Nazaratul Maarif Al Islamia নাযারাতুল মা'আরিফ আল ইসলামিয়া

Nazaratul Maarif Al Islamia নাযারাতুল মা'আরিফ আল ইসলামিয়া

Share

Educational Institute

23/05/2026

এরা সব মুসলিম স্থাপনার নিচেই তাদের প্রাচীন মন্দির খুঁজে পাচ্ছে। এদের ছঁক খুব সাজানো-

প্রথমে একদল এসে দাবি করবে-
তারপর মামলা হবে কোর্টে,মামলায় 'আর্কিওলজিকাল সার্ভে' করার দাবি জানাবে।
তারপর সাইন্টিফিক সার্ভে'র নামে খোড়াখুড়ি চলবে।
আশ্চর্যজনকভাবে খুঁজেও পাবে।

ইতোমধ্যে উত্তর প্রদেশের দেওবন্দ জেলার প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে 'রক্ষক দলে'র সদস্যরা। এদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ললিত শর্মা নামের এক ব্যক্তি। তারা সরকারের কাছে প্রশাসনিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন।

দ্য অবজার্ভার পোস্টের রিপোর্ট -

19/05/2026

ইসলাম ধর্মে গরু!

ইসলাম ধর্মে গরু খাওয়া কেবলমাত্র বৈধ। এর অর্থ এটা নয় যে, গরু খেতেই হবে। খাদ্য হিসেবেও এর পৃথক কোনো গুরুত্ব নেই। বরং বৈধ হলেই সবসময় খাওয়া লাগবে এমনও নয়। কেউ যদি গরুকে হালাল প্রাণী হিসেবে বিশ্বাস করে-- তাই যথেষ্ট।

গরু কুরবানী করাও গুরুত্বপূর্ণ নয়। গরুর মাংস সারাজীবনে একদিন না খেলেও কোনো সমস্যা নেই। গরু এমন কোনো প্রাণী নয় যে, খেলে পুণ্য হবে।
সুতরাং গরু নিয়ে মুসলমানদের কোনো আসক্তি নেই। কিংবা থাকার কথাও নেই। ধন্যবাদ।

17/05/2026

এবার ভারতীয় মুসলমানদের বিজয়ী হতে হলে গরু পোষা ও গরু কেনা বন্ধ রাখতে হবে।

15/05/2026

কুরবানি: ২০২৬ ইং
আমাদের আহ্বান!
..
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ:
সম্মানিত মুসলিম ভাই ও বোনগণ! কুরবানী একটি আর্থিক ইবাদত, যা প্রতিনিধির মাধ্যমে সম্পন্ন করা যায়। যারা কোনো কারণে নিজের কুরবানী নিজে করতে পারছেন না, কিংবা নিজ এলাকায় কুরবানীর পাশাপাশি অসহায়, দরিদ্র, খেটেখাওয়া মানুষ, মাদরাসার গরীব ছাত্রছাত্রী ও তাদের পরিবার, দরিদ্র আলেম পরিবার এবং এতীম-বিধবাগণের জন্য আরেকটি কুরবানী করতে ইচ্ছুক, এমন সকলের জন্য অন্যান্য বছরের মতো এবারও আপনাদের সুপরিচিত ও প্রিয় প্রতিষ্ঠান-- 'নাযারাতুল মাআরিফ' প্রতিনিধিত্ব অফার করছে। বহু অভাবী মানুষ বছরে কেবল কুরবানীর ঈদ এলে গরু-খাশির মাংস তাদের ভাগ্যে জুটে।

সে কারণে সচ্ছলদের পক্ষ হতে কুরবানী করে দরিদ্র অঞ্চলের অভাবগ্রস্ত এতীম, গরীব-বিধবাসহ দুস্থ ও অসহায় মানুষদের মাঝে মাংস বিতরণ করাই হচ্ছে এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। আপনার একটি কুরবানী অথবা কুরবানীর অংশ অনেক অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাবে নিঃসন্দেহে। এতেকরে মহান আল্লাহ পাক কাল কেয়ামতে আপনার মুখে হাসি ফোটাবেন ইনশাআল্লাহ।

আমাদের প্যাকেজসমূহ:
# ১টি মাঝারি আকারের গরু: ৮৪ হাজার টাকা। (প্রসেসিং কস্টসহ)
# ১টি মাঝারি আকারের ছাগল ১৫ হাজার টাকা। (প্রসেসিং কস্টসহ)
# গরুর এক সপ্তমাংশ ১২ হাজার টাকা। (প্রসেসিং কস্টসহ)

# অংশগ্রহণের জন্য শর্ত:
নাযারাতুল মাআরিফ আল ইসলামিয়ার কুরবানীর প্রজেক্টে অংশগ্রহণের শর্ত হচ্ছে, সম্পূর্ণ হালাল উপার্জন থেকে কুরবানীর টাকা দিতে হবে। কোনোভাবেই এই শর্তের ব্যত্যয় করা যাবে না। আল্লাহ পাক কবুল করুন। উত্তম বিনিময় দান করুন। আ মীন ইয়া রাব্বাল আলা মীন। (একাউন্ট অথবা বিকাশে টাকা প্রেরণের আগে-পরে ফোন দিন।)

# নাযারাতুল মাআরিফের ব্যঙ্ক একাউন্ট নম্বর ও পার্সোনাল বিকাশ:

01. Nazaratul Maarif Al Islamia. Fatahpur, Guwaingahat, Sylhet.
Account No is 20506630200006716 .
Islami Bank Bangladesh Lit. Sylhet Branch.

