সায়াহ্নে'২১

সায়াহ্নে'২১

Share

সিকৃবি '২০-২১ সেশনের শেষ অধ্যায়...

07/03/2026

সায়াহ্নে'২১ এর বিশাল র‍্যাগ ডে নিয়ে লিখার লোভটা সামলাতে পারলাম না আর.........
ক্যাম্পাসে এসেছিলাম অন্তিমের কোন এক সুপ্রভাতে অচেনা পাখি হয় চোখে-মুখে ছিলো স্বপ্ন জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষ। সময় গেল ক্যাম্পাসটা আপন হলো আর আমরা বন্ধি হলার বন্ধুত্ব নাম এক দুর্ভেদ্য খাঁচায়, সেখান পিঞ্জিরা ভাংতে চাইলেও হাজারটা মান অভিমানের পরেও পিঞ্জিরা অক্ষতই থাকে।

এই প্রোগ্রামটা নিয়ে লিখার আগে সবার আগে যে নামটা ম্যানশন করা দরকার সেটা হইলো শিশির। প্রতিবার সায়াহ্নে'২১ এর প্রতিটা মানুষ এই ব্যাকড্রপের দিকে থাকাবে ইউনিভার্সিটি লাইফের স্মৃতি রোমন্থে ফিরবে আর তাদের বন্ধু শিশিরকে মনে করবে। এই পুরো ব্যাকড্রপটা আমার কাছে ভালোবাসার একটা নিখাঁদ দৃষ্টান্ত। একটা মানুষ দিনরাত না ঘুমিয়ে ব্যাচের প্রতিটা বন্ধুর প্রতি তার ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি ঘটিয়েছে। এই ব্যাকড্রপের ব্যানার প্রিন্ট আউটের দায়িত্বটা দেয়া হয় আমাকে তাই খুব সম্ভবত বন্ধু শিশির আমার থেকেই সবচেয়ে বেশি প্যারা খাইছে কিন্তু একবারও মনকালো করে একটা কথাও বলে নাই। মামা একটু ওয়েট কর বলেই মুহূর্তের মধ্যেই কাজ শেষ করে পাঠাই দেয়া, একটু পরেই খোঁজ খবর নেয়া সবটা শিশির করেছে ভোরের কুয়াশা রোদের প্রখর কিরণ আলোয় মুছে যাওয়ার আগেই।

অনেক আগে থেকে প্লান করে প্রোগ্রামটা গতি পায় যখন মনের কোণে অচিন পাখি হওয়ার মতো অবস্থা। স্যারের সাথে মিটিং এরপরে কারো জন্য অপেক্ষা না করে রাগ অভিমান বাদ দিয়েই সবচেয়ে বড় বড় ঝুঁকি গুলো নিয়ে নেয়া।

এইপর্বে যে মানুষটার নাম সবার আগে যে মানুষটার কথা বলবো সে আমাদের প্যারা দায়ক বন্ধু আজফার। প্যারা দায়ক কেন বললাম জানেন? না, আপনার জানার কথাও না। একটা ছেলেকে আমি দেখেছি কিভাবে দিনরাত পুরোটা সময় একটা টিশার্ট কেমন হবে? কোয়ালিটি কেমন হবে আদোও ঠিক হবে কি না? এইসব নিয়ে প্যারা খাইতে। আবার সারা রাতের এইসব বকবক শুনানোর পরে এই আজফারেই আবার সকাল বেলায় বের হয়ে রাত কমপক্ষে ন'টা-দশটায় ক্যাম্পাস ফিরেছে। চোখে মুখে থাকতো ক্লান্তি কিন্তু মনে পুরো ব্যাচের জন্য একগাধা ডেডিকেশন। আগের দিনের একটা কথা বলে আজফারের অবদানটা আসলে কতটুকু সেটা প্রমাণ করে দেই " আজফার ২৭ তারিখ রাতের বেলায় এতোটাই ক্লান্ত ছিলো যে ঠিকঠাক হাঁটতে পারতেছিলো না কিন্তু ওইযে বন্ধুদের প্রতি ভালোবাসায় এইদিনও ৫ টা পর্যন্ত আড্ডা।"

