11/04/2026
আমি একজন শিক্ষক ছিলাম। চাকরি শেষ।তাই ছিলাম শব্দটি ব্যবহার করলাম।
অবসর গ্রহণ করেছি নয় বছর হলো।
অনেক লেখালেখি করি। কোনো দামি ওজস্বী লেখা নয়। হাবিজাবি ধরনের।
শিক্ষা নিয়ে নিজের ৩৪ বছরের অভিজ্ঞতা এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তবতা থেকেও অনেককিছু বলতে চাই।
বিশেষ করে শিক্ষকদের অপমান অপদস্ত এবং হেয় করে কথা বললে অন্তরে ব্যথা অনুভব করি এবং সাধ্যমতো যৌক্তিক প্রতিবাদের চেষ্টা করি।
আজ নিজ জাতের হয়ে একটু আত্মসমালোচনাও করতে চাই। বলতে পারেন শিক্ষকদের একটু হাল্কা সতর্ক করে দিতে চাই। সে ক্ষমতা এবং অধিকার কি আমার আছে? আছে বলেই আমি মনে করি। কেননা প্রথমত, এখন যাঁরা শিক্ষকতায় আছেন তাঁদের সবার চেয়ে বয়সে আমি বড়।আমার বয়সের কোনো রেগুলার শিক্ষক কোনো প্রতিষ্ঠানে নেই। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়েও নয়।
দ্বিতীয়ত, আপনারা তো অনেকের ধমকই শুনে এসেছেন। এবার না হয় জাত ভাইয়ের একটু উপদেশ মূলক কটুবাক্য নিজগুণে শ্রবণ করলেন। অপরাধ হলে আগাম ক্ষমা চেয়ে নিলাম। জানি ক্ষমায় আপনাদের কার্পণ্য নেই।
আমি মাত্র দু' মাসের একটা প্রেসক্রিপশন আপনাদেরকে দিতে চাই। দু'মাস খেয়ে দেখুন।কাজ না হলে আর খাবেন না।
আমি বলছি প্রধানত, স্কুল কলেজের শিক্ষকদের ব্যাপারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপার স্যাপার আলাদা। ওটা আমাদের আওতার বাইরে।
দেখুন, আপনাদের চালচলন, কথাবার্তা, পোশাক পরিচ্ছদ, প্রাইভেট টিউশনি, কোচিং বাণিজ্য ইত্যাদি নিয়ে সমাজে নানান সমালোচনা আছে।শুধু সমালোচনা নয়, সেটাকে তীব্র নিন্দা বলাই সংগত। আমি সেইসব রোগেরই চিকিৎসা দিতে চাই।
১) প্রাইভেট পড়ানো একদম বন্ধ করুন
২) কোচিং সেন্টারের ঝাঁপ সপাটে লাগিয়ে দিন।
৩) বাড়ি বাড়ি হেঁটে হেঁটে টিউশনিতে আর যাবেন না
৪) মানানসই পোশাক পরুন।
৫) ময়লা জামা কাপড় পরবেন না।
৬) পাজামার সাথে স্যান্ডেল, প্যান্টের সাথে জুতা পরুন।
৭) জুতা স্যান্ডেলে ঠিকমতো কালি করান।
৮) শার্টের বুকের কাছে যেনো গেঞ্জি দেখা না যায়।
৯) রাস্তায় দাঁড়িয়ে চা সিগারেট খাবেন না
১০) যত্রতত্র পান চিবাবেন না।পারলে কখনোই পান সিগারেট, বিড়ি খাবেন না। যদি খেতেই হয় দিনে দুএকটা সিগারেট খান এবং সেটা দামী সিগারেট।বেনসন বা এই ধরনের। আকিজ বিড়ি নয়।
১০) কথা বলুন একেবারে প্রমিত বাংলায়। প্রতিষ্ঠানের ভেতর আঞ্চলিক ভাষা একেবারে পরিহার করুন। আইছিলাম, খাইছিলাম ইত্যাদি বলবেন না।
১১) ঠিক সময়ে অফিসে হাজিরা দিন।
১২) ক্লাশের প্রস্তুতিতে যেনো কোনো ঘাটতি না থাকে।
