Department of English, MC college, Sylhet.

Department of English, MC college, Sylhet.

Share

This page is for the students of the Department of English, M.C. college, Sylhet.

23/08/2018

মূল কবিতা: I felt a funeral, in my brain
কবি: এমিলি ডিকিনসন।
অনুবাদ: সোনালী চক্রবর্তী।

মস্তিষ্কের ভিতর টের পাই এক অন্ত্যেষ্টিকে,

আর শোকার্তরা ঘুরে বেড়ায় এপার থেকে ওপার,

তারা হাঁটতে থাকে সদর্পে, হাঁটে আর হাঁটে

যতক্ষণ না মনে হয়

আমার বোধের আগল ভেঙে পড়েছে...

যখন তারা সবাই নিজেদের আসন গ্রহণ করে,

ঢাকের মতো কিছু যেন বাজতে শুরু করে তাদের পরিচর্যায়,

বাজতে থাকে, বাজতেই থাকে

যতক্ষণ না বুঝি

আমার চিন্তাশক্তি নিস্তেজ হয়ে পড়েছে...

তারপর শুনতে পাই তাদের একটা বাক্স তুলে নেওয়ার শব্দ,

যা কড়কড় শব্দে ভাঙা হয় আমার আত্মাকে এফোঁড় ওফোঁড় করে,

শাসনের সেই একই জুতো দিয়ে।

ফের শূন্যতা টহল দিতে শুরু করে...

মনে হয় সব স্বর্গগুলো একটা মাত্র ঘণ্টা,

আর সমস্ত জীবিতরা শুধু দ্বিতীয় ইন্দ্রিয়,

সেখানে আমি আর নৈঃশব্দ্য,

অদ্ভুত কোনও প্রজাতি, ধ্বংসপ্রাপ্ত, একাকী ...

এরপর ভেঙে যায় সকল যুক্তির পাটাতন,

আমি তলিয়ে যেতে থাকি ক্রমশ, ক্রমশই...

প্রতি ডুবে ধাক্কা খাই একেক পৃথিবীর চরায়,

আর ফুরিয়ে যেতে থাকে সমস্ত জানা



I felt a Funeral, in my Brain,
And Mourners to and fro
Kept treading - treading - till it seemed
That Sense was breaking through -

And when they all were seated,
A Service, like a Drum -
Kept beating - beating - till I thought
My mind was going numb -

And then I heard them lift a Box
And creak across my Soul
With those same Boots of Lead, again,
Then Space - began to toll,

As all the Heavens were a Bell,
And Being, but an Ear,
And I, and Silence, some strange Race,
Wrecked, solitary, here.

12/06/2017

Need some moderator to maintain the page, if interested, inbox me. Have to mention academic session.
Best Regards
Admin panel

Photos 30/03/2017

DECL-3 Runners Up "Rongdhonu"

