12/05/2026
সারাজীবন সিজদাহ্ করে কপালে দাগ ফেললি,
কিন্তু হৃদয় কি কখনো সত্যিকারের সিজদাহ্ করলো?
নিজ স্বার্থে ধর্মের গুণগান গাইলি,
মানুষকে উপদেশ দিলি,
কিন্তু নিজের নফসকে কি একদিনও দমন করতে পারলি?
ধর্ম শুধু মুখস্থ কিছু বাণী নয়,
শুধু বইপুস্তকের শব্দচর্চাও নয়।
ধর্ম হলো আত্মার জাগরণ,
চরিত্রের বিপ্লব,
অহংকার ভেঙে সত্যের সামনে মাথা নত করার নাম।
আজ মানুষ ইবাদতের বাহ্যিক রূপ নিয়ে ব্যস্ত,
কিন্তু অন্তর অন্ধকারে ডুবে আছে।
মসজিদে সিজদাহ্ বাড়ছে,
কিন্তু মানবতা কমছে।
কণ্ঠে ধর্মের বুলি,
কিন্তু কাজে প্রতারণা, হিংসা, অহংকার।
প্রশ্ন হলো—
এভাবে কতদিন চললে “কামালিয়ত” অর্জন হবে?
যেখানে আত্মা এখনো ঘুমন্ত,
বিবেক এখনো বন্দী,
আর হৃদয় এখনো দুনিয়ার লোভে শিকলবন্দী।
সত্যিকারের ধর্ম মানুষকে নম্র করে,
স্বার্থপর নয়;
মানবিক করে,
হিংস্র নয়;
আলোকিত করে,
অন্ধ অনুসারী নয়।
কবে ফিরবে তোর হুঁশ-জ্ঞান?
কবে নিজের ভেতরের অন্ধকারের বিরুদ্ধে যু/দ্ধ শুরু করবি?
নাকি বাহ্যিক ধার্মিকতার মুখোশ পরে
অন্ধকারেই জীবন কাটিয়ে দিবি?
মনে রাখিস—
আল্লাহ বাহ্যিক চেহারা দেখেন না,
তিনি দেখেন অন্তরের অবস্থা।
তাই সিজদাহ্ শুধু কপালে নয়,
আগে হৃদয়ে গেঁথে নে। 🤲🖤
_____ নিগাহে- অলি 🖊️
#আত্মজাগরণ
#ধর্মওমানবতা
#সত্যেরপথ
#ইসলামিক_চিন্তা
#আত্মশুদ্ধি
#নফসের_বিরুদ্ধে_যুদ্ধ
#হৃদয়ের_সিজদাহ
#দ্বীনের_সত্যতা
#মানবিকতা
#তাওবা
#আলোকিত_জীবন ✨
সুফী তিনিই যার নিকট জাহের ও বাতেন পরিষ্কার।
11/05/2026
(কিছু আলেম বন্ধুদের আপত্তিকর প্রশ্নের জবাবে সকল পাঠক বন্ধুদের অবগতির জন্য তরিকত সম্পর্কে অতি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার- ১ম পোস্ট) -
(আসসালামু আলাইকুম)
আমার প্রিয় পাঠক ভাই বোন ও বন্ধুগণ - হাদিস শরিফে রাসুল (সাঃ) প্রকাশ করেছেন, "আত্তারিকাতু আফওয়ালিহী"
অর্থাৎ রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আমি যা করেছি, তাই তরিকত। "
অর্থাৎ আমাদের প্রিয় নবী রাসূলে আকরাম (সাঃ)-এর কর্মকেই ইসলামের তরীকত রূপে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
শরীয়তের বিধান অনুযায়ী সত্য সাধক বা সূফীয়ায়ে কেরামদের চলার পথকে তরিকত বলে। "তরক" ধাতু হতে ("তরিকত")-এর উৎপত্তি।
"তরক" অর্থ পথ।
শেষের "তে" হরফ থাকায় তওহিদ বুঝানো হয়েছে।
সুতরাং তরিকতের পথই- তওহীদের পথ।
শরীয়ত অর্থ বিধিবিধান ও পথ, আর তরীকত অর্থ তওহীদের পথ বা আল্লাহ প্রাপ্তির পথ।
