26/01/2026
বাংলাদেশ একটা আনফেয়ার জায়গা।
কেন বলছি বলি। আমি কয়েকটা ঘটনা বলি আগে।
১. জামায়াত যখন উঠান বৈঠক শুরু করে, তখন একসাথে বেশ কয়েকটা জেলায় জামায়াতের মহিলা কর্মীদের উপর হামলা করে বিএনপি। [[ভার্বাল এবিউজ + ফিজিকাল এবিউজ]] সেই ঘটনাগুলোর কোনো বিচার হয়নাই। কেউ এপোলজি দেয়নাই। সুশীল সমাজ বিচার বসায় নাই।
২. জকসু নির্বাচনের সময় শিবিরের ভিপি প্রার্থীর স্ত্রীর মুখের মাস্ক টেনে খুলে ফেলার চেষ্টা করা হয়। এটার প্রতিবাদ যখন করা হয়, তখন বিএনপির এক্টিভিস্টরা বোরকা-নিকাব পরার সাথে প্রস্টিটিউটের তূলনা দেয়। তারা প্রচার করতে থাকে, বোরকা নিকাব প্রস্টিটিউটরাও পরে। ফলে, তাদের একশন জাস্টিফাইড। [[ভার্বাল এবিউজ + ফিজিকাল এবিউজ + মিসোজিনি + ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত]] এগেইন, নো জাস্টিস, নো এপলজি। সুশীল সমাজে বিচার বসে নাই।
৩. গতকালকে তারেক রহমান কয়েকজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের সাথে সাক্ষাত করেন। তার মধ্যে একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ভিডিও বানাইছিলো, প্রবাসীরা যারা জামায়াতে ভোট দিচ্ছে, তারা তাদের বউকে জামায়াতের আমীরদের কাছে ইজারা দিয়েছে। সেই কন্টেন্ট ক্রিয়েটরকে তারেক রহমান পুরষ্কৃত করেছেন। তাকে বলেছেন, তোমার কন্টেন্ট আমি দেখি। অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। [[সাইবার বুলিয়িং + হ্যারাজমেন্ট + মিসোজিনি]] এটা নিয়ে কোনো প্রতিবাদ নাই। এপলজি নাই। সুশীল সমাজে বিচার বসে নাই।
৪. আজকে লালমনিরহাটে বিএনপির সন্ত্রাসীরা মহিলা জামায়াতের নারীদের হিজাব খুলে ফেলার চেষ্টা করে। সেটা নিয়ে বিএনপি জামায়াত সংঘর্ষ হয়েছে। [[ভার্বাল এবিউজ + ফিজিকাল এবিউজ + ধর্মীয় অবমাননা]] এগেইন, কোনো এপলজি নাই। বিচার নাই। সুশীল সমাজ উদ্বিগ্ন না।
দাঁড়িপাল্লার একজন প্রার্থীর একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, ডাকসুর পূর্ববর্তীতে ঢাবি মাদকের আখড়া এবং বেশ্যাবৃত্তির আখড়া ছিলো বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে ফেসবুক উত্তাল। হওয়া জাস্টিফাইড। এই বক্তব্যের জাস্টিফিকেশনের সুযোগ নাই। রেজাল্ট দেখেন, শিবির, অশিবির, ডাকসু, সুশীল সমাজ সবাই একযোগে প্রতিবাদ জানিয়েছে। জুলকারনাইন সায়ের আন্দোলন করারও আহ্বান জানিয়েছেন। জামায়াতের সেই নেতা ক্ষমা চেয়েছে। আমার দরকার নাই ক্ষমা, আপনারা পারলে ওরে জ্বালায় দিয়ে আসেন। কিন্তু, আমার কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যান।
একই দেশে আইন এত ভিন্ন কেন?
বিএনপি এবং ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা একের পর নারীদেরকে ফিজিকাল এবিউজ করছে, সাইবার বুলিয়িং করছে, ধর্ম অবমাননা করছে।
এটা নিয়ে তাদের কোনো রিমোর্স নাই। একটা এপোলজি নাই। অন্তত জামায়াতের ঐ নেতাকে দিয়ে তো একটা এপোলজি দেয়ানো গিয়েছে। বিএনপির একজনকে দিয়েও কি এপোলজি দেয়ানো গিয়েছে? বিচারের কথা দূরে রইলো।
কিন্তু, বলেন তো। কোন ঘটনায় তোলপাড় বেশি? কোন ঘটনায় মিডিয়া ট্রায়াল বেশি। ‘বেশ্যা’ বলা বড় অপরাধ নাকি ফিজিকাল এবিউজ বড় অপরাধ? তাহলে বিএনপির অপরাধীদের বিচার কই? তাদের মিডিয়া ট্রায়াল কই? তাদেরকে দিয়ে এপোলজি আদায় করানো কই? তাদের বিচারের জন্য জুলকারনাইন সায়েরের পোস্ট কই? তাদের জন্য হেমা চাকমার আন্দোলন কই? তাদের জন্য সুশীল সমাজের উদ্বেগ কই?
একই দেশে আইন এত ভিন্ন কেন?
©