13/08/2014
বিভিন্ন সমাজিক মাধ্যমের
সহযোগিতায় ইসরাইলি আগ্রাসন
ও
অত্যাচারের চিত্র বিশ্বময়
ছড়িয়ে দিতে হবে
বিশ্ব মুসলিমের অনৈক্য
ইসরাইলকে সন্ত্রাস
চালাতে সাহস
যোগাচ্ছে
- হেফাজত আমীর আল্লামা শাহ
আহমদ
শফী
===============
===============
======================
হাটহাজারী, ১৩ আগস্টঃ
গাজায় ইসরাইলের অন্যায়
আগ্রাসন
এবং বর্বর হামলায় প্রায় দুই
হাজার
মুসলমান শহীদ এবং হাজার
হাজার
আহত হওয়ার ঘটনার তীব্র
নিন্দা ও
প্রতিবাদ
জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন
হেফাজতে ইসলামের আমীর দারুল
উলূম
হাটহাজারী মাদ্রাসার
মহাপরিচালক পীরে কামেল
আল্লামা শাহ আহমদ শফী।
তিনি বলেন, গাজায়
ইসরাইলী হামলা ইতিহাসের সকল
বর্বরতাকে হার মানিয়েছে।
পশ্চিমা বিশ্বের প্রকাশ্য
মদদে জায়নবাদী ইসরাইল
গাজা উপত্যকায় বছরের পর বছর
ধরে ফিলিস্তিনী জনগণকে অবরুদ্ধ
করে রেখেছে। অবরুদ্ধ এলাকায়
উন্নয়নমূলক সামগ্রী তো দূরের
কথা,
কোন ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছাতেও
বাধা দিচ্ছে তারা। গাজায়
অব্যাহত
বোমাবর্ষণ করে দুই হাজার
মুসলমানকে শহীদ
করেছে এবং হাজার
হাজার মুসলমানকে আহত করেছে।
হতাহতদের মধ্যে বেশীর ভাগই
শিশু ও
নারী। এর মাধ্যমে ইসরাইল
প্রকারান্তরে ফিলিস্তিনী জাতি নির্মূল
ও বংশবৃদ্ধি বন্ধের ষড়যন্ত্রই
চালিয়ে যাচ্ছে। পবিত্র কুরআন-
হাদীসের
বর্ণনা মতে ইহুদীরা যে অভিশপ্ত
সন্ত্রাসী জাতি, তার প্রমাণ
বিশ্ববাসী চাক্ষুস অবলোকন
করছে।
বর্বর ইহুদীরা আন্তর্জাতিক
সকল আইন-
কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেও এ
ব্যাপারে জাতিসংঘসহ বিশ্বের
শক্তিশালী দেশসমূহ সম্পূর্ণ
নীরব
থেকে কার্যতঃ ইসরাইলকেই
সমর্থন
যোগিয়ে চলছে।
ইসরাইলী আগ্রাসনের
বিরুদ্ধে ওআইসি ও আরব বিশ্বের
নীরব
ভূমিকাও চরম হতাশাজনক।
হেফাজত আমীর আল্লামা শাহ
আহমদ
শফী বলেন, গাজায় প্রথম দফার
তিন
দিনের যুদ্ধবিরতির পর ইসরাইল
যখন ফের
গাজায় হামলা শুরু করেছে, ঠিক
তখনই
মানবাধিকার রার দোহাই
দিয়ে বিশ্ববাসীর
নজরকে ফিলিস্তিন
থেকে অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার
জন্য যুক্তরাষ্ট্র
সরাসরি ইরাকে আইএস’র
অবস্থানে বিমান হামলা শুরু
করেছে।
মানবাধিকার রার দোহাই
দিয়ে মানবাধিকার হরণ যেন
যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রকার
অনিবার্য
অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
আইএস’র
অবস্থানে বিমান হামলার মধ্য
দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রকৃতপে নিরীহ
ইরাকী মুসলিমদের হত্যার
মাধ্যমে নতুন
করে মানবাধিকার লঙ্ঘন শুরু
করেছে।
ইতিপূর্বে যুক্তরাষ্ট্র
মিথ্যা অজুহাতে তার মিত্রদের
নিয়ে ইরাকে আক্রমণ
চালিয়ে প্রাচীন মানব সভ্যতার
এই
সমৃদ্ধ
দেশটিকে ধ্বংস্তুপে পরিণত
করে ইরাকে স্মরণকালের চরম
মানবিক
বিপর্যয় ঘটিয়েছে। কথিত মার্কিন
মানবাধিকার চিন্তা-
চেতনাকে বরাবরের মত তখনও
কোনভাবেই এতটুকুও স্পর্শ
করতে পারেনি। ফিলিস্তিনসহ
প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইসরাইলের
বর্বর আক্রমণ অব্যাহত
