27/06/2026
২০৩০ সালের মধ্যে চাকরি হারাবে ৯৯ ভাগ মানুষ, তবুও টিকে থাকতে পারে যে ৫ চাকরি👇👇
কিছু সময়ের জন্য ধরে নিন, ২০৩০ সাল এসে গেছে। সকালে আপনার অ্যালার্ম বাজছে না। অফিসে যাওয়া নিয়ে নেই টেনশন। এমনকি বাসায় বসেও বসের ঝাড়ি খাওয়ার ভয় নেই। কারণ কী? এত শান্তি আপনার জীবনে এল কীভাবে? কারণ আপনার কোনো চাকরিই নেই!
শুনতে খুব ভয়াবহ লাগলেও সিঙ্গুলারিটি নেটের প্রতিষ্ঠাতা বেন গোয়ের্টজেল ঠিক এমনটাই ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। সম্প্রতি বিজনেস ইনসাইডার-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্য। বেন বলছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই, বিশেষ করে ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে মানুষের ৯৯ ভাগ চাকরিই চলে যাবে এআইয়ের কাছে।
এমন খবর শুনলে সাধারণত আমাদের পিলে চমকে যাওয়ার কথা। কিন্তু বেন গোয়ের্টজেল উল্টো আমাদের আশ্বস্ত করছেন। তাঁর মতে, চাকরি চলে যাওয়াটা মানবজাতির জন্য অভিশাপ নয়, বরং আশীর্বাদ হতে পারে। কেন?
কারণ তিনি মনে করেন, মানুষ আসলে চাকরি করতে পছন্দ করে না। আমরা কাজ করি পেটের দায়ে, বাধ্য হয়ে। বেন বলছেন, এআই যখন সব কাজ করে দেবে, তখন মানুষকে আর জীবিকার জন্য গাধার খাটুনি খাটতে হবে না। প্রশাসনিক কাজ, ট্রান্সপোর্ট, লজিস্টিকসসহ এ ধরনের কাজ করে দেবে এআই। আমরা তখন শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান বা সমাজসেবার মতো সৃজনশীল কাজে মন দিতে পারব। অর্থাৎ, চাকরি হারানোর ভয় আমাদের পুরোনো সমাজ ব্যবস্থার ভয়। কিন্তু প্রযুক্তির এই বিপ্লব আমাদের এমন এক দুনিয়ায় নিয়ে যাবে, যেখানে কাজ করাটা বাধ্যতামূলক নয়, বরং ঐচ্ছিক হবে।
এখন প্রশ্ন হলো, এখনকার চ্যাটজিপিটি বা জেমিনাই কি এখনই আমাদের চাকরি দখল করে নেবে? তা ঠিক নয়। বেন গোয়ের্টজেল আঙুল তুলেছেন আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স বা এজিআইয়ের দিকে। এজিআই হলো এমন এক পর্যায়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যা মানুষের মতোই বা তার চেয়েও ভালো চিন্তা করতে পারবে, শিখতে পারবে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। বেনের মতে, ২০২৭ সালের মধ্যেই আমরা এমন এআই তৈরি করে ফেলতে পারি। আর একবার সেটা হয়ে গেলে, ৯০ থেকে ৯৯ শতাংশ মানুষের কাজের প্রয়োজন থাকবে না।
৯৯ শতাংশ চাকরি চলে গেলেও ১ শতাংশ কাজ কিন্তু টিকে থাকবে। টাইমস অফ ইন্ডিয়া-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র ৫ ধরনের পেশা হয়তো এই সময়েও টিকে থাকবে, অন্তত কিছুদিনের জন্য। সেগুলো কী?
১. জটিল শারীরিক কাজ
প্লাম্বার বা ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ রোবট দিয়ে করানো এখনই সম্ভব নয়। ভাঙা পাইপ ঠিক করা বা সরু জায়গায় তার জোড়া লাগানোর মতো কাজে মানুষের হাতের স্পর্শ লাগবেই।
২. মানবিক সংযোগ
থেরাপিস্ট বা নার্সিং পেশায় যাঁরা আছেন, তাঁরা মানুষের আবেগ বোঝেন। এআই যতই স্মার্ট হোক, মায়ের মমতা বা বন্ধুর সান্ত্বনা সে দিতে পারবে না।
৩. সৃজনশীলতা
সত্যিকারের মৌলিক শিল্প বা সাহিত্যের মতো জায়গায় হয়তো ভবিষ্যতেও মানুষের ছাপ লাগবে।
৪. কৌশলগত নেতৃত্ব
এআইকে নির্দেশনা দেওয়া বা বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজে লাগতে পারে মানুষকে
৫. এআই রক্ষণাবেক্ষণ
যারা রোবট বা এআই সিস্টেমগুলোকে তৈরি করবে বা মেরামত করবে, তাঁদের চাকরি টিকে থাকবে।
তবুও প্রশ্ন জাগে, আমাদের ভবিষ্যৎ কতটা নিরাপদ? বেন গোয়ের্টজেলের এই ভবিষ্যদ্বাণী যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি ভীতিকর। কাজ না থাকলে মানুষ খাবে কী? এখানেই সমাজবিজ্ঞানীদের বড় চ্যালেঞ্জ। রাষ্ট্র নিশ্চয়ই সবাইকে বিনা শর্তে বেতন দেবে না। বেনের ভাষায়, ‘আমরা হয়তো এমন এক দুনিয়ায় প্রবেশ করছি যেখানে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও একঘেয়ে কাজের দিন শেষ হচ্ছে।’ তবে ৯৯ শতাংশ মানুষ চাকরি হারালে ভবিষ্যতে তারা কে কি করবে, এ ব্যাপারে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না।
তবে ২০৩০ সাল কিন্তু খুব বেশি দূরে নয়। আমরা কি প্রস্তুত সেই অফুরন্ত ছুটির জন্য? নাকি বেকারত্বের লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে হবে? সময় সব বলে দেবে!