ভারতের আশ্রয়ে থাকা খুনী ফয়সাল,
বিপ্লবী ওসমান হাদী ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক লড়াই
(পর্ব-১)
আমাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কৃতির একটা উপাদান- আমাদের বিনোদন মিডিয়া। এর অন্তর্ভূক্ত হচ্ছে- নাটক, সিনেমা, অনুষ্ঠান সমূহ। স্যটেলাইট সংস্কৃতির সাথে পাল্লা দিতে বিনোদনের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে তারা বেছে নিয়েছে মানুষের জীবনের আবেগপ্রবণ দিকগুলো। প্রেম ভালোবাসা এবং সংঘাত ই তাদের মূল উপজীব্য বিষয় আজ পঞ্চাশ বছর ধরে...
জীবনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং উন্নতিকে এরা শুধুমাত্র উপরোক্ত বলয়ের মধ্যে বন্দী করে ফেলেছে। অর্থ্যাত মানুষের বিশাল চিন্তাজগতকে তারা ব্যক্তিগত ফ্রেমে বন্দি করে ফেলেছে। এটা শুধুই অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে তারা করেছে, এটা ভাবলে ভূল করব আমরা। আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় যে জাতি অন্য জাতির সাংস্কৃতিক গোলামীতে ব্যস্ত, সে জাতি মাথা তুলে দাড়াতে পারেনি। এটাই মহাকালের ইতিহাস। গ্রীক পুরানে "ট্রোজান হর্স" ছিল মূলত সংস্কৃতির খোলসে/বর্মে পরিচালিত এক সামরিক আগ্রাসন। একই কায়দায় হিন্দুস্থানের বর্তমান ক্ষমতাধর সরকার, যারা দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রদায়িক সংঘাতের মূল কারিগর, অর্থ্যাত ভারথ সরকার। তারা তাদের প্রতিবেশীদের প্রথমে সাংস্কৃতিকভাবে গোলামে পরিণত করেছে। এটা কতটা কাজ করছে, সেটার তারা কিছুদিন পর পর লিটমাস টেস্ট করে। পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ যুদ্ধে খেলে কিংবা বাংলাদেশে অবস্থান নেয়া তাদের খুনীদের মাধ্যমে হত্যাকান্ড ঘটিয়ে। বাংলাদেশে প্রায়ই তারা ব্যাপক সফলতা পেলেও পাকিস্তানে সফলতার পরিমাণ ও কম নয়। উল্লেখযোগ্য সফলতা হচ্ছে- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে গণহত্যার প্লট তৈরী করে এ অঞ্চলের মানুষের উপর এক অসম যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল ভারত। এতে পুতুল হিসেবে কাজ করেছে- ভারথ এর সরকারী গোয়েন্দা-বেশ্যাদের (স্পাই) দিয়ে হেরেম পূর্ণ করা পাকিস্তানী জেনারেলসমূহ। এপাড়ে কাস্ট করেছিল আওয়ামী ষাণ্ডাদের। শেখমুজিবকে জেলে নেয়া হয়েছিল, কারণ সে বাইরে থাকলে কলকাতায় গিয়ে তাজুদ্দিন-তোফায়েল গংদের বদমাশী মেনে নিতনা। এভাবে তারা একটা ক্ষুধার্থ জনগোষ্ঠীর উপর একটা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল। যার খেসারত আজ ও এ অঞ্চলের মানুষেরা দিচ্ছে।
মূল আলোচনা ছিল মিডিয়া নিয়ে, বিনোদন জগত নিয়ে। চলে এলাম মুক্তিযুদ্ধে। কারণ খুবই সাভাবিক। আপনি খেয়াল করে দেখবেন- এ দেশে মানুষের বিনোদনের সাথে কীভাবে মুক্তিযুদ্ধ জড়িয়ে আছে। কারণ ব্রিটিজ উপনিবেশ প্রতিরোধ আন্দোলন করে এ অঞ্চলের মুসলমান কৃষকগণ তার ভিটেমাটি ই শুধু ধরে রেখেছিল। বাকী সব ছিল হিন্দু জমিদারদের দখলে। নিম্ন জাতের হিন্দুদের সাথে যা আচরণ করত ব্রাক্ষণ জমিদারগণ, ঠিক একই আচরণ করত মুসলমানদের সাথে। এটা ইতিহাস। আজ বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার অভাবে এ অঞ্চলে আদর্শহীনতা মহামারির আকার ধারণ করেছে। বিধায় আমাদের বিনোদনের উপাদান সমূহ আমাদের উন্নত জীবনের মূলসূত্র সমূহ অনুবাদ করছে না কিংবা সহজ পাঠ করছে না