02. DBBL AC/No. 7017319017580 : M***i kondokar Harunur Rashid. Sylhet Branch. Bangladesh.

03. Bikash Parsonal: +8801317259769
------------০

মুফতী খন্দকার হারুনুর রশীদ
# খতীব: মৌচাক জামে মসজিদ, সাদিপুর, সিলেট।
# প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক: নাযারাতুল মাআরিফ আল ইসলামিয়া ফতেহপুর, গোয়াইনঘাট, সিলেট, বাংলাদেশ। যোগাযোগ +8801714731731

15/05/2026

মূলনীতিঅষ্টক: দারুল উলূম দেওবন্দ
----------------------------+
‘উসূল-ই-হাশত গানা’ একটি ফারসি পরিভাষা। এর অর্থ আটটি নীতি। এই অষ্টনীতি দারুল উলূম দেওবন্দের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত মাওলানা মুহাম্মদ কাসিম নানুতবি (রহ.) দারুল উলূম দেওবন্দের জন্য সংবিধানস্বরূপ প্রণয়ন করেছিলেন। নীতিগুলো গভীর ও সুদূরপ্রসারী তাৎপর্যপূর্ণ, এবং আজও দারুল উলূম দেওবন্দ এই নীতিমালার উপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত।

🟢 প্রথম নীতি

যতদূর সম্ভব, মাদরাসার কর্মীদের সর্বদা চাঁদা সংগ্রহের দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। নিজেরা চেষ্টা করবে এবং অন্যদের দিয়েও করাবে। মাদরাসার কল্যাণকামীদের জন্য বিষয়টি সর্বদা স্মরণে রাখা জরুরি।

🟢 দ্বিতীয় নীতি

ছাত্রদের খাবারের ব্যবস্থা বজায় রাখা, বরং যতটা সম্ভব ছাত্রসংখ্যা বৃদ্ধির চেষ্টা করা—এ বিষয়ে মাদরাসার শুভাকাঙ্ক্ষীরা সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।

🟢 তৃতীয় নীতি

মাদরাসার পরামর্শদাতাদের সর্বদা খেয়াল রাখতে হবে যেন প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্য ও শালীনতা বজায় থাকে। নিজের মত চাপিয়ে দেওয়ার মানসিকতা যেন না আসে। আল্লাহ না করুন, যদি এমন অবস্থা তৈরি হয়—যেখানে পরামর্শদাতাদের কাছে নিজের মতের বিরোধিতা সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং অন্যের মত মানতে অনীহা হয়—তাহলে মাদরাসার ভিত্তি দুর্বল হয়ে যাবে।

সারকথা হলো—
সময়মতো আন্তরিকতার সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি এবং পরামর্শের আগে-পরে মাদরাসার শালীনতা ও কল্যাণ বিবেচনায় রাখতে হবে। কথা সাজিয়ে বলা বা আত্মপ্রচার যেন না থাকে।

এ জন্য প্রয়োজন— পরামর্শদাতারা যেন কোনো কারণেই মত প্রকাশে দ্বিধা না করেন।
• শ্রোতারা যেন সৎ নিয়তে সেই মত শোনেন এবং যদি অন্যের কথা যুক্তিসঙ্গত মনে হয়—তা নিজের বিপক্ষে হলেও মন-প্রাণ দিয়ে গ্রহণ করেন।

এ কারণেই মুতাওয়াল্লি/মুহতামিমের জন্য আবশ্যক—
যেকোনো বিষয়ে পরামর্শ চাইলে নিয়মিত পরামর্শদাতাদের সঙ্গে যেমন পরামর্শ করবেন, তেমনি কোনো জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান আগন্তুক ব্যক্তি, যিনি মাদরাসার শুভাকাঙ্ক্ষী—তার সঙ্গেও পরামর্শ করতে পারেন।

আর যদি কোনো কারণে সকল পরামর্শদাতার সঙ্গে পরামর্শ না হয়ে থাকে, কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পরামর্শদাতার সঙ্গে পরামর্শ করা হয়ে থাকে—তাহলে শুধু এই কারণে অসন্তুষ্ট হওয়া ঠিক নয় যে “আমার সঙ্গে কেন পরামর্শ করা হলো না”। তবে যদি মুহতামিম কারও সঙ্গেই পরামর্শ না করেন, তখন আপত্তি তোলা যেতে পারে।

🟢 চতুর্থ নীতি

মাদরাসার শিক্ষকরা যেন একই চিন্তা-ধারার ও ঐক্যবদ্ধ হন। তারা যেন যুগের কিছু আলেমের মতো আত্মকেন্দ্রিক না হন এবং অন্যদের অপমানের প্রবণতা না থাকে। আল্লাহ না করুন, যদি এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়—তাহলে এই মাদরাসার কোনো কল্যাণ থাকবে না।

🟢 পঞ্চম নীতি

পাঠদানের যে পদ্ধতি পূর্বে নির্ধারিত হয়েছে, অথবা পরবর্তীতে পরামর্শের মাধ্যমে নতুন কোনো পদ্ধতি নির্ধারিত হবে—তা পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় এই মাদরাসা হয়তো বাহ্যিকভাবে বড় হবে, কিন্তু উপকারহীন হয়ে পড়বে।

