09/05/2026
হাসপাতালে ওয়ার্ড-ওটি করতে করতে প্রায়ই অনেক বাস্তব অভিজ্ঞতা আর ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়।
দেশে যতই নারীর ক্ষমতায়ন হোক আর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় মেজোরিটি নারী চান্স পেয়ে থাকুক,বিশাল সংখ্যক শ্রমজীবী নারী এখনো প্রতিনিয়ত স্বামী, পরিবার, মালিক দ্বারা নির্যাতিত- নিপীড়িত হচ্ছে।
গতকাল ইমার্জেন্সিতে একটা কেইস আসছে, ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রীর হাতে ধারালো ছু*রি দিয়ে ইচ্ছেমতো কো*পাইছে স্বামী। তাদের বাসা পাহাড়ের পাশে, কো*পাইয়া স্বামী পাহাড় দিয়ে উঠে পালাই গেছে।
ঘটনার সুত্রপাত, মহিলা সৌদিআরবে থাকে,এক ইন্ডিয়ান প্রবাসীর বাসায় কাজ করে।বিদেশ থাকাকালীন ফোনে ঝগড়া হয় দুইজনের।পরবর্তী তে দেশে আসলে তার সাথে কথা বলতে চায় স্বামী, সে কথা বলতে রাজী না হওয়ায় ঘুমের মধ্যে তার হাত কে*টে দিয়েছে।
তার হাতের সবগুলো টেনডন,আলনার নার্ভ,আলনার আর্টারী সব কেটে গিয়েছে। সে সুস্থ হলেও আগের মতো কোনো কিছুই করতে পারবে না এই হাত দিয়ে।
ইন্টারেস্টিং কেইস দেখে এসিস্ট করার জন্য দাড়াইছিলাম,তিন ঘন্টা দাড়াই থাকা লাগছে🥲।প্রত্যেকটা টেনডন রিপেয়ার করেছে,নার্ভ ধমনী রিপেয়ার করেছে।আমার লাভ এট্টুক হলো,তিনঘণ্টা দাড়ায় থাকার পর স্কিনটা সেলাই দিতে পারছি।
মহিলারে পরবর্তীতে উপদেশ দিয়া দিসি,নারী নির্যাতন মামলা,পারিবারিক সংহিতা মামলা,আরো কয়েকটা একসাথে দিতে।
08/05/2026
যারা গর্ভধারণের চিন্তাভাবনা করছেন একটা কথা মাথায় ভালোভাবে সেট করে নিন।
আপনাকে ফলিক এসিড নিতে হবে, নিতে হবে, নিতে হবে।
শুধুমাত্র মায়ের শরীরে ফলিক এসিডের ঘাটতি থাকার
কারণে আজ সন্তানটির এই অবস্থা।
Folic Acid এর ঘাটতি গর্ভাবস্থায় মা ও বাচ্চা
দুজনের জন্যই
মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে,,,
আপনার চারপাশে অনেককে দেখেছেন, অনেকে বলবে আরে আমরা তো এসব ফলিক এসিড খাই নাই, আমাদের সন্তানের কিছু হয় নাই,
এসব কথা কানে নিবেন না,
আপনার শরীরে ফলিক এসিডের ঘাটতি থাকুক বা
না থাকুক,
গর্ভধারণের অন্তত ১ মাস আগে থেকে
pregnancy এর প্রথম ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত
ফলিক এসিড ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাবেন।
আপনার একটা ছোট্ট সিদ্ধান্ত বা ভুল যাতে বাচ্চার সারাজীবনের কষ্টের কারণ না হয়।
08/05/2026
রোগীকে প্রেসক্রিপশন ও ওষুধের স্লিপ দিলাম।
সুন্দর করে প্রেসক্রিপশনটা ফেলে দিয়ে স্লিপ নিয়ে হাসপাতাল-ফার্মেসি থেকে ওষুধ উঠিয়ে চলে গেল। 😒
এত যত্ন করে, ভালবাসা দিয়ে প্রেসক্রিপশন লিখি।
অথচ কত সহজেই এরা নষ্ট করে ফেলে 💔
এই একটা প্রেসক্রিপশন যে একজন চিকিৎসকের কত-শত শ্রম, সাধনার ফসল, তা যদি এরা জানতো!!! 😒
অবশ্য জানবেই বা ক্যাম্নে?
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর ম্যাক্সিমাম রোগীর(কমপক্ষে ৭০-৮০%) উদ্দেশ্য ফ্রি-তে ওষুধ নেওয়া। রোগ থাকুক আর না থাকুক।
মিথ্যা রোগের কথা বলে সরকারি ওষুধ নেওয়া অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। দরকার হইলে হাঁস-মুরগিকে খাওয়াবে, তাও ওষুধ নিবে!
কল্পনা করতে পারেন!!!
গতকাল এক রোগীকে তার চাহিদামতো(যেটা রোগের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ) ওষুধ না দেওয়ায় আমার মুখের উপর ওষুধ ছুড়ে দিয়ে বকতে বকতে চলে গেল। তার নাকি গাড়ি ভাড়া দিয়ে হাসপাতালে আসা-ই লস হয়ে গেছে।
এরকম ফেইক রোগীদের কারণেই তৈরি হয় ওষুধের কৃত্রিম সংকট।
ফলে যারা প্রকৃত রোগী, তারা ওষুধ পায় না।
এই বৃহৎ অসভ্য জনগোষ্ঠীকে সঠিক পথে না এনে আপনি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি চান কিভাবে!!!
আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙ্গে পরবে না তো, সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভাঙবে?
লেখক:
ডা. হুমায়ূন কবির
ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বগুড়া.....
08/05/2026
রোগী মায়ের সাথে ঝগড়ার পর আবেগের মাথায় খেয়ে ফেলেছে ঘাস মারা বিষ (Paraquat)।
শুরু থেকেই প্রতিদিন ডায়ালাইসিস চলছে
কয়েক দিনের মধ্যেই জন্ডিস চলে এসেছে।
চোখ, ত্বক, সবকিছু হলুদ হয়ে যাচ্ছে…
এই Paraquat এমন একটা বিষ
যেটা খাওয়ার পর অনেক সময় রোগীকে সাময়িকভাবে একটু ভালো দেখায়…
কিন্তু সেটাই সবচেয়ে ভয়ংকর প্রতারণা।
কারণ এরপর শুরু হয় আসল ধ্বংসযজ্ঞ
কিডনি বন্ধ হয়ে যায়
লিভার নষ্ট হতে থাকে
আর সবচেয়ে ভয়ংকর, ফুসফুস ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে যায় (pulmonary fibrosis)
তারপর আর শ্বাস নেওয়ার জায়গা থাকে না।
চিকিৎসা করা যায়…
কিন্তু
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা শুধু সময় কিনি, জীবন ফিরিয়ে আনতে পারি না।
প্রতিদিনই এমন রোগী আসে
কারও রাগ, কারও হতাশা, কারও এক মুহূর্তের ভুল সিদ্ধান্ত…
আর শেষ পরিণতি একটা নিথর শরীর।
সবচেয়ে ভয়ংকর বহলো,
এই বিষটা ঘরে সহজেই পাওয়া যায়।
যেটা কৃষিকাজে ব্যবহার হয়, সেটাই মৃত্যুর হাতিয়ার!
এই একটা কেমিক্যাল নিয়ে এখনই কঠোর সিদ্ধান্ত না নিলে…
এভাবে আরও অনেক পরিবার নিঃশেষ হয়ে যাবে।
জীবন এক মুহূর্তের আবেগে শেষ হয়ে যেতে পারে
এই বিষ আপনাকে তো মারবেই, আপনার পরিবারকেও রাস্তায় নামিয়ে ছাড়বে!!
লেখা
ডা: তারেক হাসান
05/05/2026
এই স্ট্রেচারে কখনো একজন মা তার সন্তানের কাছে ফিরে যাওয়ার লড়াই করছে।
কখনো বা সিগারেট খেতে খেতে নিজের জীবনের শেষ সময়টায় পায়ে পচন ধরিয়ে পা কেটে কষ্ট থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য ওঠেছে।
কখনো এখানে একজন বাবা অপারেশন টেবিলে শুয়ে চোখ বন্ধ করার আগে মনে মনে হিসাব কষে, তার মেয়ের বিয়েটা এখনও বাকি আরেকটু সময় থাকলে সব গুছিয়ে যেতে পারতো।
কখনো এক মা নিজের ব্যথা ভুলে শুধু সন্তানের মুখটা কল্পনা করে......
কখনো কেউ কাউকে কিছু বলার সুযোগ পায়নি
ভালোবাসি এই এক অক্ষরের শব্দটা বুকেই আটকে থাকে।
প্রতিদিন এখান থেকে বের হয়ে এখানকার মানুষজন একটু বদলে যায়।
আরেকটু শক্ত, আরেকটু নির্লিপ্ত
02/05/2026
মাঝেমধ্যে এসব দেখলে সৃষ্টিকর্তার প্রতি অন্যরকম কৃতজ্ঞতাবোধ কাজ করে।
লোকটা এই অবস্থা নিয়ে কি পরিমাণ কষ্টে আছে। এটা Arteriovenous Malformation মানে হলো আমাদের ধমনীর(artery) সাথে শিরার(vein) direct কানেকশন, মাঝে কোনো ক্যাপিলারি নাই।এর ফলে high flow blood যায়, vessel dilation করে এবং টিস্যু বৃদ্ধি ঘটে।
আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ অনেক ভালো রেখেছেন
#কেইস ০১
02/05/2026
গর্ভধারণের সময় মায়ের ফলিক এসিডের ঘাটতি ছিলো। ফলিক এসিডের অভাবে Neural Tube defect হয় (যেখান থেকে আমাদের ব্রেইন ও মেরুদণ্ড তৈরি হয়), সাথে যদি Chiari malformation থাকে তাহলে আমাদের মস্তিষ্কের তরল CSF এর flow ব্লক হয় এবং সেখান থেকে Hydrocephalus হয়।
তাই যারা গর্ভধারণের চিন্তাভাবনা করছেন তারা কনসিভ করার প্রায় ১-৩ মাস আগে থেকে ফলিক এসিড খাবেন এবং অন্তত প্র্যাগনেন্সির ১ম ৩ মাস পর্যন্ত ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাবেন।
#স্বাস্থ্য_টিপস ১৮