"মুক্তিযোদ্ধের মর্মকথা "
বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু সুবল চন্দ্র পাল
মুক্তিযুদ্ধ কোন যুদ্ধ নহে। ইহা একটি আবেগ। মুক্তিযোদ্ধা কোন যোদ্ধা নহে ওরা একটি force. মুক্তিযোদ্ধাদের কোন ভিত্তি না থাকলে যেমন মুক্তিযোদ্ধ হবে না। একইভাবে মুক্তিযোদ্ধের আবেগ না থাকলে মুক্তিযোদ্ধা তৈরি হবে না।মুক্তিযোদ্ধা কোন বেতনভোগি কর্মচারি নহে। ওরা কোন কিছু পাওয়া নেওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন নাই। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। Force এর কোন অবস্থান নেই। শুধু চলার একটি স্পৃহা।এই স্পৃহাই স্বাধীনতা এনে দেয়। যাহা মহা মূল্যবান। অনেকে আছেন মহামূল্যবানকে মূল্যবান বলেই মনে করেন না। যাহা হারিয়ে গেলে তাহার মূল্য অনুভব করা যায়।তাই যারা এই মূল্যবান স্বাধীনতাকে আনার জন্য জীবনবাজী রেখে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করল তাদেরকে নগণ্য বলে উড়িয়ে দেওয়া একবারেই বোকামী। কেহ কেহ উদ্দেশ্য মূলক ভাবে স্বাধীনতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের উড়িয়ে দেন তারা মূলত স্বাধীনতা বিরোধী। এই স্বাধীনতা অশ্বিকার কারীরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ঘাপটি মেরে বসে রয়েছে। তারা চায় পরাধীন হয়ে বেঁচে থাকতে। পরাধীন হয়ে বেঁচে থাকার সুবিধা হলো বদ্ধ ঘরে একাকী বসে বসে খাওয়া যায়। তাদের উড়িবার কোন সাধ নেই। হাসাহাসি করবার কোন ক্ষেদ নেই। আনন্দ তাদের জীবন থেকে উবে গেছে। তোষামোদ করে ভাগ বসানো যায়।ওরা খায় দায়, নাদুস নুদুস হয়।কিন্তু বেঁচে থাকে খুব কম দিন। কিন্তু চিরকাল তাদের বংশধর রেখে যায়। স্বাধীনতার বিরোধিতা করা তাদের অভ্যাস। কাহারও কোন মঙ্গল দেখা তাদের অভিধানে নেই। যেখানে কবি বলেছেন স্বাধীনতা বিহনে কে বাঁচিতে চায়রে কে বাঁচিতে চায়। এই স্বাধীনতা বিরোধীরাই স্বাধীনতা বিহনে বাঁচিতে চায়। তাহারা বুঝতেই পারে না যে তারা মারা গেছে। কিন্তু কিছু দিন পর বুঝা যাবে ওরা সত্যিকার মৃত্যু হলে পরে ওরা প্রমাণ করে যে ওরা মরে নাই। আবেগ কে কাজে লাগিয়ে পাক বাহিনীর বর্বরত,শোষণ, শাসনকে কেন্দ্র করে যে বৈষম্য তৈরি হয়েছিল তাহাই আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের ভিত্তি। ভাষার বৈষম্যকে কেন্দ্র করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করা পাকবাহিনীর যে নোংরা ষড়যন্ত্র যিনি বাঙালির দোয়ারে দোয়ারে পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। শেখ মুজিবুর রহমানের এই প্রজ্ঞাই পাকবাহিনীর এক অলংঙ্গনীয় অপারগতা। পাকবাহিনীর যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেন শেখ মুজিবুর রহমানের অসীম ধৈর্য, সাহসীকতা ও দূরদর্শিতা কারণে সব কিছু বুমেরাং হয়ে যেত। স্বাধীনতা একটি উচ্চ বিলাসী আকাঙ্খা। স্বাধীনতার জন্য মানুষ যে আর পিছান না।এজন্যই প্রাণ বলিদান করা তাহা একটি মহা ত্যাগ।এই ত্যাগই মহা বলিদান। দান খয়রাত খুবই সহজ কাজ কিন্তু প্রাণ বলিদান অনেক অনেক কঠিন কাজ। এই দান তারাই করে যারা সাহসী, বীর বাহু তারাই এই ত্যাগটি হাসি মুখে এই মেনে নেয়। মানুষের জীবনের মূল্যবান এই জীবনকে বাজী ধরে যে নির্মূল্যবান মুক্তিযদ্ধে অংশ গ্রহণ করে তখনই তো বুঝা যায় ইহা কত মূল্যবান। দূর্মূল্য কে কোন মূল্য দিয়ে কেনা যায় না। এই অমূল্যবান সম্পদকে প্রাপ্তির জন্য মানুষ জীবন বাজী রাখে। তখন এই ব্যক্তি পরিমাপের অতীত হয়ে যায়। এই ব্যক্তির মহামূল্যবান ত্যাগকে যখন কোন নাগরিক স্বকৃীতি দিতে চায় না তাকেই তো জাতীর কলংক হিসাবে ধরে নিতে হয়। ত্যাগহীন মানুষ তাড়াতাড়ি ধনি হয়ে যেতে পারে কারণ তার জীবনে তো সবই সনচয় অর্জন থেকে তো কোন বিয়োগ নেই। বিয়োগহীন সনচয় কারি দেশের যেকোনো ক্ষতিকে মেনে নেবে তার সনচয় স্বার্থে।
................(অসমাপ্ত)
আমাদের মুক্তিযুদ্ধ
Boiragi bazar high school situated at at jalalpur UP in Sylhet District.
