KahafTv

Call Contact the school

KahafTv পড়, শেখ -জানো সেই আল্লাহর নামে...
যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন,
তিনিই শিখিয়েছেন
যা সে জানতো না...

31/08/2026

১ ok

হামদ / নবীদের সাথে জান্নাতে থাকা এবং গোনাহকে নেকীর দ্বারা পরিবর্তন করা—-------
পাহাড়- পর্বত এই আমানত বহন করতে অস্বীকার করা —----------------------------------------------------------
বইটির বৈশিষ্ঠ: বইটি কেন পড়া উচিত —--------------------------------------------------
কুরআনের আয়াতের শ্রেণিবিন্যাস কিছু আলোচনা —--------------------------------------

ফাতিহা-ভূমিকা, আল্লাহর পরিচয়, বড়ত্ব, কুদরত, দয়া—--------------------------
নবী- রসূল (অ:) দের আলোচনা—-------------------------------------
১/ হযরত আদম (আঃ)
২/ হযরত ইদ্রিস (আঃ)
৩/ হযরত নূহ- (আঃ)
৪/ হযরত হুদ (আঃ)
৫/ হযরত সালিহ (আঃ)
৬/ হযরত ইবরাহীম (আঃ)
৭/ হযরত লুত (আঃ)
৮/ হযরত ইসমাঈল (আঃ)
৯/ হযরত ইসহাক (আঃ)
১০/ হযরত ইয়াকুব (আঃ) ইসরাঈল
১১/ হযরত ইউসুফ (আঃ)
১২/ হযরত আইয়ুব (আঃ)
১৩/ হযরত শুয়াইব (আঃ)
১৪/ হযরত মুসা (আঃ
১৫/ হযরত হারুন (আঃ)
১৬/ হযরত যুলকিফল (আঃ)
১৭/ হযরত দাউদ (আঃ)
১৮/ হযরত সুলাইমান (আঃ)
১৯/ হযরত ইলিয়াস (আঃ)
২০/ হযরত আল-ইয়াসা (আঃ)
২১/ হযরত ইউনুস (আঃ)
২২/ হযরত যাকারিয়া (আঃ)
২৩/ হযরত ইয়াহিয়া (আঃ)
২৪/ হযরত ঈসা (আঃ)
২৫/ হযরত মুহাম্মাদ (স:)
হযরত শামবিল বা শামুয়েল (আ:)- হযরত তালুত (আ:)
হযরত উজায়ের (আ:)
হযরত লোকমান (আ:)

সূরা বাকারা_
ইমরান

বিভিন্ন আমল সম্পর্কে আয়াত—---------------------------
জাহান্নামের আলোচনা—------------------
জান্নাতের আলোচনা—--------------------

দাওয়াত ইলাল্লহ, আল্লাহর রাস্তায় বাহির হওয়ার আমল- আয়াত—-----------------------
লেখকের কথা—---------------------------------

৩য় পৃ,
হামদ
الْحَمْدُ لِلَّهِ، الْحَمْدُ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنُؤْمِنُ بِهِ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْهِ
وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ
وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ سَيِّدَنَا وَسَنَدَنَا وَنَبِيَّنَا وَمَوْلَانَا مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
أَرْسَلَهُ بِالْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا، وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

قُلْ إِنَّ صَلَاتِى وَنُسُكِى وَمَحْيَاىَ وَمَمَاتِى لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ
‘নিশ্চয় আমার নামাজ, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মরন আল্লাহর জন্য, যিনি সকল সৃষ্টির রব’।
(সূরা আনআম_ ১৬২)

وَمَن يُطِعِ ٱللَّهَ وَٱلرَّسُولَ فَأُوْلَـٰٓئِكَ مَعَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمَ ٱللَّهُ عَلَيْهِم مِّنَ ٱلنَّبِيِّــۧنَ وَٱلصِّدِّيقِينَ وَٱلشُّهَدَآءِ وَٱلصَّـٰلِحِينَ‌ۚ وَحَسُنَ أُوْلَـٰٓئِكَ رَفِيقًا
যারা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে তারা তাদের সাথে থাকবে, আল্লাহ যাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীলদের মধ্য থেকে। আর সাথী হিসেবে তারা হবে উত্তম।
(সূরা নিসা_৬৯)

إِلَّا مَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ عَمَلاً صَـٰلِحًا فَأُوْلَـٰٓئِكَ يُبَدِّلُ ٱللَّهُ سَيِّـَٔـاتِهِمْ حَسَنَـٰتٍ‌ۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا
যে তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে। আল্লাহ তাদের পাপগুলোকে পূণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
(সূরা ফুরকান_ ৭০)

৪র্থ পৃ,

إِنَّا عَرَضْنَا الْأَمَانَةَ عَلَى السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالْجِبَالِ فَأَبَيْنَ أَن يَحْمِلْنَهَا وَأَشْفَقْنَ مِنْهَا وَحَمَلَهَا الْإِنسَانُ ۖ إِنَّهُ كَانَ ظَلُومًا جَهُولًا
নিশ্চয় আমি আকাশ পৃথিবী ও পর্বতমালার সামনে এই আমানত পেশ করেছিলাম, অতঃপর তারা তা বহন করতে অস্বীকার করল এবং এতে ভীত হল; কিন্তু মানুষ তা বহণ করল। নিশ্চয় সে জালেম-অজ্ঞ।
(সূরা আল-আহযাব, ৭২)

ইমাম গাজ্জালী (রহ:), ইমম বায়জারী (রহ:) বলেন- আমানত আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব। দায়িত্ব আদায় করার দ্বারা যেমন পুরুষ্কার তেমনি দায়িত্ব আদায় না করার দ্বারা শাস্তি।
শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (রহ.) তাঁর গ্রন্থ 'হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ' কিতাবে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, আল্লাহ তাআলা "আমানত" (দায়িত্ব-খিলাফত) এর বোঝা বহনের কথা বলেছেন, যা আসমান, যমীন ও পাহাড় তারা এই আমানতের ভারী বোঝা বহন ও এর জবাবদিহিতার ভয়ংকর পরিণামের কথা চিন্তা করে ভয় পেয়েছিল, তাই তারা তা প্রত্যাখ্যান করলো, আর মানুষ তা গ্রহণ করলো! মানুষ বড়ই জালেম ও জাহেল।
জালেম, সে যে ইনসাফ করার সামর্থ থাকা সত্বেও ইনসাফ করে না।
জাহেল, সে যে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ থাকা সত্বেও জ্ঞান অর্জন না করেই অজ্ঞ থাকে।
মানুষকে আল্লাহ তাআলা এমন এক অবয়বে সৃষ্টি করেছেন যার মধ্যে রয়েছে পাশবিক ইচ্ছা (পশুত্ব) এবং মেধাবৃত্তিক বিবেক -ফেরেশতাতুল্য গুণ ‍দিয়েছেন। মানুষ যখন তার বিবেক দিয়ে পাশবিক ইচ্ছাকে দমন করে আল্লাহর বিধান মান্য করে, তখন সে আসমান-যমীনের চেয়েও শ্রেষ্ঠ মর্যাদায় পৌঁছায়।

لَوْ أَنزَلْنَا هَـٰذَا الْقُرْآنَ عَلَىٰ جَبَلٍ لَّرَأَيْتَهُ خَاشِعًا مُّتَصَدِّعًا مِّنْ خَشْيَةِ اللَّهِ ۚ وَتِلْكَ الْأَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ
যদি আমি এই কোরআন পাহাড়ের উপর অবতীর্ণ করতাম, তবে তুমি দেখতে যে, পাহাড় বিনীত হয়ে আল্লাহ তা’আলার ভয়ে বিদীর্ণ হয়ে গেছে। আমি এসব দৃষ্টান্ত মানুষের জন্যে বর্ণনা করি, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।
(সূরা আল-হাশর, ২১)

