17/05/2022
"মুক্তিযোদ্ধের মর্মকথা "
বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু সুবল চন্দ্র পাল
মুক্তিযুদ্ধ কোন যুদ্ধ নহে। ইহা একটি আবেগ। মুক্তিযোদ্ধা কোন যোদ্ধা নহে ওরা একটি force. মুক্তিযোদ্ধাদের কোন ভিত্তি না থাকলে যেমন মুক্তিযোদ্ধ হবে না। একইভাবে মুক্তিযোদ্ধের আবেগ না থাকলে মুক্তিযোদ্ধা তৈরি হবে না।মুক্তিযোদ্ধা কোন বেতনভোগি কর্মচারি নহে। ওরা কোন কিছু পাওয়া নেওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন নাই। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। Force এর কোন অবস্থান নেই। শুধু চলার একটি স্পৃহা।এই স্পৃহাই স্বাধীনতা এনে দেয়। যাহা মহা মূল্যবান। অনেকে আছেন মহামূল্যবানকে মূল্যবান বলেই মনে করেন না। যাহা হারিয়ে গেলে তাহার মূল্য অনুভব করা যায়।তাই যারা এই মূল্যবান স্বাধীনতাকে আনার জন্য জীবনবাজী রেখে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করল তাদেরকে নগণ্য বলে উড়িয়ে দেওয়া একবারেই বোকামী। কেহ কেহ উদ্দেশ্য মূলক ভাবে স্বাধীনতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের উড়িয়ে দেন তারা মূলত স্বাধীনতা বিরোধী। এই স্বাধীনতা অশ্বিকার কারীরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ঘাপটি মেরে বসে রয়েছে। তারা চায় পরাধীন হয়ে বেঁচে থাকতে। পরাধীন হয়ে বেঁচে থাকার সুবিধা হলো বদ্ধ ঘরে একাকী বসে বসে খাওয়া যায়। তাদের উড়িবার কোন সাধ নেই। হাসাহাসি করবার কোন ক্ষেদ নেই। আনন্দ তাদের জীবন থেকে উবে গেছে। তোষামোদ করে ভাগ বসানো যায়।ওরা খায় দায়, নাদুস নুদুস হয়।কিন্তু বেঁচে থাকে খুব কম দিন। কিন্তু চিরকাল তাদের বংশধর রেখে যায়। স্বাধীনতার বিরোধিতা করা তাদের অভ্যাস। কাহারও কোন মঙ্গল দেখা তাদের অভিধানে নেই। যেখানে কবি বলেছেন স্বাধীনতা বিহনে কে বাঁচিতে চায়রে কে বাঁচিতে চায়। এই স্বাধীনতা বিরোধীরাই স্বাধীনতা বিহনে বাঁচিতে চায়। তাহারা বুঝতেই পারে না যে তারা মারা গেছে। কিন্তু কিছু দিন পর বুঝা যাবে ওরা সত্যিকার মৃত্যু হলে পরে ওরা প্রমাণ করে যে ওরা মরে নাই। আবেগ কে কাজে লাগিয়ে পাক বাহিনীর বর্বরত,শোষণ, শাসনকে কেন্দ্র করে যে বৈষম্য তৈরি হয়েছিল তাহাই আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের ভিত্তি। ভাষার বৈষম্যকে কেন্দ্র করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করা পাকবাহিনীর যে নোংরা ষড়যন্ত্র যিনি বাঙালির দোয়ারে দোয়ারে পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। শেখ মুজিবুর রহমানের এই প্রজ্ঞাই পাকবাহিনীর এক অলংঙ্গনীয় অপারগতা। পাকবাহিনীর যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেন শেখ মুজিবুর রহমানের অসীম ধৈর্য, সাহসীকতা ও দূরদর্শিতা কারণে সব কিছু বুমেরাং হয়ে যেত। স্বাধীনতা একটি উচ্চ বিলাসী আকাঙ্খা। স্বাধীনতার জন্য মানুষ যে আর পিছান না।এজন্যই প্রাণ বলিদান করা তাহা একটি মহা ত্যাগ।এই ত্যাগই মহা বলিদান। দান খয়রাত খুবই সহজ কাজ কিন্তু প্রাণ বলিদান অনেক অনেক কঠিন কাজ। এই দান তারাই করে যারা সাহসী, বীর বাহু তারাই এই ত্যাগটি হাসি মুখে এই মেনে নেয়। মানুষের জীবনের মূল্যবান এই জীবনকে বাজী ধরে যে নির্মূল্যবান মুক্তিযদ্ধে অংশ গ্রহণ করে তখনই তো বুঝা যায় ইহা কত মূল্যবান। দূর্মূল্য কে কোন মূল্য দিয়ে কেনা যায় না। এই অমূল্যবান সম্পদকে প্রাপ্তির জন্য মানুষ জীবন বাজী রাখে। তখন এই ব্যক্তি পরিমাপের অতীত হয়ে যায়। এই ব্যক্তির মহামূল্যবান ত্যাগকে যখন কোন নাগরিক স্বকৃীতি দিতে চায় না তাকেই তো জাতীর কলংক হিসাবে ধরে নিতে হয়। ত্যাগহীন মানুষ তাড়াতাড়ি ধনি হয়ে যেতে পারে কারণ তার জীবনে তো সবই সনচয় অর্জন থেকে তো কোন বিয়োগ নেই। বিয়োগহীন সনচয় কারি দেশের যেকোনো ক্ষতিকে মেনে নেবে তার সনচয় স্বার্থে।................(অসমাপ্ত)