30/07/2026
আজ অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি। সীমান্তবেষ্টিত আমাদের প্রিয় টেকনাফে শান্তি ও নিরাপত্তার আজ চরম অভাব। প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললে কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ রাখলেই আমি দেখতে পাই একটাই আতঙ্ক—‘অপহরণ’। আমাদের কৃষক মাঠ থেকে অপহৃত হচ্ছে, খেটে খাওয়া মানুষ পাহাড়ী এলাকা থেকে নিখোঁজ হচ্ছে, এমনকি ঘরের সন্তানও নিরাপদ থাকছে না। টেকনাফে আজ অহরহ অপহরণের ঘটনা ঘটছে, যা পুরো জনপদকে এক গভীর ভীতি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।
আমি অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, একের পর এক অপহরণের ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর ও স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। কেবল লোকদেখানো দু-একটি উদ্ধার অভিযান বা তদন্তের আশ্বাস দিয়ে এই ভয়াবহ সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। অপরাধীরা দিনের পর দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে, আর সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চাওয়া কি আমাদের অপরাধ?
আজ এখান থেকে আমি দেশের সম্মানিত সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জোরালো ভাষায় বলতে চাই—
টেকনাফের এই মানবিক সংকটকে আপনারা আর অবহেলা করবেন না। আপনারা দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা দিতে সাংবিধানিকভাবে দায়বদ্ধ। আমি আর কোনো মায়ের বুক খালি দেখতে চাই না, কোনো পরিবারের শেষ সম্বলটুকু মুক্তিপণ হিসেবে সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দিতে দেখতে চাই না।
আমি সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি:
টেকনাফের পাহাড়ি ও সীমান্ত এলাকায় স্পেশাল টাস্কফোর্স বা বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হোক।
সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে এই সংঘবদ্ধ অপহরণ চক্রের মূল উৎপাটন করা হোক।
স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তায় নিয়মিত টহল জোরদার করা হোক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর দৃশ্যমান উপস্থিতি নিশ্চিত করা হোক।
টেকনাফ বাংলাদেশেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ শান্তিতে বাঁচতে চায়, স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে চায়। আমি আশা করি, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আর কালক্ষেপণ না করে অনতিবিলম্বে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে টেকনাফকে অপরাধমুক্ত এবং নিরাপদ করে তুলবে।
সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।
মোঃ ফায়সাল উদ্দিন
৩০/০৭/২০২৪