বিভিন্ন আমল সম্পর্কে আয়াত :_
রোজা সম্পর্কে আয়াত_ (বাকারা ১৮৩-১৮৭)
____________________
যাকাত সম্পর্কে আয়াত
__________________________
হজ্জ- উমরাহ সম্পর্কে আয়াত _
(বাকারা ১৯৬, ১৯৭, ১৯৮, ১৯৯, ২০০, ২০১, ২০২, ২০৩,
__________________________
সম্পত্তি বন্টন আয়াত_ (সূরা বাকারা- ১৮০, ১৮১, ১৮২, ১৮৮,
__________________________
বিবাহ _ সম্পর্কে আয়াত_( বাকারা ২২১, ২২২, ২২৩, ২২৬, ২২৭, ২২৮, ২২৯, ২৩০, ২৩১, ২৩২, ২৩৩, ২৩৪, ২৩৫, ২৩৬, ২৩৭, ২৪০, ২৪১,
KahafTv
পড়, শেখ -জানো সেই আল্লাহর নামে...
যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন,
তিনিই শিখিয়েছেন
যা সে জানতো না...
16/08/2026
২/ সূরা বাকারা_ (গাভী),
মূল কয়েকটি বিষয়:
আল্লাহর বড়ত্ব, কুদরত, দয়া,
মূসা (আঃ) এর কওমের ঘটনা,
আহলে কিতাবীদের ঘটনা,
আল্লাহ, মানুষের হেদায়েতের জন্যে কিতাব নাযিল করেছেন,_ কুরআন হলো ফুরকান সত্য মিথ্যার পার্থক্যকারী কিতাব।
الم
আলিফ লাম মীম।
ذَٰلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ ۛ فِيهِ ۛ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ
এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। মুত্তাকিদের জন্য পথ প্রদর্শক (হেদায়াত স্বরূপ)
(সূরা বাকারা_১-২)
যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস করে, নামায প্রতিষ্ঠা করে। আমি (আল্লাহ) তাদেরকে যে রুযী দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে।
(সূরা বাকারা_৩)
যারা বিশ্বাস করেছে সেসব বিষয়ের উপর_ যা কিছু তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে (কুরয়ান) এবং সেসব বিষয়ের উপর যা তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। (আল্লাহর কিতাবসমূহ)
وَبِالْآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ
আখেরাতকে যারা বিশ্বাস করে।
৪/
أُولَـٰئِكَ عَلَىٰ هُدًى مِّن رَّبِّهِمْ ۖ وَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
তারা রব্বি আল্লাহর পক্ষ থেকে সুপথ প্রাপ্ত, তারাই সফলকাম। (বিজয়ী, জন্নাতি)
৫/
যারা কাফের-(অবিশ্বাসী) হয়েছে, আপনি-(নবী মোঃ সঃ) তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করুন আর নাই করুন তাতে কিছুই আসে যায় না, তারা ঈমান আনবে না।
৬/
خَتَمَ اللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ وَعَلَىٰ سَمْعِهِمْ ۖ وَعَلَىٰ أَبْصَارِهِمْ غِشَاوَةٌ ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ
আল্লাহ তাদের অন্তরে এবং তাদের কানসমূহ বন্ধ করে দিয়েছেন, আর তাদের চোখসমূহ পর্দায় ঢেকে দিয়েছেন।
তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।
ব্যাখ্যা:
(বার বার কুফরী, অবিশ্বাস, অহংকার, মিথ্যা, গুনাহ করলে অন্তর শক্ত হয়ে যায়। তখন সত্য শুনতে পায় না, সত্য দেখতে পায় না। এটা তাদের নিজের কাজের ফল)
৭/
মানুষের মধ্যে কিছু লোক এমন রয়েছে যারা বলে, আমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছি অথচ তারা আদৌ ঈমানদার নয়।
৮/
তারা আল্লাহ এবং ঈমানদারগণকে ধোঁকা দেয়। মূলতো তারা নিজেদেরকেই ধোঁকা দেয়, কিন্তু তারা তা বুঝতে পারে না।
৯/
তাদের অন্তরে রোগ রয়েছে, আল্লাহ তাদের রোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন।
ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْذِبُونَ
তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি, কারণ তারা মিথ্যা বলত।
১০/
তাদেরকে যখন বলা হয় যে, দুনিয়ার বুকে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে, আমরা তো মীমাংসার পথ অবলম্বন করেছি।
১১/
মূলতো তারাই অশান্তি সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা বুঝে না।
১২/
যখন তাদেরকে বলা হয়, অন্যান্যরা যেভাবে ঈমান এনেছে তোমরাও সেভাবে ঈমান আন, তখন তারা বলে, আমরা কি ঈমান আনব বোকাদেরই মত!
মনে রেখো, তারাই বোকা, কিন্তু তারা তা বোঝে না।
১৩/
তারা যখন ঈমানদারদের সাথে মিশে, তখন বলে, আমরা ঈমান এনেছি। আবার যখন তাদের শয়তানদের সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করে, তখন বলে, আমরা তোমাদের সাথে রয়েছি। আমরা তো (মুসলমানদের সাথে) উপহাস করি মাত্র।
১৪/
আল্লাহই তাদের সাথে উপহাস করেন। আল্লাহ তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছেন, যেন তারা নিজেদের অহংকার ও কুমতলবে হয়রান ও পেরেশান থাকে।
১৫/
أُولَـٰئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الضَّلَالَةَ بِالْهُدَىٰ فَمَا رَبِحَت تِّجَارَتُهُمْ وَمَا كَانُوا مُهْتَدِينَ
তারা সে সমস্ত লোক, যারা _ হেদায়েতের বিনিময়ে _ গোমরাহী ক্রয় করে। তারা তাদের এ ব্যবসায় লাভবান হতে পারেনি এবং তারা হেদায়েতও লাভ করতে পারেনি।
১৬/
তাদের অবস্থা সে ব্যক্তির মত, যে লোক কোথাও আগুন জ্বালালো এবং তার চারদিক আগুন স্পষ্ট (আলোকিত) করে তুললো, ঠিক এমনি সময় আল্লাহ তার চারদিকের আলোকে উঠিয়ে নিলেন এবং তাদেরকে অন্ধকারে ছেড়ে দিলেন। ফলে, তারা কিছুই দেখতে পায় না।
১৭/
তারা বধির, মূক ও অন্ধ। তারা ফিরে আসবে না।
১৮/
তাদের উদাহরণ সেসব লোকের মত যারা দুর্যোগপূর্ণ ঝড়ো রাতে পথ চলে, যাতে থাকে আঁধার, গর্জন ও বিদ্যুৎচমক। মৃত্যুর ভয়ে গর্জনের সময় কানে আঙ্গুল দিয়ে রক্ষা পেতে চায়। অথচ সমস্ত কাফেরই আল্লাহ কর্তৃক পরিবেষ্ঠিত।
১৯/
বিদ্যুতালোকে যখন সামান্য আলোকিত হয়, তখন কিছুটা পথ চলে। আবার যখন অন্ধকার হয়ে যায়, তখন দাঁড়িয়ে থাকে। যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন, তাহলে তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নিতে পারেন।
_إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
আল্লাহ যাবতীয় বিষয়ের উপর ক্ষমতাশীল।
২০/
হে লোক সকল! তোমরা তোমাদের পালনকর্তার এবাদত করো, যিনি তোমাদের এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদিগকে সৃষ্টি করেছেন। আশা করা যায়, তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পারবে।
২১/
আল্লাহ তোমাদের জন্য জমিনকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপন করেছেন, আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করে_ জমিতে ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন, খাদ্য হিসেবে।
অতএব, তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে সমকক্ষ করো না। এসব তোমরা জানো।
২২/
তোমাদের যদি এই (কুরআন) এ কোন সন্দেহ থাকে, তাহলে এর মতো একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এসো। তোমরা আল্লাহকে ছাড়া সব ধরনের সাহায্যকারীদের সঙ্গে নাও।
إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ
যদি তোমরা সত্যবাদী হও।
২৩/
যদি তা (সূরা রচনা) করতে না পারো, অবশ্য তা কখনও পারবে না। তাহলে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করো, যার জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর। যা প্রস্তুত করা হয়েছে অবিশ্বাসী- কাফেরদের জন্য।
২৪/
হে নবী (সাঃ), যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজসমূহ করেছে, আপনি তাদেরকে এমন বেহেশতের সুসংবাদ দিন,
যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত। তারা খাবার হিসেবে যখনই কোন ফল পাবে, তখনই তারা বলবে, এতো অবিকল সেই ফল যা আমরা ইতিপূর্বেও লাভ করেছিলাম। বস্তুতঃ তাদেরকে একই প্রকৃতির ফল প্রদান করা হবে। এবং সেখানে তাদের জন্য পবিত্র সঙ্গিনী থাকবে। তারা সেখানে অনন্তকাল থাকবে।
২৫/
আল্লাহ মশা কিংবা তার চেয়েও তুচ্ছ কোনো কিছুর উদাহরণ দিতে লজ্জাবোধ করেন না। যারা ঈমান এনেছে তারা জানে যে, এটি তাদের রবের পক্ষ থেকে সত্য।
আর যারা কুফর- অবিশ্বাস করেছে তারা বলে,_ আল্লাহ এ উদাহরণ দিয়ে কী বোঝাতে চেয়েছেন? এর দ্বারা তিনি অনেককে পথভ্রষ্ট করেন এবং অনেককে হেদায়েত দেন।
আল্লাহ ফাসিকদের ছাড়া কাউকে পথভ্রষ্ট- বিপদগামী করেন না।
[শানে নুযুল:
কাফির- অবিশ্বাসীরা_ ঠাট্টা করে বলত, কুরআনে মাকড়সা, মশা, মাছির কথা কেন? আল্লাহ এই আয়াতে তাদের কথার জবাব দিলেন। যে, মশার মধ্যেও আল্লাহর কুদরত আছে। ছোট জিনিস দিয়েও বড় শিক্ষা দেওয়া যায়]
২৬/
বিপথগামী তারাই, যারা আল্লাহর সঙ্গে অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে এবং আল্লাহ পাক যা অবিচ্ছিন্ন রাখতে বলেছেন, তা ছিন্ন করে, আর পৃথিবীর বুকে অশান্তি সৃষ্টি করে।
ۚ أُولَـٰئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ
তারাই বিপথগামী- ক্ষতিগ্রস্থ।
২৭/
কেমন করে তোমরা_ আল্লাহকে অস্বীকার করো? অথচ তোমরা ছিলে প্রাণহীন। আল্লাহ তোমাদেরকে প্রাণ দান করেছেন, আবার মৃত্যু দান করবেন। পুনরায় তোমাদেরকে আবার প্রাণদান করবেন। অতঃপর আল্লাহর দিকে সবাই ফিরে যাবে।
২৮/
আল্লাহ তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন_ জমীনে যা কিছু রয়েছে। তারপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং সাত আসমান তৈরি করলেন।
ۚ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
আল্লাহ সর্ববিষয়ে জ্ঞানী।
২৯/
হে বনী-ইসরাঈলগণ, তোমরা আমার (অনুগ্রহ) দয়ার কথা স্মরণ করো, এবং আমার সাথে যে প্রতিজ্ঞা করেছ তা পূরণ করো, তাহলে আমি তোমাদেরকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ করবো। আর আমাকেই ভয় করো।
৪০/
তোমরা সে গ্রন্থের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো, যা আমি নাযিল করেছি সত্যবক্তা হিসেবে। তোমরা তার প্রাথমিক অস্বীকারকারী হয়ো না, আর আমার আয়াতের অল্প মূল্য দিও না। এবং আমার (আযাব) থেকে বাঁচ।
তোমরা তার অস্বীকারকারী হয়ো না।
৪১/
তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না এবং জানা সত্ত্বে সত্যকে গোপন করো না।
৪২/
وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ
নামায কায়েম করো, যাকাত দান করো, জামাতে রুকু কারিদের সাথে রুকু করো।
৪৩/
তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও, আর নিজেদেরকে ভূলে যাও। অথচ তোমরা কিতাব পাঠ করো?
