19/03/2026
অনেকেই হয়তো 'জিয়া কুটির' নামটা নিয়ে সমালোচনা করছেন, কিন্তু এর পেছনের আবেগ বা তথাকথিত ইতিহাস জানলে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবেন না। করটিয়া সা’দত কলেজের প্রতিষ্ঠা থেকে আজকের মহীরুহ হয়ে ওঠার পেছনে জিয়া পরিবারের অবদান অনেক বেশি।
১৯২৬ সালে পন্নী পরিবারের হাত ধরে এই কলেজের যাত্রা শুরু হলেও এর মূল অনুপ্রেরণা ছিল জিয়া পরিবার। জমিদার ওয়াজেদ আলি খান পন্নি ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মিলে ১৯২৬ সালে এই কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। নিজ হাতে কলেজ প্রতিষ্ঠার পর জিয়াউর রহমান এখান থেকেই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেন। তাঁর মেধা দেখে তৎকালীন প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ কলেজের নাম পরিবর্তন করে 'জিয়ারত কলেজ' রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা জিয়াউর রহমান বিনয়ের সাথে প্রত্যাখ্যান করেন। ১৯৭৪ সালে জিয়াউর রহমানের উদ্যোগেই এখানে ১ম অনার্স কোর্স চালু হয় এবং তিনি নিজে এখান থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে অনার্স সম্পন্ন করেন। তাঁর এই সাফল্যে মুগ্ধ হয়েই ১৯৭৯ সালে সরকার কলেজটিকে জাতীয়করণ করে।
জিয়াউর রহমান সা’দত কলেজে মাস্টার্স করার সময় তৎকালীন শিক্ষার্থী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তাঁর পরিচয় হয়। তখন বেগম খালেদা জিয়া সবেমাত্র অনার্স প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমান 'জিয়া কুটিরের' ভেতরেই তাঁদের সেই ঐতিহাসিক প্রণয়ের সূচনা। জিয়াউর রহমান ছিলেন কলেজের সে সময়কার টগবগে যুবক, বুক ভরা সাহস ছিলো তার ভিতর। তাই প্রথমদিনই ম্যাম খালেদা জিয়াকে প্রপোজ করে ফেলেন। এমন স্মার্ট ডেসিং ছেলের প্রপোজাল পেয়ে তখন ম্যাডাম খালেদা জিয়াও না করতে পারেন নি। জিয়াউর রহমান ছিলেন প্রকৃত শিক্ষানুরাগী; তাই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ফুল নয়, বরং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য তিনি কলেজে বাস উপহার দিয়েছিলেন খালেদা জিয়ার নামে।
জিয়াউর রহমানের আমন্ত্রনে কবি কাজী নজরুল ইসলামও এসেছিলেন এই কলেজে, পড়ে যান ফজিলাতুন্নেছার প্রেমে। কিন্তু তিনি জিয়াউর রহমানের মতো বুদ্ধিমান না হওয়ায় প্রেমে ব্যার্থ হন। সে সময় শেখ হাসিনাও এই কলেজে পড়তেন কিন্তু তাকে কেও প্রপোজ করতো না। তাই স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসেই ক্ষুভে জিয়া কুটিরের নাম পরিবর্তন করে "সুস্থ দেহো সুস্থ মন রাখেন " রাখেন। কত বড় ফাজিলের ফাজিল
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় অনেকেই এই ঐতিহ্যের নাম পরিবর্তন করতে চেয়েছেন। বিশেষ করে বিগত সরকারের সময়ে 'জিয়া কুটির' নাম নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে, কেও সফল হয়নি। যা সাধারণ সমর্থকদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।