Photos from Department of English, MC college, Sylhet.'s post 30/03/2017

DECL-3 Champions "The Rising Sun"
Congrats

26/04/2016

- হ্যালো তুই কই?
- দোস্ত আমি স্লিপিং পিল কিনে আনছি
- কেন?
- আমি মারা যাব দোস্ত! আমি সুইসাইড করব!
- কেন সুইসাইড করবি কেন?
- আমার গার্লফ্রেন্ড আমাকে ছেড়ে চলে গেছে
- পাগলামি করিস না দোস্ত! তুই গ্রামে আয়! যত তাড়াতাড়ি পারিস গ্রামে আয়
- না’রে আমি আর গ্রামে যাব না । আমি মারা গেলে আব্বা আম্মার সাথে তুই আসিস দোস্ত আমার লাশ নিতে!
- দোস্ত! এখন পাগলামি করার সময় না । আমি তোকে একটা কাজে ফোন দিয়েছি! একটা খারাপ খবর আছে!
- আমার আর খারাপ খবর! এত কষ্ট নিয়ে আমি বাঁচতে পারব না দোস্ত! আমি মরব এখনই মরব আমি ফোন রাখতেছি । মাফ করিস আমায়
- দোস্ত শোন শোন! তোর মা কিছুক্ষণ আগে মারা গেছে
- কি?
- হ্যা । বাড়ির সবাই অনেক কান্নাকাটি করছে । আমি তোকে এই খবর জানাতেই কল দিয়েছি
- কি বলিস তুই! এটা হতে পারে না আমার মা মরতে পারে না! আমি আসতেছি!
পাগলা ছেলেটা মেস থেকে দৌড়ে নেমে রিকশা নিল । রিকশাওয়ালা অবাক হয়ে বলল,
- কানতেছেন কেন মামা? কি হইছে? আল্লাহ্‌ রে ডাকেন মামা! কাইন্দেন না
ছেলেটা চোখ শার্টের হাতা দিয়ে চোখ মুছল । গতকাল রাতেও মা কল দিয়েছিল । তখন গার্ল ফ্রেন্ড এর সাথে তুমুল ঝগড়া হচ্ছিল । মা ফোন দিয়ে বলল,
- বাবা খাইছিস? পড়া শোনা কেমন চলে
- উফফ মা এত জ্বালাও কেন! এত কল দিও না তো!
বলে সে লাইনটা কেটে দিয়েছিল । ছেলেটা বাসে জানালার কাঁচে মাথা ঢেকিয়ে বসে রইল । ঢাকা যেদিন প্রথম এসেছিল সে । মা পাশে ছিল । মা’র মুখটা চোখে ভাসছে । চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে!
গতমাসে বাড়ি গিয়েও মা’কে দেখেছে রান্না ঘরে রান্না করছে। এবার আর মা নেই । মোবাইলটা ভুলে মেসে ফেলে রেখে এসেছে সে । বাসটা কখন গ্রামে পৌঁছাবে!
ছেলেটা বাস থেকে নেমে পাগলের মতন দৌড়াতে শুরু করল। একজনের সাথে ধাক্কা লেগে মাটিতে উপর হয়ে পড়ে গেল কাদার উপর । ময়লা কাদা শরীরে নিয়ে বাড়িতে গেল ।
বাড়িটা শুনশান মৃত নগরীর মতন হয়ে আছে । বাড়িতে কেউ নেই? ছেলেটা ক্লান্ত পায়ে উঠোনে এসে দাঁড়াতেই ঘর থেকে তার মা বের হয়ে এল!
পাগল ছেলেটা “মা” বলে চিৎকার দিয়ে মাকে গিয়ে জড়িয়ে ধরল! মা অবাক হয়ে বলতে লাগল, আমার পাগলা বাবার কি হইল আবার? আমার বাবা কান্দে কেন? ও বাবুর বাপ! আমার ছেলে কান্দে কেন?
বন্ধুটি তারপর একদিন ছেলেটিকে বলেছিল,
গার্লফ্রেন্ড ছাড়া জীবন অচল? হা হা হা! জীবনে আর কিছুই নাই? ওকে মামা ঠিকাছে! এখন স্লিপিং পিল খায়া মইরা যাও! আমি আর তোরে মিথ্যা কমু না!
গল্পঃ মা ।।
Collected

08/04/2016

যারা সাহিত্য পড়ে তারা ভাল ছাত্র হয় না,ভাল পেশাজীবি হয় না, ভাল স্বামী হয় না, ভাল আয়ও করে না। তবে তারা প্রেমিক হয় অল্প বিস্তর ভাল। আমি বিশ্বাস করি যারা সাহিত্য পড়ে প্রচুর টাকা কামায় তারা বিপথে গেছে। অর্থের দৈন্যদশা, দুঃখ আর প্রেম না আসলে সাহিত্যের ছাত্র হওয়া অস্বার্থক হয়ে পড়ে। সাহিত্য থাকে পদ্মপাড়ে,হরিজন সম্প্রদায়ের ঘরে, বনে,নীরবে,নিভৃতে, দুঃখে আর হতাশায়। আনন্দের সাহিত্য গাঢ় হয় না,বুঝা যায় না।পেটে গেলেই শেষ।দুঃখের সাহিত্য,রোমান্স সাহিত্য ওয়াইনের মত,পেটে গেলে নেশা হয়,অনুভূতি আসে,ঝিমঝিম করে। চন্ডালের বউয়ের আবির-সিঁদুর মাখা কপালে সাহিত্য সহজাত থাকে। সাহিত্য সহজাত শিক্ষকের সিগারেটের ধোঁয়ায়, মাঝির গায়ের গন্ধে,ভিখারির ছিন্ন বস্ত্রে।সাহিত্য থাকে দ্রোহে আর কামে।
'
আমার কাছে সাহিত্য যেমন
সন্ন্যাসী

