14/07/2025
যেসব কাজে মানসিক শান্তি পাবেন!
১. ‘আপনার যা আছে, তা আপনার জীবনের জন্য যথেষ্ট’ এই ভাবনা আপনাকে সবচেয়ে বেশি মানসিক শান্তি দিবে। যত সম্পদ আপনার থাকুক না কেন, আত্মতৃপ্তির অভাব থাকলে অনেক সম্পদের মালিক হয়েও কোনো লাভ নাই।
২. মনের মধ্যে অশান্তির দাবানল ছড়িয়ে পড়লে সমাজে নিজের চেয়ে নীচুশ্রেণীর মানুষের দিকে তাকাবেন। এটাই আমাদের ধর্মের শিক্ষা। এই ভাবনা আপনাকে কি পরিমাণ আত্মতুষ্টিতে ভোগাবে, ভাষায় বর্ণনা করার মতো না!
৩. মানুষের যেকোনো ভুল-ভ্রান্তি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করুন। সবসময় মনে রাখবেন, সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কেউ ভুলের ওপরে নাই। ক্ষমা মহৎ গুণ। এই গুণ আপনাকে মৃত্যুর পরও অন্যদের মনে অনেকদিন বাঁচিয়ে রাখবে।
৪. অন্যের উন্নতিতে অভিনন্দন জানাতে ভুলবেন না। অন্যের দুঃখকষ্ট দেখলে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিবেন। সমাজের মহৎপ্রাণ মানুষের বৈশিষ্ট্য এটাই।
৫. দৈনিক পাঁচওয়াক্ত নামাজ জামাতে পড়ার চেষ্টা করার নিয়ত করুন। যথাযথ সময়ে নামাজ পড়ার কারণে রিজিকে বারাকাহ আসবে। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে মনেমনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার শুকরিয়া আদায় করুন এইজন্য যে, তিনি আপনাকে ফরজ কাজ যথাসময়ে করার তাওফিক দিয়েছেন। শুকরিয়া আদায়েও মনে সুখানুভূতি আসবে।
৬. বিয়ের সামর্থ থাকলে বিয়ে করুন। একজন ধার্মিক নারী বিয়ে করলে একাকিত্ব ঘুচবে। সুখ-দুঃখের কথা বলে মন ভালো হবে। নিজের অনেক কাজ করিয়ে নেওয়ার সুযোগ হবে। আরো অনেক উপকার তো আছেই।
৭. দৈনিক সকাল বা রাতে কিছুসময় নিয়ে ধীরস্থির মনে কুরআন তেলাওয়াত করুন। পড়তে না পারলে পারতপক্ষে কুরআন অডিও শুনুন। জিকিরফিকিরে সময় কাটান। আল্লাহর স্মরণে মুমিনগণ অন্তরে তীব্র প্রশান্তি অনুভব করে।
৮. ফ্রী সময়ের কিছু অংশ বাচ্চাদের সাথে কাটানোর অভ্যাস করুন। বাচ্চার বাচ্চাসুলভ আচরণ বেশ উপভোগ করতে পারলে মনখারাপও মুহুর্তে কেটে যাবে।
৯. অর্থ আর সময় থাকলে পৃথিবী ভ্রমণে নেমে পড়ুন। একঘেয়ে লাগতেছে, কাজে মন বসতেছে না, কোনোকিছু ভালো লাগতেছে না অসুখের উত্তম কার্যকর সমাধান হলো ভ্রমণ। কয়েক ঘণ্টা বা কিছুদিনের ভ্রমণও আপনাকে নির্ভার এবং দুঃশ্চিন্তা মুক্ত করে প্রফুল্ল করবে। কাজে ফেরার জন্য মানসিক শক্তি জোগাবে।
১০. সৎ, বিশ্বস্ত, আমানতদার বন্ধু থাকলে তাদের সাথে সুখ-দুঃখ শেয়ার করুন। কোনো সমাধান পছন্দ হলে তা মানতে চেষ্টা করুন। একজন ভালো বন্ধু পুরো একটা লাইব্রেরীর সমান কাজে আসে।
১১. অবসর সময়ে বইপত্র পড়ুন। বইয়ের মতো ভালো বন্ধু আর হয় না। সবসময় আপনাকে কিছু না কিছু দরকারি রসদ জোগাবে। আপনার কোনো ভালো বন্ধু আজ আছে তো কাল থাকবে না। কিন্তু বই সবসময় আপনার সাথে আছে।
১২. ধর্মীয়জ্ঞান যতটুকু আছে তা প্রচার করুন। আপনার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছেন এবং কেউ আপনার কথা অনুসারে আমল করতেছে দেখে মনে ভালোলাগার অনুভূতি আসবে।
১৩. জনসেবা করার সুযোগ পেলে ঝাঁপিয়ে পড়ুন। বন্যা, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত, কাজ করতে অক্ষম ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধীদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। নগদ টাকা-পয়সা না থাকলে কোনো সম্পদ থাকলে তা দিয়ে হলেও সাহায্য করতে ভুলবেন না। দান আল্লাহর রাগ নিভিয়ে দেয় এবং গুনাহ মুছে দেয়। খুলে দেয় নাজাতের দরজা।
১৪. অতীতের গুনাহের জন্য মন থেকে তাওবাহ করুন। অনুতপ্ত হোন। জায়নামাজে বসে কান্নাকাটির সাথে আল্লাহর কাছে এমনভাবে মাফ চেয়ে নিন, যেন বিগত ভুলের পুনরাবৃত্তি আর না ঘটে। মন থেকে তাওবাহ চাওয়ার পর তা আল্লাহ মাফ করে দেন। গুনাহমুক্তির সুযোগ পাওয়া অনেক বড় প্রাপ্তি।
১৫. বেশি বেশি মৃত্যুকে স্মরণ করুন। ‘মৃত্যুচিন্তা’ সকল মন্দ কাজের প্রতিবন্ধক। আল্লাহর ক্ষমা ও অনুগ্রহ তালাশে যে চিন্তার বিকল্প কিছু হতে পারে না। মৃত্যুচিন্তা আপনাকে সরল ও সঠিক পথে রাখবে। গুনাহের রাস্তায় পা না মাড়ানো এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি তালাশের মধ্যে রয়েছে প্রকৃত শান্তি ও সফলতা।
১৬. নিকটাত্মীয়, পরিচিত অসুস্থ কাউকে দেখতে তার বাড়িতে যাতায়াত করুন। সম্ভব হলে হাসপাতালে যান। সুস্থতা যে কতবড় নিয়ামাত, কত বড় শান্তি পাওয়ার মতো ব্যাপার, সেটা নিজে অসুস্থ হলে বা অসুস্থ কাউকে গিয়ে না দেখলে খুব ভালো উপলব্ধি হয় না।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা সকল কিছুর উত্তম তাওফিকদাতা।