ۚ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
তবুও তোমরা বুঝ না?
৪৪/
তোমরা ধৈর্য্য আর নামাযের মাধ্যমে সাহায্য চাও, যদিও তা কঠিন। কিন্তু সে সমস্ত বিনয়ী লোকদের জন্য সহজ- সম্ভব।
৪৫/
যারা খেয়াল রাখে, তার পালনকর্তার সামনে তাকে উপস্থিত হতে হবে, তার দিকেই ফিরে যেতে হবে।
৪৬
হে বনী-ইসরাঈলগণ! তোমরা স্মরণ করো আমার (আল্লাহর) দয়া- নেয়ামতের কথা, যা আমি তোমাদের উপর করেছি এবং (স্মরণ করো) সে বিষয়টি যে, আমি তোমাদেরকে সমগ্র বিশ্বের উপর উচ্চমর্যাদা দান করেছি।
৪৭
সেই দিনকে ভয় করো, যেদিন কেউ কারও সামান্য উপকারে আসবে না, কোন সুপারিশ কবুল হবে না, কারও কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ নেয়া হবে না, এবং কেউ কোন রকম সাহায্যও পাবে না।
৪৮
আর (স্মরণ কর) সে সময়ের কথা, যখন আমি তোমাদিগকে মুক্তিদান করেছি ফেরআউনের লোকদের কবল থেকে যারা তোমাদিগকে কঠিন শাস্তি দিত; তোমাদের পুত্রসন্তানদেরকে জবাই করত এবং তোমাদের কন্যাকে অব্যাহতি দিত। তা ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে, মহা পরীক্ষা।
৪৯
আমি (আল্লাহ) তোমাদের জন্য সাগরকে দ্বিখন্ডিত করেছি, অতঃপর তোমাদেরকে বাঁচিয়ে দিয়েছি এবং ডুবিয়ে দিয়েছি ফেরআউনের লোকদিগকে, তোমরা তা দেখছিলে।
৫০
আমি মূসার সাথে ওয়াদা করেছি চল্লিশ রাত্রির, অতঃপর মূসার অনুপস্থিতিতে তোমরা গোবৎস বানিয়ে নিয়েছ। বস্তুতঃ তোমরা ছিলে যালেম।
৫১
আমি (আল্লাহ) তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে নাও।
৫২
الْكِتَابَ وَالْفُرْقَانَ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ
আমি মূসাকে কিতাব_ সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী বিধান দান করেছি, যাতে তোমরা সরল পথ প্রাপ্ত হতে পারো।
৫৩
মূসা (আঃ) তার সম্প্রদায়কে বলল, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা গাভী বানিয়ে (শিরক কর) তোমাদেরই ক্ষতি করেছ। কাজেই এখন তওবা করো, এবং নিজ নিজ প্রাণ বিসর্জন দাও। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর। তারপর তোমাদের প্রতি লক্ষ্য করা হল, (ক্ষমা করা হলো)
إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
নিঃসন্দেহে তিনিই (আল্লাহ) ক্ষমাকারী, অত্যন্ত মেহেরবান।
৫৪
যখন তোমরা (বনী ইসরাইল) বললে_ হে মূসা, আমরা তোমাকে কখনই বিশ্বাস করব না,
نَرَى اللَّهَ جَهْرَةً
যদি আল্লাহকে দেখতে না পাই।
তখন তোমাদেরকে পাকড়াও করল বিদ্যুৎ। অথচ তোমরা তা দেখে ছিলে।
৫৫
তোমরা মরে যাবার পর, আমি তোমাদের তুলে দাঁড় করিয়েছি, যাতে করে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে নাও।
৫৬
আমি তোমাদের উপর মেঘমালার দ্বারা ছায়া দান করেছি এবং তোমাদের জন্য খাবার পাঠিয়েছি ’মান্না’ ও সালওয়া’। সেসব পবিত্র খাবার তোমরা খাও যা আমি তোমাদেরকে দান করেছি।
মূলতো, তারা আমার কোন ক্ষতি করতে পারেনি, বরং নিজেদেরই ক্ষতি করেছে।
৫৭
যখন আমি (আল্লাহ) বললাম, তোমরা প্রবেশ করো এ নগরীতে (বাইতুল মুকাদ্দাস, জেরুজালেম) এবং যেখানে খুশী খেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে বিচরণ করতে থাকো এবং দরজার ভিতর দিয়ে প্রবেশ করার সময় সেজদা করে, ক্ষমা চেয়ে ঢুক, তাহলে আমি তোমাদের ক্ষমা করব এবং সৎ কর্মশীলদেরকে অতিরিক্ত দানও করব।
৫৮
তারা- জালেমরা তা করলো না, তারা কথা পাল্টে দিল, আমি (আল্লাহ) তাদের উপর আসমান থেকে আযাব পাঠিয়েছি, সীমা লংঘন করার কারণে।
৫৯
মূসা (আঃ) যখন নিজ জাতির জন্য পানি চাইল, তখন আমি বললাম, স্বীয় লাঠির দ্বারা পাথরের উপর আঘাত করো। অতঃপর তা থেকে প্রবাহিত হয়ে এল ১২টি ঝরনা। তাদের সব গোত্রই চিনে নিল নিজ নিজ ঘাট।
ۖكُلُوا وَاشْرَبُوا مِن رِّزْقِ اللَّهِ وَلَا تَعْثَوْا فِي_ الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ
আল্লাহর দেয়া রিযিক খাও, পান করো আর দুনিয়ার বুকে অশান্তি দাংগা-হাংগামা করো না।
৬০
তোমরা যখন বললে, হে মূসা, আমরা একই ধরনের খাবার (মান্না ওয়া সালওয়া) তে আর ধৈর্য্যধারণ করব না। কাজেই তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট আমাদের পক্ষে প্রার্থনা করো, তিনি যেন আমাদের জন্যে এমন বস্তুসামগ্রী দান করেন যা জমিতে উৎপন্ন হয়, তরকারী, কাকড়ী, গম, মসুরি, পেঁয়াজ ইত্যাদি। মূসা (আঃ) বললেন, তোমরা কি নিকৃষ্ট বস্তু চাও, উত্তম বস্তুর পরিবর্তে? তোমরা কোন নগরীতে যাও, তাহলেই পাবে যা তোমরা কামনা করছ।
তাদের উপর আরোপ করা হল লাঞ্ছনা ও পরমুখাপেক্ষিতা। তারা আল্লাহর রোষানল- ক্রোধে পতিত হয়ে ঘুরতে থাকল। এমন হলো এ জন্য যে, তারা আল্লাহর বিধি বিধান মানতো না এবং নবীগনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করত। তার কারণ, তারা ছিল নাফরমান সীমালংঘকারী সম্প্রদায়।
শানে নুযূল:
[আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দিলেন _ ফলে তারা সিনাই মরুভূমির ‘তীহ’ প্রান্তরে ৪০ বছর ধরে পথহারা ও দিশেহারা হয়ে ঘুরে বেড়াতে থাকলো।
শাস্তি হিসেবে তারা এই ময়দানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। তারা সারাদিন হেঁটেও কোনো বাহিরের পথ খুঁজে পেত না এবং দিনশেষে একই জায়গায় ফিরে আসত। সকালে রওনা করতো বিকালে ঐ জায়গায় আসতো যেখান থেকে রওনা করছিল।
মুসা (আঃ) এবং হারুন (আঃ) উভয়েই এই প্রান্তরে ইন্তেকাল করেন]
৬১
যারা মুসলিম হয়েছে এবং ইহুদী, নাসারা_(খৃষ্টান) ও সাবেঈন_
[সাবেইনের ব্যপারে ৩টি মত_
১। যারা তারকার উপাসক,
২। হযরত ইয়াহিয়া (আঃ) এর অনুসারী,
৩। দ্বীন ত্যাগ করে অন্য দ্বীনে যাওয়া,]
তাদের মধ্য থেকে যারা ঈমান আনে_ আল্লাহ ও কিয়ামত প্রতি, সৎকাজ করে।
তাদের জন্য রয়েছে সওয়াব।
وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
তাদের কোনই ভয় নেই, তারা দুঃখও পাবে না।
৬২
আমি (আল্লাহ) যখন তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম এবং তুর পর্বতকে তোমাদের মাথার উপর তুলে ধরেছিলাম এই বলে যে, তোমাদিগকে যে কিতাব দেয়া হয়েছে তাকে ধর সুদৃঢ়ভাবে এবং এতে যা কিছু রয়েছে তা মানো, তোমরা আমাকে (আল্লাহ) কে ভয় করো।
৬৩
তারপরেও তোমরা ফিরে গেলে,
فَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ لَكُنتُم مِّنَ الْخَاسِرِينَ
আল্লাহর দয়া আর মেহেরবানী যদি তোমাদের উপর না থাকত, তবে তোমরা ধবংস হয়ে যেতে।
৬৪
যারা শনিবারের ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘণ করেছিল। (শনিবার মাছ ধরা নিষেধ ছিল, তারা জাল দিয়ে মাছ আটকে রাখতো পরের দিন মাছ ধরতো, তার কৌশলে আল্লাহর নাফরমানী করলো)
আল্লাহ তাদেরকে বললেন_ তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও।
৬৫
আমি এ ঘটনাকে তাদের সমসাময়িক ও পরবর্তীদের জন্য দৃষ্টান্ত এবং আল্লাহভীরুদের জন্য উপদেশ গ্রহণের উপাদান করে দিয়েছি।
৬৬
মূসা (আঃ) তার সম্প্রদায়কে বললেন_ আল্লাহ তোমাদের একটি গরু জবাই করতে বলেছেন। তারা বলল, তুমি কি আমাদের সাথে উপহাস করছ? মূসা (আঃ) বললেন, মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় কামনা করছি।
৬৭
তারা মূসূা (আঃ) কে বলল, আপনি আল্লাহর কাছে জিজ্ঞাসা করুন_ কেমন গরু জবাই করবো?