ক্যাম্পাসে আমার সবচেয়ে ক্লোজ বন্ধুদের একজন সৈকত এইটা ক্যাম্পাসের গাছপালা লতাপাতাও সম্ভবত জানে। এই মানুষটাকে আমি এক্সাম কিংবা ক্লাসের টাইমে কখনোই অন্যকিছুর প্রতি এতো ডেডিকেশন দিতে দেখি নাই। কিন্তু এই প্রোগ্রামের টাইমে সৈকতের সব টিউশন অফ, ক্লাস মিস দিয়ে স্যারদের কাছে যাওয়া সবেই করেছে। নিজের পুরো ক্যাম্পাস লাইফের সকল রীতিনীতির বাইরে গিয়েছে সেটা সায়াহ্নে'২১ এর প্রতি সৈকতের নিবেদনের সবচেয়ে বড় দৃস্টান্ত। সায়াহ্নে'২১ গল্পের নায়কের চরিত্রে সৈকতের নাম না থাকা মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পাপের একটা হবে।

ক্যাম্পাসের সবাই জানে ক্যাম্পাসে সবচেয়ে প্যারার ফ্যাকাল্টি হইলো ডিভিএম। সারাদিন ক্লাস আর এক্সাম লেগেই থাকে। এই ফ্যাকাল্টির কাউকে খুঁজে পাওয়া হইলো হাতে চাঁদ পাওয়ার মতো। আর সায়াহ্নে'২১ এর সেই চাঁদটা হইলো আমার বন্ধু সাজিন। সারাদিনের সকল প্যারা সামাল দেয়ার পরও সাজিনকে যখনেই যে কল দেয় সাজিনের কোন অভিযোগ নাই ৫ মিনিটের মধ্যেই সাজিন হাজির। কারো মাথা গরম থাকলেই সাথে সাথে ওরে আলাদা করে নিয়ে বুঝানো ছিলো সাজিনের রেগুলার কাজ। এই যে সারাদিন ক্লাস পরীক্ষা, বিকাল বেলার টিউশন এরপরেও সময় ম্যানেজ করে কাজের সাথে লেগে থাকা এইটা সাজিনের বন্ধুদের প্রতি ভালোবাসার সবচেয়ে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

এইবার আসা যাক এই পুরো অনুস্টানের চিয়ার লিডার আমার দুই বন্ধু দূর্জয়-ফারহান মানিকজোড়ায়। যে যেখানেই যে মোডেই থাকুক না কেন এই পুরো প্রোগ্রামের ড্রাইভিং ফোর্স হইলো এরা দুইজন। রাগ করবেন তো ভরণের দায়িত্ব ফারহান নিবে আর পোষণের দায়িত্বটা আসবে বন্ধু দূর্জয়ের উপর। এই দুইটা মানুষ পুরো অরগানাইজিং টিমের যাদুর কাঠি হিসাবে ছিলো। সবাই কারো না কারো সাথে রাগ অভিমানে ছিলোই কিন্তু আমার মনে হয় সবাইকে একসাথে ঐক্যবদ্ধ রাখার সবচেয়ে বড় ড্রাইভিং ফোর্স এরা দুইজনেই। যখনেই কোনদিন কোনদিন র‍্যাগ নিয়ে স্মৃতির রোমন্থন করবো তখনেই এই দুইটা মুখ চোখে ভাসতে থাকবে। আমার মতে সায়াহ্নে'২১ এর চিয়ার লিডার হইলো এই মানিকজোড় যারা রঙের আয়োজনে রাঙিয়েছে সায়াহ্নে'২১।