কিংবা আরো গভীরে গিয়ে বলতে হয়- পরিকল্পিতভাবেই তারা সেটা করছেনা। বিধায়- আমাদের বিনোদন জগত গড়ে ওঠেছে প্রবৃত্তির মনোরঞ্জক হিসেবে। কিন্ত আমরা জানি জীবন মানেই জৈবিক কর্মকান্ড নয়। জীবনের সাভাবিক একটা অপরিহার্য অংশ সেটা। কিন্ত এটাকেই বেছে নিয়েছে আমাদের মিডিয়ার মাস্টার মাইন্ড। তারা এভাবেই একটা জাতির যৌবনকে বন্ধায় পরিণত করেছে। ফলে, (বাংলাদেশ হাজার বছরে একটা জাতি যৌবনকাল পায়), এই সময়কে সঠিকতর ব্যবহার করতে অক্ষমতার নজীর স্থাপন করেছে। আর ভারথ আমাদের তরুণ যুবকদের মাদক ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে যখন বুদ করতে ব্যর্থ হয়েছে, তখন স্নাইপার নিয়ে আমাদের কিশোর-তরুণ-যুবকদের রাজপথে গণ-হ-ত্যা'র সফল মঞ্চায়ন করেছে। এটা তারা করেছে পঞ্চাশ বছর ধরে আমাদের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি পুশ-ইন করেছে, এর একটি স্ক্রিপ্টের মাধ্যমে। শে-খ-হা-সি-না এই সিনেমার একজন প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা একজন নায়িকা মাত্র! তার পলায়ন ই আমাদের বিজয় নিশ্চিত করছেনা! এটাই পাহাড় সমান সত্য! যা কে আপনি সমুদ্রের ডুবোপাহাড়ের সাথে তুলনা করতে পারেন। এই সত্য আমাদের কিশোর- তরুণ-যুবক তথা গণমানুষ যত দ্রুত উপলব্ধি করবে, তত দ্রুত আমাদের মুক্তির আসল লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু হবে বলে আমার বিশাস!
Muhammad Abdul Musawwir Ludhi
মোহাম্মাদ আব্দুল মোছওয়ীর লোদী
31/01/2026
কৃষ্ণ করলে লীলাখেলা, আর আবদুল করলে ঢঙ,
গণতন্ত্রে সবই রাইট হয়, ইসলাম করলে রঙ
24/01/2026
সাঈদী, আকাশের দিকে তাকিয়ে তুমি কি দোয়া করেছিলে? তোমার সে দোয়া কি আল্লাহর দরবারে কবুল গেছে? না এখনো হয় নাই? আমাদের কে কি তুমি অভিশাপ দিয়েছিলে? না, আমাদের বিজয়ের জন্য আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করেছিলে?
22/01/2026
দুনিয়ার বর্তমান ফ্রেশিডেন্ট নিজ জাতির সচ্ছল ভরণ পোষণে বেশ কিছু কর্মসূচী হাতে নিয়েছেন। তার এই পদক্ষেপ মার্কিনভূমি ও জাতির একমাত্র গর্বের বস্তু তথা তাদের "পশ্চিমা লিবারাল জীবনাদর্শ"কে বন্দিদশা থেকে ফাসির মঞ্চে নিয়ে এসেছেন। মহামান্য তার জালানী ক্ষুধা মেটাতে সমুদ্রে তৈলবাহী জাহাজ ছিনতাইকে রুটিন ওয়ার্কে পরিণত করেছেন। তৈলসমৃদ্ধ ভেন্যুজুয়েলারি আর পারমানবিক ইরানে জোরপূর্বক পুতুল সরকার বসাতে উঠেপড়ে লেগেছেন। বরফে আচ্ছাদিত গ্রীণল্যান্ডে খনিজ সম্পদ দখলের ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে তার এই একতরফা লুটপাটে ইরোপের ঔপনিবেশিক শকুনেরাও হাত-পা গুটিয়ে বসে নাই! তারা তাদের জনগণকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেদের হিস্যা নিয়ে সরব হয়েছে! তারা গ্রীণল্যান্ডে প্রতিকী সৈন্য পাঠিয়েছে। কারণ তারা জানে জাতিসংঘ আজ একটা আমেরিকান সংঘ!
26/12/2025
প্রথম আলো'র ভন্ডামী ও ভ্যান্ডালিজম
রামপন্থী, বামপন্থী এবং দিল্লীপন্থী সবাইকে এক ছাতার নীচে এনেছিল প্রথম আলো নামক হলুদ সাংবাদিকতা.... প্রথম আলোকে বয়কট করুন!
সত্য প্রকাশে সাহসী হোন!
মিডিয়াতে কেন আ%×গু××ন || যেই সত্য কেউ বলবে না || Pinaki Bhattacharya || The Untold মিডিয়াতে কেন আ%×গু××ন || যেই সত্য কেউ বলবে না || Pinaki Bhattacharya || The UntoldPlaylist:বাংলাদেশ প্রসঙ্গ - https://youtube.com/playlist?list=PL8ua8rCMPox...
