Creative Art School Tangail

Creative Art School Tangail Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Creative Art School Tangail, Tangail.

৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ২০২৬।​প্রধান অতিথি ও বিশেষ ব্যক্তিবর্গ: অ...
06/08/2026

৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ২০২৬।

​প্রধান অতিথি ও বিশেষ ব্যক্তিবর্গ: অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এডমিন ডিরেক্টর সাইদুর রহমান মল্লিক এবং অন্যান্য গুণী ব্যক্তিবর্গ।
​সঞ্চালনা: পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে সঞ্চালনা করেন জালাল উদ্দিন চাকলাদার,শাহীন।
​আয়োজক: সেবা টাঙ্গাইল।
​অংশগ্রহণকারী: ক্রিয়েটিভ আর্ট স্কুলের সকল শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানটিকে মোট ৩টি গ্রুপে ভাগ করা হয় এবং প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্য থেকে মোট ৯ জন শিক্ষার্থীকে আকর্ষণীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়।
​উপহার ও সার্টিফিকেট বিতরণ: প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল শিক্ষার্থীর মাঝে শুভেচ্ছা উপহার ও সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়।

​একটি অত্যন্ত সুন্দর, প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে। উক্ত সফল আয়োজনের জন্য সেবা টাঙ্গাইল-এর আয়োজকবৃন্দ, সকল শিক্ষার্থী এবং সম্মানিত অভিভাবকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।

আজকের ক্লাস
01/08/2026

আজকের ক্লাস

টাঙ্গাইলে ক্রিয়েটিভ আর্ট স্কুলের উদ্যোগে রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত​বিশেষ প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল:...
22/07/2026

টাঙ্গাইলে ক্রিয়েটিভ আর্ট স্কুলের উদ্যোগে রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত
​বিশেষ প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল:
টাঙ্গাইলে উৎসবমুখর পরিবেশে রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন, সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
​গত ২০ জুলাই (সোমবার) বিকাল ৩টায় প্যান্টাগন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল প্রাঙ্গণে 'ক্রিয়েটিভ আর্ট স্কুল টাঙ্গাইল'-এর আয়োজনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
​অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জনাব মুহাম্মদ আব্দুল মতিন-এর সভাপতিত্বে এবং হিউম্যান রাইটস্ রিভিউ সোসাইটি টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি জনাব রাশেদ খান মেনন-এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্যান্টাগন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল জনাব ইসরাত জাহান।
​অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট কবি, প্রাবন্ধিক ও গবেষক জনাব অ্যাডভোকেট আল রুহি। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অভিনেতা, পরিবেশ সৈনিক ও জেলা নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জনাব ইঞ্জিনিয়ার নূর মোহাম্মদ রাজ্য।
​আলোচনা সভা শেষে রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন ও সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বক্তারা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

২০ জুলাই ২০২৬, সোমবার।ক্রিয়েটিভ আর্ট স্কুল টাঙ্গাইল কর্তৃক আয়োজিত রবীন্দ্র- নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে শিশু কিশো...
21/07/2026

২০ জুলাই ২০২৬, সোমবার।

ক্রিয়েটিভ আর্ট স্কুল টাঙ্গাইল কর্তৃক আয়োজিত রবীন্দ্র- নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে শিশু কিশোরদের প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। পুরস্কার প্রদানে উপস্থিত ছিলেন গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সার্থক ও সুন্দরভাবে শেষ হয়েছে। উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ।

20/06/2026

কোমলমতি শিশুদের প্রতিভা বিকাশের জন্য একমাত্র প্রতিষ্ঠান

Community

শিশুদের মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং শারীরিক বিকাশে ছবি আঁকা এবং হাতের সুন্দর লেখার গুরুত্ব অপরিসীম। এটি কেবল খাতার পাতায় ক...
14/06/2026