11/05/2022
30/04/2022
একজন স্বাধীনতা যোদ্ধার লঞ্চনার সীমা পরিসীমা
বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু সুবল চন্দ্র পাল
১৯৭৫ ইং আগস্ট মাস ১৫ তাং জাতীয় শোক দিবস। জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে স্ব পরিবারে হত্যা করা হয়। এরপর থেকে বঙ্গবন্ধু নাম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। কোন ক্ষেত্রে জাতীয় দিবসে স্বাধীনতা দিবসে, বিজয় দিবসে, শহিদ দিবসে বা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে, বঙ্গবন্ধু কোন অস্তিত্ব ছিল না। আমাদের জাতীয় জীবনে বঙ্গবন্ধু বলে কোন লোক ছিলেন, জাতীর পিতা বলে কোন লোক ছিলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সর্বধীনায়ক বলে কোন লোক ছিলেন, স্বাধীনতার পর আমাদের কোন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কি না তার কোন পরিচয় ছিল না। শুধু তাই নয়, ৯ মাস স্বাধীনতা পূর্ব মহড়া-১৯৬৬ ইং এর ৬ দফা, ১৯৬৯ ইং এর গণ অভুত্থান, ১৯৭০ ইং সনের নির্বাচন, নির্বাচন উত্তর ফলাফল, ৭ ই মার্চের ভাসন, জাতীকে দিক নির্দেশনা ও ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা কোন কিছুর নাম নিশনা আমাদের জাতীয় জীবনে কোন উল্লেখ ছিল না। যার নামে জয় বাংলা হল যার নামে ৯ মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধ হল, যার জন্য হল, যার নির্দেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণ বিসর্জন করল, যার নির্দেশে লক্ষ লক্ষ মুক্তি পাগল মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করল। যে স্বাধীনতার জন্য ৩০ লক্ষ মানুষ প্রাণ আত্মাহুতি করল, যে স্বাধীনতার জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হল,যে স্বাধীনতার জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ জয় বাংলা বলতে বলতে প্রাণ বিসর্জন দিল,যার নামে এই বিশাল স্বাধীনতা যুদ্ধের কর্ম যজ্ঞ চলল,প্রাণ বিসর্জন থেকে শুরু করে মা বোন সভ্রম পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হল।এই সকল মহাকাব্যের সকল ঘটনা অনুল্লেখ থেকে গেল। এমনভাবে বঙ্গবন্ধু হত্যা কারিরা স্বাধীনতার উত্তর কাহিনী ও স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন ঘটনা এবং স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ গড়ার বিবরণ সবকিছুই যেন ছিল ক্ষমতা দখলকারী পাকিস্তানের প্রেতাত্মাদের নিকট। উল্লেখিত ঘটনা গুলোর কোন গুরুত্বই ছিল না। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর পর তার অনুরাগীদেরও হত্যা করার আপ্রাণ চেষ্টা করে ছিল। বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করার লক্ষে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। কুলাউড়ার বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারকে নির্মমভাবে হত্যা করে দখলদার বাহিনীরা। আমি একজন নিবেদিত প্রান শিক্ষক ছিলাম। আমার কর্মক্ষেত্র জালালপুরের জালালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ছিলাম। আমার