তাফসীর ইবনে কাসীর:
আল্লাহ যদি এই কুরআন কঠিন ও উঁচু পর্বতের উপর অবতীর্ণ করতেন এবং ওকে চিন্তা ও অনুভূতি শক্তি দান করতেন তবে ওটা তাঁর ভয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যেতো।
আর মানুষের অন্তর তো আরো অধিক ক্রিয়াশীল। পর্বতের তুলনায় মানুষের অন্তর বহুগুণে নরম ও ক্ষুদ্র আর পূর্ণমাত্রায় বোধ ও অনুভূতি শক্তি রয়েছে। মানুষ যেন চিন্তা-গবেষণা করে এ জন্যেই আল্লাহ তাআলা মানুষের সামনে এসব দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন। উদ্দেশ্য এই যে, মানুষের উচিত আল্লাহকে ভয় করা ও বিনীত হওয়া।

বইটির বৈশিষ্ঠ: বইটি কেন পড়া উচিত —------------------------------

১/ আল্লাহর কথা সম্পর্কে একটা সহজ ধারণা পাওয়া।
২/ বইটি সহজ, সুন্দর ভাষায় সংক্ষিপ্ত ভাবে লেখা।
৩/ ভাগে- ভাগে আলোচনা করা।
৪/ আয়াতের সাথে সংক্ষিপ্ত তাফসীর- শানে নুযুল যোগ করা।
৫/ কিছু ‍কিছু আরবী আয়াত সংযুক্ত করা।
৬/ আয়াতের কিছু ‍কিছু আরবী অংশ বিষেশ সংযুক্ত করা।
৭/ কুরআনে পাকে নবী- রসূলদের পৃথক পৃথক আয়াত একত্র করা।
৮/ মাসায়েল সংক্রান্ত আয়াতের সংখ্যা একত্র করা।

আল কুরআনের শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কে কিছু আলোচনা:_

আল- কুরআন অর্থ অধিক পঠিত কিতাব, অনেক বেশি পাঠ করা বা তেলওয়াত করা কিতাব।
এর কয়েকটি নাম:_
আল-ফুরকান (الفرقان): সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী।
আয-জিকির (الذكر): উপদেশ, স্মরণ বা শিক্ষা।
আল-হুদা (الهدى): হেদায়েত।
আন-নুর (النور): আলো বা জ্যোতি।
আশ-শিফা (الشفاء): নিরাময় বা রোগমুক্তি।
আল-হিকমা (الحكمة): প্রজ্ঞা বা জ্ঞান।
তানযিল (نزيل (التنزيل): অবতীর্ণ বা নাজিলকৃত গ্রন্থ।
আল-মাজীদ (المجد): সম্মানিত বা মহিমান্বিত।

কুরআন হলো আল্লাহর কথা (কালামুল্লাহ), এটা আল্লাহ পাকের চিঠি স্বরূপ। আল্লাহ, যেন চিঠিতে আমাকে ডেকে বলতেছেন, কথোপকথন বা অনেকটা প্রশ্ন-উত্তরের মতো।

কথোপকথনের ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে বিন্যাস করা যায়:_

১/ আল্লাহ পাকের —----নিজ জাত ও সিফতের কথা।
—----ফেরেশতাদের কথা।
—--- জিন জাতিদের কথা।
—-----প্রাণী জগতের কথা।
-----'আলমে খলক' বস্তু জগত সৃষ্টি -ধংস,শৃঙ্খলা-সম্প্রসারণ, দুনিয়া- আখিরাতের কথা।

২/ আল্লাহ নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর মাধ্যমে _নবী-রাসুল (আঃ) দের কথা বলেছেন।
___ মানব জাতির কথা বলেছেন।
___ইমানদারদের কথা বলেছেন।
___কাফির- অবিশ্বাসী, মুশরিকদের কথা বলেছেন।
_____ মোনাফিকদের কথা বলেছেন।

বিষয় বস্তুর দিক থেকে দুই শ্রেণিতে বিন্যাস করা যায়:_

১/ মক্কী বিষয়বস্তু_
নবী মুহাম্মাদ (স:) মক্কায় থাকা অবস্থায় যে সমস্ত আয়াত নাযিল হয় তা মূলত–
দাওয়াত ইলাল্লহ, তাওহীদ, ইমান, আকিদা, তাকওয়া, তাওয়াক্কুল, কষ্ট, পরিশ্রম, পরিক্ষা, হিজরত- সফর, মুহাজির (ফি সাবিলিল্লাহ)

২/ মাদানী বিষয়বস্তু _
নবী মুহাম্মাদ (স:) মদীনায় থাকা অবস্থায় যে সমস্ত আয়াত নাযিল হয় তা মূলত–
দাওয়াত ইলাল্লহ, ইমান, আমল, হুকুম -আহকাম, আদেশ- নিষেধ, আইন- বিচার, অর্থনীতি, রাষ্ট্রনীতি, জিহাদ, হিজরত- সফর, আনসার- নুসরাত (ফি সাবিলিল্লাাহ)

গঠনগত ভাবে দুই শ্রেণিতে বিন্যাস করা যায়:_

১/ সূরা (১১৪), আয়াত (৬২৩৬), পারা (৩০), রুকু (৫৪০), হিজব অর্ধ (৬০), মঞ্জিল (৭)

২/ স্থান, সময়, পাত্র, মানুষের অবস্থা, প্রেক্ষাপট, পরিস্থিতি ও প্রয়োজন।

আয়াতের অর্থের ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে বিন্যাস করা যায়:_

১/ মুহকাম বা আয়াত স্পষ্ট, অর্থ পরিষ্কার, সুনির্দিষ্ট ও বোধগম্য। (হালাল-হারাম, আদেশ- নিষেধ)

২/ মুতাশাবিহ বা আয়াত অস্পষ্ট, মরমিয়া, আয়াতের প্রকৃত অর্থ অস্পষ্ট, রূপকধর্মী। (বিভিন্ন আয়াত_ আলিফ লাম মিম, তহা, ইয়াসিন_ আলাহ কুদরতি হাতে ধরেন, দেখেন, শোনেন, আরশ) ইত্যাদি কেমন তা রূপক বলা হয়েছে, তার সঠিক ব্যাখ্যা আল্লাহই ভালো জানেন।
( اللَّهُ أَعْلَمُ)
আল্লাহু আলাম_ আল্লাহ তায়ালা ভালো জানেন।

19/08/2026

দাওয়াত:

الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَبَيَّنُوا فَأُولَـٰئِكَ أَتُوبُ عَلَيْهِمْ ۚ
যারা তওবা করে, সংশোধীত হয়। (আল্লাহর আয়াত) মানুষের কাছে বর্ণনা করে, তাদের তওবা আল্লাহ কবুল করেন।
وَأَنَا التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
আমি তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।
(সূরা বাকারা_১৬০)

فَإِنَّمَا عَلَيْكَ الْبَلَاغُ
আপনার দায়িত্ব হলো শুধু পৌছে দেয়া।
(সূরা ইমরান_২০)

18/08/2026

বিভিন্ন আমল সম্পর্কে আয়াত :_

রোজা সম্পর্কে আয়াত_ (বাকারা ১৮৩-১৮৭)

____________________
যাকাত সম্পর্কে আয়াত

__________________________
হজ্জ- উমরাহ সম্পর্কে আয়াত _
(বাকারা ১৯৬, ১৯৭, ১৯৮, ১৯৯, ২০০, ২০১, ২০২, ২০৩,
__________________________
সম্পত্তি বন্টন আয়াত_ (সূরা বাকারা- ১৮০, ১৮১, ১৮২, ১৮৮,
__________________________
বিবাহ _ সম্পর্কে আয়াত_( বাকারা ২২১, ২২২, ২২৩, ২২৬, ২২৭, ২২৮, ২২৯, ২৩০, ২৩১, ২৩২, ২৩৩, ২৩৪, ২৩৫, ২৩৬, ২৩৭, ২৪০, ২৪১,