06/04/2016

ছেলেটি নির্জন পার্কের বেঞ্চে বসেছিল। ভাবতেছিল নিজের জীবনের কথা। হয়ত জীবনটা এমন না হলেও পারত।নিজের আধখাওয়া সিগারেটের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল। সিগারেটের মধ্যেই জ্বলা আগুন যেভাবে সিগারেটকে ধীরে ধীরে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয় তেমনি মানুষের জীবনের অশান্তিগুলোও তাকে ধীরে ধীরে নি:শ্বেষ করে দেয়। আমার জীবনেও ত অশান্তি আছে কিন্তু আমি তো সেই অশান্তির মাঝেই আমার শান্তি খুজে নিয়েছিলাম। যখনই আমি আমার অশান্তির সাথে বন্ধুত্ব্ করে নিজের শান্তি খুজে নিয়েছি তখনই সেই অশান্তি তার পরিমাণ বাড়িয়ে আমার খুজে পাওয়া শান্তি কে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। আস্তে আস্তে ছেলেটি তার সিগারেট শেষ করে আবারো সেই শান্তি খুজার জন্যে অশান্তিপূর্ণ জীবনের কাছে ছুটে যেতে থাকে। হয়ত সে তার কাঙ্ক্ষিত শান্তি খুজে পাবে।

পার্কের আশেপাশের গাছপালাও নিরব আজ তারাও যেন ছেলেটির দু:খে নিশ্চুপ। কাছে কোনো পাখিরও ডাক শোনা যাচ্ছে না। আজ যেনো পুরো প্রকৃতি তার কষ্টে নিজেকে বিলীয়ে দিচ্ছে। সেই চুপচাপ প্রকৃতির মাঝে ছেলেটির পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে। ভারী ভারী পা ফেলে সে এগিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকে। একসময়কার যার পদচারনায় মুখরিত হত চারপাশ, যার উদ্দ্যমী হাটাচলা উপভোগ করত প্রকৃতি,
আজ যেনো সে কোথায় হারিয়ে গেছে।

পার্ক পেরোবার আগে ছেলেটি পিছনের দিকে প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে ফেললো তার দীর্ঘশ্বাস। সামনের দিকে তাকিয়ে আবারো সে চলতে থাকে তার অজানা গন্তব্যে।