06/09/2025
নতুন বোতলে পুরনো মদের চালান
১৯৯০ সালেও একনায়ক এরশাদের সরকারের পতন হয়েছিলো (সেখানেও বিদেশীদের সরাসরি ইন্ধন ছিলো)। কিন্তু বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অবস্থার তো উন্নতি হয়নি। জনগণ এখনও গরীব; কারণ স্বল্প কিছু মানুষের হাতে বেশিরভাগ সম্পদ কুক্ষিগত হয়ে গিয়েছে; ঠিক যেমনটা হয়েছে পশ্চিমা দেশগুলিতে। চরম বেকারত্বের কারণে সরকারি চাকুরিতে ঢোকার কোটা নিয়ে আন্দোলন হয়েছে। শ্রমিকরা বারংবার রাস্তায় নেমেছে তাদের বেতন বৃদ্ধির জন্যে; কারণ ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতির কারণে তাদের আয় দিয়ে তাদের সংসার চলছে না। সামাজিক অবক্ষয় মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘ এলজিবিটি-র মতো মারাত্মক ব্যাধিকে 'রংধনু' নামে ইনজেকশের মাধ্যমে জোর করে ঢুকিয়ে দিয়েছে এই সমাজে। আইএমএফ-এর মতো মাফিয়া সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিয়ে শর্ত হিসেবে জ্বালানির উপর থেকে ভর্তুকি তুলে দিয়ে, ব্যাপকভাবে ট্যাক্স বৃদ্ধি করে, ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য কমিয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিসহ করে ফেলা হয়েছে। বাজারে সিন্ডিকেটের কারণে সকল পণ্যের কারণ ছাড়া মূল্য-বৃদ্ধি যেন প্রতিদিনের ইস্যু। দুর্নীতির সাগরে সাঁতড়ে অনেকেই হয়েছেন হাজার কোটিপতি। এই মারাত্মক সমস্যাগুলি সরিয়ে ফেলা নিয়ে কেউ কথা বলে না। অনেকেই বলবে যে, “এগুলি সরানো অনেক কঠিন কাজ", অথবা "এগুলি ধীরে ধীরে সরাতে হবে", অথবা "এগুলি সরাবার কথা বলা অবাস্তব", অথবা অন্য কিছু।
সরকার আসবে; যাবে। কিন্তু রাষ্ট্র এখনও দুর্বলই রয়ে গেল। সকলেরই চিন্তা সরকারকে নিয়ে; রাষ্ট্র নিয়ে নয়। সমস্যায় পড়লে সকলেই সরকার পরিবর্তন চায়; এগুলি যে রাষ্ট্রের সমস্যা, সেটা নিয়ে কেউ চিন্তা করে না। একারণেই নতুন বোতলে পুরনো মদের চালান আসতেই থাকে। সমস্যা চিরকালই রয়ে যায়; আর বিদেশীরা এই সমস্যাগুলি জিইয়ে রেখে রাষ্ট্রের নীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটা একটা 'ভিশাস সার্কেল'; যার মাঝে বাংলাদেশ ঘুরপাক খাচ্ছে জন্মের পর থেকে। রোগ হলো ক্যান্সার; আর সকলে ক্যান্সারের জন্যে হওয়া জ্বরের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। প্যারাসিটামল দিয়ে কি আর জ্বরের চিকিৎসা হয়?
15/08/2024
মুসলিম উম্মাহর অধঃপতনে জাতীয়তাবাদের ভূমিকা : পর্ব-১
বাংলাদেশের দুই জাতীয়তাবাদী দল BAL এবং BNP, তাদের একজন করে ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদ এবং আরেকজন করে সীমান্তভিত্তিক জাতীয়তাবাদ। সজ্ঞানে ও অজ্ঞানে তারা এটাকে নিজেদের ঈয়ান আকীদার অংশ করে নিয়েছেন। তাদের উদ্দেশ্যে এই লিখা শেয়ার করলাম...
মুসলিম উম্মাহর অধঃপতনে জাতীয়তাবাদের ভূমিকা পর্ব-১ “অবশ্যই তোমাদের এই উম্মত হল একটাই উম্মত” [সুরা আম্বিয়া-৯২] “এক জাতি এক ভূমি” এই চেতনা ও আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে একদা ....
03/08/2024
দেশে এখন রেমিটেন্স আসেনা
আসে হুন্ডি, সংস্কৃত হুন্ড শব্দ থেকে হুন্ডি'র নামকরণ। আরবীতে একে বলা হয়- হাওয়ালা। আর সিলেটে "হাওলা"
"হুন্ডি" যা বর্তমান বাংলাদেশ সরকারকে বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমে সম্পদ পাচারে বেশ সহায়ক হয়েছে। শেখমুজিব কন্যা হাসিনা'র ভাষায়,
"হাতে হাতে দিবেন, হাতে হাতে খরচ"
চলুন জানা যাক- "হুন্ডি" কি?