রাখতে নানাভাবে সহায়তা দেয়ার
মধ্য দিয়ে মানবাধিকারের চরম
লঙ্ঘন
ঘটানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, মার্কিন-ইসরাইলি
এবং পাশ্চাত্য শক্তিবর্গের কেউই
সত্যিকার অর্থে মানবাধিকারের
পক্ষ শক্তি নয়। এটা তাদের
লক্ষ্য-
উদ্দেশ্যও ছিল না। মানবাধিকার
নামক অস্ত্রটি তারা বরাবর
প্রয়োগ
করে আসছে নিজেদের স্বার্থ
হাসিলের লক্ষে। মুসলমানদের
মানবাধিকারের কোন ইস্যুতেই
তারা কখনোই এগিয়ে আসে না।
মুসলমানদের মানবাধিকার যখন
হরণ
করা হয়, তখন তাদের
ভূমিকা কখনও
প্রতক্ষে, কখনও
পরোক্ষে অতি অবশ্যই
হরণকারীদের পে থাকে।
সর্বোপরি মধ্যপ্রাচ্যে ইহুদবাদী রাষ্ট্র
ইসরাইল অব্যাহতভাবে এ
অঞ্চলের
মুসলমানদের ওপর
হামলা চালিয়ে মানবাধিকার হরণ
করে চলেছে এবং প্রতিবারই
যুক্তরাষ্ট্রের
নেতৃত্বে পশ্চিমা শক্তিবর্গ
নির্লজ্জভাবে ইসরাইলের
পাবলম্বন
করেছে। ইসরাইলকে আর্থিক ও
সামরিক
সহায়তা দিয়ে মুসলমানদের
ওপর হামলা ও মানবাধিকার হরণ
নিশ্চিত করেছে।
ফিলিস্তিনি মুসলমানসহ
আশপাশের
মুসলিম দেশগুলোর ওপর
ইসরাইলের
সামরিক হামলা একটি অনিবার্য
বিষয়ে পরিণত হয়েছে পাশ্চাত্যের
সমর্থনে ও সহায়তায়। এবার
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইল
যে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে,
তাতেও যুক্তরাষ্ট্র ও তার
পাশ্চাত্য
মিত্রদের এই একই অবস্থান ল্য
করা যাচ্ছে। ইসরাইলি বর্বর
হামলা গাজাকে ভূতুড়ে জনপদে পরিণত
করেছে। চারদিকে শুধু ধ্বংসস্তুপ।
মাসব্যাপী বিমান আক্রমণে দুই
হাজারের অধিক
ফিলিস্তিনি নিহত
ও দশ হাজারের বেশি আহত
হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে শুধু শিশুই
রয়েছে পাঁচ
শতাধিক। আহত হয়েছে ২ হাজার
৮শ’
শিশু। গৃহহীন উদ্বাস্তু হয়েছেন
গাজার
১৭ লাখ অধিবাসীর দুই-তৃতীয়াংশ
মানুষ। তাদের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ
ধ্বংস
হয়েছে। দেড় শতাধিক মসজিদ,
শতাধিক বিদ্যালয়, জাতিসংঘের
আশ্রয় শিবির,
এমনকি হাসপাতাল
পর্যন্তও ধ্বংস
হয়েছে ইসরাইলি হামলায়। গাজায়
এই
ধ্বংসকান্ড যে মানবিক বিপর্যয়
ঘটিয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্র ও তার
ইউরোপীয় মিত্রদের কথিত
মানবিকতাকে ন্যূনতমও স্পর্শ
করতে পারেনি।
এমতাবস্থায় মানবতা ও
সভ্যতা দরদী মানুষের বসে থাকার
সুযোগ নেই। গাজায় অসহায়
মুসলমানদের পে প্রতিটি মুসলিম
দেশ
এবং বিশ্বের সকল
মুসলমানকে ঐক্যবদ্ধভাবে ইসরাইল
ও
তার সহযোগী দেশসমূহের
বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ ও
ব্যবসায়িক
সম্পর্ক বিচ্ছিন্নসহ সম্ভাব্য
সকল
পন্থা কাজে লাগাতে হবে।
হেফাজত আমীর আল্লামা শাহ
আহমদ
শফী বলেন, ইসরাইলী আগ্রাসন
স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জন্য
কোন
যুদ্ধের প্রয়োজন নেই। মুসলিম
দেশসমূহ
ইসরাইল ও তাদের
সহযোগী দেশসমূহের
সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বন্ধসহ
নিজ
নিজ আকাশ ও পানি সীমায়
বিমান ও
জাহাজ চলাচলের
বিরুদ্ধে অবরোধের
হুমকি দিয়ে ইসরাইলের রাশ
অনেকটা টেনে ধরা যায়। কারণ,
বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় এক
