02/02/2026
ভারতের আশ্রয়ে থাকা খুনী ফয়সাল,
বিপ্লবী ওসমান হাদী ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক লড়াই
(পর্ব-১)
আমাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কৃতির একটা উপাদান- আমাদের বিনোদন মিডিয়া। এর অন্তর্ভূক্ত হচ্ছে- নাটক, সিনেমা, অনুষ্ঠান সমূহ। স্যটেলাইট সংস্কৃতির সাথে পাল্লা দিতে বিনোদনের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে তারা বেছে নিয়েছে মানুষের জীবনের আবেগপ্রবণ দিকগুলো। প্রেম ভালোবাসা এবং সংঘাত ই তাদের মূল উপজীব্য বিষয় আজ পঞ্চাশ বছর ধরে...
জীবনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং উন্নতিকে এরা শুধুমাত্র উপরোক্ত বলয়ের মধ্যে বন্দী করে ফেলেছে। অর্থ্যাত মানুষের বিশাল চিন্তাজগতকে তারা ব্যক্তিগত ফ্রেমে বন্দি করে ফেলেছে। এটা শুধুই অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে তারা করেছে, এটা ভাবলে ভূল করব আমরা। আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় যে জাতি অন্য জাতির সাংস্কৃতিক গোলামীতে ব্যস্ত, সে জাতি মাথা তুলে দাড়াতে পারেনি। এটাই মহাকালের ইতিহাস। গ্রীক পুরানে "ট্রোজান হর্স" ছিল মূলত সংস্কৃতির খোলসে/বর্মে পরিচালিত এক সামরিক আগ্রাসন। একই কায়দায় হিন্দুস্থানের বর্তমান ক্ষমতাধর সরকার, যারা দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রদায়িক সংঘাতের মূল কারিগর, অর্থ্যাত ভারথ সরকার। তারা তাদের প্রতিবেশীদের প্রথমে সাংস্কৃতিকভাবে গোলামে পরিণত করেছে। এটা কতটা কাজ করছে, সেটার তারা কিছুদিন পর পর লিটমাস টেস্ট করে। পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ যুদ্ধে খেলে কিংবা বাংলাদেশে অবস্থান নেয়া তাদের খুনীদের মাধ্যমে হত্যাকান্ড ঘটিয়ে। বাংলাদেশে প্রায়ই তারা ব্যাপক সফলতা পেলেও পাকিস্তানে সফলতার পরিমাণ ও কম নয়। উল্লেখযোগ্য সফলতা হচ্ছে- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে গণহত্যার প্লট তৈরী করে এ অঞ্চলের মানুষের উপর এক অসম যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল ভারত। এতে পুতুল হিসেবে কাজ করেছে- ভারথ এর সরকারী গোয়েন্দা-বেশ্যাদের (স্পাই) দিয়ে হেরেম পূর্ণ করা পাকিস্তানী জেনারেলসমূহ। এপাড়ে কাস্ট করেছিল আওয়ামী ষাণ্ডাদের। শেখমুজিবকে জেলে নেয়া হয়েছিল, কারণ সে বাইরে থাকলে কলকাতায় গিয়ে তাজুদ্দিন-তোফায়েল গংদের বদমাশী মেনে নিতনা। এভাবে তারা একটা ক্ষুধার্থ জনগোষ্ঠীর উপর একটা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল। যার খেসারত আজ ও এ অঞ্চলের মানুষেরা দিচ্ছে।
মূল আলোচনা ছিল মিডিয়া নিয়ে, বিনোদন জগত নিয়ে। চলে এলাম মুক্তিযুদ্ধে। কারণ খুবই সাভাবিক। আপনি খেয়াল করে দেখবেন- এ দেশে মানুষের বিনোদনের সাথে কীভাবে মুক্তিযুদ্ধ জড়িয়ে আছে। কারণ ব্রিটিজ উপনিবেশ প্রতিরোধ আন্দোলন করে এ অঞ্চলের মুসলমান কৃষকগণ তার ভিটেমাটি ই শুধু ধরে রেখেছিল। বাকী সব ছিল হিন্দু জমিদারদের দখলে। নিম্ন জাতের হিন্দুদের সাথে যা আচরণ করত ব্রাক্ষণ জমিদারগণ, ঠিক একই আচরণ করত মুসলমানদের সাথে। এটা ইতিহাস। আজ বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার অভাবে এ অঞ্চলে আদর্শহীনতা মহামারির আকার ধারণ করেছে। বিধায় আমাদের বিনোদনের উপাদান সমূহ আমাদের উন্নত জীবনের মূলসূত্র সমূহ অনুবাদ করছে না কিংবা সহজ পাঠ করছে না কিংবা আরো গভীরে গিয়ে বলতে হয়- পরিকল্পিতভাবেই তারা সেটা করছেনা। বিধায়- আমাদের বিনোদন জগত গড়ে ওঠেছে প্রবৃত্তির মনোরঞ্জক হিসেবে। কিন্ত আমরা জানি জীবন মানেই জৈবিক কর্মকান্ড নয়। জীবনের সাভাবিক একটা অপরিহার্য অংশ সেটা। কিন্ত এটাকেই বেছে নিয়েছে আমাদের মিডিয়ার মাস্টার মাইন্ড। তারা এভাবেই একটা জাতির যৌবনকে বন্ধায় পরিণত করেছে। ফলে, (বাংলাদেশ হাজার বছরে একটা জাতি যৌবনকাল পায়), এই সময়কে সঠিকতর ব্যবহার করতে অক্ষমতার নজীর স্থাপন করেছে। আর ভারথ আমাদের তরুণ যুবকদের মাদক ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে যখন বুদ করতে ব্যর্থ হয়েছে, তখন স্নাইপার নিয়ে আমাদের কিশোর-তরুণ-যুবকদের রাজপথে গণ-হ-ত্যা'র সফল মঞ্চায়ন করেছে। এটা তারা করেছে পঞ্চাশ বছর ধরে আমাদের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি পুশ-ইন করেছে, এর একটি স্ক্রিপ্টের মাধ্যমে। শে-খ-হা-সি-না এই সিনেমার একজন প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা একজন নায়িকা মাত্র! তার পলায়ন ই আমাদের বিজয় নিশ্চিত করছেনা! এটাই পাহাড় সমান সত্য! যা কে আপনি সমুদ্রের ডুবোপাহাড়ের সাথে তুলনা করতে পারেন। এই সত্য আমাদের কিশোর- তরুণ-যুবক তথা গণমানুষ যত দ্রুত উপলব্ধি করবে, তত দ্রুত আমাদের মুক্তির আসল লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু হবে বলে আমার বিশাস!