শুভাকাঙ্ক্ষী অনেকেই বিদ্যালয় ত্যাগ করে অন্যত্র সরে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিতে লাগলেন। কিন্তু আমি বিদ্যালয় ত্যাগ না করে সতর্ক অবস্থানে থাকলাম। সত্যি সত্যিই ১৯৭৫ ইং সনের সেপ্টেম্বর মাসের ২য় সপ্তাহে রাত্র আনুমানিক ১২ ঘটিকার দিকে আর্মি ইনটেলিজেন্স নামধারী ১০/১২ জন লোক আমাকে বন্দি ও হত্যা করার জন্য বাড়ি ঘেরাও করে হাক ডাক শুরু করে। আমার নাম ধরে আমার বাড়িতে এসে উচ্চ বাচ্য শুরু করে। আমি বাড়ির মালিক হিসেবে যে ঘরে থাকার কথা সে ঘরে না থেকে বাড়ির উত্তরের ঘরে রাত যাপন করতাম। সেকারণে আক্রমণ কারিদের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে সরে পড়ি। আক্রমণ কারীরা আমাকে না পেয়ে দরজা ভেঙ্গে আমার প্রধান ঘরে আমার বৃদ্ধ মাতাকে আক্রমণ করে। আমার মা আমাকে রক্ষা করার জন্য মিথ্যা কথা বলেন। তিনি অত্যাচারিদের বলেন যে আমার ছেলে তার বোনের বাড়ী চলে গেছে। ইতিমধ্যে ওরা ঘর তছনছ করতে থাকে। এবং আমি যে বিছানায় শুয়ে ছিলাম সেই বিছানা গরম অবস্থায় এবং সেখানে একটি রেডিও on অবস্থায় পায়। তখন তারা উত্তেজিত হয়ে আমার মায়ের দুই বাহুতে আঘাত করে। এতে আমার মার বাহু দুটি ফুলে উঠে এবং একসময় ঘা হয়ে যায়। আমার এক মাদ্রী দুই ভাই মুক্তিযোদ্ধা। আমার আপন বড়ভাই মির্জাপুর ভারতেশ্বরী হোমস এর অধ্যাপক হিসাবে মুক্তিযোদ্ধে যোগদান করেন। আজ স্বাধীনতার ৫০ বৎসর পরে হলেও আমাদের মায়ের অত্যাচারের বিচার চাই। আমরা দুই ভাই এখনও জীবিত আছি।আপনাদের সকলের আশীর্বাদে আরো ৫০ টি বৎসর জীবিত থাকলে স্বাধীনতার শতবর্ষ পূর্তি দেখে জীবন স্বার্থক করে তুলতে চাই।
'জয় বাংলা।'
মুক্তিযুদ্ধার ট্রেনিংকালীন স্মৃতিকতা
বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু সুবল চন্দ্র পাল
২৬শে মার্চ ১৯৭১ইং সনে বঙ্গবন্ধু কতৃক স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই দলে দলে যুবকরা দেশ ত্যাগ করে ভারত চলে যেতে লাগলো। ইতিমধ্যে পাক হানাদার বাহিনী সংখ্যালঘু পরিবারের কথা বলে দেশে গণহত্যা আরম্ভ করে, নারী নির্যাতন, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া আরম্ভ করল ব্যপক হারে। নিজের ঘর নিজেকে দিয়ে পুড়িয়ে, নিজের কবর নিজেকে দিয়ে খুড়িয়ে গুলি করে হত্যা করে গর্তে ফেলে দিত, গরীব শ্রমিককে দিয়ে মাটি চাপা দিত। এই ভীতিকর অবস্থা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য স্বপরিবারে নানা বাধা বিপত্তি উৎরিয়ে ভারতে চলে যেতেন। ফলে প্রায় ১ কোটি মানুষ ভারতে চলে যান। ইন্দিরা সরকার আপ্রাণ চেষ্টা করে এত সংখ্যক লোকের থাকার ও খাবার ব্যবস্থা করেন। সেইজন্য তখনকার ভারত সরকারের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা। যুদ্ধ করার জন্য যে সকল যুবকবৃন্দ একত্রিত হতে লাগল ভারতের বিভিন্ন ক্যাম্পে তাহাদের নামের তালিকা করা হল এবং তখনই মেলেটারী বড় গাড়িতে করে ট্রেনিং সেন্টারে নিয়ে যেত। দেখা গেল চতুর্দিকে পাহাড়ের মধ্যে আগে থেকেই সেন্টার তৈরি করা ছিল। সেখানে গাড়ি থেকে নেমেই কাজ আরম্ভ হয়ে গেল। তাবুর রশি টানানো, বাথরুমের জায়গা প্রস্তুত করা সহ যাবতীয় কাজ প্রয়োজন মত করে নেওয়া । নেমেই একমগ গরম চা ও ২ টি লুচি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে লাইনে দাঁড়াতে এবং সেকশন ও সেশন কমান্ডার নিরোপিত হল।