শিশুদের মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং শারীরিক বিকাশে ছবি আঁকা এবং হাতের সুন্দর লেখার গুরুত্ব অপরিসীম। এটি কেবল খাতার পাতায় কিছু দাগ টানা বা অক্ষর বসানো নয়, বরং একটি শিশুর সামগ্রিক ব্যক্তিত্ব গঠনের শক্তিশালী হাতিয়ার।
নিচে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. ছবি আঁকার তাৎপর্য ও গুরুত্ব
ছবি আঁকা হলো শিশুদের মনের ভাষা প্রকাশের সবচেয়ে সহজ এবং আদিম মাধ্যম। ভাষা শেখার আগেই শিশুরা আঁকিবুকির মাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে শেখে।
কল্পনাশক্তির বিকাশ: ছবি আঁকার সময় শিশুরা তাদের মনের ভেতরের চিন্তা, স্বপ্ন ও কল্পনাকে রঙ-তুলির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলে। এটি তাদের সৃজনশীলতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
আবেগীয় প্রকাশ (Emotional Outlet): অনেক সময় শিশুরা মুখে যা বলতে পারে না, ছবিতে তা এঁকে ফেলে। রাগ, আনন্দ, ভয় বা ভালোলাগার মতো জটিল অনুভূতিগুলো ছবি আঁকার মাধ্যমে সহজেই বেরিয়ে আসে, যা তাদের মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি: একটি সাধারণ গাছ বা পাখি আঁকতেও শিশুকে চারপাশের জগৎ খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হয়। এর ফলে তাদের মনোযোগ ও দেখার দৃষ্টি সূক্ষ্ম হয়।
সমস্যা সমাধানের দক্ষতা: ক্যানভাসে কোন রঙের পাশে কোন রঙ বসবে, কীভাবে চিত্রটি ফুটিয়ে তোলা যাবে—এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়ার মাধ্যমে শিশুরা একা একাই ছোটখাটো সমস্যা সমাধানের কৌশল রপ্ত করে।
২. হাতের সুন্দর লেখার তাৎপর্য ও গুরুত্ব
ডিজিটাল যুগে টাইপিংয়ের চল বাড়লেও, শৈশবে হাতে লেখার এবং লেখা সুন্দর করার গুরুত্ব বিন্দুমাত্র কমেনি।
মনোযোগ ও ধৈর্য বৃদ্ধি: সুন্দর করে গুছিয়ে লিখতে হলে গভীর মনোযোগ এবং ধৈর্যের প্রয়োজন হয়। নিয়মিত সুন্দর করে লেখার অনুশীলন শিশুদের চঞ্চলতা কমিয়ে একাগ্রতা বাড়াতে সাহায্য করে।
মস্তিষ্কের সক্রিয়তা ও স্মৃতিশক্তি: বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে, কীবোর্ডে টাইপ করার চেয়ে হাত দিয়ে লিখলে মস্তিষ্কের স্নায়ুগুলো বেশি সক্রিয় হয়। সুন্দর করে লেখার চেষ্টা করার ফলে পড়া সহজে মনে থাকে এবং শেখার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।
আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক ইম্প্রেশন: চমৎকার হাতের লেখা যেকোনো শিক্ষকের মন কাড়ে। পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে এবং ক্লাসে শিক্ষকের প্রশংসা কুড়াতে সুন্দর হাতের লেখা দারুণ ভূমিকা রাখে, যা শিশুর আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেয়।
শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতাবোধ: অক্ষরের সঠিক মাপ, লাইনের সোজা ভাব এবং খাতার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার অভ্যাস শিশুর ব্যক্তিজীবনেও শৃঙ্খলার জন্ম দেয়।
৩. উভয়ের সম্মিলিত শারীরিক ও মানসিক সুবিধা
ছবি আঁকা এবং হাতের লেখা—উভয় বিষয়ের পেছনেই কিছু সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিকাশ লুকিয়ে রয়েছে:
ফাইন মোটর স্কিল (Fine Motor Skills) বা সূক্ষ্ম পেশির উন্নয়ন:
পেনসিল বা তুলি ধরার মাধ্যমে শিশুদের আঙুল ও হাতের কবজির পেশিগুলো শক্তিশালী হয়। হাত ও চোখের এই সমন্বয় (Hand-Eye Coordination) ভবিষ্যৎ জীবনে যেকোনো সূক্ষ্ম কাজ নিখুঁতভাবে করতে সাহায্য করে।
শেষ কথা
শিশুদের ছবি আঁকা বা সুন্দর হাতের লেখাকে কেবল একটি সাধারণ শখ বা পড়াশোনার অংশ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এগুলো হলো শিশুর মেধা মনন বিকাশের মূল ভিত্তি। প্রতিটি অভিভাবক ও শিক্ষকের উচিত শিশুকে জোর না করে, খেলার ছলে আনন্দদায়ক পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে ছবি আঁকা এবং হাতের লেখা সুন্দর করার ব্যাপারে উৎসাহিত করা।

