18/06/2026
তুমি চলে যাওয়ার আজ ১৬ বছর।
-
কলরব-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা আইনুদ্দীন আল আজাদ (রহ.) ছিলেন বাংলাদেশের ইসলামি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি শুধু একজন নাশিদ শিল্পীই ছিলেন না; বরং সংগঠক, কবি, গীতিকার, প্রশিক্ষক এবং সাংস্কৃতিক বিপ্লবের একজন স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন।
জন্ম ও পারিবারিক পরিচয় -
তিনি ১৯৭৭ সালের ১ মার্চ ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার হাজরতলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে ওঠেন এবং ইসলামী শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন।
ইসলামি সাংস্কৃতিক আন্দোলনে আত্মপ্রকাশ -
নব্বইয়ের দশকে যখন ইসলামি সংস্কৃতির পরিসর সীমিত ছিল, তখন তিনি উপলব্ধি করেন যে গান, কবিতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে দ্বীনি দাওয়াতের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। সেই চিন্তা থেকেই তিনি একদল শিশু-কিশোরকে নিয়ে সাংস্কৃতিক চর্চা শুরু করেন।
কলরব প্রতিষ্ঠা -
তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় কীর্তি হলো “কলরব” প্রতিষ্ঠা। অত্যন্ত সীমিত সম্পদ, আর্থিক সংকট ও নানা বাধা-বিপত্তির মধ্যেও তিনি কলরবকে একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। আজ বাংলাদেশের হাজারো ইসলামি শিল্পী কলরবের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে এবং দেশ-বিদেশে ইসলামী সংস্কৃতির বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।
আজ তাঁর প্রতিষ্ঠিত কলরব বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ইসলামি সাংস্কৃতিক সংগঠন। তাঁর স্বপ্ন, আদর্শ ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন এখনও হাজারো তরুণকে ইসলামের সুমহান আদর্শের দিকে আহ্বান জানাচ্ছে। ইন্তে/কালের বহু বছর পরও তিনি ইসলামি সংস্কৃতির একজন কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
শিল্পী ও গীতিকার হিসেবে অবদান -
আইনুদ্দীন আল আজাদ (রহ.)-এর কণ্ঠ ছিল অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী। তাঁর রচিত ও পরিবেশিত সংগীতগুলোতে ইসলামী জাগরণ, মুসলিম উম্মাহর দুঃখ-কষ্ট, অন্যায়ের প্রতিবাদ, দেশপ্রেম এবং নৈতিকতার আহ্বান প্রতিফলিত হতো। তাঁর অনেক সংগীত আজও ইসলামি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জনপ্রিয় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।
উত্থান -
তিনি মূলত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকেই দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চৌকস একজন
কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল ছিলেন।
ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্ব -
সহকর্মী ও শিষ্যদের বর্ণনায় তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, পরিশ্রমী, দূরদর্শী ও সৃজনশীল একজন মানুষ। তিনি নিজে পর্দার আড়ালে থেকে নতুন প্রতিভা গড়ে তুলতে বেশি আগ্রহী ছিলেন। অনেক জনপ্রিয় ইসলামি শিল্পী তাঁর হাত ধরেই সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আত্মপ্রকাশ করেন।
ইন্তেকাল -
২০১০ সালের ১৮ জুন নাটোরের লালপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ই/ন্তেকাল করেন। মৃ/ত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৩৩ বছর। তাঁর মৃ/ত্যু ইসলামি সাংস্কৃতিক জগতে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
সংক্ষেপে বলা যায়, মাওলানা আইনুদ্দীন আল আজাদ (রহ.) ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি সাংস্কৃতিক মাধ্যমকে ইসলামের দাওয়াত ও উম্মাহর জাগরণের শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত করেছিলেন। তাঁর রেখে যাওয়া কর্ম ও প্রতিষ্ঠান আজও তাঁর জীবন্ত সদকায়ে জারিয়া হিসেবে বিবেচিত হয়।
আল্লাহ তাআলা তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন। আমীন।
13/06/2026
10/06/2026