16/08/2026
16/08/2026

২/ সূরা বাকারা_ (গাভী),
মূল কয়েকটি বিষয়:
আল্লাহর বড়ত্ব, কুদরত, দয়া,
মূসা (আঃ) এর কওমের ঘটনা,
আহলে কিতাবীদের ঘটনা,

আল্লাহ, মানুষের হেদায়েতের জন্যে কিতাব নাযিল করেছেন,_ কুরআন হলো ফুরকান সত্য মিথ্যার পার্থক্যকারী কিতাব।

الم
আলিফ লাম মীম।
ذَٰلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ ۛ فِيهِ ۛ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ
এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। মুত্তাকিদের জন্য পথ প্রদর্শক (হেদায়াত স্বরূপ)
(সূরা বাকারা_১-২)

যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস করে, নামায প্রতিষ্ঠা করে। আমি (আল্লাহ) তাদেরকে যে রুযী দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে।
(সূরা বাকারা_৩)

যারা বিশ্বাস করেছে সেসব বিষয়ের উপর_ যা কিছু তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে (কুরয়ান) এবং সেসব বিষয়ের উপর যা তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। (আল্লাহর কিতাবসমূহ)

وَبِالْآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ
আখেরাতকে যারা বিশ্বাস করে।
৪/

أُولَـٰئِكَ عَلَىٰ هُدًى مِّن رَّبِّهِمْ ۖ وَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
তারা রব্বি আল্লাহর পক্ষ থেকে সুপথ প্রাপ্ত, তারাই সফলকাম। (বিজয়ী, জন্নাতি)
৫/

যারা কাফের-(অবিশ্বাসী) হয়েছে, আপনি-(নবী মোঃ সঃ) তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করুন আর নাই করুন তাতে কিছুই আসে যায় না, তারা ঈমান আনবে না।
৬/

خَتَمَ اللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ وَعَلَىٰ سَمْعِهِمْ ۖ وَعَلَىٰ أَبْصَارِهِمْ غِشَاوَةٌ ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ
আল্লাহ তাদের অন্তরে এবং তাদের কানসমূহ বন্ধ করে দিয়েছেন, আর তাদের চোখসমূহ পর্দায় ঢেকে দিয়েছেন।
তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।

ব্যাখ্যা:
(বার বার কুফরী, অবিশ্বাস, অহংকার, মিথ্যা, গুনাহ করলে অন্তর শক্ত হয়ে যায়। তখন সত্য শুনতে পায় না, সত্য দেখতে পায় না। এটা তাদের নিজের কাজের ফল)
৭/

মানুষের মধ্যে কিছু লোক এমন রয়েছে যারা বলে, আমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছি অথচ তারা আদৌ ঈমানদার নয়।
৮/

তারা আল্লাহ এবং ঈমানদারগণকে ধোঁকা দেয়। মূলতো তারা নিজেদেরকেই ধোঁকা দেয়, কিন্তু তারা তা বুঝতে পারে না।
৯/

তাদের অন্তরে রোগ রয়েছে, আল্লাহ তাদের রোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন।

ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْذِبُونَ
তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি, কারণ তারা মিথ্যা বলত।
১০/

তাদেরকে যখন বলা হয় যে, দুনিয়ার বুকে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে, আমরা তো মীমাংসার পথ অবলম্বন করেছি।
১১/

মূলতো তারাই অশান্তি সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা বুঝে না।
১২/

যখন তাদেরকে বলা হয়, অন্যান্যরা যেভাবে ঈমান এনেছে তোমরাও সেভাবে ঈমান আন, তখন তারা বলে, আমরা কি ঈমান আনব বোকাদেরই মত!
মনে রেখো, তারাই বোকা, কিন্তু তারা তা বোঝে না।
১৩/

তারা যখন ঈমানদারদের সাথে মিশে, তখন বলে, আমরা ঈমান এনেছি। আবার যখন তাদের শয়তানদের সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করে, তখন বলে, আমরা তোমাদের সাথে রয়েছি। আমরা তো (মুসলমানদের সাথে) উপহাস করি মাত্র।
১৪/

আল্লাহই তাদের সাথে উপহাস করেন। আল্লাহ তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছেন, যেন তারা নিজেদের অহংকার ও কুমতলবে হয়রান ও পেরেশান থাকে।
১৫/

أُولَـٰئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الضَّلَالَةَ بِالْهُدَىٰ فَمَا رَبِحَت تِّجَارَتُهُمْ وَمَا كَانُوا مُهْتَدِينَ
তারা সে সমস্ত লোক, যারা _ হেদায়েতের বিনিময়ে _ গোমরাহী ক্রয় করে। তারা তাদের এ ব্যবসায় লাভবান হতে পারেনি এবং তারা হেদায়েতও লাভ করতে পারেনি।
১৬/

তাদের অবস্থা সে ব্যক্তির মত, যে লোক কোথাও আগুন জ্বালালো এবং তার চারদিক আগুন স্পষ্ট (আলোকিত) করে তুললো, ঠিক এমনি সময় আল্লাহ তার চারদিকের আলোকে উঠিয়ে নিলেন এবং তাদেরকে অন্ধকারে ছেড়ে দিলেন। ফলে, তারা কিছুই দেখতে পায় না।
১৭/

তারা বধির, মূক ও অন্ধ। তারা ফিরে আসবে না।
১৮/

তাদের উদাহরণ সেসব লোকের মত যারা দুর্যোগপূর্ণ ঝড়ো রাতে পথ চলে, যাতে থাকে আঁধার, গর্জন ও বিদ্যুৎচমক। মৃত্যুর ভয়ে গর্জনের সময় কানে আঙ্গুল দিয়ে রক্ষা পেতে চায়। অথচ সমস্ত কাফেরই আল্লাহ কর্তৃক পরিবেষ্ঠিত।
১৯/

বিদ্যুতালোকে যখন সামান্য আলোকিত হয়, তখন কিছুটা পথ চলে। আবার যখন অন্ধকার হয়ে যায়, তখন দাঁড়িয়ে থাকে। যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন, তাহলে তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নিতে পারেন।
_إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
আল্লাহ যাবতীয় বিষয়ের উপর ক্ষমতাশীল।
২০/

হে লোক সকল! তোমরা তোমাদের পালনকর্তার এবাদত করো, যিনি তোমাদের এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদিগকে সৃষ্টি করেছেন। আশা করা যায়, তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পারবে।
২১/

আল্লাহ তোমাদের জন্য জমিনকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপন করেছেন, আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করে_ জমিতে ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন, খাদ্য হিসেবে।
অতএব, তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে সমকক্ষ করো না। এসব তোমরা জানো।
২২/

তোমাদের যদি এই (কুরআন) এ কোন সন্দেহ থাকে, তাহলে এর মতো একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এসো। তোমরা আল্লাহকে ছাড়া সব ধরনের সাহায্যকারীদের সঙ্গে নাও।
إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ
যদি তোমরা সত্যবাদী হও।
২৩/

যদি তা (সূরা রচনা) করতে না পারো, অবশ্য তা কখনও পারবে না। তাহলে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করো, যার জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর। যা প্রস্তুত করা হয়েছে অবিশ্বাসী- কাফেরদের জন্য।
২৪/

