07/08/2020
দীর্ঘ লিখা, তাই পুরোটা পড়ার অনুরোধ রইলো:
যারা এসএসসি পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছ অথবা হওনি উভয়কেই অভিনন্দন ।পাশ-ফেল বা জিপিএ ৫ তোমাকে কিছুই দিবেনা, শুধু পরবর্তীধাপে ভালো কলেজে ভর্তির সুযোগ করে দেয়া ছাড়া।এইযে তুমি একটা পরীক্ষা দেয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করলে, এখান থেকে তুমি যা শিখলে তাই তোমাকে ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করবে।একথা অনস্বীকার্য যে পরীক্ষায় ভাল ফলাফল মেধার বহিপ্রকাশ এবং ক্যারিয়ার গড়তে মেধার কোন বিকল্প নেই।আবার স্কুল পালিয়ে সবাই কাজী নজরুল হবেনা বা হার্ভাড ছেড়ে দিয়ে মার্ক জুকারবার্গের মত সবাই ফেইসবুক বানিয়ে ফেলবে না।কিন্তু এটা চিরন্তন সত্য যে মেধা আর জ্ঞান এক বিষয় নয়।আর জ্ঞান অর্জন শুধু পাঠ্যবইয়েই সীমাবদ্ধ নয়, জীবনের সকল অভিজ্ঞতাই হতে পারে জ্ঞানের উৎস।
অতএব, ফেল করলে বা প্রত্যাশিত ফলাফল না করতে পারলে এ নিয়ে মন খারাপ করা যাবে না বরং এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরবর্তীতে কিভাবে সফল হওয়া যায় তা ভাবতে হবে।বিশেষ করে এই ব্যাপারটি অভিভাবকদেরও বুঝতে হবে এবং বাচ্চাদেরও বুঝাতে হবে।সবাই ডাক্তার ইনি্জনিয়ার হবে না, কেউ ক্রিকেটার, সংগীতশিল্পী বা রাজনীতিবিদও হবে।আমাদের জিপিএ ৫ দরকার কম, জ্ঞানী ও ভাল মানুষ দরকার বেশি।পারিবারিক সুশিক্ষা পুঁথিগত শিক্ষার থেকেও অধিক প্রয়োজন।অনেকসময় অভিভাবকদের প্রত্যাশার চাপে অনেক সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের অকাল মৃত্যু হয়।অনেকেই বিষন্নতায় মাদক বা আত্মহননের পথ বেছে নেয়।এক্ষেত্রে অভিভাবকদের অগ্রনী ভুমিকা পালন করতে হবে।বাচ্চাদের বন্ধু হয়ে খারাপ সময়ে পাশে থাকুন, এর ভাল ফল একদিন পাবেনই।আপনার সন্তানের জীবন পরীক্ষার ফলাফল থেকেও অনেক মুল্যবান।
সত্যি কথা বলতে, এত জ্ঞান দেয়া হয়তো আমার মতো একজন অতিসাধারন ও ব্যর্থ মানুষের বলা শোভা পায়না।তবুও আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা এই একাউন্টের ৭৫,০০০ ফলোয়ারের মধ্যে যারা ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক আছেন তাদের কাছে পৌছাতে চাই, যদি এতে একজনেরও উপকার হয়।আমি জীবনে খুব একটা সফল নই, তাই আমাকে অনুসরন করার বা আইডল ভাবার কোন করান নেই।পিছনের সারির ছাত্র ছিলাম, জিপিএ ৫ পাইনি, আইন পেশায় এখনো শিক্ষানবীশ, রাজনৈতিক কোন পদবী নেই, ব্যাবসায় মাত্র হাতেখড়ি, প্রেম ও বিয়ে দুটোতেই ব্যর্থ।তো কি হইসে? বেঁচে তো আছি! হাল ছাড়িনি।প্রতিটা ফেলের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি।নিজেই নিজের মটিভেশন।তাই যারা ফেল করেছে বিশেষ করে তাদের ও তাদের অভিভাবকদের উদ্দেশ্য করে বলছি, এটাই শেষ নয়।সবে তো ফেল করা শুরু, সামনে আরো পরীক্ষায় ফেল করবে।আর একদিন ঠিকই আসল পরীক্ষায় বাজিমাত করে দেখিয়ে দিবে। সবার সাফল্যের টাইমলাইন ভিন্ন।অতএব, ধৈর্য ধরুন, সাথে থাকুন।আর একমত হলে তথ্যটি একজন অকৃতকার্য ছাত্র-ছাত্রী বা তাদের অভিভাবকের সাথে শেয়ার করুন।
সময় নিয়ে পড়া ও কথাগুলো শেয়ার করার জন্য অগ্রিম ধন্যবাদ।