🟢 ষষ্ঠ নীতি

যতদিন পর্যন্ত মাদরাসার কোনো নিশ্চিত ও স্থায়ী আয়ের উৎস না থাকে, ততদিন পর্যন্ত—ইনশাআল্লাহ—আল্লাহর দিকে মনোনিবেশের শর্তে এই মাদরাসা চলতে থাকবে।

কিন্তু যদি কোনো নিশ্চিত আয় অর্জিত হয়ে যায়—যেমন জমিদারি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বা কোনো প্রভাবশালী ধনীর দৃঢ় প্রতিশ্রুতি—তবে আশঙ্কা আছে যে আল্লাহর প্রতি নির্ভরতার যে ভয় ও আশা (খাওফ ও রজা), যা আল্লাহমুখী হওয়ার মূল পুঁজি—তা হারিয়ে যাবে। তখন গায়েবি সাহায্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে।

সুতরাং আয় ও ভবন নির্মাণ ইত্যাদির ক্ষেত্রে এক ধরনের সাধারণতা ও নির্ভরশীলতা-বর্জিত অবস্থা বজায় রাখা উচিত।

🟢 সপ্তম নীতি

সরকারি অংশগ্রহণ এবং ধনীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণও ক্ষতিকর বলে প্রতীয়মান হয়।

🟢 অষ্টম নীতি

যতদূর সম্ভব, এমন লোকদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া বেশি বরকতময়-- যারা নিজেদের দানের মাধ্যমে নাম-খ্যাতি প্রত্যাশা করে না।

সারকথা— চাঁদাদাতাদের সৎ নিয়তই মাদরাসার স্থায়িত্বের সবচেয়ে বড় মাধ্যম।

[তথ্যসূত্র: তারিখে দারুল উলূম দেওবন্দ, পৃষ্ঠা ১৫২–১৫৪]

07/05/2026

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে ইমাম-মুয়াজ্জিনরা নিশ্চয় দুর্বল শ্রেণীর মানুষ।
আর পাপ-পূণ্যের এ দুনিয়ায় জাহান্নামী লোকদের অনেকে নিজের পাপ লুকানোর জন্য অনেক সময় দুর্বল মানুষের উপর নিজের কৃত অপরাধের দায় চাপিয়ে লজ্জা নিবারণের চেষ্টা করে। সো, উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া কারো ব্যাপারে খারাপ ধারণা ও মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।
-
ফেনীর ঘটনার বিস্তারিত
•••••
ফেনীর পরশুরামের বক্সমাহমুদে ধর্ষণের শিকার কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের সঙ্গে তার আপন বড় ভাইয়ের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে। ফরেনসিক পরীক্ষায় বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় ফাঁসানো হয়েছিল মোজাফফর আহমদ (২৫) নামের এক ইমামকে। এক মাস দুদিন কারাভোগের পর এই মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।

ফরেনসিক পরীক্ষাসহ পুঙ্খানুপঙ্খ তদন্ত শেষে গত ১৭ এপ্রিল মামলা থেকে মোজাফফরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কিশোরীর বড় ভাই মোরশেদকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করে পুলিশ। অব্যাহতি সংক্রান্ত নথি হাতে আসার পর তা গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেন মোজাফফর।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে মক্তবের পাঠ শেষ করে ওই কিশোরী (১৪)। এর পাঁচ বছর পর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে সন্তান প্রসব করে সে। এর দায় চাপানো হয় ওই মক্তবের শিক্ষক মোজাফফর আহমদের কাঁধে। ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার হয়ে একমাস কারাভোগের পর ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, তিনি নিরপরাধ ছিলেন। ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা যায়, গর্ভজাত সন্তানের সঙ্গে কিশোরীর আপন বড় ভাই মোরশেদের ডিএনএর মিল রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ওই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে একই গ্রামের স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম ও মক্তবের শিক্ষক মোজাফফরের বিরুদ্ধে পরশুরাম মডেল থানায় মামলা করা হয়। নিজেকে ‌‘নির্দোষ’ দাবি করলেও ছাড় পাননি মোজাফফর। অভিযোগ মিথ্যা উল্লেখ করে ওই পরিবারের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর ফেনীর আদালতে মামলা করতে যান মোজাফফর। এসময় আদালত প্রাঙ্গণ থেকে গ্রামের মাতুব্বর ও এক নারী তাকে জোরপূর্বক পুলিশের হাতে তুলে দেন। এরপর একমাস দুদিন কারাভোগ করেন তিনি।
একই বছরের ২২ ডিসেম্বর অভিযুক্ত মোজাফফরকে ঢাকার মালিবাগে পুলিশের সিআইডি বিভাগের ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সশরীরে ও কিশোরীর সংরক্ষিত ভ্যাজাইনাল সোয়াব পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ঢাকার মালিবাগের ফরেনসিক ল্যাবরেটরি থেকে ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি ডিএনএ প্রতিবেদন পান পরশুরাম মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম।

ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে, পরীক্ষায় ভ্যাজাইনাল সোয়াবে পুরুষের বীর্যের উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি। ভ্যাজাইনাল সোয়াবে বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত না হওয়ায় মোজাফফরের ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে তুলনা করে মতামত দেওয়া সম্ভব নয়। এরপর ওই কিশোরী ও তার সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুকন্যা সন্তানের জৈবিক পিতা নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য তাদের পরীক্ষাগারে উপস্থিত হয়ে ডিএনএর নমুনা দিতে আদালতে আবেদন করা হয়।
এরমধ্যে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে বিস্ময়কর তথ্য। ডিএনএ রিপোর্টে কিশোরীর সন্তানের সঙ্গে মোজাফফরের ডিএনএর মিল না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। কিশোরীকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে সে তার আপন বড় ভাই মোরশেদ তাকে গণহারে ধর্ষণ করেছে বলে স্বীকারোক্তি দেয়।

পরে ২০২৫ সালের ১৯ মে বড় ভাই মোরশেদকে (২২) গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আপন বোনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে ২০ মে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন মোরশেদ। এ ঘটনায় গ্রেফতারের পর থেকে তিনি ফেনী জেলা কারাগারে।

আদালতে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই কিশোরী ও তার ভূমিষ্ঠ সন্তান এবং বড় ভাই মোরশেদের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য একই বছরের ৪ আগস্ট ঢাকায় পুলিশের ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। ৯ আগস্ট ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ভিকটিমের সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুকন্যার সঙ্গে মোরশেদের ডিএনএ নমুনা মিলে যাওয়ায় তিনি তার জৈবিক পিতা।
ডিএনএ পরীক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ডিএনএ পরীক্ষায় মোরশেদের সঙ্গে শিশুটির পিতা হিসেবে ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে।

পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত করে। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর অভিযোগপত্র থেকে তার (ইমাম) নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নিরপরাধ একজনকে ফাঁসানোর জন্য চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

06/05/2026

পড়াশোনার মানোন্নয়নের জন্য
মুহতামিম যোগ্য ব্যক্তি হওয়া জরুরি!
-------------------------------------------
মুফতী খন্দকার হারুনুর রশীদ
------------------------------------------
মাদরাসায় পড়াশোনার মানোন্নয়ন যতো বেশি হবে ছাত্রসংখ্যা ততোই বাড়বে। পড়ালেখার মান যতো নিম্নমুখী হবে ছাত্রসংখ্যা ততোই কমবে। কারণ, কওমী মাদরাসায় ছাত্ররা আসে এলেম হাসেল করবার জন্য। ফলে এখানে এলেমের ঝনঝনানি জারি রাখতে হবে। এলেমের জোরদার চর্চা না থাকলে ছাত্র থাকবে না। অন্যত্র চলে যাবে। সার্টিফিকেট কিংবা চাকরি কওমী মাদরাসায় পড়ে যেহেতু হয় না সেহেতু এখানে কেউ এমন উদ্দেশ্য নিয়ে ভর্তি হয় না। কওমী মাদরাসায় ছাত্ররা আসে এলেম শিক্ষা করা, আমলের দীক্ষা নেওয়া এবং আল্লাহ পাকের প্রেরিত দীনের সেবা করার জন্য। এগুলো সঠিকভাবে হতে থাকলে অটোমেটিক রেজাল্টও ভালো হতে থাকবে ইনশাআল্লাহ।

আমার জানা মতো আলিয়া মাদরাসা থেকে যেই অল্পসংখ্যক ছাত্র কওমী মাদরাসায় এসে ভর্তি হয় তাদেরও মতলব থাকে এলেম অর্জন করা। তারা কওমী মাদরাসা থেকে এলমী যোগ্যতা নিতে চায় আর আলিয়া থেকে সার্টিফিকেট জোগাড় করে চাকুরি করতে চায়। এজন্য দেখবেন-- কথিত সালাফি বা নামধারী আহলে হাদীস আলেমদের সন্তানেরা পর্যন্ত পরিচয় গোপন রেখে কওমী মাদরাসায় ভর্তি হয়ে পড়ালেখা করছে। নামধারী সুন্নী কিংবা রেজাখানী-বেরলভীরা তো আছেই। এতে একটি বিষয় পরিস্কার হয়ে যায় যে, প্রচলিত ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কওমী মাদরাসাসমূহেই সর্বাধিক গুরুত্বের সাথে পড়ালেখা হয়ে থাকে। একান্ত ধর্মীয় স্বার্থে তবু আরো মানোন্নয়ন জরুরি।

আমার বিবেচনায় শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এখলাসওয়ালা, যোগ্যতাসম্পন্ন, পরিশ্রমী, ধৈর্য্যশীল ও আমলওয়ালা হওয়ার বিকল্প নেই। অযোগ্য, অথর্ব, অপদার্থ ও তোষামোদকারী পরিচালক দ্বারা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়। মাদরাসার সকল বিভাগের সুষ্ঠু পরিচালনা এবং নিয়মশৃঙ্খলা রক্ষা করা আদর্শ মুহতামিমের কর্তব্য। মুহতামিমের মাঝে নিজ মাদরাসার সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত শিক্ষাদান পদ্ধতির যথার্থতা সঠিকভাবে নিজে নিজে যাচাই করার যোগ্যতা থাকতে হবে। একজন দরদী আলেমের জন্য উচিত তিনি তার প্রতিষ্ঠানে ততোটুকু পর্যন্ত ক্লাস রাখবেন-- যেপর্যন্ত তিনি সকল কিতাব অনায়াসে পাঠদান করতে পারেন। কারণ, বর্তমান সময়ে যোগ্য লোকের আগের মতো সঙ্কট আর নেই। দাওরায়ে হাদীস মাদরাসার 'মুহতামিম' এমন ব্যক্তিরই হওয়া আবশ্যক যিনি 'দাওরা' পর্যন্ত সকল কিতাব পড়ানোর যোগ্যতা রাখেন। যদি এই যোগ্যতা না থাকে তাহলে তিনি যোগ্য শিক্ষক পরিচয় করা এবং তাদের থেকে উপযোগী কাজ নেওয়া অথবা অযোগ্য শিক্ষক চিহ্নিত করতে সবসময়ই ভুল করবেন। শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে বিশেষ ত্রুটিগুলো শিক্ষকদেরকে ধরিয়ে দিতে ব্যর্থ হবেন। ফলে প্রতিষ্ঠানের পড়াশোনার মানোন্নয়ন তার দ্বারা যথার্থভাবে হবে না।