#অদ্ভুত_সেই_ছেলেটি

28/03/2016

ভ্যাবাচ্যাকা ভাস্কর
পর্ব-১
দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম ক্লাসটা শেষ হল।ক্লাস থেকে বের হতেই এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সম্মুখীন হলাম।ক্লাস শেষ হওয়ার পর তারেক স্যারের সাথে কথা বলতে গেছিলাম আমি আর আনোয়ার। কিন্তু বের হওয়ার সাথে সাথে এমন দৃশ্য দেখা যাবে কল্পনাও করিনি। আমাদের ভ্যাবাচ্যাকা ভাস্কর চার চোখ সামলাতে গিয়ে ম্যাথ ডিপার্টমেন্ট এর এক সুন্দরির উপর হুমরি খেয়ে পড়লো আর সাথে সাথে মেঘ ছাড়াই বজ্রপাত হল। ঠাস করে ঠাটিয়ে এক চড় খেল।
"রাস্তা দেখে চলতে পারেন না? অসভ্য কথাকার। মেয়ে দেখলেই ধাক্কা খেতে ইচ্ছে করে?"
আমি আর আনু পুরাই থতমত খেয়ে গেলাম। আর ভাস্কর হা করে এক হাত তার সদ্য উষ্ণতা পাওয়া গালে ধরে রাখল আর আরেক হাত তার চশমা খুজতে ব্যস্ত। চড়ের সাথে বেচারার চশমা যে কই উড়ে গেছে। তাড়াতাড়ি করে ভাকুর কাছে গিয়ে চশমাটা তুলে তার হাতে দিলাম। সে এখনো হা করে সেই মেয়েটির চলে যাওয়া দেখতেছে।
আমি: কিরে? একটা থাপ্পর খেয়েই ক্রাস খেয়ে গেলি ভ্যাবাচেকা ভাকু?
ভাকু: না,,, মা মা মানে দো দোষটা আমারি আমি ই ই ত ধা ধা ধাক্কাটা খেলাম। মেয়েটা রাইট ছিলো।
আমি: মাম্মা মানুষ ক্রাশ খায় আগে পরে কিছু বলতে গিয়ে থাপ্পর খায় আর তুই থাপ্পর খেয়ে ক্রাশ? তুই ই পারবি মাম্মা বিশ্বপ্রেমিক হতে।
ভাকু কোনোমতে নিজেকে সামলিয়ে বললো, কি যে বলিস না তুই মাঝে মাঝে? আগা মাথা কিছুই নাই কথার।
হঠাৎ ইমন বলে উঠলো, কোনো ব্যাপার-ই না মাম্মা। ক্রাশ খাওয়া খুবি ভাল কাজ।
আনু: বিশ্বপ্রেমিকের নাম নিতে লেইট হল কিন্তু হাজির হতে লেইট হল না। হালা তুই ত ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের মত প্রতিদিন তিনবেলা খাওয়ার আগে পরে ক্রাশ খাস আর এক্সট্রা হিসেবে বিকেলেও দুই,তিনটা খাস। তুই কি বুঝবি ভাকুর ফিলিংস। এই ফার্স্ট এত জোরে একটা ক্রাশ খাইলো।
ইমনের দিকে একটু নজর দিতেই দেখলাম খুব মাইঞ্জা মাইরা আসছে আজ কে। আনুর দিকে চোখাচোখি হতেই ইশারায় কইলাম কাহিনি কি? আনু ইমনরে বললো, কি রে যে মাইঞ্জা মাইরা আইলি? কয় কেজি আটা,ময়দা,সুজি আর ফেয়ার এন্ড লাভলী মাখলি? তোর বর্তমান ক্রাশ রে ত কার হাত ধইরা হাটতে দেখলাম।
ইমন, আরে এগুলা ত নাথিং। কতো আইবো যাইব।
আমি, হালা লুচুগিরি যাইবো না তোর আর? একটু ভাল হ।
ইমন, হ। ভাল হইয়া তোর মত হইয়া যাই? একটা মাইয়াও পটাইতে পারলি না হালা আবার বড় বড় কথা কস?
মনে বড় দু:খ অনুভব করলাম। আহা সত্যি ই ত। কিন্তু অই হালারে রিপ্লাই না দিলে ত হইব না।
আমি, হালা উলটা কথা কস কেন? এই পর্যন্ত একটা মাইয়াও আমারে পটাইতে পারলো না এই বার বুঝ কি আমি। ( খানিক ভাব নিয়া)
ইমন, হইসে চাপাবাজি বন্ধ কর হালা।
আমি, হালা তোর মত আর না যেই সেই খানে ক্রাশ খাই আর সেই ক্রাশ যখন আরেকজনের কাছে চলে যায় তখন দেবদাস হইয়া বইয়া থাকি হালা।
আনু, বাদ দে ত। চল রিফাতের দোকান থেকে কিছু খাইয়া আসি খিদা লাগসে আবার এক ঘন্টা পর হারুন স্যারের ক্লাস।
হঠাৎ খেয়াল করলাম এতসব কথা চললো আমাদের মাঝে ভাকু এখনো চুপ? কাহিনি কিরে? ভাকু ত কখনো এমন চুপচাপ থাকে না। তাহলে কি সিরিয়াসলি ক্রাশ খাইলো? আনুর দিকে উৎসুক দৃষ্টিতে তাকাতেই আনু মাথা ঝাকাইলো আর মুচকি হাসলো যার মানে কাম ত সাইরালচে ভ্যাবাচেকা ভাস্করে।
ইমন আর ভাকু আগে আগে হাটতেছে আমি আর আনু একটু পিছে পিছে। ইমন খুব ভাবটাব নিয়া হাটতে লাগল। আমি আনুরে কইলাম, দেখ মাইঞ্জার অবস্থা। ফুটেজ খাওয়াই লাগবো তার।
আনু, মাম্মা কিছু একটা ত করাই লাগবো।
আমি, আমিও সেটাই ভাবছি মাম্মা। দেখা যাক।

