16/09/2019
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি এন্ড অপারেশন বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত “মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা” বাস্তবায়নে করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাংলাদেশের ৬৪ জেলা থেকে ৬৪ জন শিক্ষক এর সঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সচিব জনাব মো: আকরাম- আল- হোসেন মহোদয় ও মাননীয় মহাপরিচালক জনাব ড. এ এফ এম মনজুর কাদির মহোদয় মতবিনিময় সহ খোলামেলা আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
উক্ত মতবিনিময় সভার আলোচ্য বিষয় ছিল -মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে স্ব স্ব বিদ্যালয়ের কার্যক্রম, নিজ জেলার অন্তরায় চিহ্নিত করে উপস্থাপন এবং করণীয়।
মতবিনিময় সভার আলোচিত ও প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের করণীয় গুলো মাননীয় সচিব মান্যবর মোঃ আকরাম আল হোসেন ও মাননীয় মহাপরিচালক ড.এ এফ এম মনজুর কাদির মহোদয় কর্তৃক নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
"Mother is the first teacher
Teacher is the second mother "
মাননীয় সচিব আকরাম আল হোসেন,
মহোদয় এর এই উক্তি দিয়েই সভা শুরু হয়।
নির্দেশনা গুলো নিম্নরুপ ঃ
১. শিক্ষক মাতৃসুলভ আচরণে শিক্ষার্থীকে ভালোবাসার বন্ধনে জড়িয়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব ।
২. বিদ্যালয় হবে আকর্ষণীয় ও শিশু বান্ধব, যাতে শিক্ষার্থী বাড়িতে নয় বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে, ফলে ঝরে পড়া রোধ হবে।
৩. শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মা সমাবেশ, উঠান বৈঠক , মাদার্স ফোরাম, মায়েদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ , হোম ভিজিটের মাধ্যমে অনুপস্থিতির কারণ চিহ্নিত করে শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করা যাবে।
এছাড়াও মা সমাবেশের মাধ্যমে উপস্থিত মা দেরকে বাল্য বিবাহের কুফল, ইভটিজিং ও মাদক বিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি করা সম্ভব।
৪. প্রতিটি শ্রেণিতে শ্রেণি উপযোগী প্রতিদিন একটি বাংলা শব্দ ও একটি ইংরেজি শব্দের অর্থ, বানান, প্রয়োগ ও সঠিক উচ্চারণে পড়া, বলা ও লেখা শেখাতে হবে।
উল্লেখ্য যে, শব্দগুলো শুরু হবে (A) একটি ও (I) আমি , এর মতো ছোট ছোট শব্দ দিয়ে। তাহলে শিশুদের শব্দগুলো শেখা সহজ হবে।ছোট শব্দ থেকে শুরু
করবেন।
৫.One day one word শিখন শেখানো প্রক্রিয়ায় - প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বাংলা ও ইংরেজি শব্দের লেখার জন্য ডায়েরি ব্যবহার নিশ্চিত করবেন।
বাংলা ও ইংরেজিতে লেখার দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রতিদিন এক পৃষ্ঠা করে বাংলা ও ইংরেজি হাতের লিখা বাড়ির কাজ দিতে হবে ও এক প্যারা শ্রেণিকক্ষে সঠিক উচ্চারণে রিডিং পড়াতে হবে, এতে শিশুর পড়ার দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং সাবলীল ভাবে বাংলা ও ইংরেজি রিডিং পড়তে পারবে।
প্রতিদিন বাড়ির কাজ তারিখ- সহ শিক্ষক মূল্যায়ন করবেন।
৭. বাংলা ও ইংরেজি শতভাগ শিক্ষার্থীদের রিডিং পড়া নিশ্চিত করতে হবে। এরজন্য শিক্ষার্থীদেরকে শ্রেণিকক্ষে তিন দলে বিভক্ত করবেন। ১,সাবলীলভাবে পড়তে পারে, ২,শিক্ষকের সহযোগীতায় পড়তে ,
৩,পড়তে পারে না,
এই তিন দল করা হবে।
৮.বন্ধু শিক্ষক তৈরি করে বন্ধু শিক্ষকের মাধ্যমে রিডিং পড়া শেখানোর দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব।
৯.পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরি করে তাদের দূর্বলতা চিহ্নিত করে নিরাময়ের ব্যবস্থা করা যাবে। এতে শতভাগ শিক্ষার্থী বাংলা ইংরেজি সাবলীল ভাবে রিডিং পড়তে পারবে।