13/06/2026
ছোট্ট একটি মফস্বল শহর আবহাওয়া অফিস রোড, আকুর টাকুরপাড়া, চার রাস্তার মোড়ে অবস্থিত ক্রিয়েটিভ আর্ট স্কুল। তিনতলা বাড়িট...
07/06/2026

ছোট্ট একটি মফস্বল শহর আবহাওয়া অফিস রোড, আকুর টাকুরপাড়া, চার রাস্তার মোড়ে অবস্থিত ক্রিয়েটিভ আর্ট স্কুল। তিনতলা বাড়িটির পাশ দিয়ে যখন প্রতিদিন বিকেলে হেঁটে যাই তখন ভেসে আসে ক্যানভাসে ব্রাশের খসখস শব্দ। এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু একটা চার দেয়ালের একাডেমি নয়, এটি হলো একঝাঁক ক্ষুদে শিল্পীর স্বপ্ন বোনার আঙিনা।
আমি এই প্রতিষ্ঠানের একজন মেন্টর বা শিক্ষক। তবে নিজের চেয়েও বেশি আমি নিজেকে এই বাচ্চাদের একজন অভিভাবক মনে করি। প্রতিদিন যখন ওরা ছোট ছোট কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে, চোখে এক পৃথিবী কৌতুহল নিয়ে ভেতরে ঢোকে, তখন আমার মনে হয়—আমি শুধু ওদের আঁকা বা গান শেখাচ্ছি না, আমি ওদের জীবনের রঙ চিনতে শেখাচ্ছি।
ক্যানভাসে রঙের জাদু আর ভাঙা তুলির গল্প
কয়েক মাস আগের কথা। আমাদের একাডেমির বার্ষিক প্রদর্শনীর ঠিক দুই দিন বাকি। সব বাচ্চাই উদগ্রীব হয়ে তাদের সেরা কাজটা ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত। তাদের মধ্যে আট বছরের ছোট্ট মেয়ে 'তুলি' ছিল একটু অন্যরকম। সে খুব একটা গুছিয়ে কথা বলতে পারত না, কিন্তু ক্যানভাসে যখন সে হাত দিত, তুলি যেন কথা বলত।
প্রদর্শনীর আগের দিন বিকেলে তুলি কাঁদ কাঁদ মুখে আমার ঘরে এসে দাঁড়াল। তার প্রিয় ক্যান্ডি-কালার করার ব্রাশটা মাঝখান থেকে ভেঙে গেছে। জলরঙের বাক্সের কয়েকটি রঙও শেষ। তার চোখে জল, "স্যার, আমি কি কাল প্রদর্শনীতে অংশ নিতে পারব না?"
আমি তাকে জড়িয়ে ধরে বললাম, "তুলি, আমাদের এই 'সুর আর তুলি' একাডেমি কিন্তু কাউকে মাঝপথে ছেড়ে দেয় না। তুমি এখানে একা নও।"
আমি আলমারি থেকে আমার নিজের এক সেট তুলি আর রঙ বের করে ওর হাতে দিলাম। শুধু তাই নয়, ক্লাসের অন্য ক্ষুদে শিল্পীরা—যেমন রোহিত, সামিয়া, নীল—সবাই এসে তুলিকে ঘিরে ধরল। রোহিত ওর নিজস্ব প্যালেট থেকে লাল রঙ দিল, সামিয়া দিল নীল। মুহূর্তের মধ্যে পুরো ক্লাসটা যেন একটা পরিবারে রূপ নিল।
একটি শিক্ষা যা একাডেমি আমাদের শিখিয়েছে: শিল্প কখনো একার নয়, শিল্প হলো সবাইকে জড়িয়ে ধরার এক পরম আশ্রয়।
প্রদর্শনীর সেই জাদুকরী দিন
প্রদর্শনীর দিন যখন শহরের বড় বড় গুণী মানুষরা আমাদের একাডেমির হলরুমে প্রবেশ করলেন, তখন পুরো চারপাশটা আলোয় আলোকময়।
সবাই ঘুরে ঘুরে দেখছিলেন। হঠাৎ এক প্রবীণ শিল্পী তুলির আঁকা ছবিটার সামনে গিয়ে থমকে দাঁড়ালেন। ছবিটায় একটা ভাঙা নৌকোকে অনেকগুলো ছোট ছোট হাত মিলে টেনে তুলছে তীরের দিকে। ছবির নিচে ছোট করে লেখা—"আমাদের একাডেমি, আমাদের শক্তি।"