রিফাতের দোকানে সিঙারা খেতে খেতে আড্ডা দিতে লাগলাম আর ভাবতে লাগলাম কি করা যায়।
হঠাৎ বলে উঠলাম, মাইয়ার এত বড় সাহস মামা? তোরে থাপ্পর দেয় ঐ মাইয়ার একদিন কি আমার একদিন।
ভাকু, না মামা। কি যে বলিস? দোষটা ত আমার ছিল। কিন্তু ওরে রাগলে খুব সুন্দর লাগে।
বুঝলাম আমি বুঝলাম রাজ্য জয় করার মত হাসি দিয়ে আনুর দিকে তাকাইলাম আর আনু থাম্বস আপ দেখাইল।
ইমন, মাম্মা দূরে থাক। চতুর্থ বর্ষের মাসুক ভাই কিন্তু লাইনে আছে।
কথাটা শুইনাই আমাদের ভ্যাবাচ্যাকা বাবুর মুখটাই শুকাইয়া গেলো।
ভাকু, আমি কি আর প্রেম করতাছি নাকি? জাস্ট কইলাম সুন্দর লাগলো।
আনু, হালা ভ্যাবাচেকা সারাজীবন শুধু চশমাটাই সামলাইছ। এই রকম যদি বড় ভাইদের ভয় পাইয়া নিজের চয়েচরে অন্যের হাতে তুইলা দাও তাইলে পরে চিরকুমার হইয়া থাকবি বেটা।
আমি, হম। আনু একমত।
ইমন, আমি বাবা এইসবে নাই। পরে আমারে দোষ দিতে পারবা না।
ভাকু, চল ক্লাসে যাই হারুন স্যারের ক্লাস শুরু হয়ে যাবে।
সবাই হাটতেছি আর এক এক জন এক এক কথা ভাবতেছি। শেষ কবে আমরা চারজন এত চুপচাপ হয়ে হাটছিলাম মনে নাই। শুধু একটা জিনিস ভাবলাম একটা কিছু ত করতেই হবে।