আল্লাহ, মূসা (আঃ) কে বললেন, একটা গাভী, যা বৃদ্ধ নয়, কুমারীও নয়, বার্ধক্য- যৌবনের মাঝামাঝি বয়সের। এখন আদেশ পালন করো।
৬৮
তারা মূসা (আঃ) কে বলল, আপনি আল্লাহর কাছে জিজ্ঞাসা করুন_ তার রঙ কেমন হবে? আল্লাহ, মূসা (আঃ) বললেন, হলুদ রঙের গাভী-যা দর্শকদের আকর্ষণ করবে।
৬৯
তারা মূসা (আঃ) কে বলল, আপনি আল্লাহর কাছে জিজ্ঞাসা করুন_গাভীটা কিরূপ হবে, গরু আমাদের কাছে একই রকম মনে হয়। আল্লাহ, মূসা (আঃ) বললেন, যে গাভী চাষাবাদ ও জল সেচের শ্রমে অভ্যস্ত নয়, নিষ্কলঙ্ক, নিখুঁত।
অতঃপর তারা সেই গাভী জবাই করলো।
(সংক্ষিপ্ত)
ব্যাখ্যা:
[আল্লাহ গরু জবাই করতে বলেছেন, তারা যদি প্রথমেই যে কোনো একটা গরু জবাই করতো তাহলেই হুকুম আদায় হয়ে যেত।
কিন্তু বারবার প্রশ্ন করায়_ আল্লাহ তাদের উপর শরিয়ত কঠিন করে দিয়েছিলেন। ঐরকম গাভী পাওয়া কঠিন হয়ে গেল।
রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন:
তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা তাদের নবীদেরকে বেশি প্রশ্ন করা এবং তাদের সাথে মতবিরোধ করার কারণে ধ্বংস হয়েছে।
সুতরাং আমি যখন তোমাদেরকে কোনো বিষয়ের আদেশ দেই, তখন তা যথাসাধ্য পালন করো। আর যখন কোনো বিষয়ে নিষেধ করি, তখন তা থেকে বিরত থাকো।
[সহীহ বুখারী: ৭২৮৮, সহীহ মুসলিম: ১৩৩৭]
ইবনে কাসির (রহঃ)বলেন:
যদি তারা প্রথম আদেশেই যে কোনো গাভী জবাই করতো, তাহলে তা যথেষ্ট হতো। কিন্তু তারা কঠিন করল, তাই আল্লাহও তাদের উপর কঠিন করে দিলেন]
৭০-৭১
তোমরা একজনকে হত্যা করে_ সে সম্পর্কে একে অপরকে অভিযুক্ত করেছিলে। যা তোমরা গোপন করছিলে, তা প্রকাশ করে দেয়া ছিল আল্লাহর উদ্দেশ্য।
৭২
অতঃপর আমি বললামঃ গরুর একটি খন্ড দ্বারা মৃতকে আঘাত কর। এভাবে আল্লাহ মৃতকে জীবিত করেন এবং তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শণ সমূহ প্রদর্শন করেন-যাতে তোমরা চিন্তা করো।
৭৩
অতঃপর এ ঘটনার পরে তোমাদের অন্তর কঠিন হয়ে গেছে। তা পাথরের মত অথবা তদপেক্ষাও কঠিন। পাথরের মধ্যে এমন ও আছে; যা থেকে ঝরণা প্রবাহিত হয়, এমনও আছে, যা বিদীর্ণ হয়, অতঃপর তা থেকে পানি নির্গত হয় এবং এমনও আছে, যা আল্লাহর
ভয়ে খসেপড়তে থাকে!
وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ
আল্লাহ তোমাদের কাজকর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন।
৭৪
হে মুসলমানগণ, তোমরা কি আশা কর যে, তারা তোমাদের কথায় ঈমান আনবে? তাদের মধ্যে একদল ছিল, যারা আল্লাহর বাণী শ্রবণ করত; আর তা বুঝে-শুনে পরিবর্তন করত।
৭৫
তারা যখন ঈমানদারদের সাথে মিলিত হয়, তখন বলে আমরা ঈমান এনেছি।
আর যখন তারা একে অপরের সাথে নির্জনে মিলিত হয়, তখন বলে, তোমরা কি তাদেরকে সেই কথা বলে দিচ্ছ যা আল্লাহ তোমাদের কাছে প্রকাশ করেছেন, যাতে তারা তোমাদের রবের কাছে তোমাদের বিরুদ্ধে দলিল পেশ করতে পারে? তোমরা কি বোঝো না?
শানে নুযুল:
[মদীনার কিছু ইহুদি আলেম ছিল। তারা যখন মুসলমানদের সাথে দেখা করত তখন বলত "আমরা ঈমান এনেছি, মুহাম্মদ (সঃ) সত্য নবী"
কিন্তু নিজেদের মধ্যে গিয়ে বলত "খবরদার! তাওরাতে মুহাম্মাদ (সঃ) এর নবুওতের যে নিদর্শন আছে তা মুসলমানদেরকে বলো না। কারণ তারা এটা দিয়ে কিয়ামতে আল্লাহর কাছে তোমাদের বিরুদ্ধে দলিল দেবে]
৭৬
أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ
আল্লাহ সেসব বিষয়ও জানেন যা তারা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে।
৭৭
তোমাদের কিছু লোক_ নিরক্ষর মূর্খ, তারা মিথ্যা আশা করে, আসমনি কিতাবের কিছুই জানে না। তাদের কাছে কল্পনা ছাড়া কিছুই নেই।
৭৮
আফসোস! তাদের জন্য যারা নিজ হাতে বই লেখে এবং বলে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, যাতে এর বিনিময়ে সামান্য অর্থ গ্রহণ করতে পারে। অতএব তাদের প্রতি আক্ষেপ-(লানত), তাদের হাতের লেখার জন্য এবং তাদের প্রতি আক্ষেপ- (লানত), তাদের উপার্জনের জন্যে।
৭৯
তারা বলে (আহলে কিতাব) আগুন আমাদিগকে কখনও স্পর্শ করবে না; কিন্তু গণাগনতি কয়েকদিন। (আহলে কিতাব) তারা বলে_ (জাহান্নামের) আগুন আমাদের কখনও স্পর্শ করবে না, যদি করে তা কয়েক দিনের জন্য।
(তারা এসব বলে লোকদেরকে ইসলাম গ্রহণে বাঁধা দিত)
(নবী মোঃ সঃ) আপনি বলে দিনঃ তোমরা কি আল্লাহর কাছ থেকে কোন অঙ্গীকার পেয়েছ যে, আল্লাহ কখনও তার খেলাফ করবেন না, তোমরা যা জান না, তা আল্লাহর সাথে জুড়ে দিচ্ছ।
৮০
যে ব্যক্তি পাপ করে , সেই পাপ তাকেই ঘিরে রাখে।
فَأُولَـٰئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
তারাই দোযখের অধিবাসী। তারা সেখানেই চিরকাল থাকবে।
৮১
(82
وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَـٰئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
আর যারা ঈমান আনে সৎকাজ করে তারাই জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।
আমি (আল্লাহ) বনী-ইসরাঈলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারও উপাসনা করবে না, পিতা-মাতা, আত্নীয়-স্বজন, এতীম ও দীন-দরিদ্রদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, মানুষকে সৎ কথাবার্তা বলবে, নামায প্রতিষ্ঠা করবে এবং যাকাত দেবে, তখন সামান্য কয়েকজন ছাড়া তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে, তোমরাই অগ্রাহ্যকারী।
৮৩
আমি (আল্লাহ) তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা পরস্পর খুনাখুনি করবে না এবং নিজেদেরকে দেশ থেকে বহিস্কার করবে না, তখন তোমরা তা স্বীকার করেছিলে এবং তোমরা তার সাক্ষ্য দিচ্ছিলে।
৮৪
অতঃপর তোমরাই পরস্পর খুনাখুনি করছ এবং তোমাদেরই একদলকে তাদের দেশ থেকে বহিস্কার করছ। তাদের বিরুদ্ধে পাপ ও অন্যায়ের মাধ্যমে আক্রমণ করছ। আর যদি তারাই কারও বন্দী হয়ে তোমাদের কাছে আসে, তবে বিনিময় নিয়ে তাদের মুক্ত করছ। অথচ তাদের বহিস্কার করাও তোমাদের জন্য অবৈধ। তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু বিশ্বাস করো এবং কিছু অবিশ্বাস করো?
যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে দূগর্তি ছাড়া তাদের আর কোনই পথ নেই। কিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে পৌঁছে দেয়া হবে। আল্লাহ তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন।
৮৫
এরাই পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবন ক্রয় করেছে। অতএব এদের শাস্তি লঘু হবে না এবং এরা সাহায্যও পাবে না।
৮৬
তারা বলে, আমাদের অন্তরসমূহ আচ্ছাদিত। বরং তাদের কুফরীর কারণে আল্লাহ তাদেরকে লা'নত করেছেন। তাই তারা অল্পই ঈমান আনে।
[সংক্ষিপ্ত তাফসীর:
এই আয়াতে ইহুদিদের একটা অহংকারের কথা বলা হয়েছে।
"قُلُوبُنَا غُلْفٌ" = "আমাদের অন্তর ঢাকা, নবীজির কথা আমাদের অন্তরে ঢুকে না। আমরা বুঝি না। তাই আমাদের দোষ নাই।
আল্লাহর জবাব: "بَل لَّعَنَهُمُ اللَّهُ" = বরং আল্লাহ তাদেরকে লা'নত করেছেন।
আসল কারণ হলো তাদের কুফরী ও হঠকারিতা। এজন্য আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন।
সত্য সামনে আসার পরও খুব কম সংখ্যকই ঈমান আনে]
৮৮
যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব এসে পৌঁছাল, যা সে বিষয়ের সত্যায়ন করে, যা তাদের কাছে রয়েছে এবং তারা পূর্বে করত। অবশেষে যখন তাদের কাছে পৌঁছল যাকে তারা চিনে রেখেছিল, তখন তারা তা অস্বীকার করে বসল।
فَلَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْكَافِرِينَ
কাফিরদের উপর আল্লাহর লা'নত।
[শানে নুযুল:
মদীনার ইহুদিরা মুশরিক আউস ও খাযরাজ গোত্রকে বলত_ শেষ নবীর যুগ এসে গেছে। আমরা তার সাথে মিলে তোমাদেরকে আদ জাতির মতো ধ্বংস করে দেব।
তারা তাওরাতের ভবিষ্যৎবাণী দিয়ে দোয়া করত_ হে আল্লাহ, এই শেষ নবীর উসিলায় আমাদেরকে সাহায্য করুন।
কিন্তু যখন মুহাম্মদ (সঃ) হযরত ইসমাইল (আঃ) এর বংশ থেকে আসলেন, তখন হিংসা আর অস্বীকার করল। কারন হলো শেষ নবী কেন তাদের বংশে আসলো না]
৮৯
যার বিনিময়ে তারা নিজেদের বিক্রি করেছে, তা খুবই মন্দ; আল্লাহ যা নযিল করেছেন, তারা তা অস্বীকার করেছে, আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা অনুগ্রহ নাযিল করেন। তারা আল্লাহর ক্রোধের উপর ক্রোধ অর্জন করেছে।
وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ مُّهِينٌ
কাফেরদের জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।
৯০
যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ যা পাঠিয়েছেন (কুরআন) তা মেনে নাও, তখন তারা বলে_ আমাদের প্রতি যা অবর্তীণ হয়েছে তা বাদে সবগুলোকে অস্বীকার করি। অথচ এই কিতাব সত্য এবং সত্যায়ন করে ঐ কিতাবের যা তাদের কাছে রয়েছে।
আপনি (মুহাম্মাদ) তাদের কে বলে দিন_ তোমরা যখন বিশ্বাসী ছিলে তখন নবীদেরকে কেন হত্যা করতে?
৯১
স্পষ্ট মু’জেযাসহ মূসা (আঃ) তোমাদের কাছে এসেছেন। তার অনুপস্থিতিতে তোমরা গোবৎস বানিয়েছ, তোমরা মূলত জালেম- অত্যাচারী।
৯২
যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম এবং তূর পাহাড়কে তোমাদের উপরে তুলে ধরলাম। আমি বললাম, আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি তা দৃঢ়ভাবে ধরো এবং শোনো।
তারা বলল, আমরা শুনলাম এবং অমান্য করলাম। তাদের কুফরির কারণে তাদের অন্তর গরু (পুজা- শিরকে) লিপ্ত হলো। বলো, তোমাদের ঈমান কি মন্দ বিষয় শিক্ষা দেয়।
৯৩
যদি আখেরাতের বাসস্থান (জান্নাত) আল্লাহর কাছে একমাত্র তোমাদের (আহলে কিতাবিদের) জন্যই বরাদ্দ থাকে-অন্য লোকদের বাদ দিয়ে, তবে মৃত্যু কামনা করো, যদি সত্যবাদী হও।
৯৪
তারা কখনোই মৃত্যু কামনা করবে না, কারন তারা গোনহগার।
_ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالظَّالِمِينَ_
আল্লাহ গোনাহগারদের সম্পর্কে অবগত আছেন।
৯৫
তারা সবার চাইতে, এমনকি মুশরিকদের চাইতেও অধিক লোভী। তারা আশা করে, যেন হাজার বছর বেচে থাকতে পারে, অথচ এই _হায়াত তাদেরকে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না।
ۗ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِمَا يَعْمَلُونَ
আল্লাহ দেখেন যা কিছু তারা করে।
৯৬
যে লোক, ফেরেশতা জিবরাইলের শত্রু হবে, সে জেনে রাখুক যে, সেই ফেরেশতা জিবরাইল তো আল্লাহর আদেশে তোমার অন্তরে কুরআন নাযিল করেছে,
যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী, মুমিনদের জন্য পথনির্দেশ ও সুসংবাদ।"
শানে নুযুল:
[ইহুদি আলেমরা রাসূল (সঃ) কে জিজ্ঞেস করল: কোন ফেরেশতা আপনার কাছে ওহী নিয়ে আসে?
নবীজী বললেন: জিবরাইল ফেরেশতা।
তখন তারা বলল: জিবরাইল আমাদের দুশমন। মিকাইল ফেরেশতা হলে আমরা ঈমান আনতাম।
তখন আল্লাহ এই আয়াত নাযিল করলেন]
৯৭
যে ব্যক্তি আল্লাহ তাঁর ফেরেশতা ও রসূলগণ এবং জিবরাঈল ও মিকাঈলের শত্রু হয়, নিশ্চই আল্লাহ_সেসব কাফেরদের শত্রু।
৯৮
আমি আপনার প্রতি উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ অবতীর্ণ করেছি। অবাধ্যরা ব্যতীত কেউ এগুলো অস্বীকার করে না।
৯৯
কি আশ্চর্য, যখন তারা কোন অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়, তখন তাদের একদল তা ছুঁড়ে ফেলে দেয়,
ۚ أَكْثَرُهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ_
অধিকাংশ লোকই বিশ্বাস করে না।
১০০
যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রসূল আগমন করলেন-যিনি ঐ কিতাবের সত্যায়ন করেন, যা তাদের কাছে রয়েছে, তখন আহলে কেতাবদের একদল আল্লাহর কিতাবকে পিছনে নিক্ষেপ করল-যেন তারা জানেই না।
১০১
যদি তারা ঈমান আনত এবং খোদাভীরু হত, তবে আল্লাহর কাছ থেকে উত্তম প্রতিদান পেত। যদি তারা জানত।
১০৩
হে মুমিন গণ, তোমরা ‘রায়িনা’ বলো না-‘উনযুরনা’ বল এবং শুনতে থাক।
ۗ وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ أَلِيمٌ
কাফেরদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি।
_ رَاعِنَا وَقُولُوا انظُرْنَا _
আল্লাহ তায়ালা বলেন যে, তোমরা ‘রায়িনা’ বলো না-‘উনযুরনা’ বলো এবং শুনতে থাকো।
শানে নুযূল:
[আল্লাহ মুমিনদের নবীজী (স:) এর প্রতি আদব শিখান। সর্বোচ্চ সম্মান শিখান। ইহুদিরা নবীজীকে ‘রায়িনা’ (আমাদের খেয়াল করো) শব্দটিকে বিকৃত করে বিদ্রূপ করত (আমাদের রাখাল) বলে অপমান করতো। আল্লাহ এর পরিবর্তে সম্মানজনক শব্দ ‘উনযুরনা’ (আমাদের দিকে নজর দিন/লক্ষ্য করুন) ব্যবহার করতে, আর মনোযোগ দিয়ে শুনতে বলেছেন]
যারা ইচ্ছাকৃত ভাবে রাসূল (সা.)-কে অপমান করার জন্য, শব্দের বিকৃতি ঘটায়, তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
১০৪
আহলে কিতাব, মুশরিকরা অবিশ্বাসীরা কখনই চায় না, যে_ মুমিনদের কোন কল্যাণ হোক, ভালো হোক। আল্লাহই মুমিনদের দয়া করেন, রহম করেন। যাকে ইচ্ছা বিষেশ নেয়ামত দান করেন। আল্লাহ মহান দাতা,অনুগ্রহদাতা,
وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ
আল্লাহ মহান দাতা, অফুরন্ত নেয়ামত দান কারি।
১০৫
আমি (আল্লাহ) কোনো আয়াত রহিত করলে অথবা (ভুলিয়ে- পরিবর্তন) দিলে, তার চেয়ে উত্তম অথবা তার সমতুল্য আয়াত নিয়ে আসি। তুমি কি জানো না যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান?
মুখতাসার মোজাকারা:
এই আয়াতকে "আয়াতে নাসখ" বলা হয়।
নাসখ এর অর্থ: রহিত করা, পরিবর্তন করা
আল্লাহ আগের শরীয়তের কোনো বিধানকে পরের বিধান দিয়ে পরিবর্তন করেছেন।
নতুন বিধান আগেরটার চেয়ে বান্দার জন্য সহজ ও কল্যাণকর। এটা আল্লাহর রহমত।
"أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ"
এটা নিয়ে সন্দেহ করার কিছু নেই। কারণ_
_ أَنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান, শক্তিমান।
১০৬
_ أَنَّ اللَّهَ لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۗ وَمَا لَكُم مِّن دُونِ اللَّهِ مِن وَلِيٍّ وَلَا نَصِيرٍ
তুমি কি জান না যে, আল্লাহর জন্যই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের আধিপত্য? আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোন বন্ধু ও সাহায্যকারী নেই।
১০৭
ইতিপূর্বে মূসা (আঃ) যেমন জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন, (মুসলমানগন) তোমরাও কি তোমাদের রসূলকে তেমনি প্রশ্ন করতে চাও? যে কেউ ঈমানের পরিবর্তে কুফর গ্রহন করে, সে সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়।
১০৮
আহলে কিতাবদের অনেকেই প্রতিহিংসাবশতঃ চায় যে, মুসলমান হওয়ার পর তোমাদেরকে কোন রকমে কাফের বানিয়ে দেয়। তাদের কাছে সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর (তারা এটা চায়)। যাক তোমরা আল্লাহর নির্দেশ আসা পর্যন্ত তাদের ক্ষমা করো এবং উপেক্ষা করো।
_ ۗ إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
১০৯
_وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ ۚ
তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা করো, যাকাত দাও। যতটুকু ভালোকাজ, নেক আমল (পূর্বে) করবে, তা আল্লাহর কাছে পাবে।
ۗ إِنَّ اللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ_
তোমরা যা কিছু করো, আল্লাহ তা দেখেন।
১১০
(আহলে কিতাব) তারা বলে_ ইহুদী অথবা খ্রীস্টান ছাড়া কেউ জান্নাতে যাবে না। এটা ওদের মনের বাসনা।
ۗ قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ
তাদেরকে বলে দিন_ প্রমাণ দিয়ে কথা বলো, যদি সত্যবাদী হও।
১১১
যে ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহর জন্য সমর্পন করেছে এবং সে সৎকর্মশীলও তার জন্য রয়েছে পুরস্কার, তার রবের কাছে।
وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে ন।
১১২
ইহুদীরা বলে, খ্রীস্টানরা কোন ভিত্তির উপরেই নয় এবং খ্রীস্টানরা বলে, ইহুদীরা কোন ভিত্তির উপরেই নয়। অথচ ওরা সবাই কিতাব পাঠ করে!