আমি দেখেছি যে, যোগ্য মুহতামিমগণের অধীনে শিক্ষকতা করার ফলে অসংখ্য 'অযোগ্য' শিক্ষক একসময় যোগ্যতার শীর্ষ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছেন। আবার বহু মেধাবী-মুহাক্কেক তরুণ আলেম অযোগ্য, বাঁচাল ও চাপাবাজ মুহতামিমগণের অধীনে শিক্ষকতা করতে করতে একসময় এক্কেবারেই 'অযোগ্য' হয়ে গিয়েছেন। পরিকল্পিত নেসাব প্রদানের মাধ্যমে যেভাবে সম্ভাবনাময় একজন 'অল্প যোগ্য' শিক্ষককে কয়েক বছরের ব্যবধানে যোগ্যরূপে গড়ে তোলা যায় তেমনই একজন উপযুক্ত, মেধাবী ও যোগ্য তরুণকে অপরিকল্পিত নেসাব প্রদানের মাধ্যমে ধীরে ধীরে অলস এবং যোগ্যতাহীন বানিয়ে দেওয়া অতি স্বাভাবিক বিষয়। এই ব্যাপারটা বুঝতে হলেও 'ফন্নী' এলেমের অপরিহার্যতা রয়েছে। শাস্ত্রীয় জ্ঞান না থাকলে তা কীভাবে সম্ভব? একথা কেউ বুঝবে না। অযোগ্য মুহতামিম এজন্য কখনো কখনো প্রতিষ্ঠানের বেলায় একটা অভিশাপ হিসেবে দেখা দেয়। মুহতামিমের দ্বারা যে শিক্ষক-ছাত্রদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে তা নির্বোধ-বেএলেম মুহতামিম এবং অবুঝ পরিচালনা কমিটি ঠেরও পায় না। সংগত কারণে তখন পরিবর্তন জরুরি হয়ে যায়।

একটি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষক স্টাফ পরিচালনা করার জন্য পরিচালক যোগ্যতরো, মান্যবর ও আস্থাভাজন ব্যক্তি হওয়া অনিবার্য। কেনো না, মাদরাসার যাবতীয় অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখা, এলাকার সর্বসাধারণকে মাদরাসার সাথে সুসম্পর্কের মাধ্যমে জুড়ে রাখা, শিক্ষার সার্বিক উন্নতি সাধনে সচেষ্ট হওয়া, লেখাপড়ার সুস্থ পরিবেশ সর্বদা জারি রাখা, যত্নআত্তির সাথে পাঠদান ও পাঠগ্রহণ এবং অধ্যাপনা-অধ্যয়নে ছাত্রশিক্ষকগণকে জোক প্রবণ রাখা মুহতামিমেরই কাজ। মহতামিম আপোষহীন, মুত্তাকী, সৎসাহগী ও দূরদর্শী হওয়া উচিত। আমানতদারী ও দিয়ানতদারিতে নির্ভরযোগ্য হওয়া উচিত। স্টাফের অন্য শিক্ষকগণের চেয়ে মুহতামিম অল্প যোগ্যতার লোক হলে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও সুনিয়ন্ত্রিতরূপে সকল বিভাগ পরিচালনায় সফল হতে পারবেন না। এতে পড়াশোনা কখনো উর্ধ্বমুখী হবে না।

একটি মাদরাসার সার্বিক উন্নয়নের জন্য যোগ্য, দক্ষ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মুহতামিমের গত্যন্তর নেই। শিক্ষা ও গবেষণার যোগ্যতা থাকতে হবে। আমলী ও চারিত্রিক গ্রহণযোগ্যতা থাকতে হবে। সত্যবাদী হতে হবে। আড়ালে নিন্দাকারী, বিদ্বেষী ও ফেতনা বা স্বার্থভিত্তিক দলাদলি সৃষ্টির স্বভাব যেনো না থাকে। নিজ প্রতিষ্ঠানের বাইরে আরো শতশত মাদরাসা সম্পর্কিত অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। শিক্ষকগণের প্রয়োজনীয়তা ও চাওয়া-পাওয়া বুঝতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক ত্রুটি, অপূর্ণতা, ঘাটতি কিংবা সকল শূন্যতা বুঝতে হবে। পূর্ণতা দানের বিচক্ষণতা থাকতে হবে। মুহতামিম এমন হলেই কেবল ভালো কিছু আশা করার সুযোগ থাকবে। দিনদিন মাদরাসা এগিয়ে যাবে। পড়াশোনার মান একসময় সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে যাবে ইনশাআল্লাহ।