তুলি খুব দূর থেকে ভয়ে ভয়ে দেখছিল। প্রবীণ ভদ্রলোক যখন জিজ্ঞেস করলেন, "এই অসাধারণ ছবিটা কে এঁকেছে?" তুলি গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে গেল। ভদ্রলোক পরম স্নেহে ওর মাথায় হাত রেখে বললেন, "মা, তোমার রঙে শুধু ছবি নেই, একটা গভীর ভালোবাসা আর একতা আছে।"
পাশে দাঁড়িয়ে আমার চোখ দুটো তখন জলে ভরে উঠেছিল। এটা শুধু তুলির একার সাফল্য ছিল না, এটা ছিল আমাদের পুরো প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতির জয়।
প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমাদের ঋণ
"সুর আর তুলি" শুধু আমাদের রুটি-রুজির জায়গা বা বাচ্চাদের শুধু একটা ক্লাস নয়। এই প্রতিষ্ঠানটি আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে শূন্য থেকে শুরু করতে হয়। প্রতিকূলতার ঝড়েও কীভাবে রঙ আর সুরের আলো জ্বেলে রাখতে হয়।
আজ যখনই আমি এই করিডোর দিয়ে হেঁটে যাই এবং বাচ্চাদের খিলখিল হাসির শব্দ শুনি, আমার বুকটা গর্বে ভরে ওঠে। এই ক্ষুদে শিল্পীরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। আর এই প্রতিষ্ঠানটি হলো সেই উর্বর মাটি, যেখানে প্রতিদিন ডালপালা মেলছে হাজারো স্বপ্ন।
লোভ-লালসা বা পেশাদারিত্বের এই ব্যস্ত দুনিয়ায়, আমাদের এই ছোট্ট একাডেমিটি যেন এক টুকরো খাঁটি অক্সিজেন। যতদিন বেঁচে থাকব, এই বাচ্চাদের চোখের স্বপ্ন আর এই প্রতিষ্ঠানের গৌরব ধরে রাখতে নিজের সবটুকু বিলিয়ে দেব—এই আমার মৌন অঙ্গীকার।। চার তলা বাড়িটার ছাদ থেকে প্রতিদিন বিকেলে ভেসে আসে কখনো হারমোনিয়ামের মিষ্টি সুর, কখনো আবার ভেসে আসে ক্যানভাসে ব্রাশের খসখস শব্দ। এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু একটা চার দেয়ালের একাডেমি নয়, এটি হলো একঝাঁক ক্ষুদে শিল্পীর স্বপ্ন বোনার আঙিনা।
​আমি এই প্রতিষ্ঠানের একজন মেন্টর বা শিক্ষক। তবে নিজের চেয়েও বেশি আমি নিজেকে এই বাচ্চাদের একজন অভিভাবক মনে করি। প্রতিদিন যখন ওরা ছোট ছোট কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে, চোখে এক পৃথিবী কৌতুহল নিয়ে ভেতরে ঢোকে, তখন আমার মনে হয়—আমি শুধু ওদের আঁকা বা গান শেখাচ্ছি না, আমি ওদের জীবনের রঙ চিনতে শেখাচ্ছি।
​ক্যানভাসে রঙের জাদু আর ভাঙা তুলির গল্প
​কয়েক মাস আগের কথা। আমাদের একাডেমির বার্ষিক প্রদর্শনীর ঠিক দুই দিন বাকি। সব বাচ্চাই উদগ্রীব হয়ে তাদের সেরা কাজটা ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত। তাদের মধ্যে আট বছরের ছোট্ট মেয়ে 'তুলি' ছিল একটু অন্যরকম। সে খুব একটা গুছিয়ে কথা বলতে পারত না, কিন্তু ক্যানভাসে যখন সে হাত দিত, তুলি যেন কথা বলত।