হুন্ডি কিভাবে কাজ করে ? আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে অর্থ লেনদেনের এক ব্যবস্থা হল হুন্ডি। সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে বিশেষ করে ভা...
মেধা আন্দোলন এবং বাংলাদেশের জনগণ
যে কোন লড়াইয়ে কোন একটা পক্ষ নেয়া আমাদের মজ্জাগত সভাব। সেটা ক্রিকেট খেলা থেকে ফুটবল, বিডিআর বিদ্রোহ থেকে মেধা আন্দোলন।
সংস্কৃতির দিক দিয়ে, এই বদীপের মানুষ আবেগপ্রবণ, সহমর্মী এবং আরামপ্রিয়..
বর্তমান মেধা-আন্দোলন থেকে গণ-আন্দোলনে রূপান্তরিত এই রাষ্ট্রের প্রতি বিদ্রোহের শুরুতে কারো লক্ষ্য ছিলনা, সরকার পতন কিংবা গণুভ্যুত্থানের মাধ্যমে বিপ্লব।
রাষ্ট্রের সত্তা ও সরকারের সত্তা যদি আলাদা হয়ে থাকে, তাহলে এই বিদ্রোহ ও অভ্যুত্থান প্রচেষ্টাকে নিরপেক্ষ কিংবা পক্ষপাথমুক্ত ভাবার কোন অবকাশ নাই।
আন্তর্জাতিক উদাহরণ ও আদর্শের সূত্র
সিরিয়া ও ইরাকে তথাকথিত "ইসলামিক খেলাফত" এবং ইরান, পাকিস্তানের তথাকথিত "ইসলামিক প্রজাতন্ত্র" কীভাবে মার্কিনীদের দারা নিয়ন্ত্রিত ও (আইএস) নিষিদ্ধ হয়েছিল, এবং মার্কিনীদের পাতা এই ফাদে(ট্রোজান হর্স) অনেকেই বোকা বনেছিল। কারণ, সেখানে দুটো বিষয়ে ভারসাম্য নিশ্চিত করা ছিলনা। এক- আবেগ, দুই- বিবেক। ইসলাম কোন যান্ত্রিক কিংবা বস্তুবাদী আদর্শ নয়, বিধায় এখানে আবেগ-অনুভূতিকে জীবনের বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন কোন উপাদান জ্ঞান করা হয়না, অথচ, বাস্তববাদীরা (যারা বাস্তবতাকে চিন্তাভাবনার ভিত্তি মনে করেন) বলে, "জীবনটা আবেগ নয়, বাস্তবতা বড় কঠিন!"
ইসলামের রাজনৈতিক পরিভাষায় ভারসাম্য বলতে এখানে, আধ্যাত্মিক (স্প্রিচ্যুয়াল/নাফসিয়া) এবং বুদ্ধিবৃত্তিক(ইন্টেলেকচুয়াল/ আকলিয়া), এই দুটোর ব্যালেন্স, কোন ব্যক্তি ও সংগঠনের মধ্যে না থাকলে, তাদের কর্মসূচী, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং ক্রিয়াশীলতার মধ্যে অসামঞ্জস্যতা দেখা দেয়। প্রকৃত কথা হচ্ছে, আসমানি এই জীবনাদর্শে- ব্যক্তি ও সংগঠনের মধ্যে তখনি এই ভারসাম্য দৃষ্টিগোচর হয়, যখন এদের চিন্তা (ফিকির) ও পদ্ধতি (তরিকা) ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে থাকে। সবচেয়ে আশ্চর্য হচ্ছে, এটা তখনি কার্যকর হয়, যখন তার চিন্তা-পদ্ধতির ভিত্তি হয়- কলিমা। অর্থ্যাত, এই কলিমার ভিত্তিতে যখন কোন ব্যক্তি/সংগঠন তার জীবনব্যবস্থা পৃথিবীর আলো-বাতাশে কার্যকর করার লক্ষ্যে কর্মসূচী পরিচালনা করে, তখন সেটা স্থান, কাল ও পাত্র ভেদে রঙ ও ঢং বদল করলেও, মূলে কোন পরিবর্তন আনেনা। তখন, বাস্তবতার আলোকে একটা কর্মসূচী ব্যর্থ হলেও, আদর্শের আলোচনায় সেটা কখনোই ভূল হিসেবে প্রতীয়মান হয়না। ইতিহাসে ভূড়ি ভূড়ি উদাহরণ আছে।
উপরোক্ত মূলনীতি আলোচনার উদ্দেশ্য হচ্ছে, একটা সংগঠন, আন্দোলন এবং রাজনীতির প্রকৃতি অনুধাবনের মধ্যেই রয়েছে এর ফলাফল অনুধাবনের বিষয়গুলো..
বাংলাদেশে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পটভূমি শেখহাসিনা কিংবা এই সরকার নয়, রাষ্ট্রের গঠনতান্ত্রিক প্রকৃতি এবং উপাদান সমূহ, যা শুরু থেকেই বৈষম্য লালন করে আজ এ পর্যন্ত!