পরিশেষে আমার পক্ষ থেকে সকল পিছিয়ে পড়া মাদরাসার জন্য আন্তরিক দুয়া ও মুহতামিমগণের জন্য হৃদয় নিংড়ানো শুভকামনা রইলো। আল্লাহ পাক সকলকে এখলাসের সাথে কাজ করার তাওফিক দিন। আ মীন ইয়া রাব্বাল আলা মীন।

https://www.facebook.com/share/p/1GbtQyJbVy/

[মুফতী খন্দকার হারুনুর রশীদ, প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক: নাযারাতুল মাআরিফ আল ইসলামিয়া ফতেহপুর, গোয়াইনঘাট, সিলেট। লেখাটি পত্রিকায় প্রকাশিত।]

04/05/2026

মহিলা মাদরাসা যত বৃদ্ধি পাচ্ছে আবাসিক হোটেলে ততই খরা পড়ছে: সুতরাং মহিলা মাদরাসা রুখতেই হবে!

Photos from Nazaratul Maarif Al Islamia নাযারাতুল মা'আরিফ আল ইসলামিয়া's post 30/04/2026

বেত দিয়ে নয়; শিক্ষাঙ্গনে শাসন হোক মানবিকতায়
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা রক্ষার নামে বেত্রাঘাত বা শারীরিক ও মানসিক শাস্তির চর্চা একটি পুরোনো কিন্তু গভীরভাবে প্রোথিত সমস্যা। সময়ের সাথে সাথে শিক্ষার ধরন, মনস্তত্ত্ব এবং মানবাধিকারের ধারণা বদলালেও এই সংস্কৃতি পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি এক ধরনের ‘ভয়ের সংস্কৃতি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, যা শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য—জ্ঞানার্জন, মানবিকতা ও সৃজনশীলতা—কে বাধাগ্রস্ত করছে।
সরকারিভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব ধরনের শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবে এর ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। বিশেষ করে কিছু মাদরাসা ও বিদ্যালয়ে এখনও শাসনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেত্রাঘাত ব্যবহৃত হচ্ছে। পড়া না পারা, দেরি করে আসা, বা সামান্য শৃঙ্খলাভঙ্গের মতো কারণে শিক্ষার্থীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। কখনো কখনো এই শাস্তি এমন মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, যা মানবিকতার সীমাকেও লঙ্ঘন করে। অনেক শিশুর আত্মহত্যা বা নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
বেত্রাঘাতের সবচেয়ে দৃশ্যমান দিক হলো শারীরিক আঘাত। কিন্তু এর চেয়েও গভীর ক্ষতি ঘটে শিক্ষার্থীদের মনে। অপমান, ভয়, লজ্জা—এই অনুভূতিগুলো শিশুর আত্মমর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ধীরে ধীরে তারা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে, শিক্ষার প্রতি আগ্রহ কমে যায়, এবং অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেদের অযোগ্য মনে করতে শুরু করে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, বারবার শাস্তির মুখোমুখি হওয়া শিশুরা দীর্ঘমেয়াদে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এমনকি সামাজিক বিচ্ছিন্নতার শিকার হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এই চাপ এতটাই তীব্র হয় যে, তারা চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিকেও ধাবিত হতে পারে—যা সমাজের জন্য ভয়াবহ সংকেত।
যেখানে শিক্ষা হওয়া উচিত অনুপ্রেরণার উৎস, সেখানে ভয় যদি প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে, তখন পুরো শিক্ষাব্যবস্থাই বিকৃত হয়ে যায়। ভয়ের পরিবেশে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করতে ভয় পায়, ভুল স্বীকার করতে লজ্জা পায়, এবং সৃজনশীল চিন্তাকে দমন করে রাখে। ফলে তারা কেবল মুখস্থনির্ভর হয়ে পড়ে, প্রকৃত জ্ঞানার্জন থেকে বঞ্চিত হয়।
এই সংস্কৃতি শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিক্ষক তখন আর পথপ্রদর্শক নন, বরং ভয়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়ান। এর ফলে শ্রদ্ধা নয়, বরং এক ধরনের দূরত্ব ও অবিশ্বাস তৈরি হয়। সমস্যাটির একটি বড় কারণ হলো সমাজের একটি অংশের দৃষ্টিভঙ্গি। অনেক অভিভাবক ও শিক্ষক এখনও মনে করেন, ‘মার না খেলে শিখবে না’। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শাসন ও সহিংসতা এক নয়। শাসনের নামে সহিংসতা প্রয়োগ করলে তা সংশোধনের বদলে ক্ষতিরই কারণ হয়।
কেন শিক্ষক প্রশিক্ষণ অপরিহার্য
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বেত্রাঘাত ও ভয়ভিত্তিক শাসনের সংস্কৃতি দূর করার আলোচনায় একটি বিষয় বারবার সামনে আসে—তা হলো শিক্ষক প্রশিক্ষণের অপরিহার্যতা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনও শৃঙ্খলা রক্ষার প্রধান উপায় হিসেবে শারীরিক বা মানসিক শাস্তিকে ব্যবহার করা হয়। এর পেছনে মূলত দুটি কারণ কাজ করে—একটি হলো প্রচলিত সামাজিক ধারণা, অন্যটি শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের অভাব। অনেক শিক্ষকই বিশ্বাস করেন, কঠোর শাসন ছাড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু আধুনিক শিক্ষাবিজ্ঞান বলছে, ভয় নয়; বরং সহমর্মিতা, অনুপ্রেরণা ও ইতিবাচক যোগাযোগই শিক্ষার প্রকৃত ভিত্তি।