এইভাবে ৩ সেকশনে এক প্লাটুন এবং ১০ প্লাটুনে এক comapany তৈরি করা হল। এইভাবে সেকশন কমান্ডার, প্লাটুন কমান্ডার ও company commander ঠিক করা হল। নির্দেশনা দেওয়া হল ভোর ৫ ঘটিকার সময় বাঁশি বাজালে সকলে ঘুম থেকে উঠে গড়ে প্রাতঃ কাজ ১০ মিঃ মধ্যে শেষ করবেন এবং পরবর্তী ২মিঃএর মধ্যে
সকলেই মাঠে গিয়ে স্ব স্ব কমান্ডারের পিছনে এসে দাঁড়াবেন সারিবদ্ধ ভাবে এবং সাথে সাথে ট্রেনিং করানোর জন্য ওস্তাদরা এসে উপস্থিত হবেন।
Left-Right করানো আরম্ভ হল সাথে সাথে অন্যান্য কসরত করালেন। প্রায় ২.ঘন্টা physical taining শেষে লুচি সহ মগ নিয়ে এক মগ চা খাওয়া হল। একটু বিশ্রামের পরই হুইশেল বাজানো হল। অন্য একটি ছোট মাঠে নিয়ে যাওয়া হল theoretical training এর জন্য। সেখানে বেশীর ভাগ ওস্তাদ ছিলেন কেরেলার লোক। তাহারা ইংরেজিতে বক্তৃতা দিতেন। এবং তাদের বক্তব্যকে বাংলায় তরজনা করে বলার জন্য বলতেন। কেরালার লোকেরা খুব সহজ করে ইংরেজি বলতে পারতেন। তাই ওস্তাদের ইংরেজি থেকে বাংলা করে বলা কোন কঠিন কাজ মনে হত না। তাদের বক্তৃতার কিছু কিছু শব্দ ছিল ও ইঞ্জিনিয়ারীং টার্ম। আমি একজন বিজ্ঞানের ছাত্র হিসাবে তাহাদের প্রয়োগকৃত শব্দগুলো ভালোভাবেই তরজমা ও বিশ্লেষণ করতে পারতাম। আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই ছিলেন কম শিক্ষিত। তাহারা অনেকেই আরোপিত কাজটি করতে পারতেন কিন্তু বলতে পারতেন না। প্রয়োজন কোন আইন মানে না। তাই যেকোনো ইংরেজি শব্দকে তাদের মতো করে বাংলায় উচ্চারণ করে বলতেন। অর্থাৎ বুঝে নিলেই হল। Demolation section এর কাজ ছিল বোমা তৈরি করা। যেকোনো অস্ত্র খুলা ও জোড়া দেওয়া। মুক্তিযোদ্ধারা খুলা ও জোড়া দেওয়া ভাল ভাবেই পারতেন। অনেক সময় রাইফেল স্টেন গান পরিস্কার করতে হত। ইহা প্রায় রুটিন কাজের মত। অর্থাৎ রায়ফেল স্টেন গান ইত্যাদি নল যুক্ত যুদ্ধাস্ত্রকে ফুলত্রো করতে হতো অন্যথায় গুলি করার সময় হঠাৎ গুলি নলের মধ্যে আটকে যাবে। ফলে তখনকার মত অস্ত্রটি অকেজো হয়ে যাবে। তাই অস্ত্র পরিষ্কার করা নিত্যদিনের কাজ ছিল। এই কাজগুলো করতে গিয়ে অনেক সময় মুক্তিযোদ্ধারা বিপদের সম্মুখীন হতেন। যেমন হ্যান্ড গ্রানেড থেকে ডেডনেটর খুলে গ্রেনেড পিন খুলতে হয়। যদি এর বিপরীত হয়ে যায় তাহা হলে গ্রেনেড ব্রাস্ট হয়ে যাবে এবং বিপদ হয়ে যাবে। অনেক সময় এ বিপদগুলো আমাদের মধ্যে হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের তো আর পরীক্ষা নিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়নি ফলে যেমন মেধাবী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তেমনিভাবে বোকা মুক্তিযোদ্ধাও ছিলেন। অনেক লেখাপড়া জানা মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধে যেতে ভয় করত কিন্তু যাদেরকে আমরা বলতাম বোকা মুক্তিযোদ্ধা তাহারা হাসিমুখে যেকোনো অপারেশনে যেতে তৈরি থাকত। যেমন সাঁতার জানো বাবু নারে মাঝি না। এবার তবে কাবু। আমার জীবন ছিল ১২ আনা মাটি।