বিধায়, শেখহাসিনা তার আদালত ও বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে একটা রায় দিলেই, ভূক্তভোগীর প্রকৃত সমস্যা সমাধান হবে, তেমনটা নয়। সেটা তারাও জানে, ভূক্তভোগীরাও জানে।
আর তারুণ্য ও যৌবনের জানাটা, তাদের মানার উপর তেমন প্রভাব ফেলেনা। কিন্ত, তারা কোথাও না কোথাও থেকে পরিবর্তনের এই কাজটা শুরু করতে চেয়েছিলেন! এই মাইন্ডসেট ই তাদের বিশমানের বিপ্লবীর কাতারে নিয়ে গেছে। কারণ, তারা দূরদর্শী না হলেও অপরিণামদর্শী ছিলেন না!
এটা সাম্প্রতিক ঘটনার ঘনঘটার তথ্য-উপাত্ত থেকে আমি নিশ্চিত হয়েছি ও তা আমার কাছে প্রমাণিত।
(চলবে)
30/07/2024
মেধা আন্দোলন বনাম
৭১ এর মুক্তিযোদ্ধা থেকে ২৪ এর রাজাকার
যুগে-যুগে যত সরকার, যত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কিংবা বড়-বড় entity ডাউনফল করেছে; তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ফল করেছে একটা জেনারেশনের পর আরেকটা জেনারেশনের ট্রানজিশনটা ধরতে না পারায়।
জেনারেশন জেড, কিংবা Gen-Z, এই জেনারেশনের ব্যাপারে আমার প্রচুর পড়াশোনা করতে হয়। কারণ মূলত ওরাই আমার ফরমায়েশি লেখা এবং প্রোডাক্ট— দুইটারই টার্গেট কনজিউমার।
ওরা সম্পূর্ণ আলাদা ধাঁচে বড় হয়েছে। ওরা সোশ্যাল মিডিয়া আর ইন্টারনেট দিয়ে ওদের জীবন চালায়। ওদের কোনো ব্যারিয়ার নাই। ওরা Global Citizen। দেশের সীমানা ওদেরকে আটকায় না।
আপনি টিভিতে যা-খুশি, দেখান। লাভ নাই। কেননা ওরা টিভি দেখেই না। এ-কারণে এরা স্বাধীন এবং স্বশিক্ষিত। ওদের learning source ওরা নিজেরাই। শেয়ারিং বেসিসে একজন আরেকজনের কাছ থেকে শেখে এবং পাশে থাকে।
এ-কারণেই Ten Minutes School-এর মতন প্রতিষ্ঠান এত জনপ্রিয়। ওরা ওদের মতোই কারো কাছ থেকে শিখতে চায় এবং খুব দ্রুত শিখতে চায়। দশ মিনিটেই শিখতে চায়।
এই যে দেশের IT সেক্টর নিয়ে আমরা এত বড়াই করি, এই সেক্টরের লাইফ লাইন কারা? এই Gen Z-ই তো। আমাদের দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কি এগুলো শেখানো হয়?
না, হয় না! তা হলে এরা শিখল কীভাবে?
ওরা নিজে-নিজে শিখেছে। মাসে লাখ-লাখ টাকা কামাই করছে তাদের স্বশিক্ষা দিয়ে, যা আপনার-আমার মতন পুরোনো প্রজন্মের কাছে কল্পনাতীত। তাই আমরা এখনো প্রাগৈতিহাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গৌরব নিয়ে বড়াই করি।
এই যে মীর মুগ্ধ ছেলেটা কপালে গুলি খেয়ে মারা গেল, তার ফাইভার প্রোফাইল দেখলাম। সে নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেতন স্কেলের চেয়ে বেশি টাকা মাসে আয় করত।
সে কেন এসেছিল আন্দোলনে? সে দেখেছে তার বন্ধুরা স্ট্রাগল করছে। সে এসেছিল ভলান্টিয়ার হিসেবে। নিজের কামাই করা টাকায় পানি কিনে দিচ্ছিল। পানি খাওয়াতে এসে, কপালে গুলি খেল।
আইইউটি-এর একটা ছেলে মারা গেল। প্যারালাল ল্যান্ডিং করতে পারে— এমন ড্রোন বানিয়েছে সে, যার বাজারমূল্য প্রায় বারো লাখ টাকা। কে শিখিয়েছে তাকে এসব? সে নিজে-নিজে শিখেছে।
বাকি আন্দোলনকারীদের খোঁজ নিন। দেখবেন বেশিরভাগই এরকম। স্বশিক্ষিত ছেলেমেয়ে। যারা উল্টাপাল্টা সহ্য করতে পারে না।
এই যে স্বশিক্ষা এবং স্বনির্ভরতা এই দুইয়ের কারণে এদের আত্মমর্যাদা প্রচণ্ড রকমের। আপনি জাস্ট তাদেরকে অপমান করতে পারবেন না পূর্ববর্তী জেনারেশনেগুলোর মতন।
জেন-জির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে একটি হলো ওরা খুব ডিরেক্ট। যা চায় সরাসরি বলবে, যা করতে চায় সরাসরি করবে।