এই জায়গাতেই শিক্ষক প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অনস্বীকার্য হয়ে ওঠে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকরা নতুন শিক্ষাদর্শন, আধুনিক শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং ইতিবাচক শৃঙ্খলার কৌশল সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন। তারা শিখতে পারেন কীভাবে শাস্তির পরিবর্তে উৎসাহ ও পরামর্শের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আচরণ সংশোধন করা যায়। শিশুমনস্তত্ত্ব বোঝাও শিক্ষক প্রশিক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি শিশুর আচরণ অনেক সময় তার পারিবারিক অবস্থা, মানসিক চাপ বা ব্যক্তিগত সমস্যার প্রতিফলন হতে পারে। প্রশিক্ষিত শিক্ষক এসব দিক বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এতে করে শিক্ষার্থীর প্রতি সহানুভূতি বাড়ে এবং শাস্তিমূলক মনোভাব কমে আসে। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক আরও আন্তরিক ও বিশ্বাসভিত্তিক হয়ে ওঠে।
একই সঙ্গে শিক্ষক প্রশিক্ষণ শিক্ষকদের ব্যক্তিগত দক্ষতাও উন্নত করে। প্রশিক্ষণ তাদেরকে আত্মনিয়ন্ত্রণ, ধৈর্য ও পেশাগত আচরণ বজায় রাখার কৌশল শেখায়। এতে করে তারা কঠিন পরিস্থিতিতেও সংযত থাকতে পারেন এবং কোনো ধরনের সহিংস আচরণ থেকে বিরত থাকতে সক্ষম হন।
দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষক প্রশিক্ষণের সুফল আরও বিস্তৃত। প্রশিক্ষিত শিক্ষক একটি নিরাপদ, আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে পারেন, যেখানে শিক্ষার্থীরা নির্ভয়ে প্রশ্ন করতে পারে, ভুল করতে পারে এবং সেখান থেকে শিখতে পারে। এর ফলে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে, সৃজনশীলতা বিকশিত হয় এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে সহিংসতা ও ভয়ের সংস্কৃতি ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হতে থাকে।
সুতরাং, বেত্রাঘাতমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইলে কেবল আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন তার কার্যকর বাস্তবায়ন এবং শিক্ষকদের মানসিক ও পেশাগত উন্নয়ন। আর এই উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার হলো সুসংগঠিত ও যুগোপযোগী শিক্ষক প্রশিক্ষণ। একটি মানবিক, নিরাপদ ও প্রগতিশীল সমাজ নির্মাণের জন্য তাই শিক্ষক প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ করা সময়ের সবচেয়ে জরুরি দাবি।
অতীতে বেত্রাঘাত ছিল স্বীকৃত ব্যবস্থা
অতীত কালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বেত্রাঘাত ছিল একটি স্বীকৃত ও প্রাতিষ্ঠানিক শাসনব্যবস্থার অংশ। তখনকার সমাজব্যবস্থা, শিক্ষাদর্শন এবং অভিভাবক-শিক্ষক মানসিকতা—সবকিছু মিলিয়ে শারীরিক শাস্তিকে শিক্ষার একটি ‘স্বাভাবিক’ উপাদান হিসেবে দেখা হতো।
প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় শিক্ষাব্যবস্থায়, বিশেষ করে উপমহাদেশের টোল, পাঠশালা ও মাদরাসাগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রধান উপায় ছিল বেত্রাঘাত। শিক্ষকের প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্যকে গুরুত্ব দেওয়া হতো, এবং শাস্তিকে সেই আনুগত্য নিশ্চিত করার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ধরা হতো।
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলেও বিদ্যালয়গুলোতে বেত্রাঘাতের ব্যবহার বহাল ছিল। এমনকি অনেক স্কুলে বেত্রাঘাতের জন্য নির্দিষ্ট নিয়মও ছিল—যেমন কতবার আঘাত করা যাবে, কোন অংশে আঘাত করা যাবে ইত্যাদি। এটি একধরনের শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃত ছিল এবং অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরাও এটিকে সমর্থন করতেন।
সে সময়ের একটি প্রচলিত ধারণা ছিল—“Spare the rod, spoil the child” অর্থাৎ ‘বেত্রাঘাত না করলে শিশু নষ্ট হয়ে যায়।’ এই ধারণা থেকে বিশ্বাস করা হতো, শারীরিক শাস্তি শিশুদের শৃঙ্খলাবোধ, ভদ্রতা ও অধ্যবসায় শেখায়। ফলে শিক্ষকরা নিজেদের দায়িত্বের অংশ হিসেবেই শাস্তি প্রয়োগ করতেন।
তবে লক্ষণীয় যে, অতীতের এই ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্য বা মানবাধিকারের বিষয়টি তেমন গুরুত্ব পায়নি। শিক্ষা ছিল বেশি কর্তৃত্বনির্ভর, যেখানে প্রশ্ন বা ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ সীমিত ছিল। শাস্তির ভয় শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও তা তাদের সৃজনশীলতা ও স্বাধীন চিন্তাকে বাধাগ্রস্ত করত।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষাবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান এবং মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ধারণা বদলাতে শুরু করে। গবেষণায় প্রমাণিত হয় যে, বেত্রাঘাত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়, হীনমন্যতা ও মানসিক সমস্যার জন্ম দেয়, যা তাদের শেখার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। ফলে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা ধীরে ধীরে শারীরিক শাস্তিকে পরিত্যাগ করে ইতিবাচক ও মানবিক পদ্ধতির দিকে অগ্রসর হয়েছে।
সুইডেন ১৯৭৯ সালে প্রথম দেশ হিসেবে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই নয়, পরিবারেও শিশুদের ওপর শারীরিক শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এর পরপরই নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, জার্মানী, ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালি, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা প্রায় সব দেশই আইনগতভাবে বেত্রাঘাত নিষিদ্ধ করে। এসব দেশে শিশুদের অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে মানবিক ও অংশগ্রহণমূলক করে তোলা হয়েছে।