হে নবী (সাঃ), যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজসমূহ করেছে, আপনি তাদেরকে এমন বেহেশতের সুসংবাদ দিন,
যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত। তারা খাবার হিসেবে যখনই কোন ফল পাবে, তখনই তারা বলবে, এতো অবিকল সেই ফল যা আমরা ইতিপূর্বেও লাভ করেছিলাম। বস্তুতঃ তাদেরকে একই প্রকৃতির ফল প্রদান করা হবে। এবং সেখানে তাদের জন্য পবিত্র সঙ্গিনী থাকবে। তারা সেখানে অনন্তকাল থাকবে।
২৫/

আল্লাহ মশা কিংবা তার চেয়েও তুচ্ছ কোনো কিছুর উদাহরণ দিতে লজ্জাবোধ করেন না। যারা ঈমান এনেছে তারা জানে যে, এটি তাদের রবের পক্ষ থেকে সত্য।
আর যারা কুফর- অবিশ্বাস করেছে তারা বলে,_ আল্লাহ এ উদাহরণ দিয়ে কী বোঝাতে চেয়েছেন? এর দ্বারা তিনি অনেককে পথভ্রষ্ট করেন এবং অনেককে হেদায়েত দেন।
আল্লাহ ফাসিকদের ছাড়া কাউকে পথভ্রষ্ট- বিপদগামী করেন না।

[শানে নুযুল:
কাফির- অবিশ্বাসীরা_ ঠাট্টা করে বলত, কুরআনে মাকড়সা, মশা, মাছির কথা কেন? আল্লাহ এই আয়াতে তাদের কথার জবাব দিলেন। যে, মশার মধ্যেও আল্লাহর কুদরত আছে। ছোট জিনিস দিয়েও বড় শিক্ষা দেওয়া যায়]
২৬/

বিপথগামী তারাই, যারা আল্লাহর সঙ্গে অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে এবং আল্লাহ পাক যা অবিচ্ছিন্ন রাখতে বলেছেন, তা ছিন্ন করে, আর পৃথিবীর বুকে অশান্তি সৃষ্টি করে।
ۚ أُولَـٰئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ
তারাই বিপথগামী- ক্ষতিগ্রস্থ।
২৭/

কেমন করে তোমরা_ আল্লাহকে অস্বীকার করো? অথচ তোমরা ছিলে প্রাণহীন। আল্লাহ তোমাদেরকে প্রাণ দান করেছেন, আবার মৃত্যু দান করবেন। পুনরায় তোমাদেরকে আবার প্রাণদান করবেন। অতঃপর আল্লাহর দিকে সবাই ফিরে যাবে।
২৮/

আল্লাহ তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন_ জমীনে যা কিছু রয়েছে। তারপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং সাত আসমান তৈরি করলেন।
ۚ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
আল্লাহ সর্ববিষয়ে জ্ঞানী।
২৯/

হে বনী-ইসরাঈলগণ, তোমরা আমার (অনুগ্রহ) দয়ার কথা স্মরণ করো, এবং আমার সাথে যে প্রতিজ্ঞা করেছ তা পূরণ করো, তাহলে আমি তোমাদেরকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ করবো। আর আমাকেই ভয় করো।
৪০/

তোমরা সে গ্রন্থের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো, যা আমি নাযিল করেছি সত্যবক্তা হিসেবে। তোমরা তার প্রাথমিক অস্বীকারকারী হয়ো না, আর আমার আয়াতের অল্প মূল্য দিও না। এবং আমার (আযাব) থেকে বাঁচ।
তোমরা তার অস্বীকারকারী হয়ো না।
৪১/

তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না এবং জানা সত্ত্বে সত্যকে গোপন করো না।
৪২/

وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ
নামায কায়েম করো, যাকাত দান করো, জামাতে রুকু কারিদের সাথে রুকু করো।
৪৩/

তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও, আর নিজেদেরকে ভূলে যাও। অথচ তোমরা কিতাব পাঠ করো?
ۚ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
তবুও তোমরা বুঝ না?
৪৪/

তোমরা ধৈর্য্য আর নামাযের মাধ্যমে সাহায্য চাও, যদিও তা কঠিন। কিন্তু সে সমস্ত বিনয়ী লোকদের জন্য সহজ- সম্ভব।
৪৫/

যারা খেয়াল রাখে, তার পালনকর্তার সামনে তাকে উপস্থিত হতে হবে, তার দিকেই ফিরে যেতে হবে।
৪৬

হে বনী-ইসরাঈলগণ! তোমরা স্মরণ করো আমার (আল্লাহর) দয়া- নেয়ামতের কথা, যা আমি তোমাদের উপর করেছি এবং (স্মরণ করো) সে বিষয়টি যে, আমি তোমাদেরকে সমগ্র বিশ্বের উপর উচ্চমর্যাদা দান করেছি।
৪৭

সেই দিনকে ভয় করো, যেদিন কেউ কারও সামান্য উপকারে আসবে না, কোন সুপারিশ কবুল হবে না, কারও কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ নেয়া হবে না, এবং কেউ কোন রকম সাহায্যও পাবে না।
৪৮

আর (স্মরণ কর) সে সময়ের কথা, যখন আমি তোমাদিগকে মুক্তিদান করেছি ফেরআউনের লোকদের কবল থেকে যারা তোমাদিগকে কঠিন শাস্তি দিত; তোমাদের পুত্রসন্তানদেরকে জবাই করত এবং তোমাদের কন্যাকে অব্যাহতি দিত। তা ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে, মহা পরীক্ষা।
৪৯

আমি (আল্লাহ) তোমাদের জন্য সাগরকে দ্বিখন্ডিত করেছি, অতঃপর তোমাদেরকে বাঁচিয়ে দিয়েছি এবং ডুবিয়ে দিয়েছি ফেরআউনের লোকদিগকে, তোমরা তা দেখছিলে।
৫০

আমি মূসার সাথে ওয়াদা করেছি চল্লিশ রাত্রির, অতঃপর মূসার অনুপস্থিতিতে তোমরা গোবৎস বানিয়ে নিয়েছ। বস্তুতঃ তোমরা ছিলে যালেম।
৫১

আমি (আল্লাহ) তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে নাও।
৫২
الْكِتَابَ وَالْفُرْقَانَ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ
আমি মূসাকে কিতাব_ সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী বিধান দান করেছি, যাতে তোমরা সরল পথ প্রাপ্ত হতে পারো।
৫৩

মূসা (আঃ) তার সম্প্রদায়কে বলল, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা গাভী বানিয়ে (শিরক কর) তোমাদেরই ক্ষতি করেছ। কাজেই এখন তওবা করো, এবং নিজ নিজ প্রাণ বিসর্জন দাও। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর। তারপর তোমাদের প্রতি লক্ষ্য করা হল, (ক্ষমা করা হলো)
إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
নিঃসন্দেহে তিনিই (আল্লাহ) ক্ষমাকারী, অত্যন্ত মেহেরবান।
৫৪

যখন তোমরা (বনী ইসরাইল) বললে_ হে মূসা, আমরা তোমাকে কখনই বিশ্বাস করব না,
نَرَى اللَّهَ جَهْرَةً
যদি আল্লাহকে দেখতে না পাই।
তখন তোমাদেরকে পাকড়াও করল বিদ্যুৎ। অথচ তোমরা তা দেখে ছিলে।
৫৫

তোমরা মরে যাবার পর, আমি তোমাদের তুলে দাঁড় করিয়েছি, যাতে করে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে নাও।
৫৬

আমি তোমাদের উপর মেঘমালার দ্বারা ছায়া দান করেছি এবং তোমাদের জন্য খাবার পাঠিয়েছি ’মান্না’ ও সালওয়া’। সেসব পবিত্র খাবার তোমরা খাও যা আমি তোমাদেরকে দান করেছি।
মূলতো, তারা আমার কোন ক্ষতি করতে পারেনি, বরং নিজেদেরই ক্ষতি করেছে।
৫৭