পর্ব ২
অনেক ধকল গেলো দুইটা দিন।দৌড়ের উপর ছিলাম প্রায়। প্রায় ১০টা বাজে রিফাতের চা স্টলে বসে আছি আমি আর আনু।
আনু, কিরে কতদূর আগাইলি?
আমি, শালা এমনভাবে বললি যেন আমার জি এফের জন্য দৌড়াইতাছি।
আনু, আচ্ছা বুঝলাম, এখন আসল কথাটা বল।
আমি, হুমম।(একটুভাব নিয়ে বললাম)
তারপর ডানহাত দিয়ে গাল চুলকাতে চুলকাতে বললাম কমপ্লিট মাম্মা।
আনু, কিরে তোরে খুজলি রোগে ধরলো কবে?
আমি, হারামী কি কস উলটা পালটা?
আনু লম্বা একটা হাসি দিয়া বলল, না যেভাবে গাল চুল্কাচ্ছিস।
আমি একটু দুখি দুখি চেহারা কইরা বললাম, তোগো লাইগা একটু ভাব ও লওয়া যাইবো না দেখছি।
আনু, ওহ ভাবজ ধচ্ছিলা? বুগিনাই মাম্মা।
আমি, হারামী চুপ থাক।
আনু, আইচ্ছা যাউকগা সামনে আউগগা। কি কি যোগাড় করতে পারছত?
আমি এক নিশ্বাসে মেয়েটির নাম, উচ্চতা, এফ বি আইডি, মোবাইল নাম্বার, হোয়াটস আপ নাম্বার বইলা যাইতে লাগলাম।
আনু, হুমম কাজ তাইলে ঠিকঠাক মতই করছত?
আমি, আমি কোন কাজ উলটা পালটা করছি?
আনু, হ মামা তুই লাভ গুরু। আমগো লাভ গুরু।
আমি, ধূর কি যে বলিস না মামা। তোর ক্ষেত্রে জাস্ট কয়েকটা কথা কইছিলাম আর লাইগা গেছিলো মামা। তা তোর জি এফ মিথিলার খবর কি?
বাহ মিথিলার কথা কইতেই আমার মামা এক্কেরে লজ্জাবতী হইয়া লাজুক লাজুক একটা হাসি দিলো। বুইঝা গেলাম যা বুঝার আর বলার দরকার নাই।
আমি, এখন কি করা যায় বল? ওই ভ্যাবাচেকা ভাস্কর রে দিয়া ত কিছু হইব না প্রেশার না দিলে।
আনু, হ মামা কি যে করি?
আমি, এত ভাবাভাবির দরকার নাই জাস্ট আমার লগে তাল মিলাবি বাকি গুলা আমি দেখতাছি।তা অই দুই হারামী কই?
আনু, মাইঞ্জা ত মাইঞ্জা মাইরা আইবো অর লেইট হইবোই। শালা লেইট লতিফ। দেখ কয় কেজি ফেয়ার এন্ড লাভলি মাখতাছে।আর ভ্যাবাচেকা? অর কথা কইয়া লাভ আছে? শালা এতই আবুল যে বাসার বাইরে আইসা অর মনে হইব যে শালায় পেন্ট পরে নাই শুধু আন্ডারওয়্যার পইড়া বাইর হইয়া গেছে।
আমি আর নিজেরে ধইরা রাখতে পারলাম না। জোরে জোরে হাসতে লাগলাম। আর বললাম, কেমনে পারস ম্যান? হাসতে হাসতে ত পেট ব্যাথা হইয়া গেলো।
আমি, হুম শোন আমাদের ১১টার আগে ক্যাম্পাসে যাওয়া লাগবো। ১১টায় ওই মেয়ের ক্লাস শেষ হইব।
আনু,ওকে। এখনো অনেক টাইম বাকি।
অবশেষে আমাদের ভ্যাবাচেকা আর মাইঞ্জা আসলেন এবং উনাদের সাক্ষাত দিয়া আমাদের ধন্য করলেন। যাইহোক, চা নাস্তা খেয়ে আমরা আমাদের ইংরেজি বিভাগের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম।তখন ঘড়ির কাটাতে প্রায় ১১টা ছুঁইছুঁই। ম্যাথ বিভাগটা আমাদের বিভাগের পাশেই আর আমাদের ক্লাসরুমের পাশেই তাদের ক্লাসরুম।

খুব করেই চাইছিলাম যাতে ওই থাপ্পড়ওয়ালি আসুক আর আমাদের সাথে দেখা হক। আস্তে আস্তে ক্লাসে যাচ্ছি এবং আমি আর আনু উশখুশ করছি মেয়েটা এখনো এলনা কেন? ক্লাসরুমে ঢোকার ঠিক আগেই খুব মিষ্টি একটা কন্ঠে শুনতে পেলাম, এই যে শুনছেন।
আমরা চারজনই চকিতের মধ্যে ঘুরে দাড়ালাম সেই কোকিলা কন্ঠিকে দেখার জন্যে। আহ, এত সুন্দরী একজন মেয়ে দেখে যেন মনের কোনে শীতল হাওয়া বইলো। ঠিক তখনই মনে হল আরে এত সেই থাপ্পড়ওয়ালি। সে এখানে কি করছে? একটু আনুর দিকে তাকালাম আর ইশারায় জিগাইলাম কাহিনি কিরে? সেও ইশারায় বললো কি জানি?

ভাস্করের দিকে চোখ পড়তেই টাসকি খাইলাম কি অবাক চোখে হালা কানা, চার ব্যাটারি তাকাইয়া আছে। ওরে দেইখা মনে হইল কে যেন ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক দিতাছে
পড়ে না চোখের পলক টিং
কি তোমার রুপের ঝলক টিং
দোহাই লাগে মুখটি তোমার একটু আচলে ঢাকো
আমি জ্ঞান হারাব মরে যাব বাচাতে পারবে না কো টিং টিং টিং।