​প্রদর্শনীর আগের দিন বিকেলে তুলি কাঁদ কাঁদ মুখে আমার ঘরে এসে দাঁড়াল। তার প্রিয় ক্যান্ডি-কালার করার ব্রাশটা মাঝখান থেকে ভেঙে গেছে। জলরঙের বাক্সের কয়েকটি রঙও শেষ। তার চোখে জল, "স্যার, আমি কি কাল প্রদর্শনীতে অংশ নিতে পারব না?"
​আমি তাকে জড়িয়ে ধরে বললাম, "তুলি, আমাদের এই 'সুর আর তুলি' একাডেমি কিন্তু কাউকে মাঝপথে ছেড়ে দেয় না। তুমি এখানে একা নও।"
​আমি আলমারি থেকে আমার নিজের এক সেট তুলি আর রঙ বের করে ওর হাতে দিলাম। শুধু তাই নয়, ক্লাসের অন্য ক্ষুদে শিল্পীরা—যেমন রোহিত, সামিয়া, নীল—সবাই এসে তুলিকে ঘিরে ধরল। রোহিত ওর নিজস্ব প্যালেট থেকে লাল রঙ দিল, সামিয়া দিল নীল। মুহূর্তের মধ্যে পুরো ক্লাসটা যেন একটা পরিবারে রূপ নিল।
​একটি শিক্ষা যা একাডেমি আমাদের শিখিয়েছে: শিল্প কখনো একার নয়, শিল্প হলো সবাইকে জড়িয়ে ধরার এক পরম আশ্রয়।
​প্রদর্শনীর সেই জাদুকরী দিন
​প্রদর্শনীর দিন যখন শহরের বড় বড় গুণী মানুষরা আমাদের একাডেমির হলরুমে প্রবেশ করলেন, তখন পুরো চারপাশটা আলোয় আলোকময়।
​সবাই ঘুরে ঘুরে দেখছিলেন। হঠাৎ এক প্রবীণ শিল্পী তুলির আঁকা ছবিটার সামনে গিয়ে থমকে দাঁড়ালেন। ছবিটায় একটা ভাঙা নৌকোকে অনেকগুলো ছোট ছোট হাত মিলে টেনে তুলছে তীরের দিকে। ছবির নিচে ছোট করে লেখা—"আমাদের একাডেমি, আমাদের শক্তি।"
​তুলি খুব দূর থেকে ভয়ে ভয়ে দেখছিল। প্রবীণ ভদ্রলোক যখন জিজ্ঞেস করলেন, "এই অসাধারণ ছবিটা কে এঁকেছে?" তুলি গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে গেল। ভদ্রলোক পরম স্নেহে ওর মাথায় হাত রেখে বললেন, "মা, তোমার রঙে শুধু ছবি নেই, একটা গভীর ভালোবাসা আর একতা আছে।"
​পাশে দাঁড়িয়ে আমার চোখ দুটো তখন জলে ভরে উঠেছিল। এটা শুধু তুলির একার সাফল্য ছিল না, এটা ছিল আমাদের পুরো প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতির জয়।
​প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমাদের ঋণ
​"সুর আর তুলি" শুধু আমাদের রুটি-রুজির জায়গা বা বাচ্চাদের শুধু একটা ক্লাস নয়। এই প্রতিষ্ঠানটি আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে শূন্য থেকে শুরু করতে হয়। প্রতিকূলতার ঝড়েও কীভাবে রঙ আর সুরের আলো জ্বেলে রাখতে হয়।
​আজ যখনই আমি এই করিডোর দিয়ে হেঁটে যাই এবং বাচ্চাদের খিলখিল হাসির শব্দ শুনি, আমার বুকটা গর্বে ভরে ওঠে। এই ক্ষুদে শিল্পীরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। আর এই প্রতিষ্ঠানটি হলো সেই উর্বর মাটি, যেখানে প্রতিদিন ডালপালা মেলছে হাজারো স্বপ্ন।
​লোভ-লালসা বা পেশাদারিত্বের এই ব্যস্ত দুনিয়ায়, আমাদের এই ছোট্ট একাডেমিটি যেন এক টুকরো খাঁটি অক্সিজেন। যতদিন বেঁচে থাকব, এই বাচ্চাদের চোখের স্বপ্ন আর এই প্রতিষ্ঠানের গৌরব ধরে রাখতে নিজের সবটুকু বিলিয়ে দেব।