যখন আমি (আল্লাহ) বললাম, তোমরা প্রবেশ করো এ নগরীতে (বাইতুল মুকাদ্দাস, জেরুজালেম) এবং যেখানে খুশী খেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে বিচরণ করতে থাকো এবং দরজার ভিতর দিয়ে প্রবেশ করার সময় সেজদা করে, ক্ষমা চেয়ে ঢুক, তাহলে আমি তোমাদের ক্ষমা করব এবং সৎ কর্মশীলদেরকে অতিরিক্ত দানও করব।
৫৮

তারা- জালেমরা তা করলো না, তারা কথা পাল্টে দিল, আমি (আল্লাহ) তাদের উপর আসমান থেকে আযাব পাঠিয়েছি, সীমা লংঘন করার কারণে।
৫৯

মূসা (আঃ) যখন নিজ জাতির জন্য পানি চাইল, তখন আমি বললাম, স্বীয় লাঠির দ্বারা পাথরের উপর আঘাত করো। অতঃপর তা থেকে প্রবাহিত হয়ে এল ১২টি ঝরনা। তাদের সব গোত্রই চিনে নিল নিজ নিজ ঘাট।

ۖكُلُوا وَاشْرَبُوا مِن رِّزْقِ اللَّهِ وَلَا تَعْثَوْا فِي_ الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ
আল্লাহর দেয়া রিযিক খাও, পান করো আর দুনিয়ার বুকে অশান্তি দাংগা-হাংগামা করো না।
৬০

তোমরা যখন বললে, হে মূসা, আমরা একই ধরনের খাবার (মান্না ওয়া সালওয়া) তে আর ধৈর্য্যধারণ করব না। কাজেই তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট আমাদের পক্ষে প্রার্থনা করো, তিনি যেন আমাদের জন্যে এমন বস্তুসামগ্রী দান করেন যা জমিতে উৎপন্ন হয়, তরকারী, কাকড়ী, গম, মসুরি, পেঁয়াজ ইত্যাদি। মূসা (আঃ) বললেন, তোমরা কি নিকৃষ্ট বস্তু চাও, উত্তম বস্তুর পরিবর্তে? তোমরা কোন নগরীতে যাও, তাহলেই পাবে যা তোমরা কামনা করছ।
তাদের উপর আরোপ করা হল লাঞ্ছনা ও পরমুখাপেক্ষিতা। তারা আল্লাহর রোষানল- ক্রোধে পতিত হয়ে ঘুরতে থাকল। এমন হলো এ জন্য যে, তারা আল্লাহর বিধি বিধান মানতো না এবং নবীগনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করত। তার কারণ, তারা ছিল নাফরমান সীমালংঘকারী সম্প্রদায়।

শানে নুযূল:
[আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দিলেন _ ফলে তারা সিনাই মরুভূমির ‘তীহ’ প্রান্তরে ৪০ বছর ধরে পথহারা ও দিশেহারা হয়ে ঘুরে বেড়াতে থাকলো।

শাস্তি হিসেবে তারা এই ময়দানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। তারা সারাদিন হেঁটেও কোনো বাহিরের পথ খুঁজে পেত না এবং দিনশেষে একই জায়গায় ফিরে আসত। সকালে রওনা করতো বিকালে ঐ জায়গায় আসতো যেখান থেকে রওনা করছিল।

মুসা (আঃ) এবং হারুন (আঃ) উভয়েই এই প্রান্তরে ইন্তেকাল করেন]
৬১

যারা মুসলিম হয়েছে এবং ইহুদী, নাসারা_(খৃষ্টান) ও সাবেঈন_
[সাবেইনের ব্যপারে ৩টি মত_
১। যারা তারকার উপাসক,
২। হযরত ইয়াহিয়া (আঃ) এর অনুসারী,
৩। দ্বীন ত্যাগ করে অন্য দ্বীনে যাওয়া,]

তাদের মধ্য থেকে যারা ঈমান আনে_ আল্লাহ ও কিয়ামত প্রতি, সৎকাজ করে।
তাদের জন্য রয়েছে সওয়াব।

وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
তাদের কোনই ভয় নেই, তারা দুঃখও পাবে না।
৬২

আমি (আল্লাহ) যখন তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম এবং তুর পর্বতকে তোমাদের মাথার উপর তুলে ধরেছিলাম এই বলে যে, তোমাদিগকে যে কিতাব দেয়া হয়েছে তাকে ধর সুদৃঢ়ভাবে এবং এতে যা কিছু রয়েছে তা মানো, তোমরা আমাকে (আল্লাহ) কে ভয় করো।
৬৩

তারপরেও তোমরা ফিরে গেলে,

فَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ لَكُنتُم مِّنَ الْخَاسِرِينَ
আল্লাহর দয়া আর মেহেরবানী যদি তোমাদের উপর না থাকত, তবে তোমরা ধবংস হয়ে যেতে।
৬৪

যারা শনিবারের ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘণ করেছিল। (শনিবার মাছ ধরা নিষেধ ছিল, তারা জাল দিয়ে মাছ আটকে রাখতো পরের দিন মাছ ধরতো, তার কৌশলে আল্লাহর নাফরমানী করলো)
আল্লাহ তাদেরকে বললেন_ তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও।
৬৫

আমি এ ঘটনাকে তাদের সমসাময়িক ও পরবর্তীদের জন্য দৃষ্টান্ত এবং আল্লাহভীরুদের জন্য উপদেশ গ্রহণের উপাদান করে দিয়েছি।
৬৬

মূসা (আঃ) তার সম্প্রদায়কে বললেন_ আল্লাহ তোমাদের একটি গরু জবাই করতে বলেছেন। তারা বলল, তুমি কি আমাদের সাথে উপহাস করছ? মূসা (আঃ) বললেন, মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় কামনা করছি।
৬৭

তারা মূসূা (আঃ) কে বলল, আপনি আল্লাহর কাছে জিজ্ঞাসা করুন_ কেমন গরু জবাই করবো?
আল্লাহ, মূসা (আঃ) কে বললেন, একটা গাভী, যা বৃদ্ধ নয়, কুমারীও নয়, বার্ধক্য- যৌবনের মাঝামাঝি বয়সের। এখন আদেশ পালন করো।
৬৮

তারা মূসা (আঃ) কে বলল, আপনি আল্লাহর কাছে জিজ্ঞাসা করুন_ তার রঙ কেমন হবে? আল্লাহ, মূসা (আঃ) বললেন, হলুদ রঙের গাভী-যা দর্শকদের আকর্ষণ করবে।
৬৯

তারা মূসা (আঃ) কে বলল, আপনি আল্লাহর কাছে জিজ্ঞাসা করুন_গাভীটা কিরূপ হবে, গরু আমাদের কাছে একই রকম মনে হয়। আল্লাহ, মূসা (আঃ) বললেন, যে গাভী চাষাবাদ ও জল সেচের শ্রমে অভ্যস্ত নয়, নিষ্কলঙ্ক, নিখুঁত।
অতঃপর তারা সেই গাভী জবাই করলো।
(সংক্ষিপ্ত)

ব্যাখ্যা:
[আল্লাহ গরু জবাই করতে বলেছেন, তারা যদি প্রথমেই যে কোনো একটা গরু জবাই করতো তাহলেই হুকুম আদায় হয়ে যেত।
কিন্তু বারবার প্রশ্ন করায়_ আল্লাহ তাদের উপর শরিয়ত কঠিন করে দিয়েছিলেন। ঐরকম গাভী পাওয়া কঠিন হয়ে গেল।

রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন:
তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা তাদের নবীদেরকে বেশি প্রশ্ন করা এবং তাদের সাথে মতবিরোধ করার কারণে ধ্বংস হয়েছে।
সুতরাং আমি যখন তোমাদেরকে কোনো বিষয়ের আদেশ দেই, তখন তা যথাসাধ্য পালন করো। আর যখন কোনো বিষয়ে নিষেধ করি, তখন তা থেকে বিরত থাকো।
[সহীহ বুখারী: ৭২৮৮, সহীহ মুসলিম: ১৩৩৭]

