ঘুম বিহীন জীবন......!
ভাবতেও গা শিউরে ওঠে! আপনি কি জানেন, খাবার ছাড়া মানুষ কয়েক সপ্তাহ বাঁচতে পারলেও, ঘুম ছাড়া মানুষের মৃত্যু অবধারিত....!
১৯৬৪ সালে আমেরিকায় করা একটি ভয়ংকর বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা বা এক্সপেরিমেন্ট থেকে বেরিয়ে এসেছিল এক শিউরে ওঠার মতো সত্য। আজকের এই লেখাটি পড়ার পর আপনি হয়তো আর কোনোদিন রাতের ঘুম হেলায় হারাবেন না।
মৃত্যুর সাথে ১১ দিনের পাঞ্জা ঘটনাটি ১৯৬৪ সালের। মাত্র ১৭ বছরের এক কিশোরকে বেছে নেওয়া হয়েছিল এই পরীক্ষার জন্য। তাকে রাখা হয়েছিল এমন এক বদ্ধ ঘরে, যেখানে দিনের আলো ঢোকার কোনো পথ ছিল না। উদ্দেশ্য একটাই দেখা, মানুষ ঘুম ছাড়া কতদিন টিকতে পারে?
শুরুটা ছিল স্বাভাবিক (১-২ দিন):
প্রথম দুদিন পর্যন্ত কিশোরটি বেশ স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু আসল নাটক শুরু হলো তৃতীয় দিন থেকে।
তৃতীয় দিন: ছায়া যখন কথা বলে (হ্যালুসিনেশন):
তিন দিন পার হতেই সে একা একা কথা বলতে শুরু করে। সে দাবি করতে থাকে যে সে চারপাশে ভূত দেখছে এবং দেওয়ালে ছায়াদের কথা বলতে শুনছে। মস্তিষ্ক তার নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করে।
পঞ্চম দিন: চরম অবিশ্বাস (প্যারানয়া):
সে খাওয়া-দাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। তার মনে হতে থাকে তাকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলা হবে। ডাক্তারদের সে তার পরম শত্রু ভাবতে শুরু করে।
সপ্তম দিন: অজানা ভাষা ও অদ্ভুত সংকেত:
সাত দিনের মাথায় সে ঘরের দেওয়ালে অদ্ভুত সব চিহ্ন আর এমন ভাষায় কিছু লিখতে থাকে, যে ভাষার অস্তিত্ব এই পৃথিবীতে নেই। সে যেন অন্য কোনো জগতের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছিল।
নবম দিন: জেগে থেকেও মৃত (মাইক্রো-স্লিপ):
মস্তিষ্ক তখন নিজেকে বাঁচাতে এক অদ্ভুত পথ বেছে নেয়। একে বলা হয় ‘মাইক্রো-স্লিপ’। কিশোরটির চোখ খোলা ছিল, কিন্তু তার ব্রেইন ২০-৩০ সেকেন্ডের জন্য বারবার শাটডাউন হয়ে যাচ্ছিল। সে তাকিয়ে ছিল ঠিকই, কিন্তু আসলে সে তখন পৃথিবীতে নেই।
দশম দিন: আর্তনাদ ও হাহাকার:
পুরো ঘর কাঁপিয়ে তার কান্না আর চিৎকারে ডাক্তাররাও ঘাবড়ে যান। তার মানসিক অবস্থা তখন সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার।
একাদশ দিন: সেই ভয়ংকর শেষ মুহূর্ত:
১১তম দিনে সে হঠাৎ একদম শান্ত হয়ে যায়। টানা ৬ ঘণ্টা পলক না ফেলে সে ক্যামেরার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। কোনো নড়াচড়া নেই, কোনো শব্দ নেই। হঠাৎ সে মাটিতে আছড়ে পড়ে যায়। ডাক্তাররা যখন ভাবলেন সে মারা গেছে এবং কাছে দৌড়ে গেলেন তখনই সে হঠাৎ সোজা হয়ে উঠে দাঁড়িয়ে এক পৈশাচিক হাসি হাসতে শুরু করল।
সেই মুহূর্তেই পরীক্ষাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারণ পরিষ্কার ছিল এর এক মিনিট পরেই তার মস্তিষ্ক চিরতরে অকেজো হয়ে যেত।
এই এক্সপেরিমেন্ট থেকে প্রমাণিত হয় যে, একজন মানুষ ঘুম ছাড়া সর্বোচ্চ ১১ দিন টিকে থাকতে পারে। কিন্তু মাত্র ৩ দিন ঘুম না হলেই মানুষের মস্তিষ্ক বিকল হতে শুরু করে এবং স্থায়ী মানসিক রোগ দানা বাঁধতে পারে।
আজকের বাস্তবতা:
আমরা রাত জেগে মোবাইল স্ক্রল করছি, শর্টস বা রিলস দেখছি। আমরা ভাবছি এটা বিনোদন, কিন্তু আসলে আমরা আমাদের মস্তিষ্ককে সেই ভয়ংকর '১১ দিনের' দিকে ঠেলে দিচ্ছি। অতিরিক্ত রাত জাগা আপনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, মেজাজ খিটখিটে করে এবং আপনার আয়ু কেড়ে নেয়।
মনে রাখবেন
ঘুম কোনো বিলাসিতা নয়, এটি আপনার বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেনের মতোই প্রয়োজন। আজ রাত থেকে নিজের শরীর ও মনকে বিশ্রাম দিন।
আপনার কি রাত জাগার অভ্যাস আছে? তবে আজই সাবধান হোন। এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি শেয়ার করে আপনার প্রিয়জনকেও সচেতন করুন!-
(সংগ্ৰহকৃত)।
Uzzal Language and History
This page is for spreading of knowledge of English, education related issues, history,cultural activ
As it is my personal blog , I will upload here my personal thoughts and feelings, English learning activities, stories, literature, history, feature, cultural activities, music, videos on different issues, etc.
Want your school to be the top-listed School/college in Tangail?
Click here to claim your Sponsored Listing.
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Contact the school
Telephone
Website
Address
Tangail