তরিকত রাসূল সাহাবা বা ছালেক সূফীর কাজ ও সাধনার সাথে সম্পর্ক জাতীয় পথ,
এ পথে সূফী তওহীদ সম্পর্কে সত্যজ্ঞান,
প্রকৃত সত্যের সংজ্ঞা জেনে তওহীদের সাথে একীভূত হয়ে,
আপন সত্তা হারিয়ে পরম জাতের পরিচয় লাভ করে বা দর্শন বা মেলামেশা হয়।
তরীকত বা তওহীদের পথে চলা মানে শরীয়ত, তরীকত, হাকিকত ও মারেফত সম্মিলিত রূপই তরিকত।
কিন্তু এর কেন্দ্র
ও ভিত্তি স্থল ইলমে শরীয়ত এই ধারাবাহিকতায় তালিমে ইসলাম মানিকগঞ্জ দরবারের মূল কার্যক্রম।
আর জানার জন্য পাঠক ভাই বোন ও বন্ধুদের দ্বিতীয় মাম্বার পোস্ট দেখার আমন্ত্রণ রইলো।
10/05/2026
“ধৈর্যশীলদের জন্য রয়েছে সীমাহীন প্রতিদান।” – (সূরা আয-যুমার: ১০)
06/05/2026
কুপের মতো যত্রযত্র অমানসম্মত মাদরাসা গড়ে উঠা জাতির জন্য হুমকি। ওরা নিজেদের ব্যবসায়িক সুবিধার জন্য এগুলো করে বসে, না রাখে বড় আলেমদের সাথে ঐক্য, না রাখে এলাকার সামগ্রিক ঐক্য। বলা যায় অনেকটা স্বাধীন এবং জবাবদিহিতার উর্ধ্বে। এলাকার যেকোনো একটা গ্রুপের ছায়ায় গড়ে তোলে মন স্বাধীন সাইনবোর্ড। যে দলই যাক দুচারজনকে তোষামোদ করে সাইনবোর্ড জিইয়ে রাখে, বড় করে।
মূলত লেখাপড়া, পরিবেশের মান তেমনই থাকে, খুব উন্নত হয় না। বিকজ গোষ্ঠী গোষ্ঠী ভেজাল করে আরেকটা মাদরাসা দাঁড় করায় আরেকজন থার্ড ডিভিশনে কোনোমতে ৩৫-৩৬ পেয়ে পাশ করা মোলভী সাহেব।
মসজিদে মক্তব আছে, পাড়ায় পাড়ায় মসজিদ আছে। বেসিক শিক্ষা ঈমামগণই দিয়ে থাকেন এবং দেনও। বরং ওটাতে আরেকটু নজর দিলেই হয়।
তারপর আনুপাতিক দূরত্ব, গুণগত মান, শিক্ষক, এলাকার ইউনিটি নিয়ে, জাতীয় আন্তর্জাতিক তাল মিলিয়ে মাদরাসা চালাতে হবে। আর না হয় ইসলাম কলুষিত করতে ওরা যথেষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া কুপ মাদরাসা গড়ে উঠতে বা চালাতে যারা চায় মূলত এরা লেবাস ব্যবসায়ী।
তাই ইসলামের চিন্তক, বুদ্ধিজীবী, নেতৃ স্থানীয় যারা আছেন তাদের উচিত তদারকি জোরদার করা। কেননা ইসলাম ধর্মটা কিছু ব্যবসায়ী পাগল-ছাগল মোল্লার একার না।
তাহলে আমাদের ইসলামের প্রতি, হুজুর, মাওলানাদের প্রতি যে আন্তরিকতা দেখায় সকলে সেটা বহাল থাকবে নতুবা কুপের মাদরাসা থাকবে ছাত্র থাকবে না, সহযোগিতা থাকবে না। দেশে বহু মান সম্মত মাদরাসা আছে, আরও প্রতিষ্ঠা করারও বহু সুযোগ আছে।
তাই অতি উৎসাহীদের দিকে সর্তক নজর রাখতে হবে।
মুহম্মদ ফয়সল আকন্দ
কবি, লেখক
স্নাতক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।