তোমার জীবন দেখছি এখন ১৬ (ষোল) আনাই মাটি।আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক কটিন কর্ম এই বোকা বোকা শিক্ষা হিন মুক্তিযোদ্ধারা করেছে।তারা হামাগুড়ি দিয়ে জান বাজি রেখে শত্রুর বাংকারে গ্রেনেড ফেলেছে। বাংকারে গ্রেনেড ফেলতে তো আর বিদ্যা লাগে না তাই যুদ্ধ কর্মই প্রধান। তাই তাদেরকে সেলিউট। মাত্র ২৮ দিনের Training এর মাধ্যমে রাইফেল ট্রেনিং S,L,R, training,stain gun, hand granad, Antitank mine, Anti personal mine ইত্যাদি অস্ত্রগুলোর চালনা শিক্ষা দিয়েছেন তার সাথে slb+cortex+detnator+commenting wire + Fuse এর মাধ্যমে পুলভাঙ্গা কাজে ব্যবহার অথবা যেকোনো স্থাপনা ধংস করার ট্রেনিং ও মুক্তিযোদ্ধাদের দেওয়া হয়েছিল। ধৈর্য শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য ওস্তাদরা বলত যদি তুমি কোন কারনে শত্রুর হাতে ধরা পড়ে যাও তাহা হলে তোমাকে অনেক অত্যাচার করতে পারে। মনে কর তোমার হাতের আংগুল গুলো হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে থেতলে দিচ্ছে তাহা হলে তুমি মনে মনে ধ্যান কর এবং এই হাত তোমার নহে উহা শত্রুর হাত। পিটালে পিটচ্ছে শত্রুর হাতে।তোমার সহ্য শক্তি বেড়ে যাবে। তুমি বেশ ভেঙ্গে পড়বে না। তাহা না হলেই তুমি বেশি ভেঙ্গে পড়বে। উপরে উল্লেখিত শ্লেব দিয়ে বোমা বানানোর ব্যবস্থা আমরা কালি ঘাট বাগানের power house ও factory ধ্বংসের কাজে ব্যবহার করে ছিলাম। ফলে পাক বাহিনী বাংলাদেশের একটি বড় চা বাগানের আয় থেকে বঞ্চিত হল। জয় বাংলা।
"স্বপ্ন যখন সোনার বাংলা "
বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু সুবল চন্দ্র পাল
আজ বাংলাদেশ স্বাধীন। স্বাধীনতার অনেকদিন পরও আমরা স্বাধীনতার স্বাদ পুরো পাই নাই।স্বাধীন বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করতে হলে সোনার মানুষ চাই।এই সোনার মানুষের আমাদের খুব অভাব। যে নেতা সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন তাঁর জীবন বলিদান করে চলে গেলেন কিন্তু সোনার বাংলার স্বপ্ন পূরণ হল না। যে নেতা না থাকলে আমাদের স্বাধীনতা কখনই পেতাম না,তিনি ছিলেন বাঙালির প্রাণ প্রিয় নেতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালির জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। তার জীবদ্দশায় তিনি সোনার বাংলা গড়তে পারলেন না।শহিদ হওয়ার অনেকদিন পরও আমরা তলা বিহীন ঝুড়ি হয়ে থাকলাম। প্রায় ২৯বছর স্বাধীন বাংলাদেশ শাসন করলো পাকিস্তানের পেতাত্মারা। যে নেতা তার স্বপ্ন অবিচল থেকে জেল জুলুম সহ্য করে দৃঢ় চিত্তে জনগণ কে একত্রিত করে আন্দোলন করতেই থাকেন করতেই থাকেন তিনি কখনও ব্যর্থ হতে পারেন না।