18/01/2026
তুরস্কে একটা মিলিটারি ক্যু হয় ২০১৬ এর একদম মাঝামাঝি একটা সময়ে। ব্যর্থ একটা ক্যু, এরদোয়ান এর বিরুদ্ধে। এই ফেইল্ড ক্যু এরদোয়ান এর জনপ্রিয়তা আগেরচে' বাড়াইয়া দেয়। এরদোয়ান সরকার বললো, গুলেনের এই ক্যু এর পিছনে হাত আছে। ফলে গুলেনপন্থীরা (ও অন্যান্য যারা অপোজিশন ঘরানায় ছিলো) মোটামুটি গ্রেফতার হওয়া শুরু করলো, অনেকের চাকরি চইলা গেল। ইত্যাদি ইত্যাদি।
এই ঘটনা অল্প বিস্তর আমরা সবাই জানি।
ক্যু ঘটে যেই রাতে, আমার মেজো ভাই তখন ছিল তুরস্কে। আঙ্কারায়। পড়াশোনা করতেসিলো মিডল ইস্ট ইউনিভার্সিটিতে। উনি একটা স্কলারশিপ পেয়ে পড়তে গেসিলো সেখানে। স্কলারশিপটা যেই এজেন্সি মেইনটেইন করতো, আনফরচুনেটলি সেইটা ছিল খুব সম্ভবত গুলেনপন্থী। সুতরাং, এজেন্সি ক্যু এর পর আর চলতে পারে নাই। শাট ডাউন হয়ে যায়। ভাইয়ারে তখন দুইটা অপশন দেয়া হইসিলো।
এক। উনারা ভাইয়ারে দেশে পাঠাবে। যেহেতু ভাইয়া সেইফ ফিল করতেসেনা।
অথবা দুই, ভাইয়া নিজের সেইফটি ও দায়িত্ব নিজে নিয়ে তুরস্কে থেকে পড়াশোনা চালায়ে যাবে। উনারা কোনও রেস্পন্সিবিলিটি নেয়া বা হেল্প করতে পারবেন না, কারণ উনারা একটু 'লো প্রোফাইল' মেইটেইন করবেন। (সোজা বাংলায় আত্মগোপনে চলে যাবেন)
ওই সময় যে অবস্থা তাতে ভাইয়ার দেশে চইলা আসাটাই সবচে নিরাপদ। তাইনা? কিন্তু সমস্যা হলো, ভাইয়াকে আবার শুরু থেকে অনার্স করা লাগবে। কারণ উনার ক্রেডিটগুলা দেশের কোনও ভার্সিটিতে ট্রান্সফারের ব্যবস্থা ছিলো না।
এরপর কী হইলো, সেইটা বলার জন্য এই স্ট্যাটাস আমি লিখি নাই। তুরস্কের রাজনৈতিক বাঁক নিয়া আলোচনাও আমার উদ্দেশ্য না। আমি মূলত লেখতে বসছি আমার বন্ধুরে নিয়া। ক্যাম্পাসে যারা আমাকে চিনেন, তারা জানেন সেই বন্ধু আসলে কে হইতে পারে।
সাস্টে ভর্তি হওয়ার পর আমারে বিজয় চব্বিশ হল-এ এটাচড করা হয়। হলে উঠতে পারি নাই। হল দেখতে এসে নিচতলায় একটা লেখাতে চোখ আটকায়।
'বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ও বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ব্লক'
তারমানে ক্যাম্পাসে বিদেশি শিক্ষার্থী আছে। কিংবা, ছিলো। আঠারো ব্যাচের সিনিয়রগণ ক্যাম্পাসে সর্বশেষ ফরেইন স্টুডেন্ট দেখেছে।
তাইলে এখন আর দেখি না ক্যান! মনে প্রশ্ন জাগছিলো।
অনেকগুলা কারণই আছে। তারমধ্যে একটা হইলো, আমাদের বর্তমান কারিকুলামে বাইরের ভার্সিটিতে ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুযোগ নাই। এই জিনিসটা থাকা কেন গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝাইতেই মূলত আমার ভাইয়ের গল্পটা শুরুতে অবতারণা করেছিলাম। তুরস্ক মোটামুটি শান্ত দেশ। ওর চাইতে আমাদের দেশে রাজনৈতিক অবস্থা কয়েকগুণ বেশি অস্থিতিশীল আর ভয়াবহ।
একটা ভার্সিটির আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিং মাপার ক্ষেত্রে অনেকগুলা প্যারামিটার বিবেচনায় রাখা হয়। জিপিটি করলে আপনি নিজেই সেগুলা কী কী তা দেখতে পারবেন। তারমধ্যে একটা হলো "আন্তর্জাতিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সংখ্যা"।
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্ক অনেক নিচে। তবে আগে নাকি এমন ছিলো না। এই ব্যাপারটা নিয়া কাজ করতে চায় আরমান। ওর অন্যান্য ইশতেহারও আছে, সেগুলো কমেন্টে দিয়ে দিবো।
দুইদিন পর শাকসু নির্বাচন হবে। সেখানে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে পদপ্রার্থী Md Arman Hossen । ব্যালট নং তিন।
ক্যাম্পাসের বেশ কয়েকটা স্বনামধন্য অর্গানাইজেশন ও ক্লাবের প্রেসিডেন্ট আরমান। ওর লিডারশীপ কোয়ালিটি, নেটিওয়ার্কিং কিংবা অর্গানাইজিং স্কিল নিয়ে কথা বলে অযথা লেখার কলেবর আর বৃদ্ধি করতে চাইছিনা। তবে এই পদে আমার মনে হয়না ওরচে যোগ্য কেউ আছে।
বলছিনা আরমানকে ভোট দিতেই হবে, কিংবা আরমানকে ভোট দিলে তরতরিয়ে সাস্ট এর র্যাঙ্ক বাড়তে শুরু করবে। তবে জুলাই আমাদের একটা জিনিস বেশ ভালোভাবেই উপলব্ধি করায়ে গেছে।
একটা ফুল দিয়ে কখনো বসন্ত হয় না, তবে প্রতিটি বসন্তই একটি ফুল দিয়ে শুরু হয়।
তাহমিদ হাসান
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬
শাবিপ্রবি