31/12/2024
যারা কুরআন শেখে এবং তা অনুযায়ী আমল করে, তাদের জন্য ইসলাম ধর্মে বিশেষ পুরস্কার ও মর্যাদা উল্লেখ করা হয়েছে। কুরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে অনেক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। নিম্নে কয়েকটি পুরস্কার উল্লেখ করা হলো:
১. আল্লাহর নিকট মর্যাদা বৃদ্ধি
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ, যে নিজে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।”
(সহীহ বুখারি: ৫০২৭)
২. কুরআনের হাফেজের জন্য জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করবে, মুখস্থ করবে এবং এর উপর আমল করবে, কিয়ামতের দিন তাকে বলা হবে: ‘পাঠ কর এবং উন্নীত হতে থাকো, পৃথিবীতে যেমন তিলাওয়াত করেছ তেমনি করে পড়তে থাকো। তোমার অবস্থান হবে তোমার সর্বশেষ আয়াত পাঠ করার স্থানে।’”
(তিরমিজি: ২৯১৪)
৩. কুরআন তিলাওয়াতকারীকে ফেরেশতাদের সাথে তুলনা করা হয়েছে
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং এতে পারদর্শী হয়, সে সম্মানিত এবং অনুগত ফেরেশতাদের সঙ্গে থাকবে। আর যে কষ্ট করে পড়ে এবং তা শেখার চেষ্টা করে, তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব।”
(সহীহ বুখারি: ৫০২৮; সহীহ মুসলিম: ৭৯৮)
৪. কিয়ামতের দিন সুপারিশকারী
কুরআন তিলাওয়াতকারীর জন্য কুরআন কিয়ামতের দিন সুপারিশ করবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“কুরআন কিয়ামতের দিন পাঠকারীর জন্য সুপারিশকারী হিসেবে উপস্থিত হবে।”
(সহীহ মুসলিম: ৮০৪)
৫. আত্মার প্রশান্তি এবং হৃদয়ের প্রশান্তি
কুরআন পাঠ করলে হৃদয় প্রশান্ত হয় এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন:
“নিশ্চয়ই আল্লাহর স্মরণেই হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে।”
(সূরা রা’দ: ২৮)
৬. পরিবারের মর্যাদা বৃদ্ধি
কুরআনের হাফেজের জন্য কিয়ামতের দিন তার বাবা-মাকে সম্মানসূচক মুকুট পরানো হবে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি কুরআন মুখস্থ করবে এবং এর উপর আমল করবে, তার পিতা-মাতাকে এমন একটি মুকুট পরানো হবে, যার আলো সূর্যের চেয়েও বেশি উজ্জ্বল।”
(আবু দাউদ: ১৪৫৩)
উপসংহার:
কুরআন শেখা এবং তা অনুযায়ী জীবন গঠন করা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের জন্য নয়, বরং দুনিয়া ও আখিরাতে সর্বোচ্চ মর্যাদা অর্জনের অন্যতম পথ।