20/09/2026
ঘরে নেটওয়ার্ক ছিল না, তাই পাহাড়ে উঠে পড়তেন দুই বোন—NEET-এ দুজনেরই সাফল্য
ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার প্রত্যন্ত মহুলপঙ্খা গ্রামের যজ্ঞসেনী খাতুয়া ও তাঁর ছোট বোন দিব্যসেনীর কাছে পড়াশোনার পথটা কখনোই সহজ ছিল না।
বাড়িতে ঠিকমতো মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যেত না। অথচ দামি কোচিংয়ের সুযোগও ছিল না। তাই অনলাইন ক্লাস করতে হলে তাঁদের বাড়ি ছেড়ে কাছের পাহাড়ি বা উঁচু জায়গায় যেতে হতো—যেখানে মোবাইলে কিছুটা ভালো সিগন্যাল পাওয়া যেত।
সেখানেই কখনো মোবাইল হাতে নিয়ে চলত অনলাইন ক্লাস, কখনো বই খুলে পড়াশোনা। কখনো আবার রাত পর্যন্ত পাহাড়ের ওপর বসেই পড়েছেন তাঁরা।
দুই বোনের বাবা গৌরাঙ্গ খাতুয়া কৃষিকাজ করেন। মা সুনীতা অঙ্গনওয়াড়ি সহায়িকা। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত হওয়ায় ব্যয়বহুল NEET কোচিং নেওয়া সম্ভব ছিল না। তাই একটি মোবাইল, অনলাইন শিক্ষার উপকরণ, বই এবং আত্মপাঠকেই ভরসা করে এগিয়ে যান তাঁরা।
তবে দুই বোনের সাফল্যের পথ ছিল আলাদা।
বড় বোন যজ্ঞসেনী প্রথম দুইবার সফল হতে পারেননি। কিন্তু ব্যর্থতার পর থেমে না গিয়ে আবার প্রস্তুতি নেন। অবশেষে তৃতীয় প্রচেষ্টায় NEET 2026-এ সফল হন তিনি।
অন্যদিকে ছোট বোন দিব্যসেনী প্রথমবার পরীক্ষা দিয়েই NEET-এ সফল হয়েছেন। তাঁর প্রস্তুতিতে বড় বোনের আগের দুইবারের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই স্বপ্ন—ডাক্তার হওয়া।
কিন্তু দুই বোনের পথ ছিল দুই রকম।
একজনকে সাফল্যের জন্য তিনবার চেষ্টা করতে হয়েছে, অন্যজন প্রথম প্রচেষ্টাতেই পেয়েছেন কাঙ্ক্ষিত ফল। তবু দুজনের গল্পের জায়গাটা একই—সীমিত সুযোগের মধ্যেও হাল না ছেড়ে এগিয়ে যাওয়া।
যে পাহাড়ে একসময় শুধু মোবাইলের সিগন্যাল খুঁজতে উঠতে হতো, সেই পাহাড়ই এখন তাঁদের স্বপ্নপূরণের গল্পের অংশ হয়ে গেছে।
যেখানে নেটওয়ার্ক পৌঁছাতে পারত না, সেখানে পৌঁছে গিয়েছিল তাঁদের স্বপ্ন।
এই দুই বোনের গল্প মনে করিয়ে দেয়—সুযোগের অভাব পথকে কঠিন করতে পারে, কিন্তু চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে সেই কঠিন পথও একদিন সাফল্যের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, Odisha TV, Kanak News, হিন্দুস্তান