তাই তারই নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। তার আজীবন লালিত স্বপ্ন বাংলাদেশ স্বাধীন বাংলায় রূপ লাভ করল এবং স্বাধীন হল।তাই আমরা দৃঢ় চিত্তে বলতে পারি এই বাংলায় শেখ মুজিবের মত নেতার জন্ম না হলে স্বাধীনতা পেতাম না।২০২০ইং স্বাধীনতার পঞ্চাশ বৎসর পূর্তি ও শেখ মুজিবের শতবর্ষ উদযাপনের বছরে আমরা সোনার বাংলার সুখ দেখতে শুরু করেছি।আজ পর্যন্ত যে সকল মুক্তিযোদ্ধারা জীবত আছেন তারা যখন দেখেন বাংলাদেশ সোনার বাংলায় পরিণত হতে আর বেশি দেরি নয়।একটু ধর্য্য ধরতে হবে এবং সাধ্যমত কাজে হাত লাগতে হবে। আজ আমরা যখন কৃষক তার জমিতে পাকা ধান চুরে নিয়ে যাবে এই চিন্তায় রাত জেগে পাহারা দিতে হয় না। সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করে রাতে আরামে ঘুমিয়ে সকালে আবার কাজে লেগে পড়ে।তাকে আর দমায় কে। সুপারি গাছের সুপারি আর কেহ চুরি করে না। ভিখারিদের আনাগোনায় আর বিরক্তি আসে না।লোকজন সামান্য কথা কাটাকাটিতে মারামারি করে না।পুকুরে মাছ চাষ করলে বিশের শিশি ফেলে দিয়ে মাছ মেরে ফেলে না।মাছ চুরিও করে না।তখন আশায় বুক বেধে সোনার বাংলা দেখার স্বপ্ন বাস্তবে দেখব বলে বুকে আশা জাগে।যখন দেখি কৃষক গাভী পালন করে সে গাভী ৪/৫লিটার দুধ দেয় যা কৃষকের সন্তানরা পান করে হৃষ্টপুষ্ট হয়ে উঠছে। এই ছেলে-মেয়েরা কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে। কিন্তু যখন দেখি অফিস আদালতে টাকা দিলে সবই ঠিক। টাকা না দিলে কিছুই ঠিক নাই। তাই ঐশিকে দেখলে মনে আনন্দ আসে। শাহেদ প্রদীপদের পরিণতি দেখলে আশা জাগে।আমাদেরকে কেহ আর দাবায়ে রাখতে পারবা না। আমরা এই কথায় পূর্ণ আস্থাশীল হয়ে উঠতে পেরেছি। আজ আনন্দে মুক্তিযোদ্ধা সহ দেশবাসীর বুক ভরে উঠে। আমরা আত্মাহারা হয়ে যাই। এই আনন্দ আমরা রাখিব কোথায়। যখন দেখি পদ্মা সেতু নির্মিত হয়ে গেছে। উদ্ভোদন হয়ে গেলে গড় G.D.P. এক দশমিক দুই শতাংশ বেড়ে যাবে। অধিকাংশ কর্মক্ষম মানুষের দেশ বাংলাদেশ। বিশ্বের ঘনবসতিপূর্ণ এই দেশে জনসংখ্যার বোঝাকে জয় করতে পেরেছে। এই উন্নয়নের রূপকল্প যে নেতার দৃঢ়তায় হতে চলেছে। তিনি জননেত্রী বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তিনি জন্ম না হলে পদ্মা সেতু হত না। "যার যা কিছু আছে তা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ো, শেখ হাসিনার সোনার বাংলা গড়ায় এগিয়ে চলো"। আমরা আছি তোমার সাথে।
।জয়বাংলা।
মুক্তিযুদ্ধের কিছু কথা
বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু সুবল চন্দ্র পাল
মুক্তিযুদ্ধের সময় ট্রেনিংকালে একদিন Antipersonnel mine fitting শেখানোর জন্য শিখ ওস্তাদ আমাদেরকে শিক্ষা দিতেছিলেন। প্রায় ৩০জন ট্রেইনার Antipersonnel mine fit করা খুলা ও জুড়া দেওয়া এবং কিভাবে Detonator fit করতে হয় তাহা শিক্ষা দিতেছিলেন। এক পর্যায়ে সকলকে একত্রিত করে খোলা আকাশের নিচে পাহাড়ঘেরা ক্ষেতের জমিতে এই শিক্ষা দিতে ছিলেন। ওস্তাদ দেখাছিলেন কিভাবে একটি জীবন্ত Antipersonnel mine কে