আসলে হওয়ারি কথা হালকা গোলাপি ড্রেসে ওরে যে কি মানাইছে বলার মত না। কাজল কালো চোখ আর তার লজ্জারাঙা চাহনি, মুখে ইষৎ বাকা হাসি সাথে গালে টোল,বাতাসে উড়ে চলা পাগলা ঘোড়ার মত বাধ না মানা এলো কাল চুলগুলো আর ওগুলো ওর মুখে আসতেছিল আর সে বারবার ওই চুলগুলো কানে গুজে দিতেছিল জাস্ট অপূর্ব। আমি আর গভিরে যাওয়ার চেস্টা করলাম না মনকে শান্তনা দিয়া বললাম এটা আমার বন্ধু ভ্যাবেচেকার আমার না।
মেয়েটি ভাস্করকে বললো, আপনার সাথে একটু কথা ছিল।
ভাস্কর, ক্কি ক্কি কি ক-ক-কথা?
মেয়েটি, না মানে যদি একটু এদিকে আসতেন।
আমি ভাকুরে আলতো একটা ঠেলা দিয়া সামনে গিয়া ওর সাথে কথা বলতে বললাম।

মেয়েটি, আসলে ওইদিনের থাপ্পড়ের জন্য আমি সরি।মেজাজ খারাপ ছিল আর ধাক্কা খেয়ে আর মাথা ঠিক রাখতে পারি নাই।
ভাস্কর, না না আসলে আমারি দোষ ছিল আমি কানার মত না হেটে রাস্তা দেখে চললেই ত আর ধাক্কাটা লাগতো না।
মেয়ে, মাইন্ড করছেন না? আসলে মাইন্ড করারই কথা। কে না মাইন্ড করবে? আই এম এক্সট্রিমলি সরি। প্লিজ প্লিজ ক্ষমা করে দেন।
ভাস্কর, আরে আরে হইছে হইছে আমাকে ত লজ্জায় ফেলে দিলেন। ইটস ওকে।
মেয়ে, আমি অনিন্দিতা, আপনি?
ভাস্কর, আমি ভাস্কর।
মেয়ে, আমি ম্যাথ ডিপার্টমেন্ট এ ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি।
ভাস্কর, আমি ইংরেজি ডিপার্টমেন্ট এ সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি।
মেয়ে, ওকে তাহলে আসি আবার দেখা হবে আর সরি এগেইন।
ভাস্কর, আরে আবার সরি? এখন ত পরিচিত হলাম দেখা সাক্ষাত ত হবেই। বাই।