এমনিভাবে যারা মূর্খ, তারাও ওদের মতই উক্তি করে। অতএব, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাদের মধ্যে ফয়সালা দেবেন, যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করছিল।
১১৩
তার চেয়ে বড় জালিম কে, যে আল্লাহর মসজিদগুলোতে তাঁর নাম স্মরণ করতে বাধা দেয় এবং সেগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করে? তাদের তো ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থা ছাড়া সেগুলোতে প্রবেশ করা উচিত না। তাদের জন্য দুনিয়াতে লাঞ্ছনা এবং আখিরাতে রয়েছে মহা শাস্তি।"
[শানে নুযুল:
১/ বুখত নসর ও রোমানরা_ বাইতুল মুকাদ্দাস ধ্বংস করেছিল এবং তাদের ইবাদতে বাধা দিয়েছিল।
২/ মক্কার কাফিররা: তারা মুসলিমদের কাবা ঘরে নামাজ ও ওমরাহ করতে বাধা দিত। হুদাইবিয়ার সময়ও বাধা দিয়েছিল।
দুটোই উদ্দেশ্য হতে পারে। আয়াতের ভাষা সার্বজনীন।
যারা মসজিদ বন্ধ করে, আল্লাহ তাদেরকে এমন লাঞ্ছিত করবেন যে তারা নিজেরাই ভয়ে মসজিদে ঢুকতে পারবে না।]
১১৪
وَلِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ ۚ فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
পূর্ব ও পশ্চিম আল্লারই। অতএব, তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও, সেদিকেই আল্লাহ বিরাজমান। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ।
১১৫
তারা বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। তিনি তো এসব কিছু থেকে পবিত্র,
لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ كُلٌّ لَّهُ قَانِتُونَ
নভোমন্ডল- ভূমন্ডল, আসমান- জমিনে যা কিছু আছে, সবকিছুই আল্লাহর ইচ্ছার অধীন।
১১৬
بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ وَإِذَا قَضَىٰ أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُن فَيَكُونُ
আল্লাহ এই আসমান জমিনের নির্মাতা, তিনি যখন কোন কাজ করার সিন্ধান্ত নেন, তখন বলেন, “হও” আর তা হয়ে যায়।
১১৭
যারা কিছু জানে না, তারা বলে, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে কেন কথা বলেন না? অথবা আমাদের কাছে কোন নিদর্শন কেন আসে না? এমনি ভাবে তাদের পূর্বে যারা ছিল তারাও তাদেরই অনুরূপ কথা বলেছে। তাদের অন্তর একই রকম। নিশ্চয় আমি উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করেছি তাদের জন্যে যারা বিশ্বাসী।
১১৮
إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ بِالْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا ۖ وَلَا تُسْأَلُ عَنْ أَصْحَابِ الْجَحِيمِ
নিশ্চয় আমি আপনাকে সত্যধর্মসহ সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শনকারীরূপে পাঠিয়েছি। আপনি দোযখবাসীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন না।
১১৯
ইহুদী ও খ্রীষ্টানরা কখনই আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, যে পর্যন্ত না আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ করেন। বলে দিন,
_ ۗ قُلْ إِنَّ هُدَى اللَّهِ هُوَ الْهُدَىٰ
বলুন, আল্লাহর পথই হল সরল পথ, সঠিক পথ।
যে পথ আল্লাহ প্রদর্শন করেন, তাই হল সরল পথ। যদি আপনি তাদের আকাঙ্খাসমূহের অনুসরণ করেন, ঐ জ্ঞান লাভের পর, যা আপনার কাছে পৌঁছেছে, তবে কেউ আল্লাহর কবল থেকে আপনার উদ্ধারকারী ও সাহায্যকারী নেই।
১২০
আমি যাদেরকে কিতাব দান করেছি, তারা তা যথাযথভাবে পাঠ করে। তারাই তা বিশ্বাস করে। আর যারা তা অবিশ্বাস করে,
فَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ
তারাই হবে ক্ষতিগ্রস্ত।
১২১
হে বনী-ইসরাঈল! আমার (আল্লাহর) নেয়ামতের কথা স্মরণ করো, যা আমি তোমাদের দিয়েছি। আমি তোমাদেরকে বিশ্বাবাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।
১২২
তারা যা করেছে, তা তাদেরই জন্যে। তারা কি করত, সে সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে না
১৩৪
১/আলহামদুলিল্লাহ
১/ ভূমিকা আল্লাহর পরিচয়, বড়ত্ব:
الْحَمْدُ لِلَّهِ، الْحَمْدُ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنُؤْمِنُ بِهِ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْهِ
وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ
وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ سَيِّدَنَا وَسَنَدَنَا وَنَبِيَّنَا وَمَوْلَانَا مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
أَرْسَلَهُ بِالْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا، وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
وَمَن يُطِعِ ٱللَّهَ وَٱلرَّسُولَ فَأُوْلَـٰٓئِكَ مَعَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمَ ٱللَّهُ عَلَيْهِم مِّنَ ٱلنَّبِيِّــۧنَ وَٱلصِّدِّيقِينَ وَٱلشُّهَدَآءِ وَٱلصَّـٰلِحِينَۚ وَحَسُنَ أُوْلَـٰٓئِكَ رَفِيقًا
যারা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে তারা তাদের সাথে থাকবে, আল্লাহ যাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীলদের মধ্য থেকে। আর সাথী হিসেবে তারা হবে উত্তম।
(সূরা নিসা_৬৯)
قُلْ إِنَّ صَلَاتِى وَنُسُكِى وَمَحْيَاىَ وَمَمَاتِى لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ
‘নিশ্চয় আমার নামাজ, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মরন আল্লাহর জন্য, যিনি সকল সৃষ্টির রব’।
(সূরা আনআম_ ১৬২)
إِلَّا مَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ عَمَلاً صَـٰلِحًا فَأُوْلَـٰٓئِكَ يُبَدِّلُ ٱللَّهُ سَيِّـَٔـاتِهِمْ حَسَنَـٰتٍۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا
যে তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে। আল্লাহ তাদের পাপগুলোকে পূণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
(সূরা ফুরকান_ ৭০)
_____________________________ পৃ ২
________সূরা ফাতিহা_ (ভূমিকা)
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ_الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার জন্য,
যিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু।
যিনি বিচার দিনের মালিক।
আমরা আপনারই ইবাদত করি এবং আপনার কাছেই সাহায্য চাই।
আমাদের সরল পথ দেখান, যাদের আপনি নেয়ামত দান করেছেন; যারা আপনার গজবের পাত্র নয় এবং যারা পথভ্রষ্টও নয়।
আল্লাহ পবিত্র সত্তা, যার কোন অংশ নেই। তিনি এক, বেনিয়াজ অমুখাপেক্ষী, কারো উপর নির্ভরশীল না। তার কোন পরিবার নেই।_
[وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ]
তার সমতুল্য বা সমকক্ষ কে নেই। আল্লাহ সুবহান, কুদ্দুস আল্লাহ পবিত্র, আল্লাহ নির্দোষ।
_ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يَصِفُونَ _
আল্লাহ পবিত্র, মুক্ত সমস্ত অপবিত্রতা থেকে। আল্লাহ সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।
اللَّهُ لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ
আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক।
_ لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ _
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব আল্লাহর। আল্লাহতালা মহা শক্তিধর, আসমান-জমিন সমস্ত মুলকের রাজত্বের মালিক একমাত্র আল্লাহ।
إِنَّ اللَّهَ لَا يَخْفَىٰ عَلَيْهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ
আল্লাহর নিকট আসমান ও যমীনের কোন বিষয়ই গোপন নেই। (সূরা ইমরান_৫)
_ إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ_
নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান, আল্লাহ সকল বিষয় সর্বশক্তিমান।
_ اللَّهَ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ _
আল্লাহ তাই করেন, যা তিনি ইচ্ছা করেন।
_ بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ_
আল্লাহ তা’য়ালা নভোমন্ডল- ভূমন্ডলের নির্মাতা। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর অভিনব সৃষ্টিকর্তা।
ۚ لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
আল্লাহ, তোমাদের আকৃতি গঠন করেন মায়ের গর্ভে, যেমন তিনি চেয়েছেন। আল্লাহ ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই। তিনি প্রবল পরাক্রমশীল, প্রজ্ঞাময়।
شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ
আল্লাহ নিজেই নিজের সাক্ষ্য দেন যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই। (সূরা ইমরান_১৮)
_وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ وَكِيلًۭا_
অভিভাবক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। সমস্ত কিছু তারই মালিকানাধীন।
_ خَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ _
তিনি সব কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং সব বিষয়ে অবগত, ওয়াকেবহাল। সমস্ত কিছুর সুবিধা-অসুবিধা, সৃষ্টি-ধ্বংস, উত্থান-পতন আল্লাহর হুকুমের অধীন।_
ٱلَّذِى خَلَقَ سَبْعَ سَمَـٰوَٲتٍ طِبَاقًاۖ مَّا تَرَىٰ فِى خَلْقِ ٱلرَّحْمَـٰنِ مِن تَفَـٰوُتٍۖ فَٱرْجِعِ ٱلْبَصَرَ هَلْ تَرَىٰ مِن فُطُورٍ
আল্লাহ স্তরে স্তরে সাত আসমান সৃষ্টি করেছেন। এই সৃষ্টিতে কোনো অসামঞ্জস্য বা ত্রুটি দেখতে পাবেন না। বারবার দৃষ্টি ফিরিয়ে দেখো, কোনো ফাটল, ত্রুটি, বা খুঁত দেখতে পাও কি? (সূরা মুলক_৩)
আসমানকে দেখতে থাকো, দেখতে দেখতে তোমাদের চোখ ক্লান্ত হয়ে তোমাদের কাছেই ফিরে আসবে আমার সৃষ্টির মধ্যে কোন খুদ দেখতে পাবে না।
_كُن فَيَكُونُ_
আল্লাহ বলেন_ ‘কুন ফাইয়া কুন’ “হও আর তা হয়ে যায়”
আসমান-জমিন, পাহাড়-পর্বত, গ্রহ-নক্ষত্র, আলো-অন্ধকার সবকিছুই তার নিপুন সৃষ্টি।
_قُلِ اللّٰهُمَّ مٰلِكَ الۡمُلۡكِ تُؤۡتِى الۡمُلۡكَ مَنۡ تَشَآءُ وَتَنۡزِعُ الۡمُلۡكَ مِمَّنۡ تَشَآءُ وَتُعِزُّ مَنۡ تَشَآءُ وَتُذِلُّ مَنۡ تَشَآءُ ؕ بِيَدِكَ الۡخَيۡرُؕ اِنَّكَ عَلٰى كُلِّ شَىۡءٍ قَدِيۡرٌ ٢٦
আল্লাহ সমুদয় রাজ্যের মালিক। যাকে ইচ্ছে রাজ্য দান করেন, আর যার থেকে ইচ্ছে রাজ্য কেড়ে নেন। যাকে ইচ্ছে সম্মানিত করেন, আর যাকে ইচ্ছে অপদস্থ করেন। তার হাতে সব রকম কল্যাণ। নিশ্চয়ই তিনি সকল বস্তুর উপর ক্ষমতাবান।
(সূরা ইমরান_২৬)
এই রাত আর দিন আল্লাহর সৃষ্টি _
_تُوۡلِجُ الَّيۡلَ فِى النَّهَارِ وَتُوۡلِجُ النَّهَارَ فِى الَّيۡلِ وَتُخۡرِجُ الۡحَـىَّ مِنَ الۡمَيِّتِ وَتُخۡرِجُ الۡمَيِّتَ مِنَ الۡحَـىِّ وَتَرۡزُقُ مَنۡ تَشَآءُ بِغَيۡرِ حِسَابٍ
আল্লাহ রাতকে দিনের ভিতর আর দিনকে রাতের ভিতরে প্রবেশ করান। তিনিই জীবিতকে মৃত হতে বের করেন এবং মৃতকে জীবিত হতে বের করেন। আর যাকে ইচ্ছে বেহিসাব রিজিক দান করেন।
(সূরা ইমরান_২৭)
আল্লাহ যেমন সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন, তেমনি এই সব কিছু তিনিই পরিচালনা করেন। প্রতিটা প্রাণীর প্রয়োজন, জীবন-প্রবাহ, চলার গতি-পথ, রিজিক-খাদ্য, বংশ বিস্তার সবকিছু আল্লাহর হুকুমের অধীন।
_ سَّمِيعُ الْبَصِيرُ_
আল্লাহ “সামিউল বাসির”_আল্লাহ দেখেন এবং শুনেন। দেখা এবং শুনার জন্য আল্লাহ তা’য়ালা কান বা চোখের মোহুতাজ না।
আল্লাহ কোন আকারের অধীন না বরং সমস্ত আকার তারই সৃষ্টি। আল্লাহ তার কুদরতি চোখে দেখেন, কুদরতি কানে শুনেন।
কালো অন্ধকার রাতে, সমুদ্রের নিচে কালো অন্ধকার গুহা, তারও নিচে একটা কালো শ্যাওলাযুক্ত পাথর, তার ওপর একটা ক্ষুদ্র কালো পোকা চলাফেরা করে, আর_ আল্লাহ তা’য়ালা আরশে আজিম বসে, ঐ পোকাকে স্পষ্ট দেখতে পান আর তার পায়ের শব্দ পৃথক পৃথক শুনতে পান।
আল্লাহ ধরেন। ধরার জন্য তিনি হাতের মোহতাজ না। তিনি তার কুদরতি হাতে ধরেন। হাশরের ময়দানে আল্লাহ তার নিজ কুদরতি হাতে আসমান জমিনকে পেচিয়ে ধরবেন। ঘোষনা করবেন_
ه_ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّمَاوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ ۚ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَىٰ عَمَّا يُشْرِكُونَ
কিয়ামতের দিন, সমগ্র পৃথিবী তাঁর হাতের মুঠোয় থাকবে। এবং আসমানসমূহ তাঁর ডান হাতে ভাঁজ করা, পেচানো অবস্থায় থাকবে। তিনি পবিত্র এবং তারা যা শরীক করে, তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে। মহান আল্লাহর অসীম ক্ষমতা আর তার রাজত্বের প্রমাণ। (সূরা যুমার_৬৭)
আল্লাহ তার ডান হাতে ৭ আসমান ৭ জমিনকে পেঁচিয়ে ধরবেন। আর বলবেন, কোথায় জমিনের রাজা বাদশারা দেখো আমার রাজত্ব_
_ لِّمَنِ ٱلْمُلْكُ ٱلْيَوْمَۖ لِلَّهِ ٱلْوَٲحِدِ ٱلْقَهَّارِ
‘আজকে রাজত্ব কার’? আজকে আমারই রাজত্ব, প্রবল প্রতাপশালী এক আল্লাহর।
(সূরা মু'মিন_১৬)
আল্লাহর এক নাম হল “ নূর ” আলো এই আসমান জমিন আল্লাহর নূর স্বরূপ_
ٱللَّهُ نُورُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۚ مَثَلُ نُورِهِۦ كَمِشْكَوٰةٍ فِيهَا مِصْبَاحٌ ۖ ٱلْمِصْبَاحُ فِى زُجَاجَةٍ ۖ ٱلزُّجَاجَةُ كَأَنَّهَا كَوْكَبٌ دُرِّىٌّ يُوقَدُ مِن شَجَرَةٍ مُّبَارَكَةٍ زَيْتُونَةٍ لَّا شَرْقِيَّةٍ وَلَا غَرْبِيَّةٍ يَكَادُ زَيْتُهَا يُضِيءُ وَلَوْ لَمْ تَمْسَسْهُ نَارٌ ۚ نُّورٌ عَلَىٰ نُورٍ ۗ يَهْدِي ٱللَّهُ لِنُورِهِۦ مَن يَشَاءُ ۚ وَيَضْرِبُ ٱللَّهُ ٱلْأَمْثَالَ لِلنَّاسِ ۗ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
আল্লাহ আসমানসমূহ ও যমীনের নূর আলো স্বরূপ। তাঁর নূরের উদাহরণ_ যেন একটি 'অগ্নিস্ফুলিঙ্গ'- (ফুলকি) যার মধ্যে রয়েছে একটি প্রদীপ।
প্রদীপটি একটি কাঁচের পাত্রে।
পাত্রটি যেন একটি জ্বলজ্বলে উজ্জ্বল নক্ষত্রের ন্যয়।
যা বরকতময় যায়তুন গাছের তেল দ্বারা প্রজ্জ্বলিত হয়, যা পূর্বেরও নয়, পশ্চিমেরও নয়।
আগুন স্পর্শ না করলেও তার তেল যেন জ্বলে উঠবে। আলোর ওপর আলো!
আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর নূরের দিকে পথ দেখান।
আল্লাহ মানুষের জন্য এভাবেই উপমাসমূহ বর্ণনা করেন এবং আল্লাহ সব বিষয়ে অবগত।
(সূরা নূর_ ৩৫)
_ ۚ نُّورٌ عَلَىٰ نُورٍ ۗ_
আলোর উপরে আলো
_ ۗ يَهْدِي ٱللَّهُ لِنُورِهِۦ مَن يَشَاءُ ۚ
আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন, বা যে চায় তাকে_ আল্লাহ ঐ নূরের দিকে পথ দেখান।
আল্লাহ চিরস্থায়ী, চিরঞ্জিত, চিরঞ্জীব, অনাদি, অনন্ত, অবিনশ্বর। সদা- সর্বদা, সজাগ -জাগ্রত, আল্লাহ কখনো ঘুমান না।
(لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ)
কোন তন্দ্রা, নিদ্রা, ঘুম ক্লান্তি আল্লাহকে স্পর্শ করতে পারে না। ঘুম ক্লান্তি থেকে আল্লাহ মুক্ত পবিত্র।
মানুষের কাজকর্ম ব্যস্ততা দিনে থাকে, রাতে বন্ধ হয়। অফিস-আদালত, দোকান-পাট, রাতে বন্ধ থাকে। গভীর রাতে, মানুষ যখন ঘুমের মধ্যে থাকে, তখনও আল্লাহর দরবার খোলা থাকে। আর আল্লাহর দরবার, হলো এমন এক দরবার। যে, দরবারে কোন প্রহরী নাই, কোন দারোয়ান নাই, যতো গভীর রাত হোক না কেন, মানুষ যখনই ঐ দরবারে হাজির হয়। তখনই, তার জন্য ঐ দরবারের দরজা খোলা হয়।
আল্লাহর দরবার নিরাশার দরবার নয়, নিরাশ না হওয়া, আল্লাহ তাআলা বলেন_
( لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ)
@তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।
_ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ۚ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
আল্লাহ সমুদয় পাপ ক্ষমা করে দিতে পারেন। তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। যত গুনাহই হোক না কেন, আল্লাহ তা মুহূর্তের মধ্যে মাফ করে দিতে পারেন। আল্লাহ বড় ক্ষমাশীল, দয়াময়।
وَاللَّهُ رَءُوفٌ بِالْعِبَادِ
আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।
আল্লাহ তার দয়া, রহমতের ৯৯ ভাগ নিজের কাছে রেখেছেন, যা হাশরের ময়দানে তার বান্দাদের জন্য প্রকাশ করবেন।
_নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলার ১০০টি রহমত আছে, যার মধ্য হতে মাত্র ১টির কারণে সৃষ্টিজগৎ একে অন্যের প্রতি দয়া করে। আর ৯৯টি (রহমত) কিয়ামতের দিনের জন্য রয়েছে। (সংক্ষিপ্ত)
(বুখারী ৬০০০, মুসলিম ৭১৪৮-৭১৫১)
আল্লাহ ‘খয়রুল হাকিমিন’ _خَيْرُ الْحَاكِمِينَ_ আল্লাহ সর্বোত্তম বিচারক, শ্রেষ্ঠ ফায়সালাকারী।
হাদিসের (সংক্ষিপ্ত) বর্ণনা: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা শিংবিহীন বা দুর্বল পশুকে শিংওয়ালা বা শক্তিশালী পশুর দ্বারা আঘাতের সুযোগ দেবেন। দুনিয়াতে শিংওয়ালা পশুটি শিংহীন পশুকে যেভাবে বিনা কারণে আঘাত দিয়েছিল।
তার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আল্লাহ এটি করবেন।
(মুসলিম ৬৪৮১) (রিয়াদুস সালেহিন ২০৪)
পশুদের বিচার শেষ হলে আল্লাহ তায়ালা সেগুলোকে বলবেন, তোমরা ‘মাটি হয়ে যাও’ তখন সবগুলো পশু মাটি হয়ে যাবে। তখন মানুষ (অবিশ্বাসীরা) বলবে,
_ وَيَقُولُ الْكَافِرُ يَا لَيْتَنِي كُنتُ تُرَابًا_
হায়! আফসোস, আমি যদি আজ মাটি হয়ে যেতাম!
فَإِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ
আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
ۗ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ
সকল বান্দাই আল্লাহর দৃষ্টিতে রয়েছে।
আল্লাহ বড়_‘আল্লহু আক বার’,
‘আকবারুল আক বার’_ বড়র চেয়েও বড়,
‘আক বারুল কাবির’_ সর্বোচ্চ বড়,
[লা কাবির ইল্লালহ] আল্লাহর চেয়ে বড় কেউ নেই।
আল্লাহর সৃষ্টি আসমান জমিন বরাবর ফেরেশতা জিবরাইল (আ:), এতো বড় দেহের অধিকারী ফেরেশতা, যখন আল্লাহর ডাকে সারা দিয়ে আরশ মহল্লায় আল্লাহর সামনে উপস্থিত হয়। আল্লাহর কালামের আজমত এত বেশি যে, আল্লাহ যখন কোন আদেশ জারি করেন তখন এই ফেরেশতারাও তা শুনে ভয়ে বেহুঁশ হয়ে যায়। ভয়ে "সিলসিলা আলা সাফা" -
*سِلْسِلَةٌ عَلَى صَفًا*
"মসৃণ পাথরের উপর শিকল টানার শব্দ"
মসৃণ পাথরে, ‘শিকল টানার’ প্রচন্ড শব্দের মতো শোনেন। আল্লাহ তা’আলা যখন, ওহী নাযিল করেন বা কোন কথা বলেন, আসমানে তখন এমন শব্দ হয়, যেন কেউ_ মসৃণ পাথরের উপর ভারী লোহার শিকল টেনে নিচ্ছে আর বিকট শব্দের ঝনঝন আওয়াজে ফেরেশতারা বেহুশ হয়ে যায়।
রাসূল ﷺ বলেছেন:_
"যখন আল্লাহ তা’আলা যখন, ওহীর মাধ্যমে কথা বলেন, তখন আসমানের ফেরেশতারা মসৃণ পাথরের উপর শিকল টানার মতো ' সিলসিলা ' শব্দ শোনেন। সেই শব্দের ভয়ে তারা বেহুঁশ হয়ে পড়ে যায়। তারপর যখন হুশ ফিরে, তখন জিব্রাঈল (আ.) কে জিজ্ঞেস করে - আমাদের রব কী বললেন? জিব্রাঈল (আ:) বলেন: সত্য বলেছেন।
তখন সবাই বলে: হক, হক, সত্য, সত্য "
(আবু দাউদ ৪৭৩৮)
মুফাসসিরগণ বিভিন্ন রূপক হিসেবে আলোচনা করেন। মহান আল্লাহর বিশালতা এবং শ্রেষ্ঠত্বের সামনে তাঁদের সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ, ভয় ও বিনম্র অবস্থার বিষয়টিকে "বৃষ্টিতে ভেজা চড়ই পাখি" (العصفور المبلل) (আল-আসফুর আল-মুবাশশিল) "ভেজা চড়ুই পাখি" বৃষ্টিতে ভিজে গুটিয়ে, চুপচাপ থাকা চড়ুই পাখির মতো ভয়ে কম্পমান, দিশেহারা, অসহায় ও বিনীত অবস্থায় থাকে। —
ফেরেশতারাও আল্লাহর আজমতের সামনে, ঠিক তেমন বিনয়ী, নত, ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় থাকে। আল্লাহর মহিমান্বিত- শ্রেষ্ঠত্বের সামনে, সেরা ও শক্তিশালী ফেরেশতারাও চরম বিনয়ের সাথে নত হয়ে থাকেন।
ফেরেশতারা কখনোই আল্লাহর অবাধ্য হন না বা ইবাদতে ক্লান্তও হন না। তা সত্ত্বেও আল্লাহর বিশালত্ব ও সম্মানের সামনে নিজেদেরকে নিতান্তই দুর্বল ও সামান্য মনে করেন।
"সুফি দর্শন" বিভিন্ন আধ্যাত্মিক বই এবং মওলানা জালাল উদ্দিন রুমির বিখ্যাত গ্রন্থ "ফীহি মা ফীহি" (মওলানা রূমীর উপদেশ বাণী) - তে মহান আল্লাহর অসীম কুদরত, এবং সৃষ্টির অসহায়ত্বের এমন চমৎকার বিবরণ ও রূপক বর্ণনা করেছেন।
রাসূল ﷺ বলেছেন, "আসমানে চার আঙুল পরিমাণ জায়গাও খালি নেই। যেখানে, কোনো ফেরেশতা সিজদারত নেই" (তিরমিযি ২৩১২)
"তারা (ফেরেশতা) রাত -দিন তাসবীহ পড়ে, কখনও ক্লান্ত হয় না" _(সুরা আম্বিয়া ২০)
আসমান জমিনের সবকিছু আল্লাহর ভয়ে তসবিহ পাঠ করে।
_ سَبَّحَ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ _
আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে, তারা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করেন।
(সূরা হাদীদ_১)
সব জড় এবং জীব আল্লাহর প্রশংসায় তসবিহ পাঠ করে। _
تُسَبِّحُ لَهُ ٱلسَّمَـٰوَٲتُ ٱلسَّبْعُ وَٱلْأَرْضُ_ وَمَن فِيهِنَّۚ وَإِن مِّن شَىْءٍ إِلَّا يُسَبِّحُ بِحَمْدِهِۦ وَلَـٰكِن لَّا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْۗ_ إِنَّهُۥ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا
সাত আসমান ও যমীন এবং এগুলোর মধ্যে যা কিছু আছে সব কিছু আল্লাহর প্রশংসায় তাসবীহ পাঠ করে।
এমন কিছু নেই যা তাঁর প্রসংশায় তাসবীহ পাঠ করে না,
কিন্তু তাদের তাসবীহ তোমরা বুঝ না।
নিশ্চয় তিনি সহনশীল, ক্ষমাপরায়ণ।
(সূরা বনি ইসরাইল_৪৪)
আকাশের বজ্রধ্বনি আল্লাহর ভয়ে_ তসবিহ পাঠ করে।
আল্লাহ বলেন_
وَيُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ _وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ خِيفَتِه _
"ওয়া ইউসাব্বিহুর রাদু বিহামদিহি, ওয়াল মালা-ইকাতু মিন খিফাতিহি।" (সূরা রাদ_১৩)
আকাশের বজ্র আল্লাহর প্রশংসা, পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। এবং ফেরেশতারাও তাঁর ভয়ে ভীত হয়ে পবিত্রতা ঘোষণা করে।
সমস্ত মানুষ যদি আল্লাহর প্রশংসা করে, তবে আল্লাহ তার বরত্ব সামান্য বাড়েও না। আবার সমস্ত মানুষ যদি তার প্রশংসা না করে, তবে তার বরত্ব সামান্য কমেও না।
আল্লাহর বড়ত্ব, সম্মান _কমা, বৃদ্ধি পাওয়ার পরিমাপ থেকে উর্ধ্বে।
নবী (স:) বলেন_“আল্লাহ তায়ালা বলেন, ইজ্জত–সম্মান আমার পোশাক এবং গর্ব–অহঙ্কার আমার চাদর। যে ব্যক্তি এ দুটির কোনো একটি নিয়ে টানাটানি করবে, তাকে আমি কঠোর শাস্তি দেব।” (মুসলিম ৬৬০৯)
বড়ত্ব, ইজ্জত, সম্মান, গর্ব, অহংকার আল্লাহর গায়ের চাদর তোমরা এই চাদর নিয়ে টানাটানি করো না।
আল্লাহ তা'য়ালা নিজেই তার বড়ত্বের প্রশংসায় বলেন_
قُل لَّوْ كَانَ الْبَحْرُ مِدَادًا لِّكَلِمَاتِ رَبِّي لَنَفِدَ الْبَحْرُ قَبْلَ أَن تَنفَدَ كَلِمَاتُ رَبِّي وَلَوْ جِئْنَا بِمِثْلِهِ مَدَدًا
হে নবী! আপনি বলে দিন, আল্লাহর বড়ত্বের কথা, লেখার জন্য যদি সাগর কালি হয়ে যায়,
তবে আমার প্রতিপালকের কথা শেষ হওয়ার আগেই সাগর নিঃশেষ হয়ে যাবে,
তাতে সাহায্যরূপে অনুরূপ আরও সাগর নিয়ে আসি না কেন! (সূরা কাহ্ফ_১০৯)
[আল্লাহর বড়ত্ব, জ্ঞান, কুদরত তাঁর অসীম বাক্যের বিশালতার কথা _ লেখার জন্য যদি সাগরের পানি কালি হয়। ঐ কালি দিয়ে লেখা হয়, তবে সমস্ত সাগরের কালি স্বরূপ পানি শেষ হয়ে যাবে, তারপরও আল্লাহর বড়ত্ব লেখা শেষ হবে না যদি আরও এক সমুদ্র পানি আনা হয়।
আল্লাহ সুব হান, কুদ্দুস _ আল্লাহ পবিত্র, নির্দোষ]
আল্লাহ পাকের কতিপয় সিফতি নাম :আসমাউল হুসনা (الأسماء الحسنى) সুন্দরতম নামসমূহ _
আল্লাহ আহাদ, ওয়াহিদ, সমাদ _ আল্লাহ এক, অদ্বিতীয়, অমুখাপেক্ষী।
আল্লাহ আউয়াল, আখের _ আল্লাহ শুরু, শেষ ।
আল্লাহ সামিউন, বাসির _আল্লাহ দেখেন, শোনেন।
আল্লাহ গনি, মুগ্নীই _আল্লাহ ধনী, অভাবমোচনকারী।
আল্লাহ আলিম, হাকিম _ আল্লাহ সর্ব জ্ঞানী, শ্রেষ্ঠ বিচারক।
আল্লাহ গফুর,গাফফার_আল্লাহ দয়াময়, শ্রেষ্ঠ ক্ষমাশীল।
আল্লাহ খালেক, মালিক _আল্লাহ সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা।
আল্লহ নুর, নাফি _ আল্লাহ আলো, উপকারী।