১৩) ছাত্র ছাত্রীদেরকে তুই তুকারি করবেন না।
১৪) কর্কশ ব্যবহার করবেন না।
১৫) খুব জনপ্রিয় হতে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে অতিরিক্ত সাদামাটা আচরণ করবেন না।তবে তাঁরা যেনো আপনার আদর স্নেহ ও মহানুভবতা বুঝতে পারে।
১৬) ৭৫ ভাগ ক্লাসে উপস্থিত না থাকলে ব্যবস্থা নিন।
১৭) অল সাজেক্টে পাশ না করলে প্রমোশন দেয়া বন্ধ করুন।
১৮) মাসের বেতন ১ থেকে ৭ তারিখের মধ্যে আদায় করুন। গার্জিয়ানদেরকে এসব আগেই জানিয়ে দিন।
১৯) বছরে অন্তত: দুবার গার্জিয়ান সমাবেশ করুন।কোনো প্রক্সি গার্জিয়ান এলাউ করবেন না।পিতামাতা উভয়কে থাকতে হবে।তাঁদের ছেলেমেয়েদের হাজিরা, প্রগ্রেস ইত্যাদি দেখান।
২০) কোনো কাজে ইউএনও, ডিসি কিংবা শিক্ষা অফিসে গেলে চেয়ার টেনে বসুন। কাচুমাচু করবেন না। চোখের দিকে চেয়ে স্পষ্ট করে কথা বলুন।
২১) কোনো অন্যায় আবদার করবেন না। কোনো ব্যাপারে একবার ছেড়ে দু'বার রিকুয়েষ্ট করবেন না।
২২) স্যার স্যার একটু কম করুন।
২৩) প্রতিষ্ঠানের বাইরে ম্যানেজিং কমিটির কোনো মিটিং সিটিং করবেন না।
২৪) দেশ এবং বিদেশের খবরে আপডেট থাকুন।
২৫) বছরে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে দু' চারটি সেমিনার সিম্পোজিয়াম করুন। সেখানে শিক্ষাবিদ, প্রশাসনের আমলাদের দাওয়াত করুন। তাঁদেরকে বুঝিয়ে দিন আপনাদের বিদ্যানুরাগ।
২৬) কারো অন্যায় ধমক হজম করবেন না। প্রতিবাদ করুন সম্মিলিত ভাবে। তবে কথায় কথায় প্রতিবাদের দরকার নেই।
২৭) বিনয়, সাহস এবং মার্জিত আচরণ করুন। যা ছাত্র ছাত্রীদেরকে আকর্ষণ করবে।
২৮) আপনি নেতাদের ধরে কলিগের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করবেন না। নেতাদের কাছে প্রয়োজন না পড়লে যাবেন না। কোনো নেতা প্রতিষ্ঠানে এলে প্রতিষ্ঠান প্রধান না ডাকলে আগ বাড়িয়ে সেখানে যাবেন না। ডাকলে কিংবা দায়িত্ব দিলে সেটি যথার্থ ভাবে পালন করুন।
২৯) খাবার টেবিলে মেহমানদের দেখাশোনা করুন কিন্তু নিজেরা সার্ভ করতে যাবেন না। বিনয়ে গলে পড়ে আত্মসম্মান নষ্ট করবেন না। আবার আন্তরিকতার ঘাটতিও রাখবেন না।
৩০) সহকর্মীদের সাথে মধুর সম্পর্ক বজায় রাখুন।
৩১) পিওন কেরানীদেরকে অযথা ধমকাধমকি করবেন না।
৩২) আপনার রাজনৈতিক মতবাদ প্রতিষ্ঠানে খাটাবার চেষ্টা থেকে বিরত থাকুন।
এগুলো দুতিন মাস মেনে চলুন। দেখবেন সব ঠিক হয়ে গেছে।তখন দেখবেন আপনি সম্মানজনক ভাবে অনেককিছুই করতে পারছেন। এই অনেককিছুর ব্যাখ্যা না হয় পরে দেবো।
আবারও বলি রাগ করবেন না। এসব বিষয়ে আমাদের অনেক বদনাম আছে। আসুন আগে নিজেরা পরিশুদ্ধ হই।
(কপি পোস্ট)