ইবনে কাসির (রহঃ)বলেন:
যদি তারা প্রথম আদেশেই যে কোনো গাভী জবাই করতো, তাহলে তা যথেষ্ট হতো। কিন্তু তারা কঠিন করল, তাই আল্লাহও তাদের উপর কঠিন করে দিলেন]
৭০-৭১

তোমরা একজনকে হত্যা করে_ সে সম্পর্কে একে অপরকে অভিযুক্ত করেছিলে। যা তোমরা গোপন করছিলে, তা প্রকাশ করে দেয়া ছিল আল্লাহর উদ্দেশ্য।
৭২

অতঃপর আমি বললামঃ গরুর একটি খন্ড দ্বারা মৃতকে আঘাত কর। এভাবে আল্লাহ মৃতকে জীবিত করেন এবং তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শণ সমূহ প্রদর্শন করেন-যাতে তোমরা চিন্তা করো।
৭৩

অতঃপর এ ঘটনার পরে তোমাদের অন্তর কঠিন হয়ে গেছে। তা পাথরের মত অথবা তদপেক্ষাও কঠিন। পাথরের মধ্যে এমন ও আছে; যা থেকে ঝরণা প্রবাহিত হয়, এমনও আছে, যা বিদীর্ণ হয়, অতঃপর তা থেকে পানি নির্গত হয় এবং এমনও আছে, যা আল্লাহর
ভয়ে খসেপড়তে থাকে!

وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ
আল্লাহ তোমাদের কাজকর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন।
৭৪

হে মুসলমানগণ, তোমরা কি আশা কর যে, তারা তোমাদের কথায় ঈমান আনবে? তাদের মধ্যে একদল ছিল, যারা আল্লাহর বাণী শ্রবণ করত; আর তা বুঝে-শুনে পরিবর্তন করত।
৭৫

তারা যখন ঈমানদারদের সাথে মিলিত হয়, তখন বলে আমরা ঈমান এনেছি।
আর যখন তারা একে অপরের সাথে নির্জনে মিলিত হয়, তখন বলে, তোমরা কি তাদেরকে সেই কথা বলে দিচ্ছ যা আল্লাহ তোমাদের কাছে প্রকাশ করেছেন, যাতে তারা তোমাদের রবের কাছে তোমাদের বিরুদ্ধে দলিল পেশ করতে পারে? তোমরা কি বোঝো না?

শানে নুযুল:
[মদীনার কিছু ইহুদি আলেম ছিল। তারা যখন মুসলমানদের সাথে দেখা করত তখন বলত "আমরা ঈমান এনেছি, মুহাম্মদ (সঃ) সত্য নবী"
কিন্তু নিজেদের মধ্যে গিয়ে বলত "খবরদার! তাওরাতে মুহাম্মাদ (সঃ) এর নবুওতের যে নিদর্শন আছে তা মুসলমানদেরকে বলো না। কারণ তারা এটা দিয়ে কিয়ামতে আল্লাহর কাছে তোমাদের বিরুদ্ধে দলিল দেবে]
৭৬

أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ
আল্লাহ সেসব বিষয়ও জানেন যা তারা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে।
৭৭

তোমাদের কিছু লোক_ নিরক্ষর মূর্খ, তারা মিথ্যা আশা করে, আসমনি কিতাবের কিছুই জানে না। তাদের কাছে কল্পনা ছাড়া কিছুই নেই।
৭৮

আফসোস! তাদের জন্য যারা নিজ হাতে বই লেখে এবং বলে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, যাতে এর বিনিময়ে সামান্য অর্থ গ্রহণ করতে পারে। অতএব তাদের প্রতি আক্ষেপ-(লানত), তাদের হাতের লেখার জন্য এবং তাদের প্রতি আক্ষেপ- (লানত), তাদের উপার্জনের জন্যে।
৭৯

তারা বলে (আহলে কিতাব) আগুন আমাদিগকে কখনও স্পর্শ করবে না; কিন্তু গণাগনতি কয়েকদিন। (আহলে কিতাব) তারা বলে_ (জাহান্নামের) আগুন আমাদের কখনও স্পর্শ করবে না, যদি করে তা কয়েক দিনের জন্য।
(তারা এসব বলে লোকদেরকে ইসলাম গ্রহণে বাঁধা দিত)
(নবী মোঃ সঃ) আপনি বলে দিনঃ তোমরা কি আল্লাহর কাছ থেকে কোন অঙ্গীকার পেয়েছ যে, আল্লাহ কখনও তার খেলাফ করবেন না, তোমরা যা জান না, তা আল্লাহর সাথে জুড়ে দিচ্ছ।
৮০

যে ব্যক্তি পাপ করে , সেই পাপ তাকেই ঘিরে রাখে।
فَأُولَـٰئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
তারাই দোযখের অধিবাসী। তারা সেখানেই চিরকাল থাকবে।
৮১
(82
وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَـٰئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
আর যারা ঈমান আনে সৎকাজ করে তারাই জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।

আমি (আল্লাহ) বনী-ইসরাঈলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারও উপাসনা করবে না, পিতা-মাতা, আত্নীয়-স্বজন, এতীম ও দীন-দরিদ্রদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, মানুষকে সৎ কথাবার্তা বলবে, নামায প্রতিষ্ঠা করবে এবং যাকাত দেবে, তখন সামান্য কয়েকজন ছাড়া তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে, তোমরাই অগ্রাহ্যকারী।
৮৩

আমি (আল্লাহ) তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা পরস্পর খুনাখুনি করবে না এবং নিজেদেরকে দেশ থেকে বহিস্কার করবে না, তখন তোমরা তা স্বীকার করেছিলে এবং তোমরা তার সাক্ষ্য দিচ্ছিলে।
৮৪

অতঃপর তোমরাই পরস্পর খুনাখুনি করছ এবং তোমাদেরই একদলকে তাদের দেশ থেকে বহিস্কার করছ। তাদের বিরুদ্ধে পাপ ও অন্যায়ের মাধ্যমে আক্রমণ করছ। আর যদি তারাই কারও বন্দী হয়ে তোমাদের কাছে আসে, তবে বিনিময় নিয়ে তাদের মুক্ত করছ। অথচ তাদের বহিস্কার করাও তোমাদের জন্য অবৈধ। তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু বিশ্বাস করো এবং কিছু অবিশ্বাস করো?
যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে দূগর্তি ছাড়া তাদের আর কোনই পথ নেই। কিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে পৌঁছে দেয়া হবে। আল্লাহ তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন।
৮৫

এরাই পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবন ক্রয় করেছে। অতএব এদের শাস্তি লঘু হবে না এবং এরা সাহায্যও পাবে না।
৮৬

তারা বলে, আমাদের অন্তরসমূহ আচ্ছাদিত। বরং তাদের কুফরীর কারণে আল্লাহ তাদেরকে লা'নত করেছেন। তাই তারা অল্পই ঈমান আনে।

[সংক্ষিপ্ত তাফসীর:
এই আয়াতে ইহুদিদের একটা অহংকারের কথা বলা হয়েছে।
"قُلُوبُنَا غُلْفٌ" = "আমাদের অন্তর ঢাকা, নবীজির কথা আমাদের অন্তরে ঢুকে না। আমরা বুঝি না। তাই আমাদের দোষ নাই।
আল্লাহর জবাব: "بَل لَّعَنَهُمُ اللَّهُ" = বরং আল্লাহ তাদেরকে লা'নত করেছেন।
আসল কারণ হলো তাদের কুফরী ও হঠকারিতা। এজন্য আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন।
সত্য সামনে আসার পরও খুব কম সংখ্যকই ঈমান আনে]
৮৮

যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব এসে পৌঁছাল, যা সে বিষয়ের সত্যায়ন করে, যা তাদের কাছে রয়েছে এবং তারা পূর্বে করত। অবশেষে যখন তাদের কাছে পৌঁছল যাকে তারা চিনে রেখেছিল, তখন তারা তা অস্বীকার করে বসল।
فَلَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْكَافِرِينَ
কাফিরদের উপর আল্লাহর লা'নত।

[শানে নুযুল:
মদীনার ইহুদিরা মুশরিক আউস ও খাযরাজ গোত্রকে বলত_ শেষ নবীর যুগ এসে গেছে। আমরা তার সাথে মিলে তোমাদেরকে আদ জাতির মতো ধ্বংস করে দেব।
তারা তাওরাতের ভবিষ্যৎবাণী দিয়ে দোয়া করত_ হে আল্লাহ, এই শেষ নবীর উসিলায় আমাদেরকে সাহায্য করুন।

কিন্তু যখন মুহাম্মদ (সঃ) হযরত ইসমাইল (আঃ) এর বংশ থেকে আসলেন, তখন হিংসা আর অস্বীকার করল। কারন হলো শেষ নবী কেন তাদের বংশে আসলো না]
৮৯

যার বিনিময়ে তারা নিজেদের বিক্রি করেছে, তা খুবই মন্দ; আল্লাহ যা নযিল করেছেন, তারা তা অস্বীকার করেছে, আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা অনুগ্রহ নাযিল করেন। তারা আল্লাহর ক্রোধের উপর ক্রোধ অর্জন করেছে।
وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ مُّهِينٌ
কাফেরদের জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।
৯০

যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ যা পাঠিয়েছেন (কুরআন) তা মেনে নাও, তখন তারা বলে_ আমাদের প্রতি যা অবর্তীণ হয়েছে তা বাদে সবগুলোকে অস্বীকার করি। অথচ এই কিতাব সত্য এবং সত্যায়ন করে ঐ কিতাবের যা তাদের কাছে রয়েছে।
আপনি (মুহাম্মাদ) তাদের কে বলে দিন_ তোমরা যখন বিশ্বাসী ছিলে তখন নবীদেরকে কেন হত্যা করতে?
৯১

স্পষ্ট মু’জেযাসহ মূসা (আঃ) তোমাদের কাছে এসেছেন। তার অনুপস্থিতিতে তোমরা গোবৎস বানিয়েছ, তোমরা মূলত জালেম- অত্যাচারী।
৯২

যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম এবং তূর পাহাড়কে তোমাদের উপরে তুলে ধরলাম। আমি বললাম, আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি তা দৃঢ়ভাবে ধরো এবং শোনো।
তারা বলল, আমরা শুনলাম এবং অমান্য করলাম। তাদের কুফরির কারণে তাদের অন্তর গরু (পুজা- শিরকে) লিপ্ত হলো। বলো, তোমাদের ঈমান কি মন্দ বিষয় শিক্ষা দেয়।
৯৩

যদি আখেরাতের বাসস্থান (জান্নাত) আল্লাহর কাছে একমাত্র তোমাদের (আহলে কিতাবিদের) জন্যই বরাদ্দ থাকে-অন্য লোকদের বাদ দিয়ে, তবে মৃত্যু কামনা করো, যদি সত্যবাদী হও।
৯৪

তারা কখনোই মৃত্যু কামনা করবে না, কারন তারা গোনহগার।
_ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالظَّالِمِينَ_
আল্লাহ গোনাহগারদের সম্পর্কে অবগত আছেন।
৯৫

তারা সবার চাইতে, এমনকি মুশরিকদের চাইতেও অধিক লোভী। তারা আশা করে, যেন হাজার বছর বেচে থাকতে পারে, অথচ এই _হায়াত তাদেরকে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না।

ۗ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِمَا يَعْمَلُونَ
আল্লাহ দেখেন যা কিছু তারা করে।
৯৬

যে লোক, ফেরেশতা জিবরাইলের শত্রু হবে, সে জেনে রাখুক যে, সেই ফেরেশতা জিবরাইল তো আল্লাহর আদেশে তোমার অন্তরে কুরআন নাযিল করেছে,
যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী, মুমিনদের জন্য পথনির্দেশ ও সুসংবাদ।"

শানে নুযুল:
[ইহুদি আলেমরা রাসূল (সঃ) কে জিজ্ঞেস করল: কোন ফেরেশতা আপনার কাছে ওহী নিয়ে আসে?
নবীজী বললেন: জিবরাইল ফেরেশতা।

তখন তারা বলল: জিবরাইল আমাদের দুশমন। মিকাইল ফেরেশতা হলে আমরা ঈমান আনতাম।
তখন আল্লাহ এই আয়াত নাযিল করলেন]
৯৭

যে ব্যক্তি আল্লাহ তাঁর ফেরেশতা ও রসূলগণ এবং জিবরাঈল ও মিকাঈলের শত্রু হয়, নিশ্চই আল্লাহ_সেসব কাফেরদের শত্রু।
৯৮

আমি আপনার প্রতি উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ অবতীর্ণ করেছি। অবাধ্যরা ব্যতীত কেউ এগুলো অস্বীকার করে না।
৯৯

কি আশ্চর্য, যখন তারা কোন অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়, তখন তাদের একদল তা ছুঁড়ে ফেলে দেয়,

ۚ أَكْثَرُهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ_
অধিকাংশ লোকই বিশ্বাস করে না।
১০০

যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রসূল আগমন করলেন-যিনি ঐ কিতাবের সত্যায়ন করেন, যা তাদের কাছে রয়েছে, তখন আহলে কেতাবদের একদল আল্লাহর কিতাবকে পিছনে নিক্ষেপ করল-যেন তারা জানেই না।
১০১

যদি তারা ঈমান আনত এবং খোদাভীরু হত, তবে আল্লাহর কাছ থেকে উত্তম প্রতিদান পেত। যদি তারা জানত।
১০৩

হে মুমিন গণ, তোমরা ‘রায়িনা’ বলো না-‘উনযুরনা’ বল এবং শুনতে থাক।

ۗ وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ أَلِيمٌ
কাফেরদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি।

_ رَاعِنَا وَقُولُوا انظُرْنَا _
আল্লাহ তায়ালা বলেন যে, তোমরা ‘রায়িনা’ বলো না-‘উনযুরনা’ বলো এবং শুনতে থাকো।
শানে নুযূল:
[আল্লাহ মুমিনদের নবীজী (স:) এর প্রতি আদব শিখান। সর্বোচ্চ সম্মান শিখান। ইহুদিরা নবীজীকে ‘রায়িনা’ (আমাদের খেয়াল করো) শব্দটিকে বিকৃত করে বিদ্রূপ করত (আমাদের রাখাল) বলে অপমান করতো। আল্লাহ এর পরিবর্তে সম্মানজনক শব্দ ‘উনযুরনা’ (আমাদের দিকে নজর দিন/লক্ষ্য করুন) ব্যবহার করতে, আর মনোযোগ দিয়ে শুনতে বলেছেন]

যারা ইচ্ছাকৃত ভাবে রাসূল (সা.)-কে অপমান করার জন্য, শব্দের বিকৃতি ঘটায়, তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
১০৪

আহলে কিতাব, মুশরিকরা অবিশ্বাসীরা কখনই চায় না, যে_ মুমিনদের কোন কল্যাণ হোক, ভালো হোক। আল্লাহই মুমিনদের দয়া করেন, রহম করেন। যাকে ইচ্ছা বিষেশ নেয়ামত দান করেন। আল্লাহ মহান দাতা,অনুগ্রহদাতা,

وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ
আল্লাহ মহান দাতা, অফুরন্ত নেয়ামত দান কারি।
১০৫

আমি (আল্লাহ) কোনো আয়াত রহিত করলে অথবা (ভুলিয়ে- পরিবর্তন) দিলে, তার চেয়ে উত্তম অথবা তার সমতুল্য আয়াত নিয়ে আসি। তুমি কি জানো না যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান?