ঘোরানো-প্যাঁচানো ডিপ্লোম্যাসিতে ওরা খুব বিরক্ত হয় এবং যেহেতু ওরা পৃথিবীর সবকিছুরই কম বেশি জ্ঞান রাখে (মিনিটে-মিনিটে Google করে) ওরা খুব ভালো করেই বোঝে কোনটা মুলা ঝোলানো আর কোনটা আন্তরিকতা।
এর আরেকটা উদাহরণ দিই, ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের মতন বুদ্ধিজীবীকে মোটামুটি মুছে দিতে তাদের একদিনও সময় লাগেনি। এ-রকম ভয়ংকর বুদ্ধিবৃত্তিক পতন বাংলাদেশের ইতিহাসে আর একটাও ঘটেনি আমার জানামতে।
এর কারণ জাফর ইকবাল ডিরেক্ট না। তার ভুলকে ভুল, ঠিককে ঠিক বলার মতন সাহস কিংবা ইচ্ছে ছিল না। এর ফলে ওনার বুদ্ধিজীবী থেকে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীতে রুপান্তরিত হতে একদিনও লাগেনি।
মিলেনিয়ালদের মধ্যে যদি আপনি খোঁজ নেন দেখবেন বিশজনে হয়তো একজন নিজের জীবনের বাইরে বর্তমান পৃথিবীর খবর রাখছে। কিন্তু জেন-জি প্রতি দশে পাঁচজনই এসব খবর কম-বেশি রাখে।
এই যে গত ছয়-সাত বছরে অনেকগুলো আন্দোলন হলো দেশে, দুই দফা কোটা, এক দফা সড়ক-আন্দোলন, ছোট একটা কোভিড-আন্দোলন। ওদের কথা একটাই ছিল— বদলান। পরিবর্তন আনেন। হয় করেন, না পারলে সরেন।
সরকার পরিবর্তন তো চায়নি ওরা। চেয়েছিল সরকারের মন-মানসিকতার পরিবর্তন। একটু চিন্তা করুন। যখন সরকার নিজেকে মডিফাই করতে অস্বীকার করল, তখন ওরা বলল— এবার তাহলে হোক সরকার পরিবর্তন।
জেন-জির সহজাত প্রবৃত্তি এটাই। রাষ্ট্র বোঝেইনি তাদের সাইকোলজি। কেননা রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের কাছে এই জেনারেশনের উপর কোনো প্রপার রিসার্চ নাই। সেই প্রাগৈতিহাসিক divide and rule দিয়ে তাদেরকে দমন করতে গিয়ে উল্টো আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছেন।
এই যে পুলিশের সাথে ক্ল্যাশ হলো। পুলিশের কাজ ওদের ভালো লাগেনি। ওরা শ্লোগান দিল— 'পুলিশ চুদি না।'
আপনি-আমি এটাকে গালি হিসেবে নেব। কিন্তু ওরা বোঝাচ্ছে আমরা পুলিশকে কেয়ার করি না। । ঘুম থেকে উঠে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত ওরা দিনে কম করে হলেও বিশবার I don't give a f**k (I don't care) কথাটা শোনে। তারই স্রেফ বাংলা অনুবাদ এইটা।
এই যে গালি। এইটা ওদের রাগ-ক্রোধ প্রকাশের ভাষা। এই ভাষাকে অস্বীকৃতি দিতে পারেন কিন্তু অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই।
একইভাবে তাদের ওপর গুলি করার পর তারা 'বন্দুক চুদি না' বলে বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। আপনি আমি হয়তো অনেক লম্বা শব্দ চয়ন করতাম।
যেমন ধরুন 'যুগে যুগে বন্দুকের নল কিংবা বুলেট দিয়ে কোনদিন কোন রাষ্ট্র ছাত্র-আন্দোলন দমিয়ে রাখতে পারেনি' অথবা 'আমরা বীর বাঙালি ছাত্রসমাজ এসব বন্দুকের গুলির পরোয়া করি না।' সাথে ৫২-৬৯-৭১ এ-রকম কতকিছুই!
কিন্তু ওরা এক লাইনে শেষ করে দিয়েছে— বন্দুক চুদি না।
ধরুন, রাষ্ট্র গালি খেয়ে গুলি করে দিল। এবার যেমন করেছে। তখন ওরা কি ভয় পায়? না! পায় না! কেননা রাষ্ট্র তাদের আত্মসম্মানে আঘাত করেছে। তারা জানে রাষ্ট্র ভুল এবং রাষ্ট্রকে তার ভুল সংশোধন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে অপমান করেছেন। তারা রাস্তায় আন্দোলনে চলে এসেছে। ছাত্রলীগ তাদেরকে পিটিয়েছে, ওরা আরও বেশি অপমানিত হয়েছে, আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। আর গুলি করাটা ছিল ভীমরুলের চাকে ঢিল মারার মতন।
ওরা তখন বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে চোখে চোখ রেখে ডিরেক্ট জিজ্ঞেস করেছে, 'খানকির পোলা, গুলি করলি কেন?'