04/06/2026

টাঙ্গাইলের ক্রিয়েটিভ আর্ট স্কুল শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে বেশ কিছু চমৎকার কারণ রয়েছে। ছবিটিতে শিশুদের একাগ্রতা দেখলেই বোঝা যায় সেখানে শেখার পরিবেশটা কতটা প্রাণবন্ত।
সাধারণত এই স্কুলটি জনপ্রিয় হওয়ার মূল কারণগুলো হলো:
১. সৃজনশীল ও আনন্দদায়ক পরিবেশ
ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, শিশুরা প্রথাগত বেঞ্চে না বসে বেশ খোলামেলা পরিবেশে মাটিতে বসে আঁকছে। এটি তাদের মাঝে এক ধরণের স্বাধীনতা তৈরি করে। শিশুদের ওপর পড়ার বা শেখার কোনো বাড়তি চাপ না দিয়ে বরং খেলার ছলে ছবি আঁকা শেখানো হয়, যা তারা খুব পছন্দ করে।
২. সঠিক গাইডলাইন ও যত্ন
অভিভাবকরা চান তাদের সন্তান এমন কোথাও শিখুক যেখানে প্রতিটি বাচ্চার দিকে আলাদা নজর দেওয়া হয়। ক্রিয়েটিভ আর্ট স্কুলে অভিজ্ঞ শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের হাতের কাজ ও কল্পনাশক্তির বিকাশে হাতে-কলমে সাহায্য করেন, যা অভিভাবকদের ভরসা বাড়িয়ে দেয়।
৩. প্রতিযোগিতামূলক এবং নিয়মিত কার্যক্রম
বিভিন্ন আর্ট কম্পিটিশন, প্রদর্শনী এবং উৎসবগুলোতে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার ফলে শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে। টাঙ্গাইলের স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এই স্কুলের নিয়মিত পদচারণা অভিভাবকদের আকৃষ্ট করে।
৪. মানসিক ও শৈল্পিক বিকাশ
বর্তমান সময়ের ডিভাইস-নির্ভর যুগে শিশুদের সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে ব্যস্ত রাখাটা অভিভাবকদের জন্য বড় স্বস্তির বিষয়। আঁকাআঁকি শিশুদের ধৈর্যশক্তি বাড়ায় এবং মনের ভাব প্রকাশ করতে সাহায্য করে।
৫. আস্থার প্রতীক
দীর্ঘদিনের সুনাম এবং ভালো ফলাফল (যেমন বিভিন্ন পদক জয় বা ভালো মানের চিত্রকর্ম তৈরি) এই প্রতিষ্ঠানটিকে টাঙ্গাইলের মানুষের কাছে একটি আস্থার ব্র্যান্ডে পরিণত করেছে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, শিশুদের শিল্পী মনের বিকাশ ঘটানোর জন্য একটি আন্তরিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই এই স্কুলটি এত বেশি সমাদৃত।
আপনার বাড়ির ক্ষুদে শিল্পীটিও কি এই স্কুলেরই শিক্ষার্থী? সে কী আঁকতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে?

Community

Address

Tangail
1900, 1901, 1902

Telephone

01711948830

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Creative Art School Tangail posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share