এই বৈশ্বিক পরিবর্তনের পেছনে জাতিসংঘ-এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৮৯ সালে গৃহীত Convention on the Rights of the Child শিশুদের অধিকার রক্ষায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সনদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শিশুদের শারীরিক বা মানসিক কোনো ধরনের সহিংসতা, নির্যাতন বা অপমানজনক আচরণ থেকে সুরক্ষা দেওয়া প্রতিটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ফলে এই সনদে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো বাধ্য হয় তাদের জাতীয় আইন ও নীতিমালায় পরিবর্তন আনতে।
এছাড়া জাতিসংঘের শিশু অধিকার কমিটি “General Comment No. 8”-এর মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করে যে, বেত্রাঘাতসহ সব ধরনের শারীরিক শাস্তি শিশুদের মর্যাদার পরিপন্থী এবং তা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করা উচিত। এই অবস্থান বিশ্বজুড়ে নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি শক্তিশালী নৈতিক ও আইনি নির্দেশনা হিসেবে কাজ করেছে।
জাতিসংঘের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো এর বিভিন্ন সংস্থা—বিশেষ করে UNICEF—এর মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি, গবেষণা পরিচালনা এবং সরকারগুলোকে কারিগরি সহায়তা প্রদান। এসব উদ্যোগের ফলে বিশ্বজুড়ে শিশুদের প্রতি সহিংসতার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিকল্প ইতিবাচক শৃঙ্খলা পদ্ধতির প্রসার ঘটেছে।
একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs)-এর আওতায়ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধ করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এর লক্ষ্য অনুযায়ী, শিশুদের নিরাপদ ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা বৈশ্বিক উন্নয়নের অন্যতম শর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
করণীয় ও পথনির্দেশ
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি—
১. শারীরিক ও মানসিক শাস্তির বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।
২. অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে সচেতনতা তৈরি করতে হবে যে, বেত্রাঘাত কোনোভাবেই শিক্ষার অংশ হতে পারে না।
৩. শাস্তির পরিবর্তে ইতিবাচক পদ্ধতি যেমন—কাউন্সেলিং, প্রণোদনা, সহানুভূতিশীল আচরণ—ব্যবহার করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীরা নিজের ভুল বুঝতে শেখে, ভয় পায় না।
৪. শিক্ষকদের আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি ও শিশুমনস্তত্ত্ব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে, যাতে তারা চাপের মধ্যেও কার্যকর ও মানবিক উপায়ে শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা করতে পারেন।
৫. প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও আনন্দময় স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যেখানে তারা স্বাধীনভাবে শেখার সুযোগ পায়।
শিক্ষা কেবল জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের মানসিক, নৈতিক ও সামাজিক বিকাশের ভিত্তি। সেখানে ভয়, সহিংসতা ও অপমানের কোনো স্থান নেই। বেত্রাঘাতের সংস্কৃতি বন্ধ করে সহমর্মিতা, শ্রদ্ধা ও ইতিবাচক শৃঙ্খলার ভিত্তিতে শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। একটি নিরাপদ, মানবিক ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলেই আমরা সত্যিকার অর্থে একটি সুস্থ ও প্রগতিশীল সমাজ নির্মাণ করতে পারব।

সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, বেত্রাঘাত নিষিদ্ধ করার আন্দোলন এখন একটি বৈশ্বিক মানবাধিকার আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শিশুর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতা। জাতিসংঘের নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দিচ্ছে—শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন করতে হলে ভয় নয়, বরং ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সম্মানই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, যেখানে একটি মানবিক ও নিরাপদ শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে এই বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো অপরিহার্য। অতীত কালে বেত্রাঘাত একটি প্রতিষ্ঠিত নিয়ম ও সংস্কৃতি হলেও, বর্তমান সময়ে তা অগ্রহণযোগ্য ও অমানবিক হিসেবে বিবেচিত। ইতিহাস আমাদের এই শিক্ষা দেয় যে, শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য ভয় নয়, বরং সহমর্মিতা ও মানবিকতাই সবচেয়ে কার্যকর পথ।
লেখক: সাবেক উপদেষ্টা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, অন্তর্বর্তী সরকার
[email protected]

Want your school to be the top-listed School/college in Sylhet?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Website

Address

Fotehpur 5th Part
Sylhet