এই ডিরেক্টনেসের কারণে তারা প্রথাগত chain of command ভাঙতে একটুও দ্বিধাবোধ করে না।
একটা জিনিস লক্ষ করেছেন কি না, এই শিক্ষার্থীরা আগে নিজেরা আন্দোলনে নেমেছে। তারপর তাদের বাবা-মা'দেরকেও সেই আন্দোলনে নিয়ে এসেছে। এইটা যে কী ভীষণ রকমের একটা বিপ্লব, চিন্তা না করলে বোঝা যাবে না।
একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করুন ব্যাপারটা। যেখানে নিরাপত্তার জন্যে পরিবার আন্দোলনে যেতে বাধা দেয়, সেখানে তারা পরিবারকে উলটো নিয়ে এসেছে আন্দোলনে। এদের এই ডিরেক্টনেস এই অদ্ভুত লিডারশিপ অ্যাবিলিটি নিয়ে এসেছে।
কারণ এদের ডিসিশন মেকিং খুবই খুবই ফাস্ট। যেসব তথ্য-উপাত্ত ঘেঁটে একটা সিদ্ধান্তে যেতে হয়। তারা অলরেডি সেগুলো মাথায় নিয়ে ঘোরে। এ-কারণেই তাদের অপিনিয়ন পরিবারের কাছে এখন প্রায়োরিটি পায়।
এরকম একটা সিনারিও বলি, মনে করুন অফিসের বস তাকে পাত্তা দিচ্ছে না বা তার চাহিদা মেটাচ্ছে না। এই অবস্থায় ওরা ডিরেক্ট ওই বসের উপরের লেভেলের বসের কাছে তার দাবি নিয়ে চলে যাবে। কীভাবে? ইমেইল করবে কিংবা লিংকডইনে সরাসরি যোগাযোগ করবে।
এরপরেও না পোষালে সরাসরি চাকরি ছেড়ে দেবে। কিন্তু, যদি, অথবা এসব প্যাঁচানো বিশ্লেষণ দিয়ে তাদের বোঝানো যায় না। পারবেনও না। ওরা সোজাসাপ্টা মানুষ। প্যাঁচ কম।
এর কারণ হচ্ছে, ওরা জন্মের পর থেকেই মাল্টিপল অপশনের দুনিয়ায় বড় হয়েছে। মুভি দেখছে, পছন্দ হয়নি, ক্লোজ করে আরেকটায় চলে যাবে।
নেটফ্লিক্সের মতন প্লাটফর্মের কারণে তাদের কাছে লাখ-লাখ অপশন। একই ব্যাপার গান শোনা, বই পড়া, রাজনীতি, নেতা থেকে শুরু করে প্রেম-ভালোবাসা পর্যন্ত। না পোষালে আবেগের ভার নিয়ে এরা বসে থাকে না। They just quit and move on.
গতকাল জানলাম ওরা ইউটিউব, নেটফ্লিক্স কিংবা টুইটারে ভিডিও দেখে 1.5x গতিতে। মানে যে গতিতে ভিডিওটা করা হয়েছে তার দেড় গুণ গতিতে। কারণ স্লো কোনকিছুই এই জেনারেশন পছন্দ করে না।
মোটামুটি সব বড় গবেষণায়ই দেখা গেছে যে, অনলাইনে ৭ সেকেন্ড হচ্ছে তাদের অ্যাটেনশন টাইম। এই টাইমের মধ্যে তাদের এটেনশন ধরতে পারলে পেরেছেন, না পারলে they just move on to the next thing।
তো এই হচ্ছে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম। ওরা নেতা হিসেবে বুর্জোয়া Diplomat চায় না। ওরা চায় clean, fair and precise মানুষদেরকে নেতা হিসেবে যারা কথা কম বলে to the point কাজ করবে এবং প্রায়োরিটি বেসিসে অ্যাকশন নেবে। একইভাবে ওরা পলিসি মেকিংয়েও এসব মারফতি প্যাঁচঘোঁচ চায় না।
২০০০ এর পর বিগত দুই যুগ কি ঘটেছে, তা আপনার আমার চেয়ে ভাল বলতে পারবে তারা! কারণ, আমরা যেখানে সিলেবাসের ভেতরে চিন্তা করি, তারা সেখানে সিলেবাসের বাইরে বসবাস করে। প্রয়োজনীয় টুলস এন্ড মিনস এর অভাবে তারা দুনিয়াকে দেখাতে পারছেনা, তাদের চিন্তাভাবনা কতটা দূরত্ত অতিক্রম করেছে, এই সীমাবদ্ধতা এদের পীড়া দেয়। তারা জানে কীভাবে কোনটা অর্জন করতে হয়! কিন্ত তারা আপন মাতৃভূমি থেকে এতোটা নৃশংসতা এবং পৈশাচিক তান্ডব আশা করেনি! বিগত দিনগুলোতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সারা দুনিয়ার চোখের সামনে, দিনের আলোতে যে মেধাগুলো বৃষ্টির মত রাজপথে ঝরে পড়ল, এই অমূল্য সম্পদ ধংসের কী কাফফারা দেবে "সৈরাচার"?