ঘরে হয়ে কোন দেশেরই
টিকে থাকা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ইসরাইলের
চতুর্দিকেই
রয়েছে অসংখ্য মুসলিম দেশ।
বিশেষ
করে গাজার মুসলিম
ভাইদেরকে রায়
সকল ভেদাভেদ ভুলে ফিলিস্তিনের
পার্শ্ববর্তী দেশ লেবানন,
সিরিয়া,
মিশর, জর্ডান, সৌদিআরব,
লিবিয়া,
আলজেরিয়া, তিউনিশিয়া ও
তুরস্কসহ
আরব দেশগুলোকে ইসরাইলের
বিরুদ্ধে সামরিক ও অর্থনৈতিক
পদপে নিতে হবে।
সন্ত্রাসী ইসরাইলকে না রুখলে সকলকেই
এর মাসুল
দিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ
করেন।
তিনি বলেন, বিশ্ব মুসলিমের
অনৈক্যও
ইসরাইলকে সন্ত্রাস
চালাতে সাহস
জুগিয়ে চলেছে।
বিবৃতিতে আল্লামা শাহ আহমদ
শফী আরো বলেন, ঈদের দিন
এমনকি যুদ্ধবিরতির মাঝেও
ফিলিস্তিনের গাজায়
ইসরাইলী হামলা জঘন্যতম
বর্বরতা।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের
প্রশ্রয় পেয়েই ইসরাইলের বর্বর
সেনাবাহিনী নিরস্ত্র
ফিলিস্তিনি মহিলা ও শিশুদের
হত্যা করছে। তিনি বলেন,
ইসরাইলকে প্রশ্রয় দেয়ার
কারণে অদূর
ভবিষ্যতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও
বৃটেনকেও জনতার
আদালতে দাঁড়াতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘ
যেন মুসলিম নিধনসংঘে পরিণত
হয়েছে। স্বার্থ হাসিলের জন্য
ইরাক,
আফগানিস্তান ও সুদানের কথিত
মানবাধিকার
পরিস্থিতি নিয়ে সরব
ও
উৎসাহি ভূমিকা পালনকারী যুক্তরাষ্ট্র,
ইউরোপীয় দেশসমূহ ও জাতিসংঘ
যেন
ফিলিস্তিনীদের মানবাধিকারের
বিষয়ে নির্লজ্জভাবে আগ্রাসী ইসরাইলকে সমর্থন
যোগিয়ে চলেছে।
সুতরাং মুসলমানদের তাদের
ব্যাপারে আশাবাদি হয়ে বসে থাকার
কোন সুযোগ নেই।
ইসরাইলী আগ্রাসনের
বিরুদ্ধে শক্তিশালী মুসলিম
দেশসমূহের শাসকদের নীরব
ভূমিকায়
হতাশা প্রকাশ করে হেফাজত
আমীর
আল্লামা শাহ আহমদ
শফী বলেন,
নিজেদের ক্ষমতা রক্ষার জন্য
শাসকশ্রেণী এখন জন প্রত্যাশা,
নীতি-
নৈতিকতা ও ইনসাফের
কথা ভুলে গিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের
মনোরঞ্জনেই বেশী ব্যস্ত
হয়ে পড়েছেন। যে কারণে দিন দিন
তারা আরো বেশী জনবিচ্ছিন্ন
হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন,
উম্মাহর
অধিকার রক্ষা ও জুলুম-অত্যাচার
বন্ধে চাপ সৃষ্টির ভূমিকা এখন
সাধারণ
মুসলমানদেরকেই নিতে হবে।
তিনি বলেন, বিশ্বের সকল
মুসলমান
যদি একযোগে ইসরাইল ও তাদের
সহযোগী দেশ ও
কোম্পানী সমূহের পণ্য
বর্জন শুরু করে এবং প্রিন্ট,
ইলেক্ট্রনিক ও
ইন্টারনেটসহ সকল সমাজিক
গণমাধ্যমে যদি ইসরাইলি আগ্রাসন
ও
অত্যাচারের চিত্র বিশ্বময়
ছড়িয়ে দেওয়া যায়,
তবে আশা করা যায় ইসরাইল ও
তাদের
সহযোগীরা এই চাপ
সহজে সইতে পারবে না।
পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ
সর্মসূচীর মাধ্যমে নিজ নিজ
সরকারের
প্রতিও ইসরাইলের
বিরুদ্ধে সম্ভবপর সকল
পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যও চাপ
সৃষ্টি করতে হবে।
তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের ন্যায্য
অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের
আলেম সমাজ ও জনগণের পূর্ণ
সমর্থন
রয়েছে। #