মুখতাসার মোজাকারা:
এই আয়াতকে "আয়াতে নাসখ" বলা হয়।
নাসখ এর অর্থ: রহিত করা, পরিবর্তন করা
আল্লাহ আগের শরীয়তের কোনো বিধানকে পরের বিধান দিয়ে পরিবর্তন করেছেন।

নতুন বিধান আগেরটার চেয়ে বান্দার জন্য সহজ ও কল্যাণকর। এটা আল্লাহর রহমত।
"أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ"
এটা নিয়ে সন্দেহ করার কিছু নেই। কারণ_

_ أَنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান, শক্তিমান।
১০৬

_ أَنَّ اللَّهَ لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۗ وَمَا لَكُم مِّن دُونِ اللَّهِ مِن وَلِيٍّ وَلَا نَصِيرٍ
তুমি কি জান না যে, আল্লাহর জন্যই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের আধিপত্য? আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোন বন্ধু ও সাহায্যকারী নেই।
১০৭

ইতিপূর্বে মূসা (আঃ) যেমন জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন, (মুসলমানগন) তোমরাও কি তোমাদের রসূলকে তেমনি প্রশ্ন করতে চাও? যে কেউ ঈমানের পরিবর্তে কুফর গ্রহন করে, সে সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়।
১০৮

আহলে কিতাবদের অনেকেই প্রতিহিংসাবশতঃ চায় যে, মুসলমান হওয়ার পর তোমাদেরকে কোন রকমে কাফের বানিয়ে দেয়। তাদের কাছে সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর (তারা এটা চায়)। যাক তোমরা আল্লাহর নির্দেশ আসা পর্যন্ত তাদের ক্ষমা করো এবং উপেক্ষা করো।

_ ۗ إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
১০৯

_وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ ۚ
তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা করো, যাকাত দাও। যতটুকু ভালোকাজ, নেক আমল (পূর্বে) করবে, তা আল্লাহর কাছে পাবে।
ۗ إِنَّ اللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ_
তোমরা যা কিছু করো, আল্লাহ তা দেখেন।
১১০

(আহলে কিতাব) তারা বলে_ ইহুদী অথবা খ্রীস্টান ছাড়া কেউ জান্নাতে যাবে না। এটা ওদের মনের বাসনা।

ۗ قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ
তাদেরকে বলে দিন_ প্রমাণ দিয়ে কথা বলো, যদি সত্যবাদী হও।
১১১

যে ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহর জন্য সমর্পন করেছে এবং সে সৎকর্মশীলও তার জন্য রয়েছে পুরস্কার, তার রবের কাছে।
وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে ন।
১১২

ইহুদীরা বলে, খ্রীস্টানরা কোন ভিত্তির উপরেই নয় এবং খ্রীস্টানরা বলে, ইহুদীরা কোন ভিত্তির উপরেই নয়। অথচ ওরা সবাই কিতাব পাঠ করে!
এমনিভাবে যারা মূর্খ, তারাও ওদের মতই উক্তি করে। অতএব, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাদের মধ্যে ফয়সালা দেবেন, যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করছিল।
১১৩

তার চেয়ে বড় জালিম কে, যে আল্লাহর মসজিদগুলোতে তাঁর নাম স্মরণ করতে বাধা দেয় এবং সেগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করে? তাদের তো ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থা ছাড়া সেগুলোতে প্রবেশ করা উচিত না। তাদের জন্য দুনিয়াতে লাঞ্ছনা এবং আখিরাতে রয়েছে মহা শাস্তি।"

[শানে নুযুল:
১/ বুখত নসর ও রোমানরা_ বাইতুল মুকাদ্দাস ধ্বংস করেছিল এবং তাদের ইবাদতে বাধা দিয়েছিল।
২/ মক্কার কাফিররা: তারা মুসলিমদের কাবা ঘরে নামাজ ও ওমরাহ করতে বাধা দিত। হুদাইবিয়ার সময়ও বাধা দিয়েছিল।
দুটোই উদ্দেশ্য হতে পারে। আয়াতের ভাষা সার্বজনীন।
যারা মসজিদ বন্ধ করে, আল্লাহ তাদেরকে এমন লাঞ্ছিত করবেন যে তারা নিজেরাই ভয়ে মসজিদে ঢুকতে পারবে না।]
১১৪

وَلِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ ۚ فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
পূর্ব ও পশ্চিম আল্লারই। অতএব, তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও, সেদিকেই আল্লাহ বিরাজমান। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ।
১১৫

তারা বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। তিনি তো এসব কিছু থেকে পবিত্র,
لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ كُلٌّ لَّهُ قَانِتُونَ
নভোমন্ডল- ভূমন্ডল, আসমান- জমিনে যা কিছু আছে, সবকিছুই আল্লাহর ইচ্ছার অধীন।
১১৬

بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ وَإِذَا قَضَىٰ أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُن فَيَكُونُ
আল্লাহ এই আসমান জমিনের নির্মাতা, তিনি যখন কোন কাজ করার সিন্ধান্ত নেন, তখন বলেন, “হও” আর তা হয়ে যায়।
১১৭

যারা কিছু জানে না, তারা বলে, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে কেন কথা বলেন না? অথবা আমাদের কাছে কোন নিদর্শন কেন আসে না? এমনি ভাবে তাদের পূর্বে যারা ছিল তারাও তাদেরই অনুরূপ কথা বলেছে। তাদের অন্তর একই রকম। নিশ্চয় আমি উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করেছি তাদের জন্যে যারা বিশ্বাসী।
১১৮

إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ بِالْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا ۖ وَلَا تُسْأَلُ عَنْ أَصْحَابِ الْجَحِيمِ
নিশ্চয় আমি আপনাকে সত্যধর্মসহ সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শনকারীরূপে পাঠিয়েছি। আপনি দোযখবাসীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন না।
১১৯

ইহুদী ও খ্রীষ্টানরা কখনই আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, যে পর্যন্ত না আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ করেন। বলে দিন,
_ ۗ قُلْ إِنَّ هُدَى اللَّهِ هُوَ الْهُدَىٰ
বলুন, আল্লাহর পথই হল সরল পথ, সঠিক পথ।
যে পথ আল্লাহ প্রদর্শন করেন, তাই হল সরল পথ। যদি আপনি তাদের আকাঙ্খাসমূহের অনুসরণ করেন, ঐ জ্ঞান লাভের পর, যা আপনার কাছে পৌঁছেছে, তবে কেউ আল্লাহর কবল থেকে আপনার উদ্ধারকারী ও সাহায্যকারী নেই।
১২০

আমি যাদেরকে কিতাব দান করেছি, তারা তা যথাযথভাবে পাঠ করে। তারাই তা বিশ্বাস করে। আর যারা তা অবিশ্বাস করে,
فَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ
তারাই হবে ক্ষতিগ্রস্ত।
১২১

হে বনী-ইসরাঈল! আমার (আল্লাহর) নেয়ামতের কথা স্মরণ করো, যা আমি তোমাদের দিয়েছি। আমি তোমাদেরকে বিশ্বাবাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।
১২২

তারা যা করেছে, তা তাদেরই জন্যে। তারা কি করত, সে সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে না
১৩৪

Address

Swarupkati
Swarupkati

Telephone

+8801717308899

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when KahafTv posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to KahafTv:

Shortcuts

Share

Category