আল্লাহ হাইয়্যু, কাইয়্যুম _ আল্লাহ চিরস্থায়ী-চিরঞ্জীব, অনাদি-অনন্ত।
আল্লাহ কাবির, কাদির _ আল্লাহ বড়, সর্বশক্তিমান।
আল্লাহ মুহই, মুমিত _ আল্লাহ জীবন, মৃত্যু দানকারী।
আল্লাহ বারী, বার, দার _আল্লাহ সঠিকভাবে সৃষ্টিকর্তা, পরম কল্যাণময়, ক্ষতিসাধনকারী।
আল্লাহ বাকি, বাদি _ আল্লাহ চিরস্থায়ী, অনুপম সৃষ্টিকর্তা।
আল্লাহ জহির, বাতেন _ আল্লাহ প্রকাশ্য, গোপন।
আল্লাহ মুবদি, মুঈদ _ আল্লাহ প্রথমবার এবং পুনরায় সৃষ্টিকারী।
আল্লাহ মাজিদ, মুহসি – মহিমান্বিত, গণনাকারী
আল্লাহ মুইজ, মুদিল্লু _ আল্লাহ সম্মান, অসম্মান দানকারী।
আল্লাহ কবিদ্ব, বাসিত _ আল্লাহ সংকীর্ণতা, প্রশস্ততা দানকারী।
আল্লাহ খফিদ, রফিই _ আল্লাহ অবনত আর উন্নতি দানকারী।
আল্লাহ ওয়ালি, শাকুর _আল্লাহ শাসক, পুরস্কারদাতা।
আল্লাহ রহিম, করিম, রহমান_আল্লাহ দয়ালু, দয়াময়, মেহেরবান দাতা।
আল্লাহ রাজ্জাক, রশিদ _ আল্লাহ সকল জীবের রিজিক দাতা, সঠিক পথের দিশারী।
আল্লাহ সালাম, সবুর _ আল্লাহ শান্তি দানকারী, অধিক ধৈর্যশীল।
আল্লাহ হাফিজ, হালিম _ আল্লাহ হেফাজতকারী, অধিক ধৈর্যশীল।
আল্লাহ হাসিব, হামিদ _আল্লাহ হিসাব গ্রহণকারী, সকল প্রশংসার অধিকারী।
আল্লাহ আলী, ওয়াসি – আলাহ সর্বোচ্চ, সীমাহীন
আল্লাহ ওকিল, ক্বাওই –আল্লাহ ভরসাযোগ্য, শক্তিশালী
আল্লাহ খাবির, লতিফ _ আল্লাহ সকল বিষয়ে জ্ঞাত, সকল গোপন বিষয়ে জানেন।
আল্লাহ মাজিদ, শহীদ _ আল্লাহ সকল মর্যাদার অধিকারী, সর্ব সাক্ষী।
আল্লাহ জামিই, আজিম, বা’স _ আল্লাহ একত্রকারী, সর্বোচ্চ মর্যাদাশীল, পুনরুত্থানকারী।
আল্লাহ মুমীন, মুহাইমিন, মুতাকাব্বির_আল্লাহ ঈমান দানকারী, রক্ষণাবেক্ষণকারী, নিরঙ্কুশ শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী।
আল্লাহ মুকিত, মুজিব _ আল্লাহ সবার জীবনোপকরণ দানকারী, কবুলকারী।
আল্লাহ রউফ, রাকিব, আফুউ _ আল্লাহ পরম স্নেহশীল, পরিপূর্ণ তত্বাবধায়ক, মার্জনাকারী।
আল্লাহ আদল, জলিল _ আল্লাহ ন্যায়বিচারক, সবোচ্চ মর্যাদার অধিকারী।
আল্লাহ ওয়াহাব, ওয়াদুদ, ওয়ারিস, ওয়াজিদ,
ওয়ালি _ আল্লাহ সবকিছু দানকারী, বান্দার প্রতি সদয়, উত্তরাধিকারী, অফুরন্ত ভান্ডারের মালিক, মহান অভিভাবক।
আল্লাহ তাওয়াব, হাদি _আল্লাহ তওবা কবুলকারী, হেদায়েত দানকারী।
আল্লাহ ফাওাহ, নাফিই _ আল্লাহ বিজয় দানকারী, কল্যাণ দানকারী।
আল্লাহ মুসাউয়ির, মুকাদ্দিম_আল্লাহ আকৃতিদানকারী, অগ্রসরকারী।
আল্লাহ আজিজ, জব্বার, কাহহার _ আল্লাহ অপরাজেয় দুর্বার, নিয়ন্ত্রণকারী, কঠোর কঠিন।
আল্লাহ মাতিন, মুনতাকিম _ আল্লাহ সুদৃঢ়, প্রতিশোধ গ্রহণকারী।
আল্লাহ মুতাআলি, মুকসিত, মানিই _আল্লাহ সর্বোচ্চ শ্রেষ্ঠ, ন্যায়পরায়ণ, প্রতিরোধকারী।
আল্লাহ মুকতাদির, মুয়াখ্খির _ আল্লাহ পবিত্র সিদ্ধান্তের অধিকারী, অবকাশ দানকারী।
আল হক্ক_ (আল্লহু আনতা হক্ক ওয়া কওলুকাল হক্ক) আল্লাহ সত্য, তার কথাও সত্য
মালিকুল মুলক _আল্লাহ সমগ্র জগতের বাদশা।
যুলযালালি ওয়ালইকরাম _ আল্লাহ মহিমান্বিত দয়াবান সত্বা।
_____________
মহান আল্লাহ আদম (আঃ) কে_ খলিফা হিসেবে বানিয়েছেন, মনোনীত আর বাছাই করলেন_
إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَىٰ آدَمَ
"নিশ্চয়ই আল্লাহ আদমকে মনোনীত করেছেন"
আল্লাহ তার নিজের পক্ষ থেকে রুহ ফুঁকে দিয়েছেন।
"সালামুন আলা আদম সফিউল্লাহ (বাছাইকৃত)"
১/ হযরত আদম (আঃ) _ প্রথম মানুষ, প্রথম নবী, যুগে যুগে আল্লাহ মানব জাতির হেদায়েতের জন্য হেদায়াত প্রাপ্ত লোক নবী, রসূল (আঃ) দের পাঠিয়েছেন, আর তাদেরকে হেদায়াতের কিতাব দান করেছেন।
২/ হযরত ইদ্রিস (আঃ)
৩/ হযরত নূহ- (আঃ) আঃ গাফফার_ নাজিউল্লাহ
৪/ হযরত হুদ (আঃ)
৫/ হযরত সালিহ (আঃ)
৬/ হযরত ইবরাহীম (আঃ) খলিলুল্লাহ
وَاتَّخَذَ اللَّهُ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلًا
"আল্লাহ ইবরাহীমকে বন্ধু হিসেবে কবুল করেছেন"
৭/ হযরত লুত (আঃ)
৮/ হযরত ইসমাঈল (আঃ)- জবেহউল্লাহ
৯/ হযরত ইসহাক (আঃ)
১০/ হযরত ইয়াকুব (আঃ) ইসরাঈল
১১/ হযরত ইউসুফ (আঃ)
১২/ হযরত আইয়ুব (আঃ)
১৩/ হযরত শুয়াইব (আঃ)
১৪/ হযরত মুসা (আঃ) কালিমুল্লাহ, কিতাব_ তাওরাত_
َكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَىٰ تَكْلِيمًا
"আল্লাহ মুসা (আঃ) এর সাথে কথা বলেছেন"
১৫/ হযরত হারুন (আঃ)
১৬/ হযরত যুলকিফল (আঃ)
১৭/ হযরত দাউদ (আঃ), কিতাব_ যাবুর_
১৮/ হযরত সুলাইমান (আঃ), বাদশা_
১৯/ হযরত ইলিয়াস (আঃ)
২০/ হযরত আল-ইয়াসা (আঃ)
২১/ হযরত ইউনুস (আঃ) যুন-নুন, মাছওয়ালা
২২/ হযরত যাকারিয়া (আঃ)
২৩/ হযরত ইয়াহিয়া (আঃ)
২৪/ হযরত ঈসা (আঃ) রুহুল্লাহ_কিতাব_ইঞ্জিল
إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَىٰ مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِّنْهُ
"মসিহ ঈসা ইবনে মারইয়াম আল্লাহর রাসূল ও তাঁর কালেমা, যা তিনি মারইয়ামের প্রতি প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে রুহ"
"রুহুম মিনহু" = আল্লাহর পক্ষ থেকে রুহ। "রুহুল্লাহ" বলা হয়। রুহুল কুদ্দুস _ পবিত্র আত্মার মাধ্যমে তাকে শক্তিশালী করেছেন।
আর তাকে কিতাব দান করলেন _ পবিত্র ইঞ্জিল, আল্লাহ তাকে আসমানে উঠিয়ে নিলেন, তিনি আবার আসবেন শেষ নবীর উম্মত হিসেবে।
২৫/ শেষ নবী_ হযরত মুহাম্মদ (প্রশংসাকারি),
আহমদ (প্রশংসিত),
মোস্তফা (মনোনীত), মাহী (কুফর দূর করে দেন),
মুয্যাম্মিল (চাদর আবৃত),
মুদ্দাসির (বস্ত্রাবৃত),
আকিব (যার পরে আর কোনো নবী নেই),
হাশির (যার পায়ের কাছে মানুষকে একত্র করা হবে),
হাবিবুল্লাহ (আল্লাহর মাহবুব বান্ধু),
আল -আমিন (বিশ্বস্ত),
বাশির -নাজির (সুসংবাদদাতা,সতর্ককারী),
সিরাজুম -মুনির (উজ্জ্বল প্রদীপ),
শাফিউল -মুযনাবিন (গুনাহগারদের সুপারিশকারী)
আস -সাদিকুল (সত্যবাদী),
আবুল -কাসেম (কাসেম (রাঃ) পিতা)
সাইয়্যােদুল -মুরসালিন _(নবী, রসূলদের সর্দার)
ইমামুল -মুরসালিন _ (নবী, রসূলদের ইমাম)
খাতামুন -নাবিয়্যিন _ (সর্বশেষ নবী)
রাহমাতুল্লিল -আলামিন_ (সমগ্র জগতের রহমত স্বরূপ) সল্লালহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
আল্লাহ তাকে কিতাব দান করলেন _আল কুরআন
সূত্র :_ [সূরা আহযাব: ৪০], [সূরা আম্বিয়া: ১০৭], [সূরা আহযাব: ৪৬], [সূরা আহযাব: ৪৫], [সূরা সফ: ৬], [সূরা মুয্যাম্মিল: ১], [সূরা মুদ্দাসসির: ১]
[বুখারী: ৩৫৩২, মুসলিম: ২৩৫৪],
(সহিহ মুসলিম: ১৬২, সহিহ মুসলিম: ১৭২) [তিরমিজি: ৩৬১৫]
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Swarupkati