অহো, যাদের কথা না বললে এই স্মৃতির পাতা অসম্পূর্ণ থেকে যাবো, তারাই আমাদের প্রিয় পিএলসি সাজ্জাত কাকা আর ম্যানেজার সাহস! টেনশন আর মানুষের মিলনে যদি কোনো প্রতিমূর্তি গড়ে ওঠে, তাহলে এই দুই প্রাণীই তার জীবন্ত রূপ। প্রতিদিন নিজের জীবনের হাজার প্যারা শেষ করেও, তাদের জীবনের সবচেয়ে অমলিন অধ্যায় ছিলো ‘সায়াহ্নে’২১’-এর সেই অবিস্মরণীয় যাত্রা। মানিকজোড় ক্লাস-এক্সামের ফাঁকে-ফোকরে সব সময় ঢেলে দিয়েছে এই প্রোগ্রামের স্বপ্ন বাস্তবায়নে। নিজের খাওয়া-দাওয়ার ঠিক টাইম নেই, জীবনের খোঁজখবর নেই, কিন্তু ব্যাচের প্রতিটি হাসি-আনন্দের পূর্ণতা নিশ্চিত করতে তারা রাতকে দিন, দিনকে রাত বানিয়েছে। প্রোগ্রামের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের চোখে চিন্তার গভীর ছায়া, আর শেষবেলায় সবার সাথে টলমলে জলভরা চোখ। ‘সায়াহ্নে’২১ পরিবার চিরকাল ঋণী এই দুই প্রিয়জনের প্রতি।

সবার কথাই তো বলা হলো, তাইলে বাদ পড়লো কারা? ভাবতে ভাবতেই মনে পড়ে গেল সেই উৎস, শাফিউল আর সজিবের নাম—আমাদের ব্যাচের সেই তিন অদম্য সঙ্গী। ব্যাকস্টেজে নিজেদের সর্বোচ্চ দিয়ে কাজ করে গেছে এরা, অক্লান্ত যোদ্ধার মতো। আমরা অনেকের কাজ চোখে দেখি না, কিন্তু অবদান থাকে ষোল আনা এবং এই তিনজনই সেই অদৃশ্য মানুষ।

সবেই গেল কিন্তু কিছু একটা তখনো মিসিং তাইলে কি সেটা? ভাবতে ভাবতেই মাথায় এলো মেঘদলের এসো আমার শহরের কথা আর কালচারাল নাইটে বিষাক্ততার শহরে এক টুকরো প্রশান্তির পেছনের কারিগর ক্যাম্পাসের সবার প্রিয় ফুয়াদ। এই অতিমানবের দক্ষতাতেই পূর্ণতা পেয়েছে সায়াহ্নে'২১ এর সবচেয়ে আলোচিত শেষ অধ্যায়।

যদি সায়াহ্নে'২১ একটা মানুষের মেরুদণ্ড হয় তাইলে এই ৭ জোড়া দিয়েই সেই মেরুদণ্ড তৈরি আর তার পরিচর্যায়ক হলো পুরো সায়াহ্নে'২১ পরিবার। সবার সেক্রিফাইস আর সহযোগীয় সায়াহ্নে'২১ পরিবারের শেষটা নিয়ন বাতির আলোয় রঙিন।

Shi Shir Saikat Sajjat Shahos Aminul Islam Sajin Azfar Durjoy Hur Farhan Ut Utso Sk Shafiul Sajib Fuad

28/02/2026

প্রথমদিন কারো সাথে কারো পরিচয় নাই কিন্তু সময়ের সাথে সখ্যতা হয়েছে আগন্তুক থেকে একে অপরের সুখ দুঃখের সাক্ষী হয়েছি।
আজকেই হয়তো আমাদের একসাথে শেষ ইফতার।
একই প্লেটে ভাগ করে নিয়েছি হাসি, ছোট ছোট রাগ–অভিমান আর হাজারো না বলা গল্প।
কাল হয়তো সবাই নিজ নিজ পথে ছড়িয়ে যাবো,
তবুও এই ছবিগুলোই প্রমাণ হয়ে থাকবে— আমার সবাই একে অপরের সুখ দুঃখের সাক্ষী ছিলাম।

Photos from Meghdol's post 01/02/2026

হাওয়ায় ভাসা দিন।

31/01/2026

LOAD SHEDDING × WE WILL ROCK YOU

What a performance. Hats off.
RIM Musical Club

30/01/2026

"পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কি রে হায়...
ও সেই চোখের দেখা, প্রাণের কথা, সে কি ভোলা যায়।"