সামনের সময়টা খুব কঠিন আমাদের পূর্ববর্তী জেনারেশনের নেতাদের জন্যে। বিশেষ করে Boomers কিংবা Gen X-দের জন্যে।
২০০০-পূর্ববর্তী জেনারেশনগুলোর মতন বাজেভাবে এই জেনারেশনকে ট্রিট করলে গদিও থাকবে না, চুদিও থাকবে না!
সংগৃহীত
13/06/2022
''ইসলাম-বিদ্বেষীদের উদ্দেশ্যে বলছি''
ইসলাম-বিদ্বেষীদের প্রকৃতি:
আপেক্ষিক নৈতিকতার মর্মর ভিত্তিপ্রস্তরে স্থাপিত পূজিবাদী সমাজের তথাকথিত প্রগতিশীলরা কেবলই সংস্কারের বুলি আওড়ায় আর ইসলামের বিরুদ্ধ বিদ্বেষ ছড়ায়।
আল্লাহ্ তা'আলা এই ধরনের লোকদের মনস্তত্ত্ব ও প্রকৃত অবস্থা বর্ণনা করে, সতর্কবাণী উল্লেখ করে বলেছেন :
"আর যখন তাদেরকে বলা হয় দুনিয়ার বুকে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করোনা, তখন তারা বলে, আমরা তো মীমাংসার পথ অবলম্বন করছি। মনে রেখো, (বস্তুতঃ) তারাই হাঙ্গামা সৃষ্টকারী, কিন্তু তারা তা উপলব্ধি করেনা।"
[সূরা বাকারাহ্: ১১-১২]
তোমাদের বিদ্বেষ প্রসূততা সম্পর্কে :
আল্লাহ্ তা’আলা কুরআনুল কারীমে বলেছেন:
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা মুমিন ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করো না, তারা তোমাদের ক্ষতি-সাধনে কোন ত্রুটি করে না; তোমরা কষ্টে থাক, তাতই তাদের আনন্দ। শত্রুতাপ্রসুত বিদ্বেষ তাদের মুখেই ফুটে বেরোয়। আর যা কিছু তাদের মনে লুকিয়ে রয়েছে তা আরো অনেকগুণ বেশী জঘন্য। তোমাদের জন্য নিদর্শন বিশদভাবে বর্ণনা করে দেয়া হলো, যদি তোমরা তা অনুধাবন করতে সমর্থ হও।"
[সূরা আলে-ইমরান: ১১৮]
আর তোমরা যা চাও , তাতে সফল হবে না:
আল্লাহ্ তা’আলা কুরআনুল কারীমে বলেছেন:
“তারা মুখের ফুৎকারে আল্লাহ্’র আলো নিভিয়ে দিতে চায়। আল্লাহ্ তার আলোকে পূর্ণরূপে বিকশিত করবেন যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে।“
[সুরা সাফফ্: ৮]
তোমরা পরিকল্পনা কর কিন্তু:
আল্লাহ্ তা’আলা কুরআনুল কারীমে বলেছেন:
"এবং কাফেররা চক্রান্ত করেছে আর আল্লাহ্ ও কৌশল অবলম্বন করেছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ হচ্ছেন সর্বোত্তম কুশলী।"
ইসলাম-বিদ্বেষীদের অর্জন:
"তারা সে সমস্ত লোক যারা হিদায়া'র বিপরীতে ভ্রান্তি ক্রয় করে।বস্তুতঃ তারা তাদের এই ব্যবসায় লাভবান হতে পারেনি এবং তারা হিদায়া' ও লাভ করতে পারেনি।"
[সূরা বাকারাহ্: ১৬]
অতএব, তোমরা কোথায় যাচ্ছ?
"অতএব, তোমরা কোথায় যাচ্ছ? এটা তো কেবল বিশ্ববাসীদের জন্য উপদেশ, তার জন্য, যে তোমাদের মধ্যে সোজা চলতে চায়। তোমরা আল্লাহ্’র ইচ্ছার বাইরে অন্যকিছুই ইচ্ছা করতে পার না।"
[সূরা তাকভীর: ২৬-২৯]
লেখকঃ সায়্যিদ মাহমুদ গজনবী
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Sylhet
৩১৭২