09/07/2025
জীবন নিয়ে আমাদের অনেক অভিযোগ তাই না?
একজন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর ইন্টারভিউয়ের করুণ গল্প (পড়তে ৫ মিনিট সময় লাগবে)
জুন ২০২৫-এর শেষ সপ্তাহ, "রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়"।
কলা অনুষদের ২০২৪-২৫ সেশনের এক ছাত্রীর ইন্টারভিউ নিচ্ছিলাম। কথোপকথনের মধ্য দিয়ে উঠে এলো তার জীবনসংগ্রামের মর্মস্পর্শী চিত্র:
বিশেষ দ্রষ্টব্য – কথায় আঞ্চলিকতা ছিলো ,তাই কিছুটা পরিমার্জিত।
আমি: কেমন আছো?
ছাত্রী: ভালো আছি স্যার।
আমি: তোমার বাসা কোথায়?
ছাত্রী: বেনাপোল, যশোর
আমি: বাবা কী করেন?
ছাত্রী: ভ্যান চালান।
আমি: কী ধরনের ভ্যান? অটো না প্যাডেল ভ্যান?
ছাত্রী: পায়ে চালান স্যার।
আমি: দিনে কত টাকা পান?
ছাত্রী: সবদিন সমান না স্যার। কখনো ১৫০, কখনো ২০০ টাকা।
আমি: কয় ভাইবোন?
ছাত্রী: ৩ ভাইবোন, আমিই বড়।
আমি: কোথায় থাকো?
ছাত্রী: মেসে থাকি স্যার। হলে সিট থার্ড ইয়ারের আগে পাবো না।
আমি: মেসে ভাড়া কত?
ছাত্রী: ৫৫০ টাকা। ২ মাসের টাকা বাকী আছে স্যার।
আমি: কী বলো! রাজশাহীতে মেয়েদের মেসের ভাড়া তো কমপক্ষে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা, সেটাও টিনের ঘর। তুমি কিভাবে ৫৫০ টাকায় থাকো?
ছাত্রী: স্যার, আমি আসলে মেসের ছাদে একটা টিনের রুমে থাকি, যেখানে পুরানো ভাঙা জিনিস রাখে। তার পাশে একটা চৌকি পেতে থাকি।
আমি: খাওয়া-দাওয়া কোথায় করো? রান্না করো নাকি মেসে খাও?
ছাত্রী: স্যার, নিজে রান্না করি খাই।
আমি: কাল কী রান্না করেছ?
ছাত্রী: আজকে ২ দিন রান্না করিনি স্যার।
আমি: তাহলে আজ কী খেয়েছ? (তখন দুপুর ৩টা)
ছাত্রী: কিছু খাইনি স্যার।
আমি: গতকাল রাতে কী খেয়েছ?
ছাত্রী: কিছু না। গতকাল বিকেলে চা আর বিস্কুট খেয়েছি। রাতে খাইনি।
আমি: গতকাল দুপুরে?
ছাত্রী: কিছু না স্যার।
আমি: গতকাল সকালে?
ছাত্রী: স্যার, আগের দিনে ভাত রান্না করেছিলাম, কিছু ভাত রেখেছিলাম। সকালে দেখি পচে গেছে। ওই ভাতটা একটা ঝাল (কাঁচা মরিচ) দিয়ে খেয়েছি।
আমি: এখন গিয়ে কী খাবে?
ছাত্রী: চা আর বিস্কুট।
আমি: কেন? অসুস্থ হবে না?
ছাত্রী: স্যার, আমি বেশিরভাগ দিনে তাই খাই। আমাদের একটা চায়ের দোকান ছিলো, এইগুলো খেয়েই আমরা দিন পার করতাম। তাই অভ্যাস হয়ে গেছে।
আমি: প্রতিমাসে থাকা খাওয়া ও।পড়াশোনায় তোমার কত টাকা লাগে?
ছাত্রী: ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা।
আমি: বাবা কত দেয় মাসে?
ছাত্রী: যখন যা লাগে দেয়।
আমি: একসাথে দেয