভৃতে তব অমল সৃষ্টির টানে।
আভিজাত্য ছেড়ে দৈন্যে মজে জ্বেলেছ যে মহাদ্যুতি,
বাঙালির হৃদয়ে মহাকবি তুমি— চিরন্তন এক জ্যোতি।।

23/01/2026

চৈতনালোকে বীণাপাণি ।। কামরান চৌধুরী

শ্বেতশুভ্র স্তব্ধতায় জাগো আজ চেতনার গহন নীলে,
বসন্তের আগমনী সুরে ভক্তি অঞ্জলি নাও মা মোর হৃদয়ে মিলে।
তোমার বীণার সুরের মূর্ছনা, ঝংকারে ওঠে প্রাণ,
তোমারি কৃপায় শিল্পী আঁকে ছবি, গায় নতুন গান।

বিদ্যারূপী দেবী তুমি, তুমিই মা সরস্বতী,
তোমার চরণে সঁপিলাম আজ শুদ্ধ প্রেমের জ্যোতি।
হৃদয়-বীণার তারে মাগো জাগাও নব প্রেরণা,
সাজিয়েছি ডালি ভক্তি-পুষ্পে, করি আরাধনা।

মনের যত আঁধার কালি, দাও মাগো আজ মুছে,
তোমার আলোয় তুচ্ছ অভাব যাক না সকল ঘুচে।
নির্মল জ্ঞানের দানে ভরাও আমাদের এই প্রাণ,
সবার মাঝে ঝরুক মাগো তোমার আশির্বাণ।

যবের শিষ আর আমের মুকুল অর্ঘ্য চরণে লীন,
শিমুল-পলাশে রঙ ধরেছে, ফুরালো রিক্ত দিন।
বাসন্তী রঙের গাঁদা ফুলে ঘেরা তোমার ওই মণ্ডপ,
দোয়াত-কলম আর অভ্র-আবিরে সাজানো ভক্তি-জপ।

স্মৃতিরেখা সম শুভ্র তোমার তুষারশুভ্র সাজ,
হংসবাহিনী, তোমার করুণায় ধন্য এ ধরণী আজ।
অক্ষর হতে শব্দের মালা, ছন্দ তালের খেলা,
তোমারই দানে কাটে যে মা গো সহস্র অবহেলা।

সৃজনশীলতা ঝরুক মাগো তোমার প্রসাদী হাসি,
হৃদয়-বীণায় বাজাও তোমার অনাদি সুরের বাঁশি।
ভাষার ছন্দে, সুরের তানে, জীবন হোক গীতিময়,
তিমির নাশিনী, তোমার দয়ায় কাটুক সকল ভয়।

চৈতনালোকে দাও মা দীপ, জ্ঞানের অলঙ্কার,
তুমিই আদি, তুমিই অন্ত, সত্যের অহঙ্কার।
বসন্তের এই পূণ্য লগ্নে চরণে দিলাম মাথা,
তুমিই বিধাতা, তুমিই মাগো মর্ত্যের অমর গাথা।

অক্ষর-ব্রহ্মে বিলীন হোক মোর সকল অহং-মায়া,
আমার চৈতন্যে নিত্য থেকো মা—দিয়ে তোমার অভয়-ছায়া।।

২৩.০১.২০২৬ ।। শ্যামলী, ঢাকা।
#দেবী_সরস্বতী, #বীণাপাণি #সরস্বতীর_কবিতা #সরস্বতী_পূজা #কামরান_চৌধুরীর_কবিতা

Want your school to be the top-listed School/college?

Telephone