07/11/2025
আমাদের গল্পের শুরুটা -
এই মহাবিশ্ব—আকাশ, পাতাল, গ্রহ, নক্ষত্র, জীব ও নির্জীব—সবকিছুই মহান আল্লাহর নিখুঁত সৃষ্টির অংশ। তাঁর অসীম ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এই সবকিছু অস্তিত্ব লাভ করেছে। তাঁর পরিকল্পনা এত সূক্ষ্ম ও গভীর যে তা মানুষের জ্ঞানের সীমার উর্ধে। আমরা ঠিক জানি না, তাঁর সৃষ্টির প্রকৃত উদ্দেশ্যটাই বা আসলে কী ছিল। কিন্তু এতটুকু জানি যে একটিমাত্র আদেশ—‘কুন’ (হও)— যার ভেতর লুকিয়ে ছিল সৃষ্টির গোপন 'ল বা নিয়ম' যাকে আমরা বলে থাকি গ্র্যান্ড ইউনিফাইড ফিল্ড থিওরি অথবা থিউরি অব এভ্রিথিং।
সেই আদেশের ফলেই তার সৃষ্ট 'ল' মেনেই ১৪.৮ বিলিয়ন বছর আগে নিখুঁত সামঞ্জস্যে শুরু হয় তাঁর মহান সৃষ্টি কার্যক্রম—শক্তি, স্থান-কাল, পদার্থ, নক্ষত্র, গ্রহ এবং ধীরে ধীরে প্রাণের উদ্ভব। কোন কিছুই তার সৃষ্ট আইনের উর্ধে নয়।
প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন বছর আগে, মহাজাগতিক ধুলা ও পাথরের মিলনে জন্ম নেয় এই নীলাভ ক্ষুদ্র গ্রহ—পৃথিবী। জন্মের শুরুতে এটি ছিল অগ্নিগোলকের মতো উত্তপ্ত, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শীতল হয়ে এমন এক অবস্থায় পৌঁছায়, যেখানে পানি তরল অবস্থায় থাকতে পারে। আর সেই পানির মধ্যেই, প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে, জন্ম নেয় প্রথম এককোষী প্রাণ— যেখান থেকেই সমস্ত জীবনের সূচনা।
ক্রমে কোটি কোটি বছরে সেই প্রাণ বিবর্তিত হতে থাকে। একসময় পৃথিবীতে আবির্ভূত হয় চতুষ্পদ প্রাণী—যাদের মধ্যে ছিল গরিলা, শিম্পাঞ্জি, ওরাংওটাং, এবং আমাদের বহু প্রাচীন পূর্বপুরুষ—যাদের একত্রে বলা হতো গ্রেট এপস।
এই গ্রেট এপের এক শাখা ধীরে ধীরে বিবর্তনের পথে এগিয়ে যায়। প্রায় ৪.৪ মিলিয়ন বছর আগে জন্ম নেয় এক নতুন প্রজাতি—যে গাছে ঝুলে চলাফেরা করতে পারত, আবার একই সঙ্গে দুই পায়ে ভর দিয়ে খাড়া হয়ে হাঁটত। এই মহাপ্রাচীনতম প্রানির নাম Ardipithecus ramidus, সংক্ষেপে আরডি (Ardi)।
বর্তমানে পাওয়া প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ অনুযায়ী, আরডিই ছিল হিউমান লিনিয়েজের আরলিয়েস্ট আনচেস্টর এবং প্রথম দ্বিপদী (bipedal) প্রাণী। এই বাইপেডালিজমের সূচনা হয়েছিল আফ্রিকার ইথিওপিয়ার ঘন সবুজ তৃণভূমিতে—যেখান থেকেই শুরু হয় আমাদের গল্প, মানুষের গল্প।
চলেব......
(ছবিতে এক আরডি)
লেখক :
গোলাম কিবরিয়া
ফিজিক্স [ সাস্ট ]
08/09/2025
02/08/2025
07/07/2025