নিস্ক্রিয় করা যায়, এবং কিভাবে আবার তাকে Active বা জীবন্ত করা হয়। তাহা নিজে করে আমাদেরকে বুঝিয়ে দিতেছিলেন। Antipersonnel mine মানে একজন মানুষকে হত্যা করা যায় বা তাকে পঙ্গু করা যায় ইহাই Antipersonnel mine. এই mine এর উপর মাত্র সাড়ে সাত কেজি ওজনের চাপ পড়লেই উহা বিস্ফুরিত হয়ে যায়। ফলে যে কর্মকর্তা আর্মি অফিসারকে হত্যা করতে চান তাহার বাসার সিড়ির সম্মুখে একটু ছোট গর্ত করে সামান্য লতাপাতা দিয়ে ঘুরে ফেলে চলে আসতে হয়।এই মাইন ফিট করে অপেক্ষা করতে হবে মাইনে কি শিকার লেগেছে না হলে উহাকে তুলে আনতে হয়। তুলে না আনলে পরের দিন এই জীবন্ত মাইন শত্রুর হাতে চলে যেতে পারে। তাই মাইনটি তুলে এনে নিষ্ক্রিয় করে রাখতে হবে। এইভাবে মাইন খুলনা, জড়না আওর ফিট করনা আমাদেরকে শিক্ষা দেওয়া হল।একজন একজন করে practice এর পালা শুরু হল। এক পর্যায়ে আমার পাশের গ্রাম ডুংশীর মুজিবুর রহমানের পালা আসল।তিনি ঠিকই খুলে Detonator fit করলেন যথাযথ ভাবে জায়গা মত স্থাপন ও করলেন। তখন ওস্তাদ জোরসে বললেন আত্তর ছোপা যাও। Trainee তাড়া হুড়ো করে যেখানে mine fit করেছেন সেখানেই শুয়ে পড়ছেন।অর্থাৎ লম্বা হয়ে শুয়ে পড়েছেন। তা দেখে ওস্তাদ একলাফে tranee এর নিকট গিয়ে পা দিয়ে ধাক্কা মেরে ওকে উল্টে ফেলে দেন এবং বেকুপ বলে গালি দেন।তুমিত mine বার্স্ট হয়ে মারা যেতে পারতে।এই বলে ওকে সাজার আদেশ দিলেন এবং বললেন ওস্তাদ ও দু উস্তাদ ইদর আইয়ে।ট্রেনিং পিরিয়ডে জিনিস পত্র রাখার জন্য একটি তাবু খাটানো হত।এর সম্মুখে দায়িত্বরত দুজন স্পোইকে স্টেম্ভ বাই হিসাবে রাখা হত। ওদেরকে ডেকে এনে রাগত স্বরে বললেন উও বানচুত কো ফ্রন্ট রোল লাগাও।তখন এক সেপাই ওকে অর্ডার দিয়ে বলল আপ ফ্রন্ট রোল লাগাও।তখন মুজিব বললেন কিছ লিয়ে লাগায়গা।অর্থ হল কেনো লাগাবে? সে বলতে চেয়েছিল কিভাবে লাগাবো হয়ে গেছে কেন লাগাবো। ফৌজিতে ওস্তাদের অর্ডার এর বিপরীতে কি জন্য করব বলা যায়। তাই এই বেয়াদবকে আরো কঠিন সাজার প্রয়োজন। ওস্তাদ বললেন সেপাই দুজনকে উও বানচুত কো লে যাও আত্তর যেতনা মার সেকতা হেয় এতনা মার ঢালো।আমরা সকলেই বুঝতেছি যে হিন্দি বাংলা কা নতিজা হেয়। উপস্থিত সকলে আমাকে ধরল ওস্তাদকে বুঝানোর জন্য যে উহা ভাষার গলতি উয়া।যে বলতে চেয়েছে কিভাবে ফ্রন্টরোল লাগাবে তা জানতে চেয়েছে। আমি বাধ্য হয়ে এগিয়ে গেলাম। প্রধান ওস্তাদ আমাকে একটু একটু চিনতেন। ওস্তাদদের মধ্যে একটা ইগো ছিল। কেহ যদি সুপারিশ করতে আসত তাহলে ওরা আরো বেশি রেগে যেতো এবং আরো উগ্র হয়ে নানা গালি গালজ দিয়ে বলত ইদর দল পাকড়ানো কা জায়গা নেহি। বলে রাগত ভাবে এগিয়ে আসতেন। আমি দুহাত উপরে উঠিয়ে বড় বড় করে বলতে লাগলাম ওস্তাদ উও কেছে ফ্রন্টরোল লাগাবে নেহে জানতা।Mistake হও গিয়ে। এইভাবে ইংরেজি বাংলা মিশানো হিন্দি ভাষা বলার কারণে ওস্তাদ হেসে উঠত এবং স্পিাইদেরকে বললেন বানচুত কো ছুড় দেও।এইভাবে কত যে সাজা ভোগ করতে হয়েছে এমন ট্রেনিং কালে মৃত্যু মুখে পতিত হয়েছে তার খবর কি কোথাও আছে?