​ক্যাম্পাসের এই দীর্ঘ পথচলার শেষে যখন Meghdol এর কণ্ঠে রবীন্দ্র-স্মৃতির এই সুর ভেসে আসছিল, তখন যেন আমাদের চারপাশের সময় থমকে দাঁড়িয়েছিল। মনে হচ্ছিল, ক্যাফেটেরিয়ার সেই আড্ডা, করিডোরে প্রতিধ্বনিত হাসিমুখ আর টিলায় ঘেরা সবুজের মায়া সবকিছুই এই এক গানে মিশে যাচ্ছে। আমাদের পাঁচ বছরের সহস্র গল্প, মান-অভিমান আর বন্ধুত্বের জয়গান যেন পূর্ণতা পেল গতকালের এই সমাপনী সুরে।
​হয়তো সময় আমাদের ভিন্ন ঠিকানায় নিয়ে যাবে, কিন্তু বুকের এক কোণে চিরকাল গুমরে মরবে সেই পরিচিত সুর
"আয় আর-একটি বার আয় রে সখা, প্রাণের মাঝে আয়।"

​অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা Shibu Kumer Shill দাদাকে। আমাদের বিদায়ক্ষণটিকে এতটা শৈল্পিক এবং হৃদস্পর্শী করে তোলার জন্য। আপনাদের এই গানটি আমাদের হৃদয়ে এক টুকরো নস্টালজিয়া হয়ে বেঁচে থাকবে চিরকাল।
​সায়াহ্নে'২১-এর প্রতিটি প্রাণ আবারও ফিরে আসুক প্রাণের স্পন্দনে, আবারও দেখা হোক চেনা কোনো স্মৃতির বাঁকে।

29/01/2026

"পুরোনো সেই দিনের কথা ভুলবি কি রে হায়..."

সায়াহ্নে’২১-এর শিক্ষা সমাপনী কনসার্টের রেশ এখনো কাটেনি।
মেঘদলের সুর আর আমাদের সবার বাঁধভাঙা উল্লাস, সব মিলিয়ে দিনটি ছিল সোনায় মোড়ানো। আমাদের এই সোনালী স্মৃতিগুলো যেন হারিয়ে না যায়, তাই সবাইকে অনুরোধ করছি তোমাদের ফোনে বন্দি করা কনসার্টের সব ভিডিও এবং ছবি নিচের গুগল ড্রাইভ লিংকে আপলোড করার জন্য।
​বিশেষ করে, মেঘদলের 'পুরোনো সেই দিনের কথা' গানটির কোনো ভিডিও ফুটেজ থাকলে অবশ্যই শেয়ার করবেন!
​​স্মৃতিগুলো জমা থাকুক এক ফোল্ডারে!

[লিংক কমেন্টে]

28/01/2026

সকলকে সিকৃবির স্টুডেন্ট আইডি কার্ড বহন করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

27/01/2026

মেঘদল প্রস্তুত, সিকৃবি প্রস্তুত তো?

27/01/2026

আমাদের জীবনের এক বিশেষ অধ্যায় শেষের পথে। এই সুন্দর মুহূর্তকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে আমাদের পাশে ফুড স্পন্সর হিসেবে থাকছে Gamers Pizza 🍕—যাদের সুস্বাদু পিৎজা মানেই আলাদা একটা অনুভূতি!
সায়াহ্নে'২১ পরিবারের শিক্ষা সমাপনী উপলক্ষে সিকৃবির সকল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ অফার হিসাবে থাকছে যেকোনো পিৎজায় ৩০% ডিসকাউন্ট এর সাথে রয়েছে আরও আকর্ষণীয় অফার।

অফার চলবে: ২৮ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

আমাদের এই আনন্দের যাত্রায় পাশে থাকার জন্য Gamers Pizza-কে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।

27/01/2026

সায়াহ্নে'২১ এর শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইন্স চ্যান্সেলর এর শুভেচ্ছা বার্তা।

সায়হ্নে'২১ এর পক্ষ থেকে স্যারকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

26/01/2026

Hello guys!
আমরা RIM Musical Club,আসছি আগামী ২৮শে জানুয়ারি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল অডিটোরিয়ামে সায়াহ্নে'২১ এর শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠানে।

Want your school to be the top-listed School/college in Sylhet?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address

Alurtol Road, Tilagorh
Sylhet
3100