হালা ভ্যাবাচেকার মুখে যে খুশি দেখলাম মন চাইছিল ওই হালারে দুইটা লাগাইয়া দিতে একটা মাইয়ার সাথে দুই মিনিট কথা কইলো কি না মামা ত দেখি এখন সপ্তম আসমানে। দাড়া তোরে টাইনা নামাইতাসি।
আমি, কিরে কি কইলো তোরে?
ভাকু, না সরি কইলো।
আমি, নাম কি রে?
ভাকু, অনিন্দিতা।
আমি, ওয়াও ওর মত ওর নামটাও জোস। এত সুন্দর মাইয়ার লগে ঠিক এমন একটা নামই যায়।অনিন্দ্য সুন্দরির নাম অনিন্দিতা। আহা, মাম্মা আমারে ধর আমি ত শেষ।
গলা ছেড়ে জোরে জোরে গাইতে লাগলাম
প্রেমে পড়েছে মন প্রেমে পড়েছে
অনিন্দ্য এক সুন্দরির প্রেমে পড়েছে।
আমার কথা আর গানটা শুইনা ভাকুর মুখ ছোট হইয়া গেল বুঝলাম কাজ হইছে।
ভাকু, ওই হালা কি কস? ছোট বোন লাগে তোর।
আমি, হুর হালা কোন জীবনের বোন আমার? আমি ক্রাশ খাইছি ওর লগে প্রেম করুম।
ভাকু, হালা যারে তারে দেখলেই তোর ক্রাশ খাইতে ইচ্ছা করে প্রেম করতে ইচ্ছা করে?
আমি, ওই হালা আমি ইমন নাকি রে যে যারতার উপর ক্রাশ খাইমু?
আনু, হ মাম্মা এই প্রথম তুই একটা ক্রাশ খাইলি প্রেম কর মাম্মা। এই ভ্যাবাচেকা ত কিছু করতে পারবো না তুই ই কর।
ভাকু রাগে কাচুমাচু হইয়া কইলো, ওই হালা আনু থাপ্পড়াইয়া দাত সব ফালাইয়া দিমু বেশী কথা কস তুই।
আনু, দেখ দাত ফালাবি ভালো কথা ফালা। অযথা রাগ দেখাস কেন? তোর যদি ওই মেয়েরে ভাল লাগে তাইলে বললেই ত হয়।
ভাকু কন্ঠ নিচে নামাইয়া আমতা আমতা করে বলল, না মানে, না মানে। নাহ বললাম যে সুন্দরি দেখলেই প্রেম করা লাগব।এই কথাটাই কইলাম আর কি।
বুঝলাম হালায় ধরা খাইছে। আনু আমার দিকে তাকাইয়া চোখ টিপ মারলো আর আমি হাসলাম।
আনু আবার ভাকু রে বলল, দেখ তুই ত আর ইমনের মত না যে দিনরাত ২৪ ঘন্টার মধ্যে ২৬ ঘন্ঠাই ক্রাশ খাস। একটা যখন খাইছত আমগোরে কইতে পারোস হয়ত কোনো হেল্প করতে পারি।
ভাকু লজ্জায় লাল হইয়া যাহ হালা বইলা ক্লাসে ঢুকলো।
হঠাৎ মনে হইল ইমন এত নিরব কেন এত কথা কওয়ার পর টু শব্দ ও করলো না। ইমন ত এত চুপ থাকার কথা না।মাইঞ্জার মাইঞ্জাগিরি কথা আর ফুটেজ না খাইলে হইবো? আমি আর আনু পিছনে তাকাইয়া দেখলাম ইমন নাই। হালায় আমাদের ক্লাসের টপ মেয়ে শবনমের সাথে কি হাসি হাসি মুখ নিয়া কি যে পিরিতির আলাপ করতাছে হালা লুইস্যা। নতুন ক্রাশ খাইছে হয়ত।হালা ইমনের কপালে দু:খ আছেরে শবনম যে রাগি কখন যে ওর উপর কাঠাল ভাইঙ্গা খায় আল্লাহ মালুম। একটু পরেই আমাদের আনুর "বালুবাসা" আই মিন ভালবাসা মিথিলা হাজির। আনু অর দিকে তাকাইয়া রোমান্টিক একটা হাসি দিলো আর মিথিলাও লাজুকরাঙা হাসিতে আনুর হাসির জবাব দিল। আনু আর মিথিলা ভিতরে চলে গেল শুধু আমি রয়ে গেলাম আর ভাবতে লাগলাম চারদিকে এত রোমান্স আর বালুবাসা, শুধু আমি ফইন্নিই এখনো একা রয়ে গেলাম? হায়রে ফইন্নি কই থাইকা যে এমন হুরুনবারির(ঝাড়ুরবারির) কপাল লইয়া আইলাম এখনো কেউ জুটল না? ধুর কি যে ভাবি এইগুলা? উলটা পালটা কি ভাবি? আমার কল্পনায় ত আমার স্বপ্নের রাজকন্যারই বাস। উনি ত আমার হৃদয়ে সবসময়ই বিচরণ করছেন তাহলে কেন আমি এত ভাবতেছি? তবুও উনি যদি একটু সামনে আসতেন তাহলে মনের না বলা কথাগুলো আর মনের কোনে তিল তিল করে জমানো ভালবাসায় উনাকে ভিজিয়ে দিতাম।রাতে উনার সাথে জ্যোৎস্না বিলাস করতাম, উনার কাধে মাথা রেখে আকাশের তারা গুনতাম।উনার হাতে হাত রেখে বৃষ্টি গায়ে মাখতাম আর উনাকে আমার ভালবাসার সাতটি রঙে মেখে দিতাম।একটু বেশী-ই রোমান্টিক হয়ে যাচ্ছি।থাক আর বেশী রোমান্টিক না হই পরে মনের গহীনে শেকলবাধা অনুভূতিগুলো জেগে উঠবে।

বি দ্র: এই প্রথম লেখালেখি করলাম। ভুলত্রুটি গুলো ক্ষমা করে দিবেন

S2

Photos 23/03/2016
Photos 09/03/2016

Best of luck Tigers. Show the world your ability, power and talent. Let's ROAR together.

Want your school to be the top-listed School/college in Sylhet?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address

Tilagor
Sylhet
3100