"জয়বাংলা "
৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের গান
বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু সুবল চন্দ্র পাল
১৪ই আগস্ট ১৯৭১ ইং একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ল যে, “ভারতীয় বাহিনীর সহায়তায় জয়বাংলা স্বাধীন হয়ে যাবে”। কারন এই ১৪ই আগস্ট পাকিস্থানের স্বাধীনতা দিবস। জয়বাংলায় আর পাকিস্থানের স্বাধীনতা দিবস পালন করতে দেওয়া হবে না। তাই এই প্রতিজ্ঞাতে বা গুঞ্জনে সকল মুক্তিযোদ্ধারা অটল। ক্যাম্পে টান-টান উত্তেজনায় সারাদিন কেটেছে। আমাদের সাব সেক্টর ছিল কমলপুর । কমলপুর সাবসেক্টর ৪নং সেক্টরের অধীন বর্তমান কমলগঞ্জ থানার বিপরীত । কমলপুর থানার ভারতীয় বর্ডার অঞ্চল চা বাগানে ভরপুর ছিল। যেমন আধিয়া চা বাগান, পাথরখলা চা বাগান, ধলাই চা বাগান ইত্যাদি। পাথরখলা চা বাগান আমাদের অবস্থানের প্রায় মুখামুখি ছিল। এই বাগানের প্রধান টিলার উপর পাক আর্মির পাকা বাংকার ছিল। রাত প্রায় ১২.৩০ মিনিটের সময় ভারতীয় আর্মির একজন Captain এসে বললেন যে, আজ রাত ১.০৫ মিনিটের সময় পাকিস্থানী আর্মির বাংকারে ১২০টি বোম্ব পড়বে। ফলে পাকিস্থানীদের সকল সৈন্য খতম হয়ে যাবে। তোমরা গিয়ে তাদের অস্ত্র ও হেলমেটসহ যে সকল মূল্যবান জিনিসপত্র আছে তাহা নিয়ে আসবে। তখন আমরা আরও উজ্জীবিত হয়ে উঠলাম। ঘাটে অ কালারুকায় একদম মিলে গেল। আর পাক আর্মি স্বাধীনতা উদযাপন করতে পারবে না। যাহা হউক প্রায় ২.০০ ঘটিকার সময় ১২০টি বোম্ব পড়া শেষ হওয়ার সাথে সাথে ইয়া আলী , জয়বাংলা বলে আমরা তিন দিক থেকে আক্রমন শুরু করি। আমরা গুলি করতে করতে এগিয়ে চলছি কোন সাড়াশব্দ নেই, আমরা আরো জোরে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে চলছি। পথিমধ্যে একটি ছনের বাংলা ছিল তাহা পুড়িয়ে দেওয়া হল। দাউ দাউ করে আগুন জ্বলল প্রতি উত্তর নেই। এর মিনিট দুয়েক পর থেকে হানাদাররা আমাদের দিকে M.M.G. দিয়ে গুলি ছুড়তে আরম্ভ করল। ফলে আমাদের গুলি পাক আর্মির গুলির শব্দ একাকার হয়ে কান ঝালাপালা হয়ে পড়ল। আমরা প্রায় অকৃতকার্য হয়ে পিছু হটতে বাধ্য হলাম।
এই সময় আমাদের ১২/১৩ জন মুক্তিযোদ্ধা শহিদ হন। আমাদের কোম্পানী কামান্ডার মদরিছ আলী প্রচন্ডভাবে উরুদেশের উপরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে যান। তাহার পাশে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা তাহাকে উঠিয়ে ক্যাম্পে নিয়ে যান। এবং শীঘ্রই ভারতের কমলপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। আমরা তাহার রক্ত যাওয়ার অবস্থা দেখে তিনি যে বেঁচে যাবেন তাহা বিন্দু পরিমান আশা করি নাই। কমলপুর থেকে আমাদের চাপে মহিউদ্দিন কে(মদরিছ আলী) পাশ্ববর্তী আর্মি এয়ারপোর্ট থেকে একটি হেলিকপ্টারে করে আগরতলায় পাঠানো হয়। দেশ স্বাধীন প্রায় ১৫দিন পর মহিউদ্দিন জালালপুরের বাদেশপুরে তাহার নিজ বাড়িতে এসে উপস্থিত হন । মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিনকে দেখার জন্য শত শত লোক তাহার বাড়িতে উপস্থিত হন। কারন পূর্বে রটে গিয়েছিল মহিউদ্দিন ১৪ই আগস্টের যুদ্ধে শহিদ হয়েছেন। “রাখে আল্লাহ মারে কে” -- জয়বাংলা ।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Contact the school
Telephone
Address
Sylhet
3107