১০. One day one word সম্পর্কে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সচিব মহোদয়ের ১৫/১০/২০১৮ ইংরেজি তারিখে জারিকৃত পরিপত্রের নির্দেশনা যথাযথ ভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
১১,প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে "বঙ্গবন্ধু বুক কর্ণার "স্থাপন করতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা ক্লাসের ফাঁকে বই পড়তে পারে।
১২. ২০২০ সালে গণিত অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা প্রয়োজন।
১৩. APSC এর তথ্য মোতাবেক পরবর্তী তথ্য ডাটা এন্ট্রি করতে হবে। তথ্যের যেন গড়মিল না হয়।
১৪. প্রতিটি বিদ্যালয়ে ক্যাচমেন্ট এরিয়ার সকল শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে।
১৫. প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সমন্বয়ে একটি facebook group খোলা হবে।
এই facebook group এ সকল শিক্ষকদের সদস্য হওয়ার জন্য মাননীয় সচিব মহোদয় আহবান জানান এবং বিদ্যালয় কেন্দ্রিক সকল সৃজনশীলতা ও বিভিন্ন শিখন শেখানোর কলাকৌশল উক্ত Facebook Group এ post করতে পারবেন।
এতে সারাদেশের শিক্ষকদের কর্মকৌশল একে অপরের সাথে সমন্বয় করতে পারবে।
১৬, আগামী জানুয়ারি মাসে ভৌত অবকাঠামো ও শিক্ষক শিক্ষার্থী বিবেচনা করে এক শিফটের বিদ্যালয় চালু করার প্রস্তুতি চলছে।
এমতাবস্থায় বিদ্যালয় কর্মঘণ্টা ৯:৩০ হতে ৩:৪৫ করা হবে।
১৭, প্রতিটি শিক্ষার্থীকে স্বাধীনতা ও জাতীয় ইতিহাস জানাতে ও শেখাতে হবে।
১৮,"মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা" বাস্তবায়নে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে,
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি সমাজের আগ্রহ তৈরি করতে হবে।
১৯, প্রত্যেক বিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার স্থাপন করতে হবে।
২০,শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরী ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
২১, মিড ডে মিল অব্যাহত রাখা ও স্থানীয় ধনাঢ্য ব্যক্তি বর্গকে উৎসাহিত করে ৭/১৫/৩০ দিন পর পর শিক্ষার্থীদের জন্য মিড ডে মিলের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
উল্লেখ্য যে, শিশুদের পুষ্টিহীনতা রোধে ডিম, কলা, দুধ খাওয়ার প্রতি উদ্ভুদ্ধ করতে হবে।
২২. শিক্ষকগণের যথাসময়ে আগমন ও প্রস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
২৩. বিভিন্ন ধরনের ইনভেশনের মাধ্যমে শিখনফল আদায় করা যেতে পারে।
২৪, যথাযথ নিয়মে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে।
২৫. প্রতি বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, এস এম সি, পিটিএ এর সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যালয় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করতে হবে।
২৬, প্রত্যেক শিক্ষক রুটিন মাফিক, বিধি মোতাবেক এবং নিজস্ব কৌশল ও পদ্ধতি প্রয়োগ করে পাঠদান করবেন।
২৭, সহ-শিক্ষা ক্রমিক কার্যাবলী গুরুত্ব সহকারে পাঠদান ও শিখনফল অর্জন করাতে হবে।
2৮, মান্যবর সচিব মহোদয় সকল প্রাথমিক শিক্ষকের নিকট প্রত্যাশা করেন যে - আগামী মুজিব বর্ষে ( ২০২০ সালে) বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী বাংলা ও ইংরেজি সাবলীল ভাবে যেন রিডিং পড়তে পারে ।
সর্বোপরি সকল শিক্ষার্থীকে একই মানের শিখনফল অর্জন করানো অর্থাৎ সকল শিক্ষার্থী সমান দক্ষতা অর্জন করবে এই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সচিব মান্যবর মো: আকরাম- আল